বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ৫ বড় ঝুঁকি: ডব্লিউইএফ ও সিপিডির সতর্কবার্তা

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে বহুমুখী ও জটিল সব সমস্যার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতাকে বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন ধরণের নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক আরোপ এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কড়াকড়ির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ঋণের ক্রমবর্ধমান চাপ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) কর্তৃক প্রকাশিত সাম্প্রতিক বৈশ্বিক ঝুঁকি মূল্যায়নে চলতি বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য প্রধান দুটি আপদ হিসেবে অপরাধ ও অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ভূ-অর্থনৈতিক বিরোধকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঝুঁকিগুলো এখন আর কেবল কূটনৈতিক আলোচনার স্তরে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, নতুন কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ প্রবাহের ওপর। বিশেষ করে শক্তিশালী দেশগুলো নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় নতুন নতুন বাধা সৃষ্টি করায় বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এই সংকটজনক পরিস্থিতির গভীরতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানিয়েছেন যে, বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির তীব্র টানাপোড়েন এখন সরাসরি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। তার মতে, দেশের সামনে বর্তমানে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ও বড় ঝুঁকি দাঁড়িয়ে আছে যা স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কৌশলগত প্রতিযোগিতা বিশ্ব অর্থনীতিকে স্পষ্টভাবে বিভক্ত করে ফেলছে। এই বিভক্তির ফলে তৈরি হওয়া বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থার পুনর্গঠন বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর এক ধরণের কৃত্রিম ও বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ড. ফাহমিদা সতর্ক করে বলেন যে, কেবল অভ্যন্তরীণ সংস্কার দিয়ে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা সম্ভব নয়; বরং পরিবর্তিত ভূ-অর্থনৈতিক বাস্তবতার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রকে অত্যন্ত কৌশলী ও দূরদর্শী হতে হবে। সময়মতো এই ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা না নিলে সুশাসনহীনতা ও অপরাধের বিস্তার অর্থনীতিকে আরও ভঙ্গুর করে তুলবে।
ডব্লিউইএফ-এর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের অর্থনীতির তৃতীয় বৃহত্তম ঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে টানা উচ্চ মূল্যস্ফীতি। দীর্ঘদিন ধরে পণ্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যেমন আকাশছোঁয়া হয়েছে, তেমনি ব্যবসা ও শিল্প উৎপাদন খাতে খরচের বোঝা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে পরিসংখ্যানে কিছুটা স্বস্তির আভাস পাওয়া গেছে, তবে বাস্তব বাজারে তার প্রতিফলন এবং সম্পূর্ণ স্বস্তির দূরত্ব এখনো অনেক বেশি। এর পরেই চতুর্থ ঝুঁকি হিসেবে রয়েছে অর্থনৈতিক ধীরগতি। বৈশ্বিক মন্দার পদধ্বনি এবং অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে স্থবিরতার সাথে যখন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ যুক্ত হয়েছে, তখন দেশের প্রবৃদ্ধি কমার এক বাস্তব শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে তাদের পূর্বাভাসে একই ধরণের উদ্বেগের ইঙ্গিত দিয়েছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ পঞ্চম ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ঋণের অক্টোপাশকে। সরকারি পর্যায় থেকে শুরু করে করপোরেট এমনকি পারিবারিক পর্যায়েও ঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। বর্তমান জাতীয় বাজেটে একটি বিশাল অংশ ব্যয় করতে হচ্ছে কেবল ঋণের সুদ পরিশোধের পেছনে, যা দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগকে সংকুচিত করে দিচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, ঋণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ‘মধ্যম আয়ের ফাঁদে’ আটকে যেতে পারে। এই প্রতিটি ঝুঁকি একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত; যেখানে অপরাধ ও অবৈধ লেনদেন বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে, সেখানে ভূ-অর্থনৈতিক বিরোধ বাজারকে ছোট করে আনে এবং মূল্যস্ফীতি ও ঋণের বোঝা সাধারণ মানুষের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তোলে। এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সুশাসন জোরদার এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমায় হাটে বিপুল পশু উদ্বৃত্ত, লোকসানের মুখে খামারিরা
উচ্চ মূল্যস্ফীতির করাল গ্রাসে দেশের মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কোরবানির পশুর হাটে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর যে পরিমাণ কোরবানির পশুর চাহিদা নির্ধারণ করেছিল, বাস্তবে দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় তার চেয়ে অনেক কম পশু বিক্রি ও কোরবানি হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
ফলে কোরবানিযোগ্য পশুর একটি বড় অংশই অবিক্রিত ও উদ্বৃত্ত থেকে গেছে, যা চাষী, খামারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ঠেলে দিয়েছে চরম লোকসানের মুখে। কৃষি অর্থনীতিবিদদের প্রাথমিক ধারণা, সরকারের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার দেশজুড়ে অন্তত ১০ লাখ কম পশু কোরবানি হয়েছে।
সাধারণত প্রতি বছর ঈদের পর দেশজুড়ে কোরবানি হওয়া ও উদ্বৃত্ত থাকা পশুর চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। তবে গতকাল পর্যন্ত তারা পূর্ণাঙ্গ কোনো তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিস এবং খামারিরা বলছেন, এবার পশুর উৎপাদন ও সরবরাহ ভালো থাকলেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিক্রি অনেক কম হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, এ বছর দেশে কোরবানিযোগ্য মোট পশু প্রস্তুত ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এর বিপরীতে দেশব্যাপী চাহিদা নিরূপণ করা হয়েছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি পশুর। সেই হিসাবে ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকার প্রাক্কলন করা হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, প্রকৃত উদ্বৃত্তের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি।
বিভাগ ও জেলাভিত্তিক প্রাথমিক চিত্র
ময়মনসিংহ বিভাগ
এই বিভাগে কোরবানিযোগ্য পশু ছিল ৫ লাখ ৬০ হাজার এবং চাহিদা ধরা হয়েছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার। তবে বিভাগীয় পশুপালন দপ্তরের পরিচালক ডা. মনোরঞ্জন ধর জানিয়েছেন, প্রাথমিক হিসাবে এবার কোরবানি হয়েছে আনুমানিক ৩ লাখ ৭০ হাজারটি পশু, যা গত বছরের (৩ লাখ ৮৩ হাজার) তুলনায় ১৩ হাজার কম। ময়মনসিংহ জেলায় ১ লাখ ৮০ হাজার চাহিদার বিপরীতে কোরবানি হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৩৫ হাজারটি পশু।
খুলনা বিভাগ
বিভাগে ১০ লাখ ৭৯টি পশুর চাহিদার বিপরীতে প্রাথমিক হিসাবে কোরবানি হয়েছে ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫টি পশু। অর্থাৎ প্রাণিসম্পদ অফিসের নির্ধারিত চাহিদার চেয়ে ২ লাখ ৩৩ হাজার কম পশু কোরবানি হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. গোলাম হায়দার জানান, এখানকার উৎপাদিত পশুর একটি বড় অংশ ঢাকার হাটে সরবরাহ হওয়ায় উদ্বৃত্তের সুনির্দিষ্ট হিসাব করতে কিছুটা সময় লাগবে।
রংপুর ও চট্টগ্রাম জেলা
রংপুর জেলায় ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৬টি চাহিদার বিপরীতে কোরবানি হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৬ হাজার পশু, যা চাহিদার চেয়ে প্রায় ২১ হাজার কম। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম জেলা ও নগর মিলিয়ে ৮ লাখ ১৬ হাজার পশুর চাহিদা থাকলেও কোরবানি অনেক কম হয়েছে। বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলাটিতে মাত্র ৪ লাখ ১১ হাজার ৪৪০ পিস চামড়া সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। বিক্রি করতে না পেরে অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া সড়ক ও ভাগাড়ে ফেলে দিয়েছেন।
বগুড়া জেলা
চলতি বছর এই জেলায় ৭ লাখ ৪০ হাজার ৫৩৭টি পশু প্রস্তুত করা হলেও কোরবানির চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ লাখ Calibri ৭ হাজার ৫৮০টি, যা গত বছরের তুলনায় ২ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮০টি কম।
সার্বিক বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বলেন, "মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য মন্ত্রণালয় আমাদের এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হয়ে যাবে।"
ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস ও ভাগে কোরবানির প্রবণতা
অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। অন্যদিকে পশুখাদ্য ও ওষুধের দাম বাড়ায় খামারিদের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, যা মাংসের কেজিতে গড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত প্রভাব ফেলেছে।
ফলে অনেকেই এবার কোরবানি দিতে পারেননি। যারা দিয়েছেন, তাদের মধ্যেও বড় বা একক গরুর চেয়ে শরিক বা ভাগে কোরবানি দেওয়ার প্রবণতা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ঢাকার নর্থ বেঙ্গল ডেইরি ফার্মের এমডি ইঞ্জিনিয়ার মকবুল হোসেন এবং চুয়াডাঙ্গার কৃষক আনিসুল ইসলামের মতো অনেকেই জানান, আর্থিক চাপের কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তরা এবার কোরবানি থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে বাধ্য হয়েছেন।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এই অর্থনৈতিক মন্দা প্রসঙ্গে বলেন, "দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত মজুরি বাড়েনি, ফলে ক্রয়ক্ষমতায় বড় ধাক্কা লেগেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে ভোক্তারা তাদের জমানো অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসাব-নিকাশ করছেন। এই মানসিক ও আর্থিক প্রভাবই কোরবানির বাজারে স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়েছে।"
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম মনে করেন, গত বছর যেখানে ৯১ লাখের কিছু বেশি পশু কোরবানি হয়েছিল, এবার বাস্তবে তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ লাখের মতো কমে গেছে।
সৌজন্যে: বণিক বার্তা
১ জুনের মুদ্রা বাজার: জেনে নিন ডলার, রিয়াল ও রুপির আজকের সর্বশেষ রেট
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স প্রবাহ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন। প্রবাসী আয় বৈধ পথে দেশে পাঠানো এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সুবিধার্থে প্রতিদিনই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আজ সোমবার (১ জুন) প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে বিশ্বের প্রধান প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার অফিসিয়াল বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান মাধ্যম মার্কিন ডলারের (US Dollar) বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।
ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরোর (Euro) বিনিময় হার আজ ১৪২ টাকা ২৪ পয়সা এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের (UK Pound) দাম দাঁড়িয়েছে ১৬৩ টাকা ৩০ পয়সায়।
আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের রুপির (Indian Rupee) বিনিময় হার আজ ১ টাকা ৩১ পয়সা।
এ ছাড়া এশিয়ার অন্যতম বড় শ্রমবাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের (Malaysian Ringgit) দাম আজ ৩০ টাকা ৩৮ পয়সা এবং সিঙ্গাপুরি ডলারের (Singapore Dollar) বিনিময় হার ৯৫ টাকা ৬১ পয়সা রাখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী থাকা সৌদি রিয়ালের (Saudi Riyal) বিনিময় হার আজ ৩২ টাকা ৬১ পয়সা।
অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রা কুয়েতি দিনারের (Kuwaiti Dinar) রেট আজ ৩৯৫ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া অস্ট্রেলিয়ান ডলারের (Australian Dollar) বিনিময় হার আজ ৮৫ টাকা ০১ পয়সা।
তবে ব্যাংকিং খাত ও মানি এক্সচেঞ্জ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারের ওঠানামার কারণে যেকোনো সময় এই মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তিত হতে পারে। তাই লেনদেনের পূর্বে নিকটস্থ ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ থেকে সর্বশেষ রেট যাচাই করে নেওয়াই শ্রেয়।
/আশিক
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে সোনা
দেশের বাজারে আজ সোমবার (১ জুন) রেকর্ড মূল্যে বিক্রি হচ্ছে সোনা ও রুপা। ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। গত ২৫ মে দাম বাড়ানোর পর থেকে দেশের বাজারে এই ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ দামেই সোনা বিক্রি হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
বাজুস জানায়, নতুন করে দাম নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনা ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায় বিক্রি হবে। এর পাশাপাশি ভালো মানের রুপার দামও বাড়তি রয়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকায় এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম রাখা হচ্ছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।
অন্যদিকে, সোনার দামের সাথে পাল্লা দিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে যাচ্ছে রুপার দামও। বাজারে এখন ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি রুপার দাম রাখা হচ্ছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতিভরি ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতিভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে দামের উর্ধ্বগতির কারণেই বাজুস এই মূল্য নির্ধারণ করেছে।
/আশিক
নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬: কোন গ্রেডের মূল বেতন কত টাকা বাড়ছে? দেখে নিন তালিকা
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই বেতন কাঠামো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নতুন এই পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে শুধু মূল বেতনই নয়, বরং সরকারি চাকরিজীবীদের চিকিৎসা ও টিফিনের মতো নানা রকম ভাতা এবং পেনশন সুবিধাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
তবে নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাবিত খসড়া বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মূল তথ্য ও গাণিতিক হিসাবে বড় ধরনের কিছু অমিল রয়েছে। খসড়ার এক জায়গায় বলা হয়েছে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে, অথচ শতাংশের হিসাবে ২০তম গ্রেডের প্রস্তাবিত নতুন বেতন ১২ হাজার ৩৭৫ টাকা দাঁড়ায়, যা মূল বেতনের ঠিক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি। একইভাবে ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা করার কথা বলা হলেও হিসাবে তা ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা আসে। মূলত পে-কমিশনের মূল সুপারিশে সর্বনিম্ন গ্রেড ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেড ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হলেও বাজেট বরাদ্দের চাপ সামলাতে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রথম ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির এই বিকল্প খসড়াটি পর্যালোচনা করছে।
৫০ শতাংশ বৃদ্ধির এই খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী ১ম গ্রেডের বর্তমান বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা। একইভাবে ২য় গ্রেডের বেতন ৬৬ হাজার থেকে বেড়ে ৯৯ হাজার টাকা, ৩য় গ্রেডের বেতন ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ৮৪ হাজার ৭৫০ টাকা, ৪র্থ গ্রেডের বেতন ৫০ হাজার থেকে বেড়ে ৭৫ হাজার টাকা এবং ৫ম গ্রেডের বেতন ৪৩ হাজার থেকে বেড়ে ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা হবে। মধ্যম সারির গ্রেডগুলোর মধ্যে ৬ষ্ঠ গ্রেডের বেতন ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকা, ৭ম গ্রেডের বেতন ২৯ হাজার থেকে বেড়ে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা, ৮ম গ্রেডের বেতন ২৩ হাজার থেকে বেড়ে ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা, ৯ম গ্রেডের বেতন ২২ হাজার থেকে বেড়ে ৩৩ হাজার টাকা এবং ১০ম গ্রেডের বর্তমান বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নিম্নতর গ্রেডগুলোর ক্ষেত্রে ১১তম গ্রেডের বেতন ১২ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা, ১২তম গ্রেডের বেতন ১১ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা, ১৩তম গ্রেডের বেতন ১১ হাজার থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা, ১৪তম গ্রেডের বেতন ১০ হাজার ২০০ থেকে বেড়ে ১৫ হাজার ৩০০ টাকা এবং ১৫তম গ্রেডের বর্তমান বেতন ৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪ হাজার ৫৫০ টাকা হবে। শেষের দিকের গ্রেডগুলোর মধ্যে ১৬তম গ্রেডের বর্তমান বেতন ৯ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ১৩ হাজার ৯৫০ টাকা, ১৭তম গ্রেডের বেতন ৯ হাজার থেকে বেড়ে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা, ১৮তম গ্রেডের বেতন ৮ হাজার ৮০০ থেকে বেড়ে ১৩ হাজার ২০০ টাকা, ১৯তম গ্রেডের বেতন ৮ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ১২ হাজার ৭৫০ টাকা এবং সর্বশেষ ২০তম গ্রেডের বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ১২ হাজার ৩৭৫ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়নের পূর্বে সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও চূড়ান্ত গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশের দিকে সাগ্রহে তাকিয়ে আছেন দেশের প্রায় ১৪ লাখ সক্রিয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগী।
/আশিক
বড় ধরনের মোড়ে বিশ্ববাজার: স্বর্ণের দাম কি আরও কমবে নাকি বাড়বে?
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বর্তমানে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি মন্দা নাকি নতুন কোনো চাঙ্গা ভাব—স্বর্ণের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা মূলত নির্ধারণ হতে পারে আগামী কয়েক দিনের বাজার পরিস্থিতির ওপর। রয়টার্সের বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ বছরের শুরুতেই স্বর্ণের বাজারে একটি বড় ধাক্কা লেগেছিল। গত ৩০শে জানুয়ারি হঠাৎ করেই স্বর্ণের দাম রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে যায়, কিন্তু তার পরপরই তা আবার হুড়মুড় করে কমে যায়। বাজারের পরিভাষায় একে ‘ব্লো-অফ টপ’ (Blow-off Top) বলা হয়।
সহজ কথায়, কোনো সম্পদের দাম যখন একদম সর্বোচ্চ সীমানায় পৌঁছে হঠাৎ ধপাস করে পড়ে যায়, তখন তাকে এমনটা বলা হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পতনের পর থেকে স্বর্ণের দাম যতবারই একটু বাড়ার চেষ্টা করেছে, প্রতিবারই তা আগের বারের চেয়ে কম দামে গিয়ে আটকে গেছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা একে স্পষ্ট মন্দাভাবের লক্ষণ বা ‘বেয়ারিশ ট্রেন্ড’ হিসেবে দেখছেন।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (LSEG) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, টানা দরপতনের কারণে স্বর্ণের দাম এখন তার ২০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজের (দীর্ঘমেয়াদি গড় মূল্য) কাছাকাছি নেমে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ৩৯৪ ডলার। বাজারের সাময়িক অনাকাঙ্ক্ষিত ওঠানামা বাদ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গতি-প্রকৃতি বুঝতে ব্যবসায়ীরা মূলত এই সূচকটি ব্যবহার করেন।
বর্তমানে এই ২০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে এর কাছাকাছি অবস্থান করা আরও দুটি শক্তিশালী প্রযুক্তিগত সূচক। এর একটি হলো গত অক্টোবর মাসের সর্বোচ্চ চূড়া (৪ হাজার ৩৮১.২১ ডলার) এবং অন্যটি স্বর্ণের ‘লোয়ার বলিঞ্জার ব্যান্ড’ (৪ হাজার ৪১৭ ডলার)। কারিগরি বিশ্লেষকদের কাছে অতীতের এই সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন রেকর্ডগুলো বাজারের বড় ধরণের সাপোর্ট বা প্রতিরোধ স্তর হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বর্ণের আন্তর্জাতিক দাম যদি এই ২০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজ এবং অক্টোবরের সর্বোচ্চ চূড়ার সাপোর্ট ভেঙে নিচে নেমে যায়, তবে দাম আরও কমে গত মার্চ মাসের সর্বনিম্ন স্তর ৪ হাজার ৯৭.৯৯ ডলার কিংবা তারও নিচে চলে যেতে পারে।
তবে আশার কথা হলো, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সূচক ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই মুহূর্তে বিশ্ববাজারে ক্রেতা (বুলস) ও বিক্রেতাদের (বেয়ারস) মধ্যে একটি তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও বাণিজ্যিক লড়াই চলছে। স্বর্ণের দাম যদি কোনোভাবে চলতি মাসের সর্বোচ্চ স্তর ৪ হাজার ৭৭৩.১৪ ডলারের রেজিস্ট্যান্স বা বাধা ভেঙে ওপরে উঠে যেতে পারে, তবে বড় ধরণের দরপতনের আশঙ্কা কেটে যাবে এবং বাজার আবার নতুন করে চাঙ্গা হওয়ার পথ সুগম হবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
বিয়ের মৌসুমে সোনা ও রুপার বাজারে আগুন, অলঙ্কার কিনতে পকেটে টান ক্রেতাদের
বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর দরপতনের খবরের মাঝেই দেশের বাজারে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনা রেকর্ড মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) নির্ধারিত সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। গত ২৫শে মে সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে এই নতুন কার্যকর মূল্যে সোনা কেনাবেচা চলছে।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশন বা নতুন দাম নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত দেশজুড়ে ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনা এই ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকাতেই বিক্রি হবে। এর পাশাপাশি দেশের বাজারে অন্যান্য মানের সোনার দামও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকায়। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনার বাজারদর নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনা গ্রাহকদের কিনতে হচ্ছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকায়।
সোনার পাশাপাশি দেশের বাজারে এবার রুপার দামও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি রুপার দাম রাখা হচ্ছে ৫ fine হাজার ৭৭৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতিভরি ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি রুপা ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে বিয়ের মৌসুম ও সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
/আশিক
বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধস, দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আন্তর্জাতিক দর
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির গভীর উদ্বেগ এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও রুপার মূল্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইরান সংঘাতের স্থায়ী কোনো কূটনৈতিক সমাধান না হওয়ায় বিশ্ব বাজারে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এখন আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়ে গত দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
আজ বুধবার (২৭ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৪৪৪.৬৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ২৭ মার্চের পর আন্তর্জাতিক বাজারে সর্বনিম্ন দর। অন্যদিকে, আগামী জুন মাসে ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার বাজারদর ১.২ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪,৪৪৫.২০ ডলারে নেমে এসেছে।
বিশ্বখ্যাত বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান জেনার মেটালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট পিটার গ্রান্ট এই পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে জানান, মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘায়িত সামরিক সংঘাতই বর্তমান বিশ্ব বাজারের ওপর সবচেয়ে বড় ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা সার্বিক বিশ্ব মুদ্রাস্ফীতিকে মারাত্মকভাবে উসকে দিয়েছে। একই সঙ্গে এর ফলে বিশ্ববাজারে সুদের হার আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কাও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জোরালো হচ্ছে।
তবে সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একটি খবর আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য খসড়া চুক্তির আওতায় ইরান আগামী এক মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক নৌচলাচল পুনরায় উন্মুক্ত করে দেবে এবং এর বিনিময়ে ওই অঞ্চল থেকে সমস্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে। ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক এই খবরটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সামনে আসার পরপরই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদায় সাময়িক ভাটা পড়ে এবং এর দামে পতন দেখা যায়।
এদিকে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের অন্যতম নীতি নির্ধারক ও মিনিয়াপোলিস ফেড প্রেসিডেন্ট নীল কাশকারি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, অভ্যন্তরীণ বাজারে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফেড চলতি বছরের শেষ নাগাদ তাদের বেঞ্চমার্ক সুদের হার আরও ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে দিতে পারে। সাধারণ অর্থনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী, উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে সুদবিহীন ধাতু হিসেবে স্বর্ণের ওপর বিনিয়োগের বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। আগামী বৃহস্পতিবার মার্কিন ব্যক্তিগত ভোগব্যয়ের (পিসিই) গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পর ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতির ভবিষ্যৎ আরও স্পষ্ট হবে বলে বিশ্বজুড়ে বড় বড় বিনিয়োগকারীরা এখন গভীর অপেক্ষায় রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও এই দরপতনের ধারা স্পষ্ট লক্ষ্য করা গেছে। স্পট রুপার দাম এক ধাক্কায় ২.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৪.৮২ ডলারে নেমে এসেছে। তবে বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যাংক অব আমেরিকা এক দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানিয়েছে, আগামী মাসগুলোতে স্বর্ণের দাম পুনরায় বৃদ্ধি পেলে রুপার দাম আবারও আউন্সপ্রতি ১০০ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে যেতে পারে, যদিও দীর্ঘ মেয়াদে সেই রেকর্ড উচ্চমূল্য ধরে রাখা বেশ কঠিন হবে। এছাড়া, শিল্পে ব্যবহৃত মূল্যবান ধাতু প্লাটিনামের দামও আন্তর্জাতিক বাজারে ২ শতাংশ কমে ১,1১৯.৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
/আশিক
উৎসবের মুখে ফের চড়া স্বর্ণের বাজার, জেনে নিন ২১ ও ১৮ ক্যারেটের নতুন ভরি কত
আসন্ন ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী সোনার দাম। ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। আজ বুধবার (২৭ মে) থেকে দেশের বাজারে এই নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী সোনা কেনাবেচা চলছে। তবে সাধারণ মানের বা সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি সোনার দাম পুনর্নির্ধারণ করে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা করা হয়েছে।
গত সোমবার (২৫ মে) সকাল ১০টা থেকেই সারা দেশে এই সংশোধিত মূল্য কার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দাম বৃদ্ধির এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের স্থানীয় বাজারে পাকা সোনা বা তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) সরবরাহ ও মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নতুন এই সমন্বয় অনুযায়ী, এখন থেকে দেশের বাজারে প্রতিভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের ভালো মানের সোনা কিনতে ক্রেতাদের খরচ করতে হবে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। এর পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকায় এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা মূল্যে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি সোনার নতুন বাজারদর ঠিক করা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।
উল্লেখ্য, এই দফায় দাম বাড়ার ঠিক আগেই গত শনিবার সোনার মূল্য কিছুটা কমিয়েছিল জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেই সময় ভরিপ্রতি সোনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা হ্রাস করা হলেও মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে সমপরিমাণ টাকা বাড়িয়ে আবার নতুন মূল্য ধার্য করল বাজুস।
/আশিক
ইরানে মার্কিন হামলার পর বিশ্ববাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে তেলের দাম
দক্ষিণ ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকস্মিক বিমান হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের তেলের দামেই বড় উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা লিখিত চুক্তি সই না হওয়ায় বিশ্বজুড়ে বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে।
আজ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৪০ ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯৭ দশমিক ৫৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে; যদিও এর আগের সেশনে ব্রেন্টের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৭ শতাংশ কমে গিয়েছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম আজ ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ২৫ ডলারে স্থিতু হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আজ বৃদ্ধি পেলেও তা গত শুক্রবারের মূল্যের তুলনায় এখনো প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম রয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত তাদের সেনাদের সুরক্ষায় ‘আত্মরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে সোমবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং পারস্য উপসাগরে মাইন পেতে রাখা কয়েকটি ইরানি নৌযানে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে, সোমবার কৌশলগত হরমুজ প্রণালির অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত বন্দর আব্বাস ও উপকূলীয় এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
মূলত ৩ মাস আগে মার্কিন-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কার্যত উপসাগরীয় অঞ্চলে অ-ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ সীমিত ও অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এর ফলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ (২০ শতাংশ) পথেই বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম এক লাফে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। এই মেগা সংকট থেকে উত্তরণে এবং যুদ্ধ বন্ধে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার কাতারের রাজধানী দোহায় কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে একটি খসড়া সমঝোতা স্মারকের (MoU) বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। সম্ভাব্য এই চুক্তির প্রধান শর্ত অনুযায়ী, ইরান আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে তাদের পেতে রাখা সব সামুদ্রিক মাইন সরিয়ে নেবে, যার ফলে সব দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ ও সুপারট্যাঙ্কার নিরাপদে চলাচল করতে পারবে এবং ইরান অবৈধভাবে ট্রানজিট ফি আদায়ও বন্ধ করবে।
বৈশ্বিক বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, "বিনিয়োগকারীরা গভীর আশা নিয়ে অপেক্ষা করছেন যে, এই সমঝোতা সফল হলে দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা তেল ও গ্যাস দায়ী জাহাজগুলো আবার স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে।" আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী লাইভ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পাকিস্তান, চীন ও ভারতের উদ্দেশ্যে কয়েকটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (LNG) জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এছাড়া পারস্য উপসাগরে প্রায় তিন মাস অবরুদ্ধ থাকার পর ইরাকি তেলবাহী একটি বিশালাকার সুপারট্যাঙ্কারও অবশেষে চীনের উদ্দেশ্যে তাদের যাত্রা শুরু করেছে।
সূত্র: রয়টার্স
পাঠকের মতামত:
- জেলা পরিষদের ১০ কোটি নিয়ে অপপ্রচারের জবাবে যে ব্যাখ্যা দিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
- এক নজরে সোমবারের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্লক মার্কেটের শীর্ষ লেনদেনের তালিকা
- ১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ইউটিউবে আসছে বড় পরিবর্তন: এআই ভিডিও এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে অ্যালগরিদম
- আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার: আদালতে রামিসার খুনির বিস্ফোরক দাবি
- আমার সন্তান হারানোর জন্য বিজয় আন্নাই দায়ী: তামিল অভিনেত্রী জুলি
- আইআরজিসির সঙ্গে দ্বন্দ্বে পেজেশকিয়ানের পদত্যাগ, সত্য নাকি গুজব?
- উন্নয়ন বরাদ্দের টাকায় ৭৭টি আসন কিনেছে জামায়াত-এনসিপি: রাশেদ খান
- ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় অবরুদ্ধ: পুলিশের অ্যাকশনে রণক্ষেত্র মতিঝিল
- ড্রোনের বদলে ড্রোন আস্তানায় বোমাবর্ষণ: ইরানে আবারও মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলা
- মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমায় হাটে বিপুল পশু উদ্বৃত্ত, লোকসানের মুখে খামারিরা
- সিরিক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা মিসাইল হামলা
- ১ জুনের মুদ্রা বাজার: জেনে নিন ডলার, রিয়াল ও রুপির আজকের সর্বশেষ রেট
- ১ জুন ২০২৬: আজ দিনভর কেমন থাকবে রাজধানীসহ দেশের আবহাওয়া?
- আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে সোনা
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ১ জুনের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- পল্লবীর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা; দুই আসামির চার্জ গঠন শুনানি আজ
- কালিগঞ্জে জমি বিক্রির টাকা আত্মসাত বসতভিটা দখলের চেষ্টা থানায় লিখিত অভিযোগ
- বিশ্বকাপের মহড়ায় আজ রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল: প্রতিপক্ষ পানামা
- কালশী বস্তির আগুনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও নাশকতার শঙ্কা: আসিফ মাহমুদ
- উদ্ধারকারীদের ছাড়াই ৭৮ তলা সমান সুড়ঙ্গ পেরিয়ে জীবনজয়ী ৪ খনির শ্রমিকের রূপকথা
- জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য নাম: মির্জা ফখরুল
- পাকিস্তানকে একঘরে করার মোদির ১০ বছরের নীতি ব্যর্থ ও বুমেরাং: আল-জাজিরা
- আবহাওয়ার ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস: চলতি সপ্তাহে দেশের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ
- গ্রিনকার্ডের কড়াকড়ি নিয়ম থেকে আংশিক পিছুটান দিল মার্কিন সরকার
- শহীদ জিয়ার কালজয়ী আদর্শেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আমি কী জিনিস শেখ হাসিনার কাছে জাইনা নিয়েন: শফিকুল ইসলাম মাসুদ
- আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির কারণেই আসন ছাড়েননি জামায়াত আমির: রাশেদ খান
- নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে তেল আবিবে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
- রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখালে পুরোপুরি নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আরব সাগরের তীরে ভারতকে হারিয়ে আজও কি উৎসব করবে বাংলাদেশ?
- ট্রাম্পের সামনে ভালো বিকল্প নেই, বেছে নিতে হবে খারাপ বা আরও খারাপ পথ: আইআরজিসি
- আগামীতে জামায়াতে ইসলামীই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে: ডা. আবদুল্লাহ তাহের
- দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি: ২৪ ঘণ্টায় বড় ধাক্কা স্বাস্থ্য খাতে
- আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি ম্যাচের সূচি প্রকাশ: প্রতিপক্ষ হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ড
- প্রকল্পের আড়ালে ক্ষমতার প্রভাব? আসিফ-হাসনাতকে নিয়ে নতুন বিতর্ক
- পিএসজি'র চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের আনন্দ ফ্রান্সে রণক্ষেত্র, দেশজুড়ে ৪ শতাধিক গ্রেপ্তার
- ক্যান্সার চিকিৎসায় চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের বড় সাফল্য, স্মার্ট ইনজেকশনে উধাও হচ্ছে টিউমার
- রামিসা হত্যা মামলায় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হবে: আইনমন্ত্রী
- জঙ্গল সলিমপুরে আধুনিক কারাগার ও সেনানিবাস করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬: কোন গ্রেডের মূল বেতন কত টাকা বাড়ছে? দেখে নিন তালিকা
- ইরান চুক্তির খসড়ায় ট্রাম্পের আপত্তি, চুক্তিতে বড় ধরনের সংশোধনীর নির্দেশ
- মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের আইআরজিসি'র, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা
- ৩ উপকূলীয় জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত
- বড় ধরনের মোড়ে বিশ্ববাজার: স্বর্ণের দাম কি আরও কমবে নাকি বাড়বে?
- সোমবার থেকে নিয়মিত কাজের ছন্দে ফিরছে দেশ, কর্মস্থলে ফিরছেন লাখো চাকুরিজীবী
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- সালাহকে অধিনায়ক করে মিসরের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা, বড় চমক হামজা
- খুলনা ঘরের ভেতর শাশুড়ি ও দুই শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জনকে নৃশংস হত্যা
- বিশ্বকাপের মহড়ায় আজ রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল: প্রতিপক্ষ পানামা
- একটি গরুর দাম ৫৯ কোটি টাকা! গিনেস বুকে নাম তুলে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়
- ভারতের উত্তর প্রদেশে কঠোর বিধিনিষেধের ঘেরাটোপে ২০২৬ সালের ঈদুল আজহা
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ২৬ মে ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- কালিগঞ্জে জমি দখলের অভিযোগ,প্রাণনাশের হুমকির দাবি
- কোরবানি হচ্ছে না ভাইরাল মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফিরল খামারে
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- জলদি জলদি ভাগো, জামাই নাকি! সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র কটাক্ষ
- সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা: উৎসবের আমেজে কোরবানি ও ঈদ জামাত
- ঈদের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?
- ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখা যাবে বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচ, নেপথ্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
- গরম বনাম ভারী বৃষ্টি: আর কত দিন চলবে আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা?
- কাতার সেমিফাইনালের সেই নায়ক এবারও আর্জেন্টিনাকে মেগা আনন্দে ভাসাতে মরিয়া
- গাণিতিক মডেলের বিস্ফোরক পূর্বাভাস: ২০২৬ বিশ্বকাপ জিতবে নেদারল্যান্ডস!
- ইরান যুদ্ধে মেলেনি সাফল্য: সম্মানজনক বিদায়ের পথ খুঁজছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প








