পে-স্কেল চূড়ান্তে শেষ ধাপে কমিশন, আসছে বেতন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রণীত নবম জাতীয় পে-স্কেল–এ বেতন গ্রেডের সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় বেতন কমিশন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নবম পে-স্কেলে আগের মতোই ২০টি বেতন গ্রেড বহাল থাকবে। গ্রেড সংখ্যা পরিবর্তন না করে বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ দেওয়ার পথে এগোচ্ছে কমিশন। পে-কমিশনের এক সদস্য জানিয়েছেন, কাঠামোগত স্থিতিশীলতা বজায় রেখে বাস্তবসম্মত বেতন সমন্বয়ই কমিশনের মূল লক্ষ্য।
সভা সূত্র আরও জানায়, পূর্বনির্ধারিত এই বৈঠকে বেতন কাঠামোর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচ্য সূচির মধ্যে ছিল পেনশন ব্যবস্থা, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা। তবে সবচেয়ে বেশি জটিলতা তৈরি হয়েছে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন নির্ধারণ নিয়ে।
বেতন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, সর্বনিম্ন বেতনের বিষয়ে এখনও সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় অন্যান্য সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন বেতন চূড়ান্ত না হলে সর্বোচ্চ বেতন, ভাতা কাঠামো ও অনুপাত নির্ধারণ সম্ভব নয় বলে সভায় মত দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কমিশনের পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে জানানো হয়, আগামী ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় পরবর্তী বৈঠকে সর্বনিম্ন বেতন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮ ধরে সুপারিশ দেওয়ার বিষয়ে কমিশন নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। এই অনুপাত নির্ধারণ চূড়ান্ত হলে পুরো বেতন কাঠামো দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় বেতন কমিশন গঠিত হয় ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই। সরকারি কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে সুপারিশ করাই এই কমিশনের প্রধান দায়িত্ব। কমিশনের কার্যকাল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে সমাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
খণ্ডকালীন সদস্যের পদত্যাগ
এদিকে, একই দিনে জাতীয় বেতন কমিশনের খণ্ডকালীন সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. মাকছুদুর রহমান সরকার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
অধ্যাপক মাকছুদুর রহমান জানান, গত ১৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মাননীয় অর্থ উপদেষ্টার মৌখিক নির্দেশনা এবং বেতন কমিশনের চেয়ারম্যানের লিখিত নির্দেশনার ভিত্তিতে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চার সদস্যবিশিষ্ট একটি সাবকমিটি গঠন করা হয়েছিল।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সাবকমিটি নির্ধারিত কার্যপরিধির আওতায় ৩৩টি বাস্তবায়নযোগ্য ও ন্যায়সংগত প্রস্তাবনা তৈরি করে এবং সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। এসব প্রস্তাবনার বড় একটি অংশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতাকে কর্মদক্ষতা ও পারফরম্যান্সের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে সাবকমিটির প্রতিবেদনটি কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সভায় আলাদা করে উপস্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। এই অবস্থান থেকেই নৈতিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে তিনি কমিশনের খণ্ডকালীন সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
সূত্র: ডেইলি ক্যাম্পাস
ফেব্রুয়ারিতে সরকারি কর্মচারীদের দুই দফা টানা ছুটি
আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অপেক্ষা করছে স্বস্তির খবর। সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মাসের প্রথমার্ধেই মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই দফায় টানা তিন দিন করে ছুটি ভোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা কর্মজীবীদের জন্য বাড়তি অবকাশের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
প্রথম দফার দীর্ঘ ছুটির সুযোগটি আসছে পবিত্র শবেবরাতকে কেন্দ্র করে। সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) শবেবরাত পালিত হতে পারে। তবে এটি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সাপেক্ষ।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে যদি ৪ ফেব্রুয়ারি শবেবরাত পালিত হয়, তাহলে পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সরকার নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার ও শনিবার (৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি)। ফলে মাসের শুরুতেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা তিন দিনের অবকাশ উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
এই প্রথম দফার ছুটি শেষ হওয়ার ঠিক এক সপ্তাহ পরই দ্বিতীয় দফায় আবারও দীর্ঘ ছুটির সুযোগ তৈরি হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার)।
নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি ঘোষিত থাকায় এর পরের দুই দিন ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে করে সরকারি চাকরিজীবীরা আবারও টানা তিন দিনের ছুটি ভোগ করতে পারবেন।
একই মাসে দুই দফায় এমন দীর্ঘ ছুটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ইতোমধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। অনেকেই এই সময়টিকে পারিবারিক সময় কাটানো, ভ্রমণ কিংবা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে।
-রফিক
জুলাইয়ের প্রতিরোধকারীদের ঢাল হচ্ছে সরকার: অনুমোদন পেল বিশেষ আইন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা ও সাধারণ নাগরিকদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে যারা সরাসরি অংশ নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব ধরণের আইনি জটিলতা নিরসনে এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষা দিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে একটি বিশেষ ‘দায়মুক্তি আইন’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ব্রিফিংকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইনবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
অধ্যাপক আসিফ নজরুল অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, গত জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত হওয়া রাজনৈতিক প্রতিরোধের ঘটনায় যদি কারো বিরুদ্ধে কোনো ধরণের ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়ে থাকে, তবে সরকার সেই মামলাগুলো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই ঐতিহাসিক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো মামলা গ্রহণ করা হবে না এবং যারা রাজপথে জীবন বাজি রেখে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন, তাদের কোনোভাবেই হয়রানি করার সুযোগ রাখা হবে না। এই দায়মুক্তি আইন মূলত সেই সব বিপ্লবীদের জন্য একটি আইনি ঢাল হিসেবে কাজ করবে যারা জাতীয় সংকটের সময় বুক পেতে দিয়েছিলেন।
আইন উপদেষ্টা আরও জানান যে, সরকার কেবল নতুন আইন প্রণয়ন করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, বরং অত্যন্ত নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে যে দেশের কোথাও জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে আগে থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়েছে কি না। যদি এ ধরণের কোনো মামলার তথ্য পাওয়া যায়, তবে সরকার সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ায় বাতিল করার উদ্যোগ নেবে। আসিফ নজরুলের মতে, যারা দেশের জন্য একটি বড় পরিবর্তন এনেছেন, তাদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। ফরেন সার্ভিস একাডেমির এই ব্রিফিংয়ে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ছাত্র-জনতার মাঝে বড় ধরণের স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট বা চেতনা রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
দরিদ্র পরিবারে মাসে ৪৫৪০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব
দেশের দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও কাঠামোগত সুপারিশ তুলে ধরেছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। তাদের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দেশের প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ দরিদ্র পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় এনে মাসে ৪ হাজার ৫৪০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য এক বেলা খাবার, প্রতিটি পরিবারের জন্য স্বাস্থ্য কার্ড এবং যুবকদের জন্য শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে ব্যবহারের উপযোগী ক্রেডিট কার্ড চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।
এই সুপারিশগুলো তুলে ধরা হয় নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬: আগামী সরকারের জন্য নাগরিক সুপারিশ’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনীতি, দারিদ্র্য ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন Toufiqul Islam Khan, যিনি Centre for Policy Dialogue (সিপিডি)–এর অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা)। সভায় সভাপতিত্ব করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।
মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ন্যূনতম আয়ের নিচে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য একটি লক্ষ্যভিত্তিক গ্যারান্টিযুক্ত আয় ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। চার সদস্যের একটি পরিবারকে ভিত্তি ধরে ন্যূনতম চাহিদার ২৫ শতাংশ আয় হিসেবে পরিবারপ্রতি মাসে ৪ হাজার ৫৪০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই সহায়তা সবাইকে না দিয়ে আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রথম ধাপে খানা জরিপের ভিত্তিতে অতি দারিদ্র্যপীড়িত ১১টি জেলার ২৮ লাখ মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। পরবর্তী ধাপে দারিদ্র্যপীড়িত ৩৬টি জেলার প্রায় ৮০ লাখ মানুষ এবং সর্বশেষ পর্যায়ে সারাদেশের মোট ১ কোটি ৪৭ লাখ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। তবে উপকারভোগী সঠিকভাবে চিহ্নিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হওয়ায় এ ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নাগরিক প্ল্যাটফর্মের হিসাব অনুযায়ী, শুধু ৩৬টি জেলায় ফ্যামিলি কার্ডভিত্তিক এই সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রায় ৪০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। বর্তমানে দেশে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় প্রায় ১৪০টি কর্মসূচি চালু রয়েছে। সেগুলোর ব্যয় কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং পর্যায়ক্রমে কিছু কর্মসূচি একীভূত বা বাতিল করে নতুন এই ব্যবস্থাটি চালু করা সম্ভব বলে মত দেন বক্তারা।
সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য এক বেলা খাবার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকারি স্কুলের শিশুদের নিয়মিত এক বেলা খাবার দিতে প্রায় ৮ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করে ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।
যুব সমাজকে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে যুক্ত করতে ফেরতযোগ্য ক্রেডিট কার্ড চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়। এই কার্ডের মাধ্যমে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ সহায়তা দেওয়া যেতে পারে, যা শিক্ষা, প্রশিক্ষণ কিংবা কর্মসংস্থানের কাজে ব্যবহার করা যাবে। উদাহরণ হিসেবে ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য ল্যাপটপ কেনার কথা উল্লেখ করা হয়। এ কর্মসূচিতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে প্রতিটি পরিবারের জন্য এক লাখ টাকা মূল্যমানের স্বাস্থ্য কার্ড চালুর প্রস্তাব করা হয়। এই কার্ড সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা, ওষুধ কেনা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যবহার করা যাবে। প্রাথমিকভাবে বর্তমানে ৬১ লাখ বয়স্কভাতা প্রাপকের পরিবারকে দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ব্যয় হতে পারে প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকা।
নাগরিক প্ল্যাটফর্মের মতে, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সুপারিশগুলো ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক নীতিপথনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নাগরিক কণ্ঠকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।
-রাফসান
ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠক আজ, কী আলোচনা হতে যাচ্ছে
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র। সূত্রের তথ্যমতে, আজ বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অবস্থিত প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবনে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান অন্তর্বর্তী শাসনব্যবস্থা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং রাজনৈতিক ঐকমত্যের প্রশ্নে এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্য বহন করতে পারে। বিশেষ করে বিএনপি ও অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনাকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের সম্ভাব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যদিও বৈঠকের নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা নির্বাচনের রোডম্যাপ, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিতব্য এই সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই বৈঠকের ফলাফল দেশের সামনের দিনের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
-রফিক
ভোটার তথ্য বিক্রি করে কোটি টাকা আয়, ইসির কর্মী গ্রেফতার
জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সংশোধন ও নাগরিকদের গোপন তথ্য অবৈধভাবে বিক্রির মাধ্যমে প্রতি মাসে কোটি টাকার বেশি আয় করার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারদের মধ্যে একজন নির্বাচন কমিশন–এর কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস অ্যাসিস্টেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান। তিনি জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অংশ হিসেবে এনআইডি সংশোধনের নামে ভুয়া তথ্য সংযোজন, তথ্য বিকৃতি এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত ডেটা অবৈধভাবে বিভিন্ন মহলে সরবরাহ করে আসছিলেন।
সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রটি রাষ্ট্রীয় এনআইডি ডাটাবেজে অনুপ্রবেশ করে তথ্য পরিবর্তন ও বিক্রির মাধ্যমে নিয়মিত বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। অবৈধ এই কার্যক্রম থেকে তাদের মাসিক আয় এক কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করছে তদন্ত সংস্থা।
সিআইডি সূত্র জানায়, গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভেতরে বা বাইরে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ব্যাপক তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান আরও জানান, এই অপরাধ শুধু আর্থিক দুর্নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের ভোটার ব্যবস্থাপনা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেছে।
সিআইডি জানিয়েছে, এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য, গ্রেফতারের পদ্ধতি, চক্রের কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এনআইডি তথ্য জালিয়াতি ও অবৈধ বিক্রির মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাষ্ট্রীয় ডাটাবেজের নিরাপত্তা জোরদারে আরও প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
-শরিফুল
নাগরিক ভোটের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে গণভোট: আলী রীয়াজ
আসন্ন গণভোটকে সামনে রেখে প্রচার জোরদার ও ভোটারদের সচেতন করতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রংপুরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে মৌলিক ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আসবে। নগরীর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম–এ আয়োজিত এই সভায় বক্তব্য দেন গণভোটে সরকারের প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক আলী রীয়াজ।
আলী রীয়াজ বলেন, এবারের গণভোটে জনগণ সমর্থন দিলে আইনসভায় নাগরিকদের প্রতিটি ভোটের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে নির্বাহী ক্ষমতা, সংসদের নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক দলের প্রধানের দায়িত্ব একত্রে কেন্দ্রীভূত রয়েছে। এই অতিমাত্রার ক্ষমতা সংবিধানের ভেতর থেকেই স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পথ প্রশস্ত করেছে।
ক্ষমতার এমন একক কেন্দ্রীকরণের ফলেই ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদে একজন ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী থাকার মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাংবিধানিক কমিশনগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।
গণভোটের প্রতীক ও ভোটদানের পদ্ধতি তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন গোলাপি রঙের ব্যালটে টিক চিহ্নে সিল দিয়ে নাগরিকরা একটি ভারসাম্যপূর্ণ শাসনব্যবস্থা ও সুশাসিত বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার বলেন, বিগত ১৬ বছর ফ্যাসিবাদী শাসন সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই একটি ভয়াবহ দমনমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। সংবিধানের গুরুতর ত্রুটিগুলোর কারণেই রাষ্ট্র ও জনগণ বারবার সেই শাসনের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিল।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা আবারও ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরিয়ে আনতে চায়, তারাই জুলাই সনদ ও গণভোটকে ব্যর্থ করার জন্য সংঘবদ্ধ অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে জনগণকে সঠিক তথ্য জানানো এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, দেশে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা বারবার সংকট ও মর্যাদাহানির মুখে পড়েছে। গণভোটের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া এই অবস্থা থেকে উত্তরণের বিকল্প নেই।
সভায় বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে হলে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ নাগরিক সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে হবে।
বক্তারা একযোগে বলেন, গণভোট শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থাকে ভারসাম্যপূর্ণ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।
-রফিক
অন-অ্যারাইভাল ভিসা স্থগিত ঘোষণা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং বিদেশিদের অনিয়ন্ত্রিত আগমন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘অন-অ্যারাইভাল ভিসা’ সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন যে, নির্বাচনের সময় অনেক সময় এমন কিছু মানুষ দেশে আসার চেষ্টা করেন যারা কাম্য নয় এবং তাদের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। মূলত এই বিশেষ নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করেই সাময়িকভাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, নিয়মিত প্রক্রিয়ায় দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করে বিদেশিদের বাংলাদেশে আসার পথ খোলা রয়েছে; কেবল তাৎক্ষণিক ভিসা প্রদানের বিষয়টিই এখন স্থগিত থাকবে।
একই ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বাহরাইনে একটি বাসায় বসে পোস্টাল ব্যালট গণনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান যে, বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে এবং এটি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত এই ঘটনাটি নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন। এটি নির্বাচনের স্বচ্ছতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ বা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশের সৈন্য পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে উপদেষ্টার কাছে দীর্ঘ সময় জানতে চাওয়া হয়। এ বিষয়ে তৌহিদ হোসেন একটি অত্যন্ত নীতিগত ও স্পষ্ট বার্তা প্রদান করেন। তিনি জানান যে, গাজায় ফোর্স পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি কেবল প্রাথমিক আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনটি কঠোর শর্তের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, কোনো অবস্থাতেই প্রতিকূল পরিবেশে বাংলাদেশ সেখানে যাবে না। প্রথমত, বাংলাদেশ কোনো অবস্থাতেই সেখানে যুদ্ধ করতে বা লড়াইয়ে অংশ নিতে যাবে না। দ্বিতীয়ত, সেখানে এমন একটি শক্তিশালী ও সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকতে হবে যাদের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হবে। এই সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এবং আলোচনার ফলাফল ইতিবাচক না হলে বাংলাদেশ গাজা মিশনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে না।
মিয়ানমার সীমান্তে চলমান সংঘাত ও সেখানে জান্তা বাহিনীর সাথে বিদ্রোহীদের লড়াইয়ের ফলে উদ্ভূত উত্তজনা নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বর্তমান কূটনৈতিক পদক্ষেপের কথা জানান। তিনি বলেন যে, সীমান্তে অস্থিতিশীলতা ও সংঘাতের প্রতিবাদে ইতোমধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কড়া আপত্তি জানানো হয়েছে। তবে সীমান্তের বর্তমান অবস্থার সুনির্দিষ্ট ও মুহূর্তের তথ্য এই মুহূর্তে তার কাছে নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপদেষ্টা জানান যে, এই বিষয়টি মূলত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান নিবিড়ভাবে তদারকি করেন। বর্তমানে তিনি ব্যক্তিগত কারণে দেশের বাইরে অবস্থান করায় মাঠ পর্যায়ের সবশেষ বিস্তারিত তথ্যগুলো তিনি দেশে ফেরার পর আরও সঠিকভাবে জানানো সম্ভব হবে। সরকার সীমান্ত পরিস্থিতি সজাগ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ফিরলে এ বিষয়ে আরও বড় পদক্ষেপ বা তথ্য জানা যাবে।
গণভোটই হবে ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর প্রধান হাতিয়ার: আলী রীয়াজ
নতুন করে দেশ পুনর্গঠন এবং দীর্ঘ ১৬ বছরের লুটপাট ও দুর্নীতির অবসান ঘটাতে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুরের আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান।
গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে তিনি বলেন, এই ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে আগামী দিনে তরুণ প্রজন্মের কাছে কেমন বাংলাদেশ হস্তান্তর করা হবে।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ তার বক্তব্যে দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের মাধ্যমেই নতুন বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, “তরুণরা যদি একটি নতুন এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পেতে চায়, তবে তাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমেই সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
জুলাই আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদ কেবল কাগজে লেখা কোনো দলিল নয়। এটি শহীদদের রক্ত দিয়ে লেখা একটি পবিত্র অঙ্গীকার। তিনি আরও যোগ করেন, “এই সনদের প্রতিটি লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে গণভোটে জনগণের রায় অত্যন্ত জরুরি। শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে আমাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।”
গণভোটের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ স্পষ্ট করেন যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলকে ক্ষমতায় বসানোর লড়াই নয়। বরং এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের লড়াই। তিনি বলেন, “গণভোটে কোনো ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া হচ্ছে না। জনগণ যদি এই সংস্কারে সম্মতি দেয়, তবে কোনো রাজনৈতিক দলেরই ক্ষমতা থাকবে না সেই সংস্কার প্রক্রিয়াকে আটকে রাখার।”
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছর ধরে জনগণের টাকা যেভাবে লুটপাট হয়েছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের মাধ্যমে সেই দুর্নীতির পথ অনেকাংশেই বন্ধ করা সম্ভব হবে।
ভবিষ্যতে দেশে যাতে পুনরায় কোনো ফ্যাসিবাদী শাসনের উত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন অধ্যাপক রীয়াজ। তিনি মনে করেন, গণভোটই হচ্ছে ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। তার মতে, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই কেবল আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে পারে।
রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আরেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দারসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে গণভোট নিয়ে সচেতনতা আরও বাড়বে।
গাজা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সরকারের শর্ত: যা বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
গাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ) বা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। তবে এই প্রস্তাব নিয়ে বর্তমানে উচ্চপর্যায়ে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা সরকারের এই অবস্থানের কথা পরিষ্কার করেন।
তিনটি কঠোর শর্তে অনড় ঢাকা গাজা মিশনে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, আইএসএফ বাহিনীতে শেষ পর্যন্ত কারা থাকবে বা কারা থাকবে না, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এই মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি তিনটি সুনির্দিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করছে।
উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, "মূল কথা হলো, আমরা তিনটি শর্তের কথা জানিয়েছি। যেকোনো পরিস্থিতিতে এই পরিবেশ সৃষ্টি না হলে আমরা সেখানে যাব না। আমরা ওখানে লড়াই করতে বা যুদ্ধে অংশ নিতে যাব না। যদি এমন কোনো পরিবেশ থাকে যেখানে কারও সাথে যোগাযোগ সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রেও আমরা যাব না। আমাদের এই শর্তগুলো অত্যন্ত পরিষ্কার।" তিনি আরও জানান, পরিবেশ অনুকূল হলে তবেই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী চিন্তাভাবনা করা হবে।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে এসে এ ধরনের বড় আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে চলে আসছে সত্য, তবে রাষ্ট্র ও সরকার কিন্তু থেকে যায়। একটি সরকার পরিবর্তন হলেই মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু বদলে যায় না।" এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা রক্ষার ইঙ্গিত দেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ রাখার বিষয়ে উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সাময়িকভাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া চীনের সহায়তায় বাংলাদেশের সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্য কোনো দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ বাংলাদেশ নেবে না। মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সীমান্তে হতাহতের ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
বিতর্কের প্রেক্ষাপট গাজায় প্রস্তাবিত এই আন্তর্জাতিক বাহিনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আগ্রহের কথা প্রথম জানান অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
ফিলিস্তিনের দীর্ঘদিনের মিত্র ও ‘বন্ধু’ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ কেন মার্কিন প্রস্তাবিত একটি বাহিনীতে যোগ দিতে চাইছে, বিশেষ করে এটি যদি জাতিসংঘের সরাসরি তত্ত্বাবধানে না হয়—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে প্রেস সচিব শফিকুল আলমও অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।
পাঠকের মতামত:
- পে-স্কেল চূড়ান্তে শেষ ধাপে কমিশন, আসছে বেতন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত
- বিপিএল ম্যাচ বাতিল: টিকিট ফেরতের নিয়ম জানুন
- আজকের ডলার, ইউরো ও পাউন্ডের দাম কত
- বিপিএল থেকে বুন্দেসলিগা, আজকের খেলার সূচি এক নজরে
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, জানুন নতুন দর
- এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে জরুরি আপডেট
- শুক্রবার ঢাকায় যেসব দর্শনীয় স্থান এবং মার্কেট বন্ধ জেনে নিন
- আজ কেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া
- শুক্রবার রাজধানীতে কোথায় কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি
- সকালেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডি: উত্তরায় সাততলা ভবনে আগুনে ৩ মৃত্যু, আহত ১৩
- নামাজের সময়সূচি: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
- ফেব্রুয়ারিতে সরকারি কর্মচারীদের দুই দফা টানা ছুটি
- জুলাই অভ্যুত্থানে লুণ্ঠিত অস্ত্র কুমিল্লায় উদ্ধার
- নোবেল পদক উপহার, কূটনীতির নতুন বার্তা: ট্রাম্প–মাচাদো বৈঠক ঘিরে ওয়াশিংটনে কী ইঙ্গিত
- কেন শুক্রবার মুসলমানদের জন্য ব্যতিক্রম ও শ্রেষ্ঠ: জুমার দিনের ফজিলত, আমল ও তাৎপর্য এক নজরে
- ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত
- ভালুকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক
- মহাবিশ্বে রহস্যময় ‘ক্লাউড-৯’: তারাশূন্য এক ব্যর্থ গ্যালাক্সি!
- ঝটপট নাশতায় পাউরুটি কি ডেকে আনছে বড় রোগ? জানুন বিশেষজ্ঞদের মত
- মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের চার পাশে থম থমে পরিবেশ
- কুমিল্লা জেলার ১১ আসনে পোস্টাল ব্যালট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১১ হাজারের বেশি
- প্রতিদিন কয়টি ডিম আপনার স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
- এবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না: ট্রাম্পকে সরাসরি হত্যার হুমকি
- শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা: প্রকাশিত হলো পূর্ণাঙ্গ সূচি
- সমঝোতা মানেই পূর্ণ সহযোগিতা: জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নাহিদ ইসলামের বার্তা
- বিপিএল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত
- বিশ্বকাপে ভারতীয় ভিসা পাচ্ছেন না ইংল্যান্ডের দুই তারকা
- পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিএনপির নতুন প্রস্তাব: সহজ হবে ভোটদান প্রক্রিয়া
- জুলাইয়ের প্রতিরোধকারীদের ঢাল হচ্ছে সরকার: অনুমোদন পেল বিশেষ আইন
- পদ হারাচ্ছেন বিসিবির নাজমুল ইসলাম
- টেবুনিয়া বিএডিসিতে সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ
- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ কবে
- শেয়ারবাজারে ১৫ জানুয়ারির টার্নওভার চিত্র
- ১৫ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১৫ জানুয়ারি দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৫ জানুয়ারির শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধির তালিকা
- ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা
- দরিদ্র পরিবারে মাসে ৪৫৪০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব
- ভোটপ্রক্রিয়া বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি পক্ষ: মির্জা আব্বাস
- ২০২৬ সালের রমজান ও ঈদ নিয়ে সম্ভাব্য সময়সূচি
- ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কোথায় সুযোগ
- রেকর্ড ডেট শেষে সরকারি বন্ড ও দুই কোম্পানীর লেনদেন শুরু
- সরকারি বন্ড বাজারে স্থগিতাদেশ ও ডিলিস্টিং একসঙ্গে
- "এবার আর লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না" ট্রাম্পকে গুলি করা নিয়ে ইরানের বার্তা
- ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠক আজ, কী আলোচনা হতে যাচ্ছে
- ভোটার তথ্য বিক্রি করে কোটি টাকা আয়, ইসির কর্মী গ্রেফতার
- ওয়াশিংটনের নতুন সমরকৌশলে কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য: যুদ্ধের মেঘ কি তবে সুদূরপ্রসারী?
- ঢাকায় যেদিন হতে যাচ্ছে ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’
- জেনে নিন টাকার বিপরীতে আজকের বৈশ্বিক মুদ্রার বিনিময় হার
- নাগরিক ভোটের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে গণভোট: আলী রীয়াজ
- ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত
- এসএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
- বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি
- ডিভিডেন্ড পরিশোধে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিন প্রতিষ্ঠানের
- টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সূচি
- ডিএসই পরিদর্শন/ডোমিনেজ চালু, অন্য চার কোম্পানির কারখানা বন্ধ
- বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ডিএসইর আইনি সতর্কতা
- ১২ জানুয়ারি ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি
- নাসাল স্প্রে কি নাকের বারোটা বাজাচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের বড় সতর্কতা
- কোরআন ও হাদিসে জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত
- ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কোথায় সুযোগ
- সরকারি বন্ড বাজারে স্থগিতাদেশ ও ডিলিস্টিং একসঙ্গে
- আগের দিনের উত্থান মুছে দিল আজকের দরপতন
- রেকর্ড ডেট শেষে সরকারি বন্ড ও দুই কোম্পানীর লেনদেন শুরু
- বিনিয়োগকারী অভিযোগে ডিজিটাল সমাধান জোরদার ডিএসইর








