ঝটপট নাশতায় পাউরুটি কি ডেকে আনছে বড় রোগ? জানুন বিশেষজ্ঞদের মত

মোঃ আশিকুজ্জামান
মোঃ আশিকুজ্জামান
নিজস্ব প্রতিবেদক
জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ২১:১৪:৩৪
ঝটপট নাশতায় পাউরুটি কি ডেকে আনছে বড় রোগ? জানুন বিশেষজ্ঞদের মত
পাউরুটি/ছবি : সংগৃহীত

সকালের কর্মব্যস্ততা কিংবা অফিস যাওয়ার তাড়াহুড়োয় হাতের কাছে দ্রুত ও সহজলভ্য নাশতা হিসেবে পাউরুটির জনপ্রিয়তা অপরিসীম। সাধারণ পাউরুটি থেকে শুরু করে এর বিভিন্ন পদ এখন আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। তবে এই জনপ্রিয় খাবারটি নিয়মিত গ্রহণ করার ফলে মানবদেহে যে দীর্ঘমেয়াদী ও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে সম্প্রতি নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন চিকিৎসকরা। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম 'মেডিকেলনিউজ টুডে'-তে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা দাবি করেছেন যে, নিয়মিত পাউরুটি খাওয়ার অভ্যাস শরীরে বেশ কিছু জটিল ও ভয়াবহ রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে যারা প্রতি সকালে নাশতায় পাউরুটির ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই অভ্যাসটি বড় ধরণের বিপদের কারণ হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, পাউরুটি তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান হলো ইস্ট, যা আটা বা ময়দাকে সুন্দরভাবে ফুলিয়ে তুলতে সাহায্য করে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, খালি পেটে ইস্ট জাতীয় খাবার গ্রহণ করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত হানিকর। পাউরুটির এই উপাদানটি খালি পেটে শরীরে প্রবেশ করলে নানা ধরণের পরিপাকজনিত সমস্যা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে যারা নিয়মিত পাউরুটি খেয়ে আসছেন, তাদের শরীরে এর উপাদানগুলো বিষক্রিয়ার মতো প্রভাব ফেলে। চিকিৎসকরা কঠোরভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন যে, পাউরুটি কোনোভাবেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা যাবে না এবং যাদের নিয়মিত পাউরুটি খাওয়ার অভ্যাস আছে, তাদের উচিত দ্রুত তা বর্জন করা।

পাউরুটির নেতিবাচক প্রভাব কেবল পাকস্থলীতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতার ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, পাউরুটিতে থাকা নির্দিষ্ট কিছু যৌগ যদি নিয়মিত শরীরে প্রবেশ করে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক ফল বয়ে আনে। এর পাশাপাশি পাউরুটিতে থাকা উচ্চমাত্রার গ্লুটেন পেটের সমস্যার জন্য দায়ী। বিশেষ করে গ্যাস ও অ্যাসিডিটির সমস্যায় যারা আগে থেকেই ভুগছেন, পাউরুটি খেলে তাদের সেই পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেহেতু পাউরুটি মূলত রিফাইন করা ময়দা থেকে তৈরি হয়, তাই এতে ফাইবারের পরিমাণ নগণ্য এবং ক্যালোরি ও কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা প্রকট হয় এবং প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন ও মিনারেলের অভাবে শরীরে বড় ধরণের পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন যে, পাউরুটিতে স্বাদ বাড়াতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত চিনি ও লবণ শরীরকে আরও অসুস্থ করে তোলে। এটি দ্রুত ওজন বৃদ্ধিতে সহায়তা করার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। পাউরুটিতে থাকা অতিরিক্ত চিনি এবং ট্রান্স ফ্যাট রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে হৃদরোগের সম্ভাবনা কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলে, যা বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই সুন্দর ও সুস্থ জীবনের জন্য চিকিৎসকরা সকালের নাশতায় পাউরুটির পরিবর্তে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ বিকল্প যেমন ওটস, তাজা ফলমূল, ডিম বা ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর সবজি স্যান্ডউইচ গ্রহণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার স্বার্থে এখনই পাউরুটি সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বেছে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।


সামান্য ভুলেই বেহাত হতে পারে ফোনের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ২০:৩১:৩৯
সামান্য ভুলেই বেহাত হতে পারে ফোনের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

স্মার্টফোন বর্তমান জীবনে অপরিহার্য এক অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত দৈনন্দিন কাজের একটি বড় অংশই এখন এই যন্ত্রটির ওপর নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর নথি, আর্থিক লেনদেনের তথ্য, পারিবারিক ছবি কিংবা ভিডিও—সবই সংরক্ষিত থাকে ডিভাইসে। কোনো কারণে এসব তথ্য বেহাত হলে কেবল সামাজিক সম্মানহানি নয়, বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সচেতনতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

ডিভাইসের প্রাথমিক সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বা পিন ব্যবহার করা আবশ্যক। নিজের নাম, জন্মতারিখ কিংবা ক্রমানুযায়ী সংখ্যা ব্যবহারের মতো অনুমানযোগ্য পাসওয়ার্ড সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়া সামাজিক মাধ্যম ও আর্থিক অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করে প্রতিটি ক্ষেত্রে ভিন্ন ও জটিল পাসওয়ার্ড নির্ধারণ করা এবং টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু রাখা উচিত।

ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় অপরিচিত ও সন্দেহজনক কোনো লিংকে ক্লিক করা যাবে না। বিশেষ করে লোভনীয় অফারের ফাঁদে ফেলে পাঠানো লিংক থেকে সাইবার অপরাধীরা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়। পাশাপাশি অফিশিয়াল অ্যাপ স্টোরের বাইরে কোনো থার্ড পার্টি প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্ষতিকর অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল ছবি বা ভিডিও সুরক্ষিত রাখতে ডিভাইসের নিজস্ব লকড ফোল্ডার কিংবা অ্যাপ লকের সুবিধা নেওয়া প্রয়োজন। ফোন সাময়িকভাবে অন্যের হাতে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি, যাতে অনুমতি ছাড়া কোনো তথ্য স্থানান্তর করা সম্ভব না হয়। এছাড়া পুরোনো ডিভাইস বিক্রি বা হাতবদলের আগে ফ্যাক্টরি ডেটা রিসেট দিয়ে অভ্যন্তরীণ সব তথ্য স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা উচিত।

অনেকের ধারণা, কেবল জটিল প্রযুক্তি ব্যবহার করে হ্যাকিং করলেই তথ্য চুরি হয়। তবে ব্যবহারকারীর অসচেতনতা, দুর্বল পাসওয়ার্ড নির্বাচন এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশনের অনুমোদনের ফলেও ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যক্তিগত নথি অন্যের হাতে চলে যেতে পারে। তাই তথ্য সংরক্ষণে অপ্রয়োজনীয় নকল কপি এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত নিরাপত্তা পদক্ষেপ মেনে চলা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

/আশিক


কম বয়সেই বাড়ছে নীরব ঘাতক রোগ: জেনে নিন সুরক্ষার উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ২১:১৩:২৩
কম বয়সেই বাড়ছে নীরব ঘাতক রোগ: জেনে নিন সুরক্ষার উপায়
ছবি : সংগৃহীত

আধুনিক ব্যস্ত জীবনধারা, কায়িক শ্রমের অভাব এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্কফুড খাওয়ার প্রবণতায় মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভারের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে ১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যেও এখন ফ্যাটি লিভার বা যকৃতে ক্ষতিকর চর্বি জমার সমস্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মানবদেহে বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি শোষণ ও ক্ষতিকর টক্সিন অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো লিভারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সঠিক সময়ে যত্ন না নিলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য দ্রুত ঝুঁকির মুখে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যতালিকায় সচেতনতা এবং বিশেষ করে রান্নায় সঠিক ভোজ্যতেল নির্বাচনের মাধ্যমে এই রোগ বহুলাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

আল্-হায়াত হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কনসালটেন্ট ডায়টেসিয়ান ও পুষ্টিবিদ মোহাম্মদ আরিফ ইকবালের মতে, ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য রান্নায় সবচেয়ে উপকারী উপাদান হলো অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেল। এই তেলে থাকা স্বাস্থ্যকর মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারে নতুন চর্বি জমতে বাধা দেয় এবং অঙ্গটির অভ্যন্তরীণ প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

পাশাপাশি সয়াবিন তেল ও ক্যানোলা তেলও পরিমিত মাত্রায় ব্যবহার করাকে নিরাপদ বলে উল্লেখ করেছেন এই পুষ্টিবিদ। কারণ এগুলোতে ক্ষতিকর স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম থাকায় লিভারের কোষে প্রদাহের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

তবে সরিষার তেল, নারিকেল তেল কিংবা পাম তেলের মতো অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত তেল পরিহার করার জোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, যা যকৃতে চর্বির সঞ্চয় বাড়িয়ে বিদ্যমান ফ্যাটি লিভারের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। খাদ্যতালিকায় তেলের সঠিক নির্বাচনের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার বর্জন, নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম ও পর্যাপ্ত পানি পানের মাধ্যমে লিভার সুস্থ রাখা সম্ভব।

/আশিক


চোখের নিচে কালো দাগ কেন, কমানোর সহজ কিছু উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ১৯:৪১:২৩
চোখের নিচে কালো দাগ কেন, কমানোর সহজ কিছু উপায়
ছবি : সংগৃহীত

চোখের নিচে কালচে দাগ বা ডার্ক সার্কেল অনেকের জন্যই নিয়মিত সৌন্দর্য-সংক্রান্ত দুশ্চিন্তার কারণ। অনিয়মিত ঘুম, দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার, মানসিক চাপ, বয়স বাড়ার মতো বিভিন্ন কারণে চোখের নিচের ত্বকে কালচে ভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। অনেকে প্রসাধনী ব্যবহার করে সাময়িকভাবে এটি ঢেকে রাখেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে ডার্ক সার্কেল কমাতে জীবনযাপনের কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনা গুরুত্বপূর্ণ।

ডার্ক সার্কেল কমানোর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমকে গুরুত্ব দিতে হবে। ঘুমের ঘাটতি হলে চোখের নিচের ত্বক কিছুটা ফ্যাকাশে দেখাতে পারে এবং ত্বকের নিচের রক্তনালিগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান হয়ে কালচে ভাব তৈরি করতে পারে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার অভ্যাস করা ভালো। ঘুমানোর আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টেলিভিশন ব্যবহারের সময় কমিয়ে আনলেও ঘুমের মান ভালো হতে পারে।

শুধু কম ঘুম নয়, নিয়মিত রাত জাগার অভ্যাসও চোখের ক্লান্তি বাড়াতে পারে। রাত জেগে কাজ করা, দীর্ঘ সময় ওয়েব সিরিজ দেখা কিংবা ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ফোন ব্যবহার করলে চোখ পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না। এর প্রভাব সময়ের সঙ্গে চোখের ক্লান্তি ও চোখের নিচের কালচে ভাবের ওপর পড়তে পারে। তাই সম্ভব হলে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলেও চোখ ক্লান্ত ও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। কাজের প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার করতে হলে মাঝেমধ্যে চোখকে বিশ্রাম দেওয়া দরকার। কাজের ফাঁকে কিছুক্ষণ দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকানো, চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখা চোখের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

মানসিক চাপও চোখের নিচের কালচে ভাবকে আরও স্পষ্ট করে তুলতে পারে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের সঙ্গে ক্লান্তি ও ঘুমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া, হাঁটাহাঁটি করা, পছন্দের কাজে সময় দেওয়া বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যকর উপায়ে মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা ভালো।

শরীরে পানির ঘাটতি হলে ত্বক শুষ্ক ও ক্লান্ত দেখাতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফল, প্রোটিনসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। আয়রন বা কিছু ভিটামিনের ঘাটতি থাকলেও ত্বক ফ্যাকাশে বা ক্লান্ত দেখাতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ডার্ক সার্কেল থাকলে তাই শুধু বাহ্যিক পরিচর্যার দিকে নজর না দিয়ে খাবারের পুষ্টিমানেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

চোখের নিচে ফোলাভাব বা ক্লান্তি থাকলে ঠান্ডা সেঁক সাময়িকভাবে আরাম দিতে পারে। পরিষ্কার কাপড়ে মোড়ানো ঠান্ডা প্যাক কয়েক মিনিট চোখের নিচে রাখা যেতে পারে। এতে চোখের চারপাশের ফোলাভাব কিছুটা কমে ত্বক সতেজ দেখাতে পারে। তবে বরফ সরাসরি চোখের নিচের ত্বকে লাগানো উচিত নয়।

চোখের ওপর ঠান্ডা শসার টুকরো রাখার প্রচলনও দীর্ঘদিনের। শসায় পানির পরিমাণ বেশি থাকায় ঠান্ডা শসা চোখের চারপাশে সাময়িক প্রশান্তি দিতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে ফোলাভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে। পরিষ্কার শসার কয়েকটি টুকরো অল্প সময় চোখের ওপর রেখে পরে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নেওয়া যায়।

চোখের নিচের ত্বক মুখের অন্যান্য অংশের তুলনায় পাতলা ও সংবেদনশীল। তাই এই অংশে জোরে ঘষাঘষি বা বারবার টানাটানি করা উচিত নয়। মেকআপ তোলার সময়ও আলতোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। চোখের চারপাশের সংবেদনশীল ত্বকের জন্য উপযোগী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। বাইরে বের হওয়ার সময় সূর্যের ক্ষতিকর আলো থেকে চোখের চারপাশের ত্বক সুরক্ষিত রাখার বিষয়েও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

তবে সব ডার্ক সার্কেলের কারণ এক নয়। ঘুমের ঘাটতি বা ক্লান্তির পাশাপাশি বংশগত বৈশিষ্ট্য, বয়স, অ্যালার্জি, চোখ ঘষার অভ্যাস, ত্বকের রঙের পরিবর্তন কিংবা চোখের নিচের ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়ার কারণেও কালচে ভাব দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত যত্ন নেওয়ার পরও যদি দীর্ঘদিন ডার্ক সার্কেল একই রকম থাকে, তাহলে এর প্রকৃত কারণ জানতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

চোখের নিচের কালচে দাগ সাধারণত একদিনে তৈরি হয় না। তাই এক-দুই দিন কোনো ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করলেই এটি পুরোপুরি দূর হয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। পর্যাপ্ত ঘুম, স্ক্রিন ব্যবহারে বিরতি, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত ত্বকের যত্ন—সব মিলিয়েই ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনা সম্ভব। আর ডার্ক সার্কেল হঠাৎ বেড়ে গেলে, এক চোখে বেশি দেখা দিলে কিংবা ফোলা, ব্যথা বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গের সঙ্গে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

/আশিক


স্মার্টফোন চার্জে দেওয়ার সময় যেসব সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলবেন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ২০:২৯:১২
স্মার্টফোন চার্জে দেওয়ার সময় যেসব সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলবেন
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে যোগাযোগ, দাপ্তরিক কাজকর্ম, বিনোদন কিংবা আর্থিক লেনদেনের মতো দৈনন্দিন প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। আর এই অপরিহার্য ডিভাইসটি সচল রাখতে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। তবে স্মার্টফোন চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকেরই এমন কিছু অসচেতন অভ্যাস থাকে, যা ডিভাইসের নিরাপত্তা এবং ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি আয়ু ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ফোন চার্জিংয়ের সময় সচরাচর করা কয়েকটি ভুল ও সেগুলোর ক্ষতিকর দিক নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রথম ভুলটি হলো ডিভাইস দীর্ঘ সময় ধরে চার্জে লাগিয়ে রাখা। সাধারণত অনেকেই রাতে ঘুমানোর আগে ফোন চার্জে দিয়ে সারারাত রেখে দেন। যদিও আধুনিক প্রযুক্তির স্মার্টফোনগুলোতে ব্যাটারি পূর্ণ হওয়ার পর চার্জিং নিয়ন্ত্রণের নিজস্ব ব্যবস্থা থাকে, তবুও দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ চার্জ অবস্থায় ফোন ফেলে রাখা এবং এর ফলে উৎপন্ন তাপ ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি ধারণক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই প্রয়োজনমাফিক চার্জ দেওয়া এবং ডিভাইস অতিরিক্ত গরম হলে সাময়িকভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাই সঠিক পদ্ধতি।

এছাড়া বিছানা, বালিশ বা তোশকের মতো নরম স্থানে রেখে ফোন চার্জ দেওয়া আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস। চার্জিং চলাকালীন ফোন প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা উষ্ণ হয়। এমন অবস্থায় ডিভাইসটি যদি বালিশের নিচে বা কাপড়ের ওপর থাকে, তবে ভেতরের তাপ বাইরে নির্গত হওয়ার পথ পায় না, যা অতিরিক্ত গরম হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এ ঝুঁকি এড়াতে চার্জ দেওয়ার সময় সবসময় সমতল, শক্ত এবং উন্মুক্ত স্থান বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মূল চার্জার নষ্ট বা হারিয়ে গেলে কম দামের অচেনা ব্র্যান্ডের চার্জার ও কেবল ব্যবহার করাও ব্যাটারির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। নিম্নমানের এসব সামগ্রী ফোনে সঠিক মাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ফোনের অভ্যন্তরীণ চার্জিং ব্যবস্থা ও ব্যাটারির ওপর। ফলে ডিভাইস অস্বাভাবিক উত্তপ্ত হয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য সর্বদা ফোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত অথবা নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের সার্টিফায়েড অ্যাডাপ্টার ও কেবল ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

অনেকেই আবার ব্যাটারির আয়ু বাড়ানোর আশায় বিভিন্ন থার্ড-পার্টি ‘ব্যাটারি-সেভিং’ অ্যাপ নামিয়ে নেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব অ্যাপ কার্যক্ষেত্রে খুব একটা সুফল তো দেয়ই না, বরং অচেনা ও অনির্ভরযোগ্য অ্যাপগুলো নানা ধরনের সংবেদনশীল অনুমতির মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্যের মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাড়তি কোনো অ্যাপের সাহায্য না নিয়ে ডিভাইসে থাকা নিজস্ব ‘ব্যাটারি সেভার’ বা ‘লো পাওয়ার মোড’ ব্যবহার করাই নিরাপদ ও কার্যকর।

চার্জে থাকা অবস্থায় ফোনে ভারী কাজকর্ম করাও ব্যাটারির কার্যক্ষমতা দ্রুত নষ্ট করে। চার্জিং চলাকালীন উচ্চমানের ভিডিও দেখা কিংবা ভারী গেম খেললে প্রসেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যার কারণে ডিভাইস দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই অতিরিক্ত তাপ দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্যের স্থায়ী ক্ষতি করে। তাই চার্জ দেওয়ার সময় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কাজ থেকে বিরত থাকা এবং ডিভাইস গরম হলে ব্যবহার থামিয়ে তা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরতে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

/আশিক


কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে যেসব অভ্যাস বর্জনীয়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৬ ১৯:৫৬:৩৭
কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে যেসব অভ্যাস বর্জনীয়
ছবি : সংগৃহীত

শরীরে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই নীরব ঘাতক হিসেবে বাসা বাঁধতে পারে উচ্চ কোলেস্টেরল। রক্তে অতিরিক্ত এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল জমতে থাকলে রক্তনালীর পথ সরু হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। বয়স কিংবা জিনগত কারণের বাইরে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের কিছু সাধারণ ভুল অভ্যাসও কোলেস্টেরলের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে তোলে।

সকালের নাশতায় পরোটা, মাখন, প্রক্রিয়াজাত মাংস বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে এলডিএল কোলেস্টেরল দ্রুত বাড়ে। মাখন, ঘি, পনির, ক্রিম ও প্যাকেটজাত খাবারে থাকা ক্ষতিকর স্যাচুরেটেড ফ্যাট মোট দৈনিক ক্যালরির সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি বাদাম বা বীজের মতো স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকসও একবারে অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়; প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত স্ন্যাকস বর্জন করে ফলমূল, শাকসবজি ও হোলগ্রেন জাতীয় খাবার খাওয়া হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী।

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনও কোলেস্টেরলের ভারসাম্য নষ্ট করে। দৈনিক কাজের ফাঁকে সচল থাকা, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ব্যায়াম করা এবং একটানা বসে না থেকে হাঁটাচলার অভ্যাস ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়াতে ও খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া সফট ড্রিঙ্কস বা মিষ্টি পানীয় গ্রহণের ফলে ওজন বৃদ্ধি পেয়ে হৃদযন্ত্রে চাপ তৈরি হয়। সর্বোপরি, ধূমপান রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়, যা অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।

/আশিক


সাধারণ পিঠে ব্যথা ও ক্যানসারের উপসর্গের পার্থক্য চেনার উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ২০:৩৯:৫২
সাধারণ পিঠে ব্যথা ও ক্যানসারের উপসর্গের পার্থক্য চেনার উপায়
ছবি : সংগৃহীত

কাজের অত্যধিক চাপ বা ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে পিঠে ব্যথা হওয়া অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। তবে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, পিঠের দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক ব্যথার সঙ্গে শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ফুসফুসের সরাসরি সম্পর্ক থাকতে পারে, যা অনেক সময় ফুসফুসের ক্যানসারের পূর্বলক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়।

চিকিৎসকদের মতে, ফুসফুসের নিজস্ব কোনো অনুভূতিগ্রাহক স্নায়ু না থাকায় এতে সরাসরি ব্যথা অনুভব করা যায় না। তবে ফুসফুসে কোনো জটিলতা তৈরি হলে বা টিউমার বাড়তে থাকলে তা আশপাশের স্নায়ু, হাড় ও টিস্যুতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ফলে বুকের তীব্র যন্ত্রণা অনেক সময় পিঠ কিংবা কাঁধের অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং এর তীব্রতায় রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বিশেষ করে ফুসফুসের ওপরের অংশে 'প্যানকোস্ট টিউমার' নামের এক বিশেষ ধরনের টিউমার তৈরি হলে তা কাঁধ ও হাতের দিকে যাওয়া স্নায়ুর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে কাঁধে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় এবং হাতের আঙুল বা তালু অবশ হয়ে আসতে পারে। উপযুক্ত পরীক্ষার অভাবে রোগীরা প্রায়শই এটিকে সাধারণ ‘ফ্রোজেন শোল্ডার’ বা স্পন্ডিলোসিস ভেবে মাসের পর মাস ভুল চিকিৎসা করিয়ে থাকেন। চিকিৎসকেরা এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অনতিবিলম্বে বুকের এক্স-রে করানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

সাধারণ পেশির টান থেকে হওয়া ব্যথা বিশ্রামে কমে গেলেও কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে থাকা ও ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া, বিশ্রাম বা মলম ব্যবহারে উপশম না হওয়া, রাতের বেলায় ব্যথার তীব্রতায় ঘুম ভেঙে যাওয়া, পিঠে ব্যথার সাথে অকারণে ওজন হ্রাস ও চরম ক্লান্তি এবং দীর্ঘদিনের কাশি, শ্বাসকষ্ট বা কাশির সঙ্গে রক্ত আসার মতো উপসর্গ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পিঠে ব্যথা মানেই ক্যানসার ভেবে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে ব্যথার সঙ্গে এসব শারীরিক পরিবর্তন যুক্ত হলে দ্রুত পরীক্ষা করানোই শ্রেয়।

সূত্র : আনন্দবাজার


ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখতে ভাইরাল হওয়া ঘরোয়া টোটকার কার্যকারিতা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ২১:৪৯:১৯
ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখতে ভাইরাল হওয়া ঘরোয়া টোটকার কার্যকারিতা
ছবি : সংগৃহীত

উজ্জ্বল ও লাবণ্যময় ত্বকের আশায় অনেকেই বাজারের দামি প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকেন। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'অ্যালোভেরা কোলাজেন জেল' নামের একটি ঘরোয়া রূপচর্চার পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ব্যবহারকারীদের দাবি, এই জেলের নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক আর্দ্র ও টানটান থাকার পাশাপাশি এর স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।

সামাজিক মাধ্যমে এটিকে 'কোলাজেন জেল' বলা হলেও বাস্তবে এতে সরাসরি কোনো কোলাজেন থাকে না। মূলত অ্যালোভেরা ও তিসির বীজে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা ত্বককে আর্দ্র রাখার পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে কোলাজেন তৈরির প্রক্রিয়াকে দ্রুত করতে সাহায্য করে। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি কোলাজেনের কোনো সরাসরি বিকল্প নয়, বরং ত্বকের সুরক্ষায় একটি কার্যকর ঘরোয়া মিশ্রণ হিসেবে কাজ করে।

এই জেলের অন্যতম উপাদান অ্যালোভেরায় প্রচুর পরিমাণে পানি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং প্রদাহনাশক প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে। এগুলো ত্বককে ঠান্ডা রাখতে এবং শুষ্কতা ও সাময়িক জ্বালা ভাব দূর করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, মিশ্রণটির আরেক উপাদান তিসির বীজে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের সুরক্ষায় দারুণ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

এই মিশ্রণটি তৈরি করতে টাটকা অ্যালোভেরার রসের সঙ্গে পানিতে ফোটানো তিসির বীজের ঘন ও পিচ্ছিল জেল ব্যবহার করা হয়। তিসির বীজ ফুটিয়ে তৈরি করা জেল ছেঁকে ঠান্ডা করে অ্যালোভেরার সঙ্গে ভালোভাবে মেশাতে হয়। মিশ্রণটি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে এবং ত্বকের আর্দ্রতা আরও বাড়াতে অনেকেই এর সঙ্গে ভিটামিন-ই তেল যুক্ত করে থাকেন।

তবে ঘরোয়া উপাদান মানেই যে তা সবার ত্বকের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল বা অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের এটি সরাসরি ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নতুন এই জেল পুরো মুখে ব্যবহারের আগে হাত বা কানের পেছনে সামান্য লাগিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। ব্যবহারের স্থানে কোনো রকম চুলকানি, লালচে দাগ বা জ্বালা ভাব দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে এর ব্যবহার বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


সালমানের অবয়ব পরিবর্তনের আসল কারণ ও ষাটোর্ধ্বদের ওজন কমানোর সঠিক নিয়ম

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৪ ২১:৫৯:৪৯
সালমানের অবয়ব পরিবর্তনের আসল কারণ ও ষাটোর্ধ্বদের ওজন কমানোর সঠিক নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

বলিউডের জনপ্রিয় সুপারস্টার সালমান খানকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। হঠাৎ করেই টুপি পরা তাঁর একটি ভিডিও এবং কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়লে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে ভক্তদের মনে নানান দুশ্চিন্তার জন্ম হয়। অনেকেরই মনে হয়েছিল তারকা হয়তো জটিল কোনো শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন, কারণ ছবিগুলোতে তাঁকে অতীতের তুলনায় কিছুটা শীর্ণকায়, পরিশ্রান্ত ও অবসন্ন দেখাচ্ছিল।

তবে পরবর্তীতে এই সমস্ত আলোচনার বাস্তব চিত্র সামনে আসে। সালমান খান নিজেই বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান যে, এটি কোনো শারীরিক অসুস্থতা নয়, বরং নতুন চলচ্চিত্রের চরিত্রের প্রস্তুতি ও নিজস্ব ফিটনেস লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবেই তিনি স্বউদ্যোগে প্রায় ১৬ কেজি ওজন কমিয়েছেন। এর মাধ্যমেই তাঁর অবয়ব পরিবর্তন কেন্দ্র করে চলা যাবতীয় জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে।

তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে ভিন্ন সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, ষাটোর্ধ্ব বয়সে ওজন কমানোর প্রক্রিয়াটি তরুণ বয়সের মতো সহজ বা স্বাভাবিক নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীরগতির হয়ে পড়ে এবং প্রাকৃতিকভাবেই পেশির পরিমাণ হ্রাস পেতে থাকে। তদুপরি এই বয়সে হঠাৎ বেশি ওজন কমাতে গেলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা হৃদরোগের মতো শারীরিক ঝুঁকিগুলো নতুন করে দেখা দিতে পারে। তাই কোনো তাড়াহুড়ো না করে এই বয়সে চিকিৎসকের পরামর্শে ধীরগতিতে ওজন নিয়ন্ত্রণ করাই সবচেয়ে যৌক্তিক ও নিরাপদ।

খাদ্যাভ্যাসে প্রোটিনকে প্রাধান্য

নিজের দৈনন্দিন খাবারের তালিকা নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে সালমান খান জানিয়েছিলেন, তিনি মূলত উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার পছন্দ করেন। তাঁর খাদ্যতালিকায় শর্করার পরিমাণ রাখা হয় একেবারেই নগণ্য। তিনি বেশ রসিকতা করেই বলেন যে, খাবার যতই সুস্বাদু হোক না কেন, তিনি দিনে মাত্র এক চামচের বেশি ভাত খান না। ভাতের শর্করা এড়িয়ে তিনি প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে মাছ, মুরগির মাংস ও ডিমের ওপর নির্ভর করেন। যদিও মাঝে মাঝে প্রিয় খাবার খাওয়া তিনি পুরোপুরি বাদ দেন না, তবে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করলে তা ঝরিয়ে ফেলতে পরবর্তীতে বেশ পরিশ্রম করেন।

পছন্দের খাবার খেলেও অনুশীলনে কঠোরতা

সালমান খান এক রসাত্মক মন্তব্যে বলেছিলেন, তাঁর জন্য প্রায় প্রতিটি দিনই কিছুটা ‘চিট ডে’। পছন্দের খাবারের প্রতি অনুরাগ থাকলেও তার সমপরিমাণ শারীরিক কসরত তিনি সুনিশ্চিত করেন। খাবারের মাধ্যমে শরীরে অতিরিক্ত যে ক্যালরি প্রবেশ করে, তা নিয়মিত জিম বা শরীরচর্চার মাধ্যমে পুড়িয়ে ফেলাকেই তিনি নিজের মূল নীতি বানিয়ে নিয়েছেন।

নিয়মিত শরীরচর্চায় ফিটনেস ধরে রাখা

এই তারকার ফিটনেস ট্রেইনারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সালমান সপ্তাহে টানা ছয় দিন শরীরচর্চা করেন এবং একদিন বিশ্রামে থাকেন। তাঁর দৈনন্দিন ফিটনেস রুটিনে থাকে ইনক্লাইন এক্সারসাইজ, পুশ-আপ, ফ্লাই, কার্ডিও, ওয়েট ট্রেনিং এবং হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভাল ট্রেনিংয়ের মতো কঠিন সব ব্যায়াম। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই কার্ডিও করেন তিনি। শুটিংয়ের চরম ব্যস্ততার মধ্যেও সকালে বা রাতে নিয়মিত জিমে সময় দেওয়া তাঁর দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।

ষাটোর্ধ্ব বয়সে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে করণীয়

বিশেষজ্ঞরা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, একজন সাধারণ মানুষের সঙ্গে সালমান খানের মতো তারকার জীবনযাত্রার তুলনার সুযোগ নেই। কারণ এসব তারকার পেছনে সার্বক্ষণিক পুষ্টিবিদ, ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক এবং চিকিৎসকদের নজরদারি থাকে। ষাট বছর বয়সের পর নিরাপদ উপায়ে আট থেকে দশ কেজি ওজন কমাতে অন্তত ছয় মাস বা তার বেশি সময়ের প্রয়োজন হওয়া স্বাভাবিক। কঠোর ডায়েট বা না খেয়ে থাকার ফলে শারীরিক দুর্বলতা, পেশি ক্ষয় এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তাই পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার, পরিমিত শর্করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম করার মাধ্যমেই বয়স্কদের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

সালমান খানের ফিটনেস বজায় রাখার চর্চাটি প্রমাণ করে যে, সঠিক শৃঙ্খলা এবং অনুশীলনের মাধ্যমে বয়সকালেও কর্মক্ষম থাকা সম্ভব। তবে কোনো অলৌকিক বা দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় না গিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা গড়ে তোলাই একমাত্র স্থায়ী সমাধান।

সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া


সমকামিতা কি মানসিক ব্যাধি? আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতামত

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ২০:৪৮:২৯
সমকামিতা কি মানসিক ব্যাধি? আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতামত
ছবি : সংগৃহীত

সমকামিতা ও সমলিঙ্গের মানুষের প্রতি আকর্ষণ নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ও আধুনিক সমাজবিজ্ঞানে দীর্ঘকাল ধরে গবেষণা পরিচালিত হয়ে আসছে। বিশ্বজুড়ে বিষয়টি নিয়ে নানা রূপ কুসংস্কার বা ভুল ধারণা প্রচলিত থাকলেও চিকিৎসা বিজ্ঞান ও গবেষণা সংস্থাগুলো এ নিয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, সমকামিতা কোনো মানসিক রোগ, শারীরিক ব্যাধি বা মানসিক বিকৃতি নয়; বরং এটি মানবীয় যৌন অভিমুখিতার এক স্বাভাবিক বৈচিত্র্য। ১৯৭৩ সালে আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (এপিএ) তাদের মনস্তাত্ত্বিক তালিকার মানসিক ব্যাধির অংশ থেকে এটিকে বাদ দেয়। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) আন্তর্জাতিক রোগ শ্রেণীকরণ (আইসিডি) তালিকা থেকে এটি অপসারণ করে সাধারণ বিষমকামিতার মতোই একটি জৈবিক ও মানসিক বৈচিত্র্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

কোনো ব্যক্তি সমকামী হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো একক কারণ বিজ্ঞান নিশ্চিত করতে না পারলেও জিনগত গঠন, গর্ভকালীন হরমোনের প্রভাব এবং স্নায়বিক ও পরিবেশগত উপাদান যৌথভাবে কাজ করে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের ডিএনএ বিশ্লেষণের এক গবেষণায় স্পষ্ট করা হয় যে, সমকামিতার পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট 'গে জিন' বা একক উপাদান কাজ করে না। এছাড়া এটি কোনো সংক্রামক ব্যাধি নয় এবং কারোর সাথে চলাফেরা বা সান্নিধ্যের মাধ্যমে তা অর্জিত হয় না। অধিকাংশ মানুষ বয়ঃসন্ধি বা প্রাপ্তবয়স্ক পর্যায়ে তাদের প্রাকৃতিক যৌন অভিমুখিতা বুঝতে পারেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বৈশ্বিক মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো জোরপূর্বক অভিমুখিতা বদলের তথাকথিত 'কনভার্সন থেরাপি'কে সম্পূর্ণ অকার্যকর ও বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা ব্যক্তির মাঝে চরম বিষণ্নতা, মানসিক উদ্বেগ ও আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। অনেক দেশে এটি সামাজিক বা আইনি জটিলতার সৃষ্টি করলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপ কাটাতে পরিবার ও সমাজের সংবেদনশীল আচরণ জরুরি। অননুমেয় ও অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পরিহার করে যেকোনো মানসিক জটিলতায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং তথ্যভিত্তিক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।

/আশিক

পাঠকের মতামত: