ঝটপট নাশতায় পাউরুটি কি ডেকে আনছে বড় রোগ? জানুন বিশেষজ্ঞদের মত

মোঃ আশিকুজ্জামান
মোঃ আশিকুজ্জামান
নিজস্ব প্রতিবেদক
জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ২১:১৪:৩৪
ঝটপট নাশতায় পাউরুটি কি ডেকে আনছে বড় রোগ? জানুন বিশেষজ্ঞদের মত
পাউরুটি/ছবি : সংগৃহীত

সকালের কর্মব্যস্ততা কিংবা অফিস যাওয়ার তাড়াহুড়োয় হাতের কাছে দ্রুত ও সহজলভ্য নাশতা হিসেবে পাউরুটির জনপ্রিয়তা অপরিসীম। সাধারণ পাউরুটি থেকে শুরু করে এর বিভিন্ন পদ এখন আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। তবে এই জনপ্রিয় খাবারটি নিয়মিত গ্রহণ করার ফলে মানবদেহে যে দীর্ঘমেয়াদী ও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে সম্প্রতি নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন চিকিৎসকরা। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম 'মেডিকেলনিউজ টুডে'-তে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা দাবি করেছেন যে, নিয়মিত পাউরুটি খাওয়ার অভ্যাস শরীরে বেশ কিছু জটিল ও ভয়াবহ রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে যারা প্রতি সকালে নাশতায় পাউরুটির ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই অভ্যাসটি বড় ধরণের বিপদের কারণ হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, পাউরুটি তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান হলো ইস্ট, যা আটা বা ময়দাকে সুন্দরভাবে ফুলিয়ে তুলতে সাহায্য করে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, খালি পেটে ইস্ট জাতীয় খাবার গ্রহণ করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত হানিকর। পাউরুটির এই উপাদানটি খালি পেটে শরীরে প্রবেশ করলে নানা ধরণের পরিপাকজনিত সমস্যা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে যারা নিয়মিত পাউরুটি খেয়ে আসছেন, তাদের শরীরে এর উপাদানগুলো বিষক্রিয়ার মতো প্রভাব ফেলে। চিকিৎসকরা কঠোরভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন যে, পাউরুটি কোনোভাবেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা যাবে না এবং যাদের নিয়মিত পাউরুটি খাওয়ার অভ্যাস আছে, তাদের উচিত দ্রুত তা বর্জন করা।

পাউরুটির নেতিবাচক প্রভাব কেবল পাকস্থলীতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতার ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, পাউরুটিতে থাকা নির্দিষ্ট কিছু যৌগ যদি নিয়মিত শরীরে প্রবেশ করে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক ফল বয়ে আনে। এর পাশাপাশি পাউরুটিতে থাকা উচ্চমাত্রার গ্লুটেন পেটের সমস্যার জন্য দায়ী। বিশেষ করে গ্যাস ও অ্যাসিডিটির সমস্যায় যারা আগে থেকেই ভুগছেন, পাউরুটি খেলে তাদের সেই পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেহেতু পাউরুটি মূলত রিফাইন করা ময়দা থেকে তৈরি হয়, তাই এতে ফাইবারের পরিমাণ নগণ্য এবং ক্যালোরি ও কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা প্রকট হয় এবং প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন ও মিনারেলের অভাবে শরীরে বড় ধরণের পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন যে, পাউরুটিতে স্বাদ বাড়াতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত চিনি ও লবণ শরীরকে আরও অসুস্থ করে তোলে। এটি দ্রুত ওজন বৃদ্ধিতে সহায়তা করার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। পাউরুটিতে থাকা অতিরিক্ত চিনি এবং ট্রান্স ফ্যাট রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে হৃদরোগের সম্ভাবনা কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলে, যা বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই সুন্দর ও সুস্থ জীবনের জন্য চিকিৎসকরা সকালের নাশতায় পাউরুটির পরিবর্তে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ বিকল্প যেমন ওটস, তাজা ফলমূল, ডিম বা ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর সবজি স্যান্ডউইচ গ্রহণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার স্বার্থে এখনই পাউরুটি সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বেছে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।


প্রতিদিন কয়টি ডিম আপনার স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ১৯:৩১:৫০
প্রতিদিন কয়টি ডিম আপনার স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরেই পুষ্টিবিজ্ঞানের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডিম। একদিকে উচ্চমানের প্রোটিনের উৎস হিসেবে এটি প্রশংসিত হলেও অন্যদিকে এতে থাকা কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি কাজ করত। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক ঐকমত্য এখন নতুন এক ইঙ্গিত দিচ্ছে। পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম যদি সাবধানতার সাথে এবং পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা হয়, তবে এটি স্বাস্থ্যকর সুষম খাদ্যের একটি অত্যন্ত মূল্যবান অংশ হতে পারে। বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে, কতগুলো ডিম খাওয়া একজন মানুষের জন্য নিরাপদ হবে তা মূলত নির্ভর করে ওই ব্যক্তির শারীরিক পরিশ্রম, বয়স এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর।

অধিকাংশ সুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ হলো, একটি সুষম খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন এক থেকে দুটি আস্ত ডিম নিরাপদে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। তবে যাদের প্রোটিনের চাহিদা সাধারণের তুলনায় বেশি, বিশেষ করে যারা নিয়মিত কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করেন কিংবা পেশাদার ক্রীড়াবিদ, তাদের জন্য হিসাবটি কিছুটা ভিন্ন। এই ধরণের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শরীরের ওজন এবং দৈনন্দিন ক্যালরির চাহিদার ওপর ভিত্তি করে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি পর্যন্ত ডিমের সাদা অংশ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, যারা স্বাভাবিক মাত্রার সক্রিয় জীবনযাপন করেন কিন্তু হৃদরোগ বা লিপিড ডিসঅর্ডারের মতো ঝুঁকি নেই, তারা দিনে তিনটি পর্যন্ত ডিম গ্রহণ করতে পারেন যা তাদের পেশি ও হাড়ের শক্তি বৃদ্ধিতে বিশেষ সহায়তা করবে।

ডিমের এই বিপুল পুষ্টিগুণের নেপথ্যে রয়েছে এতে থাকা প্রয়োজনীয় সব মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট। এটি মূলত ওমেগা ডিএইচএ (DHA) এবং ইপিএ (EPA), ভিটামিন ডি৩, বি১২, সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন এ ও ই দ্বারা সুরক্ষিত একটি খাদ্য। এই পুষ্টি উপাদানগুলো কেবল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই বাড়ায় না, বরং মস্তিষ্কের বিকাশ, হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো এবং জ্ঞানীয় কার্যকারিতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া ডিমকে একটি ‘সম্পূর্ণ প্রোটিন’ হিসেবে বিবেচনা করা হয় কারণ এতে আয়রন, জিঙ্ক এবং কোলিনের মতো উপাদান থাকে যা মানুষের বিপাক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে ডিমে থাকা কোলিন মস্তিষ্কের কোষকে সজীব রাখে এবং লুটেইন ও জেক্সানথিনের মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চোখের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় কাজ করে।

ডিম খাওয়া নিয়ে অনেকের মনে যে কোলেস্টেরল ভীতি কাজ করে, সে বিষয়ে নতুন আলোকপাত করেছেন ডায়েটিশিয়ান এবং সার্টিফাইড ডায়াবেটিস এডুকেটর ডা. অর্চনা বাত্রা। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, আধুনিক পুষ্টি গবেষণা ডিমের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে আমূল বদলে দিয়েছে। আগের নির্দেশিকাগুলোতে কোলেস্টেরলের দোহাই দিয়ে ডিম খেতে নিরুৎসাহিত করা হলেও বর্তমান প্রমাণ বলছে যে, খাদ্যতালিকাগত কোলেস্টেরল বেশিরভাগ মানুষের রক্তের কোলেস্টেরলের ওপর অত্যন্ত সামান্য প্রভাব ফেলে। বরং বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে ডিম এইচডিএল (HDL) বা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে এবং এলডিএল (LDL) বা খারাপ কোলেস্টেরলের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব নেই বললেই চলে। ডা. বাত্রার মতে, হৃদরোগের জন্য ডিমের চেয়েও বড় ঝুঁকি হলো অতিরিক্ত সম্পৃক্ত চর্বি (Saturated Fat) এবং অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করা।

তবে বিশেষ কিছু শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ডিম গ্রহণের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ডা. বাত্রা পরামর্শ দেন যে, যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চমাত্রার এলডিএল কোলেস্টেরল বা বিদ্যমান হৃদরোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সপ্তাহে ৩ থেকে ৫টি ডিমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। এমন পরিস্থিতিতে ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে কেবল সাদা অংশ গ্রহণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ। এর পাশাপাশি ডিম রান্নার পদ্ধতির ওপরও পুষ্টিগুণ অনেকটা নির্ভর করে। মাখনে ভাজা বা প্রক্রিয়াজাত মাংসের সাথে মিশিয়ে খাওয়ার চেয়ে সিদ্ধ করা, পোচ করা কিংবা সামান্য তেলে ভাজা ডিম স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি উপকারী। পরিমিত পরিমাণে সঠিক পদ্ধতিতে ডিম গ্রহণ করলে এটি সব বয়সের মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় অনন্য অবদান রাখতে সক্ষম।

সূত্র : নিউজ ১৮


মশা তাড়াতে গিয়ে রোগ ডেকে আনছেন না তো? সতর্ক হোন এখনই

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ১১:৪৮:০১
মশা তাড়াতে গিয়ে রোগ ডেকে আনছেন না তো? সতর্ক হোন এখনই
ছবি : সংগৃহীত

শীতের রাত কিংবা বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া—মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে আমাদের অনেকেরই প্রথম পছন্দ মশার কয়েল কিংবা ইলেকট্রিক লিকুইড রিফিল। বিশেষ করে ঠান্ডার সময় যখন দরজা-জানালা বন্ধ করে এবং ফ্যান বন্ধ রেখে আমরা শান্তির ঘুমের খোঁজ করি, তখন মশা তাড়ানোর এই উপকরণগুলোই যেন হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। কিন্তু এই শান্তির ঘুমের আড়ালে আপনি আপনার শরীরে কতটা বিষ গ্রহণ করছেন, তা নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান এখন বড় ধরণের সতর্কবার্তা দিচ্ছে।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এবং গবেষকদের মতে, বদ্ধ ঘরে মশার কয়েল বা তেলের ধোঁয়া আদতে কোনো শান্তির সমাধান নয়, বরং এটি স্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক নীরব ঘাতক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ মশা নিধনকারী পণ্যে পাইরেথ্রয়েড নামক এক ধরণের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। যদিও একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় এটি ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে, তবে দীর্ঘ সময় ধরে বদ্ধ ঘরে এই ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকা মানবদেহের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়।

মশার কয়েল বা তেলের ধোঁয়া যখন আপনার শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করে, তখন তা তাৎক্ষণিকভাবে কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং বুক ধড়ফড় করার মতো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হাঁপানি বা অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন যে, দীর্ঘদিন এই রাসায়নিক বাষ্পের সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসে স্থায়ীভাবে জ্বালা এবং জটিল শ্বাসজনিত রোগ দেখা দিতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বেশি, কারণ তাদের ফুসফুস এবং স্নায়ুতন্ত্র বড়দের মতো পুরোপুরি গঠিত হয় না। এর ফলে শিশুদের মধ্যে মাথা ঘোরা, বমিভাব এবং চোখ জ্বালাপোড়া করার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাসায়নিক শ্বাসের মাধ্যমে ভেতরে গেলে তা ভ্রূণের স্বাভাবিক বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে গবেষকরা স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন।

পাইরেথ্রয়েড নামক এই রাসায়নিকটি মশাকে নিস্তেজ বা মৃত করতে পারলেও মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর এটি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে। গবেষকদের মতে, রাতের বেলা দীর্ঘক্ষণ এই বাষ্প শ্বাসের সঙ্গে ভেতরে গেলে তীব্র মাথাব্যথা, মনোযোগের অভাব এবং স্নায়বিক দুর্বলতা তৈরি হতে পারে।

এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, একটি বদ্ধ ঘরে দীর্ঘক্ষণ মশা নিধনকারী কয়েল জ্বালিয়ে রাখা ঘরের ভেতরের বায়ুদূষণকে এতটাই বাড়িয়ে দেয় যে তা সরাসরি ধূমপানের ধোঁয়ার মতোই ক্ষতিকর। নিয়মিতভাবে এই ধোঁয়ার ভেতরে ঘুমানো আপনার শরীরে দীর্ঘমেয়াদী বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে, যা ত্বকে চুলকানি বা চোখ লাল হওয়ার মতো সমস্যারও অন্যতম প্রধান কারণ।

তাহলে মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষ কী করবে? এই প্রশ্নের উত্তরে বিশেষজ্ঞরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং নিরাপদ কিছু উপায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তারা বলছেন, ঘরে মশার কয়েল বা তেল ব্যবহার করার সময় জানালা পুরোপুরি বন্ধ না রেখে অন্তত কিছুটা অংশ খোলা রাখা উচিত যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে। শিশু এবং বয়স্কদের ঘরে এ ধরণের রাসায়নিকের ব্যবহার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

বিকল্প হিসেবে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা কিংবা জানালায় নেট বা জাল লাগানো সবচেয়ে কার্যকর ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়। গবেষকদের পরামর্শ হলো, যদি কয়েল ব্যবহার করতেই হয় তবে ঘুমানোর কিছুক্ষণ আগে তা জ্বালিয়ে ঘর থেকে মশা তাড়িয়ে দিতে হবে এবং ঘুমানোর সময় কয়েলটি নিভিয়ে দিতে হবে। নিজের ও পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাসায়নিক ধোঁয়ার মোহ ত্যাগ করে প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দিকে ফিরে আসাই এখন সময়ের দাবি।

সূত্র : টিভি৯ বাংলা


দামী ক্রিমের চেয়ে ১০ গুণ বেশি ফল দেবে ঘরোয়া রূপচর্চা!

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ১১:৩৬:১৩
দামী ক্রিমের চেয়ে ১০ গুণ বেশি ফল দেবে ঘরোয়া রূপচর্চা!
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান বাজারে স্কিনকেয়ার বা রূপচর্চার জন্য অসংখ্য দামী ক্রিম ও সিরাম পাওয়া গেলেও সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে খোদ চর্ম বিশেষজ্ঞদের মধ্যেই এখন নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বড় বড় ব্র্যান্ডের ব্যয়বহুল সব পণ্য ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না, বরং অনেক সময় ত্বকের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিও হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে চর্ম বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, শুধুমাত্র দামী পণ্যের ওপর অন্ধ বিশ্বাস রাখা মোটেই বুদ্ধিমানে কাজ নয়। তাদের মতে, আমাদের হাতের নাগালে থাকা ঘরোয়া সাধারণ উপাদানগুলো ব্যবহার করে অনেক সময় বাজারের কেনা কৃত্রিম রাসায়নিক পণ্যের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকরী ও টেকসই ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ বা রাসায়নিক মিশ্রিত বাজারি ক্রিমের চেয়ে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি মাস্ক বা পরিচর্যার রুটিন ত্বকের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ। বিশেষ করে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ বিভিন্ন ফল যেমন কমলালেবু বা লেবুর রস সরাসরি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে জাদুর মতো কাজ করে। এর পাশাপাশি মধুর প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং দইয়ের আর্দ্রতা প্রদানকারী গুণ ত্বকের কোমলতা ধরে রাখতে বিশেষ সহায়তা করে। সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন নিয়ম মেনে এই ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন নিলে ত্বক ভেতর থেকে সতেজ ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, যা অনেক দামী ফেসিয়াল বা ক্রিমের পক্ষেও সম্ভব হয় না।

চর্ম বিশেষজ্ঞরা ত্বকের যত্নে একটি ত্রিভুজ সূত্রের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে সঠিক পরিচর্যা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং গভীর ঘুম। তাদের মতে, পৃথিবীর কোনো দামী ক্রিমই একজন মানুষের ত্বকের জেল্লা ফেরাতে পারবে না যদি সেই ব্যক্তির শরীরে পানিশূন্যতা থাকে কিংবা তিনি পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নেন। চিকিৎসকদের দাবি, বাজারে পাওয়া দামী সিরামের পেছনে হাজার হাজার টাকা খরচ না করে ঘরে থাকা সহজলভ্য উপাদান দিয়ে নিয়মিত সঠিক নিয়মে ত্বকের যত্ন নিলে কৃত্রিম পণ্যের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব। এই পদ্ধতিগুলো কেবল সাশ্রয়ী নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও অনন্য।

সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম রাসায়নিক পণ্যের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে সচেতনতা বাড়তে থাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ঘরোয়া পদ্ধতির জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বহু মানুষ এখন দামী ব্র্যান্ডের অন্ধ মোহ ত্যাগ করে প্রকৃতির কাছাকাছি ফিরে যাচ্ছেন এবং নিজেদের সাফল্যের গল্প শেয়ার করছেন। চর্ম বিশেষজ্ঞরা এই প্রবণতাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তারা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রাকৃতিক উপাদানগুলো ত্বকের ধরণ অনুযায়ী পরিমিতভাবে ব্যবহার করলে কোনো ধরণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে। সাধারণ মানুষের জন্য এটি যেমন নিরাপদ, তেমনি এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা ও তারুণ্য ধরে রাখার জন্য একটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সমাধান হিসেবে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হচ্ছে।


সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি কি রাতের খাবারের সময়েই লুকিয়ে? যা বলছেন পুষ্টিবিদরা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ২১:৩৯:২১
সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি কি রাতের খাবারের সময়েই লুকিয়ে? যা বলছেন পুষ্টিবিদরা
ছবি : সংগৃহীত

সুস্থ জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আমরা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কী রাখছি তার পাশাপাশি ঠিক কোন সময়ে খাবার গ্রহণ করছি, সেই বিষয়টি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য গবেষণায় দেখা গেছে যে, শুধু পুষ্টিকর খাবার খেলেই সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হয় না, বরং খাবার গ্রহণের সঠিক সময় মেনে চলাও সমানভাবে জরুরি। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকার পর হঠাৎ করে অনেক বেশি পরিমাণে বা ভারী খাবার গ্রহণ করলে শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, রাতের খাবারের সময়ের অনিয়ম মানুষের হজম প্রক্রিয়া, ঘুমের মান এবং শরীরের সামগ্রিক ওজনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়ে রাতের খাবার সম্পন্ন করলে পরিপাকতন্ত্র পর্যাপ্ত সময় পায় এবং খাবার সহজে হজম হয়। এর ফলে বদহজম, গ্যাস কিংবা এসিডিটির মতো সাধারণ সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়। পরিপাক প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকার কারণে মানুষের ঘুমের মানও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়, যা পরদিন শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে রাতের খাবার গ্রহণ করলে শরীরের মেটাবলিজম রেট বা বিপাকীয় হার স্বাভাবিক থাকে, যা শরীরের বাড়তি ওজন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে রাতের খাবার গ্রহণ করা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার অন্যতম একটি কার্যকর উপায় হিসেবে স্বীকৃত।

রাতের খাবার ঠিক কেমন হওয়া উচিত এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে পুষ্টিবিদরা কিছু সুনির্দিষ্ট পরামর্শ প্রদান করেছেন। তাদের মতে, ডিনার হওয়া উচিত অপেক্ষাকৃত হালকা এবং যা সহজে হজম করা যায় এমন সব খাবার। অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত, ভাজাভুজি কিংবা গুরুপাক খাবার রাতের মেনুতে রাখা একদমই উচিত নয়, কারণ এগুলো রাতের বিশ্রামের সময় শরীরে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

এছাড়া রাতের খাবার শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই শুয়ে না পড়ে অন্তত এক ঘণ্টা বিশ্রাম নেওয়া এবং এরপর কিছুটা সময় হালকা হাঁটাচলা করা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই অভ্যাসটি কেবল হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে না, বরং শরীরকে সক্রিয় রেখে দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে ডিনারের অভ্যাস গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।


মেজাজ খিটখিটে আর অনিদ্রা? চিনির বদলে মধুই হতে পারে আপনার সমাধান

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ২১:১৯:০৫
মেজাজ খিটখিটে আর অনিদ্রা? চিনির বদলে মধুই হতে পারে আপনার সমাধান
ছবি : সংগৃহীত

প্রকৃতির এক অনন্য দান মধু কেবল শারীরিক সুস্থতার জন্যই নয়, বরং মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম। সাধারণত মন খারাপ, মানসিক চাপ কিংবা উদ্বেগের সময় অনেকেই খাওয়া-দাওয়ার প্রতি অনীহা প্রকাশ করেন, অথচ এই বিশেষ সময়টিতে সঠিক খাবার গ্রহণ মানসিক অবস্থাকে দ্রুত উন্নত করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। মেজাজ ভালো রাখতে সচরাচর তাজা মাছ, ফলমূল কিংবা সবুজ শাকসবজির কথা বলা হলেও আধুনিক গবেষণা বলছে যে, প্রাকৃতিক এই মিষ্টি উপাদান মধু মন ভালো রাখতে দারুণ সহায়তাকারী। মূলত মধুর ভেতরে থাকা বিশেষ প্রাকৃতিক উপাদান ও এর সমৃদ্ধ পুষ্টিগুণ মানুষের মস্তিষ্ক এবং আবেগের স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মধু হলো প্রাকৃতিক শর্করার এক চমৎকার উৎস। এতে থাকা গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ মানবশরীরে অত্যন্ত ধীরলয়ে শক্তি সরবরাহ করে, যা শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী। সাধারণত রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে গেলে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়, যার ফলে মানুষের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, উদ্বেগ বাড়া, ঘুমের সমস্যা এবং তীব্র মানসিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত ও পরিমিতভাবে মধু পান করলে রক্তে শর্করার এই ওঠানামা তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে, যা একজন ব্যক্তিকে দৈনন্দিন মানসিক চাপ সামলাতে মানসিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী করে তোলে।

মানুষের অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সঙ্গে মনের এক গভীর ও নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। মধুর ভেতরে থাকা প্রিবায়োটিক উপাদান শরীরের উপকারী অন্ত্রজীবাণুকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায়, যা অন্ত্রের পরিবেশ উন্নত করে। এই উপকারী জীবাণুগুলো মানবশরীরে সেরোটোনিন নামক হরমোন উৎপাদনে সরাসরি সহায়তা করে, যা মূলত ভালো লাগার অনুভূতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। যেহেতু অন্ত্র ও মস্তিষ্ক সারাক্ষণ একে অপরের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করে, তাই অন্ত্রের ভারসাম্য ঠিক থাকলে মানুষের মানসিক অবস্থাও তুলনামূলকভাবে স্থির এবং শান্ত থাকে। একই সঙ্গে মধুর হালকা জীবাণুনাশক গুণ ক্ষতিকর জীবাণু নিয়ন্ত্রণে রেখে শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

মানসিক ক্লান্তি কিংবা দীর্ঘদিনের অবসাদী ভাবের পেছনে অনেক সময় শরীরের ভেতরের অক্সিডেটিভ চাপ দায়ী থাকে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পুষ্টিবিদদের মতে, মধুতে বিদ্যমান পলিফেনল ও ফ্লাভানয়েড অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা সরাসরি মস্তিষ্কের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। অক্সিডেটিভ চাপ মূলত স্নায়ু সংকেতের আদান–প্রদান ব্যাহত করে, যার ফলে মানুষের চিন্তাভাবনায় ঝাপসা ভাব এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভূত হয়।

মধু নিয়মিত সেবনে এই ক্ষতিকর প্রক্রিয়াটি অনেকাংশে কমে যায়। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে যে, দীর্ঘস্থায়ী হালকা প্রদাহ শরীরে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। মধুর প্রদাহরোধী উপাদানগুলো এই ঝুঁকি কমিয়ে মস্তিষ্কে সেরোটোনিনের স্বাভাবিক বিপাক প্রক্রিয়া বজায় রাখে এবং শরীরের স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মধু শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী হলেও এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিমিতি বজায় রাখা জরুরি বলে সতর্ক করেছেন পুষ্টিবিদরা। যেহেতু মধু মূলত শর্করার একটি উৎস, তাই দিনে এক থেকে দুই চা-চামচের বেশি মধু না খাওয়াই ভালো। সাধারণ চিনি বা কৃত্রিম মিষ্টির বিকল্প হিসেবে মধু ব্যবহার করা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি কার্যকর। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, মধু যদি প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি কিংবা আঁশযুক্ত খাবার যেমন—দই, ওটস বা ফলের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া হয়, তবে রক্তে শর্করার মাত্রা আরও বেশি স্থিতিশীল থাকে।

তবে বাজারে পাওয়া সব মধু সমান গুণসম্পন্ন নয়; তাই সর্বোচ্চ উপকার পেতে কম প্রক্রিয়াজাত বা সরাসরি সংগ্রহ করা কাঁচা মধু কেনা উচিত, যাতে প্রাকৃতিক এনজাইম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অটুট থাকে। সময় গড়ালে মধু জমে গেলেও তা নষ্ট হয় না, বরং সামান্য গরম পানিতে বোতল রেখে তা পুনরায় তরল করে ব্যবহার করা সম্ভব।


জমি রেজিস্ট্রিতে বড় পরিবর্তন: মুক্তি মিলছে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১৭:৩০:৫৮
জমি রেজিস্ট্রিতে বড় পরিবর্তন: মুক্তি মিলছে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা জেলার জমি ক্রেতা ও গ্রহীতাদের জন্য সুখবর। দীর্ঘদিনের জমি রেজিস্ট্রি ও দলিল প্রাপ্তির জটিলতা এবং ভোগান্তি নিরসনে বিশেষ সেবামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ঢাকা জেলার সবকটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে গ্রাহকেরা এখন থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তাদের দলিলের মূল ও নকল কপি হাতে পাবেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রার অহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, জমি রেজিস্ট্রির পর দলিল কবে প্রস্তুত হবে—তা জানার জন্য গ্রাহকদের আর বারবার অফিসে এসে ধরনা দিতে হবে না। এখন থেকে গ্রহীতারা নির্দিষ্ট ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে তাদের দলিলের বর্তমান অবস্থা ও সরবরাহ সংক্রান্ত তথ্য সহজেই জানতে পারবেন।

এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপ চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে সেবা গ্রহীতাকে একটি সিলযুক্ত রসিদ প্রদান করা হচ্ছে, যেখানে ক্রেতার মোবাইল নম্বরটি বাধ্যতামূলকভাবে সংযুক্ত থাকবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে গ্রাহককে প্রথমে খুদে বার্তা (SMS) এবং পরবর্তীতে সরাসরি ফোন কলের মাধ্যমে দলিল সংগ্রহের তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে যারা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে মোবাইল নম্বর দিতে অনাগ্রহী, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার সুযোগ রাখা হয়েছে।

সেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা জেলার আওতাধীন ২৩টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম, পদবি এবং যোগাযোগ নম্বর সংবলিত একটি সমন্বিত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া জমি রেজিস্ট্রির ফরমেটে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বরের ঠিক নিচেই মোবাইল নম্বর যুক্ত করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অহিদুল ইসলাম আরও জানান, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি দূর করা তাদের প্রধান লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে ঢাকার রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে একটি সক্রিয় ‘হেল্পডেস্ক’ চালু করা হয়েছে। এছাড়াও নিয়মিত গণশুনানি এবং সপ্তাহে অন্তত তিন দিন আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে অফিসগুলোর কার্যক্রম কঠোরভাবে তদারকি করা হচ্ছে। সেবা নিতে আসা মানুষের সুবিধার্থে কার্যালয়গুলোতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

ডিজিটাল অটোমেশন পুরোনো দলিলগুলো নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য বিদ্যমান ভবন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে সব দলিল ডিজিটাল অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য স্ক্যানিং কার্যক্রমের পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাব-রেজিস্ট্রার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যদিও সমস্ত সেবা এখনো কাঙ্ক্ষিত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চশিক্ষিত ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও উন্নত এবং জনবান্ধব ভূমি সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


কিডনি সুরক্ষায় ভিটামিন ‘সি’ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে মানতে হবে বিশেষ সতর্কতা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১১:৩৩:৫১
কিডনি সুরক্ষায় ভিটামিন ‘সি’ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে মানতে হবে বিশেষ সতর্কতা
ছবি : সংগৃহীত

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন ‘সি’-এর গুরুত্ব অপরিসীম হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এর সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও গবেষণায় দেখা গেছে, অনিয়মিত ও উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘সি’ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ফলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।

ভিটামিন ‘সি’ শরীরের জন্য একটি অপরিহার্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যা টিস্যু মেরামত, কোলাজেন উৎপাদন এবং ক্ষত সারানোর কাজে সরাসরি অংশ নেয়। এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে শরীরের ফ্রি র‍্যাডিক্যালজনিত ক্ষতি প্রতিরোধ করে, যা হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমায়। যেহেতু মানবশরীর নিজে থেকে এই ভিটামিন তৈরি করতে পারে না, তাই এটি খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। কমলা, বেরি, ক্যাপসিকাম, ব্রকলি এবং আমলকীর মতো সাইট্রাস ফলগুলো ভিটামিন ‘সি’-এর উৎকৃষ্ট প্রাকৃতিক উৎস।

খাবার থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘সি’ না পেলে অনেকেই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে এই সাপ্লিমেন্টগুলো শরীরে গিয়ে অক্সালেটে রূপান্তরিত হয়, যা মূলত ক্যালসিয়াম অক্সালেট স্টোনের প্রধান উপাদান। এটি কিডনির সবচেয়ে সাধারণ ধরনের পাথর হিসেবে পরিচিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ১,০০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন ‘সি’ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে প্রস্রাবে অক্সালেটের মাত্রা ২০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে কিডনিতে ছোট ছোট স্ফটিক তৈরি হয়, যা সময়ের সাথে সাথে পাথরে রূপ নেয়। বিশেষ করে পুরুষদের শরীরে ভিটামিন ‘সি’ বেশি মাত্রায় অক্সালেটে রূপান্তরিত হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঝুঁকি মূলত কৃত্রিম সাপ্লিমেন্ট থেকে আসে, সরাসরি ফল বা প্রাকৃতিক খাবার থেকে নয়। কারণ সাপ্লিমেন্টে থাকা আলাদা করে নেওয়া অ্যাসকরবিক অ্যাসিড শরীর ভিন্নভাবে প্রক্রিয়াজাত করে। অতিরিক্ত ভিটামিন ‘সি’ লিভারে গিয়ে ভেঙে অক্সালেটে পরিণত হয়। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ১ থেকে ২ গ্রাম ভিটামিন ‘সি’ গ্রহণে প্রস্রাবে অক্সালেট নিঃসরণ প্রায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

প্রধান ঝুঁকির কারণসমূহ

প্রতিদিন ৭০০ থেকে ১,০০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন ‘সি’ খেলে ঝুঁকি বাড়ে। তবে ৫০০ মিলিগ্রামের কম থাকা সাধারণ মাল্টিভিটামিনে এই ঝুঁকি তেমন দেখা যায় না।

যাদের আগে কিডনিতে পাথর হয়েছে, যারা পানিশূন্যতায় ভোগেন কিংবা অতিরিক্ত প্রোটিনযুক্ত খাদ্যাভ্যাস ও স্থূলতা রয়েছে, তাদের ঝুঁকি অনেক বেশি।

পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ভিটামিনের রূপান্তর প্রক্রিয়া নারীদের তুলনায় ভিন্ন হওয়ায় ঝুঁকি বেশি থাকে।

ঝুঁকি কমানোর উপায় ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

কিডনির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকরা প্রাকৃতিক উৎসের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কমলা, পেয়ারা ও আমলকীতে থাকা ফাইবার শরীরে ভিটামিন ‘সি’ শোষণ নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ লিটার পানি পান করলে প্রস্রাব পাতলা থাকে এবং পাথর তৈরির আশঙ্কা কমে। অতিরিক্ত লবণ ও প্রাণিজ প্রোটিন কমিয়ে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যেমন কলা বা পালংশাক এবং সাইট্রেট সমৃদ্ধ লেবুর পানি পান করা পাথর প্রতিরোধে অত্যন্ত সহায়ক।

সর্বোপরি, যারা স্থূলতা বা পানিশূন্যতায় ভুগছেন, তাদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন ‘সি’ সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। প্রয়োজনে প্রস্রাবে অক্সালেটের মাত্রা পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরের প্রকৃত অবস্থা জেনে নেওয়া উচিত।


হোটেল বা ট্রায়াল রুমে লুকানো ক্যামেরা চেনার ৫টি জাদুকরী কৌশল

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১১:১৫:৪৯
হোটেল বা ট্রায়াল রুমে লুকানো ক্যামেরা চেনার ৫টি জাদুকরী কৌশল
ছবি : সংগৃহীত

কাজের ব্যস্ততা আর ক্লান্তি কাটাতে মানুষ যখন পাহাড়, সমুদ্র কিংবা পছন্দের কোনো শহরে ছুটি কাটাতে যান, তখন তাদের প্রথম চাওয়া থাকে একটু নিরিবিলি সময় ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা। আরামদায়ক হোটেল বা রিসোর্টে নিশ্চিন্ত সময় কাটানোর আনন্দ অনেক সময় ম্লান হয়ে যায় একটি দুশ্চিন্তায়—রুমের কোথাও গোপন ক্যামেরা বা নজরদারির যন্ত্র লুকিয়ে রাখা নেই তো?

বর্তমান সময়ে হোটেল রুম কিংবা ট্রায়াল রুমে গোপন ক্যামেরার ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে ভয়ের কিছু নেই; সচেতনতা আর আপনার হাতের স্মার্টফোনটি ব্যবহার করেই আপনি নিশ্চিত করতে পারেন নিজের গোপনীয়তা। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করার কিছু সহজ ও কার্যকর কৌশলের কথা বলা হয়েছে।

গোপন ক্যামেরা খুঁজে বের করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো আলোর প্রতিফলন ব্যবহার করা। আপনার স্মার্টফোনের ফ্ল্যাশলাইট অন করুন এবং ঘরের অন্ধকার কোণ, আলমারি, ঘড়ি, স্পিকার বা টিভি রিমোটের মতো সন্দেহজনক জায়গাগুলোতে আলো ফেলুন। যদি কোথাও গোপন ক্যামেরার লেন্স লুকানো থাকে, তবে সেই লেন্সে ফ্ল্যাশলাইটের আলো পড়ার সাথে সাথে তা একটি ছোট্ট আলোর বিন্দু হিসেবে প্রতিফলিত হবে। এই রিফ্লেকশন দেখে আপনি ক্যামেরার অবস্থান বুঝতে পারবেন।

অধিকাংশ আধুনিক গোপন ক্যামেরা অন্ধকারেও ছবি তোলার জন্য ইনফ্রারেড আলো ব্যবহার করে। এই আলো মানুষের খালি চোখে দেখা না গেলেও স্মার্টফোনের ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ঘরের সব আলো নিভিয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকার করে ফোনের ক্যামেরা চালু করুন এবং রুমের চারপাশে ঘোরান। যদি ক্যামেরার স্ক্রিনে কোনো স্থানে অদ্ভুত লালচে বা বেগুনি আলোর বিন্দু দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে সেখানে ইনফ্রারেড ক্যামেরা লুকানো থাকতে পারে।

প্রযুক্তির এই যুগে স্মার্টফোনের জন্য অনেক অ্যাপ তৈরি হয়েছে যা লুকানো ক্যামেরা শনাক্ত করতে পারে। প্লে-স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ‘হিডেন ক্যামেরা ডিটেক্টর’, ‘গ্লিন্ট ফাইন্ডার’ বা ‘ফিং’-এর মতো অ্যাপগুলো নামিয়ে নিতে পারেন। এই অ্যাপগুলো ফোনের ম্যাগনেটিক সেন্সর ব্যবহার করে আশেপাশে থাকা কোনো ইলেকট্রনিক রেকর্ডিং ডিভাইস বা ক্যামেরার উপস্থিতি সংকেতের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়।

এখনকার অনেক গোপন ক্যামেরা সরাসরি ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করে। আপনার ফোন দিয়ে হোটেলের ওয়াই-ফাই স্ক্যান করুন। যদি দেখেন নেটওয়ার্কে অচেনা কোনো হার্ডওয়্যার ডিভাইস কানেক্টেড আছে বা এমন কোনো নাম দেখাচ্ছে যা সন্দেহজনক, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক স্ক্যানিং অ্যাপ দিয়েও সংযুক্ত ডিভাইসের প্রকৃতি বোঝা সম্ভব।

আপনি যদি নিয়মিত ভ্রমণে যান, তবে ছোট ও পোর্টেবল ‘হিডেন ক্যামেরা ডিটেক্টর’ ডিভাইস সাথে রাখতে পারেন। এগুলো অনলাইনেই সহজলভ্য। এই ডিভাইসগুলো রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বা লেন্স রিফ্লেকশন ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে গোপন ক্যামেরা খুঁজে বের করতে সক্ষম।

সবশেষে, যদি আপনি কোনো রুমে সন্দেহজনক কিছু খুঁজে পান, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানান। আপনার নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা সবার আগে। সামান্য একটু সচেতনতা আপনার ছুটির দিনগুলোকে করতে পারে আরও নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ।


 শীতকালীন সবজিতে নতুন স্বাদ: জেনে নিন বাঁধাকপি ভর্তার সহজ রেসিপি 

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ২১:১৬:০৭
 শীতকালীন সবজিতে নতুন স্বাদ: জেনে নিন বাঁধাকপি ভর্তার সহজ রেসিপি 
ছবি : সংগৃহীত

শীতকালীন তাজা সবজিগুলোর মধ্যে বাঁধাকপির এক আলাদা আবেদন রয়েছে। এটি কেবল পুষ্টিগুণেই সমৃদ্ধ নয়, স্বাদের দিক থেকেও অনন্য। সাধারণ রান্নার বাইরে বাঁধাকপিকে আরও মুখরোচক করে তুলতে ‘বাঁধাকপি ভর্তা’ হতে পারে একটি চমৎকার বিকল্প। স্বল্প সময়ে এবং সহজলভ্য উপকরণে তৈরি এই ভর্তা ভাত, রুটি কিংবা পোলাও—যেকোনো খাবারের সঙ্গেই দারুণভাবে মানিয়ে যায়। যারা হালকা অথচ পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাবার পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই শীতকালীন ভর্তাটি ডাইনিং টেবিলে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে।

প্রয়োজনীয় উপকরণ

বাঁধাকপি: অর্ধেকটা (কুচি করা)

টমেটো: মাঝারি আকারের ২ টি

পেঁয়াজ কুচি: এক কাপ

রসুন কুচি: ৫-৬ কোয়া

শুকনো লাল মরিচ: ৪-৫ টি (ঝাল অনুযায়ী কম-বেশি হতে পারে)

ধনেপাতা কুচি: সামান্য পরিমাণে

সরিষার তেল: পরিমাণমতো

লবণ: স্বাদমতো

প্রস্তুত প্রণালি

১. সবজি প্রস্তুতি: প্রথমেই বাঁধাকপি কুচি করে কেটে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর সামান্য লবণ দিয়ে এটি সেদ্ধ করে নিতে হবে।

২. টমেটো ভাজা: চুলায় একটি প্যান বসিয়ে তাতে সামান্য তেল দিন। এবার মাঝারি আকারের টমেটো দুটি দিয়ে ভাজতে থাকুন। টমেটো সেদ্ধ হয়ে নরম হয়ে এলে এবং ভেতরের সবটুকু পানি শুকিয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে নিন। এরপর টমেটোর ওপরের পাতলা খোসাটি ছাড়িয়ে ফেলে দিন।

৩. মশলা প্রস্তুত: পুনরায় প্যানে অল্প তেল দিয়ে পেঁয়াজ কুচি, রসুন কুচি এবং শুকনো লাল মরিচ হালকা করে ভেজে নিন। খেয়াল রাখবেন যেন পুড়ে না যায়, তবে হালকা ভাজা ঘ্রাণ আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

৪. ভর্তা মাখানো: একটি বড় প্লেটে ভাজা পেঁয়াজ, রসুন ও শুকনো মরিচ নিন। এর সঙ্গে স্বাদমতো লবণ, সরিষার তেল এবং ধনেপাতা কুচি যোগ করুন। এবার আগে থেকে সেদ্ধ করে রাখা বাঁধাকপি এবং ভাজা টমেটো দিয়ে সবকিছু হাত দিয়ে ভালোভাবে মেখে নিন।

ব্যাস, তৈরি হয়ে গেল চমৎকার স্বাদের ও পুষ্টিকর বাঁধাকপি ভর্তা। গরম ভাতের সঙ্গে এটি পরিবেশন করলে শীতের দুপুরের খাবারে এক নতুন তৃপ্তি মিলবে।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত