এবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না: ট্রাম্পকে সরাসরি হত্যার হুমকি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কঠোর এবং সরাসরি এক খুনের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ট্রাম্পের একটি রক্তাক্ত ছবি প্রচারের পাশাপাশি এক হুঁশিয়ারি বার্তায় বলা হয়েছে যে, পরবর্তী আক্রমণ আর লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে এই হুমকিকে তেহরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সরাসরি এবং প্রকাশ্য উসকানি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক শত্রুতা এবং সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন করতে দেশটির প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রকাশ্য হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। এর পাল্টা জবাব হিসেবেই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই চরম বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রচারিত ওই হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার বাটলার শহরে ২০২৪ সালের একটি নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের ওপর চালানো হামলার একটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ওই হামলায় বন্দুকধারী থমাস ক্রুকস ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন, যা তার কানে আঘাত করেছিল। এবার সেই ঘটনাকেই মনে করিয়ে দিয়ে তেহরান ঘোষণা করেছে যে, তাদের পরবর্তী প্রচেষ্টা আর ব্যর্থ হবে না।
ট্রাম্পের ওপর ইরানি প্রশাসনের এমন বিষোদগার ও খুনের হুমকি এবারই প্রথম নয়। এর আগেও ২০২২ সালে ইরানের শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অ্যানিমেটেড ভিডিওতে ট্রাম্পের মার-এ-লাগো গলফ কোর্সে তাকে ড্রোন বা অন্য কোনো মাধ্যমে হত্যার চেষ্টার দৃশ্য দেখানো হয়েছিল। পরে একই গলফ কোর্সে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করার অভিযোগে রায়ান রাউথ নামক এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলে ওই পুরোনো ভিডিওটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত বছর জানিয়েছে যে, ২০২৪ সালে ইরানের নেতৃত্বাধীন একটি বড় ধরণের গুপ্তহত্যার পরিকল্পনা এফবিআই নস্যাৎ করে দিয়েছে। সেই ঘটনায় ফারহাদ শাকেরি নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সরাসরি ট্রাম্পকে হত্যার দায়িত্ব দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের বিশেষ প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, ইরানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও সরকারপন্থী সমাবেশগুলোতে আমেরিকার প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানে আয়োজিত বিভিন্ন সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের মুখে ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান নিয়মিত শোনা যাচ্ছে। এসব সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি তাদের অবিচল আনুগত্য প্রকাশ করছে এবং যেকোনো মূল্যে মার্কিন আগ্রাসন প্রতিহত করার শপথ নিচ্ছে। এই প্রকাশ্য হুমকি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের জীবননাশের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সামনে আসার পর ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাদের তৎপরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র যখন নতুন কোনো সংঘাতের অপেক্ষায়, তখন ট্রাম্পের প্রতি ইরানের এই সরাসরি হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।
সূত্র: কমো
"এবার আর লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না" ট্রাম্পকে গুলি করা নিয়ে ইরানের বার্তা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক নতুন এক বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–কে লক্ষ্য করে প্রচারিত একটি বার্তা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটিই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রকাশ্য ও প্রত্যক্ষ হুমকি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ার বাটলার শহরে ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে সংঘটিত হত্যাচেষ্টার একটি দৃশ্য ব্যবহার করা হয়। ওই ছবির সঙ্গে যুক্ত করা হয় একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু ট্রাম্পকে গুলি করা নিয়ে ভয়াবহ ক্যাপশন “এবার আর লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না।” বার্তাটির প্রতীকী ভাষা এবং সময় নির্বাচন পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Agence France-Presse (এএফপি) জানিয়েছে, এই সম্প্রচার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মূল চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে, যা কেবল অভ্যন্তরীণ নয় বরং বৈশ্বিক শ্রোতাদের উদ্দেশেও একটি স্পষ্ট সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি কেবল মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তা বহনের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
ট্রাম্প ও ইরানের সম্পর্ক বহু বছর ধরেই তিক্ত। বিশেষ করে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পর থেকে এই শত্রুতা আরও গভীর হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর ঘনিষ্ঠ মহল অতীতে একাধিকবার ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য দায়ী করেছে।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইরান সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারে।
এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তেহরান পাল্টা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানে কোনো ধরনের হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর জেরে কাতারসহ কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু কর্মী প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের কড়া অবস্থান, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচারিত হুমকির বার্তা এই তিনের সমন্বয়ে ওয়াশিংটন–তেহরান সম্পর্ক এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক এক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র:আরব নিউজ
ওয়াশিংটনের নতুন সমরকৌশলে কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য: যুদ্ধের মেঘ কি তবে সুদূরপ্রসারী?
ওয়াশিংটন এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বর্তমানে সামরিক উত্তেজনার পারদ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং তার বিশেষায়িত ‘আক্রমণ করো আর সটকে পড়ো’ বা ‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশলের কারণে ইরান ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলো এখন চরম ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন আর পূর্বসূরিদের মতো দীর্ঘমেয়াদী সেনা মোতায়েন বা রাষ্ট্র গঠনের মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ পথে হাঁটতে রাজি নয়। বরং তারা ক্ষিপ্র গতির সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান চালিয়ে দ্রুত রাজনৈতিক ও সামরিক জয় হাসিল করার নতুন এক নীতি গ্রহণ করেছে। ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযান এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সফলভাবে অপহরণের ঘটনা ট্রাম্পকে এই আগ্রাসী কৌশলে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার সেই অভিযানে কোনো শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ বা আন্তর্জাতিক বড় ধরণের বাধা না আসায়, ট্রাম্পের পরবর্তী প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরান।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে, যা ওয়াশিংটনকে উৎসাহিত করছে। দেশটিতে সরকারের বিরুদ্ধে চলমান তীব্র বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার প্রেক্ষিতে ট্রাম্প প্রশাসন এখন দেশটিতে সরাসরি বিমান হামলার পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে। রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ট্রাম্প ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি এবং বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর প্রধান ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। যদিও গত বুধবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় সুর বজায় রেখে বলেছিলেন যে বিক্ষোভকারীদের হত্যা থামানো হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, তবে পর্দার আড়ালে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতির কোনো কমতি দেখা যাচ্ছে না। এর মধ্যে কাতার থেকে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা চিরতরে ধ্বংস করতে আকাশপথে বড় ধরণের অভিযানের ছক কষছে পেন্টাগন।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই নতুন মডেলটি হলো ‘স্বল্প খরচে সরকার পরিবর্তন’। যেখানে আগের মার্কিন প্রশাসনগুলো হাজার হাজার সেনা পাঠিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে বছরের পর বছর পড়ে থাকত এবং বিপুল জনবল ও অর্থের ক্ষয় হতো, ট্রাম্প সেখানে প্রক্সি বা ছায়াযুদ্ধ এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলার মাধ্যমে অতি দ্রুত উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইছেন। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে এই কৌশল সফল হওয়ার একটি বড় কারণ ছিল দেশটির ভঙ্গুর সামরিক ব্যবস্থা এবং দুর্নীতির কারণে ভেতর থেকে ফেটে পড়া শাসনকাঠামো। ইরানের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র একই ধরণের কাঠামোগত দুর্বলতাকে কাজে লাগাতে চায়। বছরের পর বছর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক ধসে বিপর্যস্ত ইরান এখন ভেতর থেকেই চরম অস্থির হয়ে উঠেছে। এই সুযোগে সরাসরি স্থলযুদ্ধ এড়িয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আকাশপথের নিরঙ্কুশ শক্তি প্রয়োগ করে ইরানকে কোণঠাসা করাই এখন ওয়াশিংটনের মূল রণকৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ভেনেজুয়েলার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও সংগঠিত হওয়ায় এই সম্ভাব্য অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরণের ঝুঁকির কারণও হতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন সেনাবাহিনী একই সাথে ভেনেজুয়েলা এবং ইরানের মতো দুটি ভিন্ন মহাদেশের বড় ফ্রন্টে জটিল সামরিক পরিকল্পনা পরিচালনা করার সক্ষমতা নিয়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন পেন্টাগনের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ। তা সত্ত্বেও, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে আকণ্ঠ নিমজ্জিত থাকা এবং চীন তাইওয়ান নিয়ে বেশি মনোযোগী থাকায় বৈশ্বিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই একাধিপত্য বিস্তার করা অনেকটা সহজ হয়ে গেছে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই নতুন সামরিক দর্শন ইরানের ওপর প্রয়োগ করলে তা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রকে স্থায়ীভাবে পাল্টে দেয়, না কি অঞ্চলটিকে এক অনিয়ন্ত্রিত মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
আগামী ২৪ ঘণ্টায় ইরানে মার্কিন হামলা? খাদের কিনারায় মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ক এখন এক ভয়াবহ সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর হুমকির প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, আগামী মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলা শুরু হতে পারে।
এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো ধরণের বিদেশি আগ্রাসন মোকাবিলায় তারা ‘সর্বোচ্চ প্রস্তুতি’ ঘোষণা করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরণের হঠকারী হামলা চালায়, তবে তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে দেবে। বুধবার রয়টার্স ও আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই যুদ্ধাবস্থার চিত্র তুলে ধরেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নকে কেন্দ্র করে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ২ হাজার ৫৭ জন ছাড়িয়ে গেছে। এমন এক উত্তাল সময়ে এরফান সোলতানি নামের এক তরুণ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতারের মাত্র দুই দিনের মাথায় তড়িঘড়ি করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান ও তা কার্যকর করার খবর প্রকাশ পায়।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর এভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা অব্যাহত রাখে, তবে তিনি অত্যন্ত ‘শক্তিশালী পদক্ষেপ’ নেবেন। ইউরোপীয় কূটনৈতিক মহলের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসন এবার কেবল মৌখিক হুমকিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তারা সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের দিকেই এগোচ্ছে।
পেন্টাগন ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে ইরানে হামলার একাধিক সম্ভাব্য পরিকল্পনা জমা দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইরানের পরমাণু প্রকল্পগুলো ধ্বংস করা, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সাইবার লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানা।
বর্তমানে লোহিত সাগরে ইউএসএস রুজভেল্টসহ যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছে, যা সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি থেকে ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেনাসদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কাতারসহ অন্যান্য দেশের ঘাঁটিগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কূটনৈতিক সমাধানের পথও এখন পুরোপুরি রুদ্ধ হওয়ার পথে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকটি শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে গেছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সব ধরণের যোগাযোগের পথ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ তার দেশের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছেন যে, কোনো বিদেশি আক্রমণ বা চাপের মুখে তেহরান বিন্দুমাত্র পিছু হটবে না এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-র তথ্যমতে, বিক্ষোভের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৮ হাজার ১৩৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি দ্রুত বিচারের মাধ্যমে অভিযুক্তদের কঠোর সাজা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক মহলে এই উত্তেজনা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়া ও চীন স্পষ্টভাবে ইরানে যেকোনো ধরণের বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইরানে হামলা চালানো হবে হোয়াইট হাউসের জন্য একটি ঐতিহাসিক ‘বড় ভুল’।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও সব পক্ষকে সংযত হওয়ার এবং সংলাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প হয়তো সরাসরি বড় ধরণের স্থল যুদ্ধে জড়াবেন না। পরিবর্তে তিনি ২০২০ সালের মতো ইরানের শীর্ষ সামরিক বা কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোকে নিশানা করে ড্রোন কিংবা বিমান হামলা চালিয়ে তাদের সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার পথে হাঁটতে পারেন।
সূত্র: রয়টার্স
অনিশ্চয়তায় অভিবাসনের স্বপ্ন: বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত
বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্তত ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই বিতর্কিত ও কঠোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ বুধবার পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ নথির বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। পরবর্তী সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে, যদিও এর বিস্তারিত রূপরেখা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে একটি পোস্ট দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, মূলত ওই ৭৫টি দেশের অভিবাসীরা আমেরিকান জনগণের করের টাকা থেকে গড়ে ওঠা কল্যাণমূলক সুবিধা বা ‘ওয়েলফেয়ার বেনিফিট’ অগ্রহণযোগ্য হারে গ্রহণ করে থাকেন। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি অনুযায়ী, নতুন অভিবাসীরা যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ ব্যবহারের পরিবর্তে নিজেদের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে না পারবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াটি নতুন করে মূল্যায়ন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তা নিতে পারেন এমন ব্যক্তিদের প্রবেশ ঠেকাতেই মূলত এই পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
এই কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল চলতি মাসের শুরুতেই। গত ৪ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডে সোশ্যাল’-এ একটি তালিকা প্রকাশ করেছিলেন। ‘ইমিগ্র্যান্টন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ ওয়েলফেয়ার রেসিপিয়েন্ট রেটস বাই কান্ট্রি অব অরিজিন’ শীর্ষক ১২০টি দেশের ওই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৯তম স্থানে।
তালিকায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে প্রায় ৫৪ দশমিক ৮ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে মার্কিন সরকারের কাছ থেকে আর্থিক বা অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করে থাকে। এই পরিসংখ্যানটিই মূলত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের ক্ষেত্রে প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, অভিবাসী ভিসা স্থগিতের বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য না পেলেও ৪ জানুয়ারি প্রকাশিত তালিকার পর থেকেই এমন পদক্ষেপের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। ফক্স নিউজের তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার আরও চারটি দেশ—ভুটান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও নেপালের নাম রয়েছে।
তবে বিস্ময়করভাবে এই তালিকায় ভারত কিংবা শ্রীলঙ্কার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। স্থগিতাদেশ কার্যকর হওয়ার ফলে এই ৭৫টি দেশের যেসব নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী নাগরিকত্বের স্বপ্ন দেখছিলেন, তাদের ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নথিতে এই স্থগিতাদেশ কতদিন বহাল থাকবে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি, যা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক জরিপ প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০০ সালে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল মাত্র ৪০ হাজার, ২০২৩ সাল নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজারে। অর্থাৎ মাত্র ২৩ বছরের ব্যবধানে সেখানে বাংলাদেশি জনসংখ্যা বেড়েছে ৫৬৯ শতাংশ। জনসংখ্যার এই বিশাল উল্লম্ফনের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের এই ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য এবং যারা নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদের জন্য একটি বিশাল বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের এই নির্দেশনার ফলে ২১ জানুয়ারির পর থেকে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পাওয়ার পথ অন্তত সাময়িকভাবে হলেও রুদ্ধ হতে যাচ্ছে।
যুদ্ধের মেঘ মধ্যপ্রাচ্যে: ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিল একাধিক দেশ
মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা এবং তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে চলমান সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। কূটনৈতিক সম্পর্কের এই চরম অবনতির মধ্যেই ইরানের সেনাবাহিনী তাদের রক্ষণাত্মক প্রস্তুতিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান ত্যাগের জন্য নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র।
বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে চলমান সব ধরনের যোগাযোগ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। সরাসরি আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংঘাতের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটার আশঙ্কায় তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই ধরনের নির্দেশনা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। সংঘাত শুরু হলে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে—এমন শঙ্কা থেকেই এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরান কেবল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেয়নি, বরং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন মিত্র দেশগুলোকেও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর কোনো হামলা চালায়, তবে ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এর মধ্যেই কাতারের দোহায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ ‘আল উদেইদ’ বিমানঘাঁটি থেকে উচ্চপদস্থ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিমান বাহিনীর কমান্ডার সরদার মুসাভি বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, তাদের বাহিনী এখন যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “ইরানের সামরিক বাহিনী বর্তমানে প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত।” মুসাভি আরও উল্লেখ করেন যে, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অনেক বেশি।
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এক নিরাপত্তা বৈঠকে সম্ভাব্য আক্রমণকারীদের সতর্ক করে বলেছেন, কেউ যদি হামলা চালায় তবে তাদের জন্য তেহরানের পক্ষ থেকে ‘অনেক চমক’ অপেক্ষা করছে। প্রেস টিভির বরাত দিয়ে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে পূর্ণ শক্তি খাটিয়ে দেশ রক্ষা করা হবে।” নাসিরজাদেহ আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই হামলায় যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে, তাদের সামরিক স্থাপনাগুলোকেও ইরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও জানান যে, গত বছরের জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সময় ইরানের যেসব সামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা ইতিমধ্যে মেরামত করা হয়েছে এবং বর্তমানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক গুণ বাড়ানো হয়েছে।
আকাশ থেকে আছড়ে পড়ল বিশালাকার লোহা: থাইল্যান্ডে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যুমিছিল
থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশে এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে নির্মাণাধীন একটি উচ্চগতির রেল প্রকল্পের বিশালাকার ক্রেন চলন্ত যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়লে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় আরও ৩০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দেশটির পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, যাত্রীবাহী ট্রেনটি রাজধানী ব্যাংকক থেকে উবন রাতচাথানি প্রদেশের দিকে যাচ্ছিল। নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশের সিখিও জেলা অতিক্রম করার সময় ওপর দিয়ে চলে যাওয়া নির্মাণাধীন উচ্চগতির রেল প্রকল্পের একটি ভারী ক্রেন আচমকা ভেঙে পড়ে। চলন্ত ট্রেনের একটি বগির ওপর ক্রেনটি আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রেনের কিছু অংশে তাৎক্ষণিক আগুন ধরে যায় এবং আতঙ্কিত যাত্রীদের আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। এলাকাটি ব্যাংকক থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত।
নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশের স্থানীয় পুলিশ প্রধান থাচাপোন চিন্নাওং বার্তাসংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “মর্মান্তিক এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২২ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং ৩০ জনেরও বেশি আহত মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুর্ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনতে প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। ভারী ধাতব কাঠামো এবং ট্রেনের দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া অংশগুলো গ্যাস কাটার দিয়ে কেটে ভেতরে প্রবেশ করছেন তারা। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার পর লাগা আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।
স্টেট রেলওয়ে অব থাইল্যান্ড (SRT) জানিয়েছে, আসন বিন্যাস অনুযায়ী ট্রেনটিতে ১৯৫ জন যাত্রীর নাম নথিভুক্ত ছিল। তবে ঘটনার সময় প্রকৃত কতজন যাত্রী ট্রেনের ওই নির্দিষ্ট বগিতে ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ভয়াবহ রেল বিপর্যয়ের পর থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পরিবহনমন্ত্রী ফিপাত রাচাকিতপ্রাকর্ন শোক প্রকাশ করেছেন এবং একটি ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক তদন্ত’ পরিচালনার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। নির্মাণকাজে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, কিংবা নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না—তা খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং তাদের স্বজনদের খবর দেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতির কবলে ইরান: ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে

মোঃ আশিকুজ্জামান
নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের ধসের মুখে পড়েছে ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়াল। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের বিনিময় হার ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে এক নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমানে ১ মার্কিন ডলার সমান ১০ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ ইরানি রিয়াল।
মুদ্রাবাজারে আকস্মিক ধস
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছরের শেষভাগ থেকেই রিয়ালের মান ধারাবাহিকভাবে কমছিল। তবে চলতি বছরের শুরু থেকে এই পতনের গতি তীব্রতর হয়। বিশেষ করে গত ৬ জানুয়ারি থেকে মুদ্রাবাজারে রিয়ালের গ্রাফে এক বিশাল উল্লম্ফন দেখা দেয়। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে রিয়ালের মান কয়েক গুণ কমে যাওয়ার ফলে ইরানের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এখন খাদের কিনারায় এসে ঠেকেছে।
সংকটের নেপথ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা
ইরানের এই অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পেছনে কাজ করছে বহুমুখী বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর কঠোর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। এছাড়া গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানের বিভিন্ন শহরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
১ ডলারের মান ১০ লাখ রিয়াল ছাড়িয়ে যাওয়ায় ইরানে আমদানি করা পণ্যের দাম এখন আকাশচুম্বী। এর ফলে তীব্র মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডলারের বিপরীতে মুদ্রার এই ব্যাপক অবমূল্যায়ন ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি দ্রুত কোনো কার্যকরী অর্থনৈতিক পদক্ষেপ বা ভূরাজনৈতিক উত্তজনা প্রশমিত না হয়, তবে রিয়ালের মান আরও নিচে নেমে যেতে পারে। বর্তমানে ইরানি রিয়াল বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত।
বাংলাদেশ-ভারত সামরিক সম্পর্কে ফাটল নেই, সব যোগাযোগের পথ খোলা: নয়াদিল্লি
ভারত ও বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যেকোনো ধরনের ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ এড়াতে একাধিক যোগাযোগের চ্যানেল বা মাধ্যম সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নয়াদিল্লিতে সেনাবাহিনীর বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের নতুন সমীকরণ ভারতের জন্য কোনো ‘হুমকি’ কি না—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে জেনারেল দ্বিবেদী ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ক্ষমতায় কোন ধরনের সরকার রয়েছে, তা বোঝা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, “যদি এটি একটি অন্তর্বর্তী সরকার হয়, তাহলে আমাদের দেখতে হবে তারা যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে, সেগুলো দীর্ঘমেয়াদী চার থেকে পাঁচ বছরের জন্য নাকি কেবল আগামী চার-পাঁচ মাসের জন্য। আমাদের বিবেচনা করতে হবে— এখনই আমাদের কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রয়োজন আছে কি না।”
ভারতীয় সেনাপ্রধান জানান যে, বর্তমানে ভারতের তিন বাহিনীই (সেনা, নৌ ও বিমান) বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের সব পথ পুরোপুরি খোলা রেখেছে। জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, “ভারতীয় সেনাবাহিনীর একাধিক যোগাযোগের চ্যানেল সক্রিয় রয়েছে এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছি।”
সেনাপ্রধান আরও তথ্য দেন যে, ভারতের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল, যারা মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছে। একইভাবে ভারতীয় নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরাও তাদের সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
যোগাযোগের এই সক্রিয়তার মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো ধরনের ‘যোগাযোগের বিভ্রাট’ বা ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ যেন তৈরি না হয়। জেনারেল দ্বিবেদী আশ্বস্ত করে বলেন, “আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে চাই যে এই মুহূর্তে তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে, তার কোনোটিই ভারতের বিরুদ্ধে নির্দেশিত নয়।”
সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয়টিকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ভারত যেমন নিজের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, অন্য দেশগুলোও তা করছে। তবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ভারতীয় সেনাবাহিনী অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে তিনি জানান।
অর্থনৈতিক সংকট থেকে রাজপথের জনসমুদ্র: ইরানে কেন থামছে না বিক্ষোভ?
ইরানে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষসহ নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক সরকারি কর্মকর্তা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের সংখ্যা ও দায়ভার রয়টার্সকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেন, বিক্ষোভে যে প্রাণহানি ঘটেছে তার জন্য ‘সন্ত্রাসীরা’ দায়ী। তার ভাষ্যমতে, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য—উভয় পক্ষের মৃত্যুর নেপথ্যে রয়েছে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। তবে মোট নিহতের মধ্যে কতজন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান দেননি। এর আগে মানবাধিকার সংস্থাগুলো শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর দিলেও সরকারি পর্যায়ে ২ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য এই প্রথম সামনে এল।
বিক্ষোভের সূত্রপাত ও কারণ ইরানের এই অস্থিরতার সূচনা হয় গত ২৮ ডিসেম্বর। মূলত মুদ্রাস্ফীতি, রিয়ালের ব্যাপক দরপতন এবং লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানের কয়েকটি বাজারে ছোট পরিসরে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই ছোট ছোট প্রতিবাদই দ্রুত দেশজুড়ে বিশাল গণ-আন্দোলনের রূপ নেয়। বিশেষ করে ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে লাগাতার রাস্তায় অবস্থান নিতে শুরু করে।
পরিস্থিতির অবনতি ও রেজা পাহলভির ডাক গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানের পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। দেশটির নির্বাসিত শেষ শাহ-এর ছেলে রেজা পাহলভি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আরও জোরালো প্রতিবাদের ডাক দেওয়ার পরপরই তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের রাজপথ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই সময় থেকেই বড় ধরনের প্রাণহানি ও সহিংসতার খবর প্রচার করতে থাকে। বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর ও গ্রাম এই বিক্ষোভে উত্তাল।
সরকারের অবস্থান ও তথ্যের সংকট ইরান সরকার এই সামগ্রিক অস্থিরতা ও প্রাণহানির জন্য বরাবরই চিরশত্রু দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে আসছে। তেহরানের দাবি, তথাকথিত ‘সন্ত্রাসীরা’ এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে হাইজ্যাক বা দখল করে নিয়েছে এবং তারাই সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে নিহতের পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা এবং যোগাযোগের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তথ্যের এই ব্ল্যাকআউটের মধ্যেই নিহতের সংখ্যা ২ হাজারে পৌঁছানোর খবর বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
পাঠকের মতামত:
- এবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না: ট্রাম্পকে সরাসরি হত্যার হুমকি
- শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা: প্রকাশিত হলো পূর্ণাঙ্গ সূচি
- সমঝোতা মানেই পূর্ণ সহযোগিতা: জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নাহিদ ইসলামের বার্তা
- বিপিএল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত
- বিশ্বকাপে ভারতীয় ভিসা পাচ্ছেন না ইংল্যান্ডের দুই তারকা
- পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিএনপির নতুন প্রস্তাব: সহজ হবে ভোটদান প্রক্রিয়া
- জুলাইয়ের প্রতিরোধকারীদের ঢাল হচ্ছে সরকার: অনুমোদন পেল বিশেষ আইন
- পদ হারাচ্ছেন বিসিবির নাজমুল ইসলাম
- টেবুনিয়া বিএডিসিতে সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ
- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ কবে
- শেয়ারবাজারে ১৫ জানুয়ারির টার্নওভার চিত্র
- ১৫ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১৫ জানুয়ারি দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৫ জানুয়ারির শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধির তালিকা
- ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা
- দরিদ্র পরিবারে মাসে ৪৫৪০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব
- ভোটপ্রক্রিয়া বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি পক্ষ: মির্জা আব্বাস
- ২০২৬ সালের রমজান ও ঈদ নিয়ে সম্ভাব্য সময়সূচি
- ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কোথায় সুযোগ
- রেকর্ড ডেট শেষে সরকারি বন্ড ও দুই কোম্পানীর লেনদেন শুরু
- সরকারি বন্ড বাজারে স্থগিতাদেশ ও ডিলিস্টিং একসঙ্গে
- "এবার আর লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না" ট্রাম্পকে গুলি করা নিয়ে ইরানের বার্তা
- ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠক আজ, কী আলোচনা হতে যাচ্ছে
- ভোটার তথ্য বিক্রি করে কোটি টাকা আয়, ইসির কর্মী গ্রেফতার
- ওয়াশিংটনের নতুন সমরকৌশলে কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য: যুদ্ধের মেঘ কি তবে সুদূরপ্রসারী?
- ঢাকায় যেদিন হতে যাচ্ছে ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’
- জেনে নিন টাকার বিপরীতে আজকের বৈশ্বিক মুদ্রার বিনিময় হার
- নাগরিক ভোটের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে গণভোট: আলী রীয়াজ
- মশা তাড়াতে গিয়ে রোগ ডেকে আনছেন না তো? সতর্ক হোন এখনই
- একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতে দুই বছর মুনাফা স্থগিত
- দামী ক্রিমের চেয়ে ১০ গুণ বেশি ফল দেবে ঘরোয়া রূপচর্চা!
- একাধিক স্ত্রী গোপন, পটুয়াখালীতে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
- অসহায় জনগণের আর্তনাদ: সংবিধানের ‘মালিক’ এখন গ্যাস ও চালের বাজারে জিম্মি
- বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ডিএসইর আইনি সতর্কতা
- সিলেটে ১৩০টি গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ
- বাকেরগঞ্জে পোষা বিড়ালকে কুপিয়ে জখম: বিচার চেয়ে থানায় গৃহবধূ
- বিনিয়োগকারী অভিযোগে ডিজিটাল সমাধান জোরদার ডিএসইর
- ডিএসই পরিদর্শন/ডোমিনেজ চালু, অন্য চার কোম্পানির কারখানা বন্ধ
- টাকা ফেরত দাও: বিসিবি পরিচালকের মন্তব্যে উত্তাল দেশের ক্রিকেট অঙ্গন
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
- আগামী ২৪ ঘণ্টায় ইরানে মার্কিন হামলা? খাদের কিনারায় মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- অনিশ্চয়তায় অভিবাসনের স্বপ্ন: বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত
- স্কটল্যান্ডে বাংলাদেশের নতুন কনসাল জেনারেলের সম্মানে সিলেট প্রেসক্লাবে রাজকীয় আয়োজন
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি
- সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি কি রাতের খাবারের সময়েই লুকিয়ে? যা বলছেন পুষ্টিবিদরা
- মহাকাশের নিস্তব্ধতা ভেঙে রঙিন শকওয়েভ: অরিগা নক্ষত্রমণ্ডলে বিরল আবিষ্কার
- এসএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
- বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি
- এক চড়, দশ হাজার টাকা, আর চিরকালের নত মেরুদণ্ড
- ডিভিডেন্ড পরিশোধে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিন প্রতিষ্ঠানের
- আজ ঢাকায় বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- ডিএসই পরিদর্শন/ডোমিনেজ চালু, অন্য চার কোম্পানির কারখানা বন্ধ
- নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিন প্রস্তাব
- কোরআন ও হাদিসে জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত
- দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাউশির চিঠি, নেপথ্যে কী
- ১২ জানুয়ারি ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি
- আজকের আবহাওয়া আপডেট: কোথায় কতটা শীত
- বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ডিএসইর আইনি সতর্কতা
- টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সূচি
- আজ নামাজের সময়সূচি ও সূর্যাস্ত








