এবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না: ট্রাম্পকে সরাসরি হত্যার হুমকি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কঠোর এবং সরাসরি এক খুনের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ট্রাম্পের একটি রক্তাক্ত ছবি প্রচারের পাশাপাশি এক হুঁশিয়ারি বার্তায় বলা হয়েছে যে, পরবর্তী আক্রমণ আর লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে এই হুমকিকে তেহরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সরাসরি এবং প্রকাশ্য উসকানি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক শত্রুতা এবং সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন করতে দেশটির প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রকাশ্য হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। এর পাল্টা জবাব হিসেবেই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই চরম বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রচারিত ওই হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার বাটলার শহরে ২০২৪ সালের একটি নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের ওপর চালানো হামলার একটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ওই হামলায় বন্দুকধারী থমাস ক্রুকস ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন, যা তার কানে আঘাত করেছিল। এবার সেই ঘটনাকেই মনে করিয়ে দিয়ে তেহরান ঘোষণা করেছে যে, তাদের পরবর্তী প্রচেষ্টা আর ব্যর্থ হবে না।
ট্রাম্পের ওপর ইরানি প্রশাসনের এমন বিষোদগার ও খুনের হুমকি এবারই প্রথম নয়। এর আগেও ২০২২ সালে ইরানের শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অ্যানিমেটেড ভিডিওতে ট্রাম্পের মার-এ-লাগো গলফ কোর্সে তাকে ড্রোন বা অন্য কোনো মাধ্যমে হত্যার চেষ্টার দৃশ্য দেখানো হয়েছিল। পরে একই গলফ কোর্সে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করার অভিযোগে রায়ান রাউথ নামক এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলে ওই পুরোনো ভিডিওটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত বছর জানিয়েছে যে, ২০২৪ সালে ইরানের নেতৃত্বাধীন একটি বড় ধরণের গুপ্তহত্যার পরিকল্পনা এফবিআই নস্যাৎ করে দিয়েছে। সেই ঘটনায় ফারহাদ শাকেরি নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সরাসরি ট্রাম্পকে হত্যার দায়িত্ব দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের বিশেষ প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, ইরানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও সরকারপন্থী সমাবেশগুলোতে আমেরিকার প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানে আয়োজিত বিভিন্ন সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের মুখে ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান নিয়মিত শোনা যাচ্ছে। এসব সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি তাদের অবিচল আনুগত্য প্রকাশ করছে এবং যেকোনো মূল্যে মার্কিন আগ্রাসন প্রতিহত করার শপথ নিচ্ছে। এই প্রকাশ্য হুমকি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের জীবননাশের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সামনে আসার পর ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাদের তৎপরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র যখন নতুন কোনো সংঘাতের অপেক্ষায়, তখন ট্রাম্পের প্রতি ইরানের এই সরাসরি হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।
সূত্র: কমো
মাত্র আধা ঘণ্টাতেই নিশ্চিহ্ন জনপদ, ভয়াবহ দুর্যোগের বিবরণ ত্রাণকর্মীদের
নেপালে সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার তীব্রতা কতটা প্রলয়ংকরী ছিল, তা উঠে এসেছে দুর্গত এলাকায় কর্মরত আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মীদের বর্ণনায়। দুর্যোগ মোকাবিলায় নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের রন্ধন বিভাগের পরিচালক ক্রিস মিলার জানিয়েছেন, বন্যার পানির তোড়ে কয়েকটি জনপদ মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিটের ব্যবধানে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। কাঠমান্ডু থেকে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, এই দুর্যোগের সবচেয়ে মারাত্মক দিক ছিল এর অভাবনীয় গতি; যার ফলে নিমেষেই পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
দুর্যোগকবলিত মানুষের মাঝে জরুরি খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন। মিলার জানান, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ সংস্থাটি বন্যার আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উত্তরাঞ্চলের দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে। সেখানে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের সহায়তায় একাধিক অস্থায়ী ফিল্ড কিচেন চালু করা হবে, যেখান থেকে প্রস্তুত করা গরম খাবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
এদিকে প্রকৃতির এই আকস্মিক তাণ্ডবে নিখোঁজ হওয়া মানুষদের পরিবারের মাঝে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ২৬ বছর বয়সী যন্ত্রপ্রকৌশলী প্রতীক গৌতম রসুয়া জেলার আপার ত্রিশূলী ১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। তাঁর ভাই প্রভব গৌতম সিএনএনকে জানান, গত বুধবার সকাল ৯টা ৬ মিনিটে প্রতীক স্ন্যাপচ্যাটে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। সেই ভিডিওতে প্রকল্পের ক্যাম্প প্রাঙ্গণে বিপৎকালীন সাইরেন বাজতে এবং আতঙ্কিত লোকজনকে জীবন বাঁচাতে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ওপরের দিকে ছুটতে দেখা যায়।
ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই প্রতীকের সঙ্গে পরিবারের সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্যোগের পর ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোনো সন্ধান না মেলায় স্বজনদের উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। ওই প্রকল্পের একই কক্ষে অবস্থান করা প্রতীকের আরেকজন সহকর্মীও নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার জানায়, ভিডিও ধারণের মুহূর্তে প্রতীক তাঁর অফিসের বাইরে অবস্থান করছিলেন এবং পরবর্তীতে ঠিক কী ঘটেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
অন্য একটি ভিডিও চিত্রে প্রকল্প এলাকার দুটি ছোট গাড়ির পাশে এক কর্মকর্তাকে দেখা গেলেও, সেই গাড়িতে থাকা প্রকৌশলীদের উদ্ধার বা অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য মেলেনি। এর আগে এমন পরিস্থিতিতে সাইরেন বাজলে কর্মীরা সাধারণত উঁচু পাহাড়ি জায়গায় আশ্রয় নিতেন বলেও পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
বন্যার তীব্র পানির স্রোত এবং বহু এলাকায় সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত স্থানগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়ি জনপদগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণসামগ্রী পাঠাতে মূলত হেলিকপ্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ও খাদ্যহীন মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণ পৌঁছানোর জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
নেপালে ১০ কর্মীকে উদ্ধারের পর নিখোঁজ বাকি ৯ জনের সন্ধানে দক্ষিণ কোরিয়া
নেপালে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে নিখোঁজ হওয়া নিজেদের ৯ নাগরিকের সন্ধানে বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। শনিবার (২৯ আগস্ট) দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিখোঁজ ব্যক্তিরা দক্ষিণ কোরীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রতিষ্ঠান কোরিয়া সাউথ-ইস্ট পাওয়ার এবং দুসান এনারবিলিটির কর্মী।
নেপালের রাসুয়া অঞ্চলে একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন এই কর্মীরা। গত বুধবার সকালে সেখানে আকস্মিক বন্যা আঘাত হানলে তাঁদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিখোঁজ কর্মীদের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত ও অনুসন্ধানের জন্য দুটি ভাড়া করা হেলিকপ্টার নিয়ে উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দুর্গম এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়া হেরাল্ড উল্লেখ করেছে।
এর আগে ওই অঞ্চলেরই অন্য একটি এলাকায় বিপদের মুখে আটকে পড়া দুসান এনারবিলিটির আরও ১০ কর্মীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।
কর্মীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সামনে আসার পর দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন দ্রুত এক জরুরি বৈঠক ডাকেন। নেপালের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে নিখোঁজদের দ্রুত সন্ধান চালানো এবং দেশটিতে অবস্থানরত অন্যান্য কোরীয় নাগরিকদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঠমান্ডুর দক্ষিণ কোরীয় দূতাবাসকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
নেপালে বিপর্যয়: শত শত মৃত্যু, নিখোঁজ ১৪০০
হিমালয়ঘেঁষা নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের রূপ নিয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) শুরু হওয়া দুর্যোগের পর তৃতীয় দিনের মতো ধ্বংসস্তূপ, কাদা ও বিচ্ছিন্ন জনপদে নিখোঁজদের সন্ধান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। শুক্রবার সকালের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সর্বশেষ হিসাবে নেপালে মৃতের সংখ্যা ৪৬৯ জনে পৌঁছেছে এবং প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ। তবে উদ্ধার অভিযান দুর্গম ও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিপর্যয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নেপালের ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকা এবং তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন বিস্তীর্ণ পাহাড়ি অঞ্চল। প্রবল স্রোতের সঙ্গে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন বসতি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অনেক জায়গায় যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকারী দলগুলোকে হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন উপায়ে দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে হচ্ছে।
দুর্যোগটির সম্ভাব্য কারণ নিয়েও নতুন তথ্য সামনে এসেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমিকম্প ও ভূমিধসের কথা বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার পর্যবেক্ষণের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হিমবাহের একটি অংশ ধসে পড়ার সঙ্গে বিপর্যয়কর স্রোত সৃষ্টির যোগসূত্রের কথা উঠে এসেছে। রয়টার্সও জানিয়েছে, বিপুল বরফ, কাদা ও শিলার ধস পাহাড়ি নদীব্যবস্থায় নেমে এসে প্রবল বন্যা সৃষ্টি করেছে। তবে বিপর্যয়ের পূর্ণাঙ্গ ভূতাত্ত্বিক কারণ নির্ধারণে আরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী হওয়ায় এই দুর্যোগ আন্তর্জাতিক মাত্রাও পেয়েছে। কৈলাস-মানস সরোবরগামী পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের অনেকে দুর্যোগের সময় নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন। ভারতীয় নাগরিকদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় নিখোঁজের তালিকা যাচাই এবং বিদেশিদের অবস্থান নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে উঠেছে।
নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি জরুরি প্রতিক্রিয়া দল গঠন করেছে। এই দল অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে সমন্বয়, নিখোঁজদের তথ্য যাচাই এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশি নাগরিকদের কনস্যুলার সহায়তার কাজ করছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ভারতসহ বিভিন্ন দেশ নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে চলমান উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই নতুন বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালের ছোচেন খোলা নদী ও চীনের পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলের কাছে ভূমিধসের কারণে একটি প্রাকৃতিক ‘ব্যারিয়ার লেক’ বা বাধাগ্রস্ত জলাধার তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ সেখানে আনুমানিক ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছিল। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি সেখানে প্রবেশ করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে জমে থাকা বিপুল পানি আকস্মিকভাবে নিম্নাঞ্চলের দিকে নেমে নতুন বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় চীনা কর্তৃপক্ষ জরুরি বন্যা প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে এবং স্যাটেলাইট রিমোট সেন্সিংসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সম্ভাব্য প্লাবনপথের জনবসতি শনাক্ত এবং প্রয়োজন হলে আগাম সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
হিমালয় অঞ্চলের এই বিপর্যয় পাহাড়ি নদী অববাহিকায় হিমবাহ, ভূমিধস এবং প্রাকৃতিকভাবে তৈরি অস্থায়ী বাঁধের ঝুঁকিকে আবারও সামনে এনেছে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি, ভেঙে পড়া যোগাযোগব্যবস্থা এবং নতুন করে বন্যার আশঙ্কার কারণে উদ্ধার অভিযান এখন সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। শত শত পরিবার এখনো নিখোঁজ স্বজনদের খবরের অপেক্ষায় রয়েছে, আর উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
-রফিক
বাঁধ ভাঙার অভিযোগ নাকচ চীনের: নেপালকে হিমবাহ ধসের তথ্য দিল ইউএসজিএস
ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক জলস্রোতে বিপর্যস্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে দেশটির পুলিশ সর্বশেষ এই প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করে।
এদিকে দুর্যোগের মূল কারণ নিয়ে নেপাল ও চীনের মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, যার জেরে দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিপর্যয়ের শুরুতে নেপাল চীনা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ তুললেও বেইজিং তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। নেপালের দাবি ছিল, চীনের একটি বাঁধ ধসে পড়ায় এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয় এবং চীন এ সংক্রান্ত কোনো আগাম সতর্কবার্তা দেয়নি।
তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কাঠমান্ডুতে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, বিপর্যয়ের সূত্রপাত ঘটেছিল ২৬ আগস্ট সকালে সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত ভূমিকম্প বা হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট কাদাধসের কারণে। এর ফলেই গিরং-রাসুয়াগাধি সীমান্তে উভয় দেশের নাগরিকরা হতাহত ও নিখোঁজ হন। বেইজিং স্পষ্ট করেছে যে, একে অপরকে দোষারোপ না করে যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে জীবন রক্ষায় জোর দেওয়া উচিত।
অন্যদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, সিসমিক তথ্য, ভূকম্পন তরঙ্গ ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের পর তারা নিশ্চিত হয়েছে যে কাঠমান্ডুর উত্তরে সৃষ্ট কম্পনটি ভূমিকম্প নয়, বরং হিমবাহ ধসের ফল ছিল; যার সংশোধিত কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.২। সংস্থাটির মতে, বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথর ধসে নিচে নেমে আসার ফলেই এমন প্রলয়ঙ্করী আকস্মিক জলস্রোতের সৃষ্টি হয়। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক মূল্যায়নও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, হিমবাহের এই ধসই উপত্যকার জনবসতিগুলো ভেসে যাওয়ার মূল কারণ।
/আশিক
নেপালে আরও একটি কৃত্রিম লেক ফেটে বন্যার শঙ্কা: চীনের সতর্কতা
একটি কৃত্রিম লেক ফেটে গিয়ে বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালে স্মরণকালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, যাতে এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। এই প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগের রেশ কাটতে না কাটতেই নেপালকে নতুন করে বড় ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে চীন। বেইজিং জানিয়েছে, সীমান্তসংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলে আরও একটি কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত হয়ে নতুন করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) চীনা টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভির বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস এই তথ্য প্রকাশ করে। চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নবগঠিত কৃত্রিম লেকটি ইতোমধ্যেই অতিরিক্ত পানিতে পূর্ণ হয়ে গেছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে প্রায় ২০ লাখ (২ মিলিয়ন) কিউবিক মিটার পানি জমে ছিল এবং পরবর্তী দুই থেকে তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ (৩ মিলিয়ন) কিউবিক মিটার পানি যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মাত্রাতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধ বা লেকটির যেকোনো সময় ধসে পড়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মোহনার কাছাকাছি এলাকায় বিপজ্জনক এই কৃত্রিম জলাশয়টি সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় চীনা কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক লেকটির ওপর কড়া নজরদারি রাখছে এবং বাঁধ ভাঙলে সম্ভাব্য প্লাবনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণসহ জরুরি উদ্ধার তৎপরতার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছে। উল্লেখ্য, তিব্বত থেকে উৎপন্ন এই নদী দুটি একত্রিত হয়ে নেপালে প্রবেশ করেছে, যা সেখানে 'ভোটেকোশি' নদী নামে পরিচিত এবং এটি মূলত ত্রিশূলী নদীর প্রধান ঊর্ধ্ব উপনদী।
বুধবার মূলত এই ভোটেকোশি নদীর অববাহিকাতেই কৃত্রিম লেক বিস্ফোরণে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছিল, যার তোড়ে নিচু অঞ্চলের বহু জনপদ প্লাবিত হয়ে কাদা-পানিতে ঢেকে যায় এবং পথের সমস্ত অবকাঠামো তছনছ হয়ে পড়ে। আগের সেই আকস্মিক বিপর্যয়ের পর যখন জোর উদ্ধার অভিযান চলছে, ঠিক তখনই নতুন আরেকটি কৃত্রিম লেক ফেটে পড়ার এই পূর্বাভাস নেপালজুড়ে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে।
/আশিক
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের প্রমাণ মেলেনি: আইএইএ প্রধান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি।
আর্জেন্টিনার সংবাদপত্র ক্লারিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, তবে মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ ও সামগ্রিক যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে সংস্থাটি প্রস্তুত রয়েছে।
রাফায়েল গ্রোসির ভাষ্যমতে, ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৪৪০ কেজি বা ৯৭২ পাউন্ড উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত গত বছরের ‘১২ দিনের যুদ্ধ’-এর সময় যেখানে ছিল, মূলত সেখানেই রয়েছে।
সামরিক হামলার কারণে সংশ্লিষ্ট পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ইরান হয়তো কিছু অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো মেরামতের প্রাথমিক কাজ শুরু করে থাকতে পারে—এমন সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে তেহরান এগুলো পুরোদমে পুনর্নির্মাণ করছে, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য তথ্য-প্রমাণ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের হাতে নেই। ফলে পুরো বিষয়টি এখনো একটি বড় ধরনের অমীমাংসিত সংকট হিসেবে রয়ে গেছে।
উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানি ও সামরিক সক্ষমতা—উভয় ক্ষেত্রের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হওয়ায় ইরানের এই মজুত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।
আইএইএ প্রধানের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, হামলার পর ওই ইউরেনিয়াম অন্যত্র স্থানান্তর করার নিশ্চিত কোনো তথ্য না থাকলেও, এর বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান সরাসরি সরেজমিনে যাচাইয়ের জন্য পরিদর্শকদের স্বাধীন প্রবেশাধিকার প্রয়োজন। যুদ্ধের কারণে সংস্থাগত নজরদারি ব্যাহত হওয়ায় মজুতটির প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে একধরনের আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সরাসরি সামরিক আঘাতের পর আইএইএর নিয়মিত পরিদর্শন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্বাধীন তথ্য সরবরাহের পথকে জটিল করে তুলেছে। গ্রোসি জোর দিয়ে জানান, পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইরানে আইএইএর প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন পুনরায় চালু করা অত্যন্ত জরুরি।
স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিরূপণ, কোনো পুনর্গঠন কার্যক্রম চলছে কি না তা নিশ্চিতকরণ এবং ইউরেনিয়াম মজুতের সঠিক হিসাব পাওয়ার জন্য সরাসরি পরিদর্শনের কোনো বিকল্প নেই বলেই আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ধ্বংসস্তূপে চলছে সন্ধান: প্রাণহানি ছাড়াল তিন শতাধিক
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে এবং অন্তত ৩৫টি দেশের নাগরিকদের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের দেওয়া তথ্যের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি মোট ১ হাজার ৩৮১ জন নিখোঁজের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে অপর বার্তা সংস্থা রয়টার্স নিখোঁজের মোট সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার বলে উল্লেখ করেছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত নেপালে ৩৩২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া তিব্বত অংশে তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানিয়েছে। নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে চিতওয়ানে ১০৮, নওয়ালপরাসি ইস্টে ৬২, ধাদিংয়ে ২৭, গোরখায় ২০, রাসুওয়ায় ১৭, নওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ১৫, নুয়াকোটে ১২ এবং তানাহুনে ৯ জন রয়েছেন।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপালে স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তাকর্মী এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ অন্তত ৮২৬ জনের এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি। অপরপক্ষে তিব্বতে সকাল আটটা পর্যন্ত ৫৫৮ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য নিশ্চিত করেছে সিনহুয়া, যেখানে স্থানীয় একটি গ্রাম থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এএফপির প্রকাশিত নাগরিকত্বভিত্তিক তালিকা অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে নেপালের ১২৭ জন, ভারতের ১৭৮, চীনের ১০০, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৪, ইউক্রেনের ৫৩, মালয়েশিয়ার ৫০, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪, যুক্তরাজ্যের ৩৩, কানাডার ২৫, দক্ষিণ কোরিয়ার ৯, সিঙ্গাপুরের ৯, জার্মানির ৮, রাশিয়ার ৮, দক্ষিণ আফ্রিকার ৬, লাটভিয়ার ৬, জাপানের ৫, নিউজিল্যান্ডের ৫, ফ্রান্সের ৪ এবং স্পেনের ৪ জন নাগরিক রয়েছেন।
এছাড়া বেলজিয়ামের ৩ জন, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, কাজাখস্তান ও হাঙ্গেরির ২ জন করে এবং বেলারুশ, বুলগেরিয়া, ফিনল্যান্ড, ইসরায়েল, লিথুয়ানিয়া, ফিলিপাইন, সার্বিয়া, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের একজন করে নাগরিক নিখোঁজের তালিকায় আছেন।
হিমালয়ের পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ, ভ্রমণ এবং কৈলাস মানস সরোবরসহ বিভিন্ন তীর্থযাত্রায় অংশ নিতে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক নেপালে আসেন বলেই নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা এত বেশি বলে জানিয়েছে এএফপি। তবে দুর্যোগকালীন বিশৃঙ্খলা, উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতার কারণে হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হতে পারে।
এদিকে তিব্বত অংশের পরিসংখ্যানে নিখোঁজদের জাতীয়তা আলাদা করা হয়নি এবং নেপালের বিভিন্ন ট্যুর এজেন্সির পৃথকভাবে দেওয়া নিখোঁজের হিসাব পর্যটন বোর্ডের নতুন তালিকায় সমন্বিত হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
/আশিক
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষায় জোটবদ্ধ হওয়ার ডাক দিলেন শীর্ষ কূটনীতিকরা
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ। তিনি উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণে, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে, ইরান ও ইরাক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।
বুধবার (২৬ আগস্ট) তেহরানে ইরাকের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান ফায়েক জাইদানের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা সার্বিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং তেহরান ও বাগদাদের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
কলিবফ অভিযোগ করেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং গোটা পশ্চিম এশিয়া ও মুসলিম বিশ্বে আধিপত্য কায়েমের অসৎ উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসী তৎপরতা শুরু করেছিল। তবে ইরানি জনগণ, প্রতিরোধ ফ্রন্টের সদস্য ও শহীদদের ত্যাগের মুখে ওয়াশিংটনের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ইরান সফলভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে দাবি করে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক চাপের মুখেও শত্রুপক্ষ পরাজিত হবে।
একই সঙ্গে ইরাকের ভূখণ্ড ও আকাশসীমা থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনাকে ইরাকি জনগণ ও সরকারের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক সম্মান’ বলে অভিহিত করেন এবং তা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ইসরায়েলের যুদ্ধ সম্প্রসারণের কৌশল সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়ে ইরানের স্পিকার জানান, ইরানে সফল হলে তারা অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের দিকেও নজর দিত। তাই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ভারসাম্য রক্ষায় ইরান-ইরাক যৌথ অবস্থান অত্যন্ত সময়োপযোগী।
বৈঠকে ফায়েক জাইদান ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক নিরাপত্তা চুক্তি ও দ্বিপক্ষীয় মেলবন্ধন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। তেহরানের সঙ্গে বাগদাদের সুদৃঢ় অংশীদারিত্ব অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেও সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও বিস্তৃত করবে বলে তিনি আশাবাদ জানান।
সূত্র: ডন, তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে প্রবল বন্যা: ৫৫ জনের প্রাণহানি ও শতাধিক নিখোঁজ
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে সংঘটিত প্রবল বন্যায় অন্তত ৫৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং রাস্তাঘাট, সেতু ও বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সংঘটিত এই আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, রসুয়া জেলায় ভয়াবহ এই বন্যার পর মোট ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি ও ৯৩ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের মধ্যে অন্তত ১০৫ জন ভারতীয়, ১২ জন ব্রিটিশ, ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়, ১৭ জন মালয়েশীয়, ৪ জন দক্ষিণ আফ্রিকান, ৩ জন মার্কিন নাগরিক এবং অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া আরও ১১১ জনের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
নিখোঁজদের একটি বড় অংশ কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নেওয়া তীর্থযাত্রী বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত তাদের আটজন কর্মী নিখোঁজ এবং ১০ জন আটকে রয়েছেন।
প্রাথমিক মূল্যায়নে জানা গেছে, লেন্দে নদীর একটি বরফধসের কারণে নদীর গতিপথ আটকে যাওয়ায় এর উপনদী ভুতেকোশিতে এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। বুধবার সকালে নদীর পানি দুই কূল ছাপিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করলে বেশ কয়েকটি গ্রাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। চীন সীমান্তবর্তী তিব্বতের জিরং বন্দর ও শিগাতসে অঞ্চলেও ভূমিধস ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত ও চীনের সহযোগিতা চেয়েছে নেপাল সরকার। অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক তল্লাশি অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বন্যাকবলিত রসুয়া জেলায় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এবং খারাপ আবহাওয়ার কারণে স্যাপ্রু বেসি ও তিমুরে এলাকায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো নামতে পারছে না। ফলে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ। নদীর তীরবর্তী জনবসতিগুলো পুরোপুরি তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ভোতেকোশি, ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর তীর থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- মাত্র আধা ঘণ্টাতেই নিশ্চিহ্ন জনপদ, ভয়াবহ দুর্যোগের বিবরণ ত্রাণকর্মীদের
- রাজধানীর ট্রাফিক ও পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ কঠোর সিদ্ধান্ত
- নেপালে ১০ কর্মীকে উদ্ধারের পর নিখোঁজ বাকি ৯ জনের সন্ধানে দক্ষিণ কোরিয়া
- সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য চূড়ান্ত হচ্ছে নতুন আর্থিক রূপরেখা
- আন্তর্জাতিক বাজারে বড় দরপতন: ধাক্কা খেল মূল্যবান ধাতুর বাজার
- বিদ্যুৎ সংকট অব্যাহত: সন্ধ্যার পিক আওয়ার নিয়ে নতুন পূর্বাভাস
- আত্মত্যাগীদের পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর
- নেপালে বিপর্যয়: শত শত মৃত্যু, নিখোঁজ ১৪০০
- দুদকের দুই মামলায় খালাস পেলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
- বিশ্ববাজারে বিনিয়োগকারীদের চাহিদায় পরিবর্তন: ধাতুর বাজারে দরপতন
- সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব: ১০ দিনের নতুন আবহাওয়া বার্তা
- অর্থসংকটে অনিশ্চিত মেডিকেল ভবিষ্যৎ: শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
- সংসদের অধিবেশন ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা
- কম বয়সেই বাড়ছে নীরব ঘাতক রোগ: জেনে নিন সুরক্ষার উপায়
- বাঁধ ভাঙার অভিযোগ নাকচ চীনের: নেপালকে হিমবাহ ধসের তথ্য দিল ইউএসজিএস
- ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা ঘিরে নতুন জটিলতা: বড় তারকার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
- নেপালে আরও একটি কৃত্রিম লেক ফেটে বন্যার শঙ্কা: চীনের সতর্কতা
- এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ: চূড়ান্ত হলো গ্রুপ ও প্রতিপক্ষ
- বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানালেন বিশ্বনেতা
- স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত: দ্রুত আসছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
- বিদ্যুৎ-গ্যাস এখন ‘টুকু আসে, টুকু যায়: রুমিন ফারহানা
- ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের প্রমাণ মেলেনি: আইএইএ প্রধান
- মক্কা চুক্তি মুসলিমদের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা, উদ্বেগের কারণ নেই: খলিলুর রহমান
- এটা প্রশ্ন না পল্টনের বক্তৃতা: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ২০১০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ধ্বংসস্তূপে চলছে সন্ধান: প্রাণহানি ছাড়াল তিন শতাধিক
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশে আবহাওয়ার নতুন পূর্বাভাস
- বাংলাদেশ একদিন জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে: হামিদুর রহমান আযাদ
- ১০০ মিটারের স্প্রিন্টে অভাবনীয় কীর্তি: রোবটের দৌড়ে বিশ্ব তোলপাড়
- চার বছরের বিরতি ভেঙে বড় পর্দায় ফিরে বক্স অফিসে ঝড়
- স্বামীকে প্রবাসে রেখে দেশে ফিরেই নতুন বিয়ে, চার সন্তানের জননীর
- মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষায় জোটবদ্ধ হওয়ার ডাক দিলেন শীর্ষ কূটনীতিকরা
- নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে প্রবল বন্যা: ৫৫ জনের প্রাণহানি ও শতাধিক নিখোঁজ
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় খবর: চূড়ান্ত হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত প্রজ্ঞাপন
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সীমা: যেসব বিষয়ে নির্ভরতা বিপজ্জনক
- স্বর্ণের দামে নতুন মোড়, সামনে গুরুত্বপূর্ণ সময়
- চার বছর পর আবারও ঢাকায় আসছেন জনপ্রিয় বিদেশি সংগীতশিল্পী
- রাতের আকাশে দেখা যাবে রক্তিম রূপ: প্রস্তুত হচ্ছে বিশ্ব
- খরচ ছাড়াই ১০ হাজার কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়: মন্ত্রী
- বিদ্যুৎ খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া বড় চাপ: প্রতিমন্ত্রী
- গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষমাণদের জন্য এলো বড় সুখবর
- ট্রাম্পের ছেলে ব্যারনকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানে ভিডিও প্রকাশ
- দেশজুড়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বড় সুখবর দিল সরকার
- যুক্তরাষ্ট্রের হামলা রুখতে আক্রমণাত্মক কৌশলে যাচ্ছে ইরান
- লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, নতুন রেকর্ডের পথে ভরি
- দুবার প্রস্তুতি, তারেক রহমানের দিল্লি সফর বারবার বাতিল, নেপথ্যে কী
- ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, ৪ ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- হরমুজ প্রণালির সব মাইন সরিয়ে ফেলেছে মার্কিন নৌবাহিনী: ট্রাম্প
- ব্রাজিলকে আনতে সরকারের টাকা খরচের মানসিকতা নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
- ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নজরুল আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক: রিজভী
- ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বদলাতে হবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি: AMRA গোলটেবিলে বক্তারা
- চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে নতুন চাপ, নজর সিঙ্গাপুরেও
- ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, ৪ ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর: প্রত্যাবাসন কেন এখনো অনিশ্চিত
- লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, নতুন রেকর্ডের পথে ভরি
- দুবার প্রস্তুতি, তারেক রহমানের দিল্লি সফর বারবার বাতিল, নেপথ্যে কী
- এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌপ্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম
- বঙ্গোপসাগরে ২৪ নাবিক নিয়ে ডুবল জাহাজ, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ ২২
- দুই দিনেই ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত
- আজ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বহু এলাকায়
- নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে টিসিবির বড় পরিকল্পনা
- আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন একনজরে
- আজ বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
- গার্ড অব অনারে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল








