দুপুরের বাজার চিত্র, এগিয়ে কারা পিছিয়ে কারা

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১৩:০২:১৪
দুপুরের বাজার চিত্র, এগিয়ে কারা পিছিয়ে কারা
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ সূচকভিত্তিক চাপের মধ্য দিয়ে লেনদেন চলছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রধান সূচকগুলোতে পতনের প্রবণতা দেখা গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স (DSEX) ১৬ দশমিক শূন্য ৪১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪,৯৪৯ দশমিক ১৯ পয়েন্টে, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় শূন্য দশমিক ৩২ শতাংশ পতন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির পর মুনাফা গ্রহণের প্রবণতা এই চাপের অন্যতম কারণ।

একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস (DSES) ১ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১,০০৪ দশমিক ৭৩ পয়েন্টে। অপরদিকে, বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস–৩০ কমেছে ১০ দশমিক শূন্য ৬৭ পয়েন্ট, নেমে এসেছে ১,৮৭৭ দশমিক ৭৭ পয়েন্টে। এই চিত্রে বোঝা যায়, বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারেই বিক্রির চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি।

দুপুর ১টা পর্যন্ত বাজারে মোট ৯৯ হাজার ২০৫টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় মোট লেনদেন হওয়া শেয়ারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি ১৪ লাখ ইউনিটে, আর আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ২,৫৩০ কোটি ৪১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেনের গতি কিছুটা কম থাকলেও বাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণ পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।

বাজারে দরবৃদ্ধি ও দরপতনের চিত্র ছিল মিশ্র। দুপুর পর্যন্ত ১৪০টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে, বিপরীতে ১৬৬টি কোম্পানির দর কমেছে। একই সঙ্গে ৮০টি কোম্পানির শেয়ার দর অপরিবর্তিত ছিল। এ পরিসংখ্যান বাজারে বিক্রেতার আধিপত্য কিছুটা বেশি থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সূচকের এই পতন আতঙ্কের কিছু নয়; বরং এটি স্বাভাবিক কারেকশনের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু শেয়ারে দ্রুত দরবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীরা লাভ তুলে নিচ্ছেন, যার প্রভাব সূচকে পড়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক নীতিগত সিদ্ধান্ত, সুদের হার সংক্রান্ত প্রত্যাশা এবং করপোরেট খবরের অপেক্ষাও বাজারকে কিছুটা সংযত রেখেছে।

-রাফসান


০৬ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ বাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৮:২২:৪১
০৬ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ বাজার বিশ্লেষণ

মঙ্গলবার ৬ জানুয়ারি ২০২৬ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে মিশ্র প্রবণতায়। দিনজুড়ে বেশিরভাগ শেয়ারের দামে পতন দেখা গেলেও কিছু শেয়ারে দরবৃদ্ধি হয়েছে। লেনদেন শেষে দেখা যায়, দর কমেছে বেশি সংখ্যক শেয়ারের, যা বাজারে নেতিবাচক চাপের ইঙ্গিত দেয়।

শেয়ার দর পরিস্থিতি (সব ক্যাটাগরি)

দিনের লেনদেনে মোট ৩৯১টি সিকিউরিটিজ অংশ নেয়। এর মধ্যে—

দর বেড়েছে ১০৮টির

দর কমেছে ২২৭টির

দর অপরিবর্তিত ছিল ৫৬টির

ক্যাটাগরি অনুযায়ী চিত্র

A ক্যাটাগরিতে মোট ২০৪টি শেয়ার লেনদেন হয়।

দর বেড়েছে: ৭৬টি

দর কমেছে: ৯৬টি

অপরিবর্তিত: ৩২টি

B ক্যাটাগরি মোট ৮১টি শেয়ার লেনদেন হয়।

দর বেড়েছে: ২২টি

দর কমেছে: ৪৩টি

অপরিবর্তিত: ১৬টি

N ক্যাটাগরি এদিন মাত্র ১টি শেয়ার লেনদেন হয়, যার দর অপরিবর্তিত ছিল।

Z ক্যাটাগরি এই ক্যাটাগরিতে চাপ বেশি ছিল। মোট ১০৫টি শেয়ার লেনদেন হয়।

দর বেড়েছে: ১০টি

দর কমেছে: ৮৮টি

অপরিবর্তিত: ৭টি

মিউচুয়াল ফান্ড, বন্ড ও সরকারি সিকিউরিটিজ

মিউচুয়াল ফান্ড (MF)মোট ৩৩টি ফান্ড লেনদেন হয়।

দর বেড়েছে: ৬টি

দর কমেছে: ৯টি

অপরিবর্তিত: ১৮টি

করপোরেট বন্ড (CB)

দর কমেছে: ১টি

অপরিবর্তিত: ২টি

সরকারি সিকিউরিটিজ (G-Sec)

দর বেড়েছে: ১টি

দর কমেছে: ২টি

লেনদেনের সারসংক্ষেপ

দিনটিতে ডিএসইতে মোট—

১,৪৫,৯৬০টি ট্রেড সম্পন্ন হয়

লেনদেন হওয়া শেয়ারের পরিমাণ ছিল ১৬ কোটি ৮ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৯টি

মোট লেনদেনের মূল্য দাঁড়ায় ৪৫৪ কোটি ৬৯ লাখ ৪৪ হাজার ৯৭২ টাকা

বাজার মূলধন

লেনদেন শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে—

ইকুইটি: ৩২ লাখ ৫১ হাজার ১৮ কোটি টাকা

মিউচুয়াল ফান্ড: ২ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা

ঋণপত্র (ডেট সিকিউরিটিজ): ৩৫ লাখ ২০ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা

সব মিলিয়ে মোট বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৬৭ লাখ ৯৪ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য পরিবর্তিত হয়েছে।

ব্লক মার্কেটের চিত্র

দিনটিতে ব্লক মার্কেটে ৩০টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে।মোট—

১০৫টি ট্রেড

৩৬ লাখ ৮২ হাজার ৭১১টি শেয়ার

লেনদেন মূল্য ৩৩৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা

ব্লক মার্কেটে বড় অঙ্কের লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ফাইন ফুডস, গ্রামীণফোন, রেনাটা, স্কয়ার ফার্মা, জিকিউ বলপেন, ওরিয়ন ইনফিউশন ও সিটি ব্যাংক।

সার্বিক মূল্যায়ন

দিনের লেনদেনে Z ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোর বড় দরপতন এবং মোট পতনশীল শেয়ারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বাজারে কিছুটা নেতিবাচক চাপ দেখা গেছে। তবে লেনদেনের পরিমাণ ও মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি থাকায় বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বজায় ছিল।


৬ জানুয়ারির ডিএসই লেনদেনে টপ টেন গেইনার তালিকা প্রকাশ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৮:১৩:৩৭
৬ জানুয়ারির ডিএসই লেনদেনে টপ টেন গেইনার তালিকা প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গলবার ৬ জানুয়ারি ২০২৬ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি দেখা গেছে। দিন শেষে ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের ক্লোজিং প্রাইস (YCP) বিবেচনায় প্রকাশিত টপ টেন গেইনার তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে জিকিউ বলপেন (GQBALLPEN)।

ক্লোজিং প্রাইস ও YCP অনুযায়ী শীর্ষ ১০ গেইনার

এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে জিকিউ বলপেন (GQBALLPEN) শেয়ারের। কোম্পানিটির শেয়ার দিনের সর্বোচ্চ ৪৮৮ টাকা ৯০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ৪৫৩ টাকা ৭০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। দিন শেষে শেয়ারটির ক্লোজিং প্রাইস দাঁড়ায় ৪৮৭ টাকা ৫০ পয়সা, যা আগের দিনের ক্লোজিং প্রাইস ৪৫৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৭.৪৫ শতাংশ বেশি।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা টেকনো ড্রাগস (TECHNODRUG) শেয়ারের দর বেড়েছে ৬.৫০ শতাংশ। শেয়ারটি দিন শেষে ৩১ টাকা ১০ পয়সায় বন্ধ হয়, আগের দিনের ক্লোজিং প্রাইস ছিল ২৯ টাকা ২০ পয়সা।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে এনভয় টেক্সটাইল (ENVOYTEX)। শেয়ারটির দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকা ৫০ পয়সা, যা আগের দিনের তুলনায় ৪.৪৬ শতাংশ বেশি।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা ১ জনতা মিউচুয়াল ফান্ড (1JANATAMF) শেয়ারের দর বেড়েছে ৪ শতাংশ, ক্লোজিং প্রাইস ছিল ২ টাকা ৬০ পয়সা।

পঞ্চম স্থানে রয়েছে এসপি সিরামিকস (SPCERAMICS), যার শেয়ারদর বেড়েছে ৩.৮৫ শতাংশ। এরপর ধারাবাহিকভাবে তালিকায় রয়েছে:

ফার্স্ট প্রাইম মিউচুয়াল ফান্ড (1STPRIMFMF) – ৩.৫০%

মতিন স্পিনিং (MATINSPINN) – ৩.২৮%

বিডিকম অনলাইন (BDCOM) – ৩.০৭%

রহিম টেক্সটাইল (RAHIMTEXT) – ২.৭৭%

শাশা ডেনিম (SHASHADNIM) – ২.৫২%

ওপেন প্রাইস ও LTP অনুযায়ী শীর্ষ ১০ গেইনার

ওপেনিং প্রাইসের তুলনায় দর বৃদ্ধির হিসাবে গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে তামিজউদ্দিন টেক্সটাইল (TAMIJTEX)। শেয়ারটির ওপেনিং প্রাইস ছিল ১১১ টাকা, যা বেড়ে সর্বশেষ লেনদেনে দাঁড়ায় ১২১ টাকা ৫০ পয়সা। ফলে দর বৃদ্ধি হয়েছে ৯.৪৬ শতাংশ।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আল-হাজ টেক্সটাইল (AL-HAJTEX)। শেয়ারটির দর ওপেনিং প্রাইসের তুলনায় বেড়েছে ৮.৮৮ শতাংশ।

এরপর তালিকায় রয়েছে—

জিকিউ বলপেন (GQBALLPEN) – ৭.৪৫%

টেকনো ড্রাগস (TECHNODRUG) – ৬.৫০%

মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স (MERCINS) – ৬.০৩%

এনআরবি ব্যাংক (NRBBANK) – ৪.৫৫%

ক্যাপিটাল মার্কেট ডিবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড (CAPMBDBLMF) – ৪.৩০%

পপুলার ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ড (POPULAR1MF) – ৪.১৭%

এনভয় টেক্সটাইল (ENVOYTEX) – ৪.০৪%

এসপি সিরামিকস (SPCERAMICS) – ৩.৮৫%


মধ্যদুপুরে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা: টপ টেন লুজারে কারা

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৫:৫৩:২০
মধ্যদুপুরে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা: টপ টেন লুজারে কারা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর ২টা ৫৩ মিনিট ২৩ সেকেন্ড পর্যন্ত লেনদেনে স্পষ্টভাবে বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে। দিনের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, আগের দিনের সমাপনী দর (YCP) ও আজকের উদ্বোধনী দরের (Open Price) তুলনায় একাধিক শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা ও অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে।

আগের দিনের সমাপনী দরের সঙ্গে তুলনায় শীর্ষ ১০ দরহারানো শেয়ারের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে PLFSL। শেয়ারটি ১০.৫৩ শতাংশ কমে ৫১ পয়সায় নেমে আসে। APOLOISPAT, FASFIN, PREMIERLEA এবং REGENTTEX সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ দরপতনের সীমায় পৌঁছায়, যা বাজারে প্রবল বিক্রিচাপের ইঙ্গিত দেয়। এ ছাড়া SHYAMPSUG প্রায় ১০ শতাংশ কমে ১২০ টাকা ৮০ পয়সায় এবং STANCERAM প্রায় ৯.৯২ শতাংশ কমে ৬৪ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়। তালিকার বাকি শেয়ারগুলোর মধ্যে KPPL, BDWELDING এবং FAREASTFIN–এর দরও ৯ শতাংশের বেশি কমে যায়।

অন্যদিকে, আজকের উদ্বোধনী দর ও সর্বশেষ লেনদেন দর (LTP) বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি ধস নামে APOLOISPAT–এ। শেয়ারটি উদ্বোধনী দরের তুলনায় ১৮.১৮ শতাংশ কমে যায়, যা দিনের সবচেয়ে বড় ইনট্রাডে পতন। SHYAMPSUG ও STANCERAM এখানেও প্রায় ১০ শতাংশ দরপতন নিয়ে শীর্ষ লুজারদের তালিকায় রয়েছে। PLFSL, PDL এবং MEGHNAPET–ও উদ্বোধনী দরের তুলনায় ৮ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে। পাশাপাশি METROSPIN, FIRSTFIN, RSRMSTEEL এবং HFL উল্লেখযোগ্য ইনট্রাডে চাপের মুখে পড়ে।

দুই তালিকায়ই আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতভুক্ত কোম্পানিগুলোর আধিক্য স্পষ্ট। বিশেষ করে লিজিং ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ধারাবাহিক দরপতন বাজারে তারল্য সংকট ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে চিনি, সিমেন্ট ও ইস্পাত খাতের শেয়ারেও বিক্রির চাপ দেখা যাচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে চাহিদা ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের প্রতিফলন।

সামগ্রিকভাবে, আজকের মধ্যদুপুরের চিত্র বাজারে একটি ঝুঁকিভিত্তিক ও রক্ষণশীল মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়। ইতিবাচক অর্থনৈতিক সংকেত বা করপোরেট পর্যায়ের শক্তিশালী তথ্য না এলে স্বল্পমেয়াদে বাজারে এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


ডিএসইতে মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কারা এগিয়ে

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১২:৫৩:৪৫
ডিএসইতে মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কারা এগিয়ে
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত একাধিক মিউচুয়াল ফান্ড ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের কার্যক্রম শেষে দৈনিক নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) প্রকাশ করেছে। ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ফান্ডের বর্তমান বাজারদামভিত্তিক এনএভি ইউনিটপ্রতি ফেস ভ্যালু ১০ টাকার নিচে অবস্থান করছে, যা বাজারে ফান্ড ইউনিটগুলো ডিসকাউন্টে লেনদেন হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে কিছু ফান্ডে বাজারদামে এনএভি ফেস ভ্যালুর ওপরে উঠে এসেছে, ফলে সেখানে প্রিমিয়াম দেখা যাচ্ছে।

কোন ফান্ডে ইউনিটপ্রতি এনএভি সবচেয়ে বেশি

প্রকাশিত তালিকায় বাজারদামভিত্তিক এনএভির দিক থেকে গ্রামীণ সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড (GRAMEENS2) শীর্ষে রয়েছে। ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি বাজারদামভিত্তিক এনএভি ১৫.৭১ টাকা, যা ফেস ভ্যালুর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একইসঙ্গে ফান্ডটির মোট নেট সম্পদ বাজারদামে ২,৮৬৫.২৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ নয়, বরং ২,৮৬৫,২২৯,৭৯৪ টাকা দেখানো হয়েছে, অর্থাৎ বড় আকারের তহবিল হিসেবে এর অবস্থান স্পষ্ট।

আরেকটি ব্যতিক্রম হিসেবে রিলায়েন্স ওয়ান (RELIANCE1) ফান্ডের বাজারদামভিত্তিক এনএভি ১০.৬৯ টাকা, অর্থাৎ ফেস ভ্যালু ১০ টাকার ওপরে থেকে প্রিমিয়াম ধরে রেখেছে। এই ফান্ডের মোট নেট সম্পদ বাজারদামে ৬৪৬,৯০৯,৪৫১ টাকা।

ফেস ভ্যালুর নিচে থাকা ফান্ডগুলোতে কী বার্তা দিচ্ছে বাজার

বাজারদামে এনএভি ১০ টাকার নিচে থাকা ফান্ডগুলো সংখ্যায় বেশি। উদাহরণ হিসেবে, এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১ (NCCBLMF1) এর বাজারদামভিত্তিক এনএভি ৯.০১ টাকা, এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড-১ (LRGLOBMF1) এর ৮.৩৮ টাকা, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড (MBL1STMF) এর ৮.৩৪ টাকা এবং এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড (AIBL1STIMF) এর ৮.৭৬ টাকা রিপোর্ট করা হয়েছে। সাধারণভাবে, এ ধরনের ডিসকাউন্ট বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি, বাজারে তরলতার চাপ, অথবা ফান্ডের পোর্টফোলিওতে নির্দিষ্ট শেয়ারের পারফরম্যান্সজনিত প্রভাবকে নির্দেশ করতে পারে।

এ তালিকায় আরও দেখা যায়, কিছু ফান্ডে বাজারদামে এনএভি তুলনামূলক কম অবস্থানে রয়েছে। যেমন ওয়ান জনতা মিউচুয়াল ফান্ড (1JANATAMF) এর বাজারদামভিত্তিক এনএভি ৫.৯৬ টাকা, ট্রাস্ট ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড-১ (TRUSTB1MF) এর ৬.৪৯ টাকা, এবং পপুলার মিউচুয়াল ফান্ড-১ (POPULAR1MF) এর ৬.৯৭ টাকা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এসব ফান্ডে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ইউনিটপ্রতি মূল্য স্বল্প থাকার কারণে আকর্ষণ অনুভব করেন, কিন্তু সিদ্ধান্তের আগে পোর্টফোলিও গুণগত মান এবং বাজার ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

বাজারদাম বনাম কস্ট প্রাইস এনএভি, ব্যবধান কেন গুরুত্বপূর্ণ

দৈনিক এনএভি প্রকাশে প্রতিটি ফান্ড একইসঙ্গে কস্ট প্রাইসভিত্তিক এনএভিও জানিয়েছে। এখানে একটি সুস্পষ্ট চিত্র দেখা যায় যে কস্ট প্রাইসভিত্তিক এনএভি প্রায় সব ফান্ডেই ১১ থেকে ১৬ টাকার মধ্যে রয়েছে, অর্থাৎ ফান্ডগুলোর হিসাবপত্রে ক্রয়মূল্য ধরে সম্পদের মূল্যায়ন তুলনামূলক বেশি। যেমন ১এসটি প্রাইম ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড (1STPRIMFMF) এর কস্ট প্রাইসভিত্তিক এনএভি ১৬.৭২ টাকা, কিন্তু বাজারদামে এনএভি ৮.২৬ টাকা। এ ধরনের বড় ব্যবধান সাধারণত বোঝায় যে বাজারে ফান্ডের অন্তর্নিহিত সম্পদের বর্তমান মূল্যায়ন কস্ট ভ্যালুর তুলনায় দুর্বল, অথবা বাজারে ইউনিটের চাহিদা পর্যাপ্ত নয়।

তবে কিছু ফান্ডে ব্যবধান তুলনামূলক কম। উদাহরণ হিসেবে রিলায়েন্স ওয়ান (RELIANCE1) এর কস্ট প্রাইসভিত্তিক এনএভি ১১.২৯ টাকা এবং বাজারদামে ১০.৬৯ টাকা, অর্থাৎ ব্যবধান সীমিত। এ ধরনের ক্ষেত্রে বাজারের মূল্যায়ন তুলনামূলক স্থিতিশীল বলে মনে করা হয়।

মোট নেট সম্পদের আকারে কারা এগিয়ে

মোট নেট সম্পদ বিবেচনায় সবচেয়ে বড় তহবিলগুলোর একটি হিসেবে ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড (FBFIF) এর অবস্থান উল্লেখযোগ্য। ফান্ডটির বাজারদামে মোট নেট সম্পদ ৫,৪৪৪,০৬২,৬০১ টাকা, এবং কস্ট প্রাইসে ৮,৮৩৬,৫০৯,৫৪৬ টাকা দেখানো হয়েছে। একইভাবে, ট্রাস্ট ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড-১ (TRUSTB1MF) এর মোট নেট সম্পদ বাজারদামে ১,৯৭১,০৯১,৪১৬ টাকা, যা আকারে বড় তহবিল হিসেবে এটিকেও সামনে আনে।

অন্যদিকে, তুলনামূলক ছোট আকারের তহবিল হিসেবে ১এসটি প্রাইম ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড (1STPRIMFMF) এর বাজারদামে মোট নেট সম্পদ ১৬৫,১১৫,০৯৬.৬৭ টাকা রিপোর্ট করা হয়েছে। আকারের এই পার্থক্য বাজারে ইউনিটের তারল্য, চাহিদা ও বিনিয়োগকারীর আগ্রহে বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রাসঙ্গিক সতর্কতা

দৈনিক এনএভি তথ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলেও শুধু এনএভি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সাধারণভাবে, ফান্ডের পোর্টফোলিও কাঠামো, ফান্ড ম্যানেজমেন্টের পারফরম্যান্স, ইউনিটের বাজারদর, লেনদেনের তারল্য এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়াই অধিক বাস্তবসম্মত। বিশেষ করে যেসব ফান্ড দীর্ঘ সময় ধরে ডিসকাউন্টে থাকে, সেখানে ঝুঁকি ও সুযোগ উভয়ই থাকতে পারে।

-রফিক


ডিএসই–৩০: যেসব খাতে বিনিয়োগকারীদের নজর

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১২:২৬:২৩
ডিএসই–৩০: যেসব খাতে বিনিয়োগকারীদের নজর
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকভুক্ত ডিএসই–৩০ তালিকার শেয়ারগুলোতে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত লেনদেনে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। সূচকের কিছু শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি দেখা গেলেও কয়েকটি বড় মূলধনী প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে সামান্য দরপতন বাজারকে ভারসাম্যহীন রেখেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক, ফার্মাসিউটিক্যালস, টেলিযোগাযোগ ও শিল্প খাতভুক্ত শেয়ারগুলোতেই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি ছিল। বিশেষ করে বড় বাজার মূলধনের কোম্পানিগুলোতে লেনদেনের পরিমাণ বাজারের সামগ্রিক গতিপথ নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে।

ফার্মাসিউটিক্যাল ও শিল্প খাতে ক্রয়চাপ

ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস–এর শেয়ারে সক্রিয় লেনদেন দেখা গেছে। স্কয়ার ফার্মার শেয়ার প্রায় ১ শতাংশের বেশি বেড়ে দিনের অন্যতম সর্বোচ্চ লেনদেন হওয়া শেয়ারের তালিকায় উঠে আসে। একই সঙ্গে বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ারেও দুই শতাংশের বেশি দরবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের আস্থার ইঙ্গিত দেয়।

শিল্প খাতে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ও বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস–এর শেয়ার দর বৃদ্ধির মাধ্যমে সূচককে সহায়তা করেছে। বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় ও অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি আস্থা বজায় রয়েছে।

ব্যাংক ও আর্থিক খাতে নির্বাচনী অবস্থান

ব্যাংকিং খাতে সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক এবং ইস্টার্ন ব্যাংক–এর শেয়ারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে দরবৃদ্ধি সীমিত থাকায় খাতটি সূচকে বড় কোনো দিকনির্দেশনা দিতে পারেনি। বিনিয়োগকারীরা আপাতত ব্যাংক খাতে অপেক্ষাকৃত সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

টেলিযোগাযোগ ও ভোক্তা পণ্যে মিশ্র চিত্র

টেলিযোগাযোগ খাতে গ্রামীণফোন এবং রবি আজিয়াটা–এর শেয়ার লেনদেনে সক্রিয় থাকলেও দর পরিবর্তন ছিল সীমিত। অন্যদিকে ভোক্তা পণ্য খাতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ–এর শেয়ারে সামান্য দরপতন বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডিএসই–৩০ সূচকের শেয়ারগুলোতে বর্তমান লেনদেন মূলত খাতভিত্তিক নির্বাচনী বিনিয়োগের প্রতিফলন। বড় মূলধনী শেয়ারগুলোর দিকনির্দেশনার অভাবে সূচক এখনো শক্ত কোনো ট্রেন্ড গড়ে তুলতে পারেনি। স্বল্পমেয়াদে বাজারে এই মিশ্র ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

-রফিক


কোন শেয়ারে মিলবে মার্জিন সুবিধা, জানাল ডিএসই

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১১:৪৭:২৩
কোন শেয়ারে মিলবে মার্জিন সুবিধা, জানাল ডিএসই
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বিনিয়োগকারীদের জন্য মার্জিন ফাইন্যান্স সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল ১১টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ডিএসই মূল বাজারে তালিকাভুক্ত মোট ১২৫টি কোম্পানির শেয়ারকে মার্জিন ফাইন্যান্সযোগ্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত করেছে। এই তালিকা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) Margin Rules, 2025 অনুসরণ করে প্রস্তুত করা হয়েছে।

ডিএসই সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত শেয়ারগুলোর বড় অংশই ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত, যেগুলো নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ, নিরবচ্ছিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী মৌলভিত্তির কারণে মার্জিন সুবিধার জন্য উপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। পাশাপাশি, কিছু ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তবে সেগুলোর ক্ষেত্রে শর্ত হিসেবে সর্বশেষ অর্থবছরে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নগদ বা স্টক ডিভিডেন্ড বিতরণের প্রমাণ থাকতে হয়েছে।

এই তালিকায় ব্যাংক, বিমা, ফার্মাসিউটিক্যালস, টেলিকম, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, সিমেন্ট ও বস্ত্র খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ব্যাংক ও বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর সংখ্যা বেশি, যা বাজারে তাদের তুলনামূলক স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগযোগ্যতার ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে ওষুধ ও ভোক্তাপণ্য খাতের বড় কোম্পানিগুলোও মার্জিন সুবিধার আওতায় এসেছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডিএসই জানিয়েছে, মার্জিনযোগ্য শেয়ার নির্ধারণে Trailing P/E Ratio, Free Float Market Capitalization, এবং সাম্প্রতিক Closing Price (CP) অথবা Adjusted Opening Price (AOP) বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। যেসব কোম্পানির ক্ষেত্রে টানা চারটি প্রান্তিকের আয় ঘোষণার তথ্য পাওয়া যায়নি, সেখানে সর্বশেষ ঘোষিত ইপিএস বার্ষিকায়ন করে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বচ্ছ কোম্পানিকে তালিকার বাইরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই তালিকা মার্জিন ফাইন্যান্স ব্যবস্থাকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে সহায়ক হবে। অতীতে মার্জিন লোনের অপব্যবহার বাজারে অতিরিক্ত অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট আর্থিক সূচক ও মৌলভিত্তি যাচাইয়ের মাধ্যমে শেয়ার নির্বাচন করায় ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডিএসই আরও জানিয়েছে, এটি একটি প্রাথমিক ও উন্নয়নাধীন তালিকা। ভবিষ্যতে বাজার পরিস্থিতি, কোম্পানির আর্থিক ফলাফল এবং নীতিগত পরিবর্তনের আলোকে এই তালিকায় সংযোজন বা বিয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে ট্রেকধারী ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে মার্জিন ফাইন্যান্স প্রদানকালে বিদ্যমান সব বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, মার্জিন ফাইন্যান্সযোগ্য শেয়ারের এই হালনাগাদ তালিকা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে যারা ঋণভিত্তিক বিনিয়োগে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

-রফিক


শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতি, শীর্ষ ২০ শেয়ারের তালিকা বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১১:৪১:০৭
শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতি, শীর্ষ ২০ শেয়ারের তালিকা বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল থেকে মধ্যদুপুর পর্যন্ত লেনদেনের চিত্রে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ছিল তুলনামূলকভাবে সক্রিয়, তবে তা ছিল মূলত নির্বাচিত কিছু খাত ও নির্দিষ্ট শেয়ারে কেন্দ্রীভূত। বেলা ১১টা ৩৮ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাজারে সবচেয়ে বেশি লেনদেনমূল্য ও ভলিউম তৈরি হয়েছে বস্ত্র, ব্যাংক এবং ওষুধ খাতের শেয়ার ঘিরে। এতে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে যে নতুন বছরের শুরুতে বিনিয়োগকারীরা এখনো তুলনামূলকভাবে পরিচিত ও ট্রেডিংবান্ধব শেয়ারের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।

লেনদেনমূল্যের দিক থেকে শীর্ষে উঠে এসেছে সাইহাম কটন মিলস লিমিটেড। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোম্পানিটির প্রায় ৩৯ লাখ ৬৯ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়ে লেনদেনমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকার কাছাকাছি। বস্ত্র খাতের এই শেয়ারে একদিকে যেমন স্বল্প দামের কারণে খুচরা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে, অন্যদিকে উচ্চ ভলিউমের কারণে ট্রেডারদের সক্রিয় অংশগ্রহণও লক্ষ্য করা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের শেয়ারে দ্রুত ক্রয়-বিক্রয়ের প্রবণতা থাকায় স্বল্পমেয়াদে দামের ওঠানামা তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

লেনদেনমূল্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে ছিল যথাক্রমে উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। উত্তরা ব্যাংকের শেয়ারে একদিকে ব্যাংক খাত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আস্থার প্রতিফলন দেখা গেছে, অন্যদিকে স্কয়ার ফার্মার ক্ষেত্রে মৌলভিত্তি শক্তিশালী হওয়ায় তুলনামূলক উচ্চ দরেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। স্কয়ার ফার্মার ক্ষেত্রে ভলিউম কম হলেও উচ্চ মূল্যমানের কারণে লেনদেনমূল্য উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

ভলিউমের বিচারে সাইহাম কটনের পরেই অবস্থান করছে পিএলএফএসএল, উত্তরা ব্যাংক, বারাকা পাওয়ার, এবি ব্যাংক এবং সাইহাম টেক্সটাইল। কম দামের এসব শেয়ারে তুলনামূলক অল্প পুঁজি নিয়ে বেশি সংখ্যক শেয়ার কেনাবেচা করা সম্ভব হওয়ায় ক্ষুদ্র ও মধ্যম বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় ছিলেন বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও ব্যাংক খাতের কিছু শেয়ারে ট্রেডিংনির্ভর আগ্রহ বাজারের ভলিউম বাড়িয়েছে।

লেনদেন সংখ্যার দিক থেকে অর্থাৎ ট্রেড কাউন্টে শীর্ষে রয়েছে বিচ হ্যাচারি, যেখানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেড় হাজারের বেশি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে। এরপর রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, এসপিসিএল, এআইএল এবং সাইহাম কটন। ট্রেড সংখ্যা বেশি হওয়া শেয়ারগুলোতে সাধারণত স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি বেশি থাকে, যা দিনের মধ্যে দামের দ্রুত ওঠানামার ঝুঁকি তৈরি করে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বস্ত্র খাত আবারও সক্রিয় হতে শুরু করেছে, বিশেষ করে রপ্তানি বাজার ও সুদের হার সংক্রান্ত প্রত্যাশার কারণে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকলেও তারা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে মৌলভিত্তি শক্ত কোম্পানিগুলো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল লেনদেন ধরে রেখেছে, যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন।

-রফিক


জিকিউ বল পেনের ক্রেডিট রেটিং প্রকাশ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১১:১৮:২৮
জিকিউ বল পেনের ক্রেডিট রেটিং প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান জিকিউ বল পেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড–এর সর্বশেষ ক্রেডিট রেটিং প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতা ও ঋণঝুঁকি মূল্যায়ন করে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি (CRISL) জিকিউ বল পেনকে দীর্ঘমেয়াদে “BB+” এবং স্বল্পমেয়াদে “ST-4” রেটিং প্রদান করেছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটির জন্য ‘স্থিতিশীল’ (Stable outlook) আউটলুক নির্ধারণ করা হয়েছে।

ক্রিসিলের প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই রেটিং নির্ধারণের ক্ষেত্রে জিকিউ বল পেনের ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত নিরীক্ষিত (audited) আর্থিক বিবরণী, পাশাপাশি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত (unaudited) আর্থিক তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কোম্পানিটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম, নগদ প্রবাহ, ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা, ব্যবস্থাপনা কাঠামো এবং সামগ্রিক শিল্পপরিবেশসহ বিভিন্ন গুণগত ও পরিমাণগত সূচক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, “BB+” দীর্ঘমেয়াদি রেটিং ইঙ্গিত করে যে, জিকিউ বল পেনের আর্থিক অবস্থান মাঝারি পর্যায়ের এবং বিদ্যমান বাজার পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি তার দায় পরিশোধে সক্ষম হলেও কিছু কাঠামোগত ও বাজারঝুঁকি বিদ্যমান রয়েছে। অন্যদিকে “ST-4” স্বল্পমেয়াদি রেটিং কোম্পানিটির তাৎক্ষণিক দায় পরিশোধ সক্ষমতা সীমিত হলেও নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে রয়েছে বলে প্রতিফলিত করে।

ক্রেডিট রেটিং সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘স্থিতিশীল’ আউটলুক নির্দেশ করে যে, স্বল্পমেয়াদে কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থানে বড় ধরনের নেতিবাচক পরিবর্তনের আশঙ্কা নেই, যদি না বাজার বা অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় অপ্রত্যাশিত কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়।

-রফিক


এসকিউ ব্রোকারেজের ট্রেক বাতিল করল ডিএসই

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১১:০৮:২০
এসকিউ ব্রোকারেজের ট্রেক বাতিল করল ডিএসই
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। সংস্থাটি এসকিউ ব্রোকারেজ হাউস লিমিটেডের নামে ইস্যুকৃত ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (TREC) নম্বর–৩০৮ বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

ডিএসই সূত্রে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রণীত Trading Right Entitlement Certificate Rules, 2020–এর বিধি ৭(৩) অনুসারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসকিউ ব্রোকারেজ হাউস লিমিটেড বিধি ৭(১) লঙ্ঘন করায় তাদের ট্রেক বাতিল করা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিএসই জানায়, এসকিউ ব্রোকারেজ হাউস লিমিটেড বিএসইসি থেকে স্টক ডিলার ও স্টক ব্রোকারের নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে ব্যর্থ হয়। এই দীর্ঘসূত্রতা ও কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি নিয়ন্ত্রক কাঠামোর পরিপন্থী হওয়ায় ট্রেক বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে, ট্রেক বাতিলসংক্রান্ত বিষয়ে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এসকিউ ব্রোকারেজ হাউস লিমিটেডের বিরুদ্ধে কোনো দাবি, অভিযোগ বা পাওনা অর্থ সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে, তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ডিএসই। সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রসহ লিখিত আবেদন দাখিল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডিএসইর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৬ জানুয়ারি ২০২৫–এর মধ্যে আবেদনপত্র পৌঁছাতে হবে ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার (ভারপ্রাপ্ত) দপ্তরে। ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে: ডিএসই টাওয়ার, লেভেল–০৩, প্লট নম্বর ৪৬, রোড নম্বর ২১, নিকুঞ্জ–২, ঢাকা–১২২৯।

-রফিক

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত