Banner

জুলকারনাইন: দুই শিং–ওয়ালা বাদশার রহস্য

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ১৭ ১২:০৬:৫৪
জুলকারনাইন: দুই শিং–ওয়ালা বাদশার রহস্য
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের ইতিহাসে বাদশা জুলকারনাইন এমন এক ব্যক্তিত্ব যিনি রহস্য, প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব ও ন্যায়বিচারের সমন্বিত প্রতীক। পবিত্র কোরআনে সূরা কাহফে তাঁর ইতিহাস বর্ণিত হলেও, তাঁর সুনির্দিষ্ট পরিচয় নিয়ে আলেমদের মধ্যে এখনও মতভেদ রয়েছে। তিনি নবী ছিলেন নাকি একজন ন্যায়পরায়ণ শক্তিশালী শাসক ছিলেন এ প্রশ্নে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। তবে কোরআনের বর্ণনাগুলোতে তাঁর চরিত্র যে উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধ ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের অনন্য উদাহরণ, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

পরিচিতি ও ‘জুলকারনাইন’ নামের অর্থ

“জুলকারনাইন” শব্দটি আরবি, যার অর্থ “দুই শিং–ওয়ালা” বা “দুই যুগের অধিকারী।” এই নামের ব্যাখ্যায় দুটি প্রধান মত রয়েছে।

একদিকে বলা হয়, তিনি পৃথিবীর পূর্ব এবং পশ্চিম দু’প্রান্ত পর্যন্ত শাসন বিস্তার করেছিলেন। অন্যদিকে কিছু ঐতিহাসিকের মতে, তাঁর মুকুটে দুই শিং–এর প্রতীক ছিল, যা প্রাচীন রাজকীয় শক্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

ঐতিহাসিক পরিচয় নিয়ে মতভেদ

জুলকারনাইনের প্রকৃত পরিচয় কী এ নিয়ে ইসলামী ও পাশ্চাত্য গবেষক, উভয় মহলে বহু আলোচনা হয়েছে।

আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট- প্রচলিত ঐতিহ্যগত পরিচয়

অনেক মুসলিম ও পাশ্চাত্য ঐতিহাসিক মনে করেন, জুলকারনাইন হচ্ছেন আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট। কারণ তাঁর প্রাচীন মুদ্রাগুলোতে তাঁকে ভেড়ার শিং–যুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা দেবতা আমুন–রার প্রতীক। বহু যুগ ধরে এই মতটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল।

সাইরাস দ্য গ্রেট-আধুনিক গবেষকদের শক্তিশালী মতবাদ

বর্তমান সময়ের আলেম ও গবেষকদের বড় অংশ বিশ্বাস করেন যে, জুলকারনাইন আসলে পারস্যের সম্রাট সাইরাস দ্য গ্রেট। বাইবেলের বর্ণনায় সাইরাসকে “দুই শিংওয়ালা মেষ” হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো সাইরাস ছিলেন ন্যায়পরায়ণ, ঈমানদার ও একত্ববাদী শাসক। কোরআনের বর্ণনার সাথে তাঁর ব্যক্তিত্বের বহু মিল পাওয়া যায়।

অন্যান্য ধারণা

কিছু গবেষক জুলকারনাইনকে আরবের হিমিয়ার রাজ্যের রাজা আফ্রিকিশ আল–হিমিয়ারী বা অন্য কোনো অজ্ঞাত শাসক হিসেবেও বিবেচনা করেন।

তিনি নবী ছিলেন নাকি রাজা?

অধিকাংশ ইসলামি আলেমের মতে, জুলকারনাইন ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ এবং আল্লাহভীরু রাজা। তাঁর কাছে আল্লাহ অসাধারণ ক্ষমতা, সামরিক শক্তি এবং ভূখণ্ড পরিচালনার দক্ষতা দান করেছিলেন। যদিও কিছু মত অনুযায়ী তিনি নবীও হতে পারেন, তবে কোরআনে তাঁর নবুয়ত সম্পর্কে স্পষ্ট উল্লেখ নেই।

জুলকারনাইনের প্রাচীর, ইয়াজুজ–মাজুজ থেকে রক্ষার মহাগঠন

জুলকারনাইনের নির্মিত প্রাচীরের অবস্থান নিয়েও মতভেদ রয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, এটি দুই পর্বতের মধ্যবর্তী সরু পথে নির্মিত হয়েছিল, যেখানে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী ইয়াজুজ–মাজুজের হামলায় অতিষ্ঠ ছিল।

কাস্পিয়ান সাগর ও ককেশাস অঞ্চল-সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মত

অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, প্রাচীরটি কাস্পিয়ান সাগর এবং ককেশাস পর্বতমালার মধ্যবর্তী এলাকায় ছিল। রাশিয়ার দারিয়াল এবং দারবেন্ত অঞ্চলে আজও লৌহনির্মিত প্রাচীরের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়, যা জুলকারনাইনের প্রাচীর বলে বিবেচনা করা হয়।

অন্যান্য ব্যাখ্যা

কিছু ব্যাখ্যায় বলা হয় প্রাচীরটি পূর্ব দিকে ছিল। বিখ্যাত ভ্রমণকারী ইবনে বতুতা চীনের মহাপ্রাচীরকে ভুল করে জুলকারনাইনের প্রাচীর ভেবেছিলেন।

আব্বাসীয় খলিফার তদন্ত অভিযান

আব্বাসীয় খলিফা ওয়াসিক বিল্লাহর নির্দেশে একদল বিশেষ দূত প্রাচীরটি প্রত্যক্ষ পরিদর্শনে গিয়েছিল। তাদের পর্যবেক্ষণ পরবর্তীতে ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, প্রাচীরটি ছিল লোহা ও তামা দিয়ে নির্মিত এক বিশাল দুর্গসদৃশ কাঠামো।

কোরআনে বর্ণিত জুলকারনাইনের তিন মহাঅভিযান

সূরা কাহফের ৮৩–৯৯ নং আয়াতে জুলকারনাইনের তিনটি বিশাল ভ্রমণ অভিযানের বিস্তারিত উল্লেখ আছে। এ অভিযানের প্রতিটিতেই তাঁর নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ফুটে ওঠে।

১. পশ্চিমমুখী অভিযান

তিনি পৃথিবীর পশ্চিম প্রান্তে পৌঁছে দেখলেন সূর্য যেন কর্দমাক্ত ঝর্ণায় অস্ত যাচ্ছে। সেখানে তিনি এক জাতির মুখোমুখি হন। আল্লাহ তাকে এই জাতির ওপর ন্যায়বিচার প্রয়োগের ক্ষমতা দেন। তিনি সৎকর্মশীলদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করেন এবং অপরাধীদের শাস্তি দেন।

২. পূর্বমুখী অভিযান

তিনি পূর্ব দিকে যাত্রা করে এমন এক জাতির সন্ধান পান যারা সূর্যের আলো থেকে বাঁচার জন্য কোনো প্রাকৃতিক আড়াল পেত না। এখানেও তিনি ন্যায়বিচারের আদেশ প্রতিষ্ঠা করেন।

৩. উত্তরের অভিযান—ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর নির্মাণ

সবশেষে তিনি দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী এলাকায় পৌঁছান, যেখানে লোকেরা ইয়াজুজ–মাজুজ নামক হানাদার জাতির নিপীড়নে ক্লান্ত ছিল। তারা জুলকারনাইনের কাছে সহায়তা চাইলে তিনি কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ না করে আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুপ্রাণিত শক্তিতে লোহা ও গলিত তামা দিয়ে বিশাল প্রাচীর নির্মাণ করেন এবং তাদের আক্রমণ থেকে অঞ্চলটিকে সুরক্ষিত করেন।

জুলকারনাইনের জীবনী থেকে শিক্ষা

জুলকারনাইনের চরিত্র ইতিহাস ও ধর্মীয় নৈতিকতার এক অনুপম উদাহরণ। তাঁর জীবন থেকে পাওয়া প্রধান শিক্ষাগুলো হলো:

১. ক্ষমতা ও নেতৃত্ব আল্লাহর দান, এটি অহংকারের জন্য নয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য।২. ভূখণ্ড, সম্পদ ও শক্তি থাকা সত্ত্বেও তিনি বিনয়ী ছিলেন।৩. প্রতি সিদ্ধান্ত ও কাজে তিনি আল্লাহর নির্দেশ অনুসরণ করেছেন।৪. তিনি পৃথিবীজুড়ে ন্যায় ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।৫. ইয়াজুজ–মাজুজের প্রাচীর কেয়ামতের আগ পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে এটি ইসলামি বিশ্বাসের অংশ।


আজ ০১ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ০৯:৩৯:৩০
আজ ০১ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

নতুন বছরের প্রথম দিন আজ বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ ১৭ পৌষ ১৪৩২ এবং হিজরি ১১ রজব ১৪৪৭। খ্রিষ্টীয় নববর্ষের এই সূচনালগ্নে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা। শীতের এই সময়ে দিনের দৈর্ঘ্য ও কুয়াশার আধিক্যের কারণে নামাজের সময়ের সূক্ষ্ম পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৬ মিনিটে। আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৩টা ৪৬ মিনিটে। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৫টা ২৭ মিনিটে এবং এশার ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে। যারা জামাতের সাথে নামাজ আদায় করেন, তাদের জন্য এই সময়গুলো অনুসরণ করা জরুরি।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে। কুয়াশাচ্ছন্ন পৌষের সকালে আগামীকাল শুক্রবার ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৫টা ২৫ মিনিটে। সেই সাথে আগামীকালের সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে। শীতকালীন এই সময়সূচি কেবল ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য প্রযোজ্য; দেশের অন্যান্য স্থানে সময়ের কিছুটা তারতম্য হতে পারে। নতুন বছরের শুরুতে সঠিক সময়ে ইবাদত পালনের মাধ্যমে এক বরকতময় যাত্রা শুরু হোক—এমনটাই প্রত্যাশা ধর্মপ্রাণ মানুষের।


জানাজার নিয়ত, দোয়া ও তাকবির: সহজ নির্দেশনা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ৩১ ১০:৪৭:৩৯
জানাজার নিয়ত, দোয়া ও তাকবির: সহজ নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের জীবন যেমন পবিত্র, তেমনি মৃত্যুর পর তার মর্যাদাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে তার গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফনের দায়িত্ব জীবিত মুসলমানদের ওপর ফরজে কিফায়া হিসেবে বর্তায়। অর্থাৎ সমাজের কিছু মানুষ এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে অন্যরা দায়মুক্ত হয়, কিন্তু কেউ এগিয়ে না এলে পুরো সমাজ গুনাহের অংশীদার হয়। এ কারণে জানাজার কাজ বিলম্ব না করে দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর শরিয়তে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্ককে দায়িত্ব ও সহানুভূতির ভিত্তিতে গড়ে তুলেছেন। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) ছয়টি মৌলিক অধিকারের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে মৃত্যুর পর জানাজায় শরিক হওয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, জানাজায় অংশগ্রহণ শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়, বরং একটি স্পষ্ট ধর্মীয় দায়িত্ব।

জানাজার নামাজ অন্যান্য নামাজের মতো নয়। এতে রুকু, সিজদা বা কায়দা নেই। চার তাকবিরের মাধ্যমে এই নামাজ আদায় করা হয়। প্রথম তাকবিরে হাত তুলে নিয়ত বাঁধা হয়, এরপর বাকি তাকবিরগুলোতে হাত তোলা হয় না। জানাজার নামাজে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পায়—আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ এবং মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া।

নিয়ত জানাজার নামাজের একটি অপরিহার্য অংশ। আরবি ভাষায় নিয়ত করা উত্তম হলেও কেউ আরবি না জানলে নিজের ভাষায় নিয়ত করলেও নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায়। নিয়তের মূল বিষয় হলো, চার তাকবিরের সঙ্গে ফরজে কিফায়া জানাজার নামাজ আদায় করা এবং নির্দিষ্ট মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা। মৃত ব্যক্তি পুরুষ হলে নিয়তে ‘লিহাযাল মাইয়্যেতি’ এবং নারী হলে ‘লিহাযিহিল মাইয়্যেতি’ বলা হয়—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।

প্রথম তাকবিরের পর ‘সানা’ পাঠ করা হয়, যেখানে আল্লাহ তায়ালার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় তাকবিরের পর দরুদ শরিফ পাঠ করা হয়, যা সাধারণ নামাজে তাশাহুদের পর পড়া দরুদের মতোই। এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার প্রকাশ।

তৃতীয় তাকবিরের পর জানাজার মূল দোয়া পাঠ করা হয়। এই দোয়ায় জীবিত ও মৃত সকল মুসলমানের জন্য ক্ষমা, রহমত ও ঈমানের ওপর মৃত্যুর আবেদন জানানো হয়। এটি জানাজার নামাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ পুরো নামাজের উদ্দেশ্যই হলো মৃত ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা।

নাবালক ছেলে বা মেয়ের জানাজার ক্ষেত্রে দোয়ার ভাষা ভিন্ন। শিশুদের জন্য পড়া দোয়ায় তাদেরকে পিতা-মাতার জন্য সওয়াবের উৎস, অগ্রদূত এবং কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী হিসেবে কবুল করার প্রার্থনা করা হয়। এটি ইসলামে শিশুর প্রতি বিশেষ করুণা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।

চতুর্থ তাকবিরের পর সামান্য নীরবতা পালন করে ডান ও বাম দিকে সালাম ফিরিয়ে জানাজার নামাজ শেষ করা হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জানাজার নামাজ জামাতে আদায় করা হয় এবং এর কোনো কাজা নেই। কেউ দেরিতে এলে ইমামের সঙ্গে যে অবস্থায় পান সেখান থেকেই নামাজে শরিক হবেন এবং ইমামের সালামের সঙ্গে নামাজ শেষ করবেন।

ইসলামী বিধান অনুযায়ী জানাজার নামাজের পর দাফন দ্রুত সম্পন্ন করা সুন্নত। অহেতুক বিলম্ব করা অনুচিত। দাফনের সময় মৃত ব্যক্তিকে কিবলামুখী করে কবরে শোয়ানো হয় এবং দোয়ার মাধ্যমে তার জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করা হয়।


জানাজার নিয়ত, দোয়া ও তাকবির: সহজ নির্দেশনা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ৩১ ১০:৪৭:৩৯
জানাজার নিয়ত, দোয়া ও তাকবির: সহজ নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের জীবন যেমন পবিত্র, তেমনি মৃত্যুর পর তার মর্যাদাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে তার গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফনের দায়িত্ব জীবিত মুসলমানদের ওপর ফরজে কিফায়া হিসেবে বর্তায়। অর্থাৎ সমাজের কিছু মানুষ এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে অন্যরা দায়মুক্ত হয়, কিন্তু কেউ এগিয়ে না এলে পুরো সমাজ গুনাহের অংশীদার হয়। এ কারণে জানাজার কাজ বিলম্ব না করে দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর শরিয়তে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্ককে দায়িত্ব ও সহানুভূতির ভিত্তিতে গড়ে তুলেছেন। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) ছয়টি মৌলিক অধিকারের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে মৃত্যুর পর জানাজায় শরিক হওয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, জানাজায় অংশগ্রহণ শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়, বরং একটি স্পষ্ট ধর্মীয় দায়িত্ব।

জানাজার নামাজ অন্যান্য নামাজের মতো নয়। এতে রুকু, সিজদা বা কায়দা নেই। চার তাকবিরের মাধ্যমে এই নামাজ আদায় করা হয়। প্রথম তাকবিরে হাত তুলে নিয়ত বাঁধা হয়, এরপর বাকি তাকবিরগুলোতে হাত তোলা হয় না। জানাজার নামাজে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পায়—আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ এবং মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া।

নিয়ত জানাজার নামাজের একটি অপরিহার্য অংশ। আরবি ভাষায় নিয়ত করা উত্তম হলেও কেউ আরবি না জানলে নিজের ভাষায় নিয়ত করলেও নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায়। নিয়তের মূল বিষয় হলো, চার তাকবিরের সঙ্গে ফরজে কিফায়া জানাজার নামাজ আদায় করা এবং নির্দিষ্ট মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা। মৃত ব্যক্তি পুরুষ হলে নিয়তে ‘লিহাযাল মাইয়্যেতি’ এবং নারী হলে ‘লিহাযিহিল মাইয়্যেতি’ বলা হয়—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।

প্রথম তাকবিরের পর ‘সানা’ পাঠ করা হয়, যেখানে আল্লাহ তায়ালার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় তাকবিরের পর দরুদ শরিফ পাঠ করা হয়, যা সাধারণ নামাজে তাশাহুদের পর পড়া দরুদের মতোই। এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার প্রকাশ।

তৃতীয় তাকবিরের পর জানাজার মূল দোয়া পাঠ করা হয়। এই দোয়ায় জীবিত ও মৃত সকল মুসলমানের জন্য ক্ষমা, রহমত ও ঈমানের ওপর মৃত্যুর আবেদন জানানো হয়। এটি জানাজার নামাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ পুরো নামাজের উদ্দেশ্যই হলো মৃত ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা।

নাবালক ছেলে বা মেয়ের জানাজার ক্ষেত্রে দোয়ার ভাষা ভিন্ন। শিশুদের জন্য পড়া দোয়ায় তাদেরকে পিতা-মাতার জন্য সওয়াবের উৎস, অগ্রদূত এবং কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী হিসেবে কবুল করার প্রার্থনা করা হয়। এটি ইসলামে শিশুর প্রতি বিশেষ করুণা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।

চতুর্থ তাকবিরের পর সামান্য নীরবতা পালন করে ডান ও বাম দিকে সালাম ফিরিয়ে জানাজার নামাজ শেষ করা হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জানাজার নামাজ জামাতে আদায় করা হয় এবং এর কোনো কাজা নেই। কেউ দেরিতে এলে ইমামের সঙ্গে যে অবস্থায় পান সেখান থেকেই নামাজে শরিক হবেন এবং ইমামের সালামের সঙ্গে নামাজ শেষ করবেন।

ইসলামী বিধান অনুযায়ী জানাজার নামাজের পর দাফন দ্রুত সম্পন্ন করা সুন্নত। অহেতুক বিলম্ব করা অনুচিত। দাফনের সময় মৃত ব্যক্তিকে কিবলামুখী করে কবরে শোয়ানো হয় এবং দোয়ার মাধ্যমে তার জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করা হয়।


আজ ৩১ ডিসেম্বরের নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ৩১ ০৯:৫৩:২৪
আজ ৩১ ডিসেম্বরের নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

আজ বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫। বছরের শেষ এই দিনে আমাদের চারপাশের ব্যস্ততার মাঝেও আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও সময়মতো ইবাদত পালনের জন্য নামাজের সঠিক সময়সূচি জানা অত্যন্ত জরুরি। আজ ১৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ এবং ১০ রজব ১৪৪৭ হিজরি। রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার (বসুন্ধরা, ঢাকা) কর্তৃক নির্ধারিত নামাজের সময়সূচি প্রকাশিত হয়েছে।

বছরের শেষ এই দিনটিতে ঢাকায় জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে ১২টা ০৫ মিনিটে। বিকেলের আসরের নামাজ শুরু হবে ৩টা ৪৬ মিনিটে। সূর্যাস্তের পরপরই মাগরিবের সময় শুরু হবে ৫টা ২৬ মিনিটে এবং রাতের শেষ ফরজ নামাজ এশার সময় শুরু হবে ৬টা ৪৪ মিনিটে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য বছরের এই শেষ রাতটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা ইবাদত ও আত্মসমালোচনার মধ্য দিয়ে কাটানো শ্রেয়।

আজকের দিনের শেষ সূর্য বিদায় নেবে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে। বছরের শেষ সূর্যাস্তের পর আগামীকাল ২০২৬ সালের প্রথম সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে। যারা আগামীকাল বছরের প্রথম ফজরের নামাজ আদায় করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য সময় শুরু হবে ভোর ৫টা ২৪ মিনিটে। উল্লেখ্য যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই সময়ের সাথে কয়েক মিনিট যোগ বা বিয়োগ হতে পারে। তাই স্থানীয় মসজিদের সাথে সময় মিলিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।


থার্টি ফার্স্ট নাইটে মুসলিমদের করণীয় নিয়ে যা বলেন ইসলামি স্কলাররা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ৩০ ২০:৫৭:৪৯
থার্টি ফার্স্ট নাইটে মুসলিমদের করণীয় নিয়ে যা বলেন ইসলামি স্কলাররা
ছবি : সংগৃহীত

খ্রিস্টীয় ক্যালেন্ডার বা গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে 'থার্টি ফার্স্ট নাইট' উদযাপন আধুনিক বিশ্বে একটি প্রচলিত সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। তবে ইসলামি জীবনদর্শনে এই বিজাতীয় সংস্কৃতি অনুসরণ করাকে সরাসরি 'হারাম' ও 'অপসংস্কৃতি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম ও গবেষকরা। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, অন্য কোনো ধর্মের ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক রীতিনীতি মুসলিমদের জন্য পালন করা সম্পূর্ণ অবৈধ।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি ইসলাম (ইসলামী রীতিনীতি) ছাড়া অন্যকোনো ধর্মের অনুসরণ করবে, কখনো তার সেই আমল গ্রহণ করা হবে না। আর পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সুরা আল ইমরান, আয়াত ৮৫)। এই আয়াতের আলোকে ইসলামি স্কলাররা বলছেন, থার্টি ফার্স্ট নাইটের মতো উৎসবগুলো মূলত পৌত্তলিক বা বিজাতীয় ধর্মবিশ্বাস থেকে উদ্ভূত, যা একজন মুমিনের বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, “যে ব্যক্তি অন্য জাতির সঙ্গে আচার-আচরণে, সভ্যতা-সংস্কৃতিতে সামঞ্জস্য গ্রহণ করবে, সে তাদের দলভুক্ত বলে বিবেচিত হবে।” (সুনানে আবু দাউদ, ৪০৩১)।

সম্প্রতি এক জুমার আলোচনায় জনপ্রিয় ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ এই উৎসবের ঐতিহাসিক ও নৈতিক ক্ষতির দিকগুলো তুলে ধরেছেন। তিনি জানান যে, প্রাচীন পারস্যের সম্রাট জামশিদ এবং পরবর্তীতে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের হাত ধরে এই নববর্ষের প্রচলন হয়। এটি মূলত খ্রিস্টীয় পোপ গ্রেগরির নামানুসারে প্রবর্তিত একটি উৎসব। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, “প্রাচীনকালে পারস্যের প্রকৃতি পূজারিরা বিশ্বাস করত যে বছরের প্রথম দিনটি আনন্দ-ফুর্তিতে কাটালে সারা বছর ভালো যাবে। অথচ এই ধরনের অযৌক্তিক কুসংস্কার আজও আমাদের বিজ্ঞানমনস্ক সমাজের মানুষের মধ্যে গেঁথে আছে।”

ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো উৎসব পালন করতে হলে কোরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরামের আমলের প্রামাণ্যতা থাকা জরুরি। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে শরিয়তের দুটি মৌলিক শর্ত চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়। প্রথমত, এটি একটি বিজাতীয় সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ। দ্বিতীয়ত, এর মাধ্যমে মানুষের হক বা নাগরিক শান্তি বিঘ্নিত হয়। বিকট শব্দে আতশবাজি ও সাউন্ডবক্স ব্যবহারের ফলে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েন। এমনকি ফানুসের আগুনে দগ্ধ হওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও প্রতিবছর ঘটে থাকে। এছাড়া পবিত্র কোরআনে অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই বলা হয়েছে, অথচ এই রাতে কোটি কোটি টাকা অনর্থক কাজে ব্যয় করা হয়।

নতুন বছরকে স্বাগত জানানো নিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, একটি নতুন বছর আসা মানে নতুন কিছু পাওয়া নয়, বরং আমাদের জীবন থেকে একটি বছরের পাতা ঝরে যাওয়া এবং মৃত্যুর দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। তিনি মুমিনদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, থার্টি ফার্স্ট নাইটের রাতে নেশা ও উন্মাদনায় মত্ত না হয়ে বরং বিগত জীবনের গুনাহের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে তওবা করা এবং আগামী দিনগুলোর জন্য নেক পরিকল্পনা করাই প্রকৃত বুদ্ধিমানের কাজ।


রাতে ঘুমানোর আগে শক্তিশালী আমল জেনে নিন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৯ ১৩:১৪:০৬
রাতে ঘুমানোর আগে শক্তিশালী আমল জেনে নিন
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে রাতের ঘুম শুধু শারীরিক বিশ্রাম নয়; এটি আত্মিক নিরাপত্তা, ইমানি সংরক্ষণ এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমানোর আগে কিছু নির্দিষ্ট আমলের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, যা বান্দাকে শয়তানের কুমন্ত্রণা, অদৃশ্য বিপদ এবং দুশ্চিন্তা থেকে হেফাজত করে। নিয়মিত এসব আমল পালনের মাধ্যমে একজন মুমিন শান্ত ঘুম, অন্তরের প্রশান্তি এবং আল্লাহর রহমত লাভ করতে পারেন।

ঘুমের আগে সর্বপ্রথম যে আমলটি গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো আয়াতুল কুরসি একবার পাঠ করা। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি এটি পড়ে ঘুমায়, তার ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতা পাহারা দেন এবং শয়তান সকাল পর্যন্ত তার কাছে আসতে পারে না।

এরপর ইস্তেগফার অন্তত ১০০ বার পাঠ করা উত্তম। “আস্তাগফিরুল্লাহ” বান্দার গুনাহ মোচন করে, অন্তর পরিষ্কার করে এবং দিনের অজান্তে হওয়া ভুলের জন্য আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ দেয়। অনেক আলেম ঘুম না আসা পর্যন্ত ইস্তেগফারে লিপ্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

ঘুমানোর আগে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস প্রতিটি তিনবার পড়ে শরীরে ফুঁ দেওয়া সুন্নত। এটি জাদু, হিংসা, বদনজর ও অশুভ শক্তি থেকে সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত কার্যকর আমল।

এরপর দরুদ শরিফ অন্তত ১০ বার পাঠ করা হৃদয়কে নরম করে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে আত্মিক সংযোগ দৃঢ় করে। দরুদের মাধ্যমে দোয়া কবুলের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়।

রাতে ঘুমানোর আগে তাসবিহে ফাতিমা আদায় করা সুন্নত। অর্থাৎ সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার এবং আল্লাহু আকবার ৩৩ বার পাঠ করা। এটি দৈহিক ক্লান্তি দূর করে এবং অন্তরে শক্তি সঞ্চার করে।

অনেক আলেম ঘুমের আগে বিসমিল্লাহ ২১ বার পাঠ করার কথা উল্লেখ করেছেন, যা অশুভ প্রভাব থেকে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ১০০ বার পাঠ করা ইমানকে নবায়ন করে।

রাতে শুয়ে সূরা মুলক সম্পূর্ণ পাঠ করলে কবরের আজাব থেকে রক্ষা পাওয়ার সুসংবাদ রয়েছে। এ ছাড়া সূরা কাফিরুন একবার পাঠ করা শিরকের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকার প্রতীক।

ঘুমানোর আগে সূরা ফাতিহা ও কালেমা তামজিদ চারবার এবং সূরা ইখলাস ও দরুদ শরিফ তিনবার পাঠ করাও আত্মিক প্রশান্তির জন্য উপকারী।

বিশেষ একটি ক্ষমাপ্রার্থনার দোয়া-

“আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম”

এটি ১০ বার পাঠ করলে অন্তরের ভার হালকা হয় এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের অনুভূতি জাগ্রত হয়।

ঘুমানোর শারীরিক সুন্নতের মধ্যে রয়েছে ডান কাতে শোয়া, ওজু করে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুমের নির্দিষ্ট দোয়া পাঠ করা। এসব আমল একজন মুসলমানকে ইবাদতের অবস্থায় ঘুমাতে সহায়তা করে।

সবশেষে, ঘুমানোর আগে মৃত মুসলিমদের জন্য দোয়া করা এবং সবার প্রতি অন্তর থেকে ক্ষমা করে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি হৃদয়ের হিংসা, বিদ্বেষ ও রাগ দূর করে এবং শান্তিপূর্ণ ঘুম নিশ্চিত করে।


আজ ২৯ ডিসেম্বরের নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৯ ০৮:৫৫:১৪
আজ ২৯ ডিসেম্বরের নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি রুকনের মধ্যে নামাজ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। মহানবী (সা.) এর হাদিস অনুযায়ী, কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর আবশ্যিক। আজ সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ (১৪ পৌষ ১৪৩২ বাংলা, ৮ রজব ১৪৪৭ হিজরি)—আপনার ইবাদতকে সহজ করতে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো।

ঢাকার জন্য আজকের নামাজের সময়:

জোহর: দুপুর ১২:০৪ মিনিট

আসর: বিকেল ৩:৪৬ মিনিট

মাগরিব: সন্ধ্যা ৫:২২ মিনিট

এশা: সন্ধ্যা ৬:৪২ মিনিট

ফজর (আগামীকাল মঙ্গলবার): ভোর ৫:২০ মিনিট

বিভাগীয় সময়ের ব্যবধান: ঢাকার সময়ের সঙ্গে আপনার এলাকার নামাজের সময় সমন্বয় করে নিতে নিচের নিয়মটি অনুসরণ করুন।

বিয়োগ করতে হবে: চট্টগ্রাম থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেট থেকে ৬ মিনিট।

যোগ করতে হবে: খুলনা থেকে ৩ মিনিট, রাজশাহী থেকে ৭ মিনিট, রংপুর থেকে ৮ মিনিট এবং বরিশাল থেকে ১ মিনিট।

নামাজ শুধু একটি ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নয়, এটি আত্মার শান্তি এবং শৃঙ্খলার মূল চাবিকাঠি। তাই যতই কাজ থাকুক না কেন, আজানের পরপরই নামাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া মুমিনের পরিচয়।


আজ ২৮ ডিসেম্বরের নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৮ ০৯:১০:০৭
আজ ২৮ ডিসেম্বরের নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে নামাজ দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে নামাজের গুরুত্ব বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। কিয়ামতের দিন বান্দার আমলনামার মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেওয়া হবে। তাই একজন প্রকৃত মুসলমান হিসেবে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করা ইমানি দায়িত্ব। আজ ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ইংরেজি, ১৩ পৌষ ১৪৩২ বাংলা এবং ৭ রজব ১৪৪৭ হিজরি। রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার মুসুল্লিদের সুবিধার্থে আজকের নামাজের সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো।

ঢাকার নামাজের সময়সূচি (২৮ ডিসেম্বর ২০২৫):

জোহর: দুপুর ১২:০৫ মিনিট

আসর: বিকেল ৩:৪৩ মিনিট

মাগরিব: সন্ধ্যা ৫:২৫ মিনিট

এশা: সন্ধ্যা ৬:৪২ মিনিট

ফজর (আগামীকাল সোমবার): ভোর ৫:২০ মিনিট

ঢাকার সময়ের সঙ্গে অন্যান্য প্রধান বিভাগীয় শহরগুলোর সময়ের পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো। নিজ নিজ এলাকার নামাজের সঠিক সময় জানতে এই মিনিটগুলো সমন্বয় করে নিতে হবে।

যেসব এলাকার সময় বিয়োগ করতে হবে:

চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট

সিলেট: ০৬ মিনিট

যেসব এলাকার সময় যোগ করতে হবে:

খুলনা: ০৩ মিনিট

রাজশাহী: ০৭ মিনিট

রংপুর: ০৮ মিনিট

বরিশাল: ০১ মিনিট

ইসলামি বিধান অনুযায়ী ফরজ নামাজের পাশাপাশি সুন্নত, ওয়াজিব এবং নফল নামাজেরও বিশেষ ফজিলত রয়েছে। তবে শত প্রতিকূলতা কিংবা ব্যস্ততার মধ্যেও ফরজ নামাজ সঠিক সময়ে আদায় করাই হলো প্রকৃত কামিয়াবি। শীতের এই ভোরে এবং দিনভর পবিত্রতার সাথে ইবাদত সম্পন্ন করতে এই সময়সূচিটি আপনাকে সাহায্য করবে।


আজ ২৭ ডিসেম্বরের নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৭ ০৯:৩৯:৫৭
আজ ২৭ ডিসেম্বরের নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ইমানের পর ইসলামে নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। মহান আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর ওপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। আজ শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ইংরেজি (১২ পৌষ ১৪৩২ বাংলা ও ৬ রজব ১৪৪৭ হিজরি)—এই দিনের জন্য ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ আদায় করা কেবল ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নয়, বরং এটি আত্মিক প্রশান্তিরও মূল উৎস।

আজকের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকা ও এর আশেপাশে জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ০১ মিনিটে। আসরের নামাজ আদায়ের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিট। সূর্যাস্তের সাথে সাথেই ৫টা ২০ মিনিটে মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে এবং এশার নামাজের সময় হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিট। যারা আগামীকালের ফজরের নামাজের প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য জানিয়ে রাখা ভালো যে রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঢাকার সময়ের সাথে বিভিন্ন বিভাগের সময়ের কিছুটা তারতম্য রয়েছে। ঢাকার সময়ের সাথে চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের ৫ মিনিট এবং সিলেটের বাসিন্দাদের ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে, যারা দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে বসবাস করছেন, তাদের ক্ষেত্রে সময় যোগ করতে হবে। খুলনার জন্য ৩ মিনিট, রাজশাহীর জন্য ৭ মিনিট, রংপুরের জন্য ৮ মিনিট এবং বরিশালের জন্য ১ মিনিট যোগ করে নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

ইসলামিক স্কলারদের মতে, কিয়ামতের কঠিন দিনে মানুষের আমলনামার মধ্যে নামাজের হিসাবই সবার আগে নেওয়া হবে। তাই দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মাঝেও সময়মতো মসজিদে উপস্থিত হয়ে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের আবশ্যিক কর্তব্য। নামাজের এই সময়সূচি মূলত ওয়াক্ত শুরুর সময়কে নির্দেশ করে, তাই স্থানীয় মসজিদের জামাতের সময়ের সাথে সমন্বয় করে নামাজ আদায় করাই উত্তম।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত

এক ধাপে বড় কমতি স্বর্ণের দামে

এক ধাপে বড় কমতি স্বর্ণের দামে

দেশের স্বর্ণবাজারে টানা সমন্বয়ের ধারাবাহিকতায় আবারও দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের... বিস্তারিত