সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন হলে কী হবে জানালেন শিশির মনির

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি হওয়াকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করছেন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ শিশির মনির। শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া বিশ্লেষণে তিনি মন্তব্য করেন এ আদেশ জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার সরাসরি প্রয়োগের পথ উন্মুক্ত করেছে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বৃহস্পতিবার জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বিষয়টি অনুমোদিত হয়। জাতীয় সনদের বিভিন্ন দিক, বাস্তবায়ন কাঠামো ও রাজনৈতিক গুরুত্ব জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ব্যাখ্যা করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে ঘোষণা দেন যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। সময় হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধ। তিনি বলেন, চারটি বিষয়ে গণভোট হবে; তবে ব্যালটে থাকবে মাত্র একটি প্রশ্ন হ্যাঁ বা না।
গণভোটে জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ মত ‘হ্যাঁ’ হলে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্যদের দিয়েই গঠিত হবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ। এই পরিষদকে প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে হবে।
এই কাঠামোকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অভূতপূর্ব আখ্যা দিয়ে শিশির মনির বলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো জনগণই সরাসরি সাংবিধানিক সংস্কারের ম্যান্ডেট দিতে যাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এটি ১০৬ অনুচ্ছেদের বিকল্প নয়; বরং জনগণের সার্বভৌমাধিকার প্রয়োগের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ফলে রাষ্ট্রপতি–প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালু, অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির প্রয়োগ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদার, নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়নের মতো কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে।
জুলাই সনদ অনুযায়ী, উচ্চ কক্ষ হবে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট; দলগুলোর মোট ভোটের আনুপাতিক ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে আসন বণ্টন। এতে ক্ষুদ্র দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে এবং একক দলীয় আধিপত্য কমে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করার প্রস্তাবটিকে শিশির মনির বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতায় একক দল বা ব্যক্তি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে; নতুন প্রস্তাব সে ঝুঁকি কমাবে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণের প্রসঙ্গেও তিনি বলেন এগুলো কার্যকর হলে দেশের শাসন কাঠামো আরও সুশাসনমুখী হবে। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার প্রস্তাবও গণতন্ত্রের গভীরতর রূপায়নে সহায়ক হবে।
প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণায় একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে। বিএনপি ইতিমধ্যে জরুরি বৈঠক ডেকেছে; অন্যান্য দলগুলোর মধ্যেও পরামর্শ-সমন্বয় চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ আগামী নির্বাচনের ফলাফল ও পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন গণভোটের বিষয়গুলো মোটামুটি রাজনৈতিক ঐকমত্যের জায়গা থেকে এসেছে। তবে জনগণ ‘হ্যাঁ’ না ‘না’ বলবেন, সে সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে দেশের ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক স্থাপত্য কেমন হবে।
এদিকে, আইনবিদ শিশির মনির তাঁর পোস্টে মন্তব্য করেন এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় আইনজীবী সমাজ, বুদ্ধিজীবী ও নাগরিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে, যেন সংস্কারের স্বচ্ছতা ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ নিশ্চিত হয়।
ড. ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। হামের টিকা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বাইরে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
রোববার (১৬ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতি এই লিগ্যাল নোটিশটি প্রেরণ করেন।
নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম জানান, হামের টিকাদান কার্যক্রমকে রাষ্ট্রীয় আওতা থেকে বেসরকারি খাতে স্থানান্তরের মতো জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় ড. ইউনূসের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে এই আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তবে নোটিশে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা তাঁর প্রতিনিধির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
/আশিক
সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও কাড়তে পারবে না অধিকার: সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের নতুন খসড়া
বাবা-মা বা দাতা কোনো সম্পত্তি দান করার পরও যেন তাদের নিজ জীবদ্দশায় সেটি নির্বিঘ্নে ভোগ ও ব্যবহার করতে পারেন, সে বিধান রেখে ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংশোধনীটি অনুমোদন পায়। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
আইন ও বিচার বিভাগের উদ্যোগে প্রণীত এই আইনটির মাধ্যমে ১৮৮২ সালের মূল ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’-এ দাতার জীবদ্দশায় ভোগাধিকার (লাইফটাইম ইউসুফ্রাক্ট) সুরক্ষার নতুন ধারা সংযোজন করা হলো। ইতিপূর্বে বলবৎ আইনে এ নিয়ে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা না থাকায় বাবা-মা বা বয়োবৃদ্ধরা সন্তান বা নিকটাত্মীয়দের জমি বা ঘরবাড়ির মালিকানা হস্তান্তর করার পর অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের সম্পত্তিতে অধিকার হারিয়ে চরম আর্থিক ও সামাজিক অসহায়ত্বের মুখোমুখি হতেন। প্রস্তাবিত আইনি কাঠামোর ফলে এই জটিলতার একটি স্থায়ী আইনি ভিত্তি ও সুরক্ষা বলয় তৈরি হয়েছে।
বিদ্যমান হেবা বা অন্যান্য উপায়ে সম্পত্তি দানের ফলে দাতা তাৎক্ষণিকভাবে তার স্বত্ব হারাতেন। সরকারের নতুন প্রস্তাবিত ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ বা জীবনস্বত্বের নিয়ম অনুযায়ী, সন্তান বা গ্রহীতাকে সম্পত্তি উপহার হিসেবে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার পরও দাতা বেঁচে থাকা পর্যন্ত সেটির ভোগদখল ও ব্যবহারের পূর্ণ এখতিয়ার নিজ হাতে রেখে দিতে পারবেন। একই সঙ্গে বিধান রাখা হয়েছে যে, দাতার জীবদ্দশায় কোনো পক্ষই—সন্তান বা দাতা এককভাবে—উক্ত সম্পত্তি অন্য কারও কাছে বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবে না।
/আশিক
১৩ বছর পর আলোর মুখে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, ট্রাইব্যুনালে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্তে ৬১ জনের মৃত্যুর অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। নিহতদের মধ্যে ৫৮ জনের সুনির্দিষ্ট পরিচয় ইতিমধ্যেই শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম তার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে তদন্তের এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, প্রসিকিউশনের খসড়া তালিকায় এখন পর্যন্ত মোট ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিবদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের বিস্তারিত পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও বাকি ৩ জনের পরিচয় এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি, যা নিয়ে কাজ চলছে।
তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে হেফাজত নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, তারা রিপোর্টের খসড়া বিবরণী নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছেন। প্রসিকিউশনের মূল লক্ষ্য হলো অপরাধের সাথে জড়িত প্রকৃত কোনো আসামি যেন বাদ না পড়ে এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন রাজনৈতিক বা প্রশাসনিকভাবে বলির পাঁঠা না হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত আইনি সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই হত্যাযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র বা ফরমাল চার্জ দাখিল করা সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক তদন্ত প্রতিবেদনের সীমাবদ্ধতা ও তৎকালীন বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বলেন, ঘটনার শুরু থেকেই তারা দাবি করে আসছেন যে নিহতের প্রকৃত সংখ্যার একটি বড় অংশ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থা শাপলা চত্বরের শহীদদের লাশ গুম ও তথ্য গোপনের অপচেষ্টা চালিয়েছিল, যার ফলে অনেক ভুক্তভোগীর বিবরণ এই প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসেনি। তবে তথ্যগতভাবে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে যে ৬১ জনের তালিকা তাদের কাছে সংরক্ষিত ছিল, এই প্রতিবেদনে মূলত তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল। তাদের মধ্যে দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এবং মুফতি হারুন ইজহারসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, একই দিন অর্থাৎ রোববার সকালে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে চালানো ওই নৃশংস সামরিক ও পুলিশি অভিযানের ওপর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তৈরি করা মূল তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশন টিমের হাতে এসে পৌঁছায়। স্পর্শকাতর এই মামলায় দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত সংস্থা বর্তমানে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তৎকালীন বিতর্কিত সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ মোট ৪১ জনকে প্রধান আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
এ ছাড়া এই মামলার আসামির তালিকায় তৎকালীন সরকারের নীতিনির্ধারক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের পাশাপাশি বিতর্কিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদেরও যুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বেসরকারি একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, একই টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অন্যতম নেতা ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির। সেই সঙ্গে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের অভিযানে মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়া তৎকালীন পুলিশ প্রধান (আইজিপি), র্যাবের মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারকেও এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।
/আশিক
বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন সুপ্রিম কোর্টের ১৭ সরকারি আইনজীবী
জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা এবং বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে তীব্র মতপার্থক্যের জের ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ১৭ জন পদস্থ আইন কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে ১০ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ৭ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তারা সবাই মূলত জামায়াতপন্থি আইনজীবী হিসেবে পরিচিত।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো পৃথক পদত্যাগপত্রের মাধ্যমে তারা নিজেদের দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে সরে দাঁড়ানোর এই ঘোষণা দেন। পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভূঁইয়া, আসাদ উদ্দিন এবং মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এ ছাড়া সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারুফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির এবং রেজাউল ইসলাম।
রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা পদত্যাগপত্রে এই আইন কর্মকর্তারা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাদের সুনির্দিষ্ট আপত্তির কথা তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, সাধারণ জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই চার্টার পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না করা, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার জন্য একটি পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে সরকারের অনীহা এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, সরকারের এসব সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কারণে দেশের সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পদত্যাগপত্রে তারা আরও স্পষ্টভাবে জানান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার এই বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের পেশাগত বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে সরকারের পক্ষে আইনি দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা তাদের জন্য আর সম্ভব নয়। এই নৈতিক অবস্থান থেকেই তারা অবিলম্বে কার্যকর করার শর্ত সাপেক্ষে নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সরকারের আইনি কর্মকর্তাদের এই একযোগে পদত্যাগের ঘটনা দেশের উচ্চ আদালত ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
/আশিক
লাল-সবুজ খাতায় নাম রাখছি, কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারক ও আইনজীবীদের হুমকি ইনুর
আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েই রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও বিচারকদের হুমকি দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সোমবার (২২ জুন) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে শুনানির একপর্যায়ে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এ হুমকি দেন।
আজ জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর বংশাল এলাকায় মো. মোখলেছিনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের শুনানির জন্য আদালতে হাজির করা হয়। বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক মো. আশরাফ হোসেনের করা এই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হারুন অর রশিদ।
শুনানি শেষে আদালতের অনুমতি নিয়ে হাসানুল হক ইনু দীর্ঘ চার ঘণ্টা হাজতখানায় আটকে রাখার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জেলে আছি। কোন আদালতের কোন বিচারক, কোন আইন কর্মকর্তা কী করতেছে, তা কারাগারের একটা লাল খাতা ও একটা সবুজ খাতায় সংরক্ষণ করে রাখছি।’ বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘বর্তমানে বিচার ব্যবস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটা শাখা হিসেবে কাজ করছে।’
ইনুর এমন বক্তব্যের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ তাকে থামাতে বললে তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে ‘আপনি চুপ করেন’ বলে ধমক দেন এবং বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালে আদালত এ বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান। এরপর শুনানির প্রক্রিয়া শেষে ইনু ও মেননকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক এমপি আসামি হাসানুল হক ইনু রীতিমতো আজ আদালতসহ আমাদের সবাইকে হুমকি দিয়েছেন। বিচার ব্যবস্থা নাকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি শাখা। তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে আমরা আদালত অবমাননার অভিযোগ এনেছি।’
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল মোড়ের নাজিমউদ্দীন রোড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিল চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন মো. মোখলেছিন। পরে এ ঘটনায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি তিনি বাদী হয়ে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ইনু ও মেনন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
/আশিক
শিশু মৃত্যুর দায়ে ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
হামের টিকা যথাসময়ে আমদানি না করায় দেশে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি মামলার আবেদন করা হয়েছে।
আজ সোমবার (৮ জুন ২০২৬) ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জসিতা ইসলামের আদালতে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ইকবাল এই আবেদনটি করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ মামলার আবেদন জমা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আবেদনটি জমা হলেও এখনো তা নিয়ে আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।
মামলায় ড. ইউনূস ও নূর জাহান বেগম ছাড়াও অন্য যে তিনজনকে আসামি করার আবেদন করা হয়েছে তারা হলেন— স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্তারা তৎকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে চরম অবহেলা এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে যথাসময়ে হামের ভ্যাকসিন আমদানি না করে শাস্তিযোগ্য ও অমানবিক অপরাধ করেছেন, যা কার্যত হত্যাকাণ্ডের শামিল। এতে রাষ্ট্রের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ ও প্রতারণা করা হয়েছে বলেও আরজিতে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ইউনিসেফের (UNICEF) মাধ্যমে নিয়মিত হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের টিকা আমদানি করে আসছিল। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউনিসেফের মাধ্যমে এই টিকা আমদানি বন্ধ করে দিয়ে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেয়, যা দেশে তীব্র টিকা সংকট তৈরি করে। ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের গত ২০ মে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে মামলায় দাবি করা হয়, টিকার সম্ভাব্য সংকট ও আমদানির বিদ্যমান ব্যবস্থা চালু রাখার বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও সংশ্লিষ্টরা তা সম্পূর্ণ আমলে নেননি।
এরই খেসারত হিসেবে দেশে নির্ধারিত সময়ে বিপুল-সংখ্যক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয় এবং দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। মামলার তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫ হাজার ৭০৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে এবং সরকারি হিসাবেই অন্তত ৬১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালের বাইরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। আবেদনে বলা হয়, বর্তমান সরকার পরবর্তীতে জরুরি ভিত্তিতে টিকার ব্যবস্থা করলেও আগের সময়মতো টিকা না পাওয়ার কারণে যে অপূরণীয় ক্ষতি ও লাখো শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে, তার দায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার এড়াতে পারে না। এই ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের আর্জি জানিয়েছেন আবেদনকারী।
/আশিক
অবৈধ ঘোড়ার মাংস বাণিজ্যে হাইকোর্টের রুল
দেশে ঘোড়ার মাংস ভক্ষণ, বিপণন ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের বৈধতা এবং এ সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
রবিবার এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন। আলোচিত এ রিটটি দায়ের করেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও প্রাণী অধিকারকর্মী জয়া আহসান। আবেদনে অসুস্থ ও উদ্ধারকৃত ঘোড়ার মাংস প্রতারণামূলকভাবে মানুষের খাদ্য হিসেবে বাজারজাত করার অভিযোগ তুলে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
আদালত একই সঙ্গে ঘোড়ার মাংসের উৎপাদন, বিপণন, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা বা গাইডলাইন ৯০ দিনের মধ্যে প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ মে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রাণী কল্যাণের প্রশ্নে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হয়েছেন আবেদনকারীরা।
আবেদনে আরও বলা হয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে গাজীপুরে অসুস্থ, দুর্বল ও উদ্ধারকৃত ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়েছে।
রিটকারীরা আদালতের কাছে গাজীপুরে উন্মোচিত ঘোড়ার মাংস বাণিজ্য নিয়ে নিরপেক্ষ, পূর্ণাঙ্গ এবং সময়সীমাবদ্ধ তদন্তের নির্দেশনা চেয়েছেন। পাশাপাশি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের আবেদনও করা হয়েছে।
শুধু তদন্ত নয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও নির্দেশিকা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। রিটে বলা হয়েছে, উদ্ধারকৃত বা বাজেয়াপ্ত প্রাণী পুনর্বাসনের জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র, অভয়ারণ্য এবং প্রাণী কল্যাণভিত্তিক অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
আবেদনে আরও অনুরোধ করা হয়েছে, অসুস্থ বা উদ্ধারকৃত ঘোড়া নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করার প্রচলিত পদ্ধতি বন্ধ করতে হবে। কারণ এসব প্রাণী পরবর্তীতে অবৈধ মাংস ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
আইনজীবীরা বলছেন, এ মামলাটি কেবল ঘোড়ার মাংস ভক্ষণসংক্রান্ত বিতর্ক নয়; বরং এটি জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, ভোক্তা অধিকার এবং প্রাণী কল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে এ খাতের জন্য একটি স্পষ্ট নীতিগত কাঠামো তৈরি করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশে খাদ্য হিসেবে কী বিক্রি হচ্ছে, তার উৎস কতটা নিরাপদ এবং প্রাণী কল্যাণের ন্যূনতম মানদণ্ড মানা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে জনসচেতনতা ও সরকারি নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাব এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার দিকেই সবার নজর।
-রফিক
মিরপুরের পর এবার নজর হবিগঞ্জের মামলায়: কারামুক্তির আশায় সুপ্রিম কোর্টে ব্যারিস্টার সুমন
২০২৪ সালের চব্বিশের জুলাই গণ-আন্দোলনে সহিংসতার ঘটনায় নিজ জেলা হবিগঞ্জে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই জামিন আবেদনগুলোর ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে, গত ১১ মে রাজধানীর মিরপুর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ব্যারিস্টার সুমনের হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন। একই সাথে এই সংক্রান্ত রুল দ্রুত নিষ্পত্তি করারও নির্দেশ দেন আদালত। আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে এ আদেশ দিয়েছিলেন। আদালতে তখন সুমনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম লিটন আহমেদ।
উল্লেখ্য, বিগত ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকার একটি বাসা থেকে যুবলীগ নেতা ও সাবেক এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়ার ঠিক ১০ মিনিট আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে সুমন লিখেছিলেন, ‘আমি পুলিশের সঙ্গে যাচ্ছি। দেখা হবে আদালতে। দোয়া করবেন সবাই।’
পটপরিবর্তনের পর ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে রাজধানীর মিরপুর, আদাবরসহ বিভিন্ন থানা এবং তাঁর জন্মস্থান হবিগঞ্জের চুনারুঘাট ও মাধবপুরে একাধিক হত্যা ও সহিংসতার মামলা দায়ের করা হয়। মিরপুরের মামলায় ইতিপূর্বে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও হবিগঞ্জের মামলাগুলোর কারণে তাঁর কারামুক্তি মেলেনি। ফলে আজ হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে হবিগঞ্জের দুই মামলায় জামিন লাভের মরিয়া চেষ্টা চালাবেন তাঁর আইনজীবীরা।
/আশিক
শিশু রামিসা হত্যা মামলা বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি
রাজধানী মিরপুরের পল্লবীতে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী, সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও ধড় থেকে মাথা কেটে পৃথক করে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলাটি আনুষ্ঠানিক বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়েছে। আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক এই বদলির আদেশ প্রদান করেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান মূল ঘাতক সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে যৌথভাবে অভিযুক্ত করে আদালতে যে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছিলেন, সেটি আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান মামলার এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নৃশংস এই ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু রামিসা ঘর থেকে বের হলে ঘাতকের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তাদের ফ্ল্যাটের ভেতরে ডেকে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার স্কুলে যাওয়ার সময় হলে তাকে কোথাও না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন মা-বাবা। একপর্যায়ে ওই ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করা হলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি।
পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং ঘরের ভেতরের একটি বড় বালতিতে তার কাটা মাথাটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা স্বপ্না আক্তারকে জেরা করা হলে তিনি স্বীকার করেন, তার স্বামী সোহেল রানা নিজের হীন কামনা চরিতার্থ করতে শিশুটিকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণ ও গলা কেটে খুন করেছেন।
এরপর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়, যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক কেটে লাশটি খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘাতক সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার আইনি প্রক্রিয়ায় গত বুধবার (২০ মে) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে হাজির করা হলে মূল আসামি সোহেল রানা ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে রোমহর্ষক জবানবন্দি দেন। একই দিনে অপরাধের সহযোগী ও ঘটনা আড়াল করার অভিযোগে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে তোলা হলে শুনানি শেষে তাকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, অভিযোগপত্র গঠনের এই প্রাথমিক আইনি ধাপটি সম্পন্ন হওয়ায় এবং ট্রাইব্যুনালে মামলা স্থানান্তরের ফলে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির পরপরই বিশেষ আদালতে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হতে যাচ্ছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- সরকারি অনুদানের চেক গ্রহণ করলেন রেসডোর চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ
- অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী টেস্টের আগে ডোনাল্ডের মূল্যায়ন
- গ্যাস সরবরাহে আবারও বড় ধরনের বিপর্যয়
- ইসলাম গ্রহণের গুঞ্জনের মধ্যে কার্লোসের জন্য ড. ইয়াসির আদ-দোসারির দোয়া
- ইউটিউব কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য আসছে বড় পরিবর্তন
- অশ্রুসিক্ত বিদায়ী বক্তব্যে দল ও দেশের প্রতি অঙ্গীকার মির্জা ফখরুলের
- ট্রাম্প সীমা ছাড়লে রক্ষা পাবে না ইউরোপের লক্ষ্যবস্তুও: তেহরানের বার্তা
- ১৮০ দিনের কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের অ্যাপ্রুভাল রেটিং প্রকাশ
- চালকহীন পরিবহনে টেসলার নতুন পদক্ষেপ
- দুরেফিশানকে নিয়ে নেটপাড়ায় কটূক্তি, পাশে দাঁড়িয়ে বার্তা দিলেন হানিয়া
- ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: রিজভী
- ফেডের সুদের হার ও বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে বাড়ছে স্বর্ণের দাম
- ১ জুলাই থেকে কার্যকরের কথা থাকলেও পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে ধোঁয়াশা
- জাতীয় পর্যায়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের ব্যাপক উদ্যোগ
- দীর্ঘ তিন দশক পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের প্রস্তুতি
- ছয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
- আইন পেশার উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের বার্তা
- আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়া নিয়ে অধিদপ্তরের নতুন বার্তা
- বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক ও জ্বালানি সরবরাহ পর্যালোচনার আশ্বাস ভারতের
- প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
- স্মার্টফোন চার্জে দেওয়ার সময় যেসব সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলবেন
- আবারও ‘ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো’: পাইরেটস ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ফিরছেন জনি ডেপ?
- পাঁচ দশকের সব রেকর্ড ভাঙল হরমুজ সংকট, জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা
- দুপুরের আকাশে জ্বলজ্বল করবে তারা: বিরল সূর্যগ্রহণে রেকর্ড গড়বে লুক্সর
- বিআরটিসির ‘পিংক বাসে’ এবার স্টারলিংকের হাই-স্পিড স্যাটেলাইট ইন্টারনেট
- মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে কিম জং উনের প্রতি ট্রাম্পের বার্তা
- তারেক রহমানের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই, দেশেই সব উৎসর্গ: রিজভী
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতুর দামের সর্বশেষ পরিস্থিতি
- শিক্ষকদের পে স্কেল পর্যালোচনা নিয়ে মুখ খুললেন শিক্ষামন্ত্রী
- ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে এবার বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী
- ডলার সংকটের মুখে অবিশ্বাস্য সুখবর: রেমিট্যান্স বাড়ল ৩২ শতাংশেরও বেশি!
- নেতাদের জুয়ার মূল্য নগদে শোধ করছে মার্কিন পরিবারগুলো: ইরান
- সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা অসম্ভব: বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ
- বাণিজ্য বাধা দূর করতে ঢাকায় ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল
- ২০২৮-২৯ থেকে নতুন অর্থবছর: ৯ মাসের অন্তর্বর্তী বাজেট ২০২৭-২৮ অর্থবছরে
- মক্কা-মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসন নিয়ে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন নিয়ম
- সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্টের পারফরম্যান্স জানাবে গুগল সার্চ কনসোল
- অনুমতি ছাড়া মিছিলের চেষ্টা: হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৩ নেতা আটক
- সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে চরমোনাই পীরের ৬ দফা পরামর্শ
- বদলে যাচ্ছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম: আসছে একগুচ্ছ বড় পরিবর্তন
- অবিলম্বে সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ করুক ইরান: ট্রাম্প
- বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ হচ্ছে ভিসা নীতি: শিক্ষামন্ত্রী
- দেশের ১৫ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির নতুন পূর্বাভাস
- বরফ গলে নতুন রুট: সুয়েজ ও হরমুজকে কি টেক্কা দিতে পারবে চীন-রাশিয়া?
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানালেন মোহাম্মদ বিন সালমান
- নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ
- জননিরাপত্তা নিশ্চিতে রায়পুরা থানায় দুটি পুলিশ ভ্যান দিলেন এমপি বকুল
- ট্রাম্পের মেয়াদে আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি: মার্কিন জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য
- এখানকার সরকারই আমি, কুষ্টিয়ায় লাঠি মিছিলে আমির হামজার হুঁশিয়ারি
- শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরলেও পাবেন না বিলম্ব মার্জনা: ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশন
- ছয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
- নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নতুন গতি
- দেশজুড়ে বিশেষ নজরদারি! ১৫ আগস্ট ঘিরে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করছে র্যাব
- দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ও আবহাওয়া দপ্তরের নতুন নির্দেশনা
- ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ টেনে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিল ইরান
- তুরস্ক সফরে ট্রাম্পের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ছিল ইরানের হাতে, উড়োজাহাজে হামলার চক্রান্ত
- গ্যাস সংকটের কারণে কুবির হল-ক্যাফেটেরিয়ায় রান্না বন্ধ, বিপাকে শিক্ষার্থীরা
- লোডশেডিং মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই: জ্বালানি মন্ত্রী
- দীর্ঘ ২৩ বছরের উপস্থিতির ইতি, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক ছাড়ছে সব মার্কিন সেনা
- ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বার্তা
- কালিগঞ্জে দুই সন্তানের জননী নিখোঁজ, স্বজনদের উদ্বেগ
- সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ সামরিক জোট: তৈরি হচ্ছে অভিন্ন প্রতিরক্ষা কাঠামো
- দিনে-রাতে দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, থমকে গেছে জনজীবন
- কুষ্টিয়ায় জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষ: এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা
- অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ, মুশফিকের নতুন রেকর্ড








