বিরোধী আসনে জামায়াতকে ঠেলতে আ.লীগের নতুন পরিকল্পনা!

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ০৯ ১১:৪৩:২৭
বিরোধী আসনে জামায়াতকে ঠেলতে আ.লীগের নতুন পরিকল্পনা!
ছবি: সংগৃহীত

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা জল্পনা। নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, দলটি এবার বিরোধী দলের আসনে বসতে আগ্রহী নয়, বরং সরকার গঠনের অংশীদার হওয়ার লক্ষ্যেই বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। যদিও বিএনপি এককভাবে নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে রয়েছে, তবুও ক্ষমতার অংশীদারিত্বে জামায়াতের আগ্রহ বাড়ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের পতনের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতের অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত। দলটি সরাসরি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ না হলেও, স্বতন্ত্রভাবে অন্তত ৬০টি আসনে প্রার্থী দেয়ার পরিকল্পনা করেছে। এই আসনগুলোর বেশিরভাগই এমন এলাকায়, যেখানে আওয়ামী লীগের তথাকথিত ‘রিজার্ভ ভোটব্যাংক’ বা সংখ্যালঘু ভোটের অনুপাত তুলনামূলক বেশি। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটি বিশেষ টিম দেশ ও বিদেশ থেকে এই প্রার্থী বাছাই এবং প্রচারণা কৌশল নিয়ে কাজ করছে।

ওই নির্বাচনী টিমের সদস্যদের দাবি, আওয়ামী লীগের প্রভাবাধীন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অন্তত ১০ থেকে ১৫টি আসনে নিশ্চিত জয় পেতে পারে। আরও ৪০টি আসনে তারা অল্প ব্যবধানে বিজয়ের আশা করছে। সব মিলিয়ে দলটির সম্ভাব্য সাফল্যের পরিমাণ ৩৫ থেকে ৬০ আসনের মধ্যে হতে পারে। ফলে আওয়ামী লীগ বিরোধী শিবিরে থেকেও সংসদে প্রভাব বজায় রাখতে পারে— এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বলছে, সীমিত আসনে জয় পেলে তাদের সাংগঠনিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই তারা বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায় গিয়ে সংসদে বৃহত্তর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায়। দলটির ভেতরে এখন মন্ত্রিসভায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী জাতীয় সরকারের সম্ভাব্য মন্ত্রিপরিষদেও জামায়াত স্থান পেতে চায়, যেন দলীয় জনবল ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হয়।

জামায়াতের এক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বিরোধী দলে বসলে সরকারের সমালোচনা করা তাদের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়াবে। সেই পরিস্থিতিতে যদি আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিরোধী দলে বসে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তাহলে সংসদে এক জটিল সমীকরণ তৈরি হবে। এতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী রাজনীতি ও জামায়াতের অবস্থান উভয়ই বিভ্রান্তিকর হয়ে উঠতে পারে। এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিকে ‘ট্র্যাজিক পলিটিক্স’ হিসেবে দেখছে জামায়াত, এবং তারা কোনোভাবেই এমন অবস্থায় যেতে চায় না।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়েই বিএনপি সরকারের পতনের আন্দোলনে অংশ নেয় জামায়াত। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার ধারণাটি প্রথম জামায়াতই সামনে এনেছিল। এখন যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে, ভবিষ্যতে তাদের আবার আওয়ামী লীগের বিপরীতে বিএনপির পাশে দাঁড়াতে হয়, তাহলে সেটি দলীয় রাজনীতির জন্য এক গভীর আত্মঘাতী পদক্ষেপ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই প্রেক্ষাপটে জামায়াত নেতারা বেশ কৌশলী প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, জাতীয় পার্টি ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী ছিল এবং গণতন্ত্র ধ্বংসে সমান অংশীদার। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ছদ্মবেশে যত স্বতন্ত্র প্রার্থীই দিক না কেন, জনগণ তাদের চিনে ফেলবে এবং প্রতিহত করবে।

অন্যদিকে, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জামায়াত বিরোধী দলে যাবে না, বরং সরকার গঠনেই অংশ নেবে, ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জনগণের কাছে মুখ দেখাতে পারবে না, কারণ জনগণ আজ অত্যন্ত সচেতন।

সূত্র:যুগান্তর


শপথের আগে নয়া মেরুকরণ: শফিকুর রহমানের ডেরায় বিএনপি প্রধান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১৯:৫২:৫৭
শপথের আগে নয়া মেরুকরণ: শফিকুর রহমানের ডেরায় বিএনপি প্রধান
জামায়াত আমিরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান/ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণের আভাস দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসায় পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি জামায়াত আমিরের রাজধানীর বসুন্ধরাস্থ বাসভবনে পৌঁছান। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ঠিক দুদিন আগে এই দুই শীর্ষ নেতার এই সাক্ষাৎকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এর আগে গতকাল শনিবার বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল যে, তারেক রহমান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ সন্ধ্যায় তিনি ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে যান। এই আগমনকে কেন্দ্র করে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত ও বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হয়েছেন।

তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ, মন্ত্রিসভার গঠন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপন্থা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। নাহিদ ইসলামের পর জামায়াত আমিরের সঙ্গে এই বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে।

/আশিক


কৃষক-শ্রমিকদের অসম্মান মানেই আমার বাবাকে অপমান: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১৮:৫২:১৬
কৃষক-শ্রমিকদের অসম্মান মানেই আমার বাবাকে অপমান: জামায়াত আমির
স্মরণসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

নিজে কোনো ধনী পরিবারে নয়, বরং এক কৃষক পরিবারে জন্ম নিয়েছেন উল্লেখ করে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জের ইটনা ও নিকলী উপজেলায় নির্বাচনী জনসভায় যাওয়ার পথে নিহত দুই কর্মীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও স্মরণসভায় অংশ নিয়ে তিনি এই আবেগঘন বক্তব্য দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কৃষক ও শ্রমিকদের সম্মান না করা মানেই তাঁর নিজের বাবাকে অপমান করা।

সকাল ১০টায় ইটনার শিমুলবাগ দক্ষিণহাটি এলাকায় আয়োজিত স্মরণসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষকে সম্মান করা তাঁর একটি ইমানি দায়িত্ব। অনেক মানুষ গরিবের সঙ্গে হাত মেলানোর পর আড়ালে হাত মুছে ফেলেন—এমন আচরণের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষের ঘামের গন্ধ তাঁর কাছে আতরের মতো পবিত্র। তিনি বিশেষ করে শিশু এবং দিনমজুর শ্রেণির মানুষের সান্নিধ্যে থাকার আনন্দ তুলে ধরেন এবং শাহ আলমের পরিবারের পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন।

ইটনার কর্মসূচি শেষে তিনি নিকলী উপজেলার ছাতিরচরে যান সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আব্দুস ছালামের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে। উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারি কটিয়াদী এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ইটনায় আয়োজিত দুটি পৃথক নির্বাচনী সমাবেশের সময় ওই দুই কর্মী ও সমর্থক মৃত্যুবরণ করেন। জামায়াত আমির সকাল থেকেই সড়কপথে কিশোরগঞ্জ পৌঁছে নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ দেখভালের বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


মঞ্জুর দুর্গে জামায়াতের হানা: যে ভুলে কপাল পুড়ল বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১৮:৪০:৫৮
মঞ্জুর দুর্গে জামায়াতের হানা: যে ভুলে কপাল পুড়ল বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীর
ছবি : সংগৃহীত

খুলনার রাজনীতির দীর্ঘদিনের এক অভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে এবার বড় ধরনের ওলটপালট ঘটে গেছে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে যেখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আধিপত্য বিস্তার করে জয় পেয়ে আসছিল, সেখানে এবার প্রথমবারের মতো বিজয় পতাকা উড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী এবং সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন জামায়াতের খুলনা মহানগর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং খোদ বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, এই পরাজয়ের পেছনে মূলত কাজ করেছে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং দলের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে জয়ী এই আসনে মঞ্জুর ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও এবার তাঁর বলয়ের অতিরিক্ত আত্মতৃপ্তি প্রচারণায় ভাটা ফেলেছিল। টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের মতে, জামায়াতের প্রার্থী যখন ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন, মঞ্জু তখন প্রচারণায় ছিলেন অনেকটা নিস্পৃহ। এছাড়া ২০২১ সালে মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর থেকে মঞ্জু অনুসারীদের কোন্দল ভোটের মাঠে বড় প্রভাব ফেলেছে।

অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল ছিলেন অত্যন্ত পরিকল্পিত ও কৌশলী। দলটির কর্মীরা অলিগলি এবং নারী ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল, যা বিএনপির প্রধান সড়ক ও বাজারকেন্দ্রিক প্রচারণার তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক সেকেন্দার আলী খান সাচ্চু নিজেও কোন্দলের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। খুলনার এই ফল যেমন বিএনপিকে নতুন করে ভাবাচ্ছে, তেমনি জামায়াতের জন্য এটি এক বিশাল আত্মবিশ্বাসের জয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে। মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলমের ভাষায়, এই হারের ‘হিসাব মিলছে না’ এবং তাঁরা বিষয়টি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণে নেমেছেন।

/আশিক


শপথের আগেই বড় বাধা: মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ইসিতে নাসীরুদ্দীন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১৭:৫৫:৩৮
শপথের আগেই বড় বাধা: মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ইসিতে নাসীরুদ্দীন
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা-৮ আসনে ভোট কারচুপি, অনিয়ম ও বেআইনি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে এই আসনের শপথ গ্রহণ স্থগিতের আবেদন জানিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে তিনি এই লিখিত আবেদন জমা দেন। শাপলা কলি প্রতীকের এই প্রার্থী দাবি করেছেন, নির্বাচনের দিন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ এবং তাঁর সমর্থকরা বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়মের মাধ্যমে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়েছেন।

আবেদনপত্রে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১২টি নির্দিষ্ট কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে ভোট রিগিং এবং প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, মির্জা আব্বাসের পরিবার ও কর্মীরা এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ফলাফল আটকে রাখা এবং বাতিলকৃত ভোটকে ধানের শীষের পক্ষে গণনায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। এমনকি সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তাও এসব অনিয়মে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে তিনি গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অত্যন্ত আলোচিত এই আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ৫৭ হাজার ৯২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পান ৫১ হাজার ৩৯৬ ভোট। অর্থাৎ মাত্র ৫ হাজার ৬৯৬ ভোটের ব্যবধানে এই জয় নির্ধারিত হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দাবি, সঠিক তদন্ত হলে এবং অনিয়মগুলো ধরা পড়লে তিনিই বিজয়ী হতেন। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে এবং গেজেট প্রকাশের আগেই বিষয়টি সুরাহা করতে তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

/আশিক


সরকার গঠনের আগেই ঐক্যের বড় বার্তা: আজ শরিকদের মুখোমুখি তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১১:০৬:৩৪
সরকার গঠনের আগেই ঐক্যের বড় বার্তা: আজ শরিকদের মুখোমুখি তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বাংলাদেশে এক নতুন ইতিবাচক ধারার রাজনীতি শুরু করতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই বিশেষ লক্ষ্য নিয়ে আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাবেন। বিএনপির মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার নিশ্চিত করেছেন যে, আজ থেকেই দেশের রাজনীতিতে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমিরের বাসভবনে যাবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে তিনি রাত ৮টায় বাড্ডায় এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে পৌঁছাবেন। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দুই দশক পর সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির এই শীর্ষ নেতার সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। শরিক ও সহযোগী দলগুলোর সাথে এই ভ্রাতৃত্বপূর্ণ অবস্থান আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের ঘোষিত ফলাফলের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। ফল স্থগিত থাকা বাকি দুটি আসনেও বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি এবং তাদের জোটের অন্য শরিকরা ৯টি আসন পেয়েছে। সব মিলিয়ে ২১২টি আসন নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জোট এখন সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে। আজকের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক মূলত নতুন মন্ত্রিসভা গঠন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার এক বলিষ্ঠ অঙ্গীকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

/আশিক


ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১১:০০:০৬
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র এবং সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করতে যাচ্ছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, এনসিপি একটি ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই উদ্যোগটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আসিফ মাহমুদ তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, এই ছায়া মন্ত্রিসভা মূলত নতুন সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডে একটি ‘ওয়াচডগ’ বা নজরদারি সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজের মূল্যায়ন, ভুল-ভ্রান্তি তুলে ধরা এবং জনগণের কাছে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। সবশেষ নির্বাচনে এনসিপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই তরুণ নেতা মনে করেন, একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য কার্যকর বিরোধী শক্তির পাশাপাশি গঠনমূলক নজরদারি অত্যন্ত প্রয়োজন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপির এই পদক্ষেপটি মূলত নির্বাচিত সরকারকে চাপে রেখে সঠিক পথে পরিচালনার একটি আধুনিক কৌশল। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে জবাবদিহিতার যে সংস্কৃতি তৈরির দাবি উঠেছে, ছায়া মন্ত্রিসভা সেই দাবিরই প্রতিফলন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার যখন ক্ষমতা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই এনসিপির এই ঘোষণা রাজনৈতিক ময়দানে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

/আশিক


কোনো দুর্বলতা দেখানোর সুযোগ নেই: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ০৯:০২:২০
কোনো দুর্বলতা দেখানোর সুযোগ নেই: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাধারণ জনগণের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো ধরনের অপশক্তির কাছে মাথা নত করা হবে না এবং যেখানেই অন্যায় হবে সেখানেই তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

জামায়াত আমির তাঁর বার্তায় অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ দলের উশৃঙ্খল কর্মীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভাই-বোনদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালাচ্ছে। বিশেষ করে ১১ দলীয় জোটের প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের শ্লীলতাহানির মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এমন পরিস্থিতিতে ন্যায় ও সত্যের ওপর অটল থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “মজলুমের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করা মানবতার দাবি, মহান আল্লাহকে ভালোবাসার দাবি এবং দেশকে ভালোবাসার দাবি।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচনোত্তর এই সহিংসতা প্রতিরোধে কোনো ধরনের দুর্বলতা প্রদর্শনের সুযোগ নেই। যেখানেই আঘাত আসবে, সেখানেই জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এবং দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জামায়াতের প্রতিটি কর্মীকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি। আমিরের এই সাহসী বার্তা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা মূলত কর্মীদের মাঠ পর্যায়ে শান্ত থাকার পাশাপাশি আত্মরক্ষারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

/আশিক


মঙ্গলবারই কি শপথ নিচ্ছে নতুন সরকার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ০৮:১১:১৪
মঙ্গলবারই কি শপথ নিচ্ছে নতুন সরকার
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার একদিনের মধ্যেই বিজয়ীদের নাম উল্লেখ করে গেজেট প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার পর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে নবগঠিত সরকারের শপথ গ্রহণ এবং সংসদের কার্যক্রম শুরু করার সময়সূচি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর ইঙ্গিত অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং সাংবিধানিক ধাপগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সংবিধান অনুসারে, প্রথমে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মনোনীত মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। তবে এবারের প্রেক্ষাপটে শপথ কে পাঠ করাবেন এবং কোন ক্রমে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে তা নিয়ে কিছু আইনি ব্যাখ্যার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

-রফিক


রক্তাক্ত রাজপথ থেকে এখন সংসদ ভবনে ভিপি নুর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ২১:৪৪:০৯
রক্তাক্ত রাজপথ থেকে এখন সংসদ ভবনে ভিপি নুর
ছবি : সংগৃহীত

২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে উঠে আসা তরুণ ছাত্রনেতা নুরুল হক নুর এখন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের একজন নির্বাচিত সদস্য। পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে বিএনপি জোটের সমর্থনে 'ট্রাক' প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন এই সাবেক ডাকসু ভিপি। পটুয়াখালীর গলাচিপার এক সাধারণ কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা নুরের এই রাজনৈতিক যাত্রা ছিল হামলা, মামলা আর নিরন্তর নির্যাতনের এক রক্তঝরা ইতিহাস। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শাসনামলে ছাত্রলীগের নৃশংস হামলার শিকার হয়ে বারবার রক্তাক্ত হয়েছেন তিনি, কিন্তু পিছু হটেননি।

২০১৯ সালে ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়েই জাতীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপে চলে আসেন নুর। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। 'আর একটু ধাক্কা দিলেই পতন হবে হাসিনার'—তাঁর এই সাহসী উক্তি শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয়। ২০২১ সালে গঠিত 'গণ অধিকার পরিষদ' ২০২৪ সালে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পাওয়ার পর থেকেই নুর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করেন। গ্রাসরুট লিডারশিপ বা তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতার জনপ্রিয়তা বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মের কাছে আকাশচুম্বী।

আট বছরের এই সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নুর প্রমাণ করেছেন যে, সততা আর রাজপথের লড়াই থাকলে প্রতিকূল পরিবেশেও জয়ী হওয়া সম্ভব। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে পটুয়াখালীর সাধারণ মানুষ তাঁকে বিপুল ভোটে জয়ী করে সংসদের আসনে পাঠিয়েছেন। রাজপথের সেই রক্তাক্ত নুরের মুখ এখন সংসদে জনগণের কথা বলবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর সমর্থকদের। নুরের এই উত্থান কেবল একজন ব্যক্তির নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের এক নতুন দিগন্তের সূচনা।

পাঠকের মতামত: