সাত মিলিয়ন ডাউনলোড: হোয়াটসঅ্যাপের প্রতিদ্বন্দ্বী ‘আরাত্তাই’

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ১১ ১৪:৪৩:৪৯
সাত মিলিয়ন ডাউনলোড: হোয়াটসঅ্যাপের প্রতিদ্বন্দ্বী ‘আরাত্তাই’
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতে হোয়াটসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় বার্তা আদান-প্রদানের নতুন দেশীয় অ্যাপ ‘আরাত্তাই’ চালু হয়েছে। জোহো করপোরেশনের তৈরি এই অ্যাপটি সম্প্রতি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মাত্র এক সপ্তাহে এটি সাত মিলিয়নবার (৭০ লাখ বার) ডাউনলোড হয়েছে, যা একটি অতি উচ্চ সংখ্যা।

জনপ্রিয়তার কারণ

‘আরাত্তাই’ শব্দের অর্থ তামিল ভাষায় ‘আলাপ-আলোচনা’। ২০২১ সালে সীমিত পরিসরে চালু হলেও তখন সাড়া কম ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রচারণা এবং দেশীয় পণ্য ব্যবহারের আহ্বানে অ্যাপটির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মন্ত্রীরা দেশীয় অ্যাপ ব্যবহার প্রচারে উৎসাহ দিয়েছেন।

জোহোর সিইও মণি ভেম্বু জানিয়েছেন, “মাত্র তিন দিনে দৈনিক সাইনআপ বেড়ে ৩ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার হয়েছে। এটি প্রমাণ করে ভারতীয় ব্যবহারকারীরা দেশীয় পণ্যে আগ্রহী।”

সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ

অ্যাপটিতে হোয়াটসঅ্যাপের মতো বার্তা পাঠানো, ভয়েস ও ভিডিও কল, ব্যবসায়িক টুলসের সুবিধা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, এটি কম দামের ফোন ও দুর্বল ইন্টারনেটেও ভালোভাবে কাজ করে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হোয়াটসঅ্যাপের ৫০ কোটি সক্রিয় ব্যবহারকারী থাকা অবস্থায় আরাত্তাইকে সেটি টপকে যাওয়া সহজ হবে না। নতুন অ্যাপটির গোপনীয়তা ও এনক্রিপশন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে ভিডিও ও ভয়েস কলে এনক্রিপশন থাকলেও, বার্তায় এটি এখনো নেই। জোহো জানিয়েছে, শিগগিরই সব বার্তাতেই এনক্রিপশন চালু করা হবে।

প্রযুক্তি আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকের মতো অভ্যাসগড়া অ্যাপগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আরাত্তাইয়ের টিকে থাকা এখনো চ্যালেঞ্জিং।


যুক্তরাষ্ট্রে ওপেনএআই সিইওর বাসায় হামলা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ২০:৫৯:৩৯
যুক্তরাষ্ট্রে ওপেনএআই সিইওর বাসায় হামলা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যানের বাসভবনে মলোটভ ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ঘটা এই হামলায় অল্টম্যানের বাড়ির গেটে আগুন ধরে যায়। এর মাত্র এক ঘণ্টা পর হামলাকারী যুবক ওপেনএআই-এর সদর দপ্তরে গিয়েও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

২০ বছর বয়সী ওই যুবক কেন এই হামলা চালিয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় কেউ আহত না হলেও অল্টম্যান ও তাঁর কোম্পানির নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্যাম অল্টম্যান এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছেন, তাঁর কোম্পানিকে নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ এবং সমালোচনামূলক নিবন্ধের কয়েক দিনের মাথায় এই হামলা চালানো হলো। ধারণা করা হচ্ছে, ‘দ্য নিউ ইয়র্কার’-এর একটি প্রতিবেদন যেখানে ওপেনএআই-এর পেন্টাগন চুক্তি এবং নিরাপত্তা ঘাটতির সমালোচনা করা হয়েছিল, সেটিই হামলাকারীকে উসকে দিয়ে থাকতে পারে।

অল্টম্যান স্বীকার করেছেন যে তিনি আগে এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব দেননি, কিন্তু এখন নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে ভাবছেন। তিনি এআই নিয়ে মানুষের যৌক্তিক আশঙ্কার কথা স্বীকার করে সবার জন্য উন্মুক্ত ও নিরাপদ প্রযুক্তির আহ্বান জানান।

বর্তমানে ওপেনএআই একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পেন্টাগনের সঙ্গে ৫০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির কারণে কোম্পানিটি তীব্র জনরোষের মুখে পড়েছে, যেখানে অভিযোগ উঠেছে যে তাদের প্রযুক্তি গোপন সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হতে পারে।

এছাড়া ইলন মাস্কও অল্টম্যানের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছেন, যেখানে তিনি অল্টম্যানকে পদ থেকে সরানোর দাবি তুলেছেন।

এর আগে পেন্টাগন চুক্তির প্রতিবাদে ওপেনএআই অফিসের সামনে কর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন এবং ‘স্টপ এআই’ নামক সংগঠন অফিসের গেট অবরোধ করেছিল। সব মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ এবং নিরাপত্তা নিয়ে কোম্পানিটি এখন ত্রিমুখী চাপের মুখে।

সূত্র: আরটি


সাবধান! ফোনের এই অ্যাপগুলো এখনই মুছে ফেলুন, না হলে সব শেষ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১২:৫৬:০৫
সাবধান! ফোনের এই অ্যাপগুলো এখনই মুছে ফেলুন, না হলে সব শেষ
ছবি : সংগৃহীত

স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও অসাবধানতাবশত ভুল অ্যাপ ইনস্টল করা ডেকে আনতে পারে চরম বিপদ। গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে থাকা সব অ্যাপই যে নিরাপদ, এমন ধারণা ভুল। সম্প্রতি সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু জনপ্রিয় অ্যাপের মধ্যে ক্ষতিকর ম্যালওয়্যারের উপস্থিতি পেয়েছেন, যা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি থেকে শুরু করে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণও নিতে পারে। হ্যাকাররা অনেক সময় আসল অ্যাপের আদলে নকল বা ক্লোন অ্যাপ তৈরি করে ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের পক্ষে চেনা কঠিন।

বিপজ্জনক অ্যাপগুলোর তালিকায় শুরুতেই রয়েছে বেশ কিছু ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং টিকটক ক্লোন অ্যাপ। যেমন, একটি নির্দিষ্ট ক্রিপ্টো অ্যাপ ইতিমধ্যে ১০ হাজারেরও বেশিবার ডাউনলোড হয়েছে, যা আসলে ব্যবহারকারীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার জন্য তৈরি। এছাড়া টিকটকের নকল সংস্করণগুলো আপনার অনলাইন লেনদেন ও ব্যাংকিং তথ্য হ্যাক করার ক্ষমতা রাখে।

তালিকায় আরও আছে হোয়াটসঅ্যাপ স্টিকার মেকার, আর্ট ফিল্টার এবং জিপিএস লোকেশন ফাইন্ডার। এই অ্যাপগুলো আপনার ফোনের গ্যালারি, লোকেশন এবং কন্টাক্ট লিস্টের ওপর নজরদারি চালিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য পাচার করে দেয়। এমনকি 'আর্ট গার্লস ওয়ালপেপার এইচডি' এবং 'স্মার্ট কিউআর ক্রিয়েটর'-এর মতো সাধারণ মনে হওয়া অ্যাপগুলোও এখন ম্যালওয়্যার ছড়ানোর অন্যতম মাধ্যম।

বিপদ এড়াতে নতুন কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার আগে অবশ্যই সেটির ডেভেলপারের নাম, ইউজার রিভিউ এবং ডাউনলোডের সংখ্যা দেখে নেওয়া উচিত। কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার সময় যদি সেটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে ফোনের অডিও, ভিডিও, ক্যামেরা বা লোকেশনের পারমিশন চায়, তবে সতর্ক হতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এই তালিকার কোনো অ্যাপ যদি আপনার ফোনে থাকে, তবে দেরি না করে সেগুলো এখনই আনইনস্টল করুন এবং ফোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি ভালো মানের অ্যান্টি-ভাইরাস ব্যবহার করুন।

/আশিক


চাঁদের ওপারে নতুন বিশ্ব রেকর্ড: ৪ লাখ কিলোমিটার ছাড়িয়ে ফিরছে আর্টেমিস-২

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ২১:২৫:২২
চাঁদের ওপারে নতুন বিশ্ব রেকর্ড: ৪ লাখ কিলোমিটার ছাড়িয়ে ফিরছে আর্টেমিস-২
ছবি : সংগৃহীত

নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী চাঁদ প্রদক্ষিণ শেষ করে সফলভাবে পৃথিবীর পথে ফিরতে শুরু করেছেন। এই অভিযানের মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হলো। নাসা জানিয়েছে, এই চার নভোচারী পৃথিবীর বাইরে মহাকাশের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে পৌঁছানোর নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন, যা এর আগে কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

বিস্ময়কর এই রেকর্ড গড়ার মুহূর্তটিতে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চাঁদের সবচেয়ে দূরবর্তী অংশে অবস্থানের সময় পৃথিবীর সঙ্গে নভোচারীদের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৪০ মিনিট কোনো সংকেত না পাওয়ার পর পুনরায় সংযোগ স্থাপিত হলে স্বস্তি ফিরে আসে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে। যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের পর অভিযাত্রী ক্রিস্টিনা কচ উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, "পৃথিবীর সঙ্গে আবার যোগাযোগ করতে পেরে দারুণ লাগছে।"

এই যাত্রাপথে নভোচারীরা আরও এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হন। মহাকাশযানটি যখন চাঁদের পৃষ্ঠের কয়েক হাজার মাইলের মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করছিল, তখন তাঁরা সরাসরি একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পান। উল্লেখ্য, গ্রিনিচ মান সময় সোমবার বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে আর্টেমিস-২ মহাকাশযানটি চাঁদের পেছন দিকের সবচেয়ে দূরবর্তী বিন্দুতে পৌঁছায়, যা মানব ইতিহাসের নতুন রেকর্ড হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

এর আগে ১৯৭০ সালের এপ্রিলে নাসার অ্যাপোলো-১৩ মিশনের নভোচারীরা পৃথিবী থেকে ৪ লাখ ১৭১ কিলোমিটার (প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল) দূরে গিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। দীর্ঘ ৫৬ বছর পর আর্টেমিস-২ মিশনের মাধ্যমে সেই রেকর্ড ভেঙে মহাকাশ বিজ্ঞানে এক নতুন যুগের সূচনা করলেন বর্তমানের এই চার সাহসী অভিযাত্রী।

সূত্র: বিবিসি


চাঁদের ‘অন্ধকার অংশ’ দেখতে যাচ্ছে মানুষ: ৫০ বছর পর প্রথম রোমাঞ্চকর যাত্রা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ২১:৩৫:১২
চাঁদের ‘অন্ধকার অংশ’ দেখতে যাচ্ছে মানুষ: ৫০ বছর পর প্রথম রোমাঞ্চকর যাত্রা
ছবি : সংগৃহীত

চাঁদে মানুষের পদার্পণের অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও কেন এখনো সেখানে ফিরে যাওয়া সম্ভব হয়নি, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল দীর্ঘদিনের। ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনের মাধ্যমে নীল আর্মস্ট্রংয়ের সেই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের পর থেকে প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি ঘটলেও, ২০২৬ সালে এসেও আমরা কেবল 'আর্টেমিস' মিশনের প্রস্তুতির স্তরে রয়েছি।

পদার্থবিজ্ঞানী মিচিও কাকুর মতে, বর্তমান স্মার্টফোনের কম্পিউটিং ক্ষমতা অ্যাপোলো মিশনের পুরো নাসা দলের চেয়েও বেশি। তবুও ২০২৮ সালের আগে চাঁদের পৃষ্ঠে মানুষের পা রাখার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই বিলম্বের নেপথ্যে কেবল প্রযুক্তি নয়, বরং রাজনীতি, অর্থায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার এক জটিল সমীকরণ কাজ করছে।

স্মরণীয় সেই চন্দ্রবিজয় মূলত ছিল স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াই। তৎকালীন মার্কিন সরকার নাসার জন্য ফেডারেল বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ বরাদ্দ দিয়েছিল, যা ২০২৬ সালে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ০.৩৫ শতাংশে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল রিচের মতে, বৈজ্ঞানিক কারণের চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই তখন প্রাধান্য পেয়েছিল।

১৯৭২ সালের পর যখন খরচের বোঝা আকাশছোঁয়া হয়ে যায়, তখন নাসার মনোযোগ চাঁদের চেয়ে সাশ্রয়ী 'পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ' বা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের দিকে সরে আসে। দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীল রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং তহবিলের অভাবে পরবর্তী দশকগুলোতে চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন স্তিমিত হয়ে পড়ে।

নাসার বর্তমান 'আর্টেমিস' কর্মসূচি সেই পুরনো স্বপ্নকে নতুনভাবে এবং আরও টেকসই পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। ৯৩ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল প্রকল্পে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি অংশীদারিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইলন মাস্কের স্পেসএক্স এবং জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ল্যান্ডার তৈরির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।

তবে এবারের লক্ষ্য কেবল চাঁদে নামা নয়, বরং সেখানে একটি স্থায়ী ঘাঁটি এবং কক্ষপথে চন্দ্র মহাকাশ স্টেশন তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানববাহী অভিযানের সোপান হিসেবে কাজ করবে। ২০২৮ সালের লক্ষ্যমাত্রাটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী, কারণ ল্যান্ডার ও উন্নত স্পেসস্যুট প্রস্তুতে এখনো কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ও বিলম্ব রয়ে গেছে।

চাঁদে নতুন করে এই আগ্রহের পেছনে আবার শুরু হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। এবার প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে রয়েছে চীন, যারা ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছে। এই অঞ্চলে দুর্লভ খনিজ সম্পদ এবং জলের অস্তিত্ব থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়েই সেখানে আধিপত্য বজায় রাখতে চায়।

যদিও জাতিসংঘের মহাকাশ চুক্তি অনুযায়ী চাঁদের মালিকানা কোনো দেশের নয়, তবে সেখানে অবস্থান ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। ব্রিটিশ নভোচারী হেলেন শারম্যানের মতে, মালিকানা না থাকলেও সেখানে দীর্ঘকাল অবস্থান করার অধিকার দেশগুলোর রয়েছে।

আর্টেমিস-২ মিশনটি চাঁদে অবতরণ না করলেও এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে যাচ্ছে। ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর রিড ওয়াইজম্যান ও ক্রিস্টিনা কচের মতো চার নভোচারী সশরীরে চাঁদের সেই রহস্যময় 'অন্ধকার অংশ' বা দূরবর্তী গোলার্ধ দেখার সুযোগ পাবেন। চীন ও ভারত ইতিমধ্যে মানবরহিত যানের মাধ্যমে এই অঞ্চলটি অন্বেষণ করলেও, মানুষের চোখে এটি দেখার অভিজ্ঞতা হবে অনন্য।

প্রাচীন লাভা প্রবাহ আর বিশাল গর্তে ঘেরা এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক গঠন বিশ্লেষণ ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদী মিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের তৈরি কম্পিউটিং ক্ষমতা যতই বাড়ুক, নভোচারী ক্রিস্টিনা কচের ভাষায়— 'মানুষের চোখই হলো অন্যতম সেরা বৈজ্ঞানিক যন্ত্র', যার মাধ্যমে মানবজাতি আবারও মহাকাশ জয়ের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি


হৃৎস্পন্দনই এখন আপনার পাসওয়ার্ড! ডিজিটাল নিরাপত্তায় নতুন বিপ্লব 

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ২১:২৮:৪৫
হৃৎস্পন্দনই এখন আপনার পাসওয়ার্ড! ডিজিটাল নিরাপত্তায় নতুন বিপ্লব 
প্রতীকী ছবি। ফ্রিপিক

অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগ-ইন করার ঝামেলার দিন বুঝি এবার শেষ হতে চলল। পাসওয়ার্ড মনে রাখা বা বারবার ফেস স্ক্যান করার পরিবর্তে এখন আপনার হৃৎস্পন্দন আর শ্বাস-প্রশ্বাসের কম্পনই হবে আপনার ডিজিটাল চাবিকাঠি। নিউ জার্সি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, টেম্পল ইউনিভার্সিটি এবং টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটির গবেষকদের যৌথ প্রচেষ্টায় উদ্ভাবিত হয়েছে ‘ভাইটাল-আইডি’ (Vital-ID) নামের এক বৈপ্লবিক প্রযুক্তি।

এই সিস্টেমটি মূলত ব্যবহারকারীর অজান্তেই তার মাথার খুলির ভেতর তৈরি হওয়া সূক্ষ্ম কম্পনের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে, যা প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপের মতোই অনন্য। ২০২৫ সালের এসিএম কনফারেন্স অন কম্পিউটার অ্যান্ড কমিউনিকেশনস সিকিউরিটিতে প্রথম পরিচিতি পাওয়া এই প্রযুক্তিটি বিশেষ করে ‘এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি’ (XR) বা ভার্চ্যুয়াল জগতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গবেষকদের মতে, ভাইটাল-আইডি প্রযুক্তিটি মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দনের ফলে উৎপন্ন কম্পন ব্যবহার করে, যা ঘাড়ের মধ্য দিয়ে মাথার খুলিতে পৌঁছায়। যেহেতু প্রত্যেকের হাড়ের গঠন এবং টিস্যু আলাদা, তাই এই কম্পনের ধরনও ভিন্ন হয়।

রুটগার্স ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার প্রকৌশলী ইয়িনইয়িং চেন জানিয়েছেন, এই সিস্টেমটি চালানোর জন্য বাড়তি কোনো হার্ডওয়্যারের প্রয়োজন নেই; আধুনিক হেডসেটগুলোতে থাকা মোশন সেন্সর এবং বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করেই এটি কাজ করতে সক্ষম।

এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি বা ‘এক্সআর’ (ভার্চ্যুয়াল, অগমেন্টেড ও মিক্সড রিয়েলিটির সমন্বয়) প্রযুক্তি যখন স্বাস্থ্যসেবা, অর্থায়ন ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে জায়গা করে নিচ্ছে, তখন পাসওয়ার্ড টাইপ করার ঝামেলাহীন এই নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করতে গবেষকরা ১০ মাস ধরে ৫২ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর পরীক্ষা চালিয়েছেন। ফলাফলে দেখা গেছে, সিস্টেমটি ৯৫ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে সঠিক ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করতে পেরেছে এবং অননুমোদিত ব্যবহারকারী ঠেকানোর ক্ষেত্রে এর সাফল্যের হার ৯৮ শতাংশের বেশি।

গবেষক দলটি এমন একটি ফিল্টারিং সিস্টেম তৈরি করেছেন যা মাথা নাড়ানো বা শরীরের বড় নড়াচড়া থেকে তৈরি হওয়া বাধা দূর করে কেবল হৃদস্পন্দন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সূক্ষ্ম কম্পনগুলোকেই গ্রহণ করে।

কম্পিউটার মডেলের মাধ্যমে দেখা গেছে, একজনের মাথার খুলির কম্পন অন্য কারো পক্ষে নকল করা প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে এই প্রযুক্তিটির সাময়িক স্বত্বাধিকার বা পেটেন্টের আবেদন করা হয়েছে এবং এটি লাইসেন্স প্রদান ও গবেষণা সহযোগিতার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে, তবে এখনো বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসেনি।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


এপ্রিলের আকাশে গ্রহদের মেলা! জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য দারুণ সময়

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ২১:৪০:৫২
এপ্রিলের আকাশে গ্রহদের মেলা! জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য দারুণ সময়
রাতের আকাশের ফাইল ছবিছবি: রয়টার্স

বসন্তের বিদায় আর কালবৈশাখীর এই সময়ে বাংলাদেশের আকাশ মাঝেসাঝে মেঘলা থাকলেও, আকাশ পরিষ্কার থাকলে এপ্রিলের প্রথম পক্ষকাল জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য এক দারুণ সুযোগ নিয়ে আসছে। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের আকাশে গ্রহদের মিলনমেলা, চাঁদের অবস্থান পরিবর্তন এবং উল্কাপাত দেখার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এপ্রিলের শুরুতেই সন্ধ্যার আকাশে শুক্র গ্রহকে অত্যন্ত উজ্জ্বল দেখা যাবে, যা ধীরে ধীরে তার সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে।

পাশাপাশি এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে সন্ধ্যার আকাশে মঙ্গল গ্রহের লালচে আভা খালি চোখেই দেখা যাবে, বিশেষ করে বৃষ রাশি নক্ষত্রপুঞ্জের কাছাকাছি এর অবস্থান লক্ষ্য করা যাবে। যারা ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন, তারা পূর্ব আকাশে শনি ও বৃহস্পতি গ্রহকে পাশাপাশি উদিত হতে দেখবেন; ১০ এপ্রিলের পর শনি গ্রহ দিগন্তের অনেকটা ওপরে উঠে আসায় টেলিস্কোপ দিয়ে এটি দেখার উপযুক্ত সময় হবে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিশেষ ঘটনা 'কনজাংশন' বা গ্রহ-চাঁদের মিতালি দেখা যাবে ১২ ও ১৩ এপ্রিল রাতে, যখন চাঁদকে মঙ্গল গ্রহের খুব কাছাকাছি অবস্থানে দেখা যাবে। বাইনোকুলার ব্যবহার করলে একই ফ্রেমে চাঁদ ও মঙ্গলের এই যুগলবন্দী দৃশ্য উপভোগ করা সম্ভব হবে।

এছাড়া নক্ষত্রপুঞ্জের অবস্থানেও পরিবর্তন আসছে; মাথার ঠিক ওপরে পূর্ব-দক্ষিণ আকাশে এখন সিংহ রাশি নক্ষত্রপুঞ্জের রাজত্ব দেখা যাবে, যার নীলচে-সাদা উজ্জ্বল নক্ষত্র 'রেগুলাস' স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে। উত্তর আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডলের সাতটি নক্ষত্র অনেক উঁচুতে অবস্থান করায় এই সময়ে ধ্রুবতারা খুঁজে পাওয়াও অনেক সহজ হবে। আকাশপ্রেমীদের জন্য এপ্রিলের এই ১৫ দিন মহাজাগতিক সৌন্দর্য উপভোগের এক অনন্য সময় হতে যাচ্ছে।

সূত্র: স্কাইম্যাপ, টাইম অ্যান্ড ডেট, স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ


চাঁদ জয়ের মহাযাত্রা শুরু! সফলভাবে উড্ডয়ন করল নাসার আর্টেমিস ২

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ০৯:২৯:০০
চাঁদ জয়ের মহাযাত্রা শুরু! সফলভাবে উড্ডয়ন করল নাসার আর্টেমিস ২
ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস ২’ চন্দ্রাভিযান শুরু। ছবি: আল জাজিরা

দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। বুধবার (১ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে চারজন নভোচারীকে নিয়ে সফলভাবে উড্ডয়ন করেছে নাসার ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস ২’ চন্দ্রাভিযান।

৩২ তলা বিশিষ্ট বিশাল এই রকেটটি যখন কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে মহাকাশের পানে যাত্রা শুরু করে, তখন কয়েক হাজার মানুষ এই বিরল মুহূর্তের সাক্ষী হতে সেখানে সমবেত হন। এই মিশনটি মূলত চাঁদে স্থায়ীভাবে মানুষের বসতি স্থাপন এবং পরবর্তীতে মঙ্গল গ্রহে মহাকাশচারী পাঠানোর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

আর্টেমিস ২ মিশনের চার সদস্যের মধ্যে রয়েছেন নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। প্রায় ১০ দিনের এই সফরে তারা চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে আবারও পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। উড্ডয়নের মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় মিশনের কমান্ডার ওয়াইজম্যান ক্যাপসুল থেকে আপ্লুত কণ্ঠে জানান, তারা একটি অপূর্ব চন্দ্রোদয় দেখতে পাচ্ছেন এবং সরাসরি চাঁদের অভিমুখেই এগিয়ে যাচ্ছেন।

উৎক্ষেপণের আগে হাইড্রোজেনের বিপজ্জনক লিকেজ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও নাসা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ৭ লক্ষ গ্যালন জ্বালানি লোড করে কোনো বড় ধরনের ত্রুটি ছাড়াই মিশনটি শুরু করতে সক্ষম হয়েছে।

যাত্রার পরবর্তী ধাপে নভোচারীরা প্রথম এক থেকে দুই দিন পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথে অবস্থান করে মহাকাশযানের জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা, প্রপালশন এবং নেভিগেশন পরীক্ষা করবেন। এরপর ওরিয়ন মহাকাশযানটি শক্তিশালী ইঞ্জিন বার্নের মাধ্যমে পৃথিবীর কক্ষপথ ত্যাগ করে সরাসরি চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করবে।

পুরো যাত্রাপথে ওরিয়ন চাঁদকে ঘিরে একটি ‘ফ্রি-রিটার্ন’ ট্র্যাজেক্টরি অনুসরণ করবে, যা ন্যূনতম জ্বালানি ব্যয়ে মহাকাশযানটিকে পুনরায় পৃথিবীর দিকে ফিরিয়ে আনবে। এই পর্যায়ে মহাকাশচারীরা গত কয়েক দশকের মধ্যে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে অবস্থান করবেন।

চাঁদকে প্রদক্ষিণ শেষে পৃথিবীতে ফেরার সময় ওরিয়ন ক্যাপসুলটি প্রায় ৪০,২৩৩ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে এবং প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে।

নাসার বিজ্ঞান মিশন প্রধান নিকি ফক্সের মতে, বিশ্বের বর্তমান জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ অ্যাপোলো মিশনের সময় জন্মায়নি, তাই আর্টেমিসই হতে যাচ্ছে বর্তমান প্রজন্মের ‘অ্যাপোলো’। নাসা আশা করছে যে, ২০২৬ সালের এই সফল মিশন আগামীতে চাঁদের মাটিতে পুনরায় মানুষের পা রাখার পথকে সুগম করবে।

সূত্র: আল জাজিরা


চাঁদ জয়ে ৪ লাখ কিলোমিটার যাত্রা! শুরু হচ্ছে ঐতিহাসিক মহাকাশ অভিযান

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ২১:৪৩:৩২
চাঁদ জয়ে ৪ লাখ কিলোমিটার যাত্রা! শুরু হচ্ছে ঐতিহাসিক মহাকাশ অভিযান
ছবি : সংগৃহীত

মানুষের মহাকাশ জয়ের ইতিহাসে দীর্ঘ ৫৪ বছর পর এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে। ১৯৭২ সালে নাসার অ্যাপোলো প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো আর্টেমিস-২ মিশনের মাধ্যমে চারজন নভোচারী চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করছেন। কারিগরি জটিলতার কারণে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে উৎক্ষেপণ কয়েক দফা পিছিয়ে গেলেও, নাসা এখন ১ এপ্রিল (বাংলাদেশ সময় ২ এপ্রিল) এই ঐতিহাসিক যাত্রার চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

এবারের অভিযানে নভোচারীরা সরাসরি চাঁদে অবতরণ করবেন না, বরং তাঁরা চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবেন। এই মিশনে নভোচারীরা পৃথিবী থেকে ৪ লাখ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করবেন, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মহাকাশযানের পর মানুষের জন্য মহাকাশে দীর্ঘতম পথ পাড়ি দেওয়ার নতুন রেকর্ড। নাসা এই বিশাল প্রকল্পের জন্য এ পর্যন্ত প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে চাঁদে সশরীরে অবতরণের লক্ষ্যে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের সঙ্গে ২৯০ কোটি ডলারের একটি চুক্তিও সম্পন্ন করেছে।

দীর্ঘ সময় পর চাঁদে মানুষের এই আগ্রহ ফিরে আসার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে ভারতের চন্দ্রযান-১। ১৯৭০-এর দশকের অ্যাপোলো নভোচারীদের আনা পাথর বিশ্লেষণ করে একসময় বিজ্ঞানীরা ভেবেছিলেন চাঁদে পানি বা ভূতাত্ত্বিক সক্রিয়তা নেই।

কিন্তু চন্দ্রযান-১ চাঁদে পানির অস্তিত্ব আবিষ্কার করে বিজ্ঞানীদের ধারণা বদলে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, চাঁদের মেরু অঞ্চলের গভীর গর্তগুলোতে কোটি কোটি টন বরফ রয়েছে, যা থেকে ভবিষ্যৎ মিশনের জন্য হাইড্রোজেন জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব। এছাড়া চাঁদে পাওয়া হিলিয়াম-৩ নামক আইসোটোপ ভবিষ্যতে নিউক্লিয়ার ফিউশনের এক অনন্য জ্বালানি হয়ে উঠতে পারে, যা পৃথিবীকে দেবে অফুরন্ত শক্তি।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


সবচেয়ে দূরবর্তী রেডিও সংকেতের সন্ধান: আদি মহাবিশ্বের গোপন তথ্য ফাঁস

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ২১:১০:৪৯
সবচেয়ে দূরবর্তী রেডিও সংকেতের সন্ধান: আদি মহাবিশ্বের গোপন তথ্য ফাঁস
মহাকাশ থেকে আসা সংকেতেরপ্রতীকী ছবি ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরি

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী হলেন বিজ্ঞানীরা। প্রায় ৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে ভেসে আসা এক প্রচণ্ড শক্তিশালী রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার মিরক্যাট (MeerKAT) রেডিও টেলিস্কোপ। বিজ্ঞানীরা এই দানবীয় সংকেতকে বলছেন ‘মেগা-লেজার’ বা ‘হাইড্রক্সিল মেগামেজার’। দুটি বিশাল গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের প্রচণ্ড সংঘর্ষের ফলে এই শক্তিশালী লেজার রশ্মি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেগা-লেজার হলো মহাকাশে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া এক ধরনের অতি-শক্তিশালী রেডিও তরঙ্গ। যখন গ্যাসপূর্ণ দুটি বিশাল গ্যালাক্সির মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে, তখন সেখানে থাকা হাইড্রক্সিল অণুগুলো একে অপরের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। সাধারণ লেজার যেমন দৃশ্যমান আলো তৈরি করে, এই মেগা-লেজার ঠিক তেমনি অত্যন্ত উজ্জ্বল রেডিও সংকেত তৈরি করে, যা মহাবিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভ্রমণ করতে পারে।

৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে আসা এই সংকেতটি সাধারণত টেলিস্কোপে ধরা পড়ার কথা ছিল না। কিন্তু আলবার্ট আইনস্টাইনের ভবিষ্যদ্বাণী করা ‘গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং’ নামক এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনার কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। পৃথিবী এবং ওই দূরবর্তী গ্যালাক্সির মাঝখানে অন্য একটি বিশাল গ্যালাক্সি থাকায় তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি অনেকটা ‘আতশি কাচের’ মতো কাজ করেছে। ফলে সংকেতটি স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ গুণ বেশি উজ্জ্বল হয়ে আমাদের কাছে পৌঁছেছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সংকেতটির উৎস হলো হ্যাটলাস জে১৪২৯৩৫.৩-০০২৮৩৬ নামক একটি সিস্টেম। আমরা বর্তমানে সংকেতটিকে যেভাবে দেখছি, তা আসলে ৮০২ কোটি বছর আগের দৃশ্য। অর্থাৎ, যখন মহাবিশ্বের বয়স ছিল বর্তমানের অর্ধেকেরও কম, সেই সময়ের একটি মহাজাগতিক সংঘর্ষের প্রতিধ্বনি আমরা আজ শুনতে পাচ্ছি। এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের আদি আমলের গ্যালাক্সিগুলোর বিবর্তন এবং তাদের সংঘর্ষের ধরন বুঝতে বিজ্ঞানীদের নতুন পথ দেখাবে।

সূত্র: ডেইলি মেইল

পাঠকের মতামত: