আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

গুমের বিচার শুরু: শেখ হাসিনা ও সাবেক শীর্ষ সেনা–পুলিশ কর্মকর্তারা আসামির তালিকায়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ১০ ১০:৪৯:২০
গুমের বিচার শুরু: শেখ হাসিনা ও সাবেক শীর্ষ সেনা–পুলিশ কর্মকর্তারা আসামির তালিকায়

বাংলাদেশে গুমের ইতিহাস নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (৯ অক্টোবর) আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ট্রাইব্যুনাল এই মামলাগুলো আমলে নেয় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, এবং সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই ও র‍্যাবের সাবেক ২৮ কর্মকর্তা।

এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সেনা–পুলিশ বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার শুরু হলো। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্যানেল এই আদেশ দেন। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আদালত আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছে।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) এবং টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন সেল (টিএফআই)–এ রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক, ব্লগার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ভিন্নমতাবলম্বী ব্যক্তিদের অবৈধভাবে আটক, নির্যাতন ও গুম করা হয়। তদন্তে এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের গুমের তথ্য পাওয়া গেছে, তবে অনুমান করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে সাড়ে তিন হাজারের বেশি গুমের ঘটনা ঘটেছিল। এসব অপরাধের দায়ে দুটি মামলায় ৩০ জনেরও বেশি অভিযুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৩ জন সামরিক কর্মকর্তা। এদের মধ্যে ১১ জন এখনো সক্রিয় সেবায় রয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আদালতে বলেন, এই মামলাগুলো বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক ভয়ংকর অধ্যায় উন্মোচন করছে। র‍্যাব ও ডিজিএফআইয়ের মতো রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, কর্মী, সাংবাদিক এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। তিনি আদালতে জানান, বন্দিদের ‘সাবজেক্ট’ নামে ডাকা হতো, নির্যাতন কক্ষগুলোকে বলা হতো ‘আয়নাঘর’, আর যারা ‘বিশেষ বন্দি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন, তাদের কোডনেম ছিল ‘মোনালিসা’। এসব ‘আয়নাঘর’-এ মানুষকে হাত কেটে ফেলা, নখ উপড়ে ফেলা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা, কিংবা দিনের পর দিন ঝুলিয়ে রাখার মতো নির্মম নির্যাতন করা হতো—যার সাক্ষ্য এখনো বহন করছেন গুম থেকে ফেরা অনেক ভুক্তভোগী।

ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন গুমের শিকার পরিবারগুলোর সদস্যরাও। দীর্ঘ আট বছর গুম থাকার পর ফিরে আসা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আল আযমী বলেন, “বিনা অপরাধে আমাকে ডিজিএফআই বন্দি করে রেখেছিল প্রায় আট বছর। আজকের এই বিচার শুরু হওয়া আমাদের আশার প্রতীক। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।” ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, যিনি আট বছর অন্ধকার কারাগারে ছিলেন, বলেন, “গত ১৬ বছরে সংবিধান কেবল কাগজে লেখা ছিল। আজ মনে হচ্ছে আইন আবার কথা বলতে শুরু করেছে।”

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আমাদের গুম করা হয়েছিল, কিন্তু কষ্ট ভোগ করেছে পরিবার। সাত মাস গুমে থেকেও বিশ্বাস হারাইনি যে বাংলার মাটিতে একদিন বিচার পাব।” মানবাধিকারকর্মী মাইকেল চাকমা, যিনি পাঁচ বছরের বেশি সময় গুম ছিলেন, বলেন, “যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, তারা যেন জানে—এই বিচার ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “এখানে কোনো বাহিনীর দায় নয়, দায় ব্যক্তির। জনগণের করের টাকায় বেতন পাওয়া কোনো কর্মকর্তা রাষ্ট্রের নামে অপরাধ করলে তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “এই বিচার কেবল ভুক্তভোগীদের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য এক বার্তা—ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু ন্যায়বিচার চিরস্থায়ী।”

ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে অনেকেই পলাতক। কয়েকজনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হবে। আগামী ২২ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রসিকিউশন দপ্তর জানিয়েছে, প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতেও শুনানি আয়োজন করা হতে পারে।

বাংলাদেশে গুমের ইতিহাসে এই মামলা এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি কেবল আওয়ামী আমলের রাজনৈতিক দমননীতি বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নয়—বরং একটি রাষ্ট্রীয় আত্মসমালোচনার সূচনা, যেখানে বলা হচ্ছে, “আর নয় আয়নাঘর, আর নয় অন্ধকার।”

সূত্রঃ আমার দেশ।


তিস্তা পাড়ে আর হাহাকার নয়: সমন্বিত মহাপরিকল্পনার ঘোষণা ত্রাণমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৯:০৪:১৭
তিস্তা পাড়ে আর হাহাকার নয়: সমন্বিত মহাপরিকল্পনার ঘোষণা ত্রাণমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

তিস্তা পাড়ের দুই কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে বড় ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "তিস্তা নদী শাসন ও খননের কাজ এখন আর বিচ্ছিন্নভাবে নয়; বরং একটি সমন্বিত মেগা প্রকল্পের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করা হবে।" তিস্তা পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের হাহাকার মোচনে সরকার এই মহাপরিকল্পনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও তিনি জানান।

সভায় মন্ত্রী রংপুর অঞ্চলের চিরচেনা ‘বাজেট বৈষম্য’ নিয়েও মুখ খোলেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, ভবিষ্যতে বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে রংপুর যাতে কোনোভাবেই পিছিয়ে না থাকে বা বৈষম্যের শিকার না হয়, সেদিকে সরকার কড়া নজর রাখবে। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির পাশাপাশি এ অঞ্চলে শিল্প-কলকারখানা গড়ে তুলে রংপুরকে দেশের অন্যতম উন্নত জনপদে রূপান্তরের অঙ্গীকার করেন তিনি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গে টেনে বলেন, "শুধু ৫ আগস্ট নয়, অতীতে যেকোনো সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে; আইনের দ্বার সবার জন্য উন্মুক্ত।"

এর আগে দুই দিনের সফরে উত্তরবঙ্গে এসে প্রথম দিন নিজ জেলা লালমনিরহাটে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রী। দলীয় নেতাকর্মী ও জেলা প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় শেষে তিনি রংপুরের সামগ্রিক উন্নয়নে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রীর এই সরাসরি আশ্বাস উত্তরাঞ্চলের মানুষের মাঝে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।

/আশিক


সব পরাশক্তিই আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৭:১৯:২০
সব পরাশক্তিই আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর গভীর আস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দাবি করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, সৌদি আরব ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করতে ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। ড. খলিলুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের নতুন বৈদেশিক নীতির মূল মন্ত্র হবে— ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। অর্থাৎ, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদাকে সবকিছুর ওপরে স্থান দেওয়া হবে।

এদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন এবং ইইউ-র প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, “আমরা আমাদের বৈদেশিক নীতির রূপরেখা তাদের জানিয়েছি। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর ভিত্তি করেই আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে যাবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রতিটি দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় মর্যাদা বজায় রেখে একটি ‘উইন-উইন’ বা লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তোলাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, প্রধান সব শক্তিধর দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করেছেন। ঝুলে থাকা দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলো আলোচনার মাধ্যমে সম্মানজনকভাবে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে মার্কিন ও ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতদের সাথে এই বৈঠক নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও সুদৃঢ় করল বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

/আশিক


ঈদে টানা ছুটির মহা-প্ল্যান! এক নজরে ছুটির ক্যালেন্ডার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৬:৩১:৫৪
ঈদে টানা ছুটির মহা-প্ল্যান! এক নজরে ছুটির ক্যালেন্ডার
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক অভাবনীয় খবর। ক্যালেন্ডারের হিসাব অনুযায়ী, মাত্র ১-২ দিনের ব্যক্তিগত ছুটি ম্যানেজ করতে পারলেই এবার টানা ১০ দিনের এক দীর্ঘ অবকাশ উপভোগ করতে পারবেন তারা। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ শনিবার ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের নির্ধারিত ৫ দিনের ঈদের ছুটির সাথে শবে কদর, স্বাধীনতা দিবস এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলেমিশে এমন এক বিরল সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে দেখা যায়নি।

ছুটির শুরুটা হতে পারে ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) শবে কদরের মাধ্যমে। এরপর ১৮ মার্চ (বুধবার) যদি কেউ একদিনের ছুটি নিতে পারেন, তবে ১৯ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ৫ দিনের ঈদের ছুটি সরাসরি তার সাথে যুক্ত হয়ে যাবে। অর্থাৎ ১৮ তারিখের এক দিনের ত্যাগে মিলবে টানা ৭ দিনের বিশাল ছুটি। এখানেই শেষ নয়! ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পর ২৪ ও ২৫ মার্চ (মঙ্গল ও বুধবার) মাত্র দুই দিনের নৈমিত্তিক ছুটি ম্যানেজ করতে পারলেই কেল্লাফতে! কারণ এর পরের দিন ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং ২৭-২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটির দিন। ফলে সামান্য বুদ্ধিতেই টানা ১০ দিন অফিসের প্যারা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

এই দীর্ঘ ছুটির সম্ভাবনা নিয়ে সচিবালয়সহ সরকারি অফিসগুলোতে এখনই শুরু হয়েছে আনন্দঘন গুঞ্জন। অনেকেই ইতোমধ্যেই বাড়ির টিকেট এবং ভ্রমণের পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছেন। তবে এই সুযোগ নিতে হলে অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নৈমিত্তিক ছুটি আগেভাগেই নিশ্চিত করতে হবে। যারা দূর-দূরান্তে থাকেন বা পরিবার নিয়ে দীর্ঘ ভ্রমণের চিন্তা করছেন, তাদের জন্য এই ১০ দিনের ছুটি হবে বছরের সেরা উপহার।

/আশিক


৫ আগস্টের পর ঢালাও মামলা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অ্যাকশন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৬:২০:৪৩
৫ আগস্টের পর ঢালাও মামলা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অ্যাকশন
ছবি : সংগৃহীত

৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে হওয়া ঢালাও মামলায় অনেক নির্দোষ ও বিশিষ্ট ব্যক্তি হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে স্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে তিনি এই বিষয়ে কড়া নির্দেশনা প্রদান করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কোনো অপরাধে জড়িত না থাকা সত্ত্বেও অনেক বড় ব্যবসায়ী, সাংবাদিক এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে, যা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা। এসব মামলা দ্রুত যাচাই-বাছাই করে নিরীহদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, একটি সুবিধাবাদী শ্রেণি এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নিরীহ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলছে। তিনি বলেন, “আমরা সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। তাই কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন জেল-জুলুম বা মামলাবাজির শিকার না হয়, সেটি নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব।” এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার জন্য আলাদা কোনো কমিটির প্রয়োজন নেই বরং পুলিশ বাহিনীর নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এটি দ্রুত সম্পন্ন করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন সবার জন্য সমান। এই তালিকার মধ্যে সাংবাদিক, ব্যবসায়ী বা সাধারণ মানুষ—সবাই অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। যারা প্রকৃতপক্ষে অপরাধের সাথে জড়িত নন, তাদের আর আদালতে দৌড়ঝাঁপ বা পুলিশের হয়রানি সহ্য করতে হবে না। সরকারের এই পদক্ষেপে জনমনে স্বস্তি ফেরার পাশাপাশি দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে প্রধানমন্ত্রীর বড় ধামাকা: আসছে বিশেষ কার্ড

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৬:১৩:০৬
কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে প্রধানমন্ত্রীর বড় ধামাকা: আসছে বিশেষ কার্ড
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।/ছবি : সংগৃহীত

দেশের প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে সরাসরি সরকারি সেবা ও ভর্তুকি পৌঁছে দিতে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এই দিক-নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, "কৃষকই দেশের অর্থনীতির প্রাণ। তাই মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করে কৃষকের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে।" উল্লেখ্য, নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকদের জন্য এই স্মার্ট কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারেক রহমান।

সভায় জানানো হয়, এই স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরকারি প্রণোদনা ও ভর্তুকির টাকা পাবেন। এতে করে ডাটাবেজ তৈরির মাধ্যমে ভুয়া সুবিধাভোগীদের বাদ দেওয়া সম্ভব হবে এবং কৃষি উপকরণ বিতরণে স্বচ্ছতা আসবে। প্রধানমন্ত্রী কৃষক কার্ডের কারিগরি অগ্রগতির খোঁজখবর নেন এবং মাঠ পর্যায়ে এর দ্রুত বিতরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থা চালু হলে কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষি বিপ্লবে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষক কার্ড চালুর ফলে সার, বীজ ও ঋণের জন্য কৃষকদের আর কারো দ্বারস্থ হতে হবে না। এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি রাষ্ট্র ও কৃষকের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি হবে। সভার সিদ্ধান্তে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সারা দেশে এই ডাটাবেজ সম্পন্ন করে কার্ড বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


বড় সুখবর! ৪ ধরনের শিক্ষার্থীকে বিশেষ ভাতা দিচ্ছে সরকার: পাবেন যারা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৬:০৭:১৩
বড় সুখবর! ৪ ধরনের শিক্ষার্থীকে বিশেষ ভাতা দিচ্ছে সরকার: পাবেন যারা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের অসচ্ছল, অসুস্থ এবং দুর্ঘটনায় আহত ক্রীড়াবিদদের পাশাপাশি কৃতি ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ‘জাতীয় ক্রীড়া ভাতা’ ও ‘ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তি’র ঘোষণা দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়। যারা জাতীয় পর্যায়ে দেশের সম্মান বয়ে এনেছেন কিন্তু বর্তমানে আর্থিক সংকটে আছেন বা শারীরিকভাবে অসমর্থ, তাদের ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগ্রহী ক্রীড়াবিদ ও শিক্ষার্থীরা আগামী ৭ মার্চ ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজস্ব মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধনের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। ক্রীড়াবিদদের জীবনমান উন্নয়ন এবং ক্রীড়া শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এই ভাতা ও বৃত্তি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আবেদনের প্রয়োজনীয় লিংকসমূহ

জাতীয় ক্রীড়া ভাতা: sports-allowance.online.info.bd

ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তি: sports-edu.online.info.bd

/আশিক


সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিন: নতুন দিগন্তের সূচনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১২:২৭:৫৬
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিন: নতুন দিগন্তের সূচনা
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রথমবারের মতো ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে (এএফডি) অফিস করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল ৯টায় তিনি তাঁর কার্যালয়ে পৌঁছালে তিন বাহিনীর প্রধানগণ তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রমে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কুশল বিনিময় শেষে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

এদিন প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিয়মিত কার্যসূচির অংশ হিসেবে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরীকে নতুন ‘র‌্যাঙ্ক ব্যাজ’ পরিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই ব্যাজ পরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি নবনিযুক্ত এই কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ারে এক অনন্য সম্মান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটি সশস্ত্র বাহিনীর চেইন অব কমান্ডকে আরও সুসংহত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম (অব.), সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা এই মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হন। প্রধানমন্ত্রীর এই অফিস কার্যক্রম সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মনোবল সুদৃঢ় করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


ভোটের সময় হলো বলে! সিটি নির্বাচন নিয়ে বড় আপডেট দিলেন ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১২:১০:৫৪
ভোটের সময় হলো বলে! সিটি নির্বাচন নিয়ে বড় আপডেট দিলেন ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

সিটি করপোরেশনগুলোতে খুব দ্রুতই নির্বাচনের ঘোষণা আসবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে নিয়মনীতি মেনেই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তবে পরিস্থিতি ও সুযোগ বুঝে সরকার দ্রুতই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করবে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপি সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়াই এখন মূল লক্ষ্য।

বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় খোলা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান মির্জা ফখরুল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখনো নিষিদ্ধ, তাই তাদের অফিস খোলার কোনো সুযোগ নেই। আমরা এটা চাইনি।" যারা আইন অমান্য করে অফিস খুলছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। উল্লেখ্য, আজ সকালেই গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আওয়ামী লীগের অফিস খোলার খবর আসার পর সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই প্রথম কোনো কড়া মন্তব্য এলো।

সংসদ অধিবেশন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে মির্জা ফখরুল জানান, অধিবেশন শুরু হওয়ার পর এই প্রক্রিয়ায় হাত দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদেরকেই প্রার্থী হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। গত ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাংবাদিকদের সাহসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের অবদানের কথা বিএনপি সবসময় মনে রাখবে। অল্প সময়ের মধ্যেই বিএনপি সরকার জনগণের মনে জায়গা করে নিয়েছে দাবি করে তিনি একটি সুন্দর ও নিয়মতান্ত্রিক আগামীর প্রতিশ্রুতি দেন।

/আশিক


আড়ালে রাখা হয়েছে রাষ্ট্রপতিকে? ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১০:০৯:৪২
আড়ালে রাখা হয়েছে রাষ্ট্রপতিকে? ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত শুক্রবার একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি আক্ষেপ করে বলেন, "ড. ইউনূস ১৪ থেকে ১৫ বার বিদেশ সফরে গেলেও একবারের জন্যও আমার কাছে আসেননি বা আমাকে কিছু জানাননি।" রাষ্ট্রপতির মতে, প্রধান উপদেষ্টা সংবিধানের কোনো বিধানই তোয়াক্কা করছেন না। সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে যে, সরকারপ্রধান বিদেশ সফর থেকে ফিরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সফরের সারসংক্ষেপ, আলোচনা বা চুক্তি সম্পর্কে লিখিতভাবে অবহিত করবেন। কিন্তু বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা গত ১৮ মাসে একবারও সেই নিয়ম পালন করেননি বলে অভিযোগ রাষ্ট্রপতির।

সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করেন যে, বর্তমান সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার মূল উৎস ছিলেন তিনি নিজেই। অর্থাৎ, তার উদ্যোগেই এই সরকার যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু সরকার গঠনের পর প্রধান উপদেষ্টা তাকে সম্পূর্ণভাবে ‘আড়ালে’ রাখার চেষ্টা করেছেন বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, "প্রধান উপদেষ্টা আমার সঙ্গে কোনো ধরণের সমন্বয়ই করেননি। এটি আসলে বোঝানোর কোনো উপায়ও নেই, কারণ তিনি একটিবারের জন্যও আমার কাছে আসার প্রয়োজন মনে করেননি।" রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যে সরকারের শীর্ষ দুই পদের মধ্যে চরম সমন্বয়হীনতার বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আরও যোগ করেন যে, ড. ইউনূস তার পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো নির্দিষ্ট অবস্থানে ছিলেন না। রাষ্ট্রপতি নিজেও সাহায্যের জন্য কখনো প্রধান উপদেষ্টার কাছে কোনো আবদার করেননি। নিজের মনোভাব স্পষ্ট করে তিনি বলেন, "আমার মনোভাব ছিল, যা হচ্ছে হতে থাকুক, দেখা যাক কতদূর গড়ায়।" ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা দুই অভিভাবকের মধ্যে এমন দূরত্বের খবরটি দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সংবিধান মেনে চলার বাধ্যবাধকতা নিয়ে রাষ্ট্রপতির এই সরাসরি মন্তব্য ভবিষ্যতে বড় কোনো সাংবিধানিক বিতর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

সূত্র: কালের কণ্ঠ।

পাঠকের মতামত: