Banner

রোজকার শেয়ারবাজার

ডিএসইতে রবিবার লেনদেন শেষে টপ গেইনার তালিকা প্রকাশ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ০৫ ১৫:১৩:১৫
ডিএসইতে রবিবার লেনদেন শেষে টপ গেইনার তালিকা প্রকাশ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) রোববারের (৫ অক্টোবর ২০২৫) লেনদেন শেষে টপ গেইনার তালিকায় ব্যাংক ও বীমা খাতের বেশ কিছু শেয়ার দারুণ উত্থান দেখিয়েছে। দিনশেষে এক্সিম ব্যাংক সর্বোচ্চ দামে উঠে শীর্ষে অবস্থান করে। কোম্পানিটির শেয়ারের দর আগের দিনের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ টাকা ৪০ পয়সায়।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রগতি ইনস্যুরেন্স, যার শেয়ারের দর বেড়েছে প্রায় ৯.৯৫ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা সাউথইস্ট ইসলামিক ব্যাংক (SIBL)-এর দর ৯.০৯ শতাংশ বেড়ে ৪ টাকা ৮০ পয়সায় বন্ধ হয়।

এছাড়া আবেদন ব্যাংক (AB Bank) ৮.৭৭ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ৭.৬৯ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড ইনস্যুরেন্স ৭.৫৯ শতাংশ, এবং সেন্ট্রাল ভ্যালু পার্টনারশিপ (CVOPRL) ৭.২৪ শতাংশ বেড়ে লেনদেন শেষ করে।

তালিকার আরও উর্ধ্বমুখী কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে রিলায়েন্স ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ড, রহিমা ফুড, এবং ইউনিয়ন ইনস্যুরেন্স, যাদের শেয়ারমূল্য যথাক্রমে ৭.২৩ শতাংশ, ৬.১৬ শতাংশ এবং ৫.৯২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

লেনদেনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্থিতিশীল ধারা বজায় রেখে টপ গেইনারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল ব্যাংক ও বীমা খাতের শেয়ারগুলো।

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে প্রদত্ত তথ্য কেবল শিক্ষামূলক ও বাজার বিশ্লেষণের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। বিনিয়োগের আগে অবশ্যই যোগ্য পরামর্শকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

/আশিক


৪ জানুয়ারি দিনশেষে ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ বাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৫:১৭:২২
৪ জানুয়ারি দিনশেষে ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ বাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে Dhaka Stock Exchange PLC–এ সামগ্রিকভাবে মিশ্র প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। দিনশেষে দেখা যায়, মোট ৩৯০টি সিকিউরিটিজে লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে দর বেড়েছে ২০৪টির, কমেছে ১৪৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৩টির। এই চিত্র বাজারে ক্রয়–বিক্রয়ের ভারসাম্যপূর্ণ চাপের ইঙ্গিত দেয়।

ক্যাটাগরি অনুযায়ী বিশ্লেষণে ‘এ’ শ্রেণির শেয়ারগুলো তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। এই ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ২০৪টি শেয়ারের মধ্যে ১১৯টির দর বেড়েছে, ৫৮টির দর কমেছে এবং ২৭টি শেয়ার অপরিবর্তিত ছিল। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ মূলত মৌলভিত্তি শক্ত শেয়ারগুলোর দিকেই কেন্দ্রীভূত ছিল বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

‘বি’ ক্যাটাগরিতে চিত্রটি ছিল কিছুটা ভিন্ন। এখানে মোট ৮১টি শেয়ারের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৬টির, কমেছে ৪১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল মাত্র ৪টি। এতে বোঝা যায়, এই শ্রেণির শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক মনোভাব বিরাজ করেছে।

অন্যদিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে মোট ১০৫টি শেয়ারের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯টির দর বেড়েছে এবং ৪৪টির দর কমেছে, অপরিবর্তিত ছিল ১২টি শেয়ার। এই ক্যাটাগরিতে দিনভর স্বল্পমেয়াদি লেনদেন ও মুনাফা গ্রহণের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও ইতিবাচক গতি দেখা যায়। লেনদেন হওয়া ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে ১৩টির দর বেড়েছে, ৩টির দর কমেছে এবং ১৮টি অপরিবর্তিত রয়েছে। করপোরেট বন্ড খাতে দুটি ইস্যুতে লেনদেন হয়েছে এবং উভয়টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সরকারি সিকিউরিটিজে দুটি ইস্যুর দর কমেছে, যা এই খাতে স্বল্পমেয়াদি চাপের ইঙ্গিত দেয়।

লেনদেনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দিনভর মোট ১ লাখ ৬২ হাজার ৪০৫টি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে। এতে মোট শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ কোটি ৮৮ লাখ ইউনিটে এবং আর্থিক লেনদেনের মূল্য ছিল প্রায় ৫৩৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এই পরিসংখ্যান বাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতিফলন হিসেবে ধরা হচ্ছে।

দিনশেষে বাজার মূলধনের হিসাবেও স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। ইক্যুইটি, মিউচুয়াল ফান্ড ও ঋণ সিকিউরিটিজ মিলিয়ে মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৮ লাখ ৬ কোটি ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা সামগ্রিক বাজার আকারের দৃঢ়তা নির্দেশ করে।

ব্লক মার্কেটে লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম দেখা গেছে। মোট ২৩টি স্ক্রিপে ৫২টি ব্লক ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে প্রায় ৬২ লাখ ইউনিট শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে ৩১৩ কোটিরও বেশি টাকার লেনদেন হয়েছে। স্কয়ার ফার্মা, রেনাটা, ট্রাস্ট ব্যাংক, ওরিয়ন ইনফিউশন ও ফাইন ফুডসের মতো শেয়ারগুলো ব্লক ট্রেডে উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ করেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দিনশেষের এই চিত্র ইঙ্গিত দেয় যে বিনিয়োগকারীরা একদিকে স্বল্পমেয়াদি সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন, অন্যদিকে মৌলভিত্তি শক্ত শেয়ার বেছে নিয়ে অবস্থান ধরে রাখছেন। তারা মনে করেন, আগামী কার্যদিবসগুলোতে খাতভিত্তিক পারফরম্যান্সের ওপর বাজারের দিকনির্দেশনা আরও স্পষ্ট হবে।

-রাফসান


৪ জানুয়ারি টপ টেন লুজার দেখে নিন এক নজরে 

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৫:১৪:০০
৪ জানুয়ারি টপ টেন লুজার দেখে নিন এক নজরে 
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে লেনদেনের মধ্যভাগে একাধিক শেয়ারে তীব্র বিক্রয়চাপ দেখা গেছে। দুপুর ২টা ৫২ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ দশ দরপতনকারী শেয়ারের অধিকাংশই আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি দর হারিয়েছে, যা বাজারে স্বল্পমেয়াদি সংশোধন ও মুনাফা গ্রহণের প্রবণতা নির্দেশ করছে।

দরপতনের তালিকার শীর্ষে রয়েছে জেমিনি সি ফুডস। শেয়ারটির দর আগের দিনের ১৩৮ টাকা ৩০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ১২৪ টাকা ৫০ পয়সায়, যা প্রায় ১০ শতাংশ পতনের সমান। দিনভর শেয়ারটিতে বিক্রির চাপ বাড়তে থাকায় সর্বনিম্ন দরেই লেনদেন শেষ হয়।

এর পরপরই অবস্থান নেয় এআইএল ও বিচ হ্যাচারি। এআইএল-এর শেয়ার দর প্রায় ১০ শতাংশ কমে ৩৭ টাকায় নেমে আসে, অন্যদিকে বিচ হ্যাচারির শেয়ার দর কমে দাঁড়ায় ৪২ টাকা ৫০ পয়সায়। এই দুটি শেয়ারে আগের কয়েক দিনের দরবৃদ্ধির পর হঠাৎ বিক্রি বাড়ে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

খাদ্য ও ভোক্তা পণ্য খাতের ফুয়াং ফুডস এবং বেস্ট হোল্ডিংসও উল্লেখযোগ্য দরপতনের মুখে পড়েছে। ফুয়াং ফুডসের শেয়ার প্রায় ৯ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১০ টাকা ১০ পয়সায় এবং বেস্ট হোল্ডিংসের শেয়ার প্রায় ৯ দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১২ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন করেছে।

ওআইএমইএক্স ও কাত্তালী টেক্সটাইল (KTL) শেয়ারের ক্ষেত্রেও একই রকম চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে কাত্তালী টেক্সটাইলের শেয়ারে সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্ত ও ক্যাটাগরি পরিবর্তনের প্রভাব বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন।

তালিকার বাকি অংশে থাকা সালাম ক্রেস্ট, ফ্যামিলি টেক্সটাইল এবং আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ডেও বিক্রয়চাপ স্পষ্ট ছিল। তুলনামূলকভাবে কম দরপতন হলেও এসব শেয়ারের ক্ষেত্রেও বাজারের দুর্বল মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে।

-রাফসান


৪ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে আজ শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী তালিকা

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৫:১১:৩৩
৪ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে আজ শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী তালিকা
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে লেনদেনের মধ্যভাগে ব্যাংক ও আর্থিক খাতভিত্তিক শেয়ারগুলোর দাপটে বাজারে স্পষ্ট ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দুপুর ২টা ৫২ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, শীর্ষ দশ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ারের তালিকায় ব্যাংক খাতের আধিপত্য ছিল সবচেয়ে বেশি, যা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তালিকার শীর্ষে উঠে আসে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। শেয়ারটির দর বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ টাকা ৫০ পয়সায়, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। দিনভর ক্রয়চাপের কারণে শেয়ারটি সর্বোচ্চ দরেই লেনদেন শেষ করেছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।

এরপরই অবস্থান নেয় এবি ব্যাংক। মাত্র ৪ টাকা ১০ পয়সা থেকে শেয়ারটির দর বেড়ে ৪ টাকা ৫০ পয়সায় পৌঁছায়, যা প্রায় ৯ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। একই ধারা দেখা গেছে রূপালী ব্যাংকের শেয়ারে, যেখানে দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৩০ পয়সায়।

এনআরবি ব্যাংক ও এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি দেখা যায়। এনআরবি ব্যাংকের শেয়ার প্রায় ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৬ টাকা ৮০ পয়সায় পৌঁছালেও এনআরবিসি ব্যাংক তুলনামূলক কম, তবে স্থিতিশীল বৃদ্ধির মাধ্যমে ৫ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন করেছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাত থেকেও তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড (MBL1STMF)। ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি দর বেড়ে ৩ টাকা ৭০ পয়সায় পৌঁছায়, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল ও ওরিয়ন ইনফিউশন শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা গেছে। বিশেষ করে ওরিয়ন ইনফিউশনের মতো উচ্চমূল্যের শেয়ারে ৭ শতাংশের বেশি দরবৃদ্ধি বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

এছাড়া পূবালী ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংকের শেয়ারও শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। এই দুই ব্যাংক শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা স্বল্পমেয়াদি লাভের সুযোগ খুঁজছেন বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

-রাফসান


কাত্তালী টেক্সটাইলের শেয়ারে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৪:৩২:৩৩
কাত্তালী টেক্সটাইলের শেয়ারে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কাত্তালী টেক্সটাইল লিমিটেড (KTL)–কে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের জন্য একযোগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)–এর নির্দেশনার আলোকে আজ ৪ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কোম্পানিটির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে ঋণসুবিধা প্রদান বন্ধ রাখার জন্য স্টক ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকারদের আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিএসইসি সূত্রে প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত তারিখ থেকে কোনো বিনিয়োগকারী মার্জিন ঋণ বা অন্যান্য ঋণসুবিধা ব্যবহার করে কাত্তালী টেক্সটাইলের শেয়ার ক্রয় করতে পারবেন না। ২৬ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে জারি করা বিএসইসি নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে, যার লক্ষ্য বাজারে অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

একই দিনে আরেকটি ঘোষণায় জানানো হয়, কাত্তালী টেক্সটাইল লিমিটেডকে বিদ্যমান ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে অবনমিত করে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিএসইসি’র ২০ মে ২০২৪ তারিখের নির্দেশনার বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন না করায় এই শ্রেণি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর সাধারণত কোনো কোম্পানির কর্পোরেট অনিয়ম, শাসন কাঠামোর দুর্বলতা বা নিয়মিত তথ্য প্রকাশে ব্যর্থতার ইঙ্গিত বহন করে। এর ফলে কোম্পানিটির শেয়ারে লেনদেনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও কমে যেতে পারে।

-রফিক


এক নজরে ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের সর্বশেষ NAV

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৪:২৭:৩৫
এক নজরে ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের সর্বশেষ NAV
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত বিপুলসংখ্যক মিউচুয়াল ফান্ড ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে লেনদেন শেষে তাদের দৈনিক নেট অ্যাসেট ভ্যালু (NAV) প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ ফান্ডের বাজারমূল্যভিত্তিক ইউনিটপ্রতি NAV অভিহিত মূল্য ১০ টাকার নিচে অবস্থান করছে, যদিও একই ফান্ডগুলোর ব্যয়মূল্যভিত্তিক NAV তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি রয়েছে। এই ব্যবধান বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পদমূল্যের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য নির্দেশ করছে।

রিলায়েন্স ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ড (RELIANCE1) জানিয়েছে, বাজারদরে তাদের ইউনিটপ্রতি NAV দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৬১ পয়সা, যা অভিহিত মূল্যের ওপরে অবস্থান করছে। একই সময়ে ব্যয়মূল্যভিত্তিক NAV ছিল ১১ টাকা ২৯ পয়সা। ফান্ডটির মোট নিট সম্পদের পরিমাণ বাজারমূল্যে প্রায় ৬৪১ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং ব্যয়মূল্যে প্রায় ৬৮৩ কোটি ২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা ফান্ডটির সম্পদভিত্তির শক্ত অবস্থানকে তুলে ধরে।

অন্যদিকে গ্রামীণ সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড (GRAMEENS2) বাজারদরে ইউনিটপ্রতি ১৫ টাকা ৫৬ পয়সা NAV ধরে রেখে তালিকাভুক্ত ফান্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী অবস্থান প্রদর্শন করেছে। ফান্ডটির মোট নিট সম্পদ বাজারমূল্যে প্রায় ২ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে চিত্রটি সব ফান্ডের ক্ষেত্রে একই রকম নয়। ক্যাপিটাল মার্কেটভিত্তিক একাধিক ফান্ড যেমন CAPMIBBLMF, CAPMBDBLMF, CAPITECGBF এবং VAMLRBBF–এর ক্ষেত্রে বাজারদরে ইউনিটপ্রতি NAV ৭ থেকে ৯ টাকার মধ্যে অবস্থান করছে। উদাহরণ হিসেবে CAPMIBBLMF–এর বাজারমূল্যভিত্তিক NAV নেমে এসেছে ৭ টাকা ৭২ পয়সায়, যেখানে ব্যয়মূল্যে তা ১১ টাকা ৪০ পয়সা। এই বড় ব্যবধান বাজারে বিদ্যমান চাপ ও শেয়ারমূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

সেমল পরিচালিত একাধিক ফান্ড যেমন SEMLFBSLGF, SEMLIBBLSF ও SEMLLECMF–এর ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। এসব ফান্ডের বাজারদরভিত্তিক NAV অভিহিত মূল্যের নিচে অবস্থান করলেও ব্যয়মূল্যভিত্তিক NAV ১১ টাকার ওপরে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবধান ইঙ্গিত দেয় যে ফান্ডগুলোর অন্তর্নিহিত সম্পদের প্রকৃত মূল্য বাজারদরে পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না।

ব্যাংক-স্পন্সরড ফান্ডগুলোর মধ্যে TRUSTB1MF, POPULAR1MF, PHPMF1, IFIC1STMF, EXIM1STMF, EBLNRBMF এবং EBL1STMF–এর ক্ষেত্রেও বাজারদরে ইউনিটপ্রতি NAV ৬ থেকে ৭ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। TRUSTB1MF–এর বাজারমূল্যভিত্তিক NAV নেমে এসেছে মাত্র ৬ টাকা ৪২ পয়সায়, যদিও ব্যয়মূল্যে তা ১১ টাকা ৪৭ পয়সা। একইভাবে POPULAR1MF ও PHPMF1–এর ব্যয়মূল্যভিত্তিক NAV ১১ টাকার ওপরে থাকলেও বাজারদর উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে অবস্থান করছে।

রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি পরিচালিত বিভিন্ন ফান্ড যেমন ICBAGRANI1, ICBSONALI1, ICB3RDNRB, PRIME1ICBA এবং ICBAMCL2ND–এর ক্ষেত্রেও বাজারদর ও ব্যয়মূল্যের মধ্যে বড় ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ICBAMCL2ND–এর ব্যয়মূল্যভিত্তিক NAV ১৩ টাকা ৪৪ পয়সা হলেও বাজারদরে তা নেমে এসেছে ৮ টাকা ২৮ পয়সায়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর বাজারমূল্যভিত্তিক NAV কমে যাওয়া স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কবার্তা হলেও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। কারণ ব্যয়মূল্যভিত্তিক NAV এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে, যা বাজার ঘুরে দাঁড়ালে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি করে।

-রফিক


শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সুখবর, নগদ লভ্যাংশ দিল দুই কোম্পানি

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৪:২২:৪৭
শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সুখবর, নগদ লভ্যাংশ দিল দুই কোম্পানি
ছবি: সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুটি বস্ত্র ও স্পিনিং খাতের কোম্পানি—মালেক স্পিনিং মিলস লিমিটেড (MALEKSPIN) এবং রহিম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড (RAHIMTEXT)—তাদের সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ সফলভাবে বিতরণ সম্পন্ন করেছে। উভয় প্রতিষ্ঠানই ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য এই লভ্যাংশ প্রদান করেছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।

কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত রেকর্ড তারিখ অনুযায়ী যেসব বিনিয়োগকারী শেয়ার ধারণ করেছিলেন, তাঁদের ব্যাংক হিসাব বা নির্ধারিত মাধ্যমে নগদ লভ্যাংশ পাঠানো হয়েছে। লভ্যাংশ বিতরণ প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সময়মতো নগদ লভ্যাংশ পরিশোধ কর্পোরেট সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। এতে কোম্পানির আর্থিক শৃঙ্খলা, নগদ প্রবাহ ব্যবস্থাপনা এবং শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন ঘটে। বিশেষ করে চলমান অর্থনৈতিক চাপ ও শিল্পখাতের চ্যালেঞ্জের মধ্যেও লভ্যাংশ বিতরণ বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

উল্লেখ্য, MALEKSPIN ও RAHIMTEXT উভয়ই দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত থেকে বস্ত্র ও স্পিনিং খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ঘোষিত লভ্যাংশের বাস্তব বিতরণ সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর প্রতি স্বল্পমেয়াদি বাজার আগ্রহ ও লেনদেনের গতি প্রভাবিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

-রফিক


জানুয়ারির শুরুতেই শেয়ারবাজারে গতি, কী বলছেন বিশ্লেষকরা

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৪:১৮:৫৩
জানুয়ারির শুরুতেই শেয়ারবাজারে গতি, কী বলছেন বিশ্লেষকরা
ছবি: সংগৃহীত

নতুন বছরের শুরুতে দেশের পুঁজিবাজারে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রোববার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর ২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৬ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৬৭ দশমিক ৩০ পয়েন্টে, যা শতাংশ হিসেবে ১ দশমিক ১৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি নির্দেশ করে। একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ১ দশমিক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৭ দশমিক ১৯ পয়েন্টে এবং ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস৩০ ১৭ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছেছে ১ হাজার ৮৮৭ দশমিক ১০ পয়েন্টে।

লেনদেনের চিত্রেও স্পষ্টভাবে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা গেছে। এ সময় পর্যন্ত মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৪৬টি, যেখানে মোট শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ কোটি ৪৪ লাখ। বাজারে মোট লেনদেনের আর্থিক মূল্য ছাড়িয়েছে ৪ হাজার ৭০৮ কোটি টাকার ঘর। বাজারে অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২১০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে ১৩৩টির দর কমেছে এবং ৪৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সূচক ও লেনদেনের এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন। নতুন বছরের শুরুতে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি নির্বাচিত শেয়ারে ক্রয়চাপ তৈরি হওয়ায় বাজারে এই ইতিবাচক গতি তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে সূচক, লেনদেন ও অংশগ্রহণের পরিসংখ্যান বলছে, বছরের শুরুতে পুঁজিবাজারে আশাবাদের আবহ ফিরে এসেছে।

-রফিক


ব্যাংক হলিডের প্রভাব, বাজারে নেতিবাচক চিত্র

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১১:৪৪:১৩
ব্যাংক হলিডের প্রভাব, বাজারে নেতিবাচক চিত্র
ছবি: সংগৃহীত

‘ব্যাংক হলিডে’ পালনের কারণে বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর দেশের শেয়ারবাজারে কোনো লেনদেন হয়নি। এর ফলে বিদায়ী সপ্তাহে ২৮ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ মাত্র চারটি কার্যদিবসে লেনদেনের সুযোগ পায়। সীমিত এই সময়ে বাজারের দরপতনের চিত্রে স্পষ্টভাবে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর প্রাধান্য দেখা গেছে, যদিও শতাংশের হিসাবে সর্বোচ্চ পতনের শীর্ষে উঠে এসেছে আইএলএফএসএল।

ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা অনুযায়ী, আলোচ্য সপ্তাহে আইএলএফএসএল শেয়ারের দর সবচেয়ে বেশি কমেছে। মাত্র চার কর্মদিবসের লেনদেনেই কোম্পানিটির শেয়ারদর ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যেখানে শেয়ারটির ক্লোজিং দর ছিল ৬৭ পয়সা, সেখানে সপ্তাহ শেষে তা নেমে এসেছে ৬১ পয়সায়।

দরপতনের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যমুনা অয়েল কোম্পানি। সপ্তাহ ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর কমেছে ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আগের সপ্তাহের শেষ দিন যমুনা অয়েলের শেয়ারদর ছিল ১৮৪ টাকা ৭০ পয়সা, যা বিদায়ী সপ্তাহ শেষে নেমে দাঁড়িয়েছে ১৬৮ টাকা ২০ পয়সায়।

তৃতীয় সর্বোচ্চ দরপতনের তালিকায় রয়েছে জিল বাংলা সুগার মিল। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ কমেছে। এর ফলে এক সপ্তাহ আগে ১৪৯ টাকা ৪০ পয়সায় থাকা শেয়ারটি সপ্তাহ শেষে ১৩৭ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে আসে।

এর পরপরই দরপতনের তালিকায় টানা তিনটি অবস্থান দখল করে নেয় মিউচুয়াল ফান্ডগুলো। চতুর্থ অবস্থানে থাকা আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড উভয়ের দরই সমান হারে ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ করে কমেছে। দুই ফান্ডের শেয়ারদরই ২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে নেমে ২ টাকা ৪০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

একই হারে দরপতনের মুখে পড়েছে ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডও। সপ্তাহ শেষে ফান্ডটির শেয়ারদর কমে দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ২ টাকা ৬০ পয়সা। ফলে সাপ্তাহিক লোকসানের তালিকায় মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর আধিপত্য আরও স্পষ্ট হয়েছে।

দরপতনের তালিকায় পরবর্তী অবস্থানগুলোতেও ছিল উল্লেখযোগ্য পতন। ফার্স্ট ফাইন্যান্সের শেয়ারদর কমেছে ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর হ্রাস পেয়েছে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। এছাড়া আরামিট লিমিটেডের শেয়ারদর ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের শেয়ারদর ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ কমেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক হলিডের কারণে লেনদেনের দিন কমে যাওয়ায় বাজারে স্বাভাবিক চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটগুলোর ক্ষেত্রে বিক্রির চাপ তুলনামূলক বেশি থাকায় দরপতনের তালিকায় তাদের উপস্থিতি বেশি চোখে পড়েছে।

-রাফসান


শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০২ ১৫:৪৭:০৯
শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) চলতি সপ্তাহে সূচকের গতি ছিল মিশ্র। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সামান্য বেড়েছে, তবে মোট লেনদেন ও ভলিউম কমেছে। বাজারের বিস্তারেও বেশ স্পষ্টভাবে দেখা গেছে যে বাড়তি শেয়ারের সংখ্যা কমতির চেয়ে বেশি, যদিও কয়েকটি বড় সূচক ও শরিয়াহ সূচক দুর্বল ছিল। ডিএসই’র সাপ্তাহিক “মার্কেট পালস” অনুযায়ী প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে।

সপ্তাহ শেষে ডিএসইএক্স দাঁড়ায় ৪,৯১০.৬১ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের ৪,৮৮৩.৫৭ পয়েন্টের তুলনায় ২৭.০৪ পয়েন্ট বেশি। শতাংশের হিসাবে এটি ০.৫৫ শতাংশ উত্থান। তবে বছর শুরুর পর থেকে ডিএসইএক্স এখনো আগের বছরের শেষ মানের তুলনায় ৫.৮৬ শতাংশ নিচে অবস্থান করছে, যা বাজারে দীর্ঘমেয়াদি আস্থার পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জকে ইঙ্গিত করে।

অন্যদিকে ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০ এই সপ্তাহে কমেছে। ডিএস৩০ নেমে এসেছে ১,৮৬৯.৪২ পয়েন্টে, আগের সপ্তাহে ছিল ১,৮৮২.৫৫। অর্থাৎ ১৩.১৩ পয়েন্ট বা ০.৭০ শতাংশ পতন। শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএসও সামান্য দুর্বল ছিল, ১,০০৬.০০ পয়েন্টে নেমে ০.২৬ শতাংশ কমেছে। তুলনায় এসএমই সূচক DSMEX ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী, ২.৯৭ শতাংশ বেড়ে ৮৭৬.৬১ পয়েন্টে উঠেছে, যা ছোট মূলধনী শেয়ারে স্বল্পমেয়াদি আগ্রহ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

লেনদেনের গতি কিন্তু সূচকের সঙ্গে পুরোপুরি তাল মেলাতে পারেনি। গড় দৈনিক লেনদেন (টাকার অঙ্কে) হয়েছে ৩,৫৪৩.১৪ মিলিয়ন টাকা, আগের সপ্তাহের ৩,৫৮৬.৬৮ মিলিয়নের তুলনায় ১.২১ শতাংশ কম। গড় দৈনিক ভলিউমও কমেছে, ১১৯.১১ মিলিয়ন থেকে ১১৩.৯৪ মিলিয়নে নেমে ৪.৩৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। চার কার্যদিবসে মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ১৪,১৭২.৫৫ মিলিয়ন টাকা, আগের সপ্তাহে ছিল ১৪,৩৪৬.৭০ মিলিয়ন। অর্থাৎ বাজারে অর্থপ্রবাহ সামান্য সংকুচিত হয়েছে।

যদিও লেনদেন কমেছে, বাজার মূলধন বেড়েছে। এই সপ্তাহে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬,৮০৭,৭৯২.১৪ মিলিয়ন টাকা, যা আগের সপ্তাহের ৬,৭৬৮,৭৩৪.১৩ মিলিয়নের তুলনায় ০.৫৮ শতাংশ বেশি। ডলারে বাজার মূলধন ০.৫৭ শতাংশ বেড়ে ৫৫,৬৪২ মিলিয়ন ডলারে উঠেছে। ডলার রেট কার্যত অপরিবর্তিত ছিল, ১২২.৩৫ টাকা বনাম আগের সপ্তাহে ১২২.৩৪ টাকা।

বাজারের সামগ্রিক অংশগ্রহণ চিত্রও তুলনামূলক ইতিবাচক। সপ্তাহজুড়ে দর বেড়েছে ২৩১টি শেয়ারের, অপরিবর্তিত ছিল ৪৫টি, আর কমেছে ১১৩টি। অ্যাডভান্স ডিক্লাইন রেশিও (ADR) ছিল ২.০৪, অর্থাৎ পতনশীলের তুলনায় উত্থানশীল শেয়ারের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। তবে ২৪টি শেয়ার লেনদেনেই আসেনি, যা বাজারের কিছু অংশে স্থবিরতার ইঙ্গিত দেয়।

বোর্ডভিত্তিক লেনদেনে ব্লক মার্কেট ছিল উল্লেখযোগ্য। সাপ্তাহিক টার্নওভারে ব্লক মার্কেটে হয়েছে ১,২৩৩.০৪ মিলিয়ন টাকা, এসএমই বোর্ডে ১৪৬.২৭ মিলিয়ন এবং সরকারি সিকিউরিটিজে ৮৩.৩৬ মিলিয়ন টাকা। ATB বোর্ডে লেনদেন ছিল খুবই সামান্য, ০.০৭ মিলিয়ন টাকা।

খাতভিত্তিক চিত্রে টাকার অঙ্কের হিসাবে টেক্সটাইল ছিল সর্বোচ্চ অংশীদার। টেক্সটাইলে গড় দৈনিক লেনদেন মূল্য ৫৯৪.৭৫ মিলিয়ন টাকা, যা মোটের ১৬.৮৯ শতাংশ। ব্যাংক খাত দ্বিতীয় অবস্থানে, ৫১৪.২৯ মিলিয়ন টাকা এবং মোটের ১৪.৬০ শতাংশ। ফার্মা ও কেমিক্যালস খাতের লেনদেনও শক্ত ছিল, ৪০২.৭৭ মিলিয়ন টাকা, যা মোটের ১১.৪৩ শতাংশ। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে হয়েছে ৩৫৪.৫২ মিলিয়ন টাকা, মোটের ১০.০৭ শতাংশ।

ভলিউমের দিক থেকে টেক্সটাইল খাত আরও এগিয়ে ছিল। গড় দৈনিক ভলিউম ২৬.১৯ মিলিয়ন, যদিও আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে। ব্যাংক খাতেও ভলিউম বেড়েছে, যা এই খাতে তুলনামূলক সক্রিয় ট্রেডিংকে নির্দেশ করে। টেলিকম খাতে গড় দৈনিক লেনদেন মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় ১০৫.২৮ শতাংশ, যদিও খাতটি মাত্র তিনটি কোম্পানির হওয়ায় প্রভাব সীমিত পরিসরে থাকে।

খাতভিত্তিক ব্রেডথে সাধারণ বীমা খাতে উত্থানশীল শেয়ারের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। এ খাতে ৩৭টি কোম্পানি বেড়েছে, ৫টি কমেছে এবং ১টি অপরিবর্তিত ছিল। ব্যাংক খাতেও ২৭টি বেড়েছে, কমেছে মাত্র ২টি। টেক্সটাইল খাতে বেড়েছে ২৮টি, কমেছে ১৯টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ১১টি, অর্থাৎ খাতটি সক্রিয় হলেও দিকনির্দেশনায় বিভক্ত ছিল।

বাজারের মূল্যায়নে এ সপ্তাহে সামগ্রিক বাজার রিটার্ন দেখানো হয়েছে ০.৩৬ শতাংশ এবং মার্কেট পিই ছিল ৮.৬৬। কম পিই সাধারণভাবে মূল্যায়ন তুলনামূলক নিচে থাকার ইঙ্গিত দিলেও, বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে কোম্পানি-নির্দিষ্ট আয়, ঝুঁকি, নগদপ্রবাহ ও বাজার পরিস্থিতি একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

সপ্তাহের শীর্ষ টার্নওভার শেয়ারে সিটিব্যাংক ছিল সর্বাগ্রে। সিটিব্যাংকের ক্লোজিং প্রাইস ছিল ২৪.৭০ টাকা এবং টার্নওভার ১৬৬.৯৯ মিলিয়ন টাকা। এরপর ছিল ORIONINFU (৩৫৭.১০ টাকা, ১১৬.৪০ মিলিয়ন) এবং UTTARABANK (২৩.৭০ টাকা, ১০৬.১২ মিলিয়ন)। তালিকায় আরও ছিল RAHIMAFOOD, SONALIPAPR, SIMTEX, BSC, SAIHAMCOT, SQURPHARMA এবং FINEFOODS, যা বাজারে ব্যাংক, টেক্সটাইল, ফার্মা ও কিছু নির্বাচিত ম্যানুফ্যাকচারিং শেয়ারের সক্রিয়তা নির্দেশ করে।

ব্লক ট্রেডের ক্ষেত্রেও সিটিব্যাংক শীর্ষে ছিল, টার্নওভার ১৭২.৫৫ মিলিয়ন টাকা। বড় বাজার মূলধনী শেয়ারের মধ্যে GP ব্লক ট্রেডে দ্বিতীয় অবস্থানে, টার্নওভার ১১২.৭০ মিলিয়ন টাকা এবং বাজার মূলধন ৩৪৬,৩৫১.৯৬ মিলিয়ন টাকা। এছাড়া CITYGENINS, GREENDELT, BERGERPBL, PTL ও APEXSPINN সহ কয়েকটি শেয়ারে উল্লেখযোগ্য ব্লক লেনদেন হয়েছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান পরিবর্তন বা বড় অর্ডারের উপস্থিতি বোঝাতে পারে।

দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ছিল BDWELDING, সপ্তাহজুড়ে ২৮.৩৮ শতাংশ বেড়ে ১৯.০০ টাকায় ওঠে। TALLUSPIN ২৫.৪৫ শতাংশ, ISLAMICFIN ১৭.৮৬ শতাংশ এবং APEXSPINN ১৬.৩২ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি REGENTTEX, GENNEXT, PENINSULA, AAMRATECH, SAIHAMTEX এবং BDFINANCE উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখিয়েছে, যা মূলত অপেক্ষাকৃত ছোট ও মাঝারি শেয়ারে দামের গতি বাড়ার প্রবণতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

অন্যদিকে দরপতনে ILFSL ছিল শীর্ষে, ৮.৯৬ শতাংশ কমে ০.৬১ টাকায় নামে। JAMUNAOIL ৮.৯৩ শতাংশ, ZEALBANGLA ৭.৯০ শতাংশ কমেছে। কয়েকটি মিউচুয়াল ফান্ড যেমন IFIC1STMF, POPULAR1MF এবং TRUSTB1MF প্রতিটিই ৭.৬৯ শতাংশ করে কমেছে। FIRSTFIN, DBH1STMF, ARAMIT এবং NORTHERNও উল্লেখযোগ্য পতনের তালিকায় ছিল।

সামগ্রিকভাবে, সপ্তাহজুড়ে বাজারে সূচকের সামান্য উত্থান দেখা গেলেও লেনদেনের গতি কমেছে এবং বড় সূচকগুলোর মধ্যে ভিন্নমুখী প্রবণতা ছিল। ব্যাংক ও টেক্সটাইল খাতে লেনদেনের আধিপত্য, এসএমই সূচকের শক্তিশালী উত্থান এবং ব্লক ট্রেডে বড় শেয়ারের উপস্থিতি মিলিয়ে বাজারে সিলেক্টিভ অ্যাক্টিভিটির ইঙ্গিত মিলেছে।

-রাফসান

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত