Banner

বন্ধ নাক খুলতে নেজাল ড্রপ নয়, কাজে লাগান এই ৭ ঘরোয়া উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ০৪ ১৫:৫৪:২১
বন্ধ নাক খুলতে নেজাল ড্রপ নয়, কাজে লাগান এই ৭ ঘরোয়া উপায়
ছবি: সংগৃহীত

ধুলাবালিতে অ্যালার্জি বা ঋতু পরিবর্তনের কারণে ঠান্ডা-সর্দি লাগা একটি সাধারণ সমস্যা। ঠান্ডা-সর্দি বা অ্যালার্জির কারণে নাক বন্ধ হয়ে গেলেই অনেকে নেজাল ড্রপ ব্যবহার করেন। যদিও এতে তাৎক্ষণিক স্বস্তি মেলে, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় এটি ব্যবহার করলে শরীরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই হঠাৎ নাক বন্ধ হয়ে গেলে ঘরোয়া সমাধান অনুসরণ করলে সহজেই আরাম পাওয়া যায়।

বন্ধ নাক খুলতে যা যা করতে পারেন

১. বাষ্প গ্রহণ (Steam Inhalation): বাষ্প গ্রহণ শ্লেষ্মা আলগা করতে সাহায্য করে। এটি নাকের ভেতরের ফোলাভাব কমিয়ে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেয়। ভালো ফল পেতে একটি তোয়ালের নিচে গভীরভাবে শ্বাস নিন।

২. কপালে গরম সেঁক দিন: কপাল বা নাকের আশেপাশে গরম সেঁক দিলে বন্ধ নাক থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। এই প্রক্রিয়া রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে নাকের পথ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

৩. এসেনশিয়াল তেল ব্যবহার: ইউক্যালিপটাস বা পিপারমিন্ট এসেনশিয়াল তেলে মেন্থলের মতো যৌগ থাকে, যা শ্বাস-প্রশ্বাসের পথ খুলে দেয়। এই প্রয়োজনীয় তেলগুলো একটি বাহক তেলের (carrier oil) সঙ্গে মিশিয়ে নাকের কাছে বা বুকে লাগালে তাৎক্ষণিক আরাম পাওয়া যায়।

৪. গরম মধু-লেবুর পানি: মধু এবং লেবুর পানি শরীরকে আর্দ্র রাখে, গলার জ্বালা বন্ধ করে এবং শ্লেষ্মা তরল করতে সাহায্য করে। মধুতে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য এবং লেবুর ভিটামিন সি একসঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে নাক বন্ধ থেকে মুক্তি দেয়।

৫. হলুদ দুধ: হলুদে থাকা কারকুমিন একটি শক্তিশালী প্রদাহরোধী উপাদান। গরম দুধে হলুদ মিশিয়ে পান করলে শরীরের প্রদাহ কমে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ হয়। এই মিশ্রণ নাকের বন্ধভাব দূর করে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

৬. ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার: কমলালেবু, কিউই, স্ট্রবেরি এবং অন্যান্য ফল বন্ধ নাক সৃষ্টিকারী সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। নিয়মিত এই ধরনের খাবার গ্রহণ করলে ঠান্ডা ও নাকের বন্ধভাব কমবে।

৭. আদা চা: আদায় থাকা অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। উষ্ণ আদা চা পানে গলার খুশখুশে ভাব কমে। একইসঙ্গে নাকের ফোলাভাব কমায় এবং দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করে।


খেজুরের গুড়ে কী আছে, জানলে অবাক হবেন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ০৭:২৮:৫৪
খেজুরের গুড়ে কী আছে, জানলে অবাক হবেন
ছবি: সংগৃহীত

শীত মৌসুম শুরু হলেই দেশের গ্রাম থেকে শহর সবখানেই খেজুরের গুড়ের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। বাংলার শীতকালীন খাদ্যসংস্কৃতিতে খেজুরের গুড় শুধু একটি মিষ্টি উপাদান নয়; এটি ঐতিহ্য, পুষ্টি এবং মৌসুমি স্বাস্থ্যসচেতনতার প্রতীক। পিঠা-পুলি থেকে শুরু করে নিত্যদিনের খাবার সবখানেই খেজুরের গুড়ের ব্যবহার চোখে পড়ে।

কেন শীতেই খেজুরের গুড়ের কদর বেশি

খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় প্রস্তুত মূলত শীতকালেই হয়। ঠান্ডা আবহাওয়ায় রসের মান ভালো থাকে এবং গুড় স্বাভাবিকভাবেই বেশি সুস্বাদু ও ঘন হয়। এই মৌসুমি বৈশিষ্ট্যের কারণেই শীতকালে খেজুরের গুড়ের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বাড়ে।

খেজুর গুড় এর যত উপকারিতা

খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক খাদ্য

খেজুরের গুড় ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক ও সেলেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজে ভরপুর। এসব খনিজ শরীরের দৈনন্দিন কার্যক্রম সচল রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘদিনের খনিজ ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখে।

রক্ত পরিষ্কার ও রক্তাল্পতা প্রতিরোধে ভূমিকা

খেজুরের গুড়ে থাকা আয়রন রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা উন্নত করতে সহায়তা করে। নিয়মিত পরিমিত গ্রহণে রক্ত পরিষ্কার হতে পারে এবং রক্তাল্পতা বা দুর্বলতার ঝুঁকি কমে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এটি উপকারী বলে মনে করা হয়।

হজমশক্তি বাড়ায় ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

খেজুরের গুড়ে থাকা প্রাকৃতিক এনজাইম হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে, গ্যাস ও পেট ফাঁপা দূর করতে এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে সহায়ক। শীতকালে হজমের সমস্যা যাদের বেশি হয়, তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা

পরিশোধিত চিনির পরিবর্তে সীমিত পরিমাণে খেজুরের গুড় ব্যবহার করলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ কমানো সম্ভব। এতে মেদ জমার ঝুঁকি কিছুটা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে অতিরিক্ত গ্রহণ করলে বিপরীত প্রভাব পড়তে পারে এ বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর

খেজুরের গুড়ে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ফ্রি র‌্যাডিকেলস কমাতে সাহায্য করে। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়। শীতকালে সর্দি-কাশি, ঠান্ডাজনিত অ্যালার্জি ও সংক্রমণ থেকে কিছুটা সুরক্ষা পেতে এটি সহায়ক হতে পারে।

হাড় ও পেশি শক্তিশালী রাখতে সহায়তা

ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড়ের গঠন মজবুত করে এবং ম্যাগনেসিয়াম পেশির কার্যকারিতা উন্নত করে। বয়স্কদের হাড়ের ক্ষয় বা পেশির দুর্বলতা কমাতে খেজুরের গুড় পরোক্ষভাবে উপকার দিতে পারে।

প্রাকৃতিক শক্তির উৎস হিসেবে খেজুরের গুড়

খেজুরের গুড় দ্রুত শক্তি জোগাতে সক্ষম। শারীরিক পরিশ্রমের পর বা শীতের ক্লান্তি কাটাতে এটি একটি কার্যকর প্রাকৃতিক শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।

ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব

ভেতর থেকে পুষ্টি জোগানোর কারণে খেজুরের গুড় ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং চুলের গোড়া শক্ত করতে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত পরিমিত গ্রহণে ত্বকের শুষ্কতা কমতে পারে, যা শীতকালে একটি সাধারণ সমস্যা।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য ভূমিকা

খেজুরের গুড়ে থাকা পটাশিয়াম ও সোডিয়াম শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা হতে পারে, যদিও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে পরিমিত গ্রহণ জরুরি।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সতর্কতা

সব উপকারের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে। খেজুরের গুড়ে প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ বেশি হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এমনকি যাদের প্রিডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার প্রবণতা আছে, তাদেরও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত খাওয়া উচিত নয়।

খেজুরের গুড় শীতকালীন একটি ঐতিহ্যবাহী ও পুষ্টিকর খাদ্য, যা স্বাদ ও স্বাস্থ্য দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনভাবে ও পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে এটি শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করে খাওয়াই সর্বোত্তম।

সূত্রঃ গুগল


সকালে খালি পেটে জিরা–লেবু পানি কেন এত উপকারী

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ০৭:০০:৫৪
সকালে খালি পেটে জিরা–লেবু পানি কেন এত উপকারী
ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে জিরা ও লেবু পানির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। পুষ্টিবিদদের মতে, এই সহজ পানীয়টি হজমশক্তি উন্নত করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা, শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় টক্সিন বের করে দেওয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। জিরা বিপাকক্রিয়া সক্রিয় করে, আর লেবু ভিটামিন সি-এর শক্তিশালী উৎস হওয়ায় সামগ্রিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা

জিরা–লেবু পানি নিয়মিত পান করলে বিপাকক্রিয়া দ্রুত হয়, যা ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে। ক্ষুধা কমানোর প্রবণতা তৈরি হওয়ায় অতিরিক্ত খাবার গ্রহণও কমে। বিশেষ করে পেটের আশপাশে জমে থাকা চর্বি কমাতে এই পানীয়টি কার্যকর হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

হজমশক্তি বাড়ায় ও গ্যাস কমায়

জিরা হজমতন্ত্রের জন্য পরিচিত একটি উপাদান। এটি গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিকে সক্রিয় করে পাচকরস নিঃসরণে সহায়তা করে। ফলে বদহজম, গ্যাস, পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি কমতে পারে। লেবুর হালকা অম্লীয় গুণ হজম প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করে তোলে।

শরীরের ডিটক্স প্রক্রিয়ায় সহায়ক

জিরা ও লেবু উভয়ই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ। এই উপাদানগুলো শরীর থেকে ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিক্যাল ও টক্সিন অপসারণে সহায়তা করে। নিয়মিত গ্রহণে লিভার ও পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে

লেবুতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে। জিরার ভেতরে থাকা বিভিন্ন খনিজ ও উদ্ভিজ্জ উপাদান শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করে। মৌসুমি সর্দি-কাশি ও দুর্বলতা কমাতেও এটি সহায়ক হতে পারে।

ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব

ভেতর থেকে শরীর পরিষ্কার হলে তার প্রভাব পড়ে ত্বক ও চুলে। জিরা–লেবু পানি নিয়মিত পান করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়তে পারে, ব্রণ ও নিস্তেজভাব কমতে পারে। চুলের গোড়া শক্ত রাখতেও এই পানীয়টি উপকারী বলে মনে করা হয়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য সহায়তা

গবেষণাভিত্তিক মতামত অনুযায়ী, জিরা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। লেবুতে থাকা উপাদানগুলোও গ্লাইসেমিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

অ্যাসিডিটি ও অম্বল উপশমে ভূমিকা

হজমতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখার মাধ্যমে এই পানীয়টি অ্যাসিডিটি ও অম্বলের সমস্যা কমাতে পারে। জিরা পাকস্থলীর অতিরিক্ত অম্লতা প্রশমনে সাহায্য করে, আর লেবু পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করলে হজমে আরাম দেয়।

রক্তাল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক

জিরা আয়রনের ভালো উৎস হিসেবে পরিচিত। নিয়মিত গ্রহণে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে, যা রক্তাল্পতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কীভাবে তৈরি করবেন

রাতে এক গ্লাস পানিতে প্রায় তিন চা-চামচ জিরা ভিজিয়ে রাখুন। সকালে সেই পানি ছেঁকে তাতে লেবুর রস ও অল্প লবণ মিশিয়ে নিন। চাইলে কুসুম গরম অবস্থায় পান করা যেতে পারে।

কখন পান করা সবচেয়ে ভালো

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে খালি পেটে জিরা–লেবু পানি পান করলে সর্বোচ্চ উপকার পাওয়া যায়। এটি সারাদিনের জন্য শরীরকে সতেজ রাখে এবং হজমতন্ত্রকে সক্রিয় করে।


হাড়কাঁপানো শীতে রোগ প্রতিরোধে তুলসী চায়ের জাদুকরী সব গুণ  

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১২:০৫:২৫
হাড়কাঁপানো শীতে রোগ প্রতিরোধে তুলসী চায়ের জাদুকরী সব গুণ  
ছবি : সংগৃহীত

পৌষের কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশার প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা এবং নাক বন্ধের মতো সমস্যা নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। শীতকালীন এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে এবং দ্রুত সুস্থ হতে প্রাকৃতিকভাবে তুলসী চা এক দারুণ সমাধান। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে তুলসী পাতায় রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ভাইরাল ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ যা কেবল সর্দি-কাশি উপশমই করে না বরং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা ও ধূলিকণার আধিক্য থাকায় ভাইরাস দ্রুত ছড়ায়। নিয়মিত তুলসী চা পান করলে ফুসফুসের কফ পরিষ্কার হতে সাহায্য করে এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের অস্বস্তি দূর হয়। এতে থাকা বিশেষ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের বিষাক্ত উপাদান দূর করে ভেতর থেকে উষ্ণতা জোগায়। বিশেষ করে যারা দীর্ঘস্থায়ী খুসখুসে কাশি বা গলা ব্যথায় ভুগছেন তাদের জন্য এক কাপ গরম তুলসী চা তাৎক্ষণিক আরামদায়ক হতে পারে।

তুলসী চা বানানো অত্যন্ত সহজ। এক কাপ পানিতে ৬-৭টি তাজা তুলসী পাতা ভালো করে ফুটিয়ে নিয়ে এর সাথে আদা, লবঙ্গ বা দারুচিনি যোগ করলে এর গুণাগুণ আরও বৃদ্ধি পায়। সবশেষে চিনি পরিহার করে সামান্য মধু মিশিয়ে পান করা সবচেয়ে উপকারী। দিনে অন্তত দুই কাপ এই চা পান করলে শীতকালীন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। তবে গর্ভবতী নারী বা বিশেষ শারীরিক জটিলতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিয়মিত তুলসী চা গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র : আনন্দবাজার


হাড়কাঁপানো শীতে ঘর হবে উষ্ণ: জানুন গিজার ও হিটারের বাজারদর

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১১:৪৭:২১
হাড়কাঁপানো শীতে ঘর হবে উষ্ণ: জানুন গিজার ও হিটারের বাজারদর
ছবি : সংগৃহীত

সারাদেশে শীতের তীব্রতা চরমে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে জনজীবনে কনকনে ঠান্ডার দাপট অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা থাকায় দৈনন্দিন কাজে স্বস্তি পেতে সাধারণ মানুষ এখন ঝুঁকছেন আধুনিক প্রযুক্তি পণ্যের দিকে। বিশেষ করে ঘরকে উষ্ণ রাখতে রুম হিটার এবং গরম পানির সুবিধা পেতে গিজারের চাহিদা বর্তমানে তুঙ্গে রয়েছে। দেশের প্রধান ইলেকট্রনিক্স বাজারগুলোতে এখন দেশি-বিদেশি নানা ব্র্যান্ডের গিজার ও হিটারের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে।

বর্তমানে বাজারে ৩০ লিটার থেকে শুরু করে ৬০ লিটার ধারণক্ষমতার গিজার বেশ জনপ্রিয়। ছোট পরিবারের জন্য ৩০ লিটারের গিজার সাশ্রয়ী হলেও বড় পরিবারের চাহিদা মেটাতে ৬০ লিটারের গিজার কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ যার গড় দাম ১৭ হাজার টাকার আশেপাশে। গিজারের ক্ষেত্রে এখন ডিজিটাল ও অ্যানালগ দুই ধরণের সংস্করণই পাওয়া যাচ্ছে। ডিজিটাল গিজারের সুবিধা হলো এতে পানির তাপমাত্রা সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় অন্যদিকে দেশি অ্যানালগ গিজারগুলোতে পানি গরম হলে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল লাইটের ব্যবস্থা থাকে। কেনার সময় পরিবারের সদস্য সংখ্যা বুঝে সঠিক লিটার এবং ওয়ারেন্টির বিষয়টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

অন্যদিকে রুম হিটার কেনার ক্ষেত্রে হিটারের ওয়াট এবং রুমের আয়তনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সাধারণ মানের রুম হিটার ১ হাজার টাকা থেকে শুরু হলেও উন্নতমানের প্রিমিয়াম মডেলগুলো ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। একটি দুই হাজার ওয়াট সক্ষমতার থার্মোস্ট্যাট সম্পন্ন হিটার সাধারণত ৪৪০ বর্গফুট পর্যন্ত জায়গা উষ্ণ রাখতে সক্ষম। বড় ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে একাধিক হিটার ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সরাসরি স্টেডিয়াম মার্কেট বা নিউমার্কেটের মতো বড় বাজার থেকে কিনলে দামাদামি করে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সংগ্রহের সুযোগ থাকে। অনলাইন থেকে কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই আগের ক্রেতাদের রিভিউ এবং সার্ভিস সেন্টারের সুবিধা যাচাই করে নেওয়া উচিত।


কনকনে ঠান্ডায় পানিভীতি কাটানোর উপায়: গোসল হবে এখন উপভোগ্য

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১১:৪২:৩৯
কনকনে ঠান্ডায় পানিভীতি কাটানোর উপায়: গোসল হবে এখন উপভোগ্য
ছবি : সংগৃহীত

পৌষের কনকনে ঠান্ডায় অনেকের দৈনন্দিন রুটিনে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় গোসল। হাড়কাঁপানো শীতে পানি ছোঁয়ার ভয়ে অনেকেই সপ্তাহের পর সপ্তাহ গোসল এড়িয়ে চলেন। তবে চিকিৎসকদের মতে গোসল পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে শরীরে ময়লা ও ব্যাকটেরিয়া জমে ত্বকের নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে। এই ‘দুর্ভোগ’ থেকে মুক্তি পেতে এবং গোসলকে আনন্দদায়ক করতে হালকা গরম পানি হতে পারে আপনার প্রধান সঙ্গী। তবে খেয়াল রাখতে হবে পানি যেন অতিরিক্ত গরম না হয় কারণ তা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে খসখসে ভাব বাড়িয়ে দেয়।

শীতকালীন গোসলের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ব্যয় না করে ১০ থেকে ১২ মিনিটের মধ্যে তা শেষ করা বুদ্ধিমানের কাজ। গোসলের অন্তত পাঁচ মিনিট আগে শরীরে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল মেখে নিলে ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষা স্তর তৈরি হয় যা পানি লাগলেও শরীরকে অতিরিক্ত শুষ্ক হতে দেয় না। যারা খুব ভোরে গোসল করতে হিমশিম খান তারা দুপুরের সময়টি বেছে নিতে পারেন। সরাসরি মাথায় পানি না ঢেলে প্রথমে হাত-পা ভিজিয়ে শরীরকে তাপমাত্রার সাথে মানিয়ে নিতে দেওয়া জরুরি। এতে শরীর হুট করে ‘শকে’ চলে যাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

গোসল শেষে ত্বক আর্দ্র রাখতে তিন মিনিটের মধ্যেই ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার বা লোশন ব্যবহার করা প্রয়োজন। যারা কোনোভাবেই গোসল করতে পারছেন না তাদের জন্য ‘হট টাওয়েল বাথ’ বা গরম ভেজা তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছে নেওয়া একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। বিশেষ করে শরীরের স্পর্শকাতর অংশগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। গোসলের আগে সামান্য ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম করে শরীর গরম করে নিলে ঠান্ডার তীব্রতা অনেকটা কম অনুভূত হয়। এই ছোট ছোট কৌশলগুলো মেনে চললে শীতের গোসল আর ভয়ের কারণ হয়ে থাকবে না।


শীতের রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট: ইনহেলার না থাকলে যা করা জরুরি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১১:২৩:২৯
শীতের রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট: ইনহেলার না থাকলে যা করা জরুরি
ছবি : সংগৃহীত

পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে রাজধানীসহ সারা দেশে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। কনকনে ঠান্ডা বাতাস, কুয়াশা এবং ধুলোবালির কারণে অনেকেরই হঠাৎ করে শ্বাস নিতে সমস্যা শুরু হয়। বিশেষ করে রাতে শোয়ার পর বুকে চাপ অনুভব করা বা কাশির আধিক্য দেখা দিলে রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। চিকিৎসকদের মতে, এমন জরুরি পরিস্থিতিতে যদি হাতের কাছে ইনহেলার না থাকে, তবে সঠিক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

হঠাৎ হাঁপানির টান উঠলে রোগীকে কখনোই শুইয়ে দেওয়া যাবে না; বরং পিঠ টানটান করে সোজা হয়ে বসাতে হবে। ঝুঁকে বসলে ফুসফুসে বাতাসের যাতায়াত আরও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এরপর নাক দিয়ে দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ার অভ্যাস করতে হবে, যাকে ‘ব্রেদিং এক্সারসাইজ’ বলা হয়। এটি ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কিছুটা স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। এছাড়া এক কাপ হালকা গরম পানি বা গ্রিন টি পান করলে শ্বাসনালির কফ কিছুটা পাতলা হয় এবং শ্বাস নিতে আরাম বোধ হয়।

তবে গরম পানির ভাপ বা স্টিম ইনহেলেশন নেওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে। পানিতে কোনো উগ্র সুগন্ধি বা এসেনশিয়াল অয়েল না মেশানোই ভালো, কারণ এটি অ্যালার্জি বাড়িয়ে দিতে পারে। যদি দেখা যায় রোগীর কথা বলতে প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে, ঠোঁট বা নখ নীলচে হয়ে আসছে কিংবা হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে, তবে এক মুহূর্ত দেরি না করে নিকটবর্তী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিতে হবে। শীতের এই সময়ে হাঁপানি রোগীদের ধুলোবালি ও উগ্র সুগন্ধি এড়িয়ে চলা এবং সবসময় গরম কাপড় ও মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।


নাগরিকত্ব পেতে চান? জানুন কোন কোন দেশে খুব সহজে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১১:১৬:০৮
নাগরিকত্ব পেতে চান? জানুন কোন কোন দেশে খুব সহজে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়
আয়ারল্যান্ডের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে দ্বৈত জাতীয়তা বজায় রাখা যায়/ ছবি: পেক্সেলস

বিনিয়োগ, বিয়ে কিংবা বংশসূত্রের ভিত্তিতে বিশ্বের অনেক দেশেই এখন দ্বৈত নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সুগম হয়েছে। অনেক সময় পছন্দের দেশে নাগরিকত্ব পাওয়া কঠিন মনে হলেও কিছু কিছু দেশ বিদেশি নাগরিকদের জন্য এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে পারলেই এসব দেশের পাসপোর্ট হাতে পাওয়া সম্ভব, যা অনেক ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভ্রমণ সুবিধা ও করমুক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি করে। চলুন দেখে নেওয়া যাক এমন পাঁচটি দেশ সম্পর্কে যেখানে নাগরিকত্ব পাওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ।

ইউরোপের দেশ আয়ারল্যান্ডে নাগরিকত্ব পাওয়ার অন্যতম সহজ মাধ্যম হলো বংশানুক্রম। যদি কারও বাবা-মা কিংবা দাদা-দাদির মধ্যে কেউ আইরিশ নাগরিক হন, তবে তিনি খুব সহজেই আইরিশ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কোনো কঠিন ভাষা পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল রাখা যায়। আবার ক্যারিবিয়ান দ্বীপদেশ ডোমিনিকা বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য সারা বিশ্বে জনপ্রিয়। দেশটির অর্থনৈতিক তহবিলে কিংবা রিয়েল এস্টেটে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করলে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে দেশটির পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব, যা দিয়ে বিশ্বের ১৪০টির বেশি দেশে ভিসামুক্ত যাতায়াত করা যায়।

বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হলো তুরস্ক। কমপক্ষে চার লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি বা রিয়েল এস্টেট কিনলে কয়েক মাসের মধ্যেই তুর্কি নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই এবং নিজের আসল জাতীয়তাও ত্যাগ করতে হয় না। অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ ভানুয়াতুতে উন্নয়ন সহায়তা প্রোগ্রামের অধীনে সরকারি তহবিলে বিনিয়োগ করে দুই মাসেরও কম সময়ে নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব। এই দেশের নাগরিকত্ব থাকলে শতাধিক দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগের পাশাপাশি বিদেশের আয়ের ওপর কর ছাড়ের সুবিধাও পাওয়া যায়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের কাছে পর্তুগালের ‘গোল্ডেন ভিসা’ প্রোগ্রামটি সবচেয়ে জনপ্রিয়। নির্দিষ্ট ফান্ড কিংবা রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করে পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাস করলে পর্তুগিজ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে স্থানীয় ভাষায় প্রাথমিক দক্ষতা অর্জনের পরীক্ষা দিতে হয়। এই পাসপোর্ট থাকলে সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে অবাধ যাতায়াত ও বসবাসের অধিকার পাওয়া যায়। নাগরিকত্ব পাওয়ার এই ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ থাকলে বিদেশের পাসপোর্ট পাওয়া এখন আর অসম্ভবের কিছু নয়।

সূত্র: হাউ স্টাফ ওয়ার্কস


বিয়ের আগে পুরুষদের ত্বক উজ্জ্বল রাখার সহজ উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০২ ১৪:৫৭:৪১
বিয়ের আগে পুরুষদের ত্বক উজ্জ্বল রাখার সহজ উপায়
ছবি: সংগৃহীত

আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে ত্বকের যত্নকে নারীদের বিষয় হিসেবেই দেখা হয়। ফলে বেশিরভাগ পুরুষ এখনো মনে করেন, স্কিনকেয়ার বা ফেসিয়াল তাদের জন্য প্রয়োজনীয় নয়। অথচ প্রতিদিন রোদে বের হওয়া, ধুলাবালির সংস্পর্শ, ঘাম, শেভিংয়ের চাপ সব মিলিয়ে পুরুষদের ত্বক নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবুও এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে অনেকেই ত্বকের যত্ন নেওয়ার বিষয়ে উদাসীন থাকেন।

বিশেষ করে বিয়ের মতো জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের আগেও এই অবহেলা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেখানে কনের রূপচর্চা ও ত্বকের যত্ন শুরু হয় মাসখানেক আগে থেকেই, সেখানে অনেক বর শেষ মুহূর্তে এসে শুধু চুল কাটা বা দাড়ি ছাঁটাকেই যথেষ্ট মনে করেন। অথচ বিয়ে মানেই শুধু পোশাক নয়—ক্যামেরার আলো, অতিথিদের দৃষ্টি আর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতির জন্য সুস্থ ও সতেজ ত্বকের বিকল্প নেই।

বিয়ের দিনে ত্বক কেন গুরুত্বপূর্ণ

বিয়ের অনুষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ক্যামেরার সামনে থাকতে হয়। মুখে যদি রুক্ষতা, ক্লান্তি বা ব্রণের ছাপ থাকে, তাহলে তা সহজেই নজরে পড়ে এবং পুরো লুকের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। তাই ত্বক পরিষ্কার, উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যবান রাখা শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, আত্মবিশ্বাসেরও বড় অংশ।

দিনভর বাইরে থাকার ফলে মুখে ঘাম, ধুলা আর অতিরিক্ত তেল জমে এক ধরনের অদৃশ্য আস্তরণ তৈরি হয়। এজন্য সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমানোর আগে মুখ পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ সাবানের বদলে ত্বকের জন্য উপযোগী মাইল্ড ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে ময়লা দূর হয়, আবার ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতাও বজায় থাকে।

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার নিয়ে ভুল ধারণা

অনেক পুরুষ মনে করেন, যেহেতু তাদের ত্বক তেলতেলে, তাই ময়েশ্চারাইজারের প্রয়োজন নেই। বাস্তবে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। ত্বক পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না পেলে তা নিস্তেজ দেখায় এবং বয়সের ছাপ দ্রুত পড়ে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী হালকা জেল বা নন-গ্রিসি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক নরম থাকে, উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় থাকে।

সানস্ক্রিন ছাড়া বাইরে নয়

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের সবচেয়ে বড় শত্রু। নিয়মিত রোদে বের হলে ত্বকে ট্যান, কালচে দাগ এমনকি অকালবার্ধক্যও দেখা দিতে পারে। তাই বাইরে যাওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে বিয়ের আগের দিনগুলোতে সানস্ক্রিন ব্যবহারে ত্বকের রং ও টেক্সচার অনেকটাই উন্নত হয়।

সঠিক শেভিংয়ের গুরুত্ব

শেভিং পুরুষদের দৈনন্দিন রুটিনের অংশ হলেও ভুল পদ্ধতিতে শেভ করলে ত্বকে জ্বালা, লালচে ভাব ও ব্রণ তৈরি হতে পারে। পুরোনো বা ভোঁতা ব্লেড এড়িয়ে চলাই ভালো। শেভ শেষে অ্যালকোহল-ফ্রি আফটারশেভ বা হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক আরাম পায় এবং দাগ পড়ার ঝুঁকি কমে।

ঘরোয়া যত্ন হিসেবে সপ্তাহে একদিন এক চা চামচ চালের গুঁড়া, এক চিমটি হলুদ ও কয়েক ফোঁটা দুধ মিশিয়ে হালকা পেস্ট বানিয়ে মুখে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ত্বকের লালচে ভাব কমায় এবং স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়ক।

স্ক্রাবিংয়ে ফিরুক ত্বকের প্রাণ

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে মৃত কোষ জমে মুখ নিষ্প্রাণ দেখাতে পারে। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার মাইল্ড স্ক্রাব ব্যবহার করা প্রয়োজন। ঘরেই সহজভাবে এক চা চামচ চিনি ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করা যায়। পরিষ্কার মুখে হালকা হাতে দুই মিনিট ম্যাসাজ করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে ত্বক পরিষ্কার ও নরম থাকে। তবে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে এ বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।

ভেতর থেকে যত্ন না নিলে ফল মিলবে না

ত্বকের যত্ন কেবল বাহ্যিক নয়, ভেতর থেকেও নিতে হয়। পর্যাপ্ত পানি না পান করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং ঘুমের অভাবে চোখের নিচে কালি ও মুখে ক্লান্তির ছাপ পড়ে। দিনে অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান এবং নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম ত্বক ভালো রাখার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায়।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


টাকা ছাড়াই ব্রিটিশ কাউন্সিলের ফ্রি কোর্স: ২০২৬-এর বড় সুযোগ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ২১:২৪:৩২
টাকা ছাড়াই ব্রিটিশ কাউন্সিলের ফ্রি কোর্স: ২০২৬-এর বড় সুযোগ
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ সংস্থা ব্রিটিশ কাউন্সিল ২০২৬ সালে শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবীদের জন্য বিশেষ সুযোগ হিসেবে ‘ফ্রি অনলাইন কোর্স’ কার্যক্রম শুরু করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ ইংরেজি ভাষা শিক্ষা, যোগাযোগ দক্ষতা, ব্যবসায়িক শিষ্টাচার এবং ডিজিটাল দক্ষতার ওপর উন্নত প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। বিশেষত যারা নিজের ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের এই কোর্সগুলো সম্পূর্ণ ‘সেলফ-পেসড’, অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা তাঁদের সুবিধাজনক সময়ে ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনের মাধ্যমে পাঠ সম্পন্ন করতে পারবেন। কোর্সের মডিউলগুলোতে ভিডিও লেসন, কুইজ এবং ইন্টারঅ্যাক্টিভ ম্যাটেরিয়াল রয়েছে যা শেখার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও আনন্দদায়ক করে তোলে। ব্রিটিশ কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, এই কোর্সগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই এবং কোনো আবেদন ফি বা রেজিস্ট্রেশন ফি প্রদান করতে হবে না।

উল্লেখ্য যে, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা বাড়াতে যারা আইইএলটিএস (IELTS) প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের জন্যও এই প্ল্যাটফর্মে বিশেষ রিসোর্স ও গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। কোর্স শেষে অংশগ্রহণকারীরা ডিজিটাল ব্যাজ এবং নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সার্টিফিকেট অর্জনের সুযোগও পেতে পারেন। আগ্রহীরা ব্রিটিশ কাউন্সিলের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট কিংবা সরাসরি এই লিংকে (https://tinyurl.com/yctzsk6b) গিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন। ২০২৬ সালের জন্য উন্মুক্ত এই কোর্সগুলো ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নতুন দুয়ার খুলে দেবে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত