Banner

দীর্ঘ ১৯ বছর পর পৈতৃক নিবাসে তারেক রহমান ‎

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ০৯:২১:৫০
দীর্ঘ ১৯ বছর পর পৈতৃক নিবাসে তারেক রহমান ‎
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৯ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজের পৈতৃক ভিটা ও রাজনৈতিক পুণ্যভূমি বগুড়ায় আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকার বাইরে এটিই হবে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক ও নির্বাচনী সফর। আগামী ১১ জানুয়ারি (রবিবার) তিনি বগুড়ায় পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাতযাপন করবেন বলে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৯ বছর ১৮ দিন পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের এই জনপদে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বগুড়া জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, তারেক রহমান ১২ জানুয়ারি (সোমবার) সকালে শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল গণদোয়ায় অংশ নেবেন। এই দোয়া মাহফিলটি মূলত তাঁর মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজন করা হয়েছে। এরপর তিনি সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। যাওয়ার পথে তিনি মহাস্থানগড়ে অবস্থিত বিখ্যাত সুফি সাধক হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (র.)-এর মাজার শরিফ জিয়ারত করবেন।

তারেক রহমানের এই সফরটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) তাঁর মনোনয়নপত্রটি যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, তাঁর হলফনামা ও নথিপত্রে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে সরাসরি অংশ নেওয়ার এটিই হবে তাঁর প্রথম বড় পদক্ষেপ।

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারেক রহমানকে মহাস্থানগড় এলাকায় এক বিশাল গণসংবর্ধনার মাধ্যমে স্বাগত জানানো হবে। বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের প্রার্থী মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে হাজার হাজার নেতাকর্মী এই অভ্যর্থনায় অংশ নেবেন। ১৯ বছর আগে ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর শেষবার বগুড়া সফর করেছিলেন তারেক রহমান। তাঁর এই আগমনকে ঘিরে বগুড়া শহরের রিয়াজ কাজী লেনের পৈতৃক বাড়ি ‘গ্রিন এস্টেট’ ইতিমধ্যে সংস্কার ও সজ্জিত করা হয়েছে। স্থানীয় নেতাদের মতে, তাঁর এই সফরের মধ্য দিয়ে উত্তরবঙ্গের পুরো রাজনীতিতে এক নতুন গতির সঞ্চার হবে।


একাত্তরকে বাদ দিলে দেশের অস্তিত্বই থাকবে না: তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ০৯:৫৩:২৩
একাত্তরকে বাদ দিলে দেশের অস্তিত্বই থাকবে না: তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একাত্তরকে বাদ দিলে দেশের অস্তিত্বই থাকবে না। গতকাল সোমবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও গণসংহতি আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সব মত ও পথের মানুষকে নিয়ে একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা প্রথমে সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর তারেক রহমানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় বসেন সিপিবির মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজসহ শীর্ষ নেতারা। তারেক রহমান বলেন, “একাত্তরের চেতনা, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং চব্বিশের বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই আমাদের এগোতে হবে। আমাদের সমাজে আস্তিক-নাস্তিক, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই থাকবে। সবাইকে নিয়ে আমরা একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়তে চাই।”

বৈঠক শেষে বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ সাংবাদিকদের জানান, তারা মূলত বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সমবেদনা জানাতে এসেছিলেন। তবে আলোচনায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পেয়েছে। বাম নেতাদের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান স্পষ্ট করেন যে, জামায়াতে ইসলামীর ‘জাতীয় সরকার’ গঠন সংক্রান্ত বক্তব্যের সঙ্গে বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি বলেন, “দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার বাইরে তাদের সঙ্গে অন্য কোনো বিষয়ে কথা হয়নি।”

একই দিনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাও তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পরমতসহিষ্ণুতার একটি নতুন সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়। তারেক রহমান বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর কাছ থেকে গঠনমূলক পরামর্শ গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাম ও ডানপন্থী দলগুলোর এই সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ০৯:৪৭:৩৪
অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি বলে মনে করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসনের অভ্যন্তরে থাকা বেশ কিছু কর্মকর্তা এখনো একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। গতকাল সোমবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন এবং ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। দেড় হাজার শহীদের আত্মত্যাগ এবং ৩০ হাজারের অধিক পঙ্গুত্ববরণকারী মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত ‘নতুন বাংলাদেশ’ কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা চক্রান্তের হাতে জিম্মি হতে দেওয়া যাবে না। নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনো প্রকাশ্য দিবালোকে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়।

অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছে জামায়াত। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে শতভাগ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না করে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না ঘটিয়ে নির্বাচন আয়োজন করলে তা জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে না। কোনো বিশেষ দলের দিকে ঝুঁকে না পড়ে দেশপ্রেমের সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

নির্বাহী পরিষদের এই বৈঠকে জামায়াত নেতারা শপথ নেন যে, কোনো ধরনের চক্রান্ত বা বিদেশি আধিপত্যবাদের কাছে বাংলাদেশকে নতজানু হতে দেওয়া হবে না। একই সাথে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। বৈঠকে নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


তিন দশকের নারী শাসনের ইতি: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্বের খরা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ০৮:৫১:৩৬
তিন দশকের নারী শাসনের ইতি: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্বের খরা
চ্যাটজিপিটি নির্মিত প্রতীকী ছবি

নব্বইয়ের দশক থেকে টানা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রধান বিরোধী দলের চাবিকাঠি ছিল দুই মহীয়সী নারীর হাতে। বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা—পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার আসন অলঙ্কৃত করেছেন। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার পলায়ন এবং সম্প্রতি গত ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির সেই ‘নারী প্রধান’ অধ্যায়ের আপাত সমাপ্তি ঘটেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের শীর্ষ নেতৃত্বে এখন এক অভূতপূর্ব নারী নেতৃত্বের শূন্যতা বিরাজ করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে নেতৃত্বে এলেও দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মাধ্যমে তাঁরা নারী নেতৃত্বের প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন। তবে তাঁদের দীর্ঘ শাসনামলে দলের অভ্যন্তরে কোনো টেকসই বা প্রক্রিয়াগত নারী নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডীলারা চৌধুরীর মতে, বড় দুই দলেই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের উপস্থিতি এখনো খুবই সীমিত। রাজনৈতিক দলগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নগণ্য। আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ৩০০ আসনেই কোনো নারী প্রার্থী না থাকা এই পুরুষতান্ত্রিক ধারায় ফেরার ইঙ্গিতকে আরও জোরালো করেছে।

বর্তমানে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভিন হক এবং অন্যান্য বিশ্লেষকদের মতে, যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন কোনো নারী শীর্ষ নেতৃত্ব উঠে আসার মতো পরিবেশ রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে নেই। এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন পরবর্তী প্রজন্মের দুই নারী—বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জায়মা রহমান এবং শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। কূটনীতিকদের সাথে জায়মা রহমানের সাক্ষাৎ এবং সায়মা ওয়াজেদকে নিয়ে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের জল্পনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব আবারো হয়তো উত্তরাধিকার সূত্রেই আসতে পারে।

তবে মাঠ পর্যায়ের নারী কর্মীদের অভিযোগ, তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব গড়ে তোলার কোনো গণতান্ত্রিক চর্চা দলগুলোর মধ্যে নেই। মনোনয়ন বা কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনো পারিবারিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ফলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে যে দলই জয়ী হোক না কেন, দেশের শীর্ষ নির্বাহী পদে কোনো নারীকে দেখার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশের রাজনীতি কি তবে আবারো দীর্ঘ মেয়াদে পুরুষ নেতৃত্বকেন্দ্রিক ধারায় ফিরে যাচ্ছে—এটিই এখন সব মহলের বড় প্রশ্ন।


মোস্তাফিজ ইস্যু এখন রাজনৈতিক: তারেক-ফুয়াদ বৈঠকের পর বড় বার্তা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ২১:৪১:৩২
মোস্তাফিজ ইস্যু এখন রাজনৈতিক: তারেক-ফুয়াদ বৈঠকের পর বড় বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় স্বার্থ ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশের সব রাজনৈতিক শক্তিকে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। ব্যারিস্টার ফুয়াদ স্পষ্ট করে বলেন যে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য হলেও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভাজন কাম্য নয়।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত (পলিসি) ইস্যু। এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক জানান, রাষ্ট্রসত্তা ও জাতি গঠনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোই হওয়া উচিত আগামী দিনের বাংলাদেশের ভিত্তি। তিনি উল্লেখ করেন যে, সেই কাঠামোর ভেতরে থেকেই দেশের সব রাজনৈতিক শক্তি কাজ করতে আগ্রহী। বৈঠকে বাংলাদেশের জন্য ‘ওয়েস্টমিনস্টার মডেল’-এর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

দিল্লির আধিপত্যবাদ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার ফুয়াদ কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে এক থাকতে হবে। বৈঠকে ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করা, বেকারত্ব দূরীকরণ, পরিবেশ রক্ষা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বৈপ্লবিক সংস্কার নিয়ে তারেক রহমানের সাথে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, তারেক রহমান এসব নীতিগত বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে এমন নীতিনির্ধারণী আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গেও কথা বলেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ। তিনি মন্তব্য করেন যে, মোস্তাফিজের বিষয়টি কেবল খেলাধুলার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটিকে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা উচিত। বৈঠকে এবি পার্টির প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া এবং ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি। এই বৈঠককে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও জাতীয় ঐক্যের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে রাষ্ট্র পুনর্গঠন করা হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ২১:২৯:০৩
শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে রাষ্ট্র পুনর্গঠন করা হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ
ছবি : সংগৃহীত

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সৃষ্ট শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে জাতি গঠন ও বাংলাদেশ পুনর্গঠনের কাজে তা ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের রামপুর মিছবাহুল মাদ্রাসায় আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এই মন্তব্য করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় খতমে কোরআন ও এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক সংকল্পের কথা তুলে ধরে বলেন, “এই শক্তি কেবল নির্বাচনী স্বার্থে নয়, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রাষ্ট্রকে নতুনভাবে গড়ে তোলার জন্য কাজে লাগানো হবে।” তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশ কখনো কোনো দেশের করদ রাজ্য হওয়ার জন্য সৃষ্টি হয়নি এবং গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে এই জাতি প্রস্তুত রয়েছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন পর্যন্ত জিয়াউর রহমান জনগণের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষায় কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগ একদলীয় বাকশাল কায়েম করলেও জিয়াউর রহমান তা বিলুপ্ত করে গণতন্ত্রের চর্চা শুরু করেছিলেন। এছাড়া সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ ও মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সাথে স্মরণ করেন এবং শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তা বাতিলের সমালোচনা করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা ও ত্যাগের কথা তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “দেশনেত্রী আজ শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে না থাকলেও তিনি এদেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে চিরঞ্জীব হয়ে আছেন।” ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা তাঁর জনপ্রিয়তার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিপীড়িত মানুষের দোয়া ও বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রকামী মানুষের শ্রদ্ধা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ বিশ্বাস এবং নৈতিকতার ভিত্তিতেই সবসময় সঠিক রাজনীতিবিদদের মূল্যায়ন করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


দেশকে পেছনে নেওয়ার গভীর চক্রান্ত হচ্ছে: ফখরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ২০:২২:১৫
দেশকে পেছনে নেওয়ার গভীর চক্রান্ত হচ্ছে: ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশকে আবারও অন্ধকারের পথে এবং পেছনের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য চারদিকে নানামুখী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র জাল বোনা হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশ আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এক দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশকে পেছনে টেনে নেওয়ার অনেক রকম চক্রান্ত চলছে। সেখান থেকে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণতন্ত্রের লড়াই এবং ২০২৪ সালে আমাদের তরুণদের বুকের তাজা রক্ত দেওয়ার যে মহান লক্ষ্য ছিল, সেই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি।” বিশেষ করে যারা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেই ব্যবসায়ী সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হতে পারলেই একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বেগম খালেদা জিয়ার ওপর বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের জেল-জুলুম এবং মিথ্যা মামলার ফিরিস্তি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল আবেগঘন কণ্ঠে কবি আল মাহমুদের একটি কবিতা পাঠ করে শোনান। তিনি বলেন, বেগম জিয়া কেবল একজন নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন পুরো জাতির প্রেরণার উৎস। তিনি সত্যিকার অর্থেই একটি জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিলেন এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। মহাসচিব আশা প্রকাশ করেন যে, খালেদা জিয়ার চলে যাওয়ার শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে দেশবাসী এক নতুন ও সোনালী ভবিষ্যৎ নির্মাণ করবে।

গণতন্ত্র এবং জনগণের কল্যাণের প্রতি বেগম জিয়ার একাগ্রতার কথা স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, দেশের প্রতি এবং তাঁর আদর্শের প্রতি সত্যিকার শ্রদ্ধা জানাতে হলে আমাদের একটি বৈষম্যহীন দেশ গড়তে হবে। আইসিসির সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে এই স্মরণ সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে দেশের উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।


তারেক রহমানের নেতৃত্বেই নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনা: দুদু

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১৫:১৯:৫১
তারেক রহমানের নেতৃত্বেই নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনা: দুদু
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শামসুজ্জামান দুদু। তাঁর মতে, তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে দেশের মানুষ আগামী দিনের বাংলাদেশ নিয়ে নতুন প্রত্যাশা দেখছে এবং জনমনে দৃঢ় বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে বিএনপি।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব–এর সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের উদ্যোগে আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান নিজেকে একটি গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

শামসুজ্জামান দুদুর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তারেক রহমান অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর নেতৃত্বেই দেশের মানুষ একটি দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন দেখছে। এই আস্থা আবেগনির্ভর নয়, বরং একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ঐক্যের মাধ্যমেই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব সংহত করা সম্ভব হবে।

বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া–এর রাজনৈতিক অবদান তুলে ধরে দুদু বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং তিনবারের নির্বাচিত সরকারপ্রধান ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে কখনো নির্বাচনে পরাজয়ের নজির নেই এবং তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করেই নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, পতিত সরকারের সময়ে গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়াকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, তাঁর নেতৃত্বেই কন্যাশিক্ষা বিনা বেতনে বিস্তৃত হয়েছে এবং নারীসমাজ রাষ্ট্র ও সমাজের মূলধারায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তিনি শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানান, খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা পরিচালনার জন্য।

কৃষিখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্ত ছিল ঐতিহাসিক। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি প্রথম উদ্যোগ হিসেবে কৃষকদের পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এনেছিল।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ করে দুদু বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বন্দিদশায় থেকেও খালেদা জিয়া মাথা নত করেননি। কারণ তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। দোয়া মাহফিলে আয়োজক কমিটির সভাপতি নূর আফরজ বেগমসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

-রফিক


অভ্যুত্থানের পর দেশ গড়ার বার্তা দিলেন তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১৫:০৯:১৮
অভ্যুত্থানের পর দেশ গড়ার বার্তা দিলেন তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে নতুন বাস্তবতা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে, তা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পারস্পরিক বিভাজন নয়; বরং সরকার ও বিরোধী দলসহ সকল রাজনৈতিক শক্তিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি কার্যালয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। আলোচনার সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, অভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ ও সহযোগিতাই হবে ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার প্রধান ভিত্তি।

বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর–ও উপস্থিত ছিলেন। দলীয় সূত্রগুলো জানায়, এই বৈঠকটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও আলোচনায় দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পায়।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির জানান, বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা এদিন গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। একইসঙ্গে তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের সময়ও গ্রহণ করেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা সকাল ১১টার দিকে শোক বইয়ে স্বাক্ষর শেষে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে তারা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন এবং গণতান্ত্রিক ধারাকে এগিয়ে নিতে পারস্পরিক সংলাপ ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

এই বৈঠকে বাম গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জোটের শীর্ষ নেতারা, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, শরীফ নুরুল আম্বিয়া, নাজমুল হক প্রধান, ডা. মুশতাক হোসেন, বজলুর রশীদ ফিরোজ, রাজেকুজ্জামান রতন, ইকবাল কবীর জাহিদ, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, মাসুদ রানা, মোশরেফা মিশু ও আব্দুল আলী।

-রফিক


কোটি টাকার গাড়ি ও গহনার পাহাড়: নির্বাচনী হলফনামায় যা যা আছে মির্জা আব্বাসের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১১:৪৬:২৮
কোটি টাকার গাড়ি ও গহনার পাহাড়: নির্বাচনী হলফনামায় যা যা আছে মির্জা আব্বাসের
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের হলফনামায় বিপুল সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই প্রভাবশালী সদস্য তাঁর নির্বাচনি হলফনামায় মোট ৬৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব দাখিল করেছেন। রাজধানী ঢাকার সাবেক এই মেয়র ও সাবেক মন্ত্রীর আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে উঠে এসেছে বাড়িভাড়া, ব্যাংক আমানত এবং বিভিন্ন আর্থিক বিনিয়োগের তথ্য।

হলফনামা অনুযায়ী, মির্জা আব্বাসের বার্ষিক আয় ৯ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। মজার বিষয় হলো, পেশা হিসেবে তিনি ‘ব্যবসা’র কথা উল্লেখ করলেও সেই খাত থেকে কোনো আয়ের কথা দেখাননি। তাঁর মোট আয়ের সিংহভাগই আসে সঞ্চয়পত্র, পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ এবং বাড়িভাড়া থেকে। এর মধ্যে কেবলমাত্র বাড়িভাড়া থেকেই তাঁর বছরে ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা আয় হয়। এ ছাড়া শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র থেকে তিনি বছরে প্রায় ৫ কোটি টাকা আয় করেন এবং ব্যাংক আমানতের সুদ বাবদ ১ কোটি ২৯ লাখ ১৭ হাজার টাকার তথ্য দিয়েছেন।

সম্পদের বিবরণীতে দেখা যায়, মির্জা আব্বাসের নামে ঢাকা ব্যাংকের ৫১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকার শেয়ার রয়েছে। স্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে ১৮ লাখ টাকার অকৃষি জমি এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বিপুল পরিমাণ ভূ-সম্পত্তি। এর মধ্যে ৮ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্লোর, ৬ হাজার বর্গফুটের বাণিজ্যিক ভবন এবং আরও পাঁচটি ফ্ল্যাটের তথ্য রয়েছে, যেগুলোর অর্জনকালীন মূল্য তিনি উল্লেখ করেননি। এ ছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহে ৩০ লাখ টাকার গহনা এবং তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়ে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয়ের তথ্য রয়েছে।

কেবল মির্জা আব্বাসই নন, তাঁর স্ত্রী জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের নামেও ৩৩ কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দেওয়া হয়েছে। আফরোজা আব্বাসের সম্পদের বড় অংশটিও ঢাকা ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগ করা। শিক্ষাগত যোগ্যতায় স্নাতক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেওয়া মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে বর্তমানে ২২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সবশেষ অর্থবছরে তিনি ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং তাঁর স্ত্রী ১১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন বলে হলফনামায় জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিপুল সম্পদের খতিয়ান নির্বাচনি প্রচারণায় নতুন আলোচনার খোরাক জোগাবে।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত

এসকিউ ব্রোকারেজের ট্রেক বাতিল করল ডিএসই

এসকিউ ব্রোকারেজের ট্রেক বাতিল করল ডিএসই

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। সংস্থাটি এসকিউ ব্রোকারেজ হাউস লিমিটেডের নামে... বিস্তারিত