শীতে মাইগ্রেনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া উপায় জানুন

শীতকালে অনেকের কাছেই মাথাব্যথা এক যন্ত্রণাদায়ক সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য হাড়কাঁপানো ঠান্ডা বাতাস এবং ডিহাইড্রেশন বড় বিপদ ডেকে আনে। চিকিৎসকদের মতে শীতে তৃষ্ণা কম পাওয়ায় পানি পানের পরিমাণ কমে যায় যা শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে মাইগ্রেনকে ট্রিগার করে। এছাড়া শীতের দিন ছোট হওয়ায় সূর্যের আলো কম পাওয়া যায় যা শরীরে ভিটামিন ডি’র অভাব ঘটায়। গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন ডি এবং ম্যাগনেশিয়ামের অভাব মাইগ্রেনের অন্যতম প্রধান কারণ।
মাইগ্রেনের যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হলো মাথা ও কান ঢেকে রাখা। বাইরে বের হলে মাফলার, টুপি কিংবা হুডি ব্যবহার করা জরুরি যাতে সরাসরি ঠান্ডা বাতাস স্নায়ুতে আঘাত করতে না পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং খাদ্যতালিকায় ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন—বাদাম, পালংশাক ও কলা রাখা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চা বা কফি পানের অভ্যাস সাময়িক আরাম দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি মাথাব্যথা বাড়াতে পারে। বিএসএমএমইউ-এর মতো বিশেষায়িত হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা জানান যে শীতে বদ্ধ ঘরে রুম ফ্রেশনার বা ধূপের তীব্র সুগন্ধিও মাইগ্রেনের অন্যতম কারণ হতে পারে।
ঘরোয়া উপায়ে স্বস্তি পেতে আদার রস বা আদার টুকরো পানিতে মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। এছাড়া গরম পানিতে লবণ ও লেবুর রস বা মেন্থল দিয়ে ভাপ নিলে শ্বাসনালী পরিষ্কার হয় এবং মাথাব্যথা দ্রুত কমে। রাতে নির্দিষ্ট সময়ে পর্যাপ্ত ঘুম এবং কম্পিউটার বা টিভির স্ক্রিনে কম সময় কাটানো মাইগ্রেন রোগীদের জন্য বাধ্যতামূলক। কোনো খাবারে বা পরিবেশে ব্যথা বাড়ছে তা নিয়মিত ডায়েরিতে নোট করলে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই নিজের সমাধান খুঁজে পেতে পারেন। তবে ব্যথা অসহনীয় হলে এবং ঘরোয়া উপায়ে না কমলে দ্রুত একজন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ বা নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নীরবে রক্তপাত? পাইলসের লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ জানুন
সময়মতো রোগ শনাক্ত না হলে ছোট একটি উপসর্গও বড় জটিলতায় রূপ নিতে পারে। অথচ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শরীর আগেভাগেই সতর্ক সংকেত দেয়। সমস্যাটি হলো, আমরা অনেক সময় সেই সংকেতকে গুরুত্ব দিই না বা লজ্জা, ভয় ও ভ্রান্ত ধারণার কারণে এড়িয়ে যাই। পাইলস বা হেমোরয়েড তেমনই একটি নীরব কিন্তু মারাত্মকভাবে অবহেলিত রোগ, যার প্রাথমিক লক্ষণ উপেক্ষা করলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে জটিল ও যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠতে পারে।
পাইলস মূলত মলদ্বার বা নিুচের রেকটামের ভেতরে বা আশপাশে রক্তনালীর অস্বাভাবিক ফোলা অবস্থা। এটি দেখতে অনেকটা ভ্যারিকোজ ভেইনের মতো এবং চাপ পড়লে মলদ্বারের বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রোগের ঝুঁকি বাড়লেও বর্তমানে তরুণ ও কর্মক্ষম বয়সীদের মধ্যেও পাইলসের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, স্থূলতা, কম আঁশযুক্ত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মলত্যাগ এবং ভারী ওজন তোলা এই রোগের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত।
পাইলসের ধরন ও বৈশিষ্ট্য
পাইলস প্রধানত তিন ধরনের হয়ে থাকে ইন্টারনাল, এক্সটারনাল এবং থ্রম্বোজড পাইলস।ইন্টারনাল পাইলস মলদ্বারের ভেতরে অবস্থান করে এবং শুরুতে দেখা যায় না বা অনুভূত হয় না। রোগ বাড়লে এগুলো বাইরে বেরিয়ে আসে, যাকে প্রোল্যাপ্সড পাইলস বলা হয়। প্রোল্যাপ্সের মাত্রা অনুযায়ী ইন্টারনাল পাইলস চারটি গ্রেডে ভাগ করা হয়, যেখানে শেষ গ্রেডে এটি স্থায়ীভাবে বাইরে বেরিয়ে থাকে এবং তীব্র ব্যথার কারণ হয়।এক্সটারনাল পাইলস মলদ্বারের বাইরে দৃশ্যমান হয় এবং সাধারণত ছোট গাঁটের মতো অনুভূত হয়। এতে ব্যথা, জ্বালা ও অস্বস্তি বেশি হয়।থ্রম্বোজড পাইলসে রক্ত জমাট বাঁধে, যা নীলচে রঙের শক্ত গাঁট তৈরি করে এবং তীব্র যন্ত্রণা সৃষ্টি করতে পারে।
লক্ষণ যা কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়
পাইলসের লক্ষণ ধরনভেদে ভিন্ন হতে পারে। ইন্টারনাল পাইলসের ক্ষেত্রে ব্যথাহীন উজ্জ্বল লাল রক্তপাত, মলত্যাগের পর জ্বালাপোড়া, মিউকাস নিঃসরণ ও চুলকানি দেখা যায়। এক্সটারনাল পাইলসে মলদ্বারের চারপাশে গাঁট, ব্যথা, অস্বস্তি ও রক্তপাত হয়। দীর্ঘদিন রক্তপাত চলতে থাকলে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রোল্যাপ্সড পাইলস রক্তসরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে ভয়াবহ ব্যথার সৃষ্টি করে।
প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা
পাইলস প্রতিরোধের মূল কৌশল হলো মল নরম রাখা এবং মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ এড়ানো। এজন্য দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত খাবার অন্তর্ভুক্ত করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, দীর্ঘ সময় বসে না থাকা, নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা জরুরি। প্রয়োজনে ফাইবার সাপ্লিমেন্ট, সিটজ বাথ, টপিক্যাল ক্রিম ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
কখন চিকিৎসা প্রয়োজন হয়
ঘরোয়া পদ্ধতি ও ওষুধে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে না এলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অপরিহার্য। প্রাথমিক পর্যায়ে নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসা কার্যকর হতে পারে। এর মধ্যে রাবার ব্যান্ড লিগেশন, স্ক্লেরোথেরাপি, ইনফ্রারেড কোয়াগুলেশন, লেজার থেরাপি ও ইলেকট্রোকোয়াগুলেশন উল্লেখযোগ্য। এগুলো তুলনামূলক কম ব্যথাযুক্ত এবং দ্রুত সুস্থতার সুযোগ দেয়।
অস্ত্রোপচার কখন প্রয়োজন
যেসব ক্ষেত্রে পাইলস অত্যন্ত জটিল বা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান থাকে, সেখানে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। হেমোরয়েডেক্টমিতে সম্পূর্ণ পাইলস অপসারণ করা হয়, আর স্ট্যাপলড হেমোরয়েডোপেক্সি পদ্ধতিতে প্রোল্যাপ্সড পাইলস ভেতরে তুলে রক্তসরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। উভয় ক্ষেত্রেই সঠিক চিকিৎসা ও পরবর্তী যত্ন সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সার্বিকভাবে বলা যায়, পাইলস কোনো লজ্জার রোগ নয়, বরং অবহেলা করলে এটি জীবনযাত্রার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। শরীরের সংকেত বুঝে সময়মতো চিকিৎসা নিলেই এই সমস্যাকে সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সূত্র: Meril
নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ: জানুন ঝুঁকি ও সমাধান
হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। উপসর্গহীন এই রোগ দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকলসহ প্রাণঘাতী জটিলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন কোনো না কোনো মাত্রার উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, যার একটি বড় অংশ এখনও শনাক্তের বাইরে রয়ে গেছে।
উচ্চ রক্তচাপ কী এবং কেন এটি বিপজ্জনক
রক্ত যখন ধমনীর ভেতর দিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাপ নিয়ে প্রবাহিত হয় এবং সেই অবস্থা দীর্ঘ সময় স্থায়ী থাকে, তখন তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলা হয়। এতে হৃদপিণ্ডকে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করে সারা শরীরে রক্ত সরবরাহ করতে হয়, ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে।
রক্তচাপ সাধারণত দুটি মানে প্রকাশ করা হয়। একটি হলো সিস্টোলিক চাপ, যা হৃদপিণ্ড সংকুচিত হওয়ার সময় সৃষ্টি হয়, আর অন্যটি ডায়াস্টোলিক চাপ, যা হৃদপিণ্ড বিশ্রামে থাকাকালীন ধমনীর চাপ নির্দেশ করে। সাধারণভাবে ১২০/৮০ মিলিমিটার পারদ চাপকে স্বাভাবিক ধরা হলেও, নিয়মিতভাবে ১৪০/৯০ বা তার বেশি হলে সেটিকে চিকিৎসাগতভাবে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপ কেন বাড়ছে
বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ন, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ২০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৪০ থেকে ৬৫ শতাংশ প্রবীণ জনগোষ্ঠী উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো অধিকাংশ মানুষ উপসর্গ না থাকায় নিজেদের রোগী হিসেবে ভাবেন না। ফলে রোগ শনাক্ত হয় দেরিতে, যখন ইতোমধ্যে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।
উচ্চ রক্তচাপের ধরন
চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চ রক্তচাপকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
প্রথমটি হলো প্রাইমারি বা এসেনশিয়াল হাইপারটেনশন, যা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে এবং এর পেছনে একক কোনো কারণ থাকে না। বংশগত প্রবণতা, বয়স বৃদ্ধি, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, স্থূলতা, কম শারীরিক কর্মকাণ্ড ও দীর্ঘমেয়াদি স্ট্রেস একসঙ্গে কাজ করে এই ধরনের উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি করে।
দ্বিতীয়টি হলো সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন, যা হঠাৎ শুরু হয় এবং সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট রোগের ফল। কিডনি সমস্যা, হরমোনজনিত জটিলতা, স্লিপ অ্যাপনিয়া, জন্মগত হৃদরোগ বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এই ধরনের রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।
কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে
যদিও যেকোনো বয়সে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে, তবে কিছু গোষ্ঠীর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। বয়স ৪০ পেরোলেই ধমনীর স্থিতিস্থাপকতা কমতে শুরু করে, যা রক্তচাপ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
যাদের পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস রয়েছে, ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগে ভুগছেন, ধূমপান করেন বা অতিরিক্ত ওজন বহন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পর হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকি বাড়ে, আর পুরুষদের মধ্যে তুলনামূলক কম বয়সেই উচ্চ রক্তচাপ দেখা যায়।
উপসর্গ না থাকাই সবচেয়ে বড় বিপদ
উচ্চ রক্তচাপকে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি কোনো স্পষ্ট লক্ষণ সৃষ্টি করে না। তবে রক্তচাপ অত্যধিক বেড়ে গেলে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বুকে চাপ, শ্বাসকষ্ট, দৃষ্টির সমস্যা বা নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
হঠাৎ করে রক্তচাপ বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছালে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের মতো জরুরি পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে কী ক্ষতি হতে পারে
চিকিৎসাহীন উচ্চ রক্তচাপ ধীরে ধীরে হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, কিডনি ও চোখের রক্তনালীগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকল, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয় বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
কীভাবে উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয় করা হয়
উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয়ের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিয়মিত ব্লাড প্রেসার মাপা। একবার বেশি আসলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। সাধারণত কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে একাধিক রিডিং নেওয়া হয়।
প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা, ইউরিন টেস্ট, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম কিংবা ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেটরি মনিটরিং করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে জীবনযাত্রার পরিবর্তন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাদ্য তালিকায় লবণ কমানো, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান পরিহার এবং মানসিক চাপ কমানো রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়ুরেটিকস, এসিই ইনহিবিটর, বেটা ব্লকার বা ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়। তবে নিজে নিজে ওষুধ গ্রহণ বিপজ্জনক হতে পারে।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন
রক্তচাপ বারবার ১৪০/৯০ এর বেশি এলে, বুকে ব্যথা বা তীব্র মাথাব্যথা হলে, চোখে ঝাপসা দেখলে কিংবা আগে থেকেই ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। সময়মতো শনাক্ত করা গেলে এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে এই নীরব ঘাতককে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সূত্র: PRAAVA HEALTH
নীরব ঘাতক কোলেস্টেরল; শরীরে যে ৫টি সংকেত দেখলে দ্রুত সতর্ক হবেন
মানুষের শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক কার্যক্রম সচল রাখতে কোলেস্টেরল একটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান হলেও, এর মাত্রার সামান্যতম তারতম্য জীবনঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে রক্তে যখন 'লো-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন' বা এলডিএল (LDL)—যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ হিসেবে অভিহিত করা হয়—তার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়, তখন তা ধমনীতে ব্লকেজ তৈরির পাশাপাশি হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, উচ্চ কোলেস্টেরল প্রায়ই কোনো প্রাথমিক উপসর্গ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে, যা একে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে। তবে শরীর কিছু সূক্ষ্ম সংকেতের মাধ্যমে এই বিপদের ইঙ্গিত দেয়, যা সঠিক সময়ে শনাক্ত করা গেলে বড় ধরণের স্বাস্থ্য বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব।
উচ্চ কোলেস্টেরলের অন্যতম প্রধান শারীরিক লক্ষণ প্রকাশ পায় মানুষের পায়ের কার্যকলাপে। রক্তে চর্বির পরিমাণ বেড়ে গেলে রক্ত চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়, যার ফলে হাঁটার সময় বা এমনকি বিশ্রামের সময়ও পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা ও খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। অনেক সময় পা ভারী হয়ে আসা বা হঠাৎ পেশিতে টান লাগার মতো সমস্যাগুলো রক্ত সঞ্চালন বিঘ্নিত হওয়ারই প্রমাণ দেয়। এছাড়াও হাত ও পা মাঝে মাঝে অসাড় হয়ে যাওয়া কিংবা ঝিনঝিন করার মতো অনুভূতিও উচ্চ কোলেস্টেরলের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে যদি কারও হাত-পা প্রায়ই ঠান্ডা হয়ে থাকে কিংবা ত্বকে নীলচে আভা দেখা যায়, তবে তা ধমনীতে প্রতিবন্ধকতার সংকেত হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।
শরীরের ঊর্ধ্বাংশের কিছু ব্যথাও কোলেস্টেরল বাড়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল। বুকের মধ্যে জ্বালাপোড়া, ভারী চাপ অনুভূত হওয়া কিংবা তীব্র টান ধরা মূলত হার্ট অ্যাটাকের পূর্বলক্ষণ হতে পারে, যা সরাসরি কোলেস্টেরলজনিত ব্লকেজের সাথে যুক্ত। রক্ত সঞ্চালন সঠিকভাবে না হওয়ার কারণে এই ব্যথা কেবল বুকেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা অনেক সময় ঘাড়, চোয়াল এবং কাঁধেও ছড়িয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি শরীরের বাহ্যিক কিছু পরিবর্তনও এই রোগের জানান দেয়। চিকিৎসকদের মতে, চোখের পাতা বা এর চারপাশে হালকা হলুদ রঙের বলয় বা দাগ দেখা দেওয়া উচ্চ কোলেস্টেরলের একটি বিশেষ লক্ষণ, যা দেখলে দেরি না করে রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত।
শারীরিক সামর্থ্যের দ্রুত অবনতিও উচ্চ কোলেস্টেরলের একটি অন্যতম উপসর্গ। সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠা, সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গেলে শ্বাসকষ্ট হওয়া কিংবা সারাক্ষণ মাথা ভারী ও অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ করা এই রোগের সাধারণ চিত্র। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন যে, শরীরে এ ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে তাকে সাধারণ ক্লান্তি বা সামান্য পেশিব্যথা বলে অবহেলা করা ঠিক নয়। সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ভারসাম্য বজায় রেখে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো গুরুতর জটিলতা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
সুস্থ গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করতে ৫টি মারাত্মক ভুল এড়িয়ে চলুন
গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল একটি সময়। এই পর্যায়টি যেমন আনন্দ ও উত্তেজনার বার্তা নিয়ে আসে, তেমনি মা ও শিশু উভয়ের সুস্বাস্থ্যের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়। অনেক নারী এই সময়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকার চেষ্টা করলেও প্রায়ই ভুল তথ্য, অহেতুক ভয় কিংবা সামাজিক চাপের কারণে কিছু সাধারণ কিন্তু মারাত্মক ভুল করে ফেলেন। এই ভুল সিদ্ধান্তগুলো অনেক সময় মা ও গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গর্ভাবস্থায় সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অধিকাংশ জটিলতা এড়িয়ে একটি সুস্থ ও নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা সম্ভব।
গর্ভাবস্থায় অন্যতম প্রধান ভুল হলো প্রসবপূর্ব চেকআপ বা নিয়মিত ডাক্তারি পরীক্ষা এড়িয়ে চলা কিংবা এতে বিলম্ব করা। নিয়মিত চেকআপ মিস করলে শিশুর সঠিক বৃদ্ধি যেমন পর্যবেক্ষণ করা যায় না, তেমনি মায়ের রক্তচাপের ওঠানামা কিংবা রক্তে শর্করার মাত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে এই পরীক্ষাগুলো করালে গর্ভাবস্থাকালীন যেকোনো জটিলতা প্রাথমিক পর্যায়েই নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। পুষ্টির বিষয়েও অনেক সময় অজ্ঞতা বা ভুল খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করতে দেখা যায়। প্রচলিত একটি ধারণা হলো ‘দুজনের জন্য খেতে হবে’, যা আসলে বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল। গর্ভাবস্থায় খাবারের পরিমাণের চেয়ে খাবারের গুণগত মানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া বেশি জরুরি। প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং বিশেষ করে ফলিক অ্যাসিডের মতো পুষ্টি উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করা আবশ্যক। যেকোনো নতুন ডায়েট শুরুর আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া তাই অপরিহার্য।
আরেকটি আশঙ্কাজনক ভুল হলো চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহার করা। গর্ভাবস্থায় সাধারণ ব্যথানাশক বা ঠান্ডা লাগার ওষুধও ভ্রূণের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এমনকি অনেক ভেষজ উপাদানও গর্ভাবস্থায় হিতে বিপরীত ফল দিতে পারে। তাই কোনো ওষুধ গ্রহণের আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ছাড়পত্র নেওয়া উচিত। পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম একদম বন্ধ করে দেওয়াও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। মাঝারি মাত্রার শারীরিক সক্রিয়তা, যেমন নিয়মিত হাঁটাচলা, প্রসবপূর্ব যোগব্যায়াম বা হালকা স্ট্রেচিং গর্ভকালীন স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকা বরং রক্তচাপ বৃদ্ধি বা প্রসবকালীন জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
পরিশেষে, মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য এবং চাপের বিষয়টি অনেক সময় গুরুত্ব পায় না, যা একটি বড় ধরণের অবহেলা। গর্ভাবস্থায় মানসিক চাপ বা উদ্বেগ স্বাভাবিক মনে হলেও এটি সরাসরি মায়ের ঘুম ও হরমোনের ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর প্রভাব পড়তে পারে শিশুর বিকাশের ওপরও। তাই শারীরিক অসুস্থতার মতোই মানসিক অবস্থার বিষয়েও চিকিৎসকের সাথে খোলামেলা আলোচনা করা প্রয়োজন। সঠিক পুষ্টি, নিয়মিত চিকিৎসা সেবা, পরিমিত ব্যায়াম এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন যাপনই পারে একজন মা ও তাঁর অনাগত শিশুর জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।
পিঠের ব্যথা কি সাধারণ নাকি কিডনি স্টোনের সংকেত? চিনে নিন লক্ষণগুলো
বর্তমান সময়ে কিডনিতে পাথর বা কিডনি স্টোন একটি অত্যন্ত পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করার অভ্যাসের কারণে বিশ্বজুড়ে এই রোগের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে পাথরের আকার ছোট থাকলে তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না, যা রোগীকে অনেকটা নিশ্চিন্ত রাখে। তবে সমস্যাটি জটিল আকার ধারণ করে যখন পাথরটি কিডনি থেকে সরে মূত্রনালিতে চলে আসে। এই অবস্থায় শরীরে অসহ্য ব্যথা ও নানা ধরণের শারীরিক জটিলতা তৈরি হয় যা দ্রুত চিকিৎসার দাবি রাখে। সাধারণত কিডনি স্টোনের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো পিঠের দু’পাশে, পাঁজরের নিচে বা তলপেটে হঠাৎ করে শুরু হওয়া তীব্র ব্যথা। অনেক সময় এই ব্যথার উৎস কোমর হলেও তা দ্রুত কুঁচকির দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যথার মাত্রা ক্রমাগত ওঠানামা করতে থাকে যা রোগীর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।
ব্যথার পাশাপাশি প্রস্রাবের রঙ ও গন্ধে পরিবর্তন আসা কিডনি স্টোনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক সংকেত। যদি প্রস্রাবের রঙ লালচে, বাদামি বা ঘোলাটে হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে পাথরের ঘর্ষণে মূত্রনালিতে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে রক্তপাত হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রস্রাবে তীব্র দুর্গন্ধ থাকাও একটি বিপদ সংকেত হিসেবে গণ্য করা হয়। পাথর যখন মূত্রনালির কাছাকাছি চলে আসে, তখন রোগীর মধ্যে বারবার প্রস্রাবের চাপ বা ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। অনেক সময় প্রস্রাব করার সময় তীব্র জ্বালাপোড়া বা ব্যথার সৃষ্টি হয় যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ডিসইউরিয়া বলা হয়ে থাকে। কিডনি ও পাকস্থলির স্নায়ুর মধ্যে একটি নিবিড় সম্পর্ক থাকায় কিডনিতে পাথরের চাপ সৃষ্টি হলে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব বা সরাসরি বমি হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এটি মূলত ব্যথার প্রতি শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
যদি ব্যথার সঙ্গে রোগীর জ্বর আসে এবং শরীর কাঁপতে থাকে, তবে ধরে নিতে হবে যে কিডনিতে সংক্রমণ বা ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছে। এটি একটি জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা এই রোগের সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক, কারণ এটি প্রস্রাব পরিষ্কার রাখে এবং খনিজ উপাদানগুলোকে পাথর হিসেবে জমতে বাধা দেয়। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণ এবং অক্সালেটজাত খাবার যেমন পালং শাক, বিট ও চকোলেট অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করা এড়িয়ে চলতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় লেবুর রস অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত উপকারী হতে পারে, কারণ লেবুতে থাকা সাইট্রেট কিডনিতে পাথর জমতে প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে।
চিকিৎসকদের মতে, যদি ব্যথার তীব্রতা এতটাই বেড়ে যায় যে সোজা হয়ে বসা সম্ভব হচ্ছে না, কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে স্পষ্ট রক্ত দেখা দেয় অথবা প্রস্রাব পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তবে এক মুহূর্তও দেরি না করে ইউরোলজিস্টের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে খুব সহজেই কিডনিতে পাথরের উপস্থিতি ও অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব। সঠিক সময়ে সচেতনতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে কিডনি স্টোনের মতো যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা ও এর পরবর্তী জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
ওজন হাতের মুঠোয় রাখতে চান? ডিনার শেষে পান করুন এই পানীয়
অনেকেরই অভ্যাস আছে রাত-দুপুরে হুটহাট খিদে পাওয়া এবং হাতের কাছে যা পান তাই খেয়ে ফেলা। এই অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস মূলত ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যার একটি কার্যকর ও প্রাকৃতিক সমাধানের কথা বলছেন—আর তা হলো ‘জোয়ানের পানি’। রাতের খাবারের পর এই পানীয় পানের অভ্যাস অহেতুক খিদে কমানোর পাশাপাশি শরীরের আরও অনেক উপকারে আসে।
জোয়ানের পানি আসলে কী?
জোয়ানের পানি একটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত ভেষজ পানীয়। এটি মূলত হজমশক্তি বৃদ্ধি, গ্যাস-অম্বল, পেটফাঁপা এবং বদহজম কমানোর মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। তবে শুধু পেটের সমস্যা নয়, এটি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, সর্দি-কাশি উপশম এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
খিদে নিয়ন্ত্রণ ও ওজন কমানোর কৌশল
রাতের খাবারের পর জোয়ানের পানি পান করলে তা অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার ইচ্ছা কমিয়ে দেয়। এর মূল কারণ হলো জোয়ানের মধ্যে থাকা ‘থাইমল’ নামক একটি বিশেষ যৌগ। এটি বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হজম প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। জোয়ানের পানি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে (ডিটক্স), যা মেদ ঝরানোর প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। তাই আজকাল যারা আধুনিক 'ডিটক্স ওয়াটার' পান করেন, তাদের কাছে প্রাচীন এই ঘরোয়া টোটকাটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার সেরা হাতিয়ার হতে পারে।
জোয়ানের পানি দুইভাবে তৈরি করা যায়
১. সকাল বেলার জন্য: এক চামচ জোয়ান সারারাত এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে পানিটি ছেঁকে পান করুন।
২. রাতের খাবারের পর: এক গ্লাস পানিতে এক চামচ জোয়ান দিয়ে ৫-৭ মিনিট ফুটিয়ে নিন। পানিটি কিছুটা ঠান্ডা হলে ডিনার শেষে পান করুন।
মনে রাখা জরুরি যে, জোয়ানের পানি কোনো ম্যাজিক নয় যা রাতারাতি ওজন কমিয়ে দেবে। এটি ওজন কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে ঠিকই, তবে এর পাশাপাশি একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বা হেলদি লাইফস্টাইল মেনে চলা আবশ্যক।
শরীরে ভিটামিন ডি কমে যাওয়ার লক্ষণ, বাড়াবেন যেভাবে
শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হলে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বসা থেকে উঠে দাঁড়ালে পেশিতে টান পড়া, কোমর বা হাঁটুতে অকারণে ব্যথা—এ ধরনের সমস্যাকে অনেকেই বয়স বা শীতকালজনিত বলে ধরে নেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উপসর্গের পেছনে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির বড় ভূমিকা রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, ভিটামিন ডি শরীরের হাড়, পেশি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন এই ভিটামিনের অভাব থাকলে শরীরে হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে এবং হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায়। হাড়ের সুস্থতার জন্য আমাদের শরীর যে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করে, সেটি হাড় পর্যন্ত পৌঁছাতে বা শরীরকে তা শোষণে সাহায্য করতে ভিটামিন ডি অপরিহার্য। এর অভাব হলে হাড় নরম হয়ে যায় এবং অস্টিওপরোসিসের মতো বড় ঝুঁকি তৈরি হয়।
ভিটামিন ডি ঘাটতির অন্যতম লক্ষণ হলো অল্প কাজেই পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা, সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হওয়া এবং পেশিতে টান ধরা। পর্যাপ্ত ঘুমের পরও সারাদিন শরীরে ঝিমুনি ও ক্লান্তি অনুভব করাও এই ঘাটতির সাধারণ লক্ষণ। এছাড়া ঘন ঘন সর্দি-কাশি, জ্বর বা সংক্রমণ হলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। অস্বাভাবিকভাবে চুল পড়া বেড়ে যাওয়া, ক্ষত সারতে দেরি হওয়া এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যাও এই ভিটামিনের অভাবের কারণে হতে পারে। এমনকি মানসিক দিক থেকেও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি প্রভাব ফেলে—মন খারাপ থাকা, হতাশা বা কাজে আগ্রহ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা এর সাথে সরাসরি যুক্ত।
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের কোলেস্টেরলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি করতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে সূর্যের আলো সবচেয়ে কার্যকর। সপ্তাহে কয়েক দিন অন্তত ১০ থেকে ৩০ মিনিট রোদে থাকলেই চাহিদা পূরণ হতে পারে। তবে যাদের গায়ের রঙ একটু চাপা, তাদের ভিটামিন ডি তৈরি হতে ফর্সা মানুষের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।
ভিটামিন ডি বাড়াতে তৈলাক্ত মাছ যেমন স্যামন, টুনা, সার্ডিন, ডিমের কুসুম, মাশরুম এবং গরুর কলিজা ভালো উৎস। পাশাপাশি কড লিভার অয়েলও এই ঘাটতি পূরণে জাদুর মতো কাজ করে। চিকিৎসকরা জানান, নিজে নিজে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা জেনে সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা জরুরি। ২০২৬ সালের এই ব্যস্ত সময়ে সুস্থ থাকতে সূর্যের সাথে বন্ধুত্ব করা এখন অনিবার্য।
স্তন ক্যানসার রুখতে আজই বদলে ফেলুন আপনার ৫টি ভুল অভ্যাস
স্তন ক্যানসার বর্তমানে নারীদের জন্য এক বিশাল স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। আধুনিক জীবনযাত্রার ধরন যেমন অনিয়মিত ঘুম এবং মানসিক চাপ এই রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন যে ঘুমের সময় শরীরে মেলাটোনিন নামক একটি বিশেষ হরমোন নিঃসৃত হয় যা ক্যানসার প্রতিরোধে ঢাল হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত ঘুমের অভাব হলে এই হরমোনের মাত্রা কমে যায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে শরীরে এস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় যা সরাসরি স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। রাত জাগার অভ্যাস কেবল হরমোনের ক্ষতিই করে না বরং এটি শরীরের ডিএনএ মেরামতের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকেও বাধাগ্রস্ত করে।
শরীরের সামগ্রিক ওজনের চেয়েও পেটের চারপাশে জমে থাকা মেদ বা ভিসেরাল ফ্যাট স্তন ক্যানসারের জন্য অনেক বেশি বিপজ্জনক। এই বাড়তি মেদ থেকে এক ধরণের প্রদাহজনক রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয় যা শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে। এছাড়া পেটের মেদ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের কারণ হয়ে দাঁড়ায় যা হরমোনের ভারসাম্যকে আরও জটিল করে তোলে। বিশেষ করে মেনোপজ বা ঋতুস্রাব স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পর নারীদের শরীরে এই মেদ অতিরিক্ত এস্ট্রোজেন তৈরি করে যা ক্যানসার কোষ সৃষ্টির সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। তাই স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পেটের মেদ কমানোর ওপর বিশেষজ্ঞরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সুস্থ থাকতে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসকরা নিয়মিত জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ও শান্তিপূর্ণ ঘুম নিশ্চিত করা শরীরের জন্য সবথেকে জরুরি। এছাড়া খাদ্যাভ্যাস থেকে অতিরিক্ত চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বিশেষ করে দ্রুত হাঁটা এবং পেটের মেদ কমানোর ব্যায়াম স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে জাদুর মতো কাজ করে। মানসিক চাপ কমাতে প্রতিদিন নিয়ম করে ধ্যান বা ইয়োগা করা যেতে পারে। এই সহজ অভ্যাসগুলো গড়ে তোলার মাধ্যমে নারীরা ক্যানসারের মতো কঠিন রোগের ঝুঁকি থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।
স্বাস্থ্যকর মনে হলেও লিভার ধ্বংস করছে এই ৩টি খাবার
লিভারের সবথেকে বড় শত্রু হিসেবে বর্তমানে চিহ্নিত হয়েছে ফ্রুক্টোজ সমৃদ্ধ খাবার। ফ্রুক্টোজ হলো এক ধরণের চিনি যা সাধারণত ফল বা মধুতে থাকে। তবে সমস্যা তৈরি হয় যখন আমরা প্রক্রিয়াজাত খাবার বা মিষ্টি পানীয়র মাধ্যমে অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ গ্রহণ করি। আমাদের শরীরের গ্লুকোজ বিপাক প্রক্রিয়া ভিন্ন হলেও ফ্রুক্টোজ সরাসরি লিভারে গিয়ে জমা হয়। লিভার যখন এই বিশাল পরিমাণ চিনি ভাঙার চেষ্টা করে তখন সেটি দ্রুত চর্বিতে রূপান্তরিত হয়। এর ফলে লিভারের কোষে চর্বি জমে নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ তৈরি হয় যা দীর্ঘমেয়াদে প্রদাহ এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সোডা ক্যান্ডি বা বাজারে পাওয়া বেকড পণ্যগুলো লিভারের এই স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
এরপরের বিপজ্জনক খাদ্য উপাদানটি হলো শিল্পজাত বীজ তেল। সূর্যমুখী সয়াবিন তুলা বীজ বা ভুট্টার মতো দানা থেকে যে তেল নিষ্কাশন করা হয় তাতে ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ থাকে অনেক বেশি। যদিও ওমেগা ৬ শরীরের জন্য সামান্য প্রয়োজন কিন্তু অতিরিক্ত গ্রহণে তা লিভারে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে। এই তেলগুলো রান্নার সময় উত্তাপের সংস্পর্শে এলে দ্রুত জারিত হয়ে বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে। ট্রান্স ফ্যাট বা লিপিড পারক্সাইড সরাসরি আমাদের ডিএনএ এবং প্রোটিনের ক্ষতি করে লিভার কোষকে অকেজো করে দেয়। বিশেষজ্ঞরা রান্নার জন্য এই তেলের পরিবর্তে জলপাই তেল নারকেল তেল বা খাঁটি ঘি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন যা অনেক বেশি নিরাপদ ও স্থিতিশীল।
অনেকেই অবাক হতে পারেন যে ফলের রসও লিভারের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বাণিজ্যিকভাবে তৈরি ফলের রসে প্রাকৃতিক ফাইবার বা আঁশ থাকে না বললেই চলে। ফাইবার ছাড়া এই রস সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং লিভারকে অতিরিক্ত চাপে ফেলে দেয়। পুরো আস্ত ফল খেলে তার ভেতরের ফাইবার চিনির শোষণকে ধীর করে দেয় কিন্তু জুস বা রস সেই সুযোগ দেয় না। ফলে লিভার দ্রুত সেই ফ্রুক্টোজকে চর্বিতে পরিণত করে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে। লিভার সুস্থ রাখতে তাই ফলের রসের চেয়ে সরাসরি আস্ত ফল খাওয়ার অভ্যাস করা সবথেকে কার্যকর উপায়। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত জুস বা সোডা লিভারের প্রদাহ বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
পাঠকের মতামত:
- ভারতের মাটিতে থেকে হাসিনার কোনো বার্তা কাম্য নয়: তৌহিদ হোসেনের কড়া বার্তা
- শহীদ হাদির কবরে শপথ নিয়ে এনসিপির ভোটের লড়াই শুরু
- জনগণের শক্তিই বিএনপির প্রাণ: মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের হুঙ্কার
- ২৪ ঘণ্টার রোমাঞ্চের অবসান; ভারতের মাটিতে পা রাখছে না টিম বাংলাদেশ
- নবম পে-স্কেলে পেনশনভোগীদের বড় সুখবর
- শেয়ারবাজারে আজকের লেনদেনের চিত্র কী বলছে
- ২২ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ২২ জানুয়ারি বাজারে দরপতনের ১০ শেয়ার
- ২২ জানুয়ারি বাজারে দরবৃদ্ধির ১০ শেয়ার
- ২০২৬ সালে স্বর্ণের দাম কি ছুঁবে ৫৪০০ ডলার? গোল্ডম্যানের পূর্বাভাস জানুন
- ভালুকায় বাস–অটোরিকশা সংঘর্ষে উত্তাল মহাসড়ক
- সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, মৌখিক পরীক্ষা কবে
- নির্বাচনি ব্যয়ের জন্য সমর্থকদের কাছে অনুদান চাইলেন এনসিপি নেতা
- পে স্কেলে ১৪০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, কতটা বিপদে পড়বে বেসরকারি খাত
- তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
- সিলেটে বিএনপির জনসভা, আজান শুনে বক্তব্য থামালেন তারেক রহমান
- শিশুদের সবজি খাওয়ানোর ৫টি জাদুকরী কৌশল
- ডিএসই পরিদর্শনে একাধিক তালিকাভুক্ত কারখানা বন্ধের চিত্র
- এডিএন টেলিকমের ২য় আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও ব্যাখ্যা
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বোর্ড সভার ঘোষণা, শেয়ার দামে প্রভাব পড়বে কি
- ইন্দোনেশিয়ার গুহায় মিলল বিশ্বের প্রাচীনতম শৈল্পিক স্বাক্ষর
- বাজারদর বনাম প্রকৃত মূল্য: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- পাকিস্তানে তেলের নতুন খনি: এক কূপেই মিলল বড় সাফল্য
- আইসিসির আল্টিমেটামের মাঝেও আশা দেখছেন বুলবুল
- জুট্রোপলিস ২-এর রেকর্ড: হলিউড অ্যানিমেশনের মুকুট এখন ডিজনির মাথায়
- প্রাক্তনের মায়া ও ভুলের চক্র: নতুন বছরে নিজেকে বদলানোর ৩টি চাবিকাঠি
- মোস্তাফিজ ইস্যুতে নীরবতা ভাঙল আইসিসি, কী বলল বিশ্ব সংস্থা
- ওজন কমাতে নাশতা বাদ? হিতে বিপরীত হওয়ার সতর্কতা
- নীরবে রক্তপাত? পাইলসের লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ জানুন
- তারেক রহমানের সিলেট সফর, আজকের কর্মসূচি কী কী
- দুটি ব্যাংক রেখে বাকিগুলো একীভূত! কী হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে
- আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার (২২ জানুয়ারি ২০২৫)
- যানজটমুক্ত ঢাকা ও স্যাটেলাইট সিটি; উন্নয়ন রূপরেখা দিলেন তারেক রহমান
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২২ জানুয়ারি ২০২৬
- গাজা শান্তি উদ্যোগে বড় মোড়; ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসে’ ৯ মুসলিম দেশ
- জীবনের নিরাপত্তায় গানম্যান চাইলেন আব্দুল হান্নান মাসউদ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- নামাজের সময়সূচি: ২২ জানুয়ারি ২০২৬
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? বের হওয়ার আগে দেখে নিন কর্মসূচির
- আইসিসির কঠোর অবস্থানে বিপাকে বিসিবি
- শুরু হলো ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা
- স্মার্টফোনেই দেশের ভাগ্য নির্ধারণ? শুরু হলো প্রবাসীদের ঐতিহাসিক পোস্টাল ভোট
- সোনা ও রুপার বাজারে ফের রেকর্ড; কাল থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দর
- বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহীদের তালিকা প্রকাশ; তালিকায় শীর্ষ নেতারাও
- ডাইনোসর রাজার দীর্ঘ যৌবন; টি-রেক্স কেন অজেয় ছিল তার নতুন রহস্য উন্মোচন
- পেট ফাঁপা ও কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি? ডায়েটে রাখুন বিশেষ প্রোটিন
- নিমের ছোঁয়ায় উজ্জ্বল ত্বক; ঘরোয়া উপায়েই মিলবে দাগহীন লাবণ্য
- হাঁস চোরকে জেলেও ভরেছি, প্রতীক চোরকেও ছাড়ব না: রুমিন ফারহানা
- নির্ধারিত সময়ের ৩ সপ্তাহ আগেই জমা পড়ল নবম পে স্কেল রিপোর্ট
- ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত
- দুনিয়ার সব রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণের দাম: ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় উত্তাল বিশ্ববাজার
- ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে স্বর্ণের দাম: মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ থেকে টানা ৩ দিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- নতুন পে স্কেল ২০২৬, আজ চূড়ান্ত সুপারিশ, সর্বশেষ যা জানা গেল
- ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার: নতুন পে স্কেলে কার বেতন কত বাড়ছে?
- দুটি ব্যাংক রেখে বাকিগুলো একীভূত! কী হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে
- শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার
- শাবান ও শবেবরাত ২০২৬: জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনায় সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
- কুমিল্লা ৪ এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দরকার - নেতাকর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস
- সোনা ও রুপার বাজারে ফের রেকর্ড; কাল থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দর
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আইবিপির প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ
- এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪ নির্দেশনা জারি
- মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের চার পাশে থম থমে পরিবেশ








