টাইগারদের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা

আগামী মাস থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নির্বাচক প্যানেল এই দল ঘোষণা করে। ঘোষিত এই দলে বড় চমক হিসেবে অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন অভিজ্ঞ ওপেনার লিটন দাস। তাঁর সহকারী হিসেবে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তরুণ অলরাউন্ডার সাইফ হাসানকে।
ঘোষিত এই স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় আলোচনা তৈরি হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর বাদ পড়া নিয়ে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় নির্বাচকরা তাঁকে বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় রাখেননি। শান্তর পাশাপাশি স্কোয়াডে জায়গা পাননি উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জাকের আলী অনিক এবং উদীয়মান পেসার রিপন মন্ডল। তবে নির্বাচকরা বোলিং শক্তি বাড়াতে ১৫ জনের এই দলে পাঁচজন বিশেষজ্ঞ পেসারকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
নির্বাচক প্যানেল জানিয়েছে, ভারত ও শ্রীলঙ্কার কন্ডিশন বিবেচনায় রেখেই এই ভারসাম্যপূর্ণ দল সাজানো হয়েছে। অভিজ্ঞ লিটন দাসের নেতৃত্বে দলে অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান এবং শরীফুল ইসলামের মতো বোলারদের পাশাপাশি রিশাদ হোসেন ও নাসুম আহমেদের মতো কার্যকর স্পিনারদের রাখা হয়েছে। এছাড়া মিডল অর্ডারে তাওহিদ হৃদয় এবং ফিনিশার হিসেবে শামীম হোসেন পাটোয়ারীর ওপর আস্থা রেখেছে বোর্ড।
পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে বিশ্বকাপের মূল আসর। বাংলাদেশের এই ১৫ সদস্যের স্কোয়াড দ্রুতই ভারত ও শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বিশেষ অনুশীলনে যোগ দেবে। লিটন দাসের নেতৃত্বে টাইগাররা এবার বিশ্বমঞ্চে নতুন কোনো ইতিহাস গড়তে পারবে কি না, তা নিয়ে এখন থেকেই ক্রিকেট পাড়ায় শুরু হয়েছে তুমুল বিশ্লেষণ।
এক নজরে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াড: লিটন দাস (অধিনায়ক), সাইফ হাসান (সহ-অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ, সাইফুদ্দিন ও শরীফুল ইসলাম।
২৪ ঘণ্টার রোমাঞ্চের অবসান; ভারতের মাটিতে পা রাখছে না টিম বাংলাদেশ
ঘড়ির কাঁটার সেই অন্তিম মুহূর্ত ঘনিয়ে আসার আগেই ক্রিকেটের মানচিত্র থেকে এক ঐতিহাসিক ও সাহসী সিদ্ধান্তের বার্তা দিল বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দেওয়া কঠোর ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়ে দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
ভারতের মাটিতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার যে গুঞ্জন গত কয়েকদিন ধরে চলছিল, আজ দুপুরে ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্য দিয়ে তা চূড়ান্ত রূপ নিল। নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস না করে এবং ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত উৎকণ্ঠাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে বিসিবি জানিয়ে দিয়েছে—ভারতে নয়, বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় খেলা আয়োজন করলেই কেবল বাংলাদেশ এই মহাযজ্ঞে অংশ নেবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আইসিসির সাথে বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক এবং ২০২৬ বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি এখন এক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক ও সাংগঠনিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে ড. আসিফ নজরুলের বিশেষ মতবিনিময় সভার পরই এই বড় ঘোষণাটি আসে। সভায় উপস্থিত বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ক্রিকেটাররা ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের নিরাপত্তা ও মাঠের পরিবেশ নিয়ে সরাসরি উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেন। বিসিবি এবং সরকারের পক্ষ থেকে ক্রিকেটারদের এই মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তি ও শারীরিক নিরাপত্তার বিষয়টিকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। ড. আসিফ নজরুল গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও খেলোয়াড়দের জানমালের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, আইসিসি যদি ভেন্যু পরিবর্তন করে শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়ার বিসিবির প্রস্তাবটি গ্রহণ করে, তবেই লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা মাঠে নামবে। অন্যথায়, এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশে ভারতের মাটিতে দলের অংশগ্রহণ সম্ভব নয় বলেই সরকার ও বোর্ড একমত হয়েছে।
এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির নেপথ্যে ছিল গত বুধবার অনুষ্ঠিত আইসিসির গভর্নিং বডির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল সভা। সেই সভায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য জোরালো দাবি তুলেছিল। কিন্তু আইসিসির ১৫ জন ডিরেক্টরের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সেই সভায় বিসিবির প্রস্তাবটি এক বিশাল প্রাচীরের সম্মুখীন হয়। ভোটাভুটিতে দেখা যায়, কেবল পাকিস্তান ছাড়া বাকি ১৪ জন ডিরেক্টরই বাংলাদেশের প্রস্তাবের সরাসরি বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
অধিকাংশ সদস্যই বিসিবির নিরাপত্তা সংক্রান্ত যুক্তিগুলোকে 'বিচ্ছিন্ন ঘটনা' হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেন এবং সাফ জানিয়ে দেন যে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতই হবে বিশ্বকাপের একক আয়োজক। এমনকি সভায় এমন সিদ্ধান্তও নেওয়া হয় যে, যদি বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ভারতের মাটিতে খেলতে না আসে, তবে তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপের মূল আসরে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আইসিসির এই প্রচ্ছন্ন হুমকি ও চরম আল্টিমেটামকে তুচ্ছ জ্ঞান করেই আজ বাংলাদেশ তাদের জাতীয় মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে এই আপসহীন সিদ্ধান্তটি বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিল।
আইসিসির আল্টিমেটামের মাঝেও আশা দেখছেন বুলবুল
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বেঁধে দেওয়া ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম যখন ঘড়ির কাঁটার সাথে পাল্লা দিয়ে ফুরিয়ে আসছে, ঠিক তখন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভাগ্য নির্ধারিত হতে যাচ্ছে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের টেবিলে। আইসিসির কঠোর অবস্থানের মুখেও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এখনো 'সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি' বলে যে আশার বাণী শুনিয়েছেন, তা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক রহস্যময় কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর একটি অভিজাত পাঁচ তারকা হোটেলে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সাথে ক্রিকেটারদের এই বৈঠকটি কেবল একটি সাধারণ আলোচনা নয়, বরং ভারতের মাটিতে খেলার প্রশ্নে জাতীয় দলের সদস্যদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান জানার এক চূড়ান্ত প্রচেষ্টা। একদিকে আইসিসির কড়া হুঁশিয়ারি আর অন্যদিকে জাতীয় দলের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের মর্যাদা—এই দুইয়ের দোলাচলে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ এখন এক ঐতিহাসিক ও স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তের মুখোমুখি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে ম্যাচগুলো নিরাপত্তার কারণে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার যে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, আইসিসি তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে নির্ধারিত সূচি কোনোভাবেই পরিবর্তন করা হবে না। সংস্থাটি আরও স্পষ্ট করে বলেছে যে বাংলাদেশ যদি নির্ধারিত সময়ে ভারতের মাটিতে খেলতে না যায়, তবে তাদের পরিবর্তে অন্য কোনো বিকল্প দলকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই চরম সংকটের মুহূর্তে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আইসিসির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পথ এখনো খোলা আছে বলে দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের সরাসরি মতামত শোনা অত্যন্ত জরুরি, কারণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের মানসিক স্বস্তি ও নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাবে। বুধবার রাতে ক্রীড়া উপদেষ্টার সাথে বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর আজকের এই ক্রিকেটারদের সাথে বিশেষ বৈঠকটি তাই বিশ্বকাপ যাত্রার শেষ ভাগ্যরেখা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আইসিসির গভর্নিং বডির ভার্চুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে কেবল পাকিস্তান সরব থাকলেও বাকি সদস্য দেশগুলো সরাসরি ভারতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রাজনৈতিক সমীকরণে বিসিবিকে কিছুটা কোণঠাসা করে ফেলেছে। তবে বিসিবি সভাপতি স্পষ্ট করেছেন যে তাঁরা এই স্পর্শকাতর ইস্যুতে সরকারের ওপর কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ সৃষ্টি করতে চান না। নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকার যে সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে, সেটিই হবে চূড়ান্ত এবং তা আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জানানো হবে। বিসিবির ভাষ্যমতে, একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত কেবল মাঠের ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, এর সাথে সামগ্রিক কূটনৈতিক বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী বিষয়গুলোও জড়িত। আইসিসি যেখানে ভারতের ভেন্যুগুলোকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে ঘোষণা করেছে এবং কোনো যাচাইযোগ্য হুমকি নেই বলে দাবি করেছে, সেখানে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ব্যক্তিগতভাবে কতটুকু নিরাপদ বোধ করবেন, তা জানতেই মূলত ড. আসিফ নজরুল আজকের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন।
বর্তমানে দেশের ক্রিকেট অঙ্গন এক চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় পার করছে, যেখানে বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরে লাল-সবুজদের অংশগ্রহণ অনিশ্চয়তার সুতোয় ঝুলে রয়েছে। ক্রিকেটাররা যদি আজকের বৈঠকে ভারতের মাটিতে খেলতে যাওয়ার বিষয়ে তাঁদের উদ্বেগের কথা জানান, তবে বিসিবিকে হয়তো কঠোর ও অপ্রিয় সিদ্ধান্তই নিতে হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে আইসিসির বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশকে তাদের চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। আজকের এই বৈঠকের ফলাফল এবং সরকারের সর্বশেষ দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমেই বিকেলের মধ্যে পরিষ্কার হয়ে যাবে যে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দেখা আশার আলো শেষ পর্যন্ত জ্বলে উঠবে নাকি বাংলাদেশের ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগেই এক বিয়োগান্তক সমাপ্তি ঘটবে।
মোস্তাফিজ ইস্যুতে নীরবতা ভাঙল আইসিসি, কী বলল বিশ্ব সংস্থা
একজন ক্রিকেটারকে নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক কীভাবে একটি পুরো বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের প্রশ্নে রূপ নেয় সেই জটিল বাস্তবতার মাঝেই এবার মুখ খুলল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় যে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে দীর্ঘ নীরবতার পর নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে আইসিসি।
আইসিসির ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে, আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পেছনে ভারতের কয়েকটি উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকি একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। এই হুমকির বিষয়টি আমলে নিয়েই গত ৩ জানুয়ারি বিসিসিআই সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজিকে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেয় বলে আইসিসির পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে যে দেশে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, সেখানে কীভাবে একটি জাতীয় দলকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এই যুক্তির ভিত্তিতেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির কাছে ভেন্যু পরিবর্তনের প্রস্তাব তোলে এবং ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অনীহা প্রকাশ করে।
তবে আইসিসি এই যুক্তিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটির মতে, একটি ঘরোয়া লিগে ঘটে যাওয়া একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে তুলনাযোগ্য নয়। আইসিসির ভাষায়, বাংলাদেশের দলের নিরাপত্তা বাস্তবিক অর্থে ঝুঁকির মুখে রয়েছে এমন কোনো স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা মূল্যায়ন তারা পায়নি।
আইসিসির এক মুখপাত্র স্পষ্ট করে বলেন, মোস্তাফিজের আইপিএল অংশগ্রহণ নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা ও আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ–এর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে কোনো কাঠামোগত বা নীতিগত সম্পর্ক নেই। সে কারণেই ম্যাচ ভেন্যু স্থানান্তরের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আইসিসির নেই।
এই অবস্থান সত্ত্বেও বিসিবি এখনো তাদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। বোর্ডের মতে, সরকারের চূড়ান্ত অবস্থানের ওপরই নির্ভর করবে বাংলাদেশ দল ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না। উল্লেখ্য, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতিতে ইতোমধ্যেই নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
-রাফসান
আইসিসির কঠোর অবস্থানে বিপাকে বিসিবি
২০২৬ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা এক চূড়ান্ত ও সংকটপূর্ণ মোড় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো খেলার জন্য পূর্বনির্ধারিত ভেন্যু হিসেবে ভারতেই যেতে হবে। বুধবার বোর্ড সভা শেষে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আইসিসি তাদের এই অনড় সিদ্ধান্তের কথা বিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছে। কেবল সিদ্ধান্ত জানানোই নয়, আইসিসি বিসিবিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের চূড়ান্ত অবস্থান নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
আইসিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বাংলাদেশ যদি ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তবে গ্রুপ ‘সি’ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে একটি বিকল্প দলকে টুর্নামেন্টে যুক্ত করা হবে। আইসিসির এমন কড়া বার্তার পর বিসিবি নীতিনির্ধারকরা বুধবার রাতে জরুরি ভিত্তিতে ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। রাত সাড়ে ১২টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেই বৈঠক চলছিল, যেখানে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ভাগ্য নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
বিসিবি নিরাপত্তার অজুহাতে ভারতের মাটিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল। এই প্রেক্ষিতে আইসিসি পূর্ণ সদস্যের ১২টি দেশকে নিয়ে একটি ভার্চুয়াল বোর্ড সভা আহ্বান করে। আইসিসি জানিয়েছে, ভারতের ভেন্যুগুলোতে স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে বাংলাদেশ দল, গণমাধ্যমকর্মী বা সমর্থকদের জন্য কোনো ধরনের হুমকি নেই।
আইসিসির এক মুখপাত্রের মতে, বিসিবি বারবার টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বিষয়টি একজন খেলোয়াড়ের ভারতের ঘরোয়া লিগে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত একটি ‘বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক’ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে। আইসিসি মনে করে, সেই ঘটনার সঙ্গে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা কাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই।
আইসিসির বোর্ড সভায় বিষয়টি ভোটাভুটির মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়। অত্যন্ত হতাশাজনকভাবে, সদস্য দেশগুলোর কেউই বাংলাদেশের দাবির পক্ষে সাড়া দেয়নি। এমনকি সহযোগী দেশগুলোও বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করার জন্য আইসিসিকে একটি চিঠি দিলেও সভায় সেটি কোনো গুরুত্বই পায়নি। এর ফলে বিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে অনেকটা একা হয়ে পড়েছে।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ বর্জন করে, তবে দেশের ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশ্বকাপ থেকে প্রাপ্ত বিশাল অংকের লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হবে বাংলাদেশ।
ভোটে সমর্থন না দেওয়া দেশগুলো ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সফর করতে অনাগ্রহী হতে পারে।
ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী বাংলাদেশ সফরগুলো সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। মূলত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ একটি ‘বন্ধুহীন’ পরিস্থিতির শিকার হতে পারে।
বাংলাদেশ যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তবে গ্রুপ ‘সি’-তে বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ইউরোপীয় বাছাইপর্ব থেকে বাদ পড়া স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে ক্রিকেট বিশ্বে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
আইসিসির এই কঠোর অবস্থানের পর এখন বল বাংলাদেশ সরকারের কোর্টে। সরকার যদি তাদের পূর্বের অবস্থান থেকে সরে না আসে, তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কার্যত শেষ হয়ে যাবে। এখন কোটি ক্রিকেট ভক্তের নজর ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বিসিবির চলমান বৈঠকের সিদ্ধান্তের দিকে।
বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম আইসিসির: বিশ্বকাপে কি অনিশ্চিত বাংলাদেশ?
২০২৬ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে চলমান দীর্ঘ সংকটে এক চরম নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অনড় অবস্থানের প্রেক্ষিতে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি বিসিবিকে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য মাত্র এক দিন বা ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত আইসিসির এক জরুরি ভার্চুয়াল বোর্ডসভায় ভোটাভুটির পর এই চরম সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ক্রিকইনফো নিশ্চিত করেছে।
বুধবারের এই গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল সভায় প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল বাংলাদেশের নিরাপত্তাশঙ্কা। বিসিবি আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছিল যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা ভারতে জাতীয় দল পাঠাতে পারবে না। এই অচলাবস্থা নিরসনে আইসিসি বোর্ড সদস্যদের মধ্যে একটি ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশের পরিবর্তে বিশ্বকাপে একটি বিকল্প দল নেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে এই চরম সিদ্ধান্তটি কার্যকর করার আগে আইসিসি বিসিবিকে শেষবারের মতো তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার সুযোগ দিয়েছে।
আইসিসি বোর্ডসভা থেকে বিসিবিকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো পূর্বনির্ধারিত ভেন্যু অর্থাৎ ভারতের মাটিতেই অনুষ্ঠিত হবে। বিসিবিকে আগামী এক দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় সিদ্ধান্তটি জানাতে বলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত না মিললে বা বিসিবি তাদের অবস্থানে অটল থাকলে, আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে বিকল্প দলকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করবে।
আইসিসির এই উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল সভায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। ভারতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বিসিসিআই সচিব দেবজিত সাইকিয়া। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসীন নাকভিও এই সভায় অংশ নেন, যিনি এর আগে বিসিবির অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। আইসিসির পক্ষ থেকে সংস্থার প্রধান নির্বাহী (CEO), হেড অব ইভেন্টস এবং লিগ্যাল অফিসার এই স্পর্শকাতর ও আইনি জটিলতা সম্পন্ন বৈঠকটি পরিচালনা করেন। এছাড়াও অন্যান্য সদস্য দেশের বোর্ড প্রতিনিধিরাও এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটিতে অংশ নেন।
বিসিবি শুরু থেকেই ভারতের মাটিতে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে আসছিল। কিন্তু আইসিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র তিন সপ্তাহের কম সময় বাকি থাকায় এখন ভেন্যু পরিবর্তন করা একেবারেই অসম্ভব। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিসিবির সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে—হয় সরকারের বিশেষ নিরাপত্তার আশ্বাস নিয়ে ভারতে খেলতে যাওয়া, নতুবা বিশ্বকাপ বর্জন করে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়া।
আগামী ২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত সংকটপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কী ধরণের নির্দেশনা আসে এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম আইসিসিকে শেষ পর্যন্ত কী বার্তা দেন, তার ওপরই নির্ভর করছে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ আজ: আইসিসি সভায় নতুন মোড়
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনে আজ বুধবার বিকেলে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড সভায় বসছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বিসিবি এবং আইসিসির মধ্যে এর আগে দফায় দফায় আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উদ্বেগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের ভারত সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। অন্যদিকে, আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে বারবার অনীহা প্রকাশ করায় এই সংকট এক নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আজকের এই বোর্ড সভাটি ডাকার পেছনে বিশেষ কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আইসিসি একটি বৈশ্বিক সংস্থা হওয়ার কারণে এককভাবে কোনো সদস্য দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে না। বাংলাদেশ যেহেতু আইসিসির একটি পূর্ণ সদস্য দেশ, তাই তাদেরকে বাদ দিয়ে কোনো বিশ্বকাপ আয়োজন করতে হলে বোর্ড সভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বাধ্যতামূলক। আইসিসির ম্যানেজমেন্ট যদি এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারত, তবে আজকের এই সভার প্রয়োজন হতো না। এর অর্থ হলো, আইসিসি এখন সদস্যদের মতামত-ভিত্তিক একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাইছে, যা বাংলাদেশের জন্য কিছুটা সহানুভূতির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বিসিবির অবস্থান কেবল মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বর্তমান সময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ভারতীয় অবস্থান ঝুঁকির মুখে রয়েছে—এমন ধারণাই বিসিবিকে কঠোর অবস্থানে থাকতে বাধ্য করছে। নিরাপত্তা-শঙ্কার এই দাবিটি আইসিসি বোর্ডে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। এরই মধ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ থেকে পাঠানো সমর্থনসূচক চিঠিটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ইতিবাচক বার্তা হিসেবে কাজ করছে। পিসিবি ছাড়াও আইসিসি বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশের এই যৌক্তিক দাবির প্রতি সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আইসিসি এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর ওপর বড় ধরণের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে।
বৈঠকে একটি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে ‘গ্রুপ পরিবর্তনের’ প্রস্তাবটিও গুরুত্বের সাথে আলোচিত হতে পারে। তবে এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করতে হলে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দল, বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট দুই গ্রুপের দলগুলোর সম্মতি প্রয়োজন। আইসিসি বোর্ড সভায় আজ সদস্য দেশগুলোর এই সমন্বিত মতামতের ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে থাকছে কি না। এই সভার মাধ্যমে আইসিসি মূলত এটিই নিশ্চিত করতে চায় যে, তারা বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে খেলানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যাই আসুক না কেন, আজকের এই বোর্ড সভাই হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের চূড়ান্ত নির্দেশক।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ আজ: আইসিসি সভায় নতুন মোড়
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনে আজ বুধবার বিকেলে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড সভায় বসছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বিসিবি এবং আইসিসির মধ্যে এর আগে দফায় দফায় আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উদ্বেগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের ভারত সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। অন্যদিকে, আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে বারবার অনীহা প্রকাশ করায় এই সংকট এক নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আজকের এই বোর্ড সভাটি ডাকার পেছনে বিশেষ কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আইসিসি একটি বৈশ্বিক সংস্থা হওয়ার কারণে এককভাবে কোনো সদস্য দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে না। বাংলাদেশ যেহেতু আইসিসির একটি পূর্ণ সদস্য দেশ, তাই তাদেরকে বাদ দিয়ে কোনো বিশ্বকাপ আয়োজন করতে হলে বোর্ড সভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বাধ্যতামূলক। আইসিসির ম্যানেজমেন্ট যদি এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারত, তবে আজকের এই সভার প্রয়োজন হতো না। এর অর্থ হলো, আইসিসি এখন সদস্যদের মতামত-ভিত্তিক একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাইছে, যা বাংলাদেশের জন্য কিছুটা সহানুভূতির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বিসিবির অবস্থান কেবল মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বর্তমান সময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ভারতীয় অবস্থান ঝুঁকির মুখে রয়েছে—এমন ধারণাই বিসিবিকে কঠোর অবস্থানে থাকতে বাধ্য করছে। নিরাপত্তা-শঙ্কার এই দাবিটি আইসিসি বোর্ডে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। এরই মধ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ থেকে পাঠানো সমর্থনসূচক চিঠিটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ইতিবাচক বার্তা হিসেবে কাজ করছে। পিসিবি ছাড়াও আইসিসি বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশের এই যৌক্তিক দাবির প্রতি সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আইসিসি এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর ওপর বড় ধরণের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে।
বৈঠকে একটি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে ‘গ্রুপ পরিবর্তনের’ প্রস্তাবটিও গুরুত্বের সাথে আলোচিত হতে পারে। তবে এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করতে হলে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দল, বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট দুই গ্রুপের দলগুলোর সম্মতি প্রয়োজন। আইসিসি বোর্ড সভায় আজ সদস্য দেশগুলোর এই সমন্বিত মতামতের ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে থাকছে কি না। এই সভার মাধ্যমে আইসিসি মূলত এটিই নিশ্চিত করতে চায় যে, তারা বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে খেলানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যাই আসুক না কেন, আজকের এই বোর্ড সভাই হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের চূড়ান্ত নির্দেশক।
বাংলাদেশের সমর্থনে আইসিসিকে পিসিবির চিঠি: নতুন মোড় ক্রিকেটের দ্বন্দ্বে
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ নিয়ে এক গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আইসিসি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মধ্যে চলমান এই অচলাবস্থার মধ্যে নাটকীয় মোড় নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) একটি চিঠি। বুধবার (২১ জানুয়ারি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্ধারিত সময়সীমার মাত্র এক দিন আগে আইসিসিকে পাঠানো এক চিঠিতে পিসিবি জানিয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভারতের মাটিতে খেলতে না চাওয়ার যে অবস্থান বাংলাদেশ নিয়েছে, তার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, পিসিবি এই চিঠির অনুলিপি আইসিসি বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের কাছেও প্রেরণ করেছে।
পিসিবির এই আকস্মিক সমর্থন সত্ত্বেও আইসিসি তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে বলে জানা গেছে। ক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসিসি তাদের পূর্বনির্ধারিত ম্যাচ সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনতে আগ্রহী নয়। আইসিসি আগেই বিসিবিকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার বা সেখানে খেলতে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি শুরু থেকেই সূচি পরিবর্তনের বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে।
মূলত বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবির যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো ভারতের মাটিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই সংকট নিরসনে গত সপ্তাহান্তে ঢাকায় আইসিসি ও বিসিবির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও কোনো পক্ষই তাদের অবস্থান থেকে এক চুলও সরেনি। বিসিবি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা জাতীয় দলকে ভারতে পাঠাতে পারবে না। অন্যদিকে, আইসিসি জানিয়েছে যে তারা সূচি অনুযায়ীই টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চায়। ২১ জানুয়ারি বুধবার ছিল এই অচলাবস্থা নিরসনে আইসিসি নির্ধারিত চূড়ান্ত সময়সীমা।
এই নজিরবিহীন ক্রিকেটীয় সংকটের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক ঘটনাপ্রবাহ। অচলাবস্থার সূত্রপাত হয় যখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) আইপিএল ২০২৬-এর জন্য কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এর কোনো কারণ জানানো হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতিই এর মূল কারণ। এরপরই বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে যে, জাতীয় ক্রিকেট দল ভারতে গিয়ে কোনো ম্যাচ খেলবে না।
পাকিস্তানের এই দেরিতে যুক্ত হওয়া এবং বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। যাচাই না হওয়া কিছু সংবাদে বলা হয়েছে, পাকিস্তান হয়তো বাংলাদেশে বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দিতে পারে। এমনকি বাংলাদেশের এই ইস্যুর ওপর ভিত্তি করে পাকিস্তান নিজেও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে কি না, তা নিয়েও তারা পুনঃচিন্তা করছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে এই বিষয়ে পিসিবি এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি এবং ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রশ্নেরও কোনো উত্তর দেয়নি। ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এবং টুর্নামেন্টের সামগ্রিক ভাগ্য এখন ২১ জানুয়ারির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে রয়েছে।
পুরো দেশই অনিশ্চয়তায়: বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে লিটনের বিস্ফোরক বয়ান
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হতে আর মাত্র ১৮ দিন বাকি থাকলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অংশগ্রহণ নিয়ে এক নজিরবিহীন ও রহস্যময় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ দল আদৌ এই বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না, কিংবা অংশ নিলে তাদের ম্যাচগুলো কোথায় অনুষ্ঠিত হবে—এসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। এমনকি দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) এ বিষয়ে কোনো পরিষ্কার ধারণা দিতে পারছে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় পুরো পরিস্থিতি একটি গভীর অনিশ্চয়তার দিকে মোড় নিয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন কুমার দাসের বক্তব্যেও সেই অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তির স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে, যা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে সিলেট টাইটান্সের কাছে হেরে আসর থেকে ছিটকে গেছে রংপুর রাইডার্স। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রংপুর রাইডার্স তথা জাতীয় দলের অধিনায়ক লিটন কুমার দাসকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও ভেন্যু নিয়ে অগণিত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। সেখানে তিনি স্বীকার করেন যে, বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি নিজেও পুরোপুরি অন্ধকারের মধ্যে রয়েছেন। বিসিবির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অধিনায়কের সাথে কোনো ধরণের আলোচনা বা যোগাযোগ করা হয়নি বলে তিনি স্পষ্টভাবে জানান। এ সংক্রান্ত সরাসরি এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি কেবল এক শব্দে বলেন, ‘নো।’ বিসিবির সাথে এই মুহূর্তে কোনো আলোচনা হওয়া উচিত ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন কিছুটা দায়সারাভাবে বলেন, “আমি জানি না। কিন্তু হয়নি আমার সাথে।” অধিনায়কের এই মন্তব্য থেকে বিসিবির সাথে দলের সমন্বয়ের অভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
এই অনিশ্চয়তার মূলে রয়েছে ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা শঙ্কা। আইপিএল চলাকালীন উগ্রবাদী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দেওয়া হুমকির প্রেক্ষিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) তাঁকে দল থেকে বাদ দেয়। এই ঘটনার পর বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে জানিয়ে দেয় যে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা শঙ্কা থাকায় তারা ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে আগ্রহী নয়। এর পরিবর্তে তারা শ্রীলঙ্কায় ম্যাচগুলো স্থানান্তরের জন্য আইসিসিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। গত ১৫ দিন ধরে এই ভেন্যু স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা চললেও আইসিসি এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক সিদ্ধান্ত জানায়নি। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে লিটন দাসের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো বিতর্কে জড়াতে চাননি এবং সরাসরি বলেন, “নো কমেন্টস।”
বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে এ ধরণের অনিশ্চয়তা দলের মানসিক প্রস্তুতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে লিটন দাস এই পরিস্থিতির মধ্যেই নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখতে চান। তিনি জানান, ২৩ জানুয়ারি বিপিএল শেষ হওয়ার পর এবং ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে মাঝে যে ১৪ দিন সময় থাকবে, সেই সময়েই তিনি বিশ্বকাপের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। লিটন বর্তমান এই পরিস্থিতিকে মোটেও ‘আদর্শ’ মনে করেন না, তবে বাস্তবতা মেনে নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “লাইফে অনেক কিছুই আইডিয়াল না, কিন্তু সার্টেন টাইমে চলে আসলে তা গ্রহণ করতে হয়। বিপিএলও আইডিয়াল ছিল না, তবুও খেলতে হয়েছে।”
গত প্রায় দেড় বছর ধরে টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব পালন করা লিটন দাস একটি নির্দিষ্ট ১৫ জনের দলকে বিশ্বকাপের জন্য তিল তিল করে প্রস্তুত করেছেন। অথচ এখন সেই দলটিই জানে না তাদের গন্তব্য কোথায়। এ নিয়ে ক্ষোভ ও খারাপ লাগার বিষয়ে লিটন বলেন, বিপিএল চলায় খেলোয়াড়রা খেলার মধ্যেই আছেন, তবে গ্রুপ পর্বের প্রতিপক্ষ এবং ভেন্যু জানা থাকলে তা অনেক বেশি সহায়ক হতো। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, “আপনারা তো ইতিমধ্যে জানেন কোন ১৫ জন যাবে। তো সেই ১৫ জনও এখনো জানে না যে আমরা কোন দেশে যাবো বা কাদের বিপক্ষে খেলবো। আমার জায়গা থেকে আমি যেমন অনিশ্চয়তার মধ্যে, সবাইও তাই। আমার মনে হয় পুরো বাংলাদেশই অনিশ্চয়তার মধ্যে এই মুহূর্তে।”
পাঠকের মতামত:
- শীতের ভ্রমণে সতেজ ত্বক: মেনে চলুন সহজ কিছু জাদুকরী কৌশল
- ফ্যাসিবাদী লড়াইয়ের বীর সেনাপতি জামায়াত আমির: নাহিদ ইসলাম
- রাজনীতি থেকে কি স্থায়ী অবসরে শেখ হাসিনা? জয়ের বক্তব্যে নতুন রহস্য
- নীরব ঘাতক ফুসফুস ক্যানসার: প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তের ৫টি উপায়
- সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য খুশির খবর: ফেব্রুয়ারিতে দীর্ঘ ছুটির হাতছানি
- ভারতের মাটিতে থেকে হাসিনার কোনো বার্তা কাম্য নয়: তৌহিদ হোসেনের কড়া বার্তা
- শহীদ হাদির কবরে শপথ নিয়ে এনসিপির ভোটের লড়াই শুরু
- জনগণের শক্তিই বিএনপির প্রাণ: মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের হুঙ্কার
- ২৪ ঘণ্টার রোমাঞ্চের অবসান; ভারতের মাটিতে পা রাখছে না টিম বাংলাদেশ
- নবম পে-স্কেলে পেনশনভোগীদের বড় সুখবর
- শেয়ারবাজারে আজকের লেনদেনের চিত্র কী বলছে
- ২২ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ২২ জানুয়ারি বাজারে দরপতনের ১০ শেয়ার
- ২২ জানুয়ারি বাজারে দরবৃদ্ধির ১০ শেয়ার
- ২০২৬ সালে স্বর্ণের দাম কি ছুঁবে ৫৪০০ ডলার? গোল্ডম্যানের পূর্বাভাস জানুন
- ভালুকায় বাস–অটোরিকশা সংঘর্ষে উত্তাল মহাসড়ক
- সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, মৌখিক পরীক্ষা কবে
- নির্বাচনি ব্যয়ের জন্য সমর্থকদের কাছে অনুদান চাইলেন এনসিপি নেতা
- পে স্কেলে ১৪০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, কতটা বিপদে পড়বে বেসরকারি খাত
- তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
- সিলেটে বিএনপির জনসভা, আজান শুনে বক্তব্য থামালেন তারেক রহমান
- শিশুদের সবজি খাওয়ানোর ৫টি জাদুকরী কৌশল
- ডিএসই পরিদর্শনে একাধিক তালিকাভুক্ত কারখানা বন্ধের চিত্র
- এডিএন টেলিকমের ২য় আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও ব্যাখ্যা
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বোর্ড সভার ঘোষণা, শেয়ার দামে প্রভাব পড়বে কি
- ইন্দোনেশিয়ার গুহায় মিলল বিশ্বের প্রাচীনতম শৈল্পিক স্বাক্ষর
- বাজারদর বনাম প্রকৃত মূল্য: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- পাকিস্তানে তেলের নতুন খনি: এক কূপেই মিলল বড় সাফল্য
- আইসিসির আল্টিমেটামের মাঝেও আশা দেখছেন বুলবুল
- জুট্রোপলিস ২-এর রেকর্ড: হলিউড অ্যানিমেশনের মুকুট এখন ডিজনির মাথায়
- প্রাক্তনের মায়া ও ভুলের চক্র: নতুন বছরে নিজেকে বদলানোর ৩টি চাবিকাঠি
- মোস্তাফিজ ইস্যুতে নীরবতা ভাঙল আইসিসি, কী বলল বিশ্ব সংস্থা
- ওজন কমাতে নাশতা বাদ? হিতে বিপরীত হওয়ার সতর্কতা
- নীরবে রক্তপাত? পাইলসের লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ জানুন
- তারেক রহমানের সিলেট সফর, আজকের কর্মসূচি কী কী
- দুটি ব্যাংক রেখে বাকিগুলো একীভূত! কী হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে
- আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার (২২ জানুয়ারি ২০২৫)
- যানজটমুক্ত ঢাকা ও স্যাটেলাইট সিটি; উন্নয়ন রূপরেখা দিলেন তারেক রহমান
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২২ জানুয়ারি ২০২৬
- গাজা শান্তি উদ্যোগে বড় মোড়; ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসে’ ৯ মুসলিম দেশ
- জীবনের নিরাপত্তায় গানম্যান চাইলেন আব্দুল হান্নান মাসউদ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- নামাজের সময়সূচি: ২২ জানুয়ারি ২০২৬
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? বের হওয়ার আগে দেখে নিন কর্মসূচির
- আইসিসির কঠোর অবস্থানে বিপাকে বিসিবি
- শুরু হলো ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা
- স্মার্টফোনেই দেশের ভাগ্য নির্ধারণ? শুরু হলো প্রবাসীদের ঐতিহাসিক পোস্টাল ভোট
- সোনা ও রুপার বাজারে ফের রেকর্ড; কাল থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দর
- বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহীদের তালিকা প্রকাশ; তালিকায় শীর্ষ নেতারাও
- ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত
- দুনিয়ার সব রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণের দাম: ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় উত্তাল বিশ্ববাজার
- ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে স্বর্ণের দাম: মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ থেকে টানা ৩ দিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- নতুন পে স্কেল ২০২৬, আজ চূড়ান্ত সুপারিশ, সর্বশেষ যা জানা গেল
- ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার: নতুন পে স্কেলে কার বেতন কত বাড়ছে?
- দুটি ব্যাংক রেখে বাকিগুলো একীভূত! কী হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে
- শাবান ও শবেবরাত ২০২৬: জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনায় সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
- সোনা ও রুপার বাজারে ফের রেকর্ড; কাল থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দর
- শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার
- কুমিল্লা ৪ এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দরকার - নেতাকর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আইবিপির প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ
- এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪ নির্দেশনা জারি
- মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের চার পাশে থম থমে পরিবেশ








