পেটের আলসার: কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

পেটের আলসার এমন একটি রোগ যা ধীরে ধীরে শরীরের ভেতরে বাসা বাঁধে, কিন্তু সময়মতো শনাক্ত না হলে মারাত্মক জটিলতার জন্ম দিতে পারে। এটি মূলত পাকস্থলীর ভেতরের আস্তরণে সৃষ্ট একটি বেদনাদায়ক ক্ষত, যা দীর্ঘদিন ধরে অ্যাসিডের ক্ষয়প্রক্রিয়ার ফলে গভীরতর হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রেই রোগীরা প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্ব দেন না, ফলে পরে রক্তক্ষরণ বা তীব্র ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
পাকস্থলীর স্বাভাবিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পরিপাক অ্যাসিডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে। কিন্তু যখন এই সুরক্ষামূলক স্তর দুর্বল হয়ে যায়, তখন হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ও পেপসিন সরাসরি টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে শুরু করে। এর ফলেই পাকস্থলীতে তৈরি হয় খোলা ঘা, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় গ্যাস্ট্রিক বা পেটের আলসার বলা হয়।
পেটের আলসার কী এবং কেন এটি বিপজ্জনক
পেটের আলসার পেপটিক আলসারের একটি ধরন। এই শ্রেণির আলসারের মধ্যে খাদ্যনালীর আলসার ও ডুওডেনাল আলসারও অন্তর্ভুক্ত। পাকস্থলীর আস্তরণ একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং ধীরে ধীরে ক্ষত বড় হতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আলসার গভীর হলে রক্তপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা রক্তাল্পতা বা হঠাৎ গুরুতর অবস্থার কারণ হতে পারে।
কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করা যাবে না
পেটের আলসারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো পেটের মাঝখানে বা উপরের অংশে জ্বালাপোড়া ধরনের ব্যথা। অনেক সময় এই ব্যথা কুঁচকানো অনুভূতির মতো হয় এবং খাবার খেলে সাময়িকভাবে কমে আসে। আবার খালি পেটে বা গভীর রাতে ব্যথা বেড়ে যাওয়াও আলসারের একটি পরিচিত লক্ষণ।
এর পাশাপাশি রোগীদের মধ্যে পেট ফাঁপা, বদহজম, বমি বমি ভাব, বমি, ক্ষুধামান্দ্য ও সার্বিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন রক্তক্ষরণ চলতে থাকলে মাথা ঘোরা, অবসাদ ও শক্তি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দেয়।
পেটের আলসারের প্রধান কারণ কী
একসময় ধারণা করা হতো যে মানসিক চাপ, ঝাল খাবার বা অনিয়মিত জীবনযাপনই পেটের আলসারের প্রধান কারণ। তবে আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই রোগের পেছনে দুটি প্রধান জৈবিক কারণ দায়ী।
প্রথমত, এইচ পাইলোরি নামের একটি ব্যাকটেরিয়া। এই জীবাণু পাচনতন্ত্রে বাস করে এবং দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকলে পাকস্থলীর আস্তরণে প্রদাহ সৃষ্টি করে। ধীরে ধীরে এই প্রদাহই আলসারের রূপ নেয়।
দ্বিতীয়ত, ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার। বিশেষ করে অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন ও নেপ্রোক্সেনের মতো NSAID দীর্ঘদিন সেবনে পাকস্থলীর প্রতিরক্ষামূলক স্তর দুর্বল হয়ে পড়ে, যা আলসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
কিছু বিরল ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অ্যাসিড উৎপাদনজনিত রোগ, গুরুতর শারীরিক চাপ, বড় অস্ত্রোপচার বা সংক্রমণের পরও পেটের আলসার দেখা দিতে পারে।
কীভাবে পেটের আলসার নির্ণয় করা হয়
পেটের আলসার শনাক্ত করতে চিকিৎসক প্রথমে রোগীর উপসর্গ, ব্যথার ধরন, ওষুধ সেবনের ইতিহাস ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। এরপর রক্ত পরীক্ষা করে রক্তাল্পতা বা সংক্রমণের লক্ষণ খোঁজা হয়।
এইচ পাইলোরি শনাক্তের জন্য শ্বাস, রক্ত বা মলের নমুনা পরীক্ষা করা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে সরাসরি পাকস্থলীর ভেতর ক্যামেরা ঢুকিয়ে ক্ষত পর্যবেক্ষণ করা হয়। সন্দেহজনক হলে বায়োপসি নিয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকিও যাচাই করা হয়।
পেটের আলসারের চিকিৎসা কীভাবে হয়
পেটের আলসারের চিকিৎসায় মূল লক্ষ্য হলো অ্যাসিডের ক্ষয় কমানো এবং পাকস্থলীর ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করা। এজন্য সাধারণত কয়েক সপ্তাহের জন্য প্রোটন পাম্প ইনহিবিটার জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়, যা অ্যাসিড উৎপাদন কমায়।
যদি এইচ পাইলোরি সংক্রমণ ধরা পড়ে, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের সমন্বিত কোর্স দেওয়া হয়। পাশাপাশি রোগীদের ক্যাফিন, অ্যালকোহল, অতিরিক্ত মশলাদার ও অ্যাসিডিক খাবার এড়াতে বলা হয়।
ধূমপান পুরোপুরি বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ নিকোটিন আলসার নিরাময়কে বাধাগ্রস্ত করে। ব্যথানাশক হিসেবে NSAID এড়িয়ে বিকল্প ওষুধ ব্যবহারের দিকেও জোর দেওয়া হয়।
গুরুতর অবস্থায় কী হতে পারে
যদি আলসার থেকে রক্তপাত শুরু হয় বা পাকস্থলীতে ছিদ্র তৈরি হয়, তাহলে রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতিতে রক্তপাত বন্ধ করা বা প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার করা লাগতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দেরি হলে প্রাণঘাতী ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
ঘরোয়া যত্ন ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন
চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে উপসর্গ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সহজপাচ্য ও কম অ্যাসিডিক খাবার খাওয়া, অল্প অল্প করে বারবার খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং মানসিক চাপ কমানো এতে সহায়ক।
ধ্যান, শ্বাস ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সাময়িকভাবে ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলাও আলসার নিরাময়ে ভূমিকা রাখে।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে
পেটের ব্যথা যদি দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র থাকে, বমিতে বা পায়খানায় রক্ত দেখা যায়, হঠাৎ অসহ্য ব্যথা শুরু হয় কিংবা মাথা ঘোরা ও অজ্ঞান ভাব দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
প্রতিরোধই সবচেয়ে নিরাপদ পথ
নিয়মিত অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন পরিহার, ব্যথানাশক ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন না খাওয়া, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে পেটের আলসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
পেটের আলসার একটি সাধারণ কিন্তু অবহেলাযোগ্য নয় এমন রোগ। সময়মতো শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা নিলে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। উপসর্গকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ওজন হাতের মুঠোয় রাখতে চান? ডিনার শেষে পান করুন এই পানীয়
অনেকেরই অভ্যাস আছে রাত-দুপুরে হুটহাট খিদে পাওয়া এবং হাতের কাছে যা পান তাই খেয়ে ফেলা। এই অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস মূলত ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যার একটি কার্যকর ও প্রাকৃতিক সমাধানের কথা বলছেন—আর তা হলো ‘জোয়ানের পানি’। রাতের খাবারের পর এই পানীয় পানের অভ্যাস অহেতুক খিদে কমানোর পাশাপাশি শরীরের আরও অনেক উপকারে আসে।
জোয়ানের পানি আসলে কী?
জোয়ানের পানি একটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত ভেষজ পানীয়। এটি মূলত হজমশক্তি বৃদ্ধি, গ্যাস-অম্বল, পেটফাঁপা এবং বদহজম কমানোর মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। তবে শুধু পেটের সমস্যা নয়, এটি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, সর্দি-কাশি উপশম এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
খিদে নিয়ন্ত্রণ ও ওজন কমানোর কৌশল
রাতের খাবারের পর জোয়ানের পানি পান করলে তা অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার ইচ্ছা কমিয়ে দেয়। এর মূল কারণ হলো জোয়ানের মধ্যে থাকা ‘থাইমল’ নামক একটি বিশেষ যৌগ। এটি বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হজম প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। জোয়ানের পানি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে (ডিটক্স), যা মেদ ঝরানোর প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। তাই আজকাল যারা আধুনিক 'ডিটক্স ওয়াটার' পান করেন, তাদের কাছে প্রাচীন এই ঘরোয়া টোটকাটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার সেরা হাতিয়ার হতে পারে।
জোয়ানের পানি দুইভাবে তৈরি করা যায়
১. সকাল বেলার জন্য: এক চামচ জোয়ান সারারাত এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে পানিটি ছেঁকে পান করুন।
২. রাতের খাবারের পর: এক গ্লাস পানিতে এক চামচ জোয়ান দিয়ে ৫-৭ মিনিট ফুটিয়ে নিন। পানিটি কিছুটা ঠান্ডা হলে ডিনার শেষে পান করুন।
মনে রাখা জরুরি যে, জোয়ানের পানি কোনো ম্যাজিক নয় যা রাতারাতি ওজন কমিয়ে দেবে। এটি ওজন কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে ঠিকই, তবে এর পাশাপাশি একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বা হেলদি লাইফস্টাইল মেনে চলা আবশ্যক।
শরীরে ভিটামিন ডি কমে যাওয়ার লক্ষণ, বাড়াবেন যেভাবে
শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হলে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বসা থেকে উঠে দাঁড়ালে পেশিতে টান পড়া, কোমর বা হাঁটুতে অকারণে ব্যথা—এ ধরনের সমস্যাকে অনেকেই বয়স বা শীতকালজনিত বলে ধরে নেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উপসর্গের পেছনে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির বড় ভূমিকা রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, ভিটামিন ডি শরীরের হাড়, পেশি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন এই ভিটামিনের অভাব থাকলে শরীরে হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে এবং হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায়। হাড়ের সুস্থতার জন্য আমাদের শরীর যে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করে, সেটি হাড় পর্যন্ত পৌঁছাতে বা শরীরকে তা শোষণে সাহায্য করতে ভিটামিন ডি অপরিহার্য। এর অভাব হলে হাড় নরম হয়ে যায় এবং অস্টিওপরোসিসের মতো বড় ঝুঁকি তৈরি হয়।
ভিটামিন ডি ঘাটতির অন্যতম লক্ষণ হলো অল্প কাজেই পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা, সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হওয়া এবং পেশিতে টান ধরা। পর্যাপ্ত ঘুমের পরও সারাদিন শরীরে ঝিমুনি ও ক্লান্তি অনুভব করাও এই ঘাটতির সাধারণ লক্ষণ। এছাড়া ঘন ঘন সর্দি-কাশি, জ্বর বা সংক্রমণ হলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। অস্বাভাবিকভাবে চুল পড়া বেড়ে যাওয়া, ক্ষত সারতে দেরি হওয়া এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যাও এই ভিটামিনের অভাবের কারণে হতে পারে। এমনকি মানসিক দিক থেকেও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি প্রভাব ফেলে—মন খারাপ থাকা, হতাশা বা কাজে আগ্রহ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা এর সাথে সরাসরি যুক্ত।
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের কোলেস্টেরলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি করতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে সূর্যের আলো সবচেয়ে কার্যকর। সপ্তাহে কয়েক দিন অন্তত ১০ থেকে ৩০ মিনিট রোদে থাকলেই চাহিদা পূরণ হতে পারে। তবে যাদের গায়ের রঙ একটু চাপা, তাদের ভিটামিন ডি তৈরি হতে ফর্সা মানুষের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।
ভিটামিন ডি বাড়াতে তৈলাক্ত মাছ যেমন স্যামন, টুনা, সার্ডিন, ডিমের কুসুম, মাশরুম এবং গরুর কলিজা ভালো উৎস। পাশাপাশি কড লিভার অয়েলও এই ঘাটতি পূরণে জাদুর মতো কাজ করে। চিকিৎসকরা জানান, নিজে নিজে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা জেনে সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা জরুরি। ২০২৬ সালের এই ব্যস্ত সময়ে সুস্থ থাকতে সূর্যের সাথে বন্ধুত্ব করা এখন অনিবার্য।
স্তন ক্যানসার রুখতে আজই বদলে ফেলুন আপনার ৫টি ভুল অভ্যাস
স্তন ক্যানসার বর্তমানে নারীদের জন্য এক বিশাল স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। আধুনিক জীবনযাত্রার ধরন যেমন অনিয়মিত ঘুম এবং মানসিক চাপ এই রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন যে ঘুমের সময় শরীরে মেলাটোনিন নামক একটি বিশেষ হরমোন নিঃসৃত হয় যা ক্যানসার প্রতিরোধে ঢাল হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত ঘুমের অভাব হলে এই হরমোনের মাত্রা কমে যায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে শরীরে এস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় যা সরাসরি স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। রাত জাগার অভ্যাস কেবল হরমোনের ক্ষতিই করে না বরং এটি শরীরের ডিএনএ মেরামতের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকেও বাধাগ্রস্ত করে।
শরীরের সামগ্রিক ওজনের চেয়েও পেটের চারপাশে জমে থাকা মেদ বা ভিসেরাল ফ্যাট স্তন ক্যানসারের জন্য অনেক বেশি বিপজ্জনক। এই বাড়তি মেদ থেকে এক ধরণের প্রদাহজনক রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয় যা শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে। এছাড়া পেটের মেদ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের কারণ হয়ে দাঁড়ায় যা হরমোনের ভারসাম্যকে আরও জটিল করে তোলে। বিশেষ করে মেনোপজ বা ঋতুস্রাব স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পর নারীদের শরীরে এই মেদ অতিরিক্ত এস্ট্রোজেন তৈরি করে যা ক্যানসার কোষ সৃষ্টির সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। তাই স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পেটের মেদ কমানোর ওপর বিশেষজ্ঞরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সুস্থ থাকতে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসকরা নিয়মিত জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ও শান্তিপূর্ণ ঘুম নিশ্চিত করা শরীরের জন্য সবথেকে জরুরি। এছাড়া খাদ্যাভ্যাস থেকে অতিরিক্ত চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বিশেষ করে দ্রুত হাঁটা এবং পেটের মেদ কমানোর ব্যায়াম স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে জাদুর মতো কাজ করে। মানসিক চাপ কমাতে প্রতিদিন নিয়ম করে ধ্যান বা ইয়োগা করা যেতে পারে। এই সহজ অভ্যাসগুলো গড়ে তোলার মাধ্যমে নারীরা ক্যানসারের মতো কঠিন রোগের ঝুঁকি থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।
স্বাস্থ্যকর মনে হলেও লিভার ধ্বংস করছে এই ৩টি খাবার
লিভারের সবথেকে বড় শত্রু হিসেবে বর্তমানে চিহ্নিত হয়েছে ফ্রুক্টোজ সমৃদ্ধ খাবার। ফ্রুক্টোজ হলো এক ধরণের চিনি যা সাধারণত ফল বা মধুতে থাকে। তবে সমস্যা তৈরি হয় যখন আমরা প্রক্রিয়াজাত খাবার বা মিষ্টি পানীয়র মাধ্যমে অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ গ্রহণ করি। আমাদের শরীরের গ্লুকোজ বিপাক প্রক্রিয়া ভিন্ন হলেও ফ্রুক্টোজ সরাসরি লিভারে গিয়ে জমা হয়। লিভার যখন এই বিশাল পরিমাণ চিনি ভাঙার চেষ্টা করে তখন সেটি দ্রুত চর্বিতে রূপান্তরিত হয়। এর ফলে লিভারের কোষে চর্বি জমে নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ তৈরি হয় যা দীর্ঘমেয়াদে প্রদাহ এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সোডা ক্যান্ডি বা বাজারে পাওয়া বেকড পণ্যগুলো লিভারের এই স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
এরপরের বিপজ্জনক খাদ্য উপাদানটি হলো শিল্পজাত বীজ তেল। সূর্যমুখী সয়াবিন তুলা বীজ বা ভুট্টার মতো দানা থেকে যে তেল নিষ্কাশন করা হয় তাতে ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ থাকে অনেক বেশি। যদিও ওমেগা ৬ শরীরের জন্য সামান্য প্রয়োজন কিন্তু অতিরিক্ত গ্রহণে তা লিভারে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে। এই তেলগুলো রান্নার সময় উত্তাপের সংস্পর্শে এলে দ্রুত জারিত হয়ে বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে। ট্রান্স ফ্যাট বা লিপিড পারক্সাইড সরাসরি আমাদের ডিএনএ এবং প্রোটিনের ক্ষতি করে লিভার কোষকে অকেজো করে দেয়। বিশেষজ্ঞরা রান্নার জন্য এই তেলের পরিবর্তে জলপাই তেল নারকেল তেল বা খাঁটি ঘি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন যা অনেক বেশি নিরাপদ ও স্থিতিশীল।
অনেকেই অবাক হতে পারেন যে ফলের রসও লিভারের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বাণিজ্যিকভাবে তৈরি ফলের রসে প্রাকৃতিক ফাইবার বা আঁশ থাকে না বললেই চলে। ফাইবার ছাড়া এই রস সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং লিভারকে অতিরিক্ত চাপে ফেলে দেয়। পুরো আস্ত ফল খেলে তার ভেতরের ফাইবার চিনির শোষণকে ধীর করে দেয় কিন্তু জুস বা রস সেই সুযোগ দেয় না। ফলে লিভার দ্রুত সেই ফ্রুক্টোজকে চর্বিতে পরিণত করে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে। লিভার সুস্থ রাখতে তাই ফলের রসের চেয়ে সরাসরি আস্ত ফল খাওয়ার অভ্যাস করা সবথেকে কার্যকর উপায়। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত জুস বা সোডা লিভারের প্রদাহ বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
নাসাল স্প্রে কি নাকের বারোটা বাজাচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের বড় সতর্কতা
শীতের এই সময়ে সর্দি বা নাক বন্ধ হওয়া এক সাধারণ সমস্যা। এই অস্বস্তি থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে আমরা অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই নাসাল স্প্রে ব্যবহার করি। তবে ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এক চরম সতর্কতা জারি করেছেন। তাঁদের মতে, ডিকনজেস্ট্যান্ট নাসাল স্প্রেগুলো যদি ভুলভাবে বা একটানা অনেক দিন ব্যবহার করা হয়, তবে নাকের ভেতরের অংশে স্থায়ী এবং অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। দেখা গেছে যে, প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহারকারী এই স্প্রে ব্যবহারের সঠিক নিয়ম বা এর দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এই অজ্ঞতার কারণে অজান্তেই বহু মানুষ বড় ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
চিকিৎসকদের মতে, এসব স্প্রেতে থাকা রাসায়নিক উপাদান নাকের ভেতরের সংবেদনশীল রক্তনালিগুলোতে তীব্র প্রভাব ফেলে। নিয়মবহির্ভূত ব্যবহারের ফলে ‘রিবাউন্ড কনজেশন’ নামের একটি জটিল সমস্যা দেখা দেয়। এতে স্প্রের প্রভাব শেষ হওয়ার সাথে সাথেই নাক বন্ধের সমস্যা আগের চেয়েও আরও ভয়াবহ আকারে ফিরে আসে। তখন রোগী বাধ্য হয়ে বার বার স্প্রে ব্যবহার করতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে স্প্রের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় ‘রাইনাইটিস মেডিকামেন্টোসা’। দীর্ঘদিন এমনটা চলতে থাকলে নাকের রক্তনালিগুলো ফুলে যায় এবং স্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তী সময়ে সাধারণ কোনো ওষুধে আর ভালো হয় না।
সবথেকে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই ধরণের সমস্যায় ভোগা অনেক রোগীর ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচারই একমাত্র সমাধান হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণ ওষুধ হিসেবে পরিচিত এই স্প্রেগুলো ভুলভাবে ব্যবহার করলে নাকের ঘ্রাণশক্তি নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে শ্বাসনালির দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, যেকোনো নাসাল স্প্রে ব্যবহারের আগে তার নির্দেশিকা ভালোভাবে পড়া এবং টানা তিন থেকে পাঁচ দিনের বেশি ব্যবহার না করা। নাক বন্ধের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে নিজে নিজে স্প্রে না কিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি যাতে কোনো বড় ধরণের বিপদ এড়ানো যায়।
ছড়িয়ে পড়েছে নিপাহ ভাইরাস: মৃত্যুর হার ১০০ শতাংশে পৌঁছানোয় রেড অ্যালার্ট
দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং এর বিস্তার ও সংক্রমণের ধরনে উদ্বেগজনক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) আয়োজিত এক সভায় জানিয়েছে, গত বছর (২০২৫) শনাক্ত হওয়া চারজন নিপাহ রোগীর প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন। অর্থাৎ দেশে এখন এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার ১০০ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড় মৃত্যুর হারের (৭২%) চেয়েও অনেক বেশি। বিশেষ করে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী জেলায় নিপাহর এই মরণকামড় লক্ষ্য করা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবথেকে বড় উদ্বেগের কারণ হলো দেশে প্রথমবারের মতো ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস’ শনাক্ত হওয়া। গত আগস্ট মাসে নওগাঁর ৮ বছরের এক শিশু নিপাহ আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, যা প্রচলিত শীতকালীন সংক্রমণের ধারণাকে বদলে দিয়েছে। ওই শিশুর সংক্রমণের উৎস ছিল বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল (কালোজাম ও আম), যা প্রমাণ করে যে নিপাহ ছড়ানোর জন্য শুধু খেজুরের রস দায়ী নয় বরং সারা বছরই যেকোনো দূষিত ফল থেকে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন এই পরিস্থিতিকে একটি বড় ‘ওয়ার্নিং সিগন্যাল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বর্তমানে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে নিপাহর প্রকোপ সবথেকে বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে নিপাহ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সরাসরি তাঁর পরিবার বা স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। নিপাহর কোনো সুনির্দিষ্ট টিকা বা চিকিৎসা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। আইইডিসিআর-এর নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে কাঁচা খেজুরের রস ও পাখির আধা-খাওয়া ফল খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রস্রাবের রং কি বদলে যাচ্ছে? কিডনি বিকল হওয়ার আগাম লক্ষণ জানুন
প্রস্রাবকে অনেকেই কেবল বর্জ্য মনে করলেও চিকিৎসকদের মতে এটি কিডনি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। সুস্থ কিডনি রক্ত ছেঁকে যে প্রস্রাব তৈরি করে তার স্বাভাবিক রং হালকা হলুদ থেকে অ্যাম্বার বর্ণের হয়ে থাকে। এই রঙে কোনো দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিলে তা কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ বা শরীরের অভ্যন্তরীণ গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে প্রস্রাবের রঙের সাথে কিডনির সুস্থতার নিবিড় সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান যে ইউরোক্রোম নামের এক ধরণের রঞ্জক পদার্থ প্রস্রাবকে হলুদ রং দেয়। তবে প্রস্রাব যদি চা বা গাঢ় বাদামি রঙের হয়, তবে বুঝতে হবে কিডনি ঠিকমতো বর্জ্য ছেঁকে বের করতে পারছে না। পর্যাপ্ত পানি পান করার পরেও যদি এই রং না বদলায় এবং সাথে ক্লান্তি বা শরীর ফোলার মতো উপসর্গ থাকে, তবে এটি কিডনি বিকলের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। আবার লাল বা গোলাপি রঙের প্রস্রাব, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'হেমাটুরিয়া' বলা হয়, তা কিডনির ফিল্টার নষ্ট হওয়া, পাথর বা সংক্রমণের সংকেত দেয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা দেখা দিলে তা 'প্রোটিনুরিয়া' বা প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন লিক হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের একটি প্রধান সংকেত হিসেবে ধরা হয়। অন্যদিকে গাঢ় হলুদ প্রস্রাব সাধারণত তীব্র পানিশূন্যতার ফল, যা দীর্ঘদিন বজায় থাকলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রঙ পরিবর্তনের সাথে সাথে যদি জ্বর, পিঠে ব্যথা বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।
সূত্র- টাইমস অব ইন্ডিয়া
শীতের সাধারণ সর্দি-কাশি কি বড় বিপদের সংকেত? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঘরে সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। অধিকাংশ মানুষ একে ঋতু পরিবর্তনের সাধারণ সমস্যা ভেবে গুরুত্ব না দিলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে দেখছেন গভীর উদ্বেগের চোখে। চিকিৎসকদের মতে, শীতকালীন এই সংক্রমণগুলো সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পেলে তা শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে স্থায়ী ও গুরুতর ক্ষতি সাধন করতে পারে। বিশেষ করে সর্দি থেকে শুরু হওয়া সমস্যা কানের সংক্রমণ কিংবা হাঁপানির তীব্র আক্রমণে রূপ নিতে পারে।
গলা ব্যথার মতো সমস্যাকেও অনেকে ঠান্ডা বাতাসের ফল হিসেবে অবহেলা করেন। কিন্তু চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এটি স্ট্রেপ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। যদি এর সঠিক চিকিৎসা না হয়, তবে উচ্চমাত্রার জ্বর ও জয়েন্টে ব্যথার পাশাপাশি বিরল ক্ষেত্রে বাতজ্বরের মতো জটিল হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী কাশিকে অবহেলা করলে তা ব্রঙ্কাইটিস বা সরাসরি ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, যা পরবর্তীতে নিরাময় করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।
শীতকালে আরেকটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হলো মূত্রনালীর সংক্রমণ বা ইউটিআই (UTI)। ঠান্ডা আবহাওয়ায় তৃষ্ণা কম পাওয়ায় মানুষ পানি পান কমিয়ে দেয়, যার ফলে প্রস্রাবের সংক্রমণ দ্রুত কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এর পাশাপাশি শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক ফেটে গিয়ে সেখান দিয়ে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সামান্য ত্বকের সংক্রমণও শীতে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু সম্পর্কে চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, শরীর ব্যথা ও ক্লান্তিকে কেবল সাধারণ জ্বর ভেবে বসে থাকা ঠিক হবে না। ফ্লু থেকে দ্রুত নিউমোনিয়া ও পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেশি। তাই শীতকালীন যেকোনো অসুস্থতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা লক্ষণ বাড়তে থাকলে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
শীতে গলার ব্যথায় ভুগছেন? টনসিলের ঝুঁকি এড়ানোর সহজ উপায়
শীতের রুক্ষ আবহাওয়ায় গলা ব্যথা বা টনসিলের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, টনসিল মূলত আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অংশ, যা নাক ও মুখ দিয়ে প্রবেশ করা জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়ে। তবে এই টনসিলেই যখন জীবাণুর সংক্রমণ ঘটে, তখন তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘টনসিলাইটিস’ বলা হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, শীতে টনসিলের সমস্যাকে কেবল সাধারণ ঠান্ডা মনে করে অবহেলা করলে তা দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা তৈরি করতে পারে।
টনসিলের সমস্যা সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে—অ্যাকিউট বা তীব্র এবং ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভাইরাসজনিত কারণে এই সংক্রমণ হয়। তবে স্ট্রেপটোকক্কাস নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে যদি টনসিল আক্রান্ত হয়, তবে তা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। এক্ষেত্রে গলা ব্যথার সঙ্গে প্রচণ্ড জ্বর, কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া এবং খাবার গিলতে মারাত্মক কষ্ট হতে পারে। ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এই সমস্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, টনসিলের সংক্রমণ ছোঁয়াচে হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি, লালা এমনকি একই পাত্রে খাবার খাওয়ার মাধ্যমেও এই জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন এই সমস্যা চলতে থাকলে টিস্যু শক্ত হয়ে যাওয়া (ফাইব্রোসিস) বা ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্টের মতো ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’র ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই সংক্রমণের শুরুতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং ঠান্ডা জাতীয় খাবার যেমন আইসক্রিম বা ফ্রিজের পানি পুরোপুরি এড়িয়ে চলা জরুরি।
উপশমের জন্য চিকিৎসকরা কিছু কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন। দিনে অন্তত দুবার কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে কুলি করলে গলার ফোলা ভাব দ্রুত কমে। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধে সামান্য হলুদ মিশিয়ে পান করলে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-সেপটিক হিসেবে তা কাজ করে। মধু ও গ্রিন-টি পানের মাধ্যমেও জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়া সম্ভব। তবে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পাঠকের মতামত:
- শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার
- ইসলামোফোবিয়া: বাংলাদেশে বাস্তবতার নাম, না রাজনৈতিক ঢাল
- চাকরি নিয়ে অসন্তুষ্টি? ৯০ মিনিটের এই সূত্র বদলে দিতে পারে আপনার জীবন
- ১৭ জানুয়ারি ২০২৬: মার্কিন ডলার থেকে রুপি, জানুন আজকের বিনিময় হার
- নির্বাচনী মিশনে জামায়াত আমির: ঢাকা-১৫ থেকে শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী সফর
- সালাদে যে সবজিটি যোগ করলে লিভার থাকবে চর্বিমুক্ত
- কুমিল্লার একই পরিবারের তিনজনের প্রাণহানী
- প্রতিদিন মাত্র ১টি লবঙ্গ: নিয়মিত খেলে শরীরে ঘটে এই ১১টি চমকপ্রদ উপকার!
- স্লো পয়জন প্রয়োগ! খালেদা জিয়ার মৃত্যু নিয়ে চিকিৎসকের বিস্ফোরক তথ্য
- বাতাসে শুধু ধূলিকণা নয়, ভাসছে মৃত্যুও: আইকিউএয়ারে শীর্ষে ঢাকা
- রণক্ষেত্রে ট্রমা ও নৈতিক আঘাত: ইসরায়েলি সেনাদের আত্মহত্যার হার বৃদ্ধি
- ফ্যাসিবাদ পরবর্তী বাংলাদেশের দিশারি যখন খালেদা জিয়ার আদর্শ
- স্বাদে ও পুষ্টিতে সেরা বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ১১টি খেজুর
- আজ ৮ ঘণ্টা যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না
- স্বর্ণ কিনতে গুনতে হবে বাড়তি অর্থ; এক নজরে আজকের পূর্ণাঙ্গ মূল্যতালিকা
- নামাজের সময়সূচি: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- কুমিল্লা মুরাদনগরে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা
- বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ৫ বড় ঝুঁকি: ডব্লিউইএফ ও সিপিডির সতর্কবার্তা
- কুমিল্লার বরুড়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষ, দুইজন নিহত
- শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল, কী বললেন তিনি
- ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ, দেখুন এখানে
- ইরান সংকট নিয়ে পুতিন–নেতানিয়াহুর ফোনালাপ, আলোচনায় যা ছিল
- ইসরা ও মেরাজ: নবীজির অলৌকিক সফরের পূর্ণ ব্যাখ্যা
- রামপাল প্রকল্প নিয়ে তীব্র সমালোচনায় রিজভী
- তারেক রহমান–ট্রাম্প প্রশাসনের ভার্চুয়াল বৈঠক
- হিজাব নিয়ে কোরআনের আয়াত ও ব্যাখ্যা
- প্রথম জুমার খুতবায় রাসুলের (সা.) যে বার্তা আজও প্রাসঙ্গিক
- পে-স্কেল চূড়ান্তে শেষ ধাপে কমিশন, আসছে বেতন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত
- বিপিএল ম্যাচ বাতিল: টিকিট ফেরতের নিয়ম জানুন
- আজকের ডলার, ইউরো ও পাউন্ডের দাম কত
- বিপিএল থেকে বুন্দেসলিগা, আজকের খেলার সূচি এক নজরে
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, জানুন নতুন দর
- এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে জরুরি আপডেট
- শুক্রবার ঢাকায় যেসব দর্শনীয় স্থান এবং মার্কেট বন্ধ জেনে নিন
- আজ কেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া
- শুক্রবার রাজধানীতে কোথায় কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি
- সকালেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডি: উত্তরায় সাততলা ভবনে আগুনে ৩ মৃত্যু, আহত ১৩
- নামাজের সময়সূচি: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
- ফেব্রুয়ারিতে সরকারি কর্মচারীদের দুই দফা টানা ছুটি
- জুলাই অভ্যুত্থানে লুণ্ঠিত অস্ত্র কুমিল্লায় উদ্ধার
- নোবেল পদক উপহার, কূটনীতির নতুন বার্তা: ট্রাম্প–মাচাদো বৈঠক ঘিরে ওয়াশিংটনে কী ইঙ্গিত
- কেন শুক্রবার মুসলমানদের জন্য ব্যতিক্রম ও শ্রেষ্ঠ: জুমার দিনের ফজিলত, আমল ও তাৎপর্য এক নজরে
- ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত
- ভালুকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক
- মহাবিশ্বে রহস্যময় ‘ক্লাউড-৯’: তারাশূন্য এক ব্যর্থ গ্যালাক্সি!
- ঝটপট নাশতায় পাউরুটি কি ডেকে আনছে বড় রোগ? জানুন বিশেষজ্ঞদের মত
- মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের চার পাশে থম থমে পরিবেশ
- ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত
- বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি
- টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সূচি
- নাসাল স্প্রে কি নাকের বারোটা বাজাচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের বড় সতর্কতা
- ডিভিডেন্ড পরিশোধে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিন প্রতিষ্ঠানের
- ডিএসই পরিদর্শন/ডোমিনেজ চালু, অন্য চার কোম্পানির কারখানা বন্ধ
- বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ডিএসইর আইনি সতর্কতা
- ১২ জানুয়ারি ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি
- জোট গঠনে অনেক ছাড় দিয়েছে এনসিপি লক্ষ্য এবার সরকার গঠন: আসিফ মাহমুদ
- সরকারি বন্ড বাজারে স্থগিতাদেশ ও ডিলিস্টিং একসঙ্গে
- ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কোথায় সুযোগ
- বিনিয়োগকারী অভিযোগে ডিজিটাল সমাধান জোরদার ডিএসইর
- রেকর্ড ডেট শেষে সরকারি বন্ড ও দুই কোম্পানীর লেনদেন শুরু
- ব্রণের দাগ দূর করতে ঘরোয়া ফেসপ্যাকের কার্যকারিতা জানুন
- শেয়ারবাজারে ১৫ জানুয়ারির টার্নওভার চিত্র








