Banner

সুস্থ জীবন

ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা: কাঁটাযুক্ত পাতার ভেতর লুকানো আরোগ্যের জেল

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ০৪ ১৪:৩৭:৪০
ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা: কাঁটাযুক্ত পাতার ভেতর লুকানো আরোগ্যের জেল

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী হাজার বছর ধরে লোকঔষধ ও সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহৃত। মিসরীয় প্যাপিরাস থেকে ভারতীয় আয়ুর্বেদ, গ্রিক ও আরব চিকিৎসা পর্যন্ত সর্বত্র এর উপস্থিতি দেখা যায়। আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ বলছে পাতার ভেতরের স্বচ্ছ জেল প্যারেনকাইমা, মিউকোপলিস্যাকারাইড, ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। একই পাতা আবার হলুদাভ তিক্ত ল্যাটেক্সও বহন করে যাতে প্রাকৃতিক রেচক অ্যান্থ্রাকুইনোন থাকে। এই দুই স্তরের আলাদা প্রোফাইল বোঝা জরুরি, কারণ জেল তুলনামূলক নরমাল ব্যবহারে নিরাপদ হলেও কাঁচা ল্যাটেক্স বেশি খেলে সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

পুষ্টিগুণের ভিত

অ্যালোভেরার জেল ভিটামিন এ, সি, ই সহ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। বি গ্রুপের মধ্যে বি১, বি২, বি৩, বি৬ এবং কিছু প্রজাতিতে বি১২ রিপোর্ট করা হয়। খনিজের মধ্যে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন, পটাশিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ থাকে। জেলে পলিস্যাকারাইড যেমন অ্যাসেম্যানান, এনজাইম এবং অ্যামিনো অ্যাসিডের একটি ভাল মিশ্রণ থাকে। এই সমন্বয় ত্বককে হাইড্রেট করে, ক্ষতস্থানে স্যুত্র তৈরি সহায়তা করে, মৌখিক শ্লেষ্মা শান্ত করে এবং পরিপাকে স্বস্তি দিতে পারে।

জেল বনাম ল্যাটেক্স

পাতা কাটলে যে স্বচ্ছ জেল বের হয় সেটিই সাধারণত ত্বক, চুল এবং পানীয়ের জন্য ব্যবহৃত। পাতার খোসার ঠিক ভেতরের হলুদাভ তরলটি হলো ল্যাটেক্স, যার ল্যাক্সেটিভ প্রভাব প্রবল। বাজারে ডিকলোরাইজড বা ফিল্টারড জুস বলতে সাধারণত ল্যাটেক্স অপসারিত জেল-ভিত্তিক পণ্য বোঝায়। গৃহে ব্যবহার করলে পাতার সবুজ অংশ ও হলুদ স্তর ভালোভাবে ছেঁটে ফেলে কেবল স্বচ্ছ জেল নিন।

হজম ও ডিটক্স: কীভাবে কাজ করে

জেলে থাকা এনজাইম শর্করা ও চর্বি ভাঙতে সহায়তা করে, যা হজমের আরাম বাড়ায়। পানি ও মিউকোপলিস্যাকারাইড অন্ত্রের মিউকোসা শান্ত করে। ল্যাটেক্সের অল্প মাত্রায় রেচক প্রভাব থাকতে পারে, তবে দীর্ঘ সময় বা বেশি পরিমাণ ল্যাটেক্স খেলে ক্র্যাম্প, ডিহাইড্রেশন এবং পটাশিয়াম কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই দৈনন্দিন সেবনে জেল-ফোকাসড, ল্যাটেক্স-মুক্ত প্রস্তুতি বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

মৌখিক স্বাস্থ্য

অ্যালো জেল মুখের শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে, হালকা জ্বালা ও আলসার শান্ত করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে প্লাক কমাতে সহায়ক হয়। টুথপেস্ট বা মাউথওয়াশে অ্যালোর উপস্থিতি তাই জনপ্রিয়। ঘরে জেল ব্যবহার করলে পরিষ্কার হাত দিয়ে আলতোভাবে লাগিয়ে দিন এবং খাবার বা গরম পানীয়ের আগে ধুয়ে ফেলুন।

ত্বকে অ্যালোর বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহার

সূর্যদগ্ধ ত্বকে ঠান্ডা জেল আরাম দেয়, লালভাব কমায় এবং আর্দ্রতা ধরে রাখে। ব্রণপ্রবণ ত্বকে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার পাতলা স্তর হিসেবে ব্যবহার করা যায়। শুষ্ক ত্বকে গ্লিসারিন বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরামের উপর অ্যালো জেল লাগালে জলধারণ ক্ষমতা বাড়ে। সংবেদনশীল ত্বকে আগে কানের পেছনে প্যাচ টেস্ট করুন। পচা গন্ধ, রঙ বদলে যাওয়া বা দূষিত জেল কখনো ব্যবহার করবেন না।

চুল ও স্ক্যাল্প কেয়ার

অ্যালো জেল প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে স্ক্যাল্পকে হাইড্রেট করে, খুশকি ও চুলকানি কমাতে সাহায্য করে এবং চুলের জট ছাড়াতে সহায়ক। তিনটি সহজ পদ্ধতি চেষ্টা করতে পারেন। এক, শ্যাম্পুর আগে স্ক্যাল্পে জেল লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। দুই, জেল, দই এবং এক চা চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে সাপ্তাহিক হেয়ার মাস্ক করুন। তিন, পানি মিশিয়ে স্প্রে করে লিভ ইন কন্ডিশনারের মতো ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত ব্যবহার চুল শুষ্ক করতে পারে, তাই ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণ করুন।

কৌতূহল জাগানো ৫টি ব্যবহারযোগ্য রেসিপি

  • সকালের হালকা পানীয়। ২০০ মিলিলিটার পানি, এক টেবিলচামচ তাজা অ্যালো জেল, আধা চা চামচ মধু, কয়েক ফোঁটা লেবু।
  • হজমে স্বস্তি স্মুদি। কিউই বা আনারস, দই, এক টেবিলচামচ অ্যালো জেল, অল্প পুদিনা।
  • সান-সুথিং জেল। অ্যালো জেল, শসার রস, অল্প রোজ ওয়াটার। ফ্রিজে রেখে প্রয়োজনে লাগান
  • স্ক্যাল্প প্যাক। অ্যালো জেল, মেথি বাটা, এক চা চামচ কালোজিরা তেল। ২০ মিনিট।
  • মুখের দাগে স্পট জেল। অ্যালো জেল, হলুদের অতি অল্প গুঁড়া, মধু। রাতের বেলায় স্পটে লাগিয়ে 20 মিনিট পর ধুয়ে নিন।

কতটা খাবেন এবং কীভাবে নেবেন

খাওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপদ দিক হলো জেল-ভিত্তিক, ল্যাটেক্স-মুক্ত প্রস্তুতি। সাধারণত দিনে ১৫ থেকে ৩০ মিলিলিটার ডিকলোরাইজড অ্যালো জুস বা এক থেকে দুই টেবিলচামচ তাজা জেল পানি বা স্মুদিতে মেশানো যেতে পারে। টপিক্যাল প্রয়োগে দিনে দুই থেকে তিনবার পাতলা স্তর যথেষ্ট। ক্যাপসুল, টিংচার বা কনসেনট্রেট নিলে পণ্যে উল্লেখিত ডোজ অনুসরণ করুন এবং প্রথম সপ্তাহে অর্ধেক ডোজে সহনশীলতা দেখুন।

কে সাবধান হবেন

গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী, ১২ বছরের কম বয়সী শিশু, কিডনি বা লিভারের ক্রনিক সমস্যা, ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালান্স, হূদ্‌রোগে ডাইউরেটিক বা কার্ডিয়াক গ্লাইকোসাইড ব্যবহারকারী, অ্যান্টিকোগুল্যান্ট, অ্যান্টিপ্লেটলেট, অ্যান্টিডায়াবেটিক বা স্টেরয়েড ব্যবহারকারী। ল্যাটেক্সের রেচক অংশ এসব ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়াতে পারে। অস্ত্রোপচারের আগে পরে নিজের মতো করে কোনো হার্বাল শুরু বা বন্ধ করবেন না। অ্যালার্জিপ্রবণ ত্বকে প্যাচ টেস্ট বাধ্যতামূলক।

ঘরে কেনার সময় কী দেখবেন

ল্যাটেক্স-মুক্ত বা ডিকলোরাইজড লেখা আছে কি না খেয়াল করুন। তৃতীয় পক্ষের গুণমান পরীক্ষার সিল, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণতার স্পষ্ট তারিখ, গাঢ় কাঁচের বোতল এবং অ্যালো কনটেন্টের শতাংশ উল্লেখ আছে কি না দেখুন। তাজা পাতা নিলে মোটা ও টানটান পাতা নিন। কাটার পর হলুদাভ রস ঝরিয়ে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে কেবল স্বচ্ছ জেল গ্রহণ করুন।

দ্রুত প্রশ্নোত্তর

অ্যালো কি ওজন কমায়?

-সরাসরি চর্বি পোড়ায় না। জেল-ভিত্তিক পানীয় হাইড্রেশন ও হালকা তৃপ্তি বাড়িয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টায় সহায়ক হতে পারে।

প্রতিদিন খাওয়া যায় কি?

-কম পরিমাণ, জেল-ফোকাসড, ল্যাটেক্স-মুক্ত হলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সহনীয়। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে মাঝে মাঝে বিরতি নিন এবং শরীরের সাড়া দেখুন।

ব্রণে কি লাগানো যায়?

-হ্যাঁ, পাতলা স্তর, পরিষ্কার ত্বকে, দিনে এক থেকে দুইবার। জ্বালা হলে বন্ধ করুন।চুলে রাতভর রাখা ঠিক কি না। সূক্ষ্ম চুলে শুষ্ক হতে পারে। ২০ থেকে ৩০ মিনিট যথেষ্ট, পরে ধুয়ে ফেলুন।

সাইড ইফেক্ট এবং কখন বন্ধ করবেন

পেটব্যথা, ক্র্যাম্প, ডায়রিয়া, মাথা হালকা লাগা, লালচে ফুসকুড়ি, চুলকানি বা জ্বালা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন। লাল প্রস্রাব, তীব্র দুর্বলতা, খিঁচুনি বা ত্বকে প্রচণ্ড জ্বালা হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। কোনো নতুন সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে আপনার পার্সোনাল মেডিকেল হিস্ট্রি অনুযায়ী পেশাদার পরামর্শ নিন।

অ্যালোভেরা একটি বহুমুখী ভেষজ। জেল ত্বক, চুল, মৌখিক স্বাস্থ্য এবং হালকা হজমে আরাম দিতে পারে। সঠিক অংশ বাছাই, ডোজ নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত পণ্য নির্বাচন এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকলে অ্যালোর উপকার নিরাপদে পাওয়া যায়। রান্নাঘরের সহজ রেসিপি থেকে স্কিন কেয়ার ও হেয়ার কেয়ারের কাস্টম রুটিন পর্যন্ত সবখানেই এর প্রয়োগ সম্ভব। ব্যবহার শুরু করুন কম পরিমাণে, শরীরের সাড়া দেখুন, প্রয়োজনে বিরতি নিন এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।


শীতের রাতে শরীর থাকবে গরম: জানুন রান্নাঘরের বিশেষ মশলার গুণ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ২০:৪৮:৪৬
শীতের রাতে শরীর থাকবে গরম: জানুন রান্নাঘরের বিশেষ মশলার গুণ
ছবি : সংগৃহীত

শীতের তীব্রতায় শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখা এবং রক্ত সঞ্চালন সচল রাখা অনেকের জন্যই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ঠান্ডার কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি সিস্টেম দুর্বল হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও পুষ্টিবিদদের মতে, প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে সঠিক খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ করলে এই শীতেও শরীরকে সুস্থ, উষ্ণ ও দারুণ সক্রিয় রাখা সম্ভব।

শীতকালীন খাদ্য তালিকায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শুকনো ফল ও বীজের ওপর। কাঠবাদাম, আখরোট, তিল ও তিসির বীজে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি পেশির ক্লান্তি দূর করে। এছাড়া ওটস, রাগি, জোয়ার ও বাজরার মতো গোটা শস্য শরীরকে দীর্ঘক্ষণ শক্তি যোগায়, যা শীতের অলসতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। এসবে থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রেখে হঠাৎ দুর্বল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়।

শীতের অন্যতম সেরা উপহার হলো কন্দজাত সবজি যেমন গাজর, বিট, মিষ্টি আলু ও শালগম। এগুলো কেবল হজম শক্তিই বাড়ায় না, বরং শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ রাখতে অসামান্য ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি রান্নায় আদা, রসুন, দারুচিনি, লবঙ্গ ও গোলমরিচের মতো উষ্ণ মশলা ব্যবহার করলে তা শরীরের প্রাকৃতিক তাপ উৎপন্ন করে এবং সর্দি-কাশি প্রতিরোধে কবচের মতো কাজ করে। স্বাস্থ্যকর চর্বি হিসেবে ঘি বা নারকেল তেলের পরিমিত ব্যবহার ত্বককে শুষ্কতা থেকে রক্ষা করে ও জয়েন্টের নমনীয়তা বজায় রাখে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, শীতকালে শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত গরম খাবার এবং মৌসুমি রঙিন সবজির বিকল্প নেই। কেবল ভারী কাপড়েই নয়, সঠিক পুষ্টির মাধ্যমে শরীরকে ভেতর থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারলে এই শীতকাল হবে আনন্দময় ও রোগমুক্ত। পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস এবং প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে হলুদের ব্যবহার এই মৌসুমে সুস্থ থাকার অনন্য উপায়।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


শীতে কম্বল ধোয়ার ঝামেলা শেষ: ঝকঝকে রাখার সহজ ৩ কৌশল

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১১:২৫:০৯
শীতে কম্বল ধোয়ার ঝামেলা শেষ: ঝকঝকে রাখার সহজ ৩ কৌশল
ছবি : সংগৃহীত

জানুয়ারির হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় দেশজুড়ে বইছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। শীতের এই মাঝামাঝি সময়ে লেপ-কম্বলই এখন সবার প্রধান ভরসা। তবে নিয়মিত ব্যবহারের ফলে কম্বলে ময়লা জমা, স্যাঁতসেঁতে গন্ধ হওয়া কিংবা ত্বকে চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দেওয়া খুব সাধারণ ঘটনা। কিন্তু এই শীতে বিশাল ও ভারী কম্বল পানিতে ভিজিয়ে কাচা এবং তা শুকানো রীতিমতো এক দুঃসাধ্য কাজ। পানি ছাড়া কম্বলকে নতুনের মতো পরিষ্কার ও সুগন্ধিযুক্ত রাখার বেশ কিছু কার্যকরী ঘরোয়া পদ্ধতি চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন।

সাবান পানিতে কম্বল ধুলে অনেক সময় এর ফ্যাব্রিক বা আঁশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে, আবার ঠিকমতো না শুকালে তন্তুর ভেতর ছত্রাক জন্মানোর ভয় থাকে। এই সমস্যার সমাধানে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বেকিং সোডার ব্যবহার। কম্বলের ওপর শুকনো বেকিং সোডা ছিটিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে দিলে তা সব ধরণের দুর্গন্ধ শুষে নেয়। এরপর ভালো করে ঝেড়ে নিলে কম্বল হয়ে ওঠে একদম সতেজ। এছাড়া দুই-তিন সপ্তাহ অন্তর অন্তত একবার কড়া রোদে কম্বল দড়িতে ঝুলিয়ে রাখলে এর ভেতরের জীবাণু ধ্বংস হয় এবং ভ্যাপসা গন্ধ দূর হয়।

আরেকটি স্মার্ট কৌশল হলো সরাসরি কম্বল গায়ে না দিয়ে প্রথমে একটি পাতলা সুতি চাদর ব্যবহার করা এবং তার ওপর কম্বল নেওয়া। এতে শরীরের ঘাম বা ত্বকের মৃত কোষ সরাসরি কম্বলে লাগে না, ফলে দীর্ঘ সময় এটি পরিষ্কার থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন কম্বল দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে কড়া ডিটারজেন্ট এবং অত্যধিক গরম পানি এড়িয়ে চলাই ভালো। এই সহজ টোটকাগুলো অনুসরণ করলে এই পুরো শীতে কম্বল ধোয়ার কোনো প্রয়োজনই পড়বে না। ফলে বেঁচে যাবে আপনার সময় ও শ্রম, আর আপনি পাবেন প্রশান্তির ঘুম।

সূত্র : এই সময়


কম পরিশ্রমে বেশি সাফল্য, পোমোডোরো কৌশলে বদলান নিজের জীবন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১১:০৫:৫৫
কম পরিশ্রমে বেশি সাফল্য, পোমোডোরো কৌশলে বদলান নিজের জীবন
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান দ্রুতগতির জীবনে সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে না পারা মানসিক চাপের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেরই মনে হয় দিন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং কাজের ডেডলাইন হঠাৎ সামনে এসে হানা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময় ব্যবস্থাপনা কেবল একটি দক্ষতা নয়, বরং এটি জীবনকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে নেওয়ার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কম সময়ে বেশি কাজ শেষ করা, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।

সময়কে নিয়ন্ত্রণে আনার প্রথম ধাপ হলো 'আইজেনহাওয়ার ম্যাট্রিক্স' ব্যবহার করে কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করা। এই পদ্ধতিতে কাজগুলোকে জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ—এই দুই ভিত্তিতে চার ভাগে ভাগ করা হয়। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট হওয়া বন্ধ হয়। পাশাপাশি 'পোমোডোরো' কৌশল ব্যবহার করে ২৫ মিনিট টানা কাজ এবং ৫ মিনিটের স্বল্প বিরতি আপনার ক্লান্তি কমিয়ে কাজের মান বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। মাল্টিটাস্কিং এড়িয়ে একবার একটি কাজে মনোযোগ দিলে ভুলের পরিমাণ কমে এবং লক্ষ্য দ্রুত অর্জিত হয়।

সাফল্যের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণে 'SMART' (নির্দিষ্ট, পরিমাপযোগ্য, বাস্তবসম্মত, প্রাসঙ্গিক ও সময় নির্ধারিত) পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি। এছাড়া কাজগুলোকে দৃশ্যমান করতে 'মাইন্ড ম্যাপিং' বা চিত্রের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। আধুনিক প্রযুক্তির নানা অ্যাপ সময় ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হলেও অপ্রয়োজনীয় টুলের ব্যবহার হিতে বিপরীত হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের সক্ষমতার সীমা জানা এবং লক্ষ্যহীন কাজকে বিনয়ের সঙ্গে 'না' বলতে শেখা। মনে রাখবেন, সময় আপনার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ; আজ থেকেই একে গুরুত্ব দিলে আগামীর পথ হবে অনেক বেশি মসৃণ ও সফল।


খেজুরের গুড়ে কী আছে, জানলে অবাক হবেন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ০৭:২৮:৫৪
খেজুরের গুড়ে কী আছে, জানলে অবাক হবেন
ছবি: সংগৃহীত

শীত মৌসুম শুরু হলেই দেশের গ্রাম থেকে শহর সবখানেই খেজুরের গুড়ের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। বাংলার শীতকালীন খাদ্যসংস্কৃতিতে খেজুরের গুড় শুধু একটি মিষ্টি উপাদান নয়; এটি ঐতিহ্য, পুষ্টি এবং মৌসুমি স্বাস্থ্যসচেতনতার প্রতীক। পিঠা-পুলি থেকে শুরু করে নিত্যদিনের খাবার সবখানেই খেজুরের গুড়ের ব্যবহার চোখে পড়ে।

কেন শীতেই খেজুরের গুড়ের কদর বেশি

খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় প্রস্তুত মূলত শীতকালেই হয়। ঠান্ডা আবহাওয়ায় রসের মান ভালো থাকে এবং গুড় স্বাভাবিকভাবেই বেশি সুস্বাদু ও ঘন হয়। এই মৌসুমি বৈশিষ্ট্যের কারণেই শীতকালে খেজুরের গুড়ের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বাড়ে।

খেজুর গুড় এর যত উপকারিতা

খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক খাদ্য

খেজুরের গুড় ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক ও সেলেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজে ভরপুর। এসব খনিজ শরীরের দৈনন্দিন কার্যক্রম সচল রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘদিনের খনিজ ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখে।

রক্ত পরিষ্কার ও রক্তাল্পতা প্রতিরোধে ভূমিকা

খেজুরের গুড়ে থাকা আয়রন রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা উন্নত করতে সহায়তা করে। নিয়মিত পরিমিত গ্রহণে রক্ত পরিষ্কার হতে পারে এবং রক্তাল্পতা বা দুর্বলতার ঝুঁকি কমে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এটি উপকারী বলে মনে করা হয়।

হজমশক্তি বাড়ায় ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

খেজুরের গুড়ে থাকা প্রাকৃতিক এনজাইম হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে, গ্যাস ও পেট ফাঁপা দূর করতে এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে সহায়ক। শীতকালে হজমের সমস্যা যাদের বেশি হয়, তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা

পরিশোধিত চিনির পরিবর্তে সীমিত পরিমাণে খেজুরের গুড় ব্যবহার করলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ কমানো সম্ভব। এতে মেদ জমার ঝুঁকি কিছুটা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে অতিরিক্ত গ্রহণ করলে বিপরীত প্রভাব পড়তে পারে এ বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর

খেজুরের গুড়ে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ফ্রি র‌্যাডিকেলস কমাতে সাহায্য করে। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়। শীতকালে সর্দি-কাশি, ঠান্ডাজনিত অ্যালার্জি ও সংক্রমণ থেকে কিছুটা সুরক্ষা পেতে এটি সহায়ক হতে পারে।

হাড় ও পেশি শক্তিশালী রাখতে সহায়তা

ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড়ের গঠন মজবুত করে এবং ম্যাগনেসিয়াম পেশির কার্যকারিতা উন্নত করে। বয়স্কদের হাড়ের ক্ষয় বা পেশির দুর্বলতা কমাতে খেজুরের গুড় পরোক্ষভাবে উপকার দিতে পারে।

প্রাকৃতিক শক্তির উৎস হিসেবে খেজুরের গুড়

খেজুরের গুড় দ্রুত শক্তি জোগাতে সক্ষম। শারীরিক পরিশ্রমের পর বা শীতের ক্লান্তি কাটাতে এটি একটি কার্যকর প্রাকৃতিক শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।

ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব

ভেতর থেকে পুষ্টি জোগানোর কারণে খেজুরের গুড় ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং চুলের গোড়া শক্ত করতে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত পরিমিত গ্রহণে ত্বকের শুষ্কতা কমতে পারে, যা শীতকালে একটি সাধারণ সমস্যা।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য ভূমিকা

খেজুরের গুড়ে থাকা পটাশিয়াম ও সোডিয়াম শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা হতে পারে, যদিও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে পরিমিত গ্রহণ জরুরি।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সতর্কতা

সব উপকারের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে। খেজুরের গুড়ে প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ বেশি হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এমনকি যাদের প্রিডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার প্রবণতা আছে, তাদেরও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত খাওয়া উচিত নয়।

খেজুরের গুড় শীতকালীন একটি ঐতিহ্যবাহী ও পুষ্টিকর খাদ্য, যা স্বাদ ও স্বাস্থ্য দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনভাবে ও পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে এটি শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করে খাওয়াই সর্বোত্তম।

সূত্রঃ গুগল


সকালে খালি পেটে জিরা–লেবু পানি কেন এত উপকারী

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ০৭:০০:৫৪
সকালে খালি পেটে জিরা–লেবু পানি কেন এত উপকারী
ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে জিরা ও লেবু পানির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। পুষ্টিবিদদের মতে, এই সহজ পানীয়টি হজমশক্তি উন্নত করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা, শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় টক্সিন বের করে দেওয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। জিরা বিপাকক্রিয়া সক্রিয় করে, আর লেবু ভিটামিন সি-এর শক্তিশালী উৎস হওয়ায় সামগ্রিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা

জিরা–লেবু পানি নিয়মিত পান করলে বিপাকক্রিয়া দ্রুত হয়, যা ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে। ক্ষুধা কমানোর প্রবণতা তৈরি হওয়ায় অতিরিক্ত খাবার গ্রহণও কমে। বিশেষ করে পেটের আশপাশে জমে থাকা চর্বি কমাতে এই পানীয়টি কার্যকর হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

হজমশক্তি বাড়ায় ও গ্যাস কমায়

জিরা হজমতন্ত্রের জন্য পরিচিত একটি উপাদান। এটি গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিকে সক্রিয় করে পাচকরস নিঃসরণে সহায়তা করে। ফলে বদহজম, গ্যাস, পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি কমতে পারে। লেবুর হালকা অম্লীয় গুণ হজম প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করে তোলে।

শরীরের ডিটক্স প্রক্রিয়ায় সহায়ক

জিরা ও লেবু উভয়ই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ। এই উপাদানগুলো শরীর থেকে ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিক্যাল ও টক্সিন অপসারণে সহায়তা করে। নিয়মিত গ্রহণে লিভার ও পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে

লেবুতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে। জিরার ভেতরে থাকা বিভিন্ন খনিজ ও উদ্ভিজ্জ উপাদান শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করে। মৌসুমি সর্দি-কাশি ও দুর্বলতা কমাতেও এটি সহায়ক হতে পারে।

ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব

ভেতর থেকে শরীর পরিষ্কার হলে তার প্রভাব পড়ে ত্বক ও চুলে। জিরা–লেবু পানি নিয়মিত পান করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়তে পারে, ব্রণ ও নিস্তেজভাব কমতে পারে। চুলের গোড়া শক্ত রাখতেও এই পানীয়টি উপকারী বলে মনে করা হয়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য সহায়তা

গবেষণাভিত্তিক মতামত অনুযায়ী, জিরা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। লেবুতে থাকা উপাদানগুলোও গ্লাইসেমিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

অ্যাসিডিটি ও অম্বল উপশমে ভূমিকা

হজমতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখার মাধ্যমে এই পানীয়টি অ্যাসিডিটি ও অম্বলের সমস্যা কমাতে পারে। জিরা পাকস্থলীর অতিরিক্ত অম্লতা প্রশমনে সাহায্য করে, আর লেবু পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করলে হজমে আরাম দেয়।

রক্তাল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক

জিরা আয়রনের ভালো উৎস হিসেবে পরিচিত। নিয়মিত গ্রহণে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে, যা রক্তাল্পতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কীভাবে তৈরি করবেন

রাতে এক গ্লাস পানিতে প্রায় তিন চা-চামচ জিরা ভিজিয়ে রাখুন। সকালে সেই পানি ছেঁকে তাতে লেবুর রস ও অল্প লবণ মিশিয়ে নিন। চাইলে কুসুম গরম অবস্থায় পান করা যেতে পারে।

কখন পান করা সবচেয়ে ভালো

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে খালি পেটে জিরা–লেবু পানি পান করলে সর্বোচ্চ উপকার পাওয়া যায়। এটি সারাদিনের জন্য শরীরকে সতেজ রাখে এবং হজমতন্ত্রকে সক্রিয় করে।


হাড়কাঁপানো শীতে রোগ প্রতিরোধে তুলসী চায়ের জাদুকরী সব গুণ  

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১২:০৫:২৫
হাড়কাঁপানো শীতে রোগ প্রতিরোধে তুলসী চায়ের জাদুকরী সব গুণ  
ছবি : সংগৃহীত

পৌষের কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশার প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা এবং নাক বন্ধের মতো সমস্যা নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। শীতকালীন এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে এবং দ্রুত সুস্থ হতে প্রাকৃতিকভাবে তুলসী চা এক দারুণ সমাধান। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে তুলসী পাতায় রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ভাইরাল ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ যা কেবল সর্দি-কাশি উপশমই করে না বরং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা ও ধূলিকণার আধিক্য থাকায় ভাইরাস দ্রুত ছড়ায়। নিয়মিত তুলসী চা পান করলে ফুসফুসের কফ পরিষ্কার হতে সাহায্য করে এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের অস্বস্তি দূর হয়। এতে থাকা বিশেষ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের বিষাক্ত উপাদান দূর করে ভেতর থেকে উষ্ণতা জোগায়। বিশেষ করে যারা দীর্ঘস্থায়ী খুসখুসে কাশি বা গলা ব্যথায় ভুগছেন তাদের জন্য এক কাপ গরম তুলসী চা তাৎক্ষণিক আরামদায়ক হতে পারে।

তুলসী চা বানানো অত্যন্ত সহজ। এক কাপ পানিতে ৬-৭টি তাজা তুলসী পাতা ভালো করে ফুটিয়ে নিয়ে এর সাথে আদা, লবঙ্গ বা দারুচিনি যোগ করলে এর গুণাগুণ আরও বৃদ্ধি পায়। সবশেষে চিনি পরিহার করে সামান্য মধু মিশিয়ে পান করা সবচেয়ে উপকারী। দিনে অন্তত দুই কাপ এই চা পান করলে শীতকালীন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। তবে গর্ভবতী নারী বা বিশেষ শারীরিক জটিলতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিয়মিত তুলসী চা গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র : আনন্দবাজার


হাড়কাঁপানো শীতে ঘর হবে উষ্ণ: জানুন গিজার ও হিটারের বাজারদর

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১১:৪৭:২১
হাড়কাঁপানো শীতে ঘর হবে উষ্ণ: জানুন গিজার ও হিটারের বাজারদর
ছবি : সংগৃহীত

সারাদেশে শীতের তীব্রতা চরমে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে জনজীবনে কনকনে ঠান্ডার দাপট অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা থাকায় দৈনন্দিন কাজে স্বস্তি পেতে সাধারণ মানুষ এখন ঝুঁকছেন আধুনিক প্রযুক্তি পণ্যের দিকে। বিশেষ করে ঘরকে উষ্ণ রাখতে রুম হিটার এবং গরম পানির সুবিধা পেতে গিজারের চাহিদা বর্তমানে তুঙ্গে রয়েছে। দেশের প্রধান ইলেকট্রনিক্স বাজারগুলোতে এখন দেশি-বিদেশি নানা ব্র্যান্ডের গিজার ও হিটারের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে।

বর্তমানে বাজারে ৩০ লিটার থেকে শুরু করে ৬০ লিটার ধারণক্ষমতার গিজার বেশ জনপ্রিয়। ছোট পরিবারের জন্য ৩০ লিটারের গিজার সাশ্রয়ী হলেও বড় পরিবারের চাহিদা মেটাতে ৬০ লিটারের গিজার কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ যার গড় দাম ১৭ হাজার টাকার আশেপাশে। গিজারের ক্ষেত্রে এখন ডিজিটাল ও অ্যানালগ দুই ধরণের সংস্করণই পাওয়া যাচ্ছে। ডিজিটাল গিজারের সুবিধা হলো এতে পানির তাপমাত্রা সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় অন্যদিকে দেশি অ্যানালগ গিজারগুলোতে পানি গরম হলে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল লাইটের ব্যবস্থা থাকে। কেনার সময় পরিবারের সদস্য সংখ্যা বুঝে সঠিক লিটার এবং ওয়ারেন্টির বিষয়টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

অন্যদিকে রুম হিটার কেনার ক্ষেত্রে হিটারের ওয়াট এবং রুমের আয়তনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সাধারণ মানের রুম হিটার ১ হাজার টাকা থেকে শুরু হলেও উন্নতমানের প্রিমিয়াম মডেলগুলো ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। একটি দুই হাজার ওয়াট সক্ষমতার থার্মোস্ট্যাট সম্পন্ন হিটার সাধারণত ৪৪০ বর্গফুট পর্যন্ত জায়গা উষ্ণ রাখতে সক্ষম। বড় ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে একাধিক হিটার ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সরাসরি স্টেডিয়াম মার্কেট বা নিউমার্কেটের মতো বড় বাজার থেকে কিনলে দামাদামি করে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সংগ্রহের সুযোগ থাকে। অনলাইন থেকে কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই আগের ক্রেতাদের রিভিউ এবং সার্ভিস সেন্টারের সুবিধা যাচাই করে নেওয়া উচিত।


কনকনে ঠান্ডায় পানিভীতি কাটানোর উপায়: গোসল হবে এখন উপভোগ্য

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১১:৪২:৩৯
কনকনে ঠান্ডায় পানিভীতি কাটানোর উপায়: গোসল হবে এখন উপভোগ্য
ছবি : সংগৃহীত

পৌষের কনকনে ঠান্ডায় অনেকের দৈনন্দিন রুটিনে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় গোসল। হাড়কাঁপানো শীতে পানি ছোঁয়ার ভয়ে অনেকেই সপ্তাহের পর সপ্তাহ গোসল এড়িয়ে চলেন। তবে চিকিৎসকদের মতে গোসল পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে শরীরে ময়লা ও ব্যাকটেরিয়া জমে ত্বকের নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে। এই ‘দুর্ভোগ’ থেকে মুক্তি পেতে এবং গোসলকে আনন্দদায়ক করতে হালকা গরম পানি হতে পারে আপনার প্রধান সঙ্গী। তবে খেয়াল রাখতে হবে পানি যেন অতিরিক্ত গরম না হয় কারণ তা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে খসখসে ভাব বাড়িয়ে দেয়।

শীতকালীন গোসলের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ব্যয় না করে ১০ থেকে ১২ মিনিটের মধ্যে তা শেষ করা বুদ্ধিমানের কাজ। গোসলের অন্তত পাঁচ মিনিট আগে শরীরে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল মেখে নিলে ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষা স্তর তৈরি হয় যা পানি লাগলেও শরীরকে অতিরিক্ত শুষ্ক হতে দেয় না। যারা খুব ভোরে গোসল করতে হিমশিম খান তারা দুপুরের সময়টি বেছে নিতে পারেন। সরাসরি মাথায় পানি না ঢেলে প্রথমে হাত-পা ভিজিয়ে শরীরকে তাপমাত্রার সাথে মানিয়ে নিতে দেওয়া জরুরি। এতে শরীর হুট করে ‘শকে’ চলে যাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

গোসল শেষে ত্বক আর্দ্র রাখতে তিন মিনিটের মধ্যেই ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার বা লোশন ব্যবহার করা প্রয়োজন। যারা কোনোভাবেই গোসল করতে পারছেন না তাদের জন্য ‘হট টাওয়েল বাথ’ বা গরম ভেজা তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছে নেওয়া একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। বিশেষ করে শরীরের স্পর্শকাতর অংশগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। গোসলের আগে সামান্য ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম করে শরীর গরম করে নিলে ঠান্ডার তীব্রতা অনেকটা কম অনুভূত হয়। এই ছোট ছোট কৌশলগুলো মেনে চললে শীতের গোসল আর ভয়ের কারণ হয়ে থাকবে না।


শীতের রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট: ইনহেলার না থাকলে যা করা জরুরি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১১:২৩:২৯
শীতের রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট: ইনহেলার না থাকলে যা করা জরুরি
ছবি : সংগৃহীত

পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে রাজধানীসহ সারা দেশে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। কনকনে ঠান্ডা বাতাস, কুয়াশা এবং ধুলোবালির কারণে অনেকেরই হঠাৎ করে শ্বাস নিতে সমস্যা শুরু হয়। বিশেষ করে রাতে শোয়ার পর বুকে চাপ অনুভব করা বা কাশির আধিক্য দেখা দিলে রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। চিকিৎসকদের মতে, এমন জরুরি পরিস্থিতিতে যদি হাতের কাছে ইনহেলার না থাকে, তবে সঠিক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

হঠাৎ হাঁপানির টান উঠলে রোগীকে কখনোই শুইয়ে দেওয়া যাবে না; বরং পিঠ টানটান করে সোজা হয়ে বসাতে হবে। ঝুঁকে বসলে ফুসফুসে বাতাসের যাতায়াত আরও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এরপর নাক দিয়ে দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ার অভ্যাস করতে হবে, যাকে ‘ব্রেদিং এক্সারসাইজ’ বলা হয়। এটি ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কিছুটা স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। এছাড়া এক কাপ হালকা গরম পানি বা গ্রিন টি পান করলে শ্বাসনালির কফ কিছুটা পাতলা হয় এবং শ্বাস নিতে আরাম বোধ হয়।

তবে গরম পানির ভাপ বা স্টিম ইনহেলেশন নেওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে। পানিতে কোনো উগ্র সুগন্ধি বা এসেনশিয়াল অয়েল না মেশানোই ভালো, কারণ এটি অ্যালার্জি বাড়িয়ে দিতে পারে। যদি দেখা যায় রোগীর কথা বলতে প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে, ঠোঁট বা নখ নীলচে হয়ে আসছে কিংবা হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে, তবে এক মুহূর্ত দেরি না করে নিকটবর্তী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিতে হবে। শীতের এই সময়ে হাঁপানি রোগীদের ধুলোবালি ও উগ্র সুগন্ধি এড়িয়ে চলা এবং সবসময় গরম কাপড় ও মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত