ইসলামী ব্যাংকিংয়ের লভ্যাংশ হালাল নাকি সুদ? জানুন প্রকৃত সত্য

বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। কিন্তু একটি প্রশ্ন প্রায়ই সামনে আসে—ইসলামী ব্যাংকে টাকা রেখে আমরা লভ্যাংশ বা মুনাফা খেতে পারব কিনা। এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন ওলামায়ে কেরামের পর্যবেক্ষণ রয়েছে।
ইসলামী ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ
আমাদের দেশের ইসলামী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে পরিচালিত হয়। অর্থাৎ, ইসলামী ব্যাংকগুলোকে অন্যান্য সব ব্যাংকের মতোই দেশের ব্যাংকিং আইন, বিধি-বিধান ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা মেনে চলতে হয়। যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই একটি সুদভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, তাই ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম শতভাগ সুদমুক্ত রাখা বাস্তবে কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে অনেকে মনে করেন, ইসলামী ব্যাংককে পুরোপুরি শরিয়াহ–সম্মত বলা যায় না।
শরিয়াহ বোর্ডের ভূমিকা
তবে প্রতিটি ইসলামী ব্যাংকের একটি স্বতন্ত্র শরিয়াহ বোর্ড থাকে। এই বোর্ডের দায়িত্ব হলো ব্যাংকের সব কার্যক্রম ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী হচ্ছে কি না তা তদারকি করা, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া এবং শরিয়াহভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়ন করা।সহজভাবে বললে, শরিয়াহ বোর্ডের মূল দায়িত্ব হলো—
- ব্যাংকের বিনিয়োগ ও লেনদেন সুদমুক্ত রাখা
- শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগপদ্ধতি অনুসরণ নিশ্চিত করা
- প্রয়োজনে গ্রাহকদের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা
যেহেতু শরিয়াহ বোর্ডে দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত আলেমগণ থাকেন, তাই সাধারণ মানুষ তাদের নির্দেশনা অনুসারে ইসলামী ব্যাংকের লভ্যাংশ গ্রহণকে বৈধ মনে করতে পারেন।
টাকা রাখা বনাম লভ্যাংশ গ্রহণ
ইসলামী ব্যাংকে টাকা জমা রাখা এবং সেখান থেকে মুনাফা গ্রহণ করা দুটি ভিন্ন বিষয়। টাকা জমা রাখা শুধু বৈধ নয়, বরং জরুরি। কারণ, যদি কেউ সুদী ব্যাংকে টাকা রাখে তবে তার অর্থ দিয়ে ব্যাংক সুদভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে, যা পরোক্ষভাবে সুদের কারবারকে সমর্থন করার সমান অপরদিকে ইসলামী ব্যাংকে টাকা রাখলে অন্তত নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আপনার অর্থ সুদভিত্তিক লেনদেনে ব্যবহার করা হবে না।
লভ্যাংশ বা মুনাফা গ্রহণের বৈধতা
শরিয়াহ বোর্ড অনুমোদিত ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা গ্রহণ করা বৈধ, তবে কিছু শর্তসাপেক্ষে।
- শরিয়াহ–সম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতি:ইসলামী ব্যাংকগুলো সাধারণত মুদারাবা (লাভ-লোকসানের অংশীদারিত্ব) ও মুশারাকা (অংশীদারিত্ব) ভিত্তিক বিনিয়োগ করে থাকে। এ পদ্ধতিগুলো সুদমুক্ত এবং শরিয়াহ–সম্মত।
- সুদ নয়, বরং লাভ:প্রচলিত ব্যাংকের মতো নির্দিষ্ট সুদের হার এখানে নেই। বরং ব্যাংক যে ব্যবসা বা বিনিয়োগ থেকে লাভ করবে, সেই লাভের একটি অংশ গ্রাহককে প্রদান করবে। ফলে এটিকে সুদ বলা যাবে না।
- শরিয়াহ বোর্ডের তদারকি:ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি বিনিয়োগ ও লেনদেন শরিয়াহ বোর্ড দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে। এতে গ্রাহক নিশ্চিত হতে পারবেন যে প্রাপ্ত মুনাফা সুদের আওতাভুক্ত নয়।
গ্রাহকের করণীয়
- ব্যাংক যাচাই করুন: নিশ্চিত করুন যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা ব্যাংকিং উইন্ডো একটি পূর্ণাঙ্গ শরিয়াহ বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
- বিনিয়োগ পদ্ধতি জানুন: ব্যাংক কোন কোন প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে তা জানার চেষ্টা করুন এবং শরিয়াহ অনুমোদিত কিনা তা খোঁজ নিন।
- সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরামর্শ করুন: যদি সন্দেহ থাকে তবে সরাসরি ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ড বা কোনো ইসলামী অর্থনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
সারকথা হলো, ইসলামী ব্যাংকে টাকা জমা রাখা এবং লভ্যাংশ গ্রহণ করা বৈধ, যদি সেই ব্যাংকটি সত্যিকার অর্থে শরিয়াহ বোর্ড দ্বারা অনুমোদিত হয় এবং তাদের বিনিয়োগ ও লেনদেন শরিয়াহসম্মত পথে পরিচালিত হয়। ইসলামী ব্যাংকের লভ্যাংশ আসলে সুদ নয়, বরং লাভ-লোকসানভিত্তিক অংশীদারিত্বের ফলাফল। তবে গ্রাহকের সচেতন থাকা জরুরি, যাতে তারা নিশ্চিত হতে পারেন যে তাদের অর্থ সত্যিকার অর্থেই শরিয়াহ–সম্মত উপায়ে ব্যবহার হচ্ছে।
চরম অর্থনৈতিক সংকটে ইরান, নতুন রেকর্ড স্পর্শ করল দেশটির মুদ্রা
আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মান কমে ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তেহরানের মুক্তবাজারে ১ মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্য ২৫ লাখ রিয়াল অতিক্রম করে মুদ্রাবাজারে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।
এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর প্রতি ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দর ২২ লাখ রিয়ালে নেমেছিল। সেখান থেকে মাত্র ২৭ দিনের ব্যবধানে মুদ্রাটির মানে এই নজিরবিহীন পতন ঘটল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার তীব্র সামরিক সংঘাত, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থবিরতা এবং সার্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাই স্থানীয় মুদ্রার ওপর তৈরি হওয়া এই অতিরিক্ত চাপের প্রধান কারণ বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলমান সামরিক সংঘাত শুরুর পূর্বে তেহরানের খোলা বাজারে ১ ডলারের গড় মূল্য ছিল প্রায় ১৭ লাখ রিয়াল। সংঘাত শুরুর পর গত কয়েক মাসে ধাপে ধাপে রিয়ালের দরপতন ঘটে। মঙ্গলবার লেনদেনের এই চিত্র ইরানের অর্থনীতিতে বিদ্যমান তীব্র সংকটের গভীরতা ফুটিয়ে তুলেছে। মুদ্রার মান অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ায় দেশটির আমদানি খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি সার্বিক মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে ধস, ৭ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু-হু করে বাড়তে থাকায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আবারও বাড়াতে পারে—এমন জোরালো পূর্বাভাসের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বুলিয়ন বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) একদিনেই স্পট মার্কেটে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ৩ শতাংশেরও বেশি কমে গত সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
বিশ্বখ্যাত বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোমবার স্পট গোল্ডের দাম ৩.১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৫৫.৬৭ ডলারে, যা গত ৫ আগস্টের পর আন্তর্জাতিক বাজারে সর্বনিম্ন। একই সময়ে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার গোল্ডের দামও ৩.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৮.১০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বাড়তে থাকায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে পরিচিত সোনার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক চাপ তৈরি হয়েছে।
সুইস ব্যাংকিং দানব ইউবিএস (UBS)-এর প্রখ্যাত বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনোভা জানান, তেলের চড়া দাম এবং সুদের হার বৃদ্ধির আগাম হিসাব-নিকাশই মূলত বুলিয়ন মার্কেটের এই দরপতনের প্রধান নিয়ামক। সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সিলভার বা রুপার দাম ৪.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬১.৩২ ডলার, প্ল্যাটিনামের দাম ২.৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৩৫.৯৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩.৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ২২৪.৩৯ ডলারে ঠেকেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের মন্দাভাব সত্ত্বেও দেশের বাজারে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নির্ধারিত দর অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে। অলংকারের ক্ষেত্রে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৪৯১ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ৩১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ২ হাজার ৭৯৯ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।
/আশিক
প্রতিযোগী দেশ টেক্কা দিতে বাজারে বিশেষ ম্যাট্রিক্স প্রণয়ন করছে বাংলাদেশ
দেশের মোট রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানি খাতে চরম তৈরি পোশাকনির্ভরতা কমিয়ে আনতে পণ্য ও বাজার—উভয় ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য আনতে সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার। এই লক্ষ্য অর্জনে বিশ্বের ১৮টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বাণিজ্যিক গন্তব্যের সম্ভাব্য বাজার, সেখানে উপস্থিত বাণিজ্যিক বাধা, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগী দেশগুলোর কৌশল এবং বাংলাদেশের করণীয় বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে পৃথক বাজারভিত্তিক রপ্তানি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ রপ্তানি বহুমুখীকরণ কৌশল: ১৮টি প্রধান বাণিজ্য গন্তব্যে পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশের রপ্তানি খাতকে বৈশ্বিক ধাক্কা থেকে রক্ষা করে টেকসই করতে ভৌগোলিক বাজার ও বৈচিত্র্যময় পণ্যের প্রসার নিশ্চিত করা আবশ্যক। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক উইং থেকে সংশ্লিষ্ট বাজারগুলোর বর্তমান আমদানিনীতি, বাংলাদেশের মূল প্রতিযোগী দেশের অবস্থান এবং সম্ভাবনাময় পণ্য খাত চিহ্নিত করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট ম্যাট্রিক্স অনুসরণ করে প্রণীত এই কৌশল বিদ্যমান বাজারে রপ্তানি অংশীদারত্ব বাড়াতে ও নতুন বাজারে বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশে নীতিগত সহায়তা দেবে।
কর্মশালায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আধুনিক রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে শুধু পণ্য নয়, বরং তথ্যপ্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক সেবা রপ্তানিকে সমমর্যাদায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তিনি ফ্রিল্যান্সারদের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ভৌগোলিক নৈকট্যকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা রপ্তানি জোরদার করার পরামর্শ দেন। সভায় বিজিএমইএ, ওয়ালটন গ্রুপ, বাংলাদেশ এগ্রোপ্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন এবং ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা তৈরি পোশাকের বাইরে ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য, চামড়া ও হালকা প্রকৌশল খাতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার বিষয়ে নিজ নিজ প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।
/আশিক
বৈশ্বিক সংকট ও জ্বালানি বাজার: কোন পথে বাংলাদেশ ও বিশ্ব?
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সাত মাস ধরে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক নৌপথে অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া ও ইউরোপগামী অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং এলএনজির ১৫ শতাংশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার বড় একটি অংশ আসে বাংলাদেশসহ এশিয়ার বাজারে। তবে সরবরাহ চ্যানেলে বাধার মুখে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ কমলেও বিশ্বজুড়ে চাহিদা কমানো ও বিকল্প পথ অনুসরণের কারণে জ্বালানি বাজার পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। যুদ্ধ শুরুর পর ব্যারেলপ্রতি দর ১৫০ ডলার ছাড়ানোর তীব্র শঙ্কা থাকলেও বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০১ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে।
আন্তর্জাতিক পণ্যবাজার বিশ্লেষকদের মতে, চাহিদা কমে যাওয়া ও বিকল্প বাণিজ্য পথ ব্যবহারের কারণেই মূলত তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ হ্রাস, গণপরিবহন বৃদ্ধি, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়া এবং ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম ব্যবস্থার কারণে বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেলের চাহিদা কমেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলা, ব্রাজিল, গায়ানা ও কানাডা সম্মিলিতভাবে দৈনন্দিন উৎপাদন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধি করেছে। সৌদি আরবও বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে ইরানের প্রভাবমুক্ত বন্দরগুলোতে অপরিশোধিত তেল রফতানি অব্যাহত রেখেছে। বৈশ্বিক এই কৌশলের প্রভাবেই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়া সত্ত্বেও তেলের দর অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ছে না।
বৈশ্বিক এই সংকটের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। দেশে বছরে আমদানিকৃত ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন তেলের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে সংগ্রহ করা হয়। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি আগে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার হাজার টন তেলজাতীয় পণ্য উৎপাদন করলেও বর্তমানে তা কমিয়ে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টনে নামিয়ে এনেছে। উৎপাদন হ্রাস এবং কেবল সৌদি ক্রুড অয়েলের ওপর নির্ভরশীল না থেকে মালয়েশিয়াসহ বিকল্প উৎসের তেল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও দেশে বড় ধরনের কোনো সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়নি।
সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন যে, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় কোনো দুশ্চিন্তার কারণ নেই, কারণ সরকার ক্রমাগত বিকল্প দেশ ও পথ থেকে সম্পদ সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও কৌশলগত মজুত এবং বিকল্প ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশই আন্তর্জাতিক এই সামরিক সংঘাত ও জ্বালানি সংকটের লাগাম ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
/আশিক
দেশের বাজারে নতুন সমন্বয়: অলঙ্কার কিনতে গুণতে হবে বাড়তি টাকা
দেশের বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সমন্বয়ে ভরিপ্রতি ১ হাজার ৬৯১ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন মূল্যসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেশের বাজারে কেনাবেচা চলছে।
বাজুস ঘোষিত সংশোধিত দরপত্র অনুযায়ী, বর্তমানে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকায়। উল্লেখ্য, দেশীয় জুয়েলারি পরিমাপ নীতি অনুযায়ী প্রতি ভরিতে ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম পরিমাপ করা হয়।
এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। সে সময় ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা করা হয়েছিল। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে স্থানীয় বাজারে আবারও বাড়ানো হলো মূল্যবান এই ধাতুর দাম।
তবে বাজুসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, গহনার ক্রেতাদের জন্য নির্ধারিত মূল্যের সাথে অতিরিক্ত মজুরি যুক্ত হবে। স্বর্ণ ও রূপার বিক্রয়মূল্যের ভেতরেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদা কোনো ভ্যাট আদায় করা যাবে না। পাশাপাশি পুরোনো অলঙ্কার পরিবর্তন বা বাটার (এক্সচেঞ্জ) ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ এবং জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে পুরোনো অলঙ্কার বিক্রি (পারচেজ) করার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ কর্তন করতে হবে। এসব ক্ষেত্রেও আলাদাভাবে ভ্যাট কাটার কোনো সুযোগ নেই। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে এই মূল্য তালিকা বহাল থাকবে।
/আশিক
শক্তিশালী ডলারের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম
শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তাদের কড়াকড়ি মুদ্রানীতির সপক্ষে বক্তব্যের প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। বুধবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের স্পট মার্কেটে দরপতনের প্রভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধাতুটির আকর্ষণ কিছুটা কমেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার গ্রিনিচ মান সময় ১০টা ২৭ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১৬ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহযোগ্য ডিসেম্বর মেয়াদের ফিউচার স্বর্ণের দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৩০ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং সুদের হার উচ্চ রাখার পক্ষে ফেডারেল রিজার্ভের অনড় অবস্থান বিনিয়োগকারীদের সুদমুক্ত সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত স্বর্ণ কেনায় উৎসাহিত করছে না, যার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি বাজারদরে দেখা যাচ্ছে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারের পতনের বৈপরীত চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া বর্ধিত দরেই দেশে ধাতুটির কেনাবেচা চলছে। বাজুস নির্দেশিত দর অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকায়।
একই সাথে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ হাজার ৩০১ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকায় স্থির রাখা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক বাজারের উত্তাপ ও দেশীয় জ্বালানি নীতি নিয়ে সরকারের নতুন ভাবনা
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল পর্যায়ে ফিরে এলে বাংলাদেশেও তেলের দাম পুনর্মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি উল্লেখ করেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পরিস্থিতি অনুকূলে আসলে প্রয়োজনে আগের নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও কম দামে জ্বালানি বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঝিনাইদহে সরকারি কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক বাজারে অনিয়ন্ত্রিত দরউত্থানের কারণেই বাধ্য হয়ে দেশীয় বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়েছে। তবে এত কিছুর পরও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মূল্য এখনো যথেষ্ট কম রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেল ক্রয়ে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। এই ঘামঝরা উপার্জনে কেনা মূল্যবান জ্বালানি যাতে সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে পাচার হতে না পারে, সেই ঝুঁকি এড়াতেই মূলত স্থানীয় দর পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে তেলের দাম হ্রাসের সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট এখন বৈশ্বিক রূপ নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতা ও সংঘাত প্রশমিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তখন দেশীয় বাজারেও দাম পুনর্নির্ধারণ করা হবে এবং সুযোগ থাকলে তা আগের চেয়েও নিচে নামিয়ে আনা হবে।
আসন্ন বোরো মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা নিশ্চিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে।
ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন সহজ করতে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক সেচব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সৌরশক্তি ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হলে একদিকে যেমন সেচ খরচ কমে আসবে, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডের প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত চাপ হ্রাস পাবে।
এর আগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মূল মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আযম মুহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন প্রিন্স, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী একরামুল হক, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জাহিদুজ্জামান মনাসহ সর্বস্তরের প্রতিনিধিরা।
কর্মসূচির শেষভাগে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে স্মারক বৃক্ষরোপণ করেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
/আশিক
বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে জ্বালানি খাতে বড় আর্থিক চাপ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান বনাম আমেরিকা-ইসরায়েল সামরিক সংঘাতের জের ধরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও জাহাজ ভাড়া (ফ্রেইট চার্জ) উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আমদানিভিত্তিক অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশের ওপর। আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে জ্বালানি তেল আমদানিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) অতিরিক্ত প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বিপিসি’র চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ও পরিবহন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এতদিন তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা চালিয়েছে সরকার। ফলে বিগত ছয় মাসে বিপিসিকে বাড়তি ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা গুনতে হয়েছে, যা গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পর থেকে আন্তর্জাতিক তেলের দাম এবং ফ্রেইট চার্জের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি এখনও অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে নৌপথে পরিবহন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। আগে যেখানে প্রতি ব্যারেলে জাহাজ ভাড়া ছিল ৩ থেকে ৪ ডলার, তা বর্তমানে চার থেকে পাঁচ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ থেকে ১৭ ডলারে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের সঙ্গে স্থানীয় দর সমন্বয় না করা হলে বিপিসিকে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হবে।
তবে তেলের দাম ও পরিবহন খরচ বাড়লেও দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছে বিপিসি। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে এবং নিয়মিত আমদানি কার্যক্রমও সচল আছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারদরের কারণে ডিজেলে লিটারপ্রতি বিপিসির লোকসান হচ্ছে প্রায় ৭০ টাকা, যার ফলে প্রতিদিন সংস্থাটির ক্ষতি দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। এই ধারা অব্যাহত থাকলে কেবল ডিজেল খাতেই বছরে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। বিপিসি চেয়ারম্যান ইঙ্গিত দেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লিটারপ্রতি দাম ২০ টাকা সমন্বয় করা সম্ভব হলে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার লোকসান কমানো সম্ভব হতে পারে।
/আশিক
ডিজিটাল অভিজ্ঞতায় বড় চমক, দেশজুড়ে নতুন ইন্টারনেট ব্যবস্থা আনল গ্রামীণফোন
দেশজুড়ে শক্তিশালী, দ্রুতগতির ও নির্বিঘ্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে ‘1Bangladesh 1Internet’ শীর্ষক নতুন এক উদ্যোগ চালু করেছে শীর্ষ টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। ক্রমবর্ধমান অনলাইন নির্ভরতা ও ভিডিও ব্যবহারের চাহিদা মেটাতে নিজেদের নেটওয়ার্ক অবকাঠামো জোরদারের পাশাপাশি লোকাল ক্যাশিং প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই উদ্যোগের ফলে গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবা ও অনলাইন কনটেন্ট কোনো ধরনের বাফারিং ছাড়াই দ্রুত উপভোগ করতে পারবেন।
গ্রামীণফোনের তথ্যমতে, তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন গড়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ঘণ্টা ভিডিও স্ট্রিম করা হয়, যা সমষ্টিগতভাবে প্রায় ৪০ বছরের সমান। বিপুল এই চাহিদা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রতিষ্ঠানটি লোকাল ক্যাশ (Local Cache) ইকোসিস্টেমের পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে, যার মাধ্যমে বহুল ব্যবহৃত কনটেন্টগুলো দূরবর্তী আন্তর্জাতিক সার্ভার থেকে না এনে ব্যবহারকারীর কাছাকাছি অবস্থান থেকেই সরবরাহ করা হয়। এতে ডেটার দূরত্ব কমে আসায় প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্কে মাত্র ৫৫ মিলিসেকেন্ডের মধ্যে যেকোনো ভিডিওর ‘ফার্স্ট বাইট’ লোড হওয়া সম্ভব হচ্ছে; ফলে লাইভ স্ট্রিমিং ও দ্রুত ভিডিও ব্রাউজিং আরও বেশি সাবলীল হয়েছে।
এই দ্রুতগতির সংযোগের ভিত্তি মজবুত করতে গ্রামীণফোন বর্তমানে ৭০০ মেগাহার্টজ এবং ২৬০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম কার্যকরভাবে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী তাদের বিস্তৃত ২৪ হাজারেরও বেশি নেটওয়ার্ক টাওয়ারকে সমন্বিতভাবে এই সেবার আওতায় এনে গ্রাহকদের একক মানসম্মত ইন্টারনেট অভিজ্ঞতা দেওয়াই ‘1Bangladesh 1Internet’ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- দাম বাড়তেই তেল সংকট কীভাবে মিটল? বিপিসির ব্যাখ্যায় অসন্তুষ্ট সংসদীয় কমিটি
- সব পক্ষের মতামতেই আসবে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবিধান সংশোধনী: সালাহউদ্দিন আহমদ
- চরম অর্থনৈতিক সংকটে ইরান, নতুন রেকর্ড স্পর্শ করল দেশটির মুদ্রা
- অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের দিনেও ব্রাজিল শিবিরে নতুন অস্বস্তি
- টানা ৭ দিনের ছুটি পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা, সরকারি চাকরিজীবীদের ৫ দিন
- অ্যাপ ইনস্টল না করেই সাইবার ঝুঁকি এড়ানোর উপায় চালু করল ট্রুকলার
- যুদ্ধ নাকি কূটনীতি? নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে বার্তা দিলেন আব্বাস আরাগচি
- আদালতে আত্মসমর্পণ করে নতুন সিদ্ধান্ত পেলেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা
- ২৫০ কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক উপদেষ্টাকে দুদকের জরুরি তলব
- সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর নিয়ে গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন নেতানিয়াহু
- আমরা তেল রফতানি করতে না পারলে মধ্যপ্রাচ্যের কেউ বিক্রি করতে পারবে না: ইরান
- একনেক বৈঠকে ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দে মেগা সিদ্ধান্ত
- শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়টিকে দ্বিপক্ষীয় দেখছে সরকার, প্রয়োজন নেই যুক্তরাষ্ট্রের
- নেপালে আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ: বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি
- ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন সতর্কতা
- মার্কিন চাপে কি বোয়িং কিনছে বাংলাদেশ? মুখ খুললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- শেষ হলো ভোট গ্রহণ, ব্যালন ডি'অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যারা
- শেষ হলো ভোট গ্রহণ, ব্যালন ডি'অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যারা
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে যে ৫টি প্রশ্ন করা বিপজ্জনক হতে পারে
- 'ছাত্ররা নামলেই গুলি করে মারা হবে' ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি চাইলেন জুলাইযোদ্ধা
- জাতীয় নাগরিক পার্টির বড় সিদ্ধান্ত: নতুন জাতীয় দায়িত্বে সারজিস আলম
- পৈতৃক জমির ওপর পিচঢালাই রাস্তার আশঙ্কায় আইনি নোটিশ, যৌথ ভূ-জরিপের দাবি
- ইরানে আর কখনো বিদেশি আধিপত্য ফিরবে না, আরব সাগর থেকেও তাড়ানো হবে শত্রুদের: খামেনি
- চীনের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
- আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আমদানির নতুন সংকট: বিশেষ প্রতিবেদন
- এশিয়ান গেমসের নকআউট পর্বের আগে বড় ধাক্কা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে
- বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উপকূলে নিম্নচাপ: জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের নতুন পাঁচ দিনের তথ্য
- সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে ধস, ৭ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন
- বিয়ে সাড়ে চার মাসের মাথায় বিয়োগান্তক পরিণতি: কড়া বিচারে কারাগারে গাজী নজরুল
- প্রতিযোগী দেশ টেক্কা দিতে বাজারে বিশেষ ম্যাট্রিক্স প্রণয়ন করছে বাংলাদেশ
- হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের নতুন অবস্থান প্রকাশ
- আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের নতুন অবস্থান: প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের অর্জন
- পারমাণবিক কর্মসূচি ও বৈশ্বিক চাপ: তেহরানের নতুন কৌশলগত অবস্থান প্রকাশ
- বঙ্গোপসাগরের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জ্বালানি সম্ভাবনা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য
- জুলাই যোদ্ধা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরে আমরা ব্যথিত: ন্যায়বিচারের আশ্বাস রাশেদ খাঁনের
- পারমাণবিক অস্ত্রের পথ খোলা রাখছে সৌদি আরব: মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে তোলপাড়
- ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের আস্থার প্রতীক: গাজী শওকাত হোসেনের পরিবার-সাড়ে পাঁচ দশকের জনসেবা
- মুখে সিঙ্গাপুর-অস্ট্রেলিয়ার ফাঁকা বুলি নয়, বাসযোগ্য ঢাকা চান প্রধানমন্ত্রী: মীর শাহে আলম
- দিনভর শারীরিক অলসতা ও ক্লান্তি: চিকিৎসকদের নতুন স্বাস্থ্য পরামর্শ
- হরমুজ প্রণালিতে নতুন সামুদ্রিক উত্তেজনা: আন্তর্জাতিক সামরিক অঙ্গনে বড় খবর
- জাতীয় দল ও ইতালিয়ান ক্লাবের টানাপোড়েন: বড় সিদ্ধান্তের মুখে বিশ্বজয়ী তারকা
- তেলের পর পানির জন্য যুদ্ধ হবে, টাকা দিয়েও মিলবে না পানি: পানিসম্পদমন্ত্রী
- সন্ত্রাসবাদের সাথে বন্ধুত্ব চলতে পারে না: জাতিসংঘে পাকিস্তানকে জয়শঙ্করের তোপ
- ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার ও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন: মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় খবর
- দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি
- সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ারসহ ৪ জন গ্রেপ্তার
- ক্রিকেট খেলায় নতুন দিগন্ত: সারা দেশে ট্রায়াল পর্বের সূচনা
- আমরা জয়ী হয়েছি তবে বিজয় সুসংহত করতে হবে: তেহরানে ইরানি সেনাপ্রধান
- চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী: বিশ্বমঞ্চে ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে কড়া বার্তা
- ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের আস্থার প্রতীক: গাজী শওকাত হোসেনের পরিবার-সাড়ে পাঁচ দশকের জনসেবা
- আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দক্ষিণ শ্রীপুরে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে প্রার্থী হতে চান পাপিয়া পারভীন
- বাংলাদেশে অফিস খোলার প্রক্রিয়ায় মেটার নতুন অগ্রগতি
- জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চরম সংকট: কার্গো স্থানান্তর বন্ধে কমলো এলএনজি সরবরাহ
- পাসপোর্ট খোয়া গেলে বা নষ্ট হলে যেসব নিয়ম মানতে হবে
- বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে জ্বালানি খাতে বড় আর্থিক চাপ
- ২০-এর কোঠাতেই চুল পাতলা হওয়া রোধে যেসব বিষয় জানা জরুরি
- অতীত আর বর্তমানের মিল: দেশজুড়ে আবার কি এক-এগারোর ছায়া?
- বারিধারায় ফুটপাতে গাড়ির চাপায় শ্রমিকের মৃত্যু: ৯ লাখ টাকায় মামলার আপস
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সহনশীল ও আধুনিক বিদ্যুৎ কাঠামোর পথে বাংলাদেশ
- ভুয়া বিজ্ঞাপনের অভিযোগে গ্রাহকদের কোটি কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে আইফোন নির্মাতা
- যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে যুদ্ধ ভারত মহাসাগরে ছড়ানোর হুমকি ইরানের
- বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস নিয়ে হাই-ভোল্টেজ বৈঠক
- গ্যাস্ট্রিক বা দুর্বলতা ভেবে ভুল করছেন না তো? জেনে নিন হার্ট অ্যাটাকের সূক্ষ্ম ৪ লক্ষণ
- দেশের বাজারে নতুন সমন্বয়: অলঙ্কার কিনতে গুণতে হবে বাড়তি টাকা








