ইরান- ইসরায়েল সংঘাত

ইরানে হামলায় গভীর উদ্বেগ বাংলাদেশের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ২২ ১৮:৫৭:৪৪
ইরানে হামলায় গভীর উদ্বেগ বাংলাদেশের

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। রোববার (২২ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের সামরিক অভিযানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের মতো ইতোমধ্যেই সংকটপূর্ণ একটি অঞ্চলের স্থিতিশীলতা আরও হুমকির মুখে পড়তে পারে। এতে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাও চরমভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিবৃতিতে বাংলাদেশ তার দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ সমাধান ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, সংঘাত নিরসনের টেকসই পথ হচ্ছে সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্য।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, উত্তেজনাকর পদক্ষেপ কিংবা সামরিক আগ্রাসন এই সংকটকে আরও জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি করে তুলবে, যার পরিণতি বহুদূরপ্রসারী হতে পারে।

বাংলাদেশ মনে করে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিবেশ এমনিতেই বহুস্তরীয় উত্তেজনায় ঘেরা। এর মধ্যে ইরানের মতো একটি রাষ্ট্রের ওপর সরাসরি হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জকে বৈশ্বিক সংকটে রূপ দিতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, “এই সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আরও সক্রিয়, দায়বদ্ধ এবং গঠনমূলক ভূমিকা পালন করা জরুরি। একমাত্র আন্তর্জাতিক ঐক্য, কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বই পারে এই পরিস্থিতিকে শান্তিময় পথে ফিরিয়ে আনতে।”

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের এই অবস্থান একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা। এতে একদিকে যুদ্ধ ও সহিংসতা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক নীতিমালার প্রতি সম্মান ও সংলাপের প্রয়োজনীয়তাও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. রাফায়েল হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ খুব স্পষ্ট করে দিয়েছে তারা সামরিক আগ্রাসন সমর্থন করে না। একই সঙ্গে তারা বৈশ্বিক সমাধান ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে জাতিসংঘকে আহ্বান জানিয়েছে। এটি একটি পরিপক্ব ও কৌশলী পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন।”

বাংলাদেশের বিবৃতিটি এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ-সংকেত বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা, ইসরাইলের পাল্টা অভিযানে ভৌগোলিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে।

-ইসরাত, নিজস্ব প্রতিবেদক


পোস্টাল ব্যালটে কত শতাংশ ভোট? জানাল ইসি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৩ ১১:০২:৪৬
পোস্টাল ব্যালটে কত শতাংশ ভোট? জানাল ইসি
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একইদিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণের তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পোস্টাল ভোটে অংশগ্রহণের হার দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটি উচ্চ উপস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনবিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এক ব্রিফিংয়ে জানান, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ ২৮ হাজার ১৩১ জন অনুমোদিত ভোটার নিবন্ধন করেছিলেন। তাদের মধ্যে ভোট প্রদান করেছেন ১২ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ জন। এই সংখ্যা মোট নিবন্ধিত ভোটারের ৮০ দশমিক ১১ শতাংশের সমান, যা পোস্টাল ভোট ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের প্রতি আস্থার ইঙ্গিত দেয়।

তিনি আরও জানান, প্রদত্ত ভোটের মধ্যে ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯২টি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে পৌঁছেছে। এটি মোট প্রদত্ত ভোটের ৭৬ দশমিক ২৮ শতাংশ। যাচাই-বাছাই শেষে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭টি ব্যালট বৈধ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, যা মোট নিবন্ধিত ভোটারের ৭০ দশমিক ২৫ শতাংশের সমতুল্য। অবৈধ বা ত্রুটিপূর্ণ ব্যালটের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে সীমিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য ছিল। সালীম আহমাদ খান জানান, বিদেশে অবস্থানরত ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২৬৬ জনের পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২০৫টি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে আইসিপিভি ব্যবস্থার আওতায় ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩৮৮ জন ভোটারের ব্যালটও গৃহীত হয়েছে।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল অ্যাপভিত্তিক নিবন্ধন ও পোস্টাল ভোট ব্যবস্থার সমন্বয় প্রবাসী ও বিশেষ পরিস্থিতিতে থাকা ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থার পরিধি আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগে সব ব্যালটের পূর্ণাঙ্গ যাচাই ও সমন্বয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পোস্টাল ভোটের এই উচ্চ অংশগ্রহণ সামগ্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

-শরিফুল


২৯৯ আসনের বেসরকারি ফল প্রকাশ: নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিএনপি জোট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৩ ১০:০৫:৩৭
২৯৯ আসনের বেসরকারি ফল প্রকাশ: নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিএনপি জোট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৯টি আসনের বেসরকারি চূড়ান্ত ফলাফল বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া গেছে। মোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টির ফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে জামালপুরের একটি আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। সরকার গঠনের জন্য যেখানে ১৫০ আসনই যথেষ্ট, সেখানে বিএনপি জোট দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন অর্জন করে কার্যত নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। এই ফলাফল সংসদে তাদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে এবং সরকার গঠন ও নীতিনির্ধারণে দৃঢ় ভূমিকা পালনের সুযোগ দিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৩টি আসন। ইসলামি আন্দোলন একটি আসনে জয়লাভ করেছে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।

আঞ্চলিক ফলাফলের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে বিএনপি জোট একচেটিয়া ভালো ফল করেছে। এসব অঞ্চলে তারা তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে জয় নিশ্চিত করেছে, যা তাদের নির্বাচনী কৌশল, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং স্থানীয় সমর্থনভিত্তির শক্তির প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে ছিল বেশ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বহু আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল কম, ফলে ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক উত্তেজনা বজায় ছিল।

এবারের নির্বাচনের আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়া। দুটি পৃথক ব্যালটে ভোটগ্রহণের কারণে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি হলেও অধিকাংশ এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এখন দৃষ্টি সরকার গঠন প্রক্রিয়া, সংসদের নতুন ভারসাম্য এবং নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে।


গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয়জয়কার: জুলাই সনদের হাত ধরে আসছে নতুন সংবিধান! 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ২১:১২:০৫
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয়জয়কার: জুলাই সনদের হাত ধরে আসছে নতুন সংবিধান! 
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমান্তরালে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশের ২৯৯টি আসনে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা সংবিধান সংস্কারের ওপর গণভোট। এখন পর্যন্ত পাওয়া বেসরকারি ফলাফলের ট্রেন্ড বলছে, বাংলাদেশের মানুষ বড় ব্যবধানে রাষ্ট্র সংস্কারের এই প্রস্তাবনার পক্ষে নিজেদের সমর্থন জানাচ্ছে। ঢাকার ১০৬টি ভোটকেন্দ্রের পাওয়া বেসরকারি হিসাবে দেখা গেছে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৬৯ হাজার ৩৪৭টি। অন্যদিকে সংস্কারের বিপক্ষে ‘না’ ভোট পড়েছে ১৯ হাজার ৯৪৫টি। অর্থাৎ প্রাথমিক এই ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি এগিয়ে রয়েছে।

যদি চূড়ান্ত ফলাফলেও ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়, তবে বাংলাদেশের সংবিধানে নজিরবিহীন কিছু আমূল পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো প্রধানমন্ত্রীর পদের সময়সীমা নির্ধারণ; যেখানে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী এবং দলীয় প্রধান একই ব্যক্তি হতে পারবেন না—এমন বিধানও কার্যকর হবে। সনদে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে, যেখানে ১০০ জন সদস্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে নির্বাচিত হবেন।

প্রস্তাবিত সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতি এখন থেকে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে সরাসরি নিয়োগ দিতে পারবেন। বিচার বিভাগীয় সংস্কারের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসছে; প্রধান বিচারপতি নিয়োগ সরাসরি আপিল বিভাগ থেকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এছাড়া সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাবও ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষাও এখন কেবল গণভোটের চূড়ান্ত রায়ের দূরত্বে দাঁড়িয়ে।


স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট নির্বাচন: অ্যাপের গ্রাফে বোঝা যাচ্ছে কার পাল্লা ভারী!

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ১৯:২৫:৩১
স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট নির্বাচন: অ্যাপের গ্রাফে বোঝা যাচ্ছে কার পাল্লা ভারী!
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এবার অভাবনীয় এক উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটাররা যাতে ঘরে বসেই নিজের স্মার্টফোনের মাধ্যমে ‘রিয়েল টাইম’ বা তাৎক্ষণিক ভোটের ফলাফল জানতে পারেন, সেজন্য ইসি চালু করেছে ‘Smart Election Management BD’ নামের একটি অত্যাধুনিক মোবাইল অ্যাপ। অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস—দুই প্ল্যাটফর্মেই পাওয়া যাচ্ছে এই ডিজিটাল গাইড। এই অ্যাপটি চালুর ফলে প্রথাগত ফলাফলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভি বা সংবাদপত্রের দিকে তাকিয়ে থাকার দিন শেষ হলো।

এই অ্যাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর লাইভ আপডেট ফিচার। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল সরাসরি অ্যাপে আপলোড করা হচ্ছে। ফলে প্রার্থী বা দল অনুযায়ী প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ও শতাংশ তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণ মানুষ দেখতে পাচ্ছেন। যারা নির্দিষ্ট কোনো কেন্দ্র বা ব্যক্তিগত ভোটারের তথ্য জানতে চান, তারা জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর দিয়ে লগইন করলে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। তবে সাধারণ ফলাফল দেখার জন্য কোনো লগইনের প্রয়োজন নেই, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য তথ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করেছে।

নির্বাচনের জটিল তথ্যগুলো সহজে বোঝার জন্য অ্যাপটিতে আকর্ষণীয় গ্রাফ ও চার্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভোটের ধাপে ধাপে অগ্রগতি ও তুলনামূলক চিত্র খুব সহজেই বোঝা সম্ভব হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন মনে করছে, এই ডিজিটাল পদক্ষেপের ফলে নির্বাচনি তথ্য প্রাপ্তিতে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং যেকোনো ধরনের গুজব ছড়ানোর সুযোগ চিরতরে বন্ধ হবে। বর্তমানে রাত ৮টার দিকে কেন্দ্রগুলো থেকে ফলাফল আসার চাপ বাড়ায় অ্যাপটির ব্যবহারকারী সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে গেছে। কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, সার্ভারে চাপ থাকলেও তথ্য আপলোডের গতি রয়েছে সচল।


পুরো জাতিকে ডক্টর ইউনূসের অভিনন্দন: নতুন বাংলাদেশের অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ১৮:৩৮:১১
পুরো জাতিকে ডক্টর ইউনূসের অভিনন্দন: নতুন বাংলাদেশের অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের গণভোট এক নজিরবিহীন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই মহান গণতান্ত্রিক আয়োজন সফল করার জন্য দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ড. ইউনূস বলেন, "আজকের এই দিনটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক মাইলফলক। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণই প্রমাণ করেছে যে, গণতন্ত্রের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের অঙ্গীকার কতটা অটুট।"

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি প্রতিষ্ঠান—নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বিশেষভাবে গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনাদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে সফল করতে বড় ভূমিকা রেখেছে। ড. ইউনূস দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেন, "বাংলাদেশ আজ আবারও বিশ্ববাসীর সামনে প্রমাণ করেছে যে—জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা এক নতুন বাংলাদেশের অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু করলাম।"

ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময় নিয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি এক বিশেষ আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, চূড়ান্ত ফলাফল যাই হোক না কেন, গণতান্ত্রিক শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ যেন বজায় থাকে। মতের ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে উৎকর্ষের শিখরে নিয়ে যাবে। ‘মুক্তির দিন’ এবং ‘নতুন স্বপ্নের শুরু’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন যে, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনই এই সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রফেসর ইউনূসের এই অভিনন্দন বার্তা নির্বাচনী উত্তেজনা ছাপিয়ে সারাদেশে এক ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।


ভোটগ্রহণ শেষ, এখন চলছে চূড়ান্ত গণনা: কার মুখে ফুটবে জয়ের হাসি?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ১৭:২৩:২৬
ভোটগ্রহণ শেষ, এখন চলছে চূড়ান্ত গণনা: কার মুখে ফুটবে জয়ের হাসি?
ছবি : সংগৃহীত

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টায় শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটের ভোটগ্রহণ। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই দিনের ভোটগ্রহণ শেষে এখন সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে শুরু হয়েছে রুদ্ধশ্বাস ভোট গণনা। প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে ব্যালট বাক্স খোলা হচ্ছে। কেন্দ্রগুলোর বাইরে এখন উৎসুক জনতা আর সমর্থকদের ভিড়, সবার নজর এখন প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের হাত থেকে আসা প্রাথমিক ফলাফলের দিকে। বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ নিয়ে হওয়া গণভোটের রায় কী আসে, তা নিয়ে সারাদেশের মানুষের মাঝে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। গণনা শেষে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলগুলো সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় সার্ভারে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, দুপুর ২টা পর্যন্ত সারাদেশে ভোট প্রদানের গড় হার ছিল প্রায় ৪৭.৯১ শতাংশ। তবে বিকেলের শেষ দুই ঘণ্টায় ভোটারদের ঢল নামায় চূড়ান্ত ভোট প্রদানের হার ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে কমিশন ধারণা করছে। সচিব উল্লেখ করেন যে, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সারাদেশের ২৯৯টি আসনে নির্বাচন সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। তিনি আরও জানান, ৯ লাখেরও বেশি নিরাপত্তা সদস্যের কঠোর পাহারার কারণে কোনো কেন্দ্রেই বড় ধরনের অনিয়ম বা জালভোটের সুযোগ পায়নি দুর্বৃত্তরা। যারা নিয়ম ভাঙার চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠপর্যায়ে এখনো সক্রিয় রয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে যে স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা গেছে, তা এক নজিরবিহীন উদাহরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার গুলশান মডেল হাই স্কুল কেন্দ্র থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতেও প্রবীণ ও নারী ভোটারদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমবারের মতো ভোটার হওয়া জেন-জি প্রজন্মের প্রতিনিধিরা উৎসবের আমেজে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল গণনার পর সেগুলো সমন্বিত করে আজ গভীর রাত থেকেই প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা শুরু হতে পারে। ডক্টর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের এই বিশাল রাজনৈতিক সংস্কারের পরীক্ষা ব্যালট বাক্সে কী রায় নিয়ে আসে, তা দেখার জন্য পুরো দেশ এখন প্রহর গুনছে।


সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ১২:১৮:৫৪
সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির চাবিকাঠি যাঁর হাতে, সেই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আজ নিজে ভোট দিয়ে জনগণের মাঝে আস্থার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বারিধারা ডিওএইচএস-এর স্কলার্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, দেশজুড়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ বিরাজ করছে। তাঁর মতে, এবারের নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, বরং এটি একটি জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, আগের মতো একজনের ভোট অন্যজন দেওয়ার দিন শেষ। "যদি এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ বা ভিডিও থাকে, তবে তা আমাদের দিন; আমরা কঠোরতম ব্যবস্থা নেব,"—এমন এক খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি। প্রশাসনের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ আসেনি উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় থাকার কারণে বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটার সুযোগ নেই। তাঁর এই বক্তব্য ভোটারদের মনে সাহস জুগিয়েছে, বিশেষ করে যারা অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে কিছুটা শঙ্কিত ছিলেন।

নির্বাচন পরবর্তী সময়েও শান্তি বজায় রাখতে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে ফলাফল ঘোষণার পর কোনো ধরনের সহিংসতা না ঘটে। সরকার যে একটি ‘ফ্রি, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল’ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা আজ অক্ষরে অক্ষরে পালিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বারিধারার মতো ঢাকার প্রতিটি এলাকাতেই আজ ভোটারদের উৎসবমুখর উপস্থিতি তাঁর এই দাবিকে আরও জোরালো করেছে।


পাতানো নির্বাচনের দিন শেষ: সিইসি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ১১:৫৫:৩৭
পাতানো নির্বাচনের দিন শেষ: সিইসি
ছবি : সংগৃহীত

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো লুকোচুরি নয়, বরং সাধারণ মানুষের রায়কেই চূড়ান্ত হিসেবে দেখছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদানের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এক দৃঢ় ও আত্মপ্রত্যয়ী বার্তা দিয়েছেন। সিইসি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, "নির্বাচন কেমন হচ্ছে, তা আপনারা এবং জনগণই মূল্যায়ন করবেন। আমরা কারও পক্ষে নই, আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। আমাদের একটাই লক্ষ্য—সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়া।"

অতীতের বিতর্কিত ও ‘পাতানো’ নির্বাচনের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার অঙ্গীকার করে নাসির উদ্দিন বলেন, দেশে আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। কেন্দ্র দখল বা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মতো জঘন্য ঘটনাগুলোকে তিনি ইতিহাসের কলঙ্কিত অংশ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, এখন সেসব ডাইনোসরের মতো বিলুপ্ত। তিনি প্রশাসন ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনে কেউ পক্ষপাতিত্ব করলে তাকে কঠিন পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। সিইসির মতে, বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে যে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে, তা গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার এক অনন্য উদাহরণ।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি জবাবদিহিমূলক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যেখানে কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচন ঘিরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিইসির এই জোরালো অবস্থান ভোটারদের মনে নতুন করে আস্থার সঞ্চার করেছে, যারা দীর্ঘ সময় পর একটি নিরাপদ ও কারচুপিবিহীন নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছেন।


১৭ বছরের রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা শেষ: ভোটারদের চোখেমুখে মুক্তির হাসি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ১১:২৫:৫৫
১৭ বছরের রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা শেষ: ভোটারদের চোখেমুখে মুক্তির হাসি
ভোট দিয়ে ‘ভীষণ আনন্দিত’ মোহাম্মদ হারুন। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৭ বছরের এক রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ ব্যালট পেপারে নিজের রায় লিখছেন রাজধানীর সাধারণ মানুষ। ঢাকার গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা সাধারণ ভোটারদের চোখেমুখে যে আনন্দ ও আবেগের ঝিলিক দেখা যাচ্ছে, তা কেবল একটি নির্বাচনের খবর নয়—বরং এটি একটি প্রজন্মের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের মহাকাব্য। ৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ হারুন যখন বলেন, "১৭ বছর পর ভোট দিতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত," তখন তাঁর কণ্ঠে ফুটে ওঠে এক দীর্ঘ নির্বাসিত নাগরিক অধিকারের ফিরে আসার তৃপ্তি। হারুনের মতো অনেক ভোটারই আজ অনেক দূর-দূরান্ত থেকে এই কেন্দ্রে ছুটে এসেছেন কেবল একটি স্বাধীন ভোট দেওয়ার আশায়।

এই আবেগঘন পরিস্থিতির সবচেয়ে মর্মস্পর্শী গল্পটি শুনিয়েছেন জাইনাব লুৎফুন নাহার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি যখন শেষবার ভোট দিয়েছিলেন, তখন তাঁর মেয়ে তাঁর গর্ভে ছিল। আজ দীর্ঘ ১৭ বছর পর যখন তিনি আবার ভোটকেন্দ্রে এসেছেন, তাঁর সেই মেয়ের বয়স এখন ১৭ বছর। জাইনাবের এই অনুভূতি কেবল ব্যক্তি জাইনাবের নয়, বরং বাংলাদেশের সেই কোটি কোটি ভোটারের যারা ২০০৮ সালের পর আর কোনো অবাধ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। জাইনাব চান তাঁর মেয়ে যে নতুন বাংলাদেশে বড় হচ্ছে, সেটি যেন হয় প্রকৃত অর্থে একটি গণতান্ত্রিক দেশ; যেখানে বৈষম্য থাকবে না এবং প্রত্যেকের থাকবে পূর্ণ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটযজ্ঞে দেশের ২৯৯টি আসনে যে অভূতপূর্ব সাড়া দেখা যাচ্ছে, তা এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দলের লড়াই চললেও সাধারণ মানুষের মূল লক্ষ্য একটিই—গণতন্ত্রের সুফল ভোগ করা। ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের এই বিশাল অংশগ্রহণে পুরুষ, নারী ও হিজড়া ভোটারদের যে স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা যাচ্ছে, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন উদাহরণ। এই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হতে যাওয়া সরকার যেন প্রকৃত অর্থেই জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে, ভোটারদের প্রত্যাশা এখন কেবল সেটুকুই।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

পাঠকের মতামত:

এবার সোনার দামে রেকর্ড উত্থান

এবার সোনার দামে রেকর্ড উত্থান

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে স্বর্ণের দর। মার্কিন শ্রমবাজারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকতে পারে এমন... বিস্তারিত