ইরান-ইসরায়েল সংঘাত

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে ডিজিটাল যুদ্ধ: সত্যের বিপরীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও বিভ্রান্তির উত্থান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ২১ ১০:৩৭:২৭
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে ডিজিটাল যুদ্ধ: সত্যের বিপরীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও বিভ্রান্তির উত্থান

ইসরায়েল গত ১৩ জুন ইরানে সামরিক হামলা চালানোর পর, সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় এক নজিরবিহীন বিভ্রান্তির স্রোত। বিবিসি -এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সংঘাত শুরুর পর থেকেই শতাধিক ভুয়া ভিডিও এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্মিত ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে, যার বড় অংশই ইরানের পাল্টা জবাবকে অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরছে।

এই ভুয়া ভিডিওগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় তিনটির সম্মিলিত ভিউ সংখ্যা পেরিয়েছে ১০ কোটি। অনেকেই বিশ্বাস করছেন এসব ভিডিও বাস্তব, বিশেষ করে যখন সেগুলো রাত্রিকালীন হামলা বা যুদ্ধবিমানের ধ্বংসের দৃশ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। টিকটক ও -এক্স এ এমন ভিডিওর ভিউ সংখ্যা কখনো কখনো একাই ২০–৩০ মিলিয়নের গণ্ডি ছাড়িয়েছে।

বিবিসি এমনি একটি জনপ্রিয় ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখতে পায়—যেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি পর্বতের গহ্বর থেকে অসংখ্য ট্রাক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে আসছে। দৃশ্যটি ছিল সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-নির্মিত, যেখানে পাথর নিজের ইচ্ছেমতো নড়াচড়া করছে এবং স্যান্ড ইম্প্যাক্টের কোনো চিহ্নই নেই। অথচ X-এর নিজস্ব AI চ্যাটবট Grok এই ভিডিওকে বাস্তব বলে দাবি করে, এমনকি Newsweek ও Reuters-এর রেফারেন্স দিয়ে।

ভুয়া ভিডিওর অনেকগুলিই কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে ইসরায়েলি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের গল্প, যেখানে দেখা যায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-নির্মিত গ্রাফিকসে বিমান ধ্বংসের দৃশ্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখন পর্যন্ত এমন কোনো ভিডিও বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা এফ-৩৫ ধ্বংসের সত্যতা নিশ্চিত করে। এমনকি একটি ভিডিও তো সরাসরি ভিডিও গেমের ফ্লাইট সিমুলেটর থেকে নেওয়া, যা টিকটক পরবর্তীতে সরিয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রথমবার এত বড় পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহৃত হচ্ছে একটি চলমান সামরিক সংঘাতে। বিশ্লেষক ইমানুয়েল সালিবা বলেন, “গণমানুষের দৃষ্টিভঙ্গি প্রভাবিত করতে এই ডিজিটাল বিভ্রান্তি ভয়াবহভাবে কার্যকর হচ্ছে, বিশেষ করে যখন মানুষ দ্রুততর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।”

এদিকে, রাশিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রভাব চক্র, বিশেষ করে Alethea বিশ্লেষণ সংস্থার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তারাও এই বিভ্রান্তি তৈরিতে অংশ নিচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতার উপর সন্দেহ তৈরি করা।

দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে, প্রো-ইসরায়েলি অ্যাকাউন্টগুলোও পিছিয়ে নেই। তারা পুরোনো বিক্ষোভ বা ইরানের অভ্যন্তরীণ ভাঙনের দৃশ্য নতুন করে পোস্ট করছে, দাবি করছে ইরানিরা ইসরায়েলের পক্ষ নিচ্ছে। একটি ভিডিওতে এমনও দাবি করা হয়, “আমরা ইসরায়েলকে ভালোবাসি”—এমন স্লোগান দিতে দেখা গেছে তেহরানের রাস্তায় মানুষকে, যা সম্পূর্ণভাবে কৃত্রিম ও বিভ্রান্তিকর।

এই বিভ্রান্তির একটি বড় অংশ ছড়াচ্ছে যেসব অ্যাকাউন্ট এক সময় ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ নিয়েও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে এসব অ্যাকাউন্ট 'ব্লু টিক'ধারী, বারবার ভুল তথ্য দিচ্ছে, অথচ তাদের আসল পরিচয় অজানা।

বিশেষজ্ঞ ম্যাথিউ ফাচিয়ানি বলেন, “সামাজিক মাধ্যমের আবেগনির্ভর কাঠামোই এই বিভ্রান্তিকে ত্বরান্বিত করছে। মানুষ এমন কিছু শেয়ার করে যা তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাসকে জোরালো করে, বিশেষ করে যখন বিষয়টি যুদ্ধ বা সংকট সংক্রান্ত হয়।”

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ানোর জন্য অনেকে আর্থিক পুরস্কারও পাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো যেহেতু ভিউয়ের ভিত্তিতে মনেটাইজেশন চালু করেছে, তাই ‘এঙ্গেজমেন্ট ফার্মার’রা সংঘাতকে পুঁজি করে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে।

এমন এক সময়ে, যখন সত্য তথ্য মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তখন প্রযুক্তি এবং নীতিহীন প্রচারের সম্মিলিত আগ্রাসনে অনলাইনে বাস্তবতা আর মিথ্যার পার্থক্য চেনা কঠিন হয়ে পড়ছে।

-সুত্র - বিবিসি


খারগ দ্বীপে মার্কিন বুট? ট্রাম্পের হুমকিতে বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ২১:৪৭:১১
খারগ দ্বীপে মার্কিন বুট? ট্রাম্পের হুমকিতে বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধস
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিস্ফোরক মন্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখন চরমে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখল করে দেশটির তেল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। ট্রাম্পের মতে, এই মুহূর্তে তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করা, যদিও এ নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই নানা মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, এটি করা হতে পারে, আবার নাও হতে পারে—কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আরও অনেক বিকল্প খোলা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রয়োজনে সেখানে মার্কিন বাহিনীকে কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করতে হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। যেহেতু ইরানের মোট তেল রপ্তানির সিংহভাগই এই দ্বীপের ওপর নির্ভরশীল, তাই এটি দখল করা হলে দেশটির অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে এক অপূরণীয় ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান এই ত্রিমুখী সংঘাতের মাঝেই ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যেই ওই অঞ্চলে কয়েক হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং পেন্টাগন আরও সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। ট্রাম্পের এই ‘তেল দখলের’ কৌশল একদিকে যেমন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে অস্থিরতা তৈরি করছে, অন্যদিকে ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের সাথে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পথ প্রশস্ত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

/আশিক


ট্রাম্পের মুখে শান্তি, ইসরায়েলের হাতে অস্ত্র! মিত্রদের দ্বিমুখী চালে বিভ্রান্ত বিশ্ব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ২০:৫৪:৪৬
ট্রাম্পের মুখে শান্তি, ইসরায়েলের হাতে অস্ত্র! মিত্রদের দ্বিমুখী চালে বিভ্রান্ত বিশ্ব
ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ (বাঁ থেকে), মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কোলাজ

যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের দৌড়ঝাঁপকে ছদ্মবেশ হিসেবে দেখছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, শত্রুরা প্রকাশ্যে আলোচনার কথা বললেও গোপনে আসলে বড় ধরনের স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে। তাঁর এই আশঙ্কার পেছনে মূল কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন। গালিবাফ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানি বাহিনী মার্কিন সৈন্যদের স্থলপথে প্রবেশের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এবং তারা সীমানা অতিক্রম করলেই তাদের ওপর ‘আগুনের বৃষ্টি’ বর্ষণ করা হবে।

যুদ্ধের এক মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না দেখে সিএনএনের প্রধান কূটনৈতিক প্রতিবেদক ম্যাথিউ চ্যান্স একটি গভীর উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, মার্কিন বাহিনীর কাছে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র থাকলেও যেকোনো ধরনের স্থল অভিযান দ্রুত একটি ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এতে কেবল ইরান নয়, বরং পার্শ্ববর্তী জ্বালানিসমৃদ্ধ উপসাগরীয় আরব দেশগুলোও বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। ইতোমধ্যেই যুদ্ধের কারণে এই দেশগুলো কয়েক বিলিয়ন ডলারের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছে এবং তারা এখন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।

গালিবাফ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লে তারা কেবল আত্মরক্ষণ নয়, বরং হামলা আরও জোরদার করবে এবং আঞ্চলিক সহযোগীদেরও এর জন্য কঠিন শাস্তি পেতে হবে। ইরানের এই হুমকির লক্ষ্যবস্তু হতে পারে প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনাগুলো। ম্যাথিউ চ্যান্সের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, আর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় বাব এল-মান্দেব জলপথটিও এখন অনিরাপদ। ওয়াশিংটন শুরুতে দ্রুত জয় নিশ্চিত করার যে ছক কষেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সম্ভাবনা এখন অত্যন্ত ক্ষীণ।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন আলোচনার কথা বলছেন, তখন তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার এক বিশাল নীল নকশা তৈরি করছে। দোহা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এলমাসরি জানিয়েছেন, ইসরায়েল তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৭১ বিলিয়ন ডলারের একটি যুদ্ধ বাজেট পাস করেছে। এই বিশাল বাজেট মূলত সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন এবং ইরান পর্যন্ত একটি দীর্ঘমেয়াদী বা ধারাবাহিক যুদ্ধের প্রস্তুতির প্রতিফলন। এলমাসরির মতে, ইসরায়েল মূলত তাদের ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ বা বৃহত্তর ইসরায়েলের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য যুদ্ধের এই পথটি বেছে নিয়েছে এবং তারা বর্তমানে যুদ্ধের কেবল শুরু বা মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে।

/আশিক


ইসরায়েল ফার্স্ট নীতিতে ক্ষুব্ধ মার্কিনিরা: নিজ দেশেই তোপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১৯:৫৭:৫০
ইসরায়েল ফার্স্ট নীতিতে ক্ষুব্ধ মার্কিনিরা: নিজ দেশেই তোপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলমান “নো কিংস” বিক্ষোভ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি বিদ্ধ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, এই বিক্ষোভে লাখো মানুষের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে, মার্কিন নাগরিকরা বর্তমান প্রশাসনের “ইসরায়েল ফার্স্ট” (ইসরায়েল আগে) নীতিতে চরম ক্ষুব্ধ।

পেজেশকিয়ান মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের উচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এই বিক্ষোভের প্রকৃত বাস্তবতা সম্পর্কে সজাগ করা। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন জনগণ তাদের গণতন্ত্রের ওপর “ইসরায়েলি রাজাদের” ক্রমাগত প্রভাব বিস্তারে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। একই সুরে কথা বলেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফও। তিনি বিক্ষোভকারীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ইরান ৪৭ বছর আগে যে ‘রাজতন্ত্র বিরোধী’ আন্দোলন শুরু করেছিল, আজ মার্কিন জনতা সেই পথেই হাঁটছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তা এখন পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই যুদ্ধের প্রতিবাদে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী নীতির তীব্র নিন্দা জানান এবং ইরানের বিরুদ্ধে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেন।

মার্কিন নাগরিকদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের দেশের স্বার্থের চেয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বেশি মনোযোগী। এদিকে ইরানও দমে নেই; তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না ব্রিটেন, সাফ জানালেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১৯:৪২:৫৫
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না ব্রিটেন, সাফ জানালেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই সংঘাত থেকে যুক্তরাজ্য নিজেকে দূরে রাখবে। স্টারমারের ভাষায়, “এটি আমাদের যুদ্ধ নয়, এবং আমরা এতে জড়িয়ে পড়ব না।”

সোমবার এক বিবৃতিতে স্টারমার জানান, যুক্তরাজ্য বর্তমানে কেবল ‘প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ গ্রহণ করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবন রক্ষা, ব্রিটিশ স্বার্থ রক্ষা এবং ওই অঞ্চলে থাকা মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে ব্রিটেন সব ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সহায়তা চালিয়ে যাবে। তবে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাজ্যের নেই।

অবশ্য সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে ব্রিটেন। হরমুজ প্রণালীতে হুমকির মুখে থাকা ইরানি স্থাপনায় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। এছাড়া ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাঝ আকাশে প্রতিহত করতে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্টারমার একদিকে সরাসরি যুদ্ধ এড়াতে চাইছেন, অন্যদিকে মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতাও বজায় রাখছেন।

সূত্র: আল জাজিরা


খার্গ দ্বীপে হামলার চূড়ান্ত হুমকি ট্রাম্পের: রণক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে হরমুজ প্রণালি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১৮:৫৮:৩৪
খার্গ দ্বীপে হামলার চূড়ান্ত হুমকি ট্রাম্পের: রণক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে হরমুজ প্রণালি
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুমকি এবং এর বিপরীতে ইরানের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে এক চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে দ্রুত কোনো সমঝোতা না হলে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের জ্বালানি স্থাপনা ও অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি খার্গ দ্বীপে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্র এবং খার্গ দ্বীপ লক্ষ্য করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। যদিও তিনি দাবি করেছেন আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাধান না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই যুক্তরাষ্ট্রের এই ১৫ দফা পরিকল্পনাকে ‘অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আমেরিকার সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি; যা কিছু হচ্ছে তা পাকিস্তানসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান। বাঘেই যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, অন্য পক্ষ বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছে, যা আলোচনার পরিবেশকে জটিল করে তুলছে।

ইরানি মুখপাত্র আরও জানান, তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে শত্রু মনে করে না এবং সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, ইরানের সামরিক পদক্ষেপ কেবল সেইসব ঘাঁটি ও স্থাপনার ওপর চালানো হবে যেখান থেকে ইরানের ওপর হামলা করা হয়েছে। এছাড়া চলমান এই সংকটের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ বা প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির প্রসঙ্গ টেনে আঞ্চলিক দেশগুলোকে সংঘাতে জড়ানোর প্রচেষ্টারও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

/আশিক


হরমুজ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ২০ ট্যাংকারে তেল পাঠাচ্ছে ইরান: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১৪:১৭:২০
হরমুজ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ২০ ট্যাংকারে তেল পাঠাচ্ছে ইরান: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে জ্বালানি কূটনীতি ও ভূরাজনৈতিক সমীকরণ। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ২০টি তেলবাহী ট্যাংকার পাঠাচ্ছে, যা চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এক নতুন ইঙ্গিত বহন করছে।

রোববার ওয়াশিংটনের পথে প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল থেকেই এসব জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাম্প মন্তব্য করেন, এই তেলবাহী জাহাজ পাঠানোকে তিনি ‘শ্রদ্ধার নিদর্শন’ হিসেবে দেখবেন কি না তা নিশ্চিত নন, তবে এটি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একইসঙ্গে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনায় ওয়াশিংটন বর্তমানে একটি ‘অনুকূল অবস্থানে’ রয়েছে। তার মতে, কূটনৈতিক আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং একটি সম্ভাব্য সমঝোতার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

তবে সম্ভাবনার কথা বললেও ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, এই আলোচনা সফল নাও হতে পারে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘চুক্তি হতে পারে, আবার নাও হতে পারে’ যা আলোচনার অনিশ্চয়তাকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরোক্ষ উভয় ধরনের আলোচনাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই বহুমাত্রিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার একটি কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্থল অভিযানের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ‘বহু বিকল্প’ খোলা রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে সামরিক অপশন এখনো পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, আলোচনার অগ্রগতি নির্ধারিত সময়সূচির তুলনায় দ্রুত হয়েছে এবং একটি নতুন আলোচনাকারী দল এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে, যারা তুলনামূলকভাবে ‘যুক্তিসঙ্গত’ আচরণ করছে।

তবে এই ইতিবাচক ইঙ্গিতের বিপরীতে ইরানের অবস্থান বেশ কঠোর। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, যে কোনো যুদ্ধবিরতি তাদের নিজস্ব শর্ত ও সময়সূচি অনুযায়ীই হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের সম্ভাবনা এবং আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত একদিকে যেমন উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে তা কৌশলগত দরকষাকষির অংশও হতে পারে।

কারণ হরমুজ প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট, যার ওপর নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ভূমিকা রাখে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


খার্গ দ্বীপ আসলে কী? কেন এই ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ দখল করতে মরিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১০:৫১:০৪
খার্গ দ্বীপ আসলে কী? কেন এই ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ দখল করতে মরিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটন ইরানের ‘লাইফলাইন’খ্যাত এই দ্বীপটির দখল নিতে চায়। এই রণকৌশলকে তিনি ভেনেজুয়েলার ‘তেল রাজনীতির’ সঙ্গে তুলনা করেছেন, যার মূল লক্ষ্য হলো দ্বীপটি দখল বা অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে বাধ্য করা এবং দেশটির আয়ের প্রধান উৎস চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া।

ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে খার্গ দ্বীপ ইরানের জন্য এক অপরিহার্য ভূখণ্ড। মূল ভূখণ্ডের উপকূলীয় এলাকা সুপারট্যাঙ্কার চলাচলের জন্য অত্যন্ত অগভীর হওয়ায় ইরানের উৎপাদিত প্রায় সমস্ত অপরিশোধিত তেল সমুদ্রতলের পাইপলাইনের মাধ্যমে এই দ্বীপে পাঠানো হয়। ১৯৫০-এর দশকে তেল স্থাপনা হিসেবে গড়ে ওঠা এই দ্বীপে বর্তমানে বিশালাকার স্টোরেজ ট্যাঙ্ক এবং জেটি রয়েছে, যেখান থেকে মূলত চীনে তেল রপ্তানি করা হয়। অন্তত ৮ হাজার বাসিন্দার এই ‘নিষিদ্ধ দ্বীপে’ সাধারণের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকলেও স্যাটেলাইট চিত্রে সেখানে পাইপলাইনের এক বিশাল জাল ও শক্তিশালী অবকাঠামো দেখা যায়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই দ্বীপটিকে ‘অরক্ষিত’ বলে বর্ণনা করলেও সামরিক বিশেষজ্ঞরা একে দখলের অভিযানকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন। ১৯৮৮ সাল থেকেই ট্রাম্পের নজর এই দ্বীপটির ওপর থাকলেও বর্তমানে ওই অঞ্চলে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপার এবং উভচর আক্রমণকারী জাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ মোতায়েন করায় সংঘাতের শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মাইকি কে-র মতে, এই দ্বীপটি দখল করা হলে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাবে, যা তাদের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

তবে এই সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের বিশেষজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ান এমেরি সতর্ক করেছেন যে, দ্বীপটি মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ২০ মাইলের কম দূরত্বে অবস্থিত হওয়ায় এটি সহজেই ইরানি রকেট, গোলন্দাজ বাহিনী ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

পারস্য উপসাগরের গভীরে অবস্থিত হওয়ায় মার্কিন রসদ সরবরাহের পথটিও সবসময় ঝুঁকির মুখে থাকবে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, খার্গ দ্বীপ দখল করা কোনো চূড়ান্ত বিজয় আনার বদলে যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী করার ঝুঁকি তৈরি করবে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরান ও তার মিত্ররা কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট করেছেন যে, তারা মার্কিন বাহিনীর প্রতিটি গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস করবেন না। রাশিয়ার পক্ষ থেকেও এই দখলের পরিকল্পনা নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খার্গ দ্বীপে কোনো অভিযান চালানো হলে ইরান তীব্র পাল্টা আঘাত হানতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে এক চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

/আশিক


হরমুজ ছাড়িয়ে ওমান উপসাগরও এখন ইরানের কবজায়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১০:৩২:১৪
হরমুজ ছাড়িয়ে ওমান উপসাগরও এখন ইরানের কবজায়
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির পর এবার ওমান উপসাগরের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। দেশটির নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে এই অঞ্চলের জলসীমায় ইরানের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে ওই অঞ্চলে মোতায়েনরত মার্কিন বাহিনীর ওপর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, ইরানি কমান্ডার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে মার্কিন সেনারা বর্তমানে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। আমেরিকার কোনো রণতরী বা সামরিক যান সীমার মধ্যে এলেই উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে তিনি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নতুন করে যুদ্ধের উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে।

ওই কমান্ডার আরও দাবি করেন, ইরানের শক্তিশালী সামরিক তৎপরতা ও মহড়ার মুখে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ইরানি জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চল এবং ওমান উপসাগর ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌবাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই কৌশলগত আধিপত্যের ফলে ওই অঞ্চলের নৌ-চলাচল ও সামরিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আলজাজিরা


১৫ দফার বেশিরভাগ শর্ত মেনে নিয়েছে ইরান : ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১০:২১:৩৫
১৫ দফার বেশিরভাগ শর্ত মেনে নিয়েছে ইরান : ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা শর্তের অধিকাংশ মেনে নিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ট্রাম্প জানান, ইরানের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে এবং আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূভাবে এগিয়ে চলেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ইরান তাদের অধিকাংশ শর্ত মেনে নিতে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনা সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কেন তারা আমাদের শর্ত মেনে নেবে না? সবকিছুই এখন ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, ইরান তাদের আন্তরিকতার প্রমাণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে তেল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে ২০টি জাহাজভর্তি তেল উপহার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে, যা মঙ্গলবার থেকেই যাত্রা শুরু করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া এই ১৫ দফা শর্তের মধ্যে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বা মিসাইল প্রোগ্রামে সীমাবদ্ধতা আরোপ, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা বন্ধ করা এবং ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো অত্যন্ত কঠোর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও ইরান বেশিরভাগ শর্তে সায় দিয়েছে বলে ট্রাম্প দাবি করছেন, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত নিয়ে এখনো দরকষাকষি ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান। এই সমঝোতা কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের অস্থিরতায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: