ইরান- ইসরায়েল সংঘাত
ইসরায়েলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র, দুইজন আশঙ্কাজনক

ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বিয়ার শেভা এবং রাজধানী তেল আবিবে আঘাত হেনেছে। হামলায় বিয়ার শেভার সোরোকা মেডিকেল সেন্টার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন আমাদের প্রতিবেদক নূর ওদেহ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোরোকা হাসপাতালে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানেনি। বরং হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী একটি ‘সংবেদনশীল স্থানে’ হামলার ফলে সৃষ্ট বিস্ফোরণের তরঙ্গে (blast wave) হাসপাতালের জানালা, ছাদ এবং কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই তথ্য ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে বলা হয়েছে হামলার মূল লক্ষ্য ছিল হাসপাতালের সন্নিকটে অবস্থিত একটি গোপন নিরাপত্তা স্থাপনা।
ইসরায়েলি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা (Magen David Adom) এর এক মুখপাত্র দেশটির গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে সোরোকা হাসপাতালে কোনো ধরনের বিপজ্জনক রাসায়নিক বা বায়বীয় পদার্থের গ্যাস লিক হয়নি। হাসপাতালে বিষাক্ত পদার্থ ছড়ানোর যে গুজব সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা ভিত্তিহীন বলেও তিনি জানান।
এদিকে, তেল আবিবে ইসরায়েলি শেয়ারবাজার ভবনেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওদেহ। হামলার পর শহরের কেন্দ্রস্থলে জরুরি সেবা জোরদার করা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এ ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হামলা একটি সম্ভাব্য পূর্ণমাত্রার সংঘাতের পূর্বাভাস হতে পারে।
এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকর্মীরা মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিয়ার শেভা অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
১৫ দফার বেশিরভাগ শর্ত মেনে নিয়েছে ইরান : ট্রাম্প
দীর্ঘ চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা শর্তের অধিকাংশ মেনে নিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ট্রাম্প জানান, ইরানের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে এবং আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূভাবে এগিয়ে চলেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ইরান তাদের অধিকাংশ শর্ত মেনে নিতে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনা সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কেন তারা আমাদের শর্ত মেনে নেবে না? সবকিছুই এখন ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, ইরান তাদের আন্তরিকতার প্রমাণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে তেল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে ২০টি জাহাজভর্তি তেল উপহার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে, যা মঙ্গলবার থেকেই যাত্রা শুরু করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া এই ১৫ দফা শর্তের মধ্যে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বা মিসাইল প্রোগ্রামে সীমাবদ্ধতা আরোপ, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা বন্ধ করা এবং ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো অত্যন্ত কঠোর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও ইরান বেশিরভাগ শর্তে সায় দিয়েছে বলে ট্রাম্প দাবি করছেন, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত নিয়ে এখনো দরকষাকষি ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান। এই সমঝোতা কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের অস্থিরতায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।
/আশিক
তেল, মিসাইল ও কূটনীতি: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কোন দিকে যাচ্ছে?

আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এখন এমন এক জটিল ও বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে, যা আর কোনোভাবেই সীমিত সামরিক উত্তেজনা হিসেবে বিবেচিত করা যায় না। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক সংঘাতে পরিণত হচ্ছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় সামরিক শক্তি, অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৌশলগত নৌপথ এবং বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। এই সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তৃতি যেমন বাড়ছে, তেমনি এর প্রভাবও ক্রমেই বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও কূটনীতির ওপর গভীর ছাপ ফেলছে।
দক্ষিণ ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত নেউত হোভাভ শিল্পাঞ্চলে একটি রাসায়নিক সংরক্ষণাগারে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনা এই সংঘাতের প্রকৃতি পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিস্ফোরণের পর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং সম্ভাব্য বিষাক্ত পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন জরুরি সতর্কতা জারি করে। বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে, জানালা-দরজা বন্ধ রাখতে এবং আক্রান্ত এলাকা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে যে বড় ধরনের রাসায়নিক লিকেজ ঘটেনি, তবুও এই হামলা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয় যে সংঘাত এখন কেবল সামরিক ঘাঁটি বা প্রতিরক্ষা স্থাপনায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং শিল্প ও বেসামরিক অবকাঠামোও সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এই ধরনের হামলা কেবল তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করে না, বরং পরিবেশগত বিপর্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য সংকটের সম্ভাবনাও সৃষ্টি করে।
একই সময়ে ইরানের অভ্যন্তরে পাল্টা হামলার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে মেহরাবাদ বিমানবন্দর, ব্যাংকিং অবকাঠামো এবং শিল্প স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে । পাশাপাশি ইসফাহান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে পুনরায় হামলা চালানো হয়েছে, যা চলতি সপ্তাহে একই প্রতিষ্ঠানের ওপর দ্বিতীয় আঘাত। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত চারজন কর্মী আহত হয়েছেন। এই ধরনের হামলা কেবল সামরিক নয়, বরং জ্ঞান ও গবেষণাকেন্দ্রিক অবকাঠামোকেও টার্গেট করছে, যা সংঘাতের চরিত্রকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকলে তারা অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এই ধরনের বিবৃতি সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার একটি সুস্পষ্ট সংকেত, যা একে কেবল সামরিক নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর ওপরও আঘাত হানার সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা হলো এর বহু-ফ্রন্টে বিস্তার। ইয়েমেনভিত্তিক হুথি গোষ্ঠীর যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের ঘোষণা এই সংঘাতকে নতুন করে জটিল করে তুলেছে। এর ফলে ইসরায়েলকে এখন কেবল ইরান বা লেবাননের হিজবুল্লাহ নয়, বরং দক্ষিণ দিক থেকেও নতুন হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের স্থল অভিযান পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে । ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উত্তরাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন, যা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ইঙ্গিত দেয়।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলেও এই সংঘাতের প্রভাব ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। কুয়েতে বিদ্যুৎ ও পানি উৎপাদন কেন্দ্রে হামলার ফলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন । একই সঙ্গে সৌদি আরব, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা দেখায় যে সংঘাত এখন গোটা উপসাগরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোকেও সরাসরি ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
এই সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রতিফলন পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার অতিক্রম করেছে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে । ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে তেলের দাম ৬০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাওয়া বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর ফলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি, সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি বাড়ছে।
কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই সংকীর্ণ নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই প্রণালী আংশিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে । তবুও এই নৌপথে যেকোনো ধরনের বাধা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক ও ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
কূটনৈতিক পর্যায়ে পরিস্থিতি সমানভাবে জটিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে দাবি করছেন যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে এবং তেহরান তার প্রস্তাবিত বেশ কিছু শর্ত মেনে নিয়েছে , অন্যদিকে তিনি সামরিক বিকল্পও খোলা রাখছেন। এমনকি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখলের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানে কার্যত শাসন পরিবর্তনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা সহজতর হচ্ছে । তবে এই দাবির বাস্তবতা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সামরিক চাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার এই সমান্তরাল কৌশল পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে এবং স্থায়ী সমাধানের পথকে জটিল করছে।
মানবিক দিক থেকেও পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। লেবাননে গত চার সপ্তাহে ১,২০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু এবং হাজার হাজার মানুষের আহত হওয়ার ঘটনা এই সংঘাতের গভীর মানবিক সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে । জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাও আন্তর্জাতিক উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি একটি জটিল, বহুমাত্রিক এবং ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রতিচ্ছবি, যেখানে সামরিক শক্তি, কৌশলগত সম্পদ, জ্বালানি রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। প্রতিটি নতুন হামলা এবং পাল্টা হামলা শুধু সংঘাতের পরিধিই বাড়াচ্ছে না, বরং একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক বা এমনকি বৈশ্বিক যুদ্ধের সম্ভাবনাকেও বাস্তব করে তুলছে।
এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই সংঘাত কি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব, নাকি এটি আরও বিস্তৃত হয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে নতুন এক অস্থিতিশীলতার যুগে প্রবেশ করাবে। বর্তমান বাস্তবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিশ্ব এখন এক অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও অনিশ্চিত সময়ের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রভাব বহুমাত্রিক এবং দীর্ঘমেয়াদি।
ইরানী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ইসরায়েলে রাসায়নিক বিপর্যয়: আতঙ্কে ঘরে বন্দি লাখো মানুষ

আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে, যেখানে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে একটি শিল্প এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সম্ভাব্য রাসায়নিক বিপদের আশঙ্কায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে, জানালা-দরজা বন্ধ রাখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কাছাকাছি না যেতে নির্দেশ দিয়েছে।
ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত নেউত হোভাভ শিল্পাঞ্চলের একটি রাসায়নিক সংরক্ষণাগারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বলে জানানো হয়েছে। হামলায় সংরক্ষণ ইউনিটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে বিপজ্জনক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, শিল্প এলাকায় আঘাতের কারণ সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র নাও হতে পারে, বরং বিস্ফোরণের ফলে ছিটকে আসা ধ্বংসাবশেষ বা শার্পনেল থেকেও এই ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে ইরানের ভেতরেও পাল্টা হামলার চিত্র দেখা যাচ্ছে। রোববার ইসফাহান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে একটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যা চলতি সপ্তাহে একই প্রতিষ্ঠানের ওপর দ্বিতীয় আঘাত। ইসফাহান প্রাদেশিক প্রশাসনের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক উপপ্রধান আকবর সালেহি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত চারজন কর্মী আহত হয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবারও একই স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দেশের শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে তারা অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এই ধরনের হুমকি সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও জটিল করে তোলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অন্যদিকে, জেরুজালেমকে কেন্দ্র করেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইসরায়েলি পুলিশের একটি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন, যেখানে জেরুজালেমের ল্যাটিন প্যাট্রিয়ার্ক কার্ডিনাল পিয়ারবাতিস্তা পিজ্জাবাল্লাকে পাম সানডের প্রার্থনা পরিচালনা করতে বাধা দেওয়া হয়। ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, জেরুজালেমে সব ধর্মের মানুষের স্বাধীনভাবে উপাসনার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা লঙ্ঘনের একটি উদ্বেগজনক ধারাবাহিকতার অংশ।
সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে বহুমাত্রিক রূপ দিচ্ছে—একদিকে সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলা, অন্যদিকে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
Source: Middle East Eye
কুয়েতে সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানল ইরান, বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির কবলে প্রতিরক্ষা বিভাগ
কুয়েতের একটি সেনাক্যাম্পে ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো খবর প্রকাশ করেছে। এই হামলায় সামরিক বাহিনীর অন্তত ১০ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আহত সেনাসদস্যরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার ফলে সেনাক্যাম্পের ভেতরে উল্লেখযোগ্য ‘বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে।
বিবৃতিতে কুয়েতের আকাশসীমায় গত ২৪ ঘণ্টার ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়েছে যে, এ সময়ের মধ্যে মোট ১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন কুয়েত লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীলতার মধ্যে কুয়েতের ওপর এমন ধারাবাহিক হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, কাতারের ওপরও ইরানের এই হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ড্রোন কাতারকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসে। তবে কাতারের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা সফলভাবে ধেয়ে আসা সমস্ত ড্রোন মাঝ আকাশেই প্রতিহত এবং নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে, যার ফলে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা।
মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ব্লু-প্রিন্ট তৈরিতে ইরানকে ১০০ শতাংশ সাহায্য রাশিয়ার
সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার নেপথ্যে রাশিয়ার সরাসরি গোয়েন্দা সহায়তা রয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শনিবার কাতারে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই অভিযোগ করেন। জেলেনস্কি জানান, হামলার ঠিক আগে রুশ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্য ও ছবি ইরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তার কাছে রয়েছে।
ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার ব্রিফিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জেলেনস্কি জানান, গত ২০, ২৩ এবং ২৫ মার্চ রাশিয়ার একাধিক স্যাটেলাইট সৌদি আরবের ‘প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি’র বিস্তারিত ছবি সংগ্রহ করে। প্রথম দিন তারা ঘাঁটির স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে, দ্বিতীয় দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা যাচাই করে এবং তৃতীয় দিন হামলার চূড়ান্ত নকশা তৈরি করে। এই গোয়েন্দা তৎপরতার ঠিক একদিন পর, অর্থাৎ ২৬ মার্চ ওই ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। জেলেনস্কির মতে, এই হামলায় রাশিয়া ইরানকে শতভাগ সহযোগিতা করেছে।
জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশ্ববাজারের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে বিশ্বের নজর সরাতেই মধ্যপ্রাচ্যে এই অস্থিরতা উসকে দিচ্ছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংকট তৈরি হলে তেলের দাম বৃদ্ধি পায়, যা রাশিয়ার কোষাগারকে সমৃদ্ধ করে এবং সেই অর্থ পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যয় করেন। এছাড়া জ্বালানি সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হওয়ায় পুতিন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। জেলেনস্কির আশঙ্কা, ওয়াশিংটনের নজর ও অস্ত্র সরবরাহের অগ্রাধিকার ইউক্রেন থেকে সরে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে চলে যাক—এটাই পুতিনের মূল লক্ষ্য।
কাতার ও সৌদি আরব সফরে জেলেনস্কির অন্যতম বড় সাফল্য হলো একটি প্রতিরক্ষা সমঝোতা সই। এই চুক্তি অনুযায়ী, ইউক্রেন এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে তাদের পরীক্ষিত ‘অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি’ সরবরাহ করবে। যেহেতু ইরানি ‘শাহেদ’ ড্রোন এখন সৌদি আরব ও কাতারের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই ইউক্রেন তাদের কারিগরি সহায়তা দেবে। বিনিময়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশগুলো ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্পে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে, যা ইরানের ড্রোন প্রযুক্তির বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক জোট গড়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতাকারী দলটি এখন ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনার চেয়ে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে বেশি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া ও বেলারুশ বাদে যেকোনো নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনায় বসতে কিয়েভ প্রস্তুত থাকলেও ওয়াশিংটনে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাব রাশিয়া প্রত্যাখ্যান করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন নিয়ে কতটা ভাবছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি কিছুটা আক্ষেপের সুরে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এখন নিজেদের স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলায় কাঁপছে ইসরায়েল, ১০০ শহরে বাজছে সতর্কসংকেত
ইসরায়েল লক্ষ্য করে একযোগে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালিয়েছে ইরান এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যৌথ হামলার সময় ইসরায়েলের অন্তত ১০০টিরও বেশি শহরে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠে, যা জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে। মূলত লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর রকেট বর্ষণ এবং ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত আক্রমণ মোকাবিলায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একযোগে সক্রিয় হয়ে ওঠে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ ও ইরানের এই দ্বিমুখী আক্রমণের ফলে দেশটির একটি বিশাল অঞ্চল জুড়ে সতর্কবার্তা জারি করতে হয়। যদিও এই শক্তিশালী হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে হাইফা উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়ায় সেখানকার কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী।
/আশিক
মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় হাজার হাজার মার্কিন মেরিন সেনা,বাড়ছে আঞ্চলিক সংঘাতের শঙ্কা
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে নিজেদের সামরিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর পেন্টাগনের গৃহীত নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হাজার হাজার মার্কিন নৌ ও মেরিন সেনা ইতিমধ্যে এই অঞ্চলে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই বিশেষ মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে সামরিক কৌশল ও নিরাপত্তার স্বার্থে এই বিশাল সেনাবহর ঠিক কোন কোন অবস্থানে মোতায়েন করা হয়েছে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ তার পূর্বনির্ধারিত দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছেছে। এই রণতরীটির পরিচালনার আওতাধীন এলাকার মধ্যে উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএসএস ত্রিপোলির নেতৃত্বে একটি বিশেষ ‘অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ’ এই অঞ্চলে অবস্থান নিয়েছে। এই বহরটিতে প্রায় ৫ হাজার দক্ষ নাবিক ও মেরিন সেনা রয়েছে যারা যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম। উল্লেখ্য যে, এই যুদ্ধজাহাজটি এর আগে জাপানের জলসীমায় অবস্থান করছিল, যেখান থেকে এটিকে জরুরি ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, ফ্রান্সে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। সেখানে তিনি ওয়াশিংটনের আগামী দিনের রণকৌশল সম্পর্কে একটি ধারণা প্রদান করেন। রুবিও দাবি করেন যে, ইরানে সরাসরি কোনো স্থলবাহিনী মোতায়েন করার প্রয়োজন ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র তার কাঙ্ক্ষিত সামরিক লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে। আরও জটিল করে তুলতে পারে।
/আশিক
এবার রণক্ষেত্র থেকে আলোচনার টেবিলে ইরান: তবে জুড়ে দিল এক কঠিন শর্ত
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে এক বিস্ফোরক শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। দীর্ঘ এক মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধে নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে দাবি করে তেহরান এখন এই নৌপথের ওপর তাদের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি চাইছে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান পরিকল্পনা করছে এই সরু জলপথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে নিয়মিত টোল আদায় করার, যা পূরণ হলে দেশটির অর্থনীতিতে প্রতি বছর কয়েকশ কোটি ডলারের নতুন জোয়ার আসবে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান দিনা এসফান্দিয়ারি জানিয়েছেন, ইরান এখন খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছে যে বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করা কতটা সহজ এবং লাভজনক। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে এই টোল আদায়ের পরিকল্পনাকে তেহরান তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। ইরানের এই দাবি মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এক ধরনের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা।
তবে ইরানের এই নজিরবিহীন শর্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই এই ‘অবৈধ ও বিপজ্জনক’ দাবি মেনে নেবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক নৌপথে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না। ফলে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও বড় অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করছে।
/আশিক
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মুখে বিশ্ব! লোহিত সাগরে ইরানের নতুন মাস্টারপ্ল্যান
লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট সাবমেরিন ক্যাবল বা অপটিক্যাল ফাইবার তার কেটে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে ইরান। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো যদি তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা মোতায়েন অব্যাহত রাখে, তবে ইরান এই চরম পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর চাউর হয়েছে। যদিও ইরানের কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা গোয়েন্দা সংস্থা এখন পর্যন্ত বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেনি, তবে এই হুমকিতে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের ডিজিটাল বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
লেবানিজ-অস্ট্রেলিয়ান উদ্যোক্তা মারিও নাওফাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, লোহিত সাগরের এই তারগুলো বৈশ্বিক ইন্টারনেট ট্র্যাফিকের প্রায় ১৭ শতাংশ বহন করে। বিশেষ করে আমাজন, মাইক্রোসফট এবং গুগল সমর্থিত সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কেন্দ্রগুলোর সংযোগ এই তারের ওপর নির্ভরশীল। যদি এই তারগুলো কেটে দেওয়া হয়, তবে ইন্টারনেট বিভ্রাট কয়েক ঘণ্টা নয়, বরং মাসের পর মাস স্থায়ী হতে পারে। বৈশ্বিক আর্থিক লেনদেন, ক্লাউড সেবা এবং ভিডিও কলিংয়ের মতো জরুরি পরিষেবাগুলো সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ফরাসি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান 'আলকাটেল সাবমেরিন নেটওয়ার্কস' ইতিমধ্যে তাদের গ্রাহকদের 'ফোর্স ম্যাজিউর' বা অনিবার্য পরিস্থিতিজনিত নোটিশ পাঠিয়েছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির তার স্থাপনকারী জাহাজ 'ইল দ্য বাৎজ' বর্তমানে সৌদি আরবের দাম্মাম উপকূলে আটকা পড়ে আছে। এমনকি প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা-ও এই মাসের শুরুর দিকে সমুদ্রের তলদেশে তাদের ক্যাবল স্থাপনের কাজ স্থগিত করেছে। লোহিত সাগরের নিচে বিছানো এই তারগুলো এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের ইন্টারনেট সংযোগের প্রাণকেন্দ্র, যা এখন ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন টার্গেটে পরিণত হয়েছে।
সূত্র- টাইমস অফ ইন্ডিয়া
পাঠকের মতামত:
- আজ সোমবার: ঢাকার কোন কোন মার্কেট বন্ধ? কেনাকাটার আগে দেখে নিন
- ১৫ দফার বেশিরভাগ শর্ত মেনে নিয়েছে ইরান : ট্রাম্প
- সোমবারও স্বর্ণের বাজারে আগুনের উত্তাপ, রেকর্ড দামে কেনাবেচা
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য পূর্ণাঙ্গ তালিকা
- তেল, মিসাইল ও কূটনীতি: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কোন দিকে যাচ্ছে?
- ইরানী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ইসরায়েলে রাসায়নিক বিপর্যয়: আতঙ্কে ঘরে বন্দি লাখো মানুষ
- রেমিট্যান্সে সর্বকালের সব রেকর্ড ভঙ্গ
- কুয়েতে সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানল ইরান, বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির কবলে প্রতিরক্ষা বিভাগ
- নিয়ম সবসময় শাসকের অনুসারী: হাসনাত আবদুল্লাহ
- অস্ট্রেলিয়ার বুকে বাংলা হান্ড্রেড লিগ সিডনিতে প্রথমবারের মতো খেলোয়াড় নিলাম
- চিরদিনই তুমি যে আমার খ্যাত নায়ক রাহুলের অকাল প্রয়াণ
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ঘোষণা: রাতেই মিটছে ১৩৩ অধ্যাদেশের ভাগ্য
- মিরপুর চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের হাতে আটক আলোচিত ফাহিম চৌধুরী
- সংসদ কি তার প্রেক্ষাপট ভুলে যাচ্ছে? অধিবেশনে নাহিদ ইসলামের কড়া সমালোচনা
- মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ব্লু-প্রিন্ট তৈরিতে ইরানকে ১০০ শতাংশ সাহায্য রাশিয়ার
- ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলায় কাঁপছে ইসরায়েল, ১০০ শহরে বাজছে সতর্কসংকেত
- মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় হাজার হাজার মার্কিন মেরিন সেনা,বাড়ছে আঞ্চলিক সংঘাতের শঙ্কা
- ফ্যামিলি কার্ডে বড় পরিবর্তন: এখন ঘরে বসেই পাবেন সব সুবিধা?
- আট বছর টিকা দেয়নি কোনো সরকার; স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক তথ্য
- সংসদে ইনসাফ থাকলে দেশজুড়ে ন্যায়বিচার সম্ভব: ডা. শফিকুর রহমান
- গুম ও ফাঁসির মঞ্চ পেরিয়ে আসা সদস্যদের সংসদ বিশ্বে বিরল: ডেপুটি স্পিকার
- ২৯ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ২৯ মার্চ ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
- ২৯ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- পে স্কেলসহ ১০ দফা দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন
- ত্বকের জাদুকরী পানীয় গোলাপজল: রূপচর্চায় এর ৩টি অজানা ব্যবহার
- যেসব লক্ষণে বুঝবেন শরীরে কমছে টেস্টোস্টেরন: অবহেলা করলেই মহাবিপদ!
- এবার রণক্ষেত্র থেকে আলোচনার টেবিলে ইরান: তবে জুড়ে দিল এক কঠিন শর্ত
- ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মুখে বিশ্ব! লোহিত সাগরে ইরানের নতুন মাস্টারপ্ল্যান
- ইরানের ইতিহাসে ভয়াবহতম দিন: এক রাতেই তছনছ রাজধানী তেহরান
- ড. ইউনূসের গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশনে বড় জালিয়াতি: ভ্যাট সুবিধায় শুভঙ্করের ফাঁকি
- ইসরায়েলে হুথিদের মিসাইল রেইন: ২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয় দফায় কাঁপল তেল আবিব
- সৌদি যুবরাজ এখন আমার পেছনে ঘুরছেন: ট্রাম্প
- আরব আমিরাত ও বাহরাইনে ইরানের মিসাইল হামলা: তছনছ মার্কিন স্বার্থের দুই কারখানা
- আজ রোববার: ঢাকার কোন কোন মার্কেট বন্ধ? কেনাকাটার আগে দেখে নিন
- ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইবার বাড়ল দাম: স্বর্ণের দামে বাজুসের নজিরবিহীন রেকর্ড
- ঢাকায় বাড়ছে তাপমাত্রা: আজ কেমন থাকবে রাজধানীর আবহাওয়া?
- আমেরিকার রাজপথে লাখো মানুষের গর্জন: কাঁপছে হোয়াইট হাউস
- আজ ২৯ মার্চ ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি
- ওয়াশিংটন পোস্টের বিস্ফোরক তথ্য: ইরানে শুরু হচ্ছে যুদ্ধের নতুন ধাপ
- যুদ্ধের মাঝে বড় ধামাকা: রহস্যময় উপহারে সুর নরম করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- নাসার হাবল টেলিস্কোপে ধরা পড়ল বিরল দৃশ্য: অবাক পৃথিবীর বাঘা বাঘা বিজ্ঞানীরা
- বিপদে ইরানের পাশে রাশিয়া: জরুরি সহায়তা নিয়ে তেহরানে রুশ বিমান
- সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে তিন গুণ বেশি: তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে হিমশিম প্রশাসন
- নয়াপল্টনে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর: তারেক রহমানকে ঘিরে উৎসবের আমেজ
- আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে বাড়ছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ভারতকে রুখে দিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ: মালেতে লাল-সবুজের গর্জন
- ইরান যুদ্ধে হুতিদের অংশগ্রহণে বিপাকে ইসরায়েল
- ঢাকাসহ ১৯ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস: নদীবন্দরে সতর্কতা জারি
- স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা তুঙ্গে: মাত্র কয়েক ঘণ্টায় বদলে গেল সব হিসাব
- স্বর্ণের বাজারে বড় ধস: গত বছরের রেকর্ড ভাঙছে ২০২৬-এর স্বর্ণের বাজার
- স্বর্ণ কিনতে চান? আজই সুযোগ: রেকর্ড হারে দাম কমাল বাজুস
- ট্রাম্পের যুদ্ধ স্থগিতের ঘোষণায় সোনার বাজারে ধস: ১০ শতাংশ কমল দাম
- সোনার বাজারে বড় ধস: দেশের সব জুয়েলারি দোকানে নতুন দাম কার্যকর
- পদ্মার গভীরে শনাক্ত ডুবে যাওয়া বাস: উদ্ধারে লড়ছে ‘হামজা’ ও ডুবুরি দল
- রেকর্ড পতন, মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজারে পাচ্ছেন ১ ভরি সোনা
- স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা তুঙ্গে: মাত্র কয়েক ঘণ্টায় বদলে গেল সব হিসাব
- শাওয়ালের ৬ রোজা: ফজিলত ও করণীয় জানুন
- পদ্মার অতলে বাস ট্র্যাজেডি: ২৩ প্রাণহানির মধ্য দিয়ে শেষ হলো উদ্ধার অভিযান
- লেনদেন ছাড়াল ৬শ কোটি টাকা: উত্থানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ
- কালিগঞ্জের রতনপুরে জমি বিরোধের জেরে নৃশংস হামলা, গুরুতর আহত ১ জন
- ইরান যুদ্ধে কোন দেশে কতজন মানুষ নিহত হয়েছে?
- ঈদ পরবর্তী বাজারে সোনার বড় ধস: ভরিতে বড় ছাড় দিয়ে সোনার দাম পুনর্নির্ধারণ
- বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি
- রিয়াদের ৭০ শতাংশ জ্বালানি মজুদের ওপর আঘাত: যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ কি ইরানের হাতে?








