মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ১৫ ০৯:৫৯:০০
মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক জেট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। শনিবার (১৪ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন দেশটির নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

জি-৭ সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে কানাডা সফরে যাওয়ার পথে বিমানে থাকা অবস্থায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্টারমার। তিনি জানান, ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (RAF) টাইফুন জেট এবং আকাশ থেকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার বিমানসহ বেশ কয়েকটি সামরিক উড়োজাহাজ ওই অঞ্চলজুড়ে "জরুরি সহায়তা" প্রদানের লক্ষ্যে পাঠানো হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, “ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সামরিক সম্পৃক্ততা জোরদার করা হচ্ছে। আমরা ওই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত।”

এ সময় স্টারমার সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও টেলিফোনে আলাপ করেন। তার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন উভয় নেতা।

এই সামরিক প্রস্তুতির পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে ইসরায়েল-ইরানের সাম্প্রতিক সংঘর্ষ। শুক্রবার ভোরে ইসরায়েল বেশ কয়েকটি ইরানি পারমাণবিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এতে ছয় জন শীর্ষস্থানীয় পরমাণু বিজ্ঞানীসহ অন্তত ৭৮ জন নিহত হন এবং আহত হন প্রায় ৩০০ জন।

এরই জবাবে শনিবার মধ্যরাতে ইরান একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইসরাইলের তেলআবিব, হাইফা ও রামাত গানের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে হামলা চালায়। এতে ছয়জন ইসরাইলি নিহত হন এবং আহত হন অন্তত ৫০ জন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের এই সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে একটি সম্ভাব্য বৃহত্তর যুদ্ধের পূর্বাভাসও হতে পারে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়ে উঠছে। যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং এই সংকটে পশ্চিমা বিশ্বের সক্রিয় ভূমিকাও নির্দেশ করে।

-রাফসান, নিজস্ব প্রতিবেদক


যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে মার্কিন জ্বালানি সংকট, দাম বেড়ে নতুন রেকর্ড

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ০৮:২২:৩৯
যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে মার্কিন জ্বালানি সংকট, দাম বেড়ে নতুন রেকর্ড
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে গ্যাসোলিনের গড় মূল্য আবারও গুরুত্বপূর্ণ একটি মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করেছে, যা জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মূল্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডি–এর তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে প্রতি গ্যালন (প্রায় ৩.৭৮ লিটার) গ্যাসোলিনের দাম ৪ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঘটল।

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি দামে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে দেশটিতে গ্যাসোলিনের গড় মূল্য প্রায় ১.০৬ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ৩৬ শতাংশ উল্লম্ফন নির্দেশ করে।

এই মূল্যস্ফীতি কেবল বাজারের সাময়িক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং সরবরাহ শৃঙ্খল, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়ার সম্মিলিত ফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে তেলের সরবরাহ নিয়ে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, সর্বশেষ ২০২২ সালের আগস্টে একই ধরনের মূল্যসীমা অতিক্রম করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যখন রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছিল। সেই সময়ও সরবরাহ সংকট, নিষেধাজ্ঞা এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় জ্বালানির দাম কমানো এবং দেশীয় তেল ও গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে।

সূত্র: আল জাজিরা


সৌদি থেকে মার্কিন সেনা সরাতে ইরানের আহ্বান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ০৮:১৪:২৬
সৌদি থেকে মার্কিন সেনা সরাতে ইরানের আহ্বান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান সৌদি আরবকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্যে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরব থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, ইরান সৌদি আরবকে একটি ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ রাষ্ট্র হিসেবে দেখে এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। তবে একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, যারা আরব বিশ্ব কিংবা ইরানিদের মর্যাদা অস্বীকার করে, তাদের বিরুদ্ধেই তেহরানের সামরিক পদক্ষেপ পরিচালিত হচ্ছে।

তার পোস্টে ইরানের সাম্প্রতিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের ছবি যুক্ত করা হয়, যা প্রতীকীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন নয়, বরং আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি একটি কৌশলগত সংকেত, যেখানে ইরান নিজেকে প্রতিরোধমূলক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও যুদ্ধের সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে একটি স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক অভিযান চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এই মন্তব্য তুলে ধরেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই এই সময়সীমার কথা উল্লেখ করে আসছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতেও তার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং আলোচনার অগ্রগতি ইতিবাচক।

তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি সামরিক বিকল্পও যে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়নি, সেটিও স্পষ্ট করেছেন তিনি। বিশেষ করে ইরানে স্থল সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ না করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী সব ধরনের বিকল্প বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তবুও তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, কূটনৈতিক সমাধানই এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার।

সূত্র: বিবিসি


আইএলওতে তারেক রহমান সরকারের প্রতি ৪৭ দেশের সমর্থন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ০৮:১০:০২
আইএলওতে তারেক রহমান সরকারের প্রতি ৪৭ দেশের সমর্থন
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক শ্রমনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা–এর ৩৫৬তম গভর্নিং বডি অধিবেশনে বাংলাদেশকে ঘিরে অনুষ্ঠিত আলোচনায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। এই অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী ৪৭টি দেশ বর্তমান বাংলাদেশের সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন, সহযোগিতা এবং আস্থার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।

প্রতিনিধিরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকারের নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে তারেক রহমান–এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। এই স্বীকৃতি কেবল রাজনৈতিক বৈধতার প্রতিফলন নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী কাঠামোর গ্রহণযোগ্যতারও ইঙ্গিত বহন করে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা–এর কনভেনশন ৮১, ৮৭ ও ৯৮ বাস্তবায়নে ঘাটতির অভিযোগে একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ২০২১ সালে শ্রম খাত সংস্কারের জন্য একটি পাঁচ বছর মেয়াদি রোডম্যাপ প্রণয়ন করে, যা মূলত শ্রম অধিকার সুরক্ষা, ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা এবং শ্রম পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়।

এই রোডম্যাপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি ইতোমধ্যে একাধিক গভর্নিং বডি অধিবেশনে পর্যালোচিত হয়েছে। সর্বশেষ অধিবেশনে নবম অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলে তা অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিশেষ করে শ্রম আইন সংস্কার, শ্রম পরিদর্শন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পদক্ষেপগুলো প্রশংসিত হয়েছে।

আলোচনায় ১৯টি দেশ, দুটি আঞ্চলিক জোট এবং মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের উদ্যোগকে কার্যকর ও বাস্তবমুখী হিসেবে অভিহিত করেন। তারা চলমান প্রক্রিয়াটি দ্রুত সমাপ্ত করার জন্য জোর আহ্বান জানান, যা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক শ্রমমান পূরণে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে।

একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা বাংলাদেশের অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে রোডম্যাপের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য আরও কাঠামোগত ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করে। তারা বিশেষভাবে শ্রম আইন সংশোধন, শ্রম পরিদর্শক নিয়োগ বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা শ্রম অধিকার, সুশাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান, শ্রম খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

এই আলোচনায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ২২ সদস্যবিশিষ্ট আরব গ্রুপ, ৬ সদস্যের উপসাগরীয় অঞ্চলভিত্তিক জোট এবং নাইজার, চীন, রাশিয়া, জাপান, তানজানিয়া, ইরান, লিবিয়া, ওমান, ফিলিপাইন, নেপাল, তিউনিসিয়া, ইথিওপিয়া, লাওস, কিউবা, মোজাম্বিক, গ্যাবন ও উজবেকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে। তাদের একটি বড় অংশ চলমান প্রক্রিয়াটি দ্রুত প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতি আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

-রফিক


ইসরায়েলে তেল শোধনাগারে হামলা, আতঙ্কে বাসিন্দারা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ০৮:০৩:৫৫
ইসরায়েলে তেল শোধনাগারে হামলা, আতঙ্কে বাসিন্দারা
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী হাইফায় একটি তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিশাল আকারের সিলিন্ডার ট্যাংক থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশের দিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা ঘটনাটির তীব্রতা ও ঝুঁকির মাত্রা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাটি হাইফার শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত হাইফা শহরটি ইসরায়েলের তৃতীয় বৃহত্তম নগরী এবং দেশের একটি প্রধান সমুদ্রবন্দর হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। এই অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত সরাসরি জাতীয় অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘটনার পরপরই ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে সেনাবাহিনীর নিয়মিত ও রিজার্ভ উভয় ইউনিটকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা সম্ভাব্য বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় এড়াতে সহায়ক হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত এক মাস ধরে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ত্রিমুখী উত্তেজনা ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ইসরায়েল একই সময়ে ইরান এবং দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করে আসছে, যেখানে দক্ষিণ লেবানন কার্যত নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

এই প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং হিজবুল্লাহ যৌথভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হাইফার এই তেল শোধনাগারে ঠিক কোন পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফলে ঘটনাটি কেবল সামরিক সংঘাতের অংশ নয়, বরং গোয়েন্দা ও কৌশলগত অনিশ্চয়তারও প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র : এএফপি


ইসরায়েলে ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ হামলার দাবি হিজবুল্লাহর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ০৬:৫১:৩০
ইসরায়েলে ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ হামলার দাবি হিজবুল্লাহর
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে লেবাননভিত্তিক ইরানপন্থী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ সাম্প্রতিক সামরিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য তৎপরতার দাবি করেছে। গোষ্ঠীটির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারা ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে একযোগে মোট ৪৩টি পৃথক হামলা পরিচালনা করেছে, যা অঞ্চলজুড়ে সংঘাতের মাত্রা নতুন করে উসকে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার উদ্ধৃতি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, এসব হামলার একটি বড় অংশ সরাসরি লেবাননের ভূখণ্ডে অবস্থানরত ইসরায়েলি সামরিক ইউনিটগুলোর ওপর পরিচালিত হয়েছে। মোট হামলার মধ্যে ২৬টি সংঘটিত হয়েছে সীমান্তবর্তী লেবানন অঞ্চলে, যেখানে দুই পক্ষের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘর্ষ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে।

অন্যদিকে, অবশিষ্ট ১৭টি হামলা পরিচালিত হয়েছে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে, যা সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তৃতি বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ক্রস-বর্ডার আক্রমণ কেবল সামরিক উত্তেজনা নয়, বরং একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাবনাকেও সামনে নিয়ে আসে।

হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তাদের হামলাগুলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছে। গোষ্ঠীটির ভাষ্যমতে, এসব অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনীর চারটি সামরিক ঘাঁটি, আটটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা, একটি ব্যারাক এবং সীমান্ত এলাকায় সম্প্রতি স্থাপিত চারটি নতুন চৌকি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

যদিও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এসব দাবির তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি, তবুও এই ধরনের ধারাবাহিক হামলার দাবি অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র:আল জাজিরা


খারগ দ্বীপে মার্কিন বুট? ট্রাম্পের হুমকিতে বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ২১:৪৭:১১
খারগ দ্বীপে মার্কিন বুট? ট্রাম্পের হুমকিতে বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধস
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিস্ফোরক মন্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখন চরমে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখল করে দেশটির তেল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। ট্রাম্পের মতে, এই মুহূর্তে তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করা, যদিও এ নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই নানা মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, এটি করা হতে পারে, আবার নাও হতে পারে—কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আরও অনেক বিকল্প খোলা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রয়োজনে সেখানে মার্কিন বাহিনীকে কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করতে হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। যেহেতু ইরানের মোট তেল রপ্তানির সিংহভাগই এই দ্বীপের ওপর নির্ভরশীল, তাই এটি দখল করা হলে দেশটির অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে এক অপূরণীয় ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান এই ত্রিমুখী সংঘাতের মাঝেই ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যেই ওই অঞ্চলে কয়েক হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং পেন্টাগন আরও সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। ট্রাম্পের এই ‘তেল দখলের’ কৌশল একদিকে যেমন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে অস্থিরতা তৈরি করছে, অন্যদিকে ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের সাথে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পথ প্রশস্ত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

/আশিক


ট্রাম্পের মুখে শান্তি, ইসরায়েলের হাতে অস্ত্র! মিত্রদের দ্বিমুখী চালে বিভ্রান্ত বিশ্ব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ২০:৫৪:৪৬
ট্রাম্পের মুখে শান্তি, ইসরায়েলের হাতে অস্ত্র! মিত্রদের দ্বিমুখী চালে বিভ্রান্ত বিশ্ব
ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ (বাঁ থেকে), মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কোলাজ

যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের দৌড়ঝাঁপকে ছদ্মবেশ হিসেবে দেখছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, শত্রুরা প্রকাশ্যে আলোচনার কথা বললেও গোপনে আসলে বড় ধরনের স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে। তাঁর এই আশঙ্কার পেছনে মূল কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন। গালিবাফ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানি বাহিনী মার্কিন সৈন্যদের স্থলপথে প্রবেশের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এবং তারা সীমানা অতিক্রম করলেই তাদের ওপর ‘আগুনের বৃষ্টি’ বর্ষণ করা হবে।

যুদ্ধের এক মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না দেখে সিএনএনের প্রধান কূটনৈতিক প্রতিবেদক ম্যাথিউ চ্যান্স একটি গভীর উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, মার্কিন বাহিনীর কাছে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র থাকলেও যেকোনো ধরনের স্থল অভিযান দ্রুত একটি ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এতে কেবল ইরান নয়, বরং পার্শ্ববর্তী জ্বালানিসমৃদ্ধ উপসাগরীয় আরব দেশগুলোও বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। ইতোমধ্যেই যুদ্ধের কারণে এই দেশগুলো কয়েক বিলিয়ন ডলারের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছে এবং তারা এখন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।

গালিবাফ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লে তারা কেবল আত্মরক্ষণ নয়, বরং হামলা আরও জোরদার করবে এবং আঞ্চলিক সহযোগীদেরও এর জন্য কঠিন শাস্তি পেতে হবে। ইরানের এই হুমকির লক্ষ্যবস্তু হতে পারে প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনাগুলো। ম্যাথিউ চ্যান্সের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, আর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় বাব এল-মান্দেব জলপথটিও এখন অনিরাপদ। ওয়াশিংটন শুরুতে দ্রুত জয় নিশ্চিত করার যে ছক কষেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সম্ভাবনা এখন অত্যন্ত ক্ষীণ।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন আলোচনার কথা বলছেন, তখন তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার এক বিশাল নীল নকশা তৈরি করছে। দোহা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এলমাসরি জানিয়েছেন, ইসরায়েল তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৭১ বিলিয়ন ডলারের একটি যুদ্ধ বাজেট পাস করেছে। এই বিশাল বাজেট মূলত সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন এবং ইরান পর্যন্ত একটি দীর্ঘমেয়াদী বা ধারাবাহিক যুদ্ধের প্রস্তুতির প্রতিফলন। এলমাসরির মতে, ইসরায়েল মূলত তাদের ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ বা বৃহত্তর ইসরায়েলের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য যুদ্ধের এই পথটি বেছে নিয়েছে এবং তারা বর্তমানে যুদ্ধের কেবল শুরু বা মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে।

/আশিক


ইসরায়েল ফার্স্ট নীতিতে ক্ষুব্ধ মার্কিনিরা: নিজ দেশেই তোপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১৯:৫৭:৫০
ইসরায়েল ফার্স্ট নীতিতে ক্ষুব্ধ মার্কিনিরা: নিজ দেশেই তোপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলমান “নো কিংস” বিক্ষোভ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি বিদ্ধ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, এই বিক্ষোভে লাখো মানুষের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে, মার্কিন নাগরিকরা বর্তমান প্রশাসনের “ইসরায়েল ফার্স্ট” (ইসরায়েল আগে) নীতিতে চরম ক্ষুব্ধ।

পেজেশকিয়ান মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের উচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এই বিক্ষোভের প্রকৃত বাস্তবতা সম্পর্কে সজাগ করা। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন জনগণ তাদের গণতন্ত্রের ওপর “ইসরায়েলি রাজাদের” ক্রমাগত প্রভাব বিস্তারে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। একই সুরে কথা বলেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফও। তিনি বিক্ষোভকারীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ইরান ৪৭ বছর আগে যে ‘রাজতন্ত্র বিরোধী’ আন্দোলন শুরু করেছিল, আজ মার্কিন জনতা সেই পথেই হাঁটছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তা এখন পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই যুদ্ধের প্রতিবাদে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী নীতির তীব্র নিন্দা জানান এবং ইরানের বিরুদ্ধে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেন।

মার্কিন নাগরিকদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের দেশের স্বার্থের চেয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বেশি মনোযোগী। এদিকে ইরানও দমে নেই; তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না ব্রিটেন, সাফ জানালেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১৯:৪২:৫৫
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না ব্রিটেন, সাফ জানালেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই সংঘাত থেকে যুক্তরাজ্য নিজেকে দূরে রাখবে। স্টারমারের ভাষায়, “এটি আমাদের যুদ্ধ নয়, এবং আমরা এতে জড়িয়ে পড়ব না।”

সোমবার এক বিবৃতিতে স্টারমার জানান, যুক্তরাজ্য বর্তমানে কেবল ‘প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ গ্রহণ করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবন রক্ষা, ব্রিটিশ স্বার্থ রক্ষা এবং ওই অঞ্চলে থাকা মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে ব্রিটেন সব ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সহায়তা চালিয়ে যাবে। তবে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাজ্যের নেই।

অবশ্য সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে ব্রিটেন। হরমুজ প্রণালীতে হুমকির মুখে থাকা ইরানি স্থাপনায় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। এছাড়া ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাঝ আকাশে প্রতিহত করতে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্টারমার একদিকে সরাসরি যুদ্ধ এড়াতে চাইছেন, অন্যদিকে মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতাও বজায় রাখছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

পাঠকের মতামত: