অবরোধ থাকলে আলোচনা নয়: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি না বলে দিল ইরান

হরমুজ প্রণালি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, তখন আলোচনার টেবিলে বসার সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিল ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে সম্ভাব্য বৈঠকের খবর চাউর হলেও দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'তাসনিম নিউজ এজেন্সি' নিশ্চিত করেছে যে, বর্তমানে ইরানি কোনো প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে পাঠানোর পরিকল্পনা নেই।
ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নৌ অবরোধ কার্যকর থাকবে, ততক্ষণ কোনো ধরনের আলোচনায় যাবে না তেহরান। বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার টেবিলে বসার কোনো সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে দেশটি।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ পোস্টে দাবি করেছেন যে ইরান ফরাসি ও ব্রিটিশ জাহাজে গুলি চালিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র ট্রাম্পের এই তথ্যকে চ্যালেঞ্জ করে জানিয়েছে, হামলার শিকার জাহাজ দুটি আসলে ছিল ভারতীয় পতাকাবাহী।
জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প দাবি করছেন হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না, যা আদতে বিভ্রান্তিকর। কারণ বিশ্ববাজারে তেলের দাম সরাসরি এই রুটের ওপর নির্ভরশীল।
ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন ইরান অজান্তেই যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো—ইরান প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ায় সেখানে এখন কোনো দেশের জাহাজই চলাচল করতে পারছে না। ফলে সংঘাত নিরসনের বদলে পরিস্থিতি এখন আরও জটিল মোড় নিচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
আমি না থাকলে আজকের ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকতো না: ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেছেন, তাঁর জোরালো ভূমিকা ও সঠিক পদক্ষেপ না থাকলে বর্তমান বিশ্বে ইসরায়েল নামক রাষ্ট্রটির কোনো অস্তিত্বই থাকত না। সাম্প্রতিক এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়ে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি নিয়ে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। ট্রাম্প একই সাথে জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চরম উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কেমন হবে, সেটি সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়েছিল।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁকে ইরান ইস্যুতে কোনো ধরনের যুদ্ধে জড়াতে প্ররোচিত বা প্রভাবিত করেছেন—এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই প্রসঙ্গে নিজের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, নেতানিয়াহু তাঁকে কোনো ফাঁদে ফেলেননি, বরং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যা যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার ছিল, তা তিনি নিজেই গ্রহণ করেছিলেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গভীর উদ্বেগের কারণেই তিনি এই কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন, কারণ ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্যই হওয়া উচিত ছিল তেহরানকে যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া না হয়।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে একহাত নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তাঁর পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে যেসব নেতিবাচক কথাবার্তা বা অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার সবটুকুই ডেমোক্র্যাটদের নোংরা রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়।
তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন নিয়ে তাঁর এই উদ্বেগ যে দীর্ঘদিনের, সেটির প্রমাণ দিতে গিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, তাঁর প্রথম মেয়াদের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালেই তিনি ওবামা প্রশাসনের আমলে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের যুক্তি অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক শক্তি অর্জনের সক্ষমতা সরাসরি ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক মহাবিপদ সংকেত। তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পেলে ইরান সম্ভবত তাদের প্রথম আঘাতটি ইসরায়েলের ওপরই হানত।
তবে পুরো সাক্ষাৎকারে তাঁর করা সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্যটি ছিল, “আমাকে ছাড়া এখন আর ইসরায়েল থাকত না।” মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে যখন নতুন করে নানা হিসাব-নিকাশ ও আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এমন দাবি বিশ্বজুড়ে বিতর্কের নতুন ঝড় তুলেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ইরানি হামলার নিন্দা জানিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ঐক্যের আহ্বান আমিরাতের
কুয়েত ও বাহরাইনের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী ও অবিচল ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ আঞ্চলিক সংহতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই আহ্বান জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে গারগাশ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো রাষ্ট্রকে এই ধরনের বৈরি হামলা ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে এককভাবে ফেলে রাখা সমীচীন হবে না। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর অন্তর্ভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত। জিসিসি ভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ একই সূত্রে গাঁথা হওয়ায় যেকোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক আগ্রাসনকে পুরো অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা আবশ্যক।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই শীর্ষ কূটনৈতিক কর্মকর্তার মন্তব্যটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানের পক্ষ থেকে চালানো একটি কথিত প্রতিশোধমূলক হামলার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের ওই হামলায় কুয়েতের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে বিমান ওঠানামাও স্থগিত রাখা হয়।
সূত্র: গলফ নিউজ
ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্য যুদ্ধ: শ্রম ইস্যুতে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে বসছে অতিরিক্ত শুল্ক
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর বাণিজ্য নীতিমালার অংশ হিসেবে এবার বড় ধরনের বড় ধাক্কার মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ (ফোর্সড লেবার) ইস্যুতে ৬০টি দেশের সব ধরনের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) অফিসিয়ালি এই নতুন খসড়া প্রস্তাব প্রকাশ করেছে। ইউএসটিআরের দাবি, তালিকাভুক্ত এই ৬০টি দেশ তাদের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রম বা শ্রম শোষণ রোধে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কম মূল্যে প্রবেশ করে মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে তীব্র বাধা সৃষ্টি করছে এবং মার্কিন শ্রমিকদের জন্য এক চরম অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করছে।
ইউএসটিআরের প্রস্তাবিত খসড়া তালিকা অনুযায়ী, শাস্তিমূলক শুল্কের হার নির্ধারণে দেশগুলোকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। এই তালিকার অন্য দেশগুলো হলো—কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া এবং তাইওয়ান। অন্যদিকে, তালিকার বাকি ৪৫টি দেশের পণ্যের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত শুল্কের হার আরও চড়া, যা প্রায় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার এই কঠোর সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের মার্কিন বাজারে প্রবেশ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ব্যর্থ হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর কারণে মার্কিন দেশীয় শ্রমিকরা বৈশ্বিক বাজারে এক বিশাল অসাম্য ও অন্যায্য প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।
মার্কিন স্বার্থ রক্ষার্থেই এই পদক্ষেপ জরুরি।” তবে মার্কিন পোশাক আমদানিকারকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়ে ইউএসটিআর জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু তৈরি পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের ক্ষেত্রে সীমিত কোটায় কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের একটি বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাবও খসড়াতে রাখা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত বিশদ রূপরেখা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত কৌশলগত মনে করছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকরা। ট্রাম্প প্রশাসনের এর আগে আরোপিত বেশ কিছু সাময়িক শুল্কের আইনি মেয়াদ আগামী ২৪ জুলাই শেষ হতে যাচ্ছে। তার ওপর সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের জরুরি ক্ষমতার আওতায় আরোপিত একাধিক শুল্ক আদেশকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে বাতিল করে দেয়।
ফলে সুপ্রিম কোর্টের সেই ধাক্কা সামাল দিতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে এবার সম্পূর্ণ নতুন আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে শুল্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন, যার প্রথম কোপটি পড়ল শ্রম ইস্যুতে দুর্বল অবস্থানে থাকা দেশগুলোর ওপর। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প এমনিতেই মার্কিন বাজারে মন্দার মুখোমুখি, তার ওপর নতুন করে এই ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
/আশিক
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মেগা ড্রোন হামলা
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে। ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে (Qeshm Island) আকস্মিক হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার তীব্র জবাব দিতে গিয়ে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থ লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ বুধবার (৩ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে দুপক্ষের সামরিক সূত্রের বরাতে এই বিপজ্জনক সংঘাতের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, কেশম দ্বীপে মার্কিন আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক জবাব হিসেবে তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ লক্ষ্য করে একযোগে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
পাল্টা হামলার সত্যতা স্বীকার করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরান থেকে ধেয়ে আসা একটি নতুন ড্রোন বহর কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালায়। তবে মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানি ড্রোনগুলো প্রতিহত করায় সেই হামলাটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।
এর আগে আজ বুধবার ভোরে সেন্টকম এক জরুরি বার্তায় জানায়, তারা ইরানের কেশম দ্বীপে একটি ইরানি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে ‘আত্মরক্ষামূলক’ বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ওই বিশেষ স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক জাহাজে ড্রোন হামলার পরিচালনার কাজে ব্যবহার করছিল ইরান।
এদিকে ইরানের এই পাল্টা হামলার পর কুয়েত এবং বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিমান হামলার তীব্র সতর্কসংকেত (এয়ার রেইড সাইরেন) বেজে ওঠার খবর পাওয়া গেছে। পুরো অঞ্চল জুড়ে এখন চরম যুদ্ধ আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, কেশম শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেকোনো বিদেশি আগ্রাসন ও হামলা মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এবার যদি পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর ও নজিরবিহীন প্রতিশোধ নেবে ইরান।
/আশিক
হিজবুল্লাহর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ: কী কথা হলো দুই পক্ষের মধ্যে?
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত যুদ্ধক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, লেবাননে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈরুতের শহরতলিতে ইসরাইলি বাহিনীর নতুন করে জোরপূর্বক উচ্ছেদ আদেশের মধ্যেই গতকাল সোমবার (১ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি বৈশ্বিক রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর খুব ভালো ফোনালাপ হয়েছে এবং উভয় পক্ষই সব ধরনের গোলাগুলি বন্ধ করতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। এই সম্ভাব্য চুক্তি অনুযায়ী, ইসরাইল হিজবুল্লাহর ওপর আর কোনো হামলা চালাবে না এবং হিজবুল্লাহও ইসরাইলের ভূখণ্ডে আক্রমণ বন্ধ রাখবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট একই সাথে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও একটি ফলপ্রসূ আলোচনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বৈরুতে বা লেবানন সীমান্তে কোনো মার্কিন সেনা পাঠানো হবে না এবং যেসব মার্কিন সেনা সেখানে যাওয়ার পথে ছিল, তাঁদের ইতোমধ্যে মাঝপথ থেকেই ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই স্পর্শকাতর আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের বাইরে অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বার্তার পর লেবাননের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও বড় ধরনের ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। হিজবুল্লাহর প্রভাবশালী সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ সমগ্র লেবানন জুড়ে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি’ সমর্থন করে, যা পরবর্তীতে লেবাননের সার্বভৌম ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের পথ সুগম করবে।
তবে বৈরুতে হামলা বন্ধের বিনিময়ে উত্তর ইসরাইলে হিজবুল্লাহর আক্রমণ বন্ধ করার মতো কোনো ‘আংশিক বা শর্তযুক্ত যুদ্ধবিরতির’ প্রস্তাব তারা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। লেবাননের প্রেসিডেন্সিও (রাষ্ট্রপতির কার্যালয়) নিশ্চিত করেছে যে, হিজবুল্লাহ সমগ্র লেবাননে ‘পারস্পরিক হামলা বন্ধের’ একটি মার্কিন খসড়া প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও লেবানন সরকারের এই ইতিবাচক সুরের বিপরীতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর যুদ্ধংদেহী ও কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হিজবুল্লাহ যদি ইসরাইলের শহর ও নাগরিকদের ওপর হামলা পুরোপুরি বন্ধ না করে, তবে ইসরাইলি বিমান বাহিনী বৈরুতের ‘সন্ত্রাসী আস্তানায়’ হামলা চালিয়েই যাবে।
তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে ইসরাইলের এই অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং এর পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের পূর্বপরিকল্পিত স্থল অভিযান অব্যাহত রাখবে। ইসরাইলের নতুন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাৎজও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হিজবুল্লাহর রকেট হামলা চলতে থাকলে বৈরুতে কোনো শান্তি থাকবে না। এই হুমকির মুখে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা নতুন করে বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছেন।
এদিকে, ইরান চলমান মার্কিন আলোচনা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে বলে গুঞ্জন উঠলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সির’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লেবাননে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান হামলার কারণে ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সাথে সব ধরনের পর্দার আড়ালের আলোচনা স্থগিত করেছে। ইরান মূলত গাজা ও লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের স্থায়ী অবসান চায় এবং দাবি আদায় না হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন খ্যাত ‘হরমুজ প্রণালি’ ও ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালি’ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।
তবে এই হুমকি ও প্রতিবেদনকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে মার্কিন আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং যেকোনো সময় সমঝোতা সম্ভব।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে পর্দার আড়ালে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে। গত সপ্তাহেই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) নীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এলব্রিজ কোলবি ইসরাইল ও লেবাননের সামরিক প্রতিনিধিদের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। এছাড়াও বিদায়ী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের স্থলাভিষিক্ত হওয়া বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে সরাসরি বৈঠকে বসেছেন, যা গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মুখোমুখি আলোচনা।
হিজবুল্লাহকে ওয়াশিংটন অফিশিয়ালি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গণ্য করলেও লেবাননের প্রধান সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তাদের বাদ দিয়ে যে কোনো স্থায়ী সমাধান অসম্ভব, তা ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক ফোনালাপের দাবি থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
বন্ধুত্বে ফাটল! নেতানিয়াহুকে বদ্ধ উন্মাদ ও অকৃতজ্ঞ বলে ট্রাম্পের তোপ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই দীর্ঘদিনের মিত্র ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর প্রকাশ্যেই নজিরবিহীন ক্ষোভ ঝাড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি তেল আবিবের এই শীর্ষ নেতাকে ‘বদ্ধ উন্মাদ ও অকৃতজ্ঞ’ বলেও চরম তিরস্কার করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দুই নেতার সম্পর্কের এই চরম ফাটলের তথ্য সামনে আনা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল সোমবার (১ জুন) ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি অত্যন্ত উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়। এর ঠিক আগেই ইরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের চলমান কূটনৈতিক আলোচনা চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। মূলত এই জটিল আঞ্চলিক সমীকরণের প্রেক্ষাপটেই দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে ফোনালাপটি অনুষ্ঠিত হয়।
অ্যাক্সিওসের দাবি, ফোনালাপের একপর্যায়ে ট্রাম্প এতটাই ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন যে তিনি নেতানিয়াহুকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, "তুমি আসলে কী করছ?" মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরায়েল বৈরুতসহ বিভিন্ন বেসামরিক এলাকায় যে ধরনের নির্বিচার ও পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে এটিই ছিল তাঁর সবচেয়ে উত্তপ্ত ও তিক্ত ফোনালাপ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘অকৃতজ্ঞ’ বলে অভিযুক্ত করে মনে করিয়ে দেন যে, অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটে তিনি সর্বদা নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং ঢাল হয়ে রাজনৈতিক সমর্থন দিয়েছেন। আমেরিকার এই অন্ধ সমর্থন না থাকলে নেতানিয়াহুকে অনেক আগেই বড় ধরনের আন্তর্জাতিক আইনি ও রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতো বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সূত্রগুলোর দাবি, ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেন, বৈরুতে আরও বড় ধরনের কোনো বোমাবর্ষণ বা সামরিক অভিযান চালালে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
তবে এই উত্তপ্ত ফোনালাপের পর নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে জানানো হয়, লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ইসরায়েলের সামরিক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। নেতানিয়াহুর এই অনড় অবস্থানের পরপরই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর কঠোর অনুরোধ ও চাপের পরই ইসরায়েলি বাহিনী বৈরুতে বড় ধরনের মেগা সামরিক অভিযান চালানো থেকে সাময়িকভাবে সরে এসেছে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই প্রকাশ্য পাল্টাপাল্টি অবস্থানের পর বৈশ্বিক কূটনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন উঠেছে—তবে কি দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এই দুই কট্টর ডানপন্থী নেতার বন্ধুত্বে এবার স্থায়ী চির ধরল? এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের পর্দার আড়ালের আলোচনা বন্ধ করে দিতে পারে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লেও ট্রাম্প অবশ্য আশাবাদী। তিনি দাবি করেছেন, হোয়াইট হাউসের কার্যকর মধ্যস্থতায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে আমেরিকার একটি বড় ধরনের ঐতিহাসিক পারমাণবিক ও ভূ-রাজনৈতিক সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে।
/আশিক
লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে ফল ভোগ করবে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী: ইরান
লেবাননের ওপর ইহুদিবাদী ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন ও বর্বরোচিত হামলা অবিলম্বে পুরোপুরি বন্ধ না হলে তেল আবিব এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে এর জন্য অত্যন্ত কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির প্রভাবশালী প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই কড়া বার্তা দেন।
ইব্রাহিম আজিজি তাঁর পোস্টে স্পষ্ট উল্লেখ করেন, লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। ওয়াশিংটন এই আগ্রাসনে সরাসরি মদদ দিচ্ছে দাবি করে তিনি সতর্ক করেন যে, এই যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে এর চরম ফল ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটির সৈন্যদেরও ভোগ করতে হবে। প্রতিটি অন্যায় ও আগ্রাসী পদক্ষেপের একটি চড়া মূল্য দিতে হবে যা একসময় পরিশোধ করতেই হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা ও রকেট হামলা আবারও মারাত্মক রূপ নিয়েছে। ভূ-রাজনৈতিকভাবে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই লেবাননের হিজবুল্লাহর অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও সামরিক সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ফলে তেহরানের পক্ষ থেকে আসা এই সরাসরি হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
দ্রুত কমছে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুত, বৈশ্বিক বাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়ার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি কৌশলগত তেল মজুত (স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা এসপিআর) আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে তীব্র উদ্বেগ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সাফ সতর্কবার্তা দিয়েছেন—বর্তমান বৈশ্বিক সংকট সামাল দিতে জরুরি তেলভান্ডার যেভাবে খালি করা হচ্ছে, তার ফলে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং তীব্র সরবরাহ সংকট—উভয় ক্ষেত্রেই নজিরবিহীন চাপ তৈরি হবে।
গত ২৮ মে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘সিএনএন’ (CNN)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনী প্রচারণার সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র অভিযোগ তুলে বলেছিলেন, জো বাইডেন প্রশাসন কেবল সস্তা রাজনৈতিক সুবিধা ও ভোট ব্যাংক টানতে জাতীয় জরুরি তেলভান্ডার খালি করছে। কিন্তু ক্ষমতার চাকা ঘোরার পর, বর্তমানে ইরানকে ঘিরে সৃষ্ট তীব্র বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মুখে পড়ে খোদ ট্রাম্প প্রশাসনও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সেই একই মজুত থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।
সাম্প্রতিক অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার এই কৌশলগত তেল মজুত (SPR) গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছে। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে যে চরম সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে, তা সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত বাধ্য হয়ে তাদের এই লাইফলাইন বা জরুরি ব্যাকআপ ব্যবহার করছে।
বিশ্বখ্যাত জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’ (Kpler)-এর প্রধান তেল বিশ্লেষক ম্যাট স্মিথ এই সংকটের গভীরতা তুলে ধরে বলেন
"এই জরুরি মজুত চিরকাল খালি রাখা যাবে না, একসময় এটি অবশ্যই পুনরায় চড়া মূল্যে কিনে পূরণ করতে হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের কৃত্রিম অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হবে, যা অপরিশোধিত তেলের দামকে বিপজ্জনক মাত্রায় বাড়িয়ে দেবে।"
টেক্সাস ও লুইজিয়ানার ভূগর্ভস্থ লবণ গুহায় সংরক্ষিত ‘এসপিআর’ হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় জরুরি অপরিশোধিত তেলের ভান্ডার। সাধারণত বৈশ্বিক যুদ্ধ, বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিশ্ব সরবরাহ চেইনে ধস নামলে এই তেল ছড়া হয়। এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রের এই মজুত ৬৩ কোটি ব্যারেল থেকে কমে একলাফে ৩৫ কোটির নিচে নেমে এসেছিল। আর এবার ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে এসপিআরের মজুত আরও প্রায় ৫ কোটি ব্যারেল কমে বর্তমানে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেলে এসে ঠেকেছে।
কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল ও মে মাসে মার্কিন মজুত থেকে ছাড়া তেলের প্রায় অর্ধেকই বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল বন্ধ হওয়ায় ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো এখন সম্পূর্ণ মার্কিন তেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
সংকট কেবল সরকারি জরুরি মজুতেই সীমাবদ্ধ নেই, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক তেলভান্ডারও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ওকলাহোমার কুশিং কেন্দ্র—যেখানকার তেলের ওপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক ‘ডব্লিউটিআই’ (WTI) তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়, সেখানে গত সাত সপ্তাহে প্রায় ৮৫ লাখ ব্যারেল তেল কমেছে। বর্তমানে কুশিংয়ের মজুত নেমে এসেছে মাত্র ২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেলে, যা একটি রিফাইনারি হাব সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন সীমার কাছাকাছি।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটস’-এর বৈশ্বিক পণ্যকৌশল বিভাগের প্রধান হেলিমা ক্রফট বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাচ্ছে যেখানে সংরক্ষণ ট্যাংকগুলোর তেলের স্তর বিপজ্জনকভাবে নিচে নেমে যেতে পারে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে কোনো সমঝোতা হলে বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি বেগতিক দেখলে হোয়াইট হাউস মার্কিন তেল রপ্তানিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে, যা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমালেও সমগ্র বিশ্ববাজারকে এক ধাক্কায় খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করাবে।
/আশিক
যুক্তরাষ্ট্রকে চরম মূল্য দিতে হবে: গালিবাফ
চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন এবং প্রতিশ্রুতি পূরণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। এই চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য ওয়াশিংটনকে ভবিষ্যতে ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। আজ সোমবার (১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরানি স্পিকার সরাসরি মার্কিন নীতি ও একপেশে পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন।
স্পিকার গালিবাফ তাঁর পোস্টে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে উল্লেখ করেন—ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অন্যায়ভাবে আরোপিত নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা এবং লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক বর্বরতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়াটাই প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র আসলে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। তিনি লিখেছেন:
"নৌ অবরোধ বজায় রাখা এবং লেবাননে গণহত্যাকারী জায়নবাদী শাসনের যুদ্ধাপরাধ বৃদ্ধিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সুস্পষ্ট প্রমাণ। প্রতিটি ভুল সিদ্ধান্তের একটি নির্দিষ্ট চড়া মূল্য থাকে এবং তা একসময় পরিশোধ করতেই হয়।"
এভাবে চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে এর জন্য চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত আসল সত্য সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে তিনি সতর্ক করেন। ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো মুখের কথার বদলে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।
এদিকে, আমেরিকার সাথে চলমান পারমাণবিক চুক্তি (Nuclear Deal) ও সার্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই।
এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচির বিস্তারিত বা খুঁটিনাটি কোনো বিষয় নিয়ে ইরানের সরাসরি আলোচনা চলছে না। পারমাণবিক ইস্যুতে ঠিক কখন ও কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে তা ইরানের খুব ভালো করেই জানা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এই মুহূর্তে তেহরানের প্রধান ও একমাত্র অগ্রাধিকার হচ্ছে চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটানো।" বাঘাইও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের একই অভিযোগ এনে দাবি করেন, এমনকি সোমবার সকালেও মার্কিন ও ইসরায়েলি পক্ষ থেকে চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- বিনামূল্যে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ: ফিফার সাথে সরকারের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে
- ঢাকার শেয়ার বাজারে বড় লাফ, ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেনের রেকর্ড
- দেশের ৯ অঞ্চলে আজ রাতের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস
- ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় সবার আগে আমি বুক পেতে দেবো: জামায়াত আমির
- শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে বড় ভাই ওমর হাদির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে
- প্রয়োজনে রাজপথে নামলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ রাজাকার মুক্ত করা হবে: ইশরাক হোসেন
- আমি না থাকলে আজকের ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকতো না: ডোনাল্ড ট্রাম্প
- নেপালকে বধ করে টানা তৃতীয়বার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ
- জুড়ীতে ভয়াবহ বজ্রপাত: ১৩টি গরু ও ১টি মহিষের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু
- জমি বিরোধের জেরে সাতক্ষীরার ঝায়ামারীতে গৃহবধূকে পথরোধ করে বর্বর হামলা
- দেবিদ্বারে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহর উদ্যোগে বিএনপি নেতার পদপ্রাপ্তি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ
- ভারত খুনি রাষ্ট্র, বিএসএফ খুনি বাহিনী, বেনাপোলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- মহামারি রূপ নিচ্ছে হাম? আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় উদ্বেগজনক বৃদ্ধি
- ইরানি হামলার নিন্দা জানিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ঐক্যের আহ্বান আমিরাতের
- সাতক্ষীরার বসন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি গুরুতর আহত
- পাইকারি ও গ্রাহক উভয় পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম, কার্যকর নতুন মূল্য তালিকা
- ৩ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- তীব্র তাপদাহের পর অবশেষে মিলতে পারে স্বস্তির বৃষ্টির দেখা
- পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ
- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা ও কূটনীতির স্থবিরতায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী
- তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় যেসব পরিবর্তন জরুরি
- জেনে নিন আজ কোন দেশের মুদ্রায় কত টাকা মিলছে
- আওয়ামী লীগ নেতাকে পালাতে ৪ কোটির চুক্তি! এমপি মাসউদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তথ্য
- ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্য যুদ্ধ: শ্রম ইস্যুতে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে বসছে অতিরিক্ত শুল্ক
- জামায়াত আমিরের পিএস-এর দিকেও আঙুল: হাদি হত্যা নিয়ে ওমর হাদির স্ট্যাটাসে চাঞ্চল্য
- পরবর্তী মহাতারকা কে? বিশ্বকাপে নজর থাকবে যে ১০ তরুণের ওপর
- ঈদের আমেজ কাটতেই ‘কারেন্ট’ শক: আজই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম
- কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মেগা ড্রোন হামলা
- তারল্য সংকটে আমানতকারীদের হাহাকার: খেলাপি ঋণের করাল গ্রাসে দেশের ৬১ ব্যাংক
- দেখে নিন ঢাকায় আজ যেসব কর্মসূচি রয়েছে
- জেনে নিন আজকের ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
- বুধবার ঢাকার কোন শপিংমল বন্ধ? দেখুন তালিকা
- বৃদ্ধ মায়ের অবহেলা, ইসলাম কী শিক্ষা দেয়?
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, এক লাফে কমল স্বর্ণের দাম
- গ্রুপ ‘জে’ তে থাকা দলগুলোর চূড়ান্ত স্কোয়াড ও শক্তি বিশ্লেষণ
- ইয়ামালের ১৯ বনাম ওলমোর ১০: জার্সি নম্বরে বড় চমক দিয়ে বিশ্বকাপের দল সাজাল স্পেন
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
- আত্মসমর্পণই হজ: জীবনের বড় শিক্ষা পেলেন দুরেফিশান
- বুড়িচংয়ে বিএনপি নেতার বাড়িতে আগুন: ব্যবসায়ীদের ৮টি কক্ষ পুড়ে ছাই
- ষড়ঋতুর পালাবদলে নতুন সাজে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
- বায়োটেক গবেষণায় আন্তর্জাতিক সাফল্য, জাপানের সম্মাননা পেলেন ড. জান্নাতুল ফেরদৌস
- কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাজীবকে বিদায় সংবর্ধনা
- ধর্মতলায় মমতার আমরণ অনশন: লড়ব না হয় মরব বলে বিজেপিকে চরম হুঁশিয়ারি
- জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি জনগণের ওপর চরম জুলুম: জামায়াত আমির
- ভারতের পুশইন চেষ্টার বিরুদ্ধে মাঠে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন
- বাজেটের মূল দর্শন অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ: বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
- হিজবুল্লাহর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ: কী কথা হলো দুই পক্ষের মধ্যে?
- মেলেনি তৃতীয় ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা: রামিসা হত্যা মামলার রায় এখন সময়ের অপেক্ষা
- বিশ্বকাপের মহড়ায় আজ রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল: প্রতিপক্ষ পানামা
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর: এজেন্ডায় ৯ লাখ কর্মীর ভাগ্য ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, এক লাফে কমল স্বর্ণের দাম
- ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখা যাবে বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচ, নেপথ্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
- ৩ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১ জুন ২০২৬: আজ দিনভর কেমন থাকবে রাজধানীসহ দেশের আবহাওয়া?
- ৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- দুপুরের মধ্যে ৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
- কালিগঞ্জে পৈত্রিক সম্পত্তি ও মৎস্য ঘের দখলে থানায় অভিযোগ
- বৃদ্ধ মায়ের অবহেলা, ইসলাম কী শিক্ষা দেয়?
- আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি ম্যাচের সূচি প্রকাশ: প্রতিপক্ষ হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ড








