মৌলভীবাজার ইনসানিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শুভ উদ্বোধন

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ২০:২২:৫০
মৌলভীবাজার ইনসানিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শুভ উদ্বোধন
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্তের লক্ষ্যে ও উন্নত আধুনিক চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় ও আনন্দঘন পরিবেশে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ১৮ এপ্রিল ২০২৬, শ‌নিবার উদ্বোধন করা হয়েছে মৌলভীবাজার ইনসানিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা আলহাজ্ব আব্দুর রহিম আনসারের সভাপতিত্বে এবং ইনসানিয়া হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুর নূর মোহন ও ফাইন্যান্স ডিরেক্টর আশরাফ আহমেদের যৌথ পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-রাজনগর আসনের সাংসদ এম. নাসের রহমান এমপি। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক খ্যাতনামা আলেম ড. এনায়েত উল্লা আব্বাসী ও মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ মিজানৃর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অতিথিবৃন্দ ছাড়াও এই মহতি পোগ্রামে ডা: রাকিবুল পলাশ, ডা: এনামুর রশিদ দিপু, ডা: ইয়াহিয়া মাহমুদ, ডা: ছাদিক আহমেদ, ইউসুফ আলী, আতাউর রহমান, আমিনুর চৌধুরী, মুহিবুর রহমান রাজু, ইসতিয়াক চৌধুরী ও ইমন আহমেদ সহ অন্যান্য ডিরেক্টর ও শেয়ার হোল্ডার বৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

আধুনিক যন্ত্রপাতি, ও দক্ষ চিকিৎসক ধারা পরিচালিত নতুন এ প্রতিষ্ঠান চালুর ফলে মৌলভীবাজার জেলাবাসী সহজে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অতিথিরা।

মধ্যাহ্নভোজন শেষে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক,সাংবাদিক ও সমাজসেবী সহ আমন্ত্রিত অতিথিদেরকে সাথে নিয়ে ফিতা কেটে ও দোয়ার মাধ্যমে হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়েছে।

ইনসানিয়া স্পেশালাইজড হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মকিস মনসুর এই প্রজেক্ট বাস্তবায়নে ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুর নূর মোহন ও সকল ডিরেক্টর এবং শেয়ার হোল্ডার সহ দেশে বিদেশে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে মৌলভীবাজার জেলাবাসীর সেবার অঙ্গীকারে, মনোরম পরিবেশে ইনসানিয়াতের সাথে মানবতার কল্যাণে নির্ভরতার এক বিশ্বস্ত ঠিকানায় সবসময় মানুষের পাশে থাকার দীপ্ত শপথে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত এই হাসপাতাল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করে ইনসানিয়া হাসপাতালের আগামী দিনের পথচলায় বিশ্বময় মৌলভীবাজার জেলাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।


কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাদক নির্মূলে ইমামদের ভূমিকা বিষয়ক আলোচনাসভা

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৮ ২১:৪১:৪১
কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাদক নির্মূলে ইমামদের ভূমিকা বিষয়ক আলোচনাসভা
ছবি : মোঃ মাসুদ রানা

মাদক নির্মূল ও যুবসমাজকে রক্ষা করতে সমাজের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক অভিভাবক হিসেবে ইমামদের ভূমিকা অপরিসীম। মসজিদ ও ধর্মীয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ইমামরা মাদকের ভয়াবহতা রোধে অত্যন্ত কার্যকর অবদান রাখতে পারেন। আর এই লক্ষ্যে দেবিদ্বার উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতি কেন্দ্রের সভাকক্ষে আজকে হয়ে গেল মাদক নির্মূলে ইমামদের ভূমিকা বিষয়ক আলোচনাসভা।মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব ও মাদক নির্মূলে ইমামদের এগিয়ে আসার লক্ষ্যে দেবিদ্বার পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী হাজী মোহাম্মদ মহসিন এর উদ্যোগ আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার (১৮ জুলাই) দেবিদ্বার উপজেলা মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পৌরসভার সকল মসজিদের ইমাম ও খতিবদের নিয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেবিদ্বার থানা মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা এমরান হোসাইন এর সভাপতিত্বে, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতি জামসেদ হুসাইন হাবিবী এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতি আশরাফুল আলম ওবাইদী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, দেবিদ্বার পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী হাজী মোহাম্মদ মহসিন, আমাদের দেবিদ্বার পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এটিএম সাইফুল ইসলাম মাসুম, মুফতি রাশেদুল ইসলাম, মুফতী আওলাদ হোসেন মুরাদী, হাফেজ মাওলানা মুফতি আব্দুল আহাদ, মুফতি আরিফুল ইসলাম জালালী, মোঃ পারভেজ ভূইয়া প্রমুখ।

সভায় বক্তরা বলেন, মাদক নির্মূল ও যুবসমাজকে রক্ষা করতে সমাজের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক অভিভাবক হিসেবে ইমামদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই জুমার বয়ান ও খুতবায় মাদকের কুফলঃ জুমার নামাজে সমাজের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ একত্রিত হন। ইমাম সাহেবরা জুমার বয়ানে নিয়মিত মাদকদ্রব্যের উইকিপিডিয়া ভয়াবহতা, যেমন—শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি, পারিবারিক অশান্তি এবং সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধির বিষয়গুলো তুলে ধরতে পারেন।

পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি: মাদক সেবনের ফলে পরিবারে যে আর্থিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটে, সে বিষয়ে নারী ইমামরা মা ও গৃহিণীদের সচেতন করতে পারেন। পরিবারকে আগলে রাখতে ও সন্তানদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে তারা ভূমিকা রাখেন।

এছাড়াও আলোচনায় আসন্ন পৌর নির্বাচনে সৎ, আর্দশ ব্যক্তিদের নির্বাচনে সমর্থন দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর আহবান করেন৷ সৎ জনপ্রতিনিধিই একমাত্র মাদক নির্মূল করতে পারবে।


কুমিল্লার ৩ সড়কে লাখো মানুষের ভোগান্তি, ৫ বছরেও নেই সংস্কার

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৮ ২১:৩৮:৪৩
কুমিল্লার ৩ সড়কে লাখো মানুষের ভোগান্তি, ৫ বছরেও নেই সংস্কার
ছবি : মোঃ মাসুদ রানা

কুমিল্লা নগরীর প্রবেশমুখ হিসেবে পরিচিত টমছমব্রিজ-কোটবাড়ি বিশ্বরোড, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন সড়ক এবং ধর্মপুর-ঝাঁগুরঝুলি সড়ক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আবাসিক এলাকার কারণে এই তিনটি সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অথচ প্রায় ৫ বছর ধরে সড়কগুলো ভাঙাচোরা থাকায় বর্তমানে যানবাহন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা এসব সড়ক এখন সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে তৈরি হয় বড় বড় গর্ত। কোথাও পিচের অস্তিত্ব নেই, কোথাও আবার উঠে গেছে ইট-পাথরের খোয়া।

গত সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মূল ফটকের সামনের সড়ক ও ধর্মপুর-ঝাঁগুরঝুলি সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দ। অল্প বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোনটি রাস্তা আর কোনটি গর্ত তা বোঝার উপায় নেই।

প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন যানবাহনের চালক, পথচারী ও হাজার হাজার শিক্ষার্থী। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ বছর ধরেই এ অবস্থা।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনের সড়কের দৃশ্য আরও ভয়াবহ। বড় বড় গর্তের কারণে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা হাজার হাজার রোগী, তাদের স্বজন ও অ্যাম্বুলেন্স চালকরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে অ্যাম্বুলেন্সের গতি কমে যাওয়ায় জরুরি রোগী পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটছে।

হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, "চোখের সামনে হাজার হাজার রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি দেখছি। কিন্তু করার কিছু নেই। এত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অথচ সংস্কার হচ্ছে না।"

এই সড়কগুলো দিয়ে প্রতিদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, বার্ড, কুমিল্লা পলিটেকনিক, সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়, ভিক্টোরিয়া কলেজ, কুমিল্লা সেনানিবাস, বিজিবি সেক্টর, র‌্যাব কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবী যাতায়াত করেন।

এছাড়া ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বৌদ্ধ বিহারসহ কোটবাড়ির পর্যটন এলাকায় যাওয়া-আসার জন্য দেশ-বিদেশের পর্যটকরাও এই সড়ক ব্যবহার করেন। ভাঙা সড়ক ও জলাবদ্ধতার কারণে তাদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, "প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো এই সড়কে চলাচল করতেও ভয় পায়। সড়কের অবস্থা দেখলে মনে হয় না এর কোনো তদারকি সংস্থা আছে।"

কোটবাড়ি এলাকার সিএনজি চালক গোলাম মোস্তফা ও মো. ইয়াসিন মিয়া* বলেন, "যাত্রী উঠলেই গালাগালি করে। প্রতিদিন গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। তিন বছর ধরে সড়কটি এই অবস্থায় আছে। মাঝে কিছু ইট-কংক্রিট দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।"

এ বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, "টমছমব্রিজ থেকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার সড়কসহ অন্যান্য সড়ক সংস্কারের জন্য টেন্ডারের আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বরাদ্দ পেলেই সংস্কার কাজ শুরু হবে।"


শনিবার বন্ধ রাজধানীর বহু মার্কেট, দেখুন তালিকা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৮ ০৯:৫৫:১৯
শনিবার বন্ধ রাজধানীর বহু মার্কেট, দেখুন তালিকা
ছবি : সংগৃহীত

কেনাকাটা, ব্যবসায়িক কাজ কিংবা প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে প্রতিদিনই মানুষের ভিড় থাকে। তবে নির্ধারিত সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ঢাকার অনেক বাজার, শপিং এলাকা ও পাইকারি মার্কেট সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে বন্ধ থাকে। তাই অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি, সময়ের অপচয় এবং যানজটে আটকে গিয়ে ফিরে আসার পরিস্থিতি এড়াতে বের হওয়ার আগে আজ কোন কোন এলাকা বন্ধ থাকবে, তা জেনে নেওয়া জরুরি।

শনিবার রাজধানীর পুরান ঢাকা ও আশপাশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকবে। এসব এলাকায় কেনাকাটা বা ব্যবসায়িক কাজে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আজ যেসব এলাকায় দোকানপাট বন্ধ

আজ সাপ্তাহিক ছুটির কারণে শ্যামবাজার, বাংলাবাজার, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজারীবাগ, দোলাইপাড়, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেণ্ডারিয়া, দয়াগঞ্জ, স্বামীবাগ, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির এলাকা, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, গুলিস্তানের দক্ষিণাংশ, ওয়ারী, আহসান মঞ্জিল এলাকা, লালবাগ, কোতোয়ালি, বংশাল, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, শাঁখারীবাজার এবং চানখারপুল এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

যেসব মার্কেট আজ বন্ধ

শনিবার বন্ধ থাকবে ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট, আজিমপুর সুপার মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠবাজার, চকবাজার, বাবুবাজার, নয়াবাজার, কাপ্তান বাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ইসলামপুরের কাপড়ের দোকান, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট এবং শারিফ ম্যানশন।

বিশেষ করে পাইকারি কাপড়, হার্ডওয়্যার, বৈদ্যুতিক পণ্য, কাঠ, নির্মাণসামগ্রী এবং পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ব্যবসাকেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের খোলার সময় নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আজ বন্ধ থাকবে যে দর্শনীয় স্থান

রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান শিশু একাডেমি জাদুঘরও আজ সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বন্ধ থাকবে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি শুক্রবার ও শনিবার দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকে। রোববার থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাদুঘরটি খোলা থাকে।

-রফিক


দেবিদ্বারে আ.লীগ নেতাদের পুনর্বাসন করছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ?

মাসুদ রানা
মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৭ ২৩:০৩:৪৬
দেবিদ্বারে আ.লীগ নেতাদের পুনর্বাসন করছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ?
হাসনাত আব্দুল্লাহর সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের এক মতবিনিময় সভা। ছবি- মাসুদ রানা, কুমিল্লা প্রতিনিধি।

কুমিল্লার দেবিদ্বারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বর্তমান কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের এক মতবিনিময় সভাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দলীয় পুনর্বাসনের এই কথিত উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে উপজেলা বিএনপি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলার সংচাইল এলাকায় অবস্থিত বড়শালঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আউয়াল চেয়ারম্যানের ‘প্রভাতী ফিসারিজ’-এর অফিস কক্ষে এই আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মতবিনিময় সভায় বড়শালঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আউয়াল চেয়ারম্যান ছাড়াও সাধারণ সম্পাদক আহসানুর রশিদ শামীম, ছোটশালঘর আওয়ামী লীগের নেতা মো. শাজাহান মাস্টারসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিতর্কিত নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনসেবাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ সময় তিনি উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যার বিবরণ নিজ হাতে একটি ডায়েরিতে নোট করেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এই দৃশ্য প্রকাশ পাওয়ার পরই মূলত ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে।"মুখের কথা ও কাজের মিল নেই" — ফুঁসে উঠেছে বিএনপিআওয়ামী লীগ নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।"হাসনাত আব্দুল্লাহর মুখের কথার সাথে কাজের কোনো মিল নেই। সে জনসমক্ষে বা মাঠে বলে একরকম, আর ভেতরে কাজ করে অন্যরকম। সে কীভাবে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে টেবিল বৈঠক করে? জনগণ তার এমন দ্বিমুখী আচরণে চরমভাবে ক্ষুব্ধ।"— জসিম উদদীন সরকার, আহ্বায়ক, দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপিঅনুরূপ ক্ষোভ প্রকাশ করে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন:"হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বড় বড় গরম বক্তব্য দেন, আর দেবিদ্বারে এসে সেই আওয়ামী লীগকে নিয়েই ঘর-সংসার করছেন! বর্তমানে তার দলের ৮০% লোকই হলো সুযোগসন্ধানী আওয়ামী লীগের নেতা।"

ফোন ধরেননি অভিযুক্তরাএই বৈঠকের নেপথ্য কারণ জানতে বড়শালঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আউয়াল চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠকের বিষয়ে জানতে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর হোয়াটসঅ্যাপে খোদে বার্তা (Message) পাঠানো হলেও তাঁর কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি এবং ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।


ঢাকার দোরগোড়ায় ৭.৫ মাত্রার মহা-ভূমিকম্পের শঙ্কা, ৩-৫ শত বছরের চক্র এখন পূর্ণ

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৬ ২১:৪৪:৫৮
ঢাকার দোরগোড়ায় ৭.৫ মাত্রার মহা-ভূমিকম্পের শঙ্কা, ৩-৫ শত বছরের চক্র এখন পূর্ণ
ছবি : সংগৃহীত

ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞানীদের গভীর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৩-৫ শত বছরের একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ‘রিটার্ন পিরিয়ড’ বা প্রাকৃতিক পুনরাবৃত্তির দীর্ঘ চক্রটি বর্তমানে প্রায় পূর্ণতার শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছে। এর ফলে রাজধানী ঢাকা ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যেকোনো মুহূর্তে ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রার একটি অতি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হানার চরম ও উদ্বেগজনক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত একাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গবেষণা এবং জরিপে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, এ ধরনের বড় মাপের কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলে রাজধানী ঢাকা নজিরবিহীন প্রাণহানি, মানবিক বিপর্যয় ও ব্যাপক অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি হতে পারে।

দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে বলছেন, ঢাকা মহানগরীর অনিয়ন্ত্রিত ও সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অত্যন্ত দুর্বল ও ত্রুটিপূর্ণ ভবন নির্মাণ শৈলী এবং আধুনিক দুর্যোগ মোকাবিলার পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির অভাব এই সামগ্রিক ঝুঁকিকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা ৭.২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বিশ্বজুড়ে যেমন নতুন করে সতর্কতা জারি হয়েছে, ঠিক তেমনি বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহর ঢাকাতেও সম্ভাব্য ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদদের মাঝে নতুন করে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এর আগে গত ২১ নভেম্বর নরসিংদীর মাধবদীকে উপকেন্দ্র করে উৎপন্ন হওয়া ৫.৭ মাত্রার একটি মাঝারি ধরনের ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছিল, যার প্রভাবে বহু বহুতল ভবন বিপজ্জনকভাবে হেলে পড়ে এবং সারা দেশে ১০ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানিসহ শত শত মানুষ গুরুতর আহত হন।

পরবর্তীতে নরসিংদীর ওই ঘটনার চেয়ে কম মাত্রার একাধিক ছোট ছোট কম্পন দেশের বিভিন্ন স্থানে রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ ও ভূতাত্ত্বিকদের মতে, ঘন ঘন হওয়া এসব ছোট ছোট কম্পন আসলে মাটির নিচে জমে থাকা এক বিশাল ও ভয়ানক শক্তির সাময়িক বহিঃপ্রকাশ, যা মূলত যেকোনো মুহূর্তে একটি মহা-ভূমিকম্পের আগমনী বা আগাম বার্তা দিচ্ছে।

ভৌগোলিক ও ভূগর্ভস্থ গঠন বিন্যাস অনুযায়ী বাংলাদেশ মূলত তিনটি অত্যন্ত গতিশীল ও সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের (ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান এবং বার্মা প্লেট) ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগস্থলের ওপর অবস্থান করছে। ঢাকার খুব কাছাকাছিই অবস্থান করছে বিপজ্জনক ‘মধুপুর ফল্ট’ এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সিলেট সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে অত্যন্ত সক্রিয় ‘ডাউকি ফল্ট সিস্টেম’।

শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এই প্রধান ফল্ট লাইনগুলো থেকে বড় ধরনের কোনো জমে থাকা শক্তি বা চাপ প্রাকৃতিকভাবে নির্গত হয়নি, যার বৈজ্ঞানিক অর্থ হচ্ছে মাটির নিচে ফল্টগুলোতে প্রতিনিয়ত তীব্র ও ভয়ংকর চাপের সৃষ্টি হচ্ছে যা যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত হতে পারে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের খ্যাতনামা অধ্যাপক ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী এই কাঠামোগত বিপদের গভীরতা তুলে ধরে বলেন, ঢাকার একটি বিশাল অংশ পূর্বের প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা খাল, বিল ও জলাশয় বালু বা নরম পলিমাটি দিয়ে ভরাট করে বহুতল আবাসন গড়ে তোলা হয়েছে।

বিজ্ঞানসম্মতভাবে এ ধরনের নরম মাটিতে ৭ মাত্রার তীব্র ঝাঁকুনি লাগলে মাটি তার নিজস্ব ধারণ ক্ষমতা সম্পূর্ণ হারিয়ে তরল পদার্থের মতো আচরণ শুরু করে, যাকে প্রকৌশল বিদ্যায় ‘লিকুইফেকশন’ বলা হয়। এর ফলে এই নরম মাটির ওপর অপরিকল্পিতভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বহুতল ভবনগুলো মুহূর্তের মধ্যে মাটির নিচে দেবে যেতে পারে অথবা একটি আরেকটির ওপর হেলে পড়ে ধসে পড়তে পারে।

ড. আনসারী আরও উল্লেখ করেন, আধুনিক বিজ্ঞান দিয়ে ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট সময় আগে থেকে বলা কোনোভাবেই সম্ভব নয়, তাই একমাত্র পথ হচ্ছে আঘাত হানার পূর্বেই যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে বিগত দিনগুলোতে বাংলাদেশে এই জীবনরক্ষাকারী প্রস্তুতির ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর কার্যক্রম বা জাতীয় উদ্যোগ দেখা যায়নি, কারণ এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য যে ধরনের সুদৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন ছিল, তা বিগত সরকারের নীতিনির্ধারকদের মাঝে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা নতুন সরকারের কাছে বিশেষজ্ঞদের বিশেষ প্রত্যাশা, তারা যেন কালক্ষেপণ না করে এই জাতীয় সংকট মোকাবিলায় দ্রুত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কারণ বৈশ্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ৯০ শতাংশ মানুষের মৃত্যু ও ক্ষতি হয় মূলত ভবন ধসে পড়া বা কংক্রিটের নিচে চাপা পড়ার কারণে। বর্তমানে ঢাকাসহ সারা দেশে ৪ থেকে ১০ তলা বিশিষ্ট প্রায় ২০ লাখ ভবন রয়েছে, যাদের বড় অংশই ভূমিকম্প সহনশীল নয় এবং এই চরম বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে চলা আত্মঘাতী হবে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান বা ড্যাপ (DAP)-এর অফিশিয়াল মাস্টারপ্ল্যানের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীতে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২১ লাখ স্থাপনা বা ভবন রয়েছে। রাজউকের ঝুঁকি মানচিত্র অনুযায়ী, যদি ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ঢাকাকে কেন্দ্র করে আঘাত হানে, তবে শহরের দুর্বল ও ত্রুটিপূর্ণ কাঠামোর কারণে প্রায় ৭২ হাজার ভবন তাৎক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ ধসে পড়বে। এর ফলে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষের নির্মম প্রাণহানি ঘটবে এবং পরবর্তীতে উদ্ধারকাজের অভাব ও গ্যাস-বিদ্যুতের আগুনে এই মৃত্যুর মিছিল পর্যায়ক্রমে আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

/আশিক


রাত ১টার মধ্যে ঢাকাসহ ১৪ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৬ ২০:২৫:০৪
রাত ১টার মধ্যে ঢাকাসহ ১৪ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা
ছবি : সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোতে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। এর ফলে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ১টার মধ্যে দেশের ১৪টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় মাঝারি থেকে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত এক বিশেষ পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী—রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বজ্রপাতসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে এসব এলাকার সব নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সারা দেশের আবহাওয়ার সাধারণ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে—রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

একই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

/আশিক


জিলা স্কুল থেকে বেরোবি গেট: ১৬ জুলাই রংপুরের রাজপথে পুলিশের বর্বরোচিত হামলা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৬ ১৮:৪৩:৩৫
জিলা স্কুল থেকে বেরোবি গেট: ১৬ জুলাই রংপুরের রাজপথে পুলিশের বর্বরোচিত হামলা
কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন আবু সাঈদ। পুরোনো ছবি

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও তার আশপাশের এলাকা কোটা সংস্কার আন্দোলনের স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে বিশ্ববিদ্যালয় ১ নম্বর গেটের সামনে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ার পাশাপাশি নির্বিচারে লাঠিচার্জ শুরু করে। ওই রণক্ষেত্রে পুলিশের তাক করা অস্ত্রের মুখে একা দুই হাত প্রসারিত করে বুক চিতিয়ে দাঁড়ান ইংরেজি বিভাগের দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের ছোড়া বুলেটের আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দুপুর ৩টা ৫ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের ট্রলিতে পড়ে থাকা আবু সাঈদের নিথর দেহ দেখে সহপাঠী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং দেশের আইন-আদালতের ওপর আস্থা হারিয়ে রাজপথেই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার শপথ নেন। সেই অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার না করে ট্রলিতেই সাঈদের মরদেহ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে এক মৌন ও ক্ষুব্ধ মিছিল বের করেন। মিছিলটি রংপুর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় পার হওয়ার পর পুলিশ বাধা দেয়। পরে পুলিশ লাইন্স মোড়ে প্রায় ৪০ জন পুলিশ সদস্যের একটি দল এসে শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগ করে জোরপূর্বক মরদেহটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়কের ওপর শুয়ে পড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।

এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল আরও কয়েক দিন আগে থেকেই। গত ১১ জুলাই বেরোবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ওই দিন ১ নম্বর গেটের কাছে মিছিল পৌঁছালে আন্দোলনকারীদের ব্যানার কেড়ে নিয়ে আবু সাঈদসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এরপর ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে সারা দেশের মতো রংপুরের ক্যাম্পাসগুলোও ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ১৫ জুলাই বিকেলে ছাত্রলীগ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বেরোবি গেটে উসকানিমূলক শোডাউন দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনকারীদের নিয়ে কটূক্তি করা হয়, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জেদ আরও বাড়িয়ে দেয়।

১৬ জুলাই সকালে জিলা স্কুলের সামনে সাধারণ ছাত্ররা জড়ো হয়ে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে টাউন হলের দিকে রওনা দিলে প্রথম দফায় পুলিশ লাইন্স মোড়ে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা মডার্ন মোড় হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের দিকে এগোতে থাকলে পুলিশ আবারও তাদের পথ আটকায়। একপর্যায়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড মারতে শুরু করে। ঠিক তখনই পুলিশের বন্দুকের নলের সামনে বুক পেতে দেন আবু সাঈদ। উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রিকশা ও পরে অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর শরীর নিথর হয়ে যায়।

এদিকে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পার হলেও বিচার প্রক্রিয়া ও রায় কার্যকর না হওয়ায় গভীর অসন্তোষ ও চরম হতাশা প্রকাশ করেছে তাঁর পরিবার। সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন জানান, আদালতের সিদ্ধান্তের পরও রায় দ্রুত কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি তারা দেখতে পাচ্ছেন না। একই রকম আক্ষেপ প্রকাশ করে তাঁর মা মনোয়ারা বেগম বলেন, বাড়িতে এখনো বহু মানুষের ভিড় হয়, গণমাধ্যমকর্মীরা আসেন, কিন্তু তাঁর বুকের মানিক আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। প্রকাশ্য দিবালোকে সন্তান হারানোর এই ক্ষত আজীবন তাদের পরিবারকে বয়ে বেড়াতে হবে।

/আশিক


ঘনীভূত হচ্ছে বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ, ৫ দিনের আবহাওয়া নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ২১:৫৯:৩৫
ঘনীভূত হচ্ছে বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ, ৫ দিনের আবহাওয়া নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
ছবি : সংগৃহীত

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি লঘুচাপ আরও শক্তিশালী ও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে সারা দেশেই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও স্পষ্ট আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত বিশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাসে এই সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় এই লঘুচাপটি সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্তমানে আরও ঘনীভূত হওয়ার অনুকূল অবস্থায় রয়েছে। তিনি লঘুচাপের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে বলেন, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষটি বর্তমানে ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর ফলে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে।

১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যার পূর্বাভাস

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারণে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

১৭ থেকে ১৯ জুলাই (শুক্রবার থেকে রবিবার) পর্যন্ত পূর্বাভাস

১৭ ও ১৮ জুলাই (শুক্রবার ও শনিবার): এই দুই দিন দেশের আবহাওয়ার তেমন কোনো বড় পরিবর্তন হবে না। রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

১৯ জুলাই (রবিবার): লঘুচাপের প্রভাবে এই দিন রংপুর বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়বে। পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকাতেও দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে এবং ওই দিন দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

আগামী ৫ দিনের আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী আভাস

আবহাওয়া অধিদপ্তর বিশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে, পরবর্তী পাঁচ দিনে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও ব্যাপক আকারে বাড়তে পারে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী রূপ নিলে এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে উপকূলীয় ও পাহাড়ি জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা ও বন্যা পরিস্থিতির ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।

/আশিক


৩ দফা দাবিতে ঢাকাজুড়ে পরীক্ষার্থীদের লংমার্চ, শাহবাগ মোড়ে তীব্র উত্তেজনা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ২০:১০:১১
৩ দফা দাবিতে ঢাকাজুড়ে পরীক্ষার্থীদের লংমার্চ, শাহবাগ মোড়ে তীব্র উত্তেজনা
ছবি : সংগৃহীত

টানা বৈরী আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার মুখে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত এবং নতুন রুটিন প্রকাশের দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীরা। বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই মোড় দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে আশপাশের সড়কগুলোতে এবং তীব্র যানজটে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ ও জরুরি রোগীবাহী যানবাহন।

এর আগে দুপুরের দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে জড়ো হয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। এরপর সেখান থেকে তারা সচিবালয় অভিমুখে একটি লংমার্চ শুরু করেন। মিছিলটি হাইকোর্ট এলাকার শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা সেখানে সন্ধ্যা প্রায় ৬টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

তবে সচিবালয়ের প্রধান প্রবেশমুখে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যারিকেডের মুখে পড়লে শিক্ষার্থীরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। সেখানে বাধা পেয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে পুনরায় শাহবাগ মোড়ে ফিরে যান এবং নতুন করে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামীকালকের পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর অবস্থান কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় অবস্থানরত এক শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের অনেকের আগামীকাল যেহেতু পরীক্ষা আছে, তাই এখানের কর্মসূচি আমরা আজকের মতো শেষ করছি। তবে আমাদের তিন দফা দাবি বহাল থাকবে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে।’

শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক অবরোধের কারণে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, বাংলামোটর, কাকরাইল, টিএসসি এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নজিরবিহীন যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে থাকায় অফিসফেরত সাধারণ যাত্রী ও মুমূর্ষু রোগীদের অবর্ণনীয় ভোগান্তি পোহাতে হয়। তীব্র যানজট এড়াতে অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হতে দেখা যায়।

যানজটে আটকে থাকা শাহীন নামের এক ভুক্তভোগী যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সকাল থেকে এখন পর্যন্ত পুরো ঢাকায় স্থবির অবস্থা। একেক সময় একেক জায়গায় রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ভোগান্তিতে ফেলার কোনো মানে হয় না।’

উর্মিলা নামের আরেক যাত্রী বাসের ভেতর থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই প্রচণ্ড গরমে ছোট বাচ্চা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের মধ্যে বসে আছি। সাধারণ মানুষের কষ্ট দেখার কেউ নেই।’

এদিকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে শাহবাগ ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: