এক হাজার বছর আগের বিস্ফোরণ আজও কাঁপিয়ে দিচ্ছে মহাশূন্য

মহাকাশ যে আসলে স্থির কোনো ক্যানভাস নয়, বরং নিরন্তর পরিবর্তনশীল এক রণক্ষেত্র—নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ তা আবারও প্রমাণ করল। প্রায় এক হাজার বছর আগে ঘটা এক প্রলয়ংকরী নক্ষত্র বিস্ফোরণের অবশিষ্টাংশ ‘ক্র্যাব নীহারিকা’ আজও মহাশূন্যে অবিশ্বাস্য গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। হাবলের গত ২৫ বছরের ছবি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এই নীহারিকাটি কেবল বড়ই হচ্ছে না, বরং প্রতিনিয়ত বদলে ফেলছে নিজের অবয়ব।
ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির তথ্যমতে, ১০৫৪ সালে একটি বিশাল তারার মৃত্যুর মাধ্যমে এই নীহারিকাটির জন্ম হয়। সেই বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে টানা কয়েক সপ্তাহ এটি দিনের বেলাতেও খালি চোখে দেখা গিয়েছিল। বর্তমানে পৃথিবী থেকে প্রায় ৬,৫০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই নীহারিকাটির ভেতরের গ্যাস ও ধূলিকণা ঘণ্টায় প্রায় ৩.৪ মিলিয়ন মাইল বেগে বাইরের দিকে ছুটে চলছে। বিজ্ঞানীদের মতে, নীহারিকার কেন্দ্রে থাকা অত্যন্ত শক্তিশালী ও দ্রুত ঘূর্ণায়মান ‘পালসার’ থেকে আসা প্রচণ্ড শক্তিই চারপাশের গ্যাসকে এভাবে ঠেলে বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছে।
গবেষক উইলিয়াম ব্লেয়ারের মতে, আকাশের স্থির রূপটি আসলে একটি বিভ্রম; হাবলের দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে মহাকাশ প্রতি মুহূর্তে নড়ছে এবং বাড়ছে। এই গবেষণাটি জ্যোতির্বিজ্ঞানে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ একটি নক্ষত্রের মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া নীহারিকা কীভাবে সময়ের সাথে বিবর্তিত হয়, তা এখন মানুষের ক্ষুদ্র জীবনকালেই সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। এই অবিরাম বিস্তার আমাদের মহাবিশ্বের গতিশীল প্রকৃতির এক জীবন্ত দলিল।
/আশিক
নাসায় একের পর এক বিজ্ঞানীর রহস্যমৃত্যু: কেউ বারান্দায় খুন, কেউ নিখোঁজ!
নাসা এবং পারমাণবিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের একের পর এক রহস্যময় মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির (JPL) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী মাইকেল হিকসের মৃত্যু এই রহস্যের তালিকায় নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে।
হিকস নাসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু মিশন যেমন—ডার্ট এবং নিয়ার আর্থ অ্যাস্টেরয়েড ট্র্যাকিং-এর সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে তাঁর মৃত্যু হলেও এখন পর্যন্ত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করাটা জনমনে গভীর সন্দেহ তৈরি করেছে।
রহস্যের জাল আরও ঘনীভূত হয় যখন দেখা যায় তাঁর সহকর্মী ফ্র্যাঙ্ক মাইওয়াল্ডও ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই মারা যান। এখানেই শেষ নয়, লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি থেকে শুরু করে ফিউশন শক্তি গবেষক এবং ক্যানসার গবেষকদের নিখোঁজ ও নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো কোনো একটি অদৃশ্য যোগসূত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এমনকি জেপিএলের সাবেক পরিচালক মোনিকা রেজার নিখোঁজ হওয়া এবং জ্যোতিঃপদার্থবিদ কার্ল গ্রিলমেয়ারের নিজ বাড়ির বারান্দায় খুন হওয়া মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও ভাবিয়ে তুলছে।
এফবিআইয়ের সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ক্রিস সুয়েকার এই ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, যেহেতু এই বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রযুক্তি এবং মহাকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে কাজ করছিলেন, তাই বিদেশি কোনো শক্তির সম্পৃক্ততা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এতজন মেধাবী বিজ্ঞানীর প্রস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: ডেইলি মেইল
যুক্তরাষ্ট্রে ওপেনএআই সিইওর বাসায় হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যানের বাসভবনে মলোটভ ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ঘটা এই হামলায় অল্টম্যানের বাড়ির গেটে আগুন ধরে যায়। এর মাত্র এক ঘণ্টা পর হামলাকারী যুবক ওপেনএআই-এর সদর দপ্তরে গিয়েও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
২০ বছর বয়সী ওই যুবক কেন এই হামলা চালিয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় কেউ আহত না হলেও অল্টম্যান ও তাঁর কোম্পানির নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্যাম অল্টম্যান এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছেন, তাঁর কোম্পানিকে নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ এবং সমালোচনামূলক নিবন্ধের কয়েক দিনের মাথায় এই হামলা চালানো হলো। ধারণা করা হচ্ছে, ‘দ্য নিউ ইয়র্কার’-এর একটি প্রতিবেদন যেখানে ওপেনএআই-এর পেন্টাগন চুক্তি এবং নিরাপত্তা ঘাটতির সমালোচনা করা হয়েছিল, সেটিই হামলাকারীকে উসকে দিয়ে থাকতে পারে।
অল্টম্যান স্বীকার করেছেন যে তিনি আগে এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব দেননি, কিন্তু এখন নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে ভাবছেন। তিনি এআই নিয়ে মানুষের যৌক্তিক আশঙ্কার কথা স্বীকার করে সবার জন্য উন্মুক্ত ও নিরাপদ প্রযুক্তির আহ্বান জানান।
বর্তমানে ওপেনএআই একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পেন্টাগনের সঙ্গে ৫০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির কারণে কোম্পানিটি তীব্র জনরোষের মুখে পড়েছে, যেখানে অভিযোগ উঠেছে যে তাদের প্রযুক্তি গোপন সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হতে পারে।
এছাড়া ইলন মাস্কও অল্টম্যানের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছেন, যেখানে তিনি অল্টম্যানকে পদ থেকে সরানোর দাবি তুলেছেন।
এর আগে পেন্টাগন চুক্তির প্রতিবাদে ওপেনএআই অফিসের সামনে কর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন এবং ‘স্টপ এআই’ নামক সংগঠন অফিসের গেট অবরোধ করেছিল। সব মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ এবং নিরাপত্তা নিয়ে কোম্পানিটি এখন ত্রিমুখী চাপের মুখে।
সূত্র: আরটি
সাবধান! ফোনের এই অ্যাপগুলো এখনই মুছে ফেলুন, না হলে সব শেষ
স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও অসাবধানতাবশত ভুল অ্যাপ ইনস্টল করা ডেকে আনতে পারে চরম বিপদ। গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে থাকা সব অ্যাপই যে নিরাপদ, এমন ধারণা ভুল। সম্প্রতি সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু জনপ্রিয় অ্যাপের মধ্যে ক্ষতিকর ম্যালওয়্যারের উপস্থিতি পেয়েছেন, যা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি থেকে শুরু করে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণও নিতে পারে। হ্যাকাররা অনেক সময় আসল অ্যাপের আদলে নকল বা ক্লোন অ্যাপ তৈরি করে ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের পক্ষে চেনা কঠিন।
বিপজ্জনক অ্যাপগুলোর তালিকায় শুরুতেই রয়েছে বেশ কিছু ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং টিকটক ক্লোন অ্যাপ। যেমন, একটি নির্দিষ্ট ক্রিপ্টো অ্যাপ ইতিমধ্যে ১০ হাজারেরও বেশিবার ডাউনলোড হয়েছে, যা আসলে ব্যবহারকারীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার জন্য তৈরি। এছাড়া টিকটকের নকল সংস্করণগুলো আপনার অনলাইন লেনদেন ও ব্যাংকিং তথ্য হ্যাক করার ক্ষমতা রাখে।
তালিকায় আরও আছে হোয়াটসঅ্যাপ স্টিকার মেকার, আর্ট ফিল্টার এবং জিপিএস লোকেশন ফাইন্ডার। এই অ্যাপগুলো আপনার ফোনের গ্যালারি, লোকেশন এবং কন্টাক্ট লিস্টের ওপর নজরদারি চালিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য পাচার করে দেয়। এমনকি 'আর্ট গার্লস ওয়ালপেপার এইচডি' এবং 'স্মার্ট কিউআর ক্রিয়েটর'-এর মতো সাধারণ মনে হওয়া অ্যাপগুলোও এখন ম্যালওয়্যার ছড়ানোর অন্যতম মাধ্যম।
বিপদ এড়াতে নতুন কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার আগে অবশ্যই সেটির ডেভেলপারের নাম, ইউজার রিভিউ এবং ডাউনলোডের সংখ্যা দেখে নেওয়া উচিত। কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার সময় যদি সেটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে ফোনের অডিও, ভিডিও, ক্যামেরা বা লোকেশনের পারমিশন চায়, তবে সতর্ক হতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এই তালিকার কোনো অ্যাপ যদি আপনার ফোনে থাকে, তবে দেরি না করে সেগুলো এখনই আনইনস্টল করুন এবং ফোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি ভালো মানের অ্যান্টি-ভাইরাস ব্যবহার করুন।
/আশিক
চাঁদের ওপারে নতুন বিশ্ব রেকর্ড: ৪ লাখ কিলোমিটার ছাড়িয়ে ফিরছে আর্টেমিস-২
নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী চাঁদ প্রদক্ষিণ শেষ করে সফলভাবে পৃথিবীর পথে ফিরতে শুরু করেছেন। এই অভিযানের মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হলো। নাসা জানিয়েছে, এই চার নভোচারী পৃথিবীর বাইরে মহাকাশের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে পৌঁছানোর নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন, যা এর আগে কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
বিস্ময়কর এই রেকর্ড গড়ার মুহূর্তটিতে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চাঁদের সবচেয়ে দূরবর্তী অংশে অবস্থানের সময় পৃথিবীর সঙ্গে নভোচারীদের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৪০ মিনিট কোনো সংকেত না পাওয়ার পর পুনরায় সংযোগ স্থাপিত হলে স্বস্তি ফিরে আসে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে। যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের পর অভিযাত্রী ক্রিস্টিনা কচ উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, "পৃথিবীর সঙ্গে আবার যোগাযোগ করতে পেরে দারুণ লাগছে।"
এই যাত্রাপথে নভোচারীরা আরও এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হন। মহাকাশযানটি যখন চাঁদের পৃষ্ঠের কয়েক হাজার মাইলের মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করছিল, তখন তাঁরা সরাসরি একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পান। উল্লেখ্য, গ্রিনিচ মান সময় সোমবার বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে আর্টেমিস-২ মহাকাশযানটি চাঁদের পেছন দিকের সবচেয়ে দূরবর্তী বিন্দুতে পৌঁছায়, যা মানব ইতিহাসের নতুন রেকর্ড হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
এর আগে ১৯৭০ সালের এপ্রিলে নাসার অ্যাপোলো-১৩ মিশনের নভোচারীরা পৃথিবী থেকে ৪ লাখ ১৭১ কিলোমিটার (প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল) দূরে গিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। দীর্ঘ ৫৬ বছর পর আর্টেমিস-২ মিশনের মাধ্যমে সেই রেকর্ড ভেঙে মহাকাশ বিজ্ঞানে এক নতুন যুগের সূচনা করলেন বর্তমানের এই চার সাহসী অভিযাত্রী।
সূত্র: বিবিসি
চাঁদের ‘অন্ধকার অংশ’ দেখতে যাচ্ছে মানুষ: ৫০ বছর পর প্রথম রোমাঞ্চকর যাত্রা
চাঁদে মানুষের পদার্পণের অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও কেন এখনো সেখানে ফিরে যাওয়া সম্ভব হয়নি, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল দীর্ঘদিনের। ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনের মাধ্যমে নীল আর্মস্ট্রংয়ের সেই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের পর থেকে প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি ঘটলেও, ২০২৬ সালে এসেও আমরা কেবল 'আর্টেমিস' মিশনের প্রস্তুতির স্তরে রয়েছি।
পদার্থবিজ্ঞানী মিচিও কাকুর মতে, বর্তমান স্মার্টফোনের কম্পিউটিং ক্ষমতা অ্যাপোলো মিশনের পুরো নাসা দলের চেয়েও বেশি। তবুও ২০২৮ সালের আগে চাঁদের পৃষ্ঠে মানুষের পা রাখার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই বিলম্বের নেপথ্যে কেবল প্রযুক্তি নয়, বরং রাজনীতি, অর্থায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার এক জটিল সমীকরণ কাজ করছে।
স্মরণীয় সেই চন্দ্রবিজয় মূলত ছিল স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াই। তৎকালীন মার্কিন সরকার নাসার জন্য ফেডারেল বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ বরাদ্দ দিয়েছিল, যা ২০২৬ সালে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ০.৩৫ শতাংশে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল রিচের মতে, বৈজ্ঞানিক কারণের চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই তখন প্রাধান্য পেয়েছিল।
১৯৭২ সালের পর যখন খরচের বোঝা আকাশছোঁয়া হয়ে যায়, তখন নাসার মনোযোগ চাঁদের চেয়ে সাশ্রয়ী 'পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ' বা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের দিকে সরে আসে। দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীল রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং তহবিলের অভাবে পরবর্তী দশকগুলোতে চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন স্তিমিত হয়ে পড়ে।
নাসার বর্তমান 'আর্টেমিস' কর্মসূচি সেই পুরনো স্বপ্নকে নতুনভাবে এবং আরও টেকসই পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। ৯৩ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল প্রকল্পে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি অংশীদারিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইলন মাস্কের স্পেসএক্স এবং জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ল্যান্ডার তৈরির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।
তবে এবারের লক্ষ্য কেবল চাঁদে নামা নয়, বরং সেখানে একটি স্থায়ী ঘাঁটি এবং কক্ষপথে চন্দ্র মহাকাশ স্টেশন তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানববাহী অভিযানের সোপান হিসেবে কাজ করবে। ২০২৮ সালের লক্ষ্যমাত্রাটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী, কারণ ল্যান্ডার ও উন্নত স্পেসস্যুট প্রস্তুতে এখনো কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ও বিলম্ব রয়ে গেছে।
চাঁদে নতুন করে এই আগ্রহের পেছনে আবার শুরু হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। এবার প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে রয়েছে চীন, যারা ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছে। এই অঞ্চলে দুর্লভ খনিজ সম্পদ এবং জলের অস্তিত্ব থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়েই সেখানে আধিপত্য বজায় রাখতে চায়।
যদিও জাতিসংঘের মহাকাশ চুক্তি অনুযায়ী চাঁদের মালিকানা কোনো দেশের নয়, তবে সেখানে অবস্থান ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। ব্রিটিশ নভোচারী হেলেন শারম্যানের মতে, মালিকানা না থাকলেও সেখানে দীর্ঘকাল অবস্থান করার অধিকার দেশগুলোর রয়েছে।
আর্টেমিস-২ মিশনটি চাঁদে অবতরণ না করলেও এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে যাচ্ছে। ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর রিড ওয়াইজম্যান ও ক্রিস্টিনা কচের মতো চার নভোচারী সশরীরে চাঁদের সেই রহস্যময় 'অন্ধকার অংশ' বা দূরবর্তী গোলার্ধ দেখার সুযোগ পাবেন। চীন ও ভারত ইতিমধ্যে মানবরহিত যানের মাধ্যমে এই অঞ্চলটি অন্বেষণ করলেও, মানুষের চোখে এটি দেখার অভিজ্ঞতা হবে অনন্য।
প্রাচীন লাভা প্রবাহ আর বিশাল গর্তে ঘেরা এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক গঠন বিশ্লেষণ ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদী মিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের তৈরি কম্পিউটিং ক্ষমতা যতই বাড়ুক, নভোচারী ক্রিস্টিনা কচের ভাষায়— 'মানুষের চোখই হলো অন্যতম সেরা বৈজ্ঞানিক যন্ত্র', যার মাধ্যমে মানবজাতি আবারও মহাকাশ জয়ের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
হৃৎস্পন্দনই এখন আপনার পাসওয়ার্ড! ডিজিটাল নিরাপত্তায় নতুন বিপ্লব
অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগ-ইন করার ঝামেলার দিন বুঝি এবার শেষ হতে চলল। পাসওয়ার্ড মনে রাখা বা বারবার ফেস স্ক্যান করার পরিবর্তে এখন আপনার হৃৎস্পন্দন আর শ্বাস-প্রশ্বাসের কম্পনই হবে আপনার ডিজিটাল চাবিকাঠি। নিউ জার্সি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, টেম্পল ইউনিভার্সিটি এবং টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটির গবেষকদের যৌথ প্রচেষ্টায় উদ্ভাবিত হয়েছে ‘ভাইটাল-আইডি’ (Vital-ID) নামের এক বৈপ্লবিক প্রযুক্তি।
এই সিস্টেমটি মূলত ব্যবহারকারীর অজান্তেই তার মাথার খুলির ভেতর তৈরি হওয়া সূক্ষ্ম কম্পনের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে, যা প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপের মতোই অনন্য। ২০২৫ সালের এসিএম কনফারেন্স অন কম্পিউটার অ্যান্ড কমিউনিকেশনস সিকিউরিটিতে প্রথম পরিচিতি পাওয়া এই প্রযুক্তিটি বিশেষ করে ‘এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি’ (XR) বা ভার্চ্যুয়াল জগতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গবেষকদের মতে, ভাইটাল-আইডি প্রযুক্তিটি মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দনের ফলে উৎপন্ন কম্পন ব্যবহার করে, যা ঘাড়ের মধ্য দিয়ে মাথার খুলিতে পৌঁছায়। যেহেতু প্রত্যেকের হাড়ের গঠন এবং টিস্যু আলাদা, তাই এই কম্পনের ধরনও ভিন্ন হয়।
রুটগার্স ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার প্রকৌশলী ইয়িনইয়িং চেন জানিয়েছেন, এই সিস্টেমটি চালানোর জন্য বাড়তি কোনো হার্ডওয়্যারের প্রয়োজন নেই; আধুনিক হেডসেটগুলোতে থাকা মোশন সেন্সর এবং বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করেই এটি কাজ করতে সক্ষম।
এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি বা ‘এক্সআর’ (ভার্চ্যুয়াল, অগমেন্টেড ও মিক্সড রিয়েলিটির সমন্বয়) প্রযুক্তি যখন স্বাস্থ্যসেবা, অর্থায়ন ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে জায়গা করে নিচ্ছে, তখন পাসওয়ার্ড টাইপ করার ঝামেলাহীন এই নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করতে গবেষকরা ১০ মাস ধরে ৫২ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর পরীক্ষা চালিয়েছেন। ফলাফলে দেখা গেছে, সিস্টেমটি ৯৫ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে সঠিক ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করতে পেরেছে এবং অননুমোদিত ব্যবহারকারী ঠেকানোর ক্ষেত্রে এর সাফল্যের হার ৯৮ শতাংশের বেশি।
গবেষক দলটি এমন একটি ফিল্টারিং সিস্টেম তৈরি করেছেন যা মাথা নাড়ানো বা শরীরের বড় নড়াচড়া থেকে তৈরি হওয়া বাধা দূর করে কেবল হৃদস্পন্দন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সূক্ষ্ম কম্পনগুলোকেই গ্রহণ করে।
কম্পিউটার মডেলের মাধ্যমে দেখা গেছে, একজনের মাথার খুলির কম্পন অন্য কারো পক্ষে নকল করা প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে এই প্রযুক্তিটির সাময়িক স্বত্বাধিকার বা পেটেন্টের আবেদন করা হয়েছে এবং এটি লাইসেন্স প্রদান ও গবেষণা সহযোগিতার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে, তবে এখনো বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসেনি।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
এপ্রিলের আকাশে গ্রহদের মেলা! জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য দারুণ সময়
বসন্তের বিদায় আর কালবৈশাখীর এই সময়ে বাংলাদেশের আকাশ মাঝেসাঝে মেঘলা থাকলেও, আকাশ পরিষ্কার থাকলে এপ্রিলের প্রথম পক্ষকাল জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য এক দারুণ সুযোগ নিয়ে আসছে। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের আকাশে গ্রহদের মিলনমেলা, চাঁদের অবস্থান পরিবর্তন এবং উল্কাপাত দেখার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এপ্রিলের শুরুতেই সন্ধ্যার আকাশে শুক্র গ্রহকে অত্যন্ত উজ্জ্বল দেখা যাবে, যা ধীরে ধীরে তার সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে।
পাশাপাশি এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে সন্ধ্যার আকাশে মঙ্গল গ্রহের লালচে আভা খালি চোখেই দেখা যাবে, বিশেষ করে বৃষ রাশি নক্ষত্রপুঞ্জের কাছাকাছি এর অবস্থান লক্ষ্য করা যাবে। যারা ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন, তারা পূর্ব আকাশে শনি ও বৃহস্পতি গ্রহকে পাশাপাশি উদিত হতে দেখবেন; ১০ এপ্রিলের পর শনি গ্রহ দিগন্তের অনেকটা ওপরে উঠে আসায় টেলিস্কোপ দিয়ে এটি দেখার উপযুক্ত সময় হবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিশেষ ঘটনা 'কনজাংশন' বা গ্রহ-চাঁদের মিতালি দেখা যাবে ১২ ও ১৩ এপ্রিল রাতে, যখন চাঁদকে মঙ্গল গ্রহের খুব কাছাকাছি অবস্থানে দেখা যাবে। বাইনোকুলার ব্যবহার করলে একই ফ্রেমে চাঁদ ও মঙ্গলের এই যুগলবন্দী দৃশ্য উপভোগ করা সম্ভব হবে।
এছাড়া নক্ষত্রপুঞ্জের অবস্থানেও পরিবর্তন আসছে; মাথার ঠিক ওপরে পূর্ব-দক্ষিণ আকাশে এখন সিংহ রাশি নক্ষত্রপুঞ্জের রাজত্ব দেখা যাবে, যার নীলচে-সাদা উজ্জ্বল নক্ষত্র 'রেগুলাস' স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে। উত্তর আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডলের সাতটি নক্ষত্র অনেক উঁচুতে অবস্থান করায় এই সময়ে ধ্রুবতারা খুঁজে পাওয়াও অনেক সহজ হবে। আকাশপ্রেমীদের জন্য এপ্রিলের এই ১৫ দিন মহাজাগতিক সৌন্দর্য উপভোগের এক অনন্য সময় হতে যাচ্ছে।
সূত্র: স্কাইম্যাপ, টাইম অ্যান্ড ডেট, স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ
চাঁদ জয়ের মহাযাত্রা শুরু! সফলভাবে উড্ডয়ন করল নাসার আর্টেমিস ২
দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। বুধবার (১ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে চারজন নভোচারীকে নিয়ে সফলভাবে উড্ডয়ন করেছে নাসার ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস ২’ চন্দ্রাভিযান।
৩২ তলা বিশিষ্ট বিশাল এই রকেটটি যখন কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে মহাকাশের পানে যাত্রা শুরু করে, তখন কয়েক হাজার মানুষ এই বিরল মুহূর্তের সাক্ষী হতে সেখানে সমবেত হন। এই মিশনটি মূলত চাঁদে স্থায়ীভাবে মানুষের বসতি স্থাপন এবং পরবর্তীতে মঙ্গল গ্রহে মহাকাশচারী পাঠানোর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
আর্টেমিস ২ মিশনের চার সদস্যের মধ্যে রয়েছেন নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। প্রায় ১০ দিনের এই সফরে তারা চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে আবারও পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। উড্ডয়নের মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় মিশনের কমান্ডার ওয়াইজম্যান ক্যাপসুল থেকে আপ্লুত কণ্ঠে জানান, তারা একটি অপূর্ব চন্দ্রোদয় দেখতে পাচ্ছেন এবং সরাসরি চাঁদের অভিমুখেই এগিয়ে যাচ্ছেন।
উৎক্ষেপণের আগে হাইড্রোজেনের বিপজ্জনক লিকেজ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও নাসা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ৭ লক্ষ গ্যালন জ্বালানি লোড করে কোনো বড় ধরনের ত্রুটি ছাড়াই মিশনটি শুরু করতে সক্ষম হয়েছে।
যাত্রার পরবর্তী ধাপে নভোচারীরা প্রথম এক থেকে দুই দিন পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথে অবস্থান করে মহাকাশযানের জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা, প্রপালশন এবং নেভিগেশন পরীক্ষা করবেন। এরপর ওরিয়ন মহাকাশযানটি শক্তিশালী ইঞ্জিন বার্নের মাধ্যমে পৃথিবীর কক্ষপথ ত্যাগ করে সরাসরি চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করবে।
পুরো যাত্রাপথে ওরিয়ন চাঁদকে ঘিরে একটি ‘ফ্রি-রিটার্ন’ ট্র্যাজেক্টরি অনুসরণ করবে, যা ন্যূনতম জ্বালানি ব্যয়ে মহাকাশযানটিকে পুনরায় পৃথিবীর দিকে ফিরিয়ে আনবে। এই পর্যায়ে মহাকাশচারীরা গত কয়েক দশকের মধ্যে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে অবস্থান করবেন।
চাঁদকে প্রদক্ষিণ শেষে পৃথিবীতে ফেরার সময় ওরিয়ন ক্যাপসুলটি প্রায় ৪০,২৩৩ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে এবং প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে।
নাসার বিজ্ঞান মিশন প্রধান নিকি ফক্সের মতে, বিশ্বের বর্তমান জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ অ্যাপোলো মিশনের সময় জন্মায়নি, তাই আর্টেমিসই হতে যাচ্ছে বর্তমান প্রজন্মের ‘অ্যাপোলো’। নাসা আশা করছে যে, ২০২৬ সালের এই সফল মিশন আগামীতে চাঁদের মাটিতে পুনরায় মানুষের পা রাখার পথকে সুগম করবে।
সূত্র: আল জাজিরা
চাঁদ জয়ে ৪ লাখ কিলোমিটার যাত্রা! শুরু হচ্ছে ঐতিহাসিক মহাকাশ অভিযান
মানুষের মহাকাশ জয়ের ইতিহাসে দীর্ঘ ৫৪ বছর পর এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে। ১৯৭২ সালে নাসার অ্যাপোলো প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো আর্টেমিস-২ মিশনের মাধ্যমে চারজন নভোচারী চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করছেন। কারিগরি জটিলতার কারণে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে উৎক্ষেপণ কয়েক দফা পিছিয়ে গেলেও, নাসা এখন ১ এপ্রিল (বাংলাদেশ সময় ২ এপ্রিল) এই ঐতিহাসিক যাত্রার চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
এবারের অভিযানে নভোচারীরা সরাসরি চাঁদে অবতরণ করবেন না, বরং তাঁরা চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবেন। এই মিশনে নভোচারীরা পৃথিবী থেকে ৪ লাখ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করবেন, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মহাকাশযানের পর মানুষের জন্য মহাকাশে দীর্ঘতম পথ পাড়ি দেওয়ার নতুন রেকর্ড। নাসা এই বিশাল প্রকল্পের জন্য এ পর্যন্ত প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে চাঁদে সশরীরে অবতরণের লক্ষ্যে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের সঙ্গে ২৯০ কোটি ডলারের একটি চুক্তিও সম্পন্ন করেছে।
দীর্ঘ সময় পর চাঁদে মানুষের এই আগ্রহ ফিরে আসার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে ভারতের চন্দ্রযান-১। ১৯৭০-এর দশকের অ্যাপোলো নভোচারীদের আনা পাথর বিশ্লেষণ করে একসময় বিজ্ঞানীরা ভেবেছিলেন চাঁদে পানি বা ভূতাত্ত্বিক সক্রিয়তা নেই।
কিন্তু চন্দ্রযান-১ চাঁদে পানির অস্তিত্ব আবিষ্কার করে বিজ্ঞানীদের ধারণা বদলে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, চাঁদের মেরু অঞ্চলের গভীর গর্তগুলোতে কোটি কোটি টন বরফ রয়েছে, যা থেকে ভবিষ্যৎ মিশনের জন্য হাইড্রোজেন জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব। এছাড়া চাঁদে পাওয়া হিলিয়াম-৩ নামক আইসোটোপ ভবিষ্যতে নিউক্লিয়ার ফিউশনের এক অনন্য জ্বালানি হয়ে উঠতে পারে, যা পৃথিবীকে দেবে অফুরন্ত শক্তি।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
পাঠকের মতামত:
- এক হাজার বছর আগের বিস্ফোরণ আজও কাঁপিয়ে দিচ্ছে মহাশূন্য
- ট্রাম্পের এক ঘোষণা পাল্টে দিল চিত্র: তেলের বাজারে হঠাৎ বড় পতন!
- বৃত্তি পরীক্ষা আগামীকাল: খুদে পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০টি ‘লাইফ সেভিং’ টিপস
- তেল সংকটে স্তব্ধ ইস্টার্ন রিফাইনারি! নজিরবিহীন জ্বালানি সংকটের মুখে দেশ
- সেরেনা হোটেলের ২০ ঘণ্টা: ৮০% সফল হয়েও কেন ফিরল না শান্তি?
- ইসরায়েলকে ইতালির বড় ঝটকা! বাতিল হলো ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি
- ২ মাসের মাথায় প্রতিশ্রুতি পূরণ: জামালপুরে কার্ড হাতে হাসি ফুটল চাষিদের
- ইরানের পর এবার তুরস্ক? কাকে ‘নতুন শত্রু’ ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইসরায়েল?
- ট্রাম্পকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, নজরদারি এড়িয়ে হরমুজ পার হলো ৩টি জাহাজ
- কৃষক কার্ড উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, যেসব সুবিধা থাকছে
- যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলল চীন
- আমেরিকার অন্দরেই বিদ্রোহ! ট্রাম্পের ‘ইরান যুদ্ধ’ নীতির বিরুদ্ধে ফুঁসছে খোদ নিউ ইয়র্ক
- মার্কিন অবরোধ ভেঙে হরমুজ পার হলো চীনা ট্যাংকার!
- সময়ের কাঁটায় বন্দি শান্তি চুক্তি: ২০ বছর বনাম ৫ বছরের লড়াইয়ে উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি
- ১০ ধরনের সুবিধা নিয়ে আসছে কৃষক কার্ড: কৃষি খাতে নতুন যুগের সূচনা
- নতুন ভোরের প্রতীক ‘মোরগ’: চারুকলার শোভাযাত্রায় ফুটে উঠল আগামীর স্বপ্ন
- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা! ১৫টি যুদ্ধজাহাজ নিয়ে ইরানকে ঘেরাও করল আমেরিকা
- পহেলা বৈশাখে বজ্রবৃষ্টির দুঃসংবাদ! ৩ অঞ্চলে ঝোড়োহাওয়ার পূর্বাভাস
- ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে
- ৪ হাজার টাকার বেশি দাম কমল স্বর্ণের! জেনে নিন আজকের সর্বশেষ রেট
- বল এখন ইরানের কোর্টে: তেহরানকে চূড়ান্ত বার্তা দিলেন জে ডি ভ্যান্স
- নতুন বছরের প্রথম দিন: দেখে নিন ১৪ এপ্রিলের নামাজের পূর্ণাঙ্গ সূচি
- ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
- ধারণক্ষমতার ৪ গুণ যানবাহন চলাচল দেবে যাচ্ছে সড়ক বাড়ছে যানজট-দুর্ঘটনা
- ইরানে হামলা মানে তুরস্কের ওপর হামলা: এরদোগান
- ট্রাম্পের অবরোধ উপেক্ষা! হরমুজ প্রণালিতে শনাক্ত ৪টি রহস্যময় জাহাজ
- জুলাই না থাকলে আমাদের অস্তিত্ব থাকত না: জামায়াত আমির
- ব্যর্থতার মাঝেও আশার আলো: আবারও কি আলোচনায় বসবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান?
- পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক: শুভেচ্ছা বাণীতে প্রধানমন্ত্রী
- ব্যর্থ শান্তি বৈঠক, সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দোষ ইরানের
- ১৪ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১৪ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের লোকসানে যেসব শেয়ার
- ১৪ এপ্রিল: লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- আমেরিকার জন্য অপেক্ষা করছে বড় বিপর্যয়! হরমুজ নিয়ে লড়াকু অবস্থানে তেহরান
- ধর্মগুরু বনাম প্রেসিডেন্ট: পোপ লিও’র সমালোচনায় ক্ষুব্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্প
- চুক্তির খুব কাছে গিয়েও কেন ফিরল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র? পর্দার আড়ালের রহস্য
- হরমুজ সংকটে জাপানের হাই-অ্যালার্ট: পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর টোকিওর
- ১৬ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ: আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তায় দুঃসংবাদ!
- ইরানি বন্দরে মার্কিন অবরোধ শুরু: রণক্ষেত্রে রূপ নিচ্ছে পারস্য উপসাগর
- স্বর্ণের বাজারে বড় ধস! এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন দামে মিলছে মূল্যবান ধাতু
- সোমবার ঢাকার কোন কোন মার্কেট ও এলাকা বন্ধ? বের হওয়ার আগে জেনে নিন
- আজকের ঢাকা: কোথায় কী কর্মসূচি? বের হওয়ার আগে জেনে নিন
- আজ ১৩ এপ্রিলের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন আপনার এলাকার ওয়াক্ত
- যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার মাশুল! ফের ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের বাজার
- ‘যুদ্ধ চাইলে যুদ্ধই হবে’: ট্রাম্পকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ইরানের
- "ইরানের কাছে হেরে গেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে আর ফিরতে পারবে না আমেরিকা"
- নানিয়ারচর সেনা জোনের উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা প্রদান
- ছেঁড়া-ফাটা নোট নিতে বাধ্য ব্যাংক! অমান্য করলেই ব্যবস্থা
- এক দিনেই ইরানকে শেষ করে দেব: ডোনাল্ড ট্রাম্প
- নাসায় একের পর এক বিজ্ঞানীর রহস্যমৃত্যু: কেউ বারান্দায় খুন, কেউ নিখোঁজ!
- বাজুসের নতুন ঘোষণা, স্বর্ণে রেকর্ড উত্থান
- শান্তির খোঁজে ইরানের সঙ্গে সৌদির যোগাযোগ
- আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ডসহ ৩০ আসামির সাজা ঘোষণা
- ৮ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- টানা দুই দিন ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ইরান যুদ্ধে কৌশলগত ব্যর্থতায় ইসরাইল, প্রশ্ন নেতৃত্বে
- ৪০ দিন পর খুলল আল-আকসা, আবেগে ভাসলেন মুসল্লিরা
- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নাটকীয়তা: যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইরানে ইসরায়েলের হামলা
- যুক্তরাষ্ট্রের চাপে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায় পাকিস্তান
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন বিস্তারিত
- আজকের নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন সম্পূর্ণ তালিকা
- ৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজারে দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- রাতে ইউরোপ মাতাবে হাইভোল্টেজ ফুটবল, জানুন আজকের খেলাধুলা সূচি
- স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমলো যত
- পাকিস্তান-ইসরাইল উত্তেজনা, কড়া প্রতিক্রিয়া ইসরাইলের








