হরমুজ প্রণালিতে নতুন পথ! ইরানের চোখ ফাঁকি দিয়ে পার হলো ভারতীয় জাহাজ?

হরমুজ প্রণালিতে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন আশার আলো জাগিয়ে এক বিকল্প ও নিরাপদ রুট ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছেছে ভারতীয় কার্গো জাহাজসহ মোট চারটি বিশালাকার বাণিজ্যিক জাহাজ। ওমানের আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক জলসীমার ঝুঁকি এড়িয়ে এই জাহাজগুলো সফলভাবে প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে শনিবার (৪ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই নিরাপদ রুটটি ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের ভেতর দিয়ে গেছে, যা সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে লজিস্টিকস ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বহরে ছিল মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী তেলবাহী সুপার ট্যাংকার ‘হাবরুত’ ও ‘ধালকুট’, পানামা পতাকাবাহী এলএনজি জাহাজ ‘সোহর’ এবং ভারতীয় পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘এমএসভি কিউবা এমএনভি ২১৮৩’।
এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, জাহাজগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলের কাছ দিয়ে ওমানের জলসীমানায় প্রবেশ করার পর মুসান্দাম উপদ্বীপের কাছে তাদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) সিগন্যাল বন্ধ করে দেয় যাতে ইরানি রাডারে ধরা না পড়ে। পরবর্তীতে মাস্কাট উপকূল থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে সেগুলোকে পুনরায় শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ‘হাবরুত’ ও ‘ধালকুট’ জাহাজ দুটি যথাক্রমে সৌদি আরব ও আমিরাতের প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বহন করছিল। উল্লেখ্য যে, বিশ্বে মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে ইরানের হামলার ভয়ে অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছিল।
অন্যদিকে, ইরানও তাদের নিজস্ব জলসীমার ভেতর দিয়ে কেশম ও লারাক দ্বীপের মাঝ দিয়ে একটি বিকল্প রুট চালু করেছে, তবে সেখানে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোকে বিশেষ অনুমতি এবং তেলের পরিমাণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট শুল্ক দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিকল্প ওমানি রুটটি ব্যবহার সফল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকটের উদ্বেগ কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
/আশিক
হিজবুল্লাহর ক্রুজ ড্রোন এখন বড় হুমকি: জরুরি বৈঠক ডেকে পিছু হটলেন নেতানিয়াহু
লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর অভাবনীয় ও অত্যাধুনিক ড্রোন সক্ষমতার মুখে পড়ে রণক্ষেত্রে একের পর এক সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। হিজবুল্লাহর ড্রোনের হাই-টেক নজরদারি এড়াতে ইসরায়েলি সেনারা দিনের বেলার অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করে রাতের আঁধারে হামলার কৌশল নিলেও, উন্নত প্রযুক্তির কারণে তাও ভেস্তে যাচ্ছে।
হিজবুল্লাহর এই আকাশপথের আধিপত্যকে ইসরায়েলের জন্য এক ‘বিশাল সামরিক হুমকি’ হিসেবে স্বীকার করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আজ বুধবার ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ‘কান নিউজ’ এর চাঞ্চল্যকর তথ্যের বরাতে এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম প্রেস টিভি।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহর নিখুঁত বিস্ফোরকবাহী সুইসাইড ড্রোনগুলোর কারণে দক্ষিণ লেবানন ও সীমান্ত সংলগ্ন ইসরায়েলের দখলকৃত এলাকাগুলোতে আইডিএফের স্বাভাবিক যুদ্ধ পরিচালনার স্বাধীনতা ও গতি মারাত্মকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলের পরিকল্পিত সামগ্রিক সামরিক অভিযানের প্রায় ৮০ শতাংশই হিজবুল্লাহর ড্রোনের সার্বক্ষণিক নজরদারির কারণে মাঠে গড়ানোর আগেই ভেস্তে যাচ্ছে বা ব্যাহত হচ্ছে।
পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, দিনের আলোয় হিজবুল্লাহর রাডার ফাঁকি দিতে না পেরে সব ধরণের সেনা চলাচল ও লজিস্টিকস সরবরাহ রাতের বেলায় শিফট করা হয়েছিল; কিন্তু রাতের অন্ধকারেও ড্রোন হামলার মুখে পড়ে বেশ কিছু মেগা অপারেশন পুরোপুরি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে তেল আবিব। ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা গোপনে স্বীকার করেছেন, হিজবুল্লাহর এই ড্রোন হামলার তীব্রতার কারণে গত কয়েক সপ্তাহে দখলদার বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। কান নিউজ আরও বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে জানিয়েছে, বর্তমানে হিজবুল্লাহর এই আকাশ-আক্রমণ ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত অত্যাধুনিক ড্রোন প্রতিরোধী সরঞ্জামের (Anti-Drone Equipment) চরম ঘাটতি রয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে। বর্তমানে এই প্রতিরোধী ব্যবস্থা প্রতিটি ইসরায়েলি সামরিক ইউনিটের কেবল সীমিত সংখ্যক সদস্যের হাতে রয়েছে, যা বিশাল ড্রোন বহর রুখতে নগণ্য।
সামরিক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, হিজবুল্লাহর এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো তাদের ব্যবহৃত সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির ‘ফাইবার-অপটিক ড্রোন’। এই ড্রোনগুলো ইসরায়েলের বিশ্ববিখ্যাত ‘আয়রন ডোম’ বা প্রচলিত জ্যামিং ও শক্তিশালী ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থাকে (Electronic Warfare) অনায়াসে ফাঁকি দিতে সক্ষম।
প্রচলিত ড্রোনের মতো রেডিও সিগন্যালের পরিবর্তে এই ড্রোনে অত্যন্ত পাতলা ও হালকা অপটিক্যাল ফাইবার কেবল ব্যবহৃত হয়, যার ফলে ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার বা সিগন্যাল ট্র্যাকারগুলো এগুলোকে আকাশে শনাক্তই করতে পারে না। বিপরীতে, দক্ষিণ লেবাননজুড়ে হিজবুল্লাহর প্রায় ১০০টিরও বেশি প্রশিক্ষিত ও ডেডিকেটেড ড্রোন অপারেটর ২৪ ঘণ্টা মোতায়েন রয়েছে, যারা নিখুঁতভাবে ইসরায়েলি ঘাঁটিতে আঘাত হানছে। তেল আবিবের উগ্রপন্থি কর্মকর্তারাও প্রকাশ্যে মেনে নিয়েছেন যে, হিজবুল্লাহর এই দ্রুত উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি ইসরায়েলি বাহিনীকে সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলেছে।
এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জরুরি বৈঠক ডেকে দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, লেবাননে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তীব্র প্রতিবাদের অজুহাতে গত এপ্রিল মাস থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর প্রায় ২৩০টি প্রজেক্টাইল এবং ১০০টিরও বেশি মারাত্মক বিস্ফোরক ড্রোন হামলা চালিয়ে তেল আবিবকে কাঁপিয়ে দিয়েছে হিজবুল্লাহ।
/আশিক
হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে বিকট বিস্ফোরণ
চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সবচেয়ে সংবেদনশীল রণক্ষেত্র হরমুজ প্রণালির কৌশলগত অবস্থানে থাকা ইরানের কেশম দ্বীপে আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে যুদ্ধাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে তেহরান স্পষ্ট করেছে যে, এই বিস্ফোরণ কোনো নতুন শত্রুভাবাপন্ন হামলা বা বিমান হামলা নয়; বরং দ্বীপে উদ্ধার হওয়া শত্রুপক্ষের পুরোনো ও অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ পরিকল্পিতভাবে নিষ্ক্রিয় করার কারণেই এই শব্দের সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ’ স্থানীয় এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছে, সামরিক বাহিনীর পূর্বপরিকল্পিত সুরক্ষামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই ওই গোলাবারুদগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়। এর আগে ইরানের অপর একটি সংবাদমাধ্যম ‘মেহর নিউজ এজেন্সি’ বিস্ফোরণের খবরটি ব্রেকিং নিউজ হিসেবে প্রকাশ করলেও, তখন পর্যন্ত এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি বলে উল্লেখ করেছিল, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে মুহূর্তেই অস্থিরতা তৈরি করে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এবং ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র জোটের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এই রহস্যময় বিস্ফোরণের মাত্র একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে এক নাটকীয় বিবৃতিতে জানান, তেহরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনে একটি নতুন ও বিশেষ ‘শান্তি প্রস্তাব’ পাঠানোর পর তিনি ইরানের ওপর পূর্বপরিকল্পিত বড় ধরনের মার্কিন বিমান হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে স্থায়ীভাবে সীমাবদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব ভালো ও ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই মার্কিন স্থগিতাদেশের ঠিক আগমুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে পুনরায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর জন্য কোনো চূড়ান্ত সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছিল কি না, তা ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স।
টোল না কি কৌশলগত ফাঁদ? হরমুজে ইরানের ক্রিপ্টো-বিমা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ এবার বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালি’তে গিয়ে ঠেকেছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) পরিবহনের এই কৌশলগত রুটটিকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান।
এরই ধারাবাহিকতায় এবার হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংগঠিত করতে ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ (PGSA) নামে একটি নতুন বিশেষ নিরাপত্তা সংস্থা গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে তেহরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। নতুন এই সংস্থা প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজ ও সামুদ্রিক কার্যক্রমের প্রতি মুহূর্তের তথ্য নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ করবে।
এই ঘোষণার ঠিক দুদিন আগে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য ‘হরমুজ সেফ ওয়েবসাইট’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিজস্ব বিশেষ ‘বিমা সেবা’ বা ইন্স্যুরেন্স স্কিম চালুর পরিকল্পনা প্রকাশ করে। আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় জাহাজ ও পণ্যের সুরক্ষায় এনক্রিপ্টেড ভেরিফিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে এবং লেনদেন সম্পন্ন হবে বিটকয়েন বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে।
কভারেজ নিশ্চিত হলেই জাহাজের মালিককে ডিজিটাল রসিদ দেওয়া হবে। তেহরানের দাবি, এই উদ্যোগ সফল হলে ইরান বছরে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব আয় করতে পারবে। মূলত, জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ (UNCLOS) অনুযায়ী আন্তর্জাতিক জলপথে সরাসরি কোনো ‘টোল’ বা ‘শুল্ক’ আরোপ করা নিষিদ্ধ হওয়ায়, ইরান আইনি ফাঁক গলে এটিকে ‘কর’ হিসেবে না দেখিয়ে ‘ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’ বা বাণিজ্যিক বিমা সেবা হিসেবে উপস্থাপন করার চতুর কৌশল নিয়েছে।
সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো নেগার মোর্তাজাভি জানান, ইরানের মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি ‘রগ স্টেট’ (Rogue State) ইমেজ তৈরি না করে এটিকে কৌশলগত চাপের হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
তবে ইরানের এই মেগা পরিকল্পনা কার্যকরের ক্ষেত্রে পঙ্গু করে দেওয়ার মতো আন্তর্জাতিক ও প্রযুক্তিগত বাধা রয়েছে। লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটির মেরিটাইম সেন্টারের প্রধান অধ্যাপক আবদুল খালিকের মতে, বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক রিইনসুরেন্স (পুনর্বীমা) সমর্থন ছাড়া কোনো বড় জাহাজ মালিকই এই বিমার ওপর আস্থা রাখবে না। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বন্দরগুলোও ইরানের এই বিমা সনদ গ্রহণ নাও করতে পারে।
অন্যদিকে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের পরিকল্পনাকে বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র অর্থপাচার ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর ফাঁদ হিসেবে দেখছে। বেইজিংয়ে শি-পুতিন শীর্ষ বৈঠকের প্রাক্কালে এই পরিস্থিতি আরও জটিল মোড় নিয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর বেইজিং ও ওয়াশিংটন যৌথভাবে হরমুজ প্রণালির ‘সামরিকীকরণ’ এবং এর ব্যবহারের জন্য যেকোনো ধরনের একতরফা টোল বা ফি আরোপের তীব্র বিরোধিতা করেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই জলপথ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তদুপরি, গত ১৩ এপ্রিল থেকে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করায় এবং ওয়াশিংটন এই বিমা ফি পরিশোধকারী কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় বৈশ্বিক শিপিং জায়ান্টগুলো (যেমন চাব, গার্ড, স্কালড) এই রুট সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধঝুঁকি প্রমিয়াম (War-risk Premium) ইতোমধ্যে ৫ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
/আশিক
ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পূর্ণ অধিকার রয়েছে: রাশিয়া
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক সামরিক হুমকির মুখে তেহরানের পাশে দাঁড়িয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। সোমবার (১৮ ১৮ মে) ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পূর্ণ ও সার্বভৌম অধিকার ইরানের রয়েছে। একই সাথে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে পশ্চিমাদের নাক গলানোর কড়া সমালোচনাও করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন কাজ প্রসঙ্গে লাভরভ সাফ জানিয়ে দেন, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামগ্রিক বিষয় ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তিটি সম্পূর্ণভাবে রাশিয়া এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এখানে তৃতীয় কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ বা কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আলটিমেটাম ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার মধ্যে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উদ্ভূত সংকট নিরসনে ইরান-মার্কিন পর্দার অন্তরালের কূটনৈতিক আলোচনার সাফল্যের ওপরও বিশেষভাবে জোর দেন। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, বেইজিংয়ে শি-পুতিন মেগা বৈঠকের ঠিক আগের দিন লাভরভের এই মন্তব্য ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের ওপর বড় মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করল।
সূত্র: ডন
দিল্লির মানচিত্র ও ভূগোল বদলে দেব ভারতকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর চূড়ান্ত হুমকি
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে তীব্র পারদ চড়িয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে এক নজিরবিহীন ও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুমকি দিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতে ভারত যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আর কোনো ধরনের দুঃসাহসিক সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে “দিল্লির মানচিত্র ও ভূগোল বদলে যেতে পারে” এবং ভারত চিরতরে “ইতিহাসের অংশে” পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সাম্প্রতিক এক আক্রমণাত্মক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের জনপ্রিয় টকশো ‘ক্যাপিটাল টক’-এ অংশ নিয়ে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
খাজা আসিফ দাবি করেন, গত ২২ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত চলা ১৯ দিনের রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতে ভারত চরম পরাজয়ের মুখে পড়েছে এবং সেই বড় ক্ষতি ও সামরিক লজ্জা পুষিয়ে নিতেই ভারতের নতুন সেনাপ্রধান এখন ফাঁকা বুলি আউড়ে হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
তিনি জানান, ভারতের সামরিক অভিযানের জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনইয়ান-উম-মারসুস’ নামে এক বিশাল পাল্টা আঘাত হানে। ইসলামাবাদের দাবি, ওই অভিযানে ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি রাফালসহ ভারতের আটটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে পাকিস্তানি বিমান বাহিনী।
তবে এই আকাশচুম্বী দাবির পক্ষে এখনো কোনো স্বাধীন বা আন্তর্জাতিক সত্যতা মেলেনি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও খোলসা করেন যে, প্রায় ৮৭ ঘণ্টার টানা সর্বাত্মক সংঘাতের পর পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি মধ্যস্থতায় গত ১০ মে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, এই সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারত এখন এক চরম “বিব্রতকর ও একাকী” অবস্থার মুখোমুখি হয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দিল্লির আগের প্রভাবশালী একচেটিয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে এবং পাকিস্তান এই অঞ্চলে একটি অত্যন্ত “সম্মানজনক ও শক্তিশালী অবস্থান” তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
টকশোতে ভারত-ইসরায়েল অক্ষ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে খাজা আসিফ দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে এই অঞ্চলে ভারতের চেয়ে শক্তিশালী কোনো মুসলিম বা অন্য রাষ্ট্রের উত্থান তেল আবিব কখনো চায় না, যার ফলে মোদি সরকার ও ইসরায়েলের কৌশলগত লক্ষ্য ও নোংরা স্বার্থ আজ একই বিন্দুতে মিলে গেছে।
/আশিক
এক সপ্তাহে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও পুতিন: স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী বিরল ঘটনার সাক্ষী বিশ্ব
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফর শেষ হওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় এবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানাতে রাজকীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। পরপর দুই বিশ্ব পরাশক্তির শীর্ষ নেতার বেইজিং সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মে) চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কূটনৈতিক সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল ও পরশু (১৯ ও ২০ মে) রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের বেইজিংয়ে অবস্থান করার কথা রয়েছে। এই হাই-ভোল্টেজ সফরের প্রাক্কালে গত রোববার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একে অপরকে বিশেষ ‘অভিনন্দন বার্তা’ পাঠিয়েছেন।
শি জিনপিং তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বের ৩০ বছর পূর্তির এই ঐতিহাসিক বছরে রাশিয়া ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ‘আরও গভীর ও সুসংহত’ হয়েছে। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’ দাবি করেছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই দেশে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সফর স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে অত্যন্ত বিরল। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা এটিই প্রমাণ করে যে বেইজিং এখন ওয়াশিংটনকে টেক্কা দিয়ে দ্রুত বৈশ্বিক কূটনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মস্কোর প্রতি বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন বাড়ছিল। তবে সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় চীনের কাছে রাশিয়ার গুরুত্ব এখন আকাশচুম্বী। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পর থেকে চীন রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
সিআরইএ’ (CREA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বেইজিং রাশিয়ার কাছ থেকে প্রায় ৩৬৭ বিলিয়ন ডলারের জীবাশ্ম জ্বালানি ক্রয় করেছে। চীন বর্তমানে রাশিয়ার মোট রপ্তানির চার ভাগের এক ভাগেরও বেশি পণ্য একা ক্রয় করছে, যা ক্রেমলিনকে যুদ্ধের বিশাল ব্যয় মেটাতে সাহায্য করছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো জোসেফ ওয়েবস্টার জানিয়েছেন, পুতিন ও শি জিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠকের মূল ট্রাম্পকার্ড হতে পারে ‘তাইওয়ান সংকট’।
বেইজিং ভবিষ্যতে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সম্ভাব্য সংঘাতে জড়ালে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মস্কোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জীবাশ্ম জ্বালানি চুক্তি এবং বহুল প্রতীক্ষিত ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পটি চূড়ান্ত করতে চায়। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দুই দেশের মধ্যে বছরে আরও ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হবে, যা রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো বৈশ্বিক সংকটে চীনের জ্বালানি নিরাপত্তাকে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র করবে।
/আশিক
ওয়াশিংটনে ইরানের নতুন সংশোধিত শান্তি প্রস্তাব জমা দিল পাকিস্তান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও তীব্র সামরিক উত্তেজনা নিরসনে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি নতুন ‘সংশোধিত শান্তি প্রস্তাব’ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে পাকিস্তান। দুই দেশের মধ্যকার শান্তি আলোচনা যখন একপ্রকার গভীর স্থবিরতায় রূপ নিয়েছে, ঠিক তখনই বন্ধু রাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নতুন করে এই বিশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানা গেল। আজ সোমবার (১৮ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইসলামাবাদের একটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সূত্র।
উভয় পক্ষের মধ্যকার আকাশ-পাতাল দূরত্ব ঘুচিয়ে স্থায়ী কোনো সমঝোতায় আসতে দীর্ঘ সময় লাগবে কি না—রয়টার্সের এমন প্রশ্নের জবাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে পাকিস্তানি সূত্রটি জানায়, “আমাদের হাতে আসলে বেশি সময় নেই। উভয় দেশই (যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান) ঘনঘন তাদের অবস্থান ও শর্ত পরিবর্তন করছে।”
এদিকে আজ তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই (বাকায়ি) তাঁর সাপ্তাহিক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি ইরানের কোনো শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব নেই এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁদের পর্দার অন্তরালে আলোচনা এখনও সচল রয়েছে।
ইসমাইল বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, “এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলই সবচেয়ে বড় হুমকি। সাম্প্রতিক সংঘাতের ঘটনাবলি থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোর, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বড় ধরণের শিক্ষা নেওয়া উচিত।”
প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে তেহরান সবসময় হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরান একটি নতুন মেকানিজম বা কৌশলগত পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে। এই জলপথের সার্বিক নিরাপত্তা ও নিয়মকানুনের বিষয়ে ওমান সালতানাতের সঙ্গে তেহরানের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
/আশিক
ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনে মহাকেন্দ্রীক অচলাবস্থা: ট্রাম্পের সামনে ৩ বিপজ্জনক পথ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর এবং একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক নাটকীয়তার পারদ চড়তে থাকায় ইরান ইস্যুটি ওয়াশিংটনের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘কৌশলগত অচলাবস্থা’ ও সংকটে রূপ নিয়েছে। হোয়াইট হাউসের সামনে এখন তিনটি পথ খোলা রয়েছে—সরাসরি সামরিক সংঘাত, কূটনৈতিক আপস অথবা বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি ঝুলিয়ে রাখা; তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি বিকল্পেরই রয়েছে নিজস্ব চরম রাজনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি।
কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি সিএনএন-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কোনো সাধারণ অচলাবস্থা নয়, বরং তা হবে “আমেরিকার জন্য একটি চূড়ান্ত বিপর্যয়”। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সর্বশেষ মূল্যায়নও বলছে, দীর্ঘদিন হামলা ও নিষেধাজ্ঞার পরও ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন সক্ষমতার সিংহভাগ অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়েছে।
এই বাস্তবতায় ইসরায়েলপন্থী লবির চাপে ট্রাম্প প্রশাসন যদি সামরিক আগ্রাসনের দিকে পা বাড়ায়, তবে তা ডেমোক্র্যাট ও সাধারণ মার্কিনিদের তীব্র গণ-বিক্ষোভের মুখে পড়বে, যা বিগত দুই দশকের ব্যর্থ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ক্ষতকে আবারও উসকে দেবে। অন্যদিকে, কূটনৈতিক সমঝোতার পথও ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে নিরাপদ নয়; কারণ তেহরানের সঙ্গে যেকোনো ধরণের আপস বা চুক্তিকে কট্টর রিপাবলিকান ও ইসরায়েলঘনিষ্ঠ লবি নেটওয়ার্ক ট্রাম্পের ‘দুর্বলতা বা আত্মসমর্পণ’ হিসেবে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে।
তৃতীয় বিকল্প হিসেবে বিষয়টিকে দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখলে ইরান তাদের কৌশলগত ও পারমাণবিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার অবাধ সুযোগ পেয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক মহলেও ওয়াশিংটন এখন একাকীত্বের মুখোমুখি; মার্কিন সামরিক চাপের নীতিতে ইউরোপীয় মিত্রদের পাশে পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই, পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোও নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াতে সম্পূর্ণ নারাজ।
এছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া যেকোনো মার্কিন একতরফা আধিপত্য রুখতে তেহরানের পেছনে শক্ত ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ফলে বিস্তৃত আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐকমত্যের তীব্র অভাবে ওয়াশিংটনের একতরফা নীতি আজ অচল, যা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিকে এক অন্ধকার গোলকধাঁধায় ফেলে দিয়েছে।
সূত্র: মেহের নিউজ
আমিরাতকে ইরানের চূড়ান্ত আলটিমেটাম: আমাদের ধৈর্যের সীমা পরীক্ষা করবেন না
ইসরায়েলের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) কঠোর ভাষায় চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। আবুধাবির এই ইসরায়েলপন্থী নীতির বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে—তারা দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ সংযম দেখালেও তাদের এই ধৈর্যের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে, যা অতিক্রম করলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ইসনা’ (ISNA)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রভাবশালী নীতি-নির্ধারক ও ‘এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল’-এর বর্তমান সেক্রেটারি মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সাবেক এই শীর্ষ কমান্ডার বলেন, তেহরান এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি। তবে আমিরাতের মনে রাখা উচিত, ইরানের ধৈর্যের দেয়াল ভেঙে পড়লে পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
মোহসেন রেজায়ি সরাসরি আবুধাবিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা খুব ভালো করেই জানি যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে পর্দার আড়ালে ও প্রকাশ্যে নানা ধরনের কৌশলগত যোগাযোগ এবং গভীর লেনদেন চলছে। আমিরাতের প্রতি আমাদের স্পষ্ট পরামর্শ—তারা যেন কোনোভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের পাতা কোনো ফাঁদ বা ষড়যন্ত্রের অংশ না হয়ে ওঠে।” মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি প্রভাব বৃদ্ধির বিরুদ্ধে তেহরান যে কোনোভাবেই আপস করবে না, এই বার্তার মাধ্যমে আবুধাবিকে মূলত সেটিই স্মরণ করিয়ে দিল ইরান।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
পাঠকের মতামত:
- একই ভাগে দুই ভাই মিলে কোরবানি দেওয়া নিয়ে কী বলছে ইসলামি শরিয়ত?
- পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা; ২৭ সদস্যের দলে ৪ গোলরক্ষক
- মেঘনা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তাজ ঢাকায় গ্রেফতার
- নানিয়ারচর সেনা জোন কর্তৃক চেঙ্গি নদীতে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
- তনু হত্যা মামলায় নতুন গতি: দেশ ছেড়ে কুয়েতে পালালেন সন্দেহভাজন সাবেক সেনাসদস্য শাহিন
- হিজবুল্লাহর ক্রুজ ড্রোন এখন বড় হুমকি: জরুরি বৈঠক ডেকে পিছু হটলেন নেতানিয়াহু
- ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ এখন আসল গণতন্ত্রের পথে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- বুধবার ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- হাসিনাকে দেশে এনে ফাঁসি দিলেই বন্ধ হবে সীমান্ত হত্যা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- ইমরান খানকে সরাতে মার্কিন চাপের প্রমাণ দিল ড্রপ সাইট
- মামলা থেকে বাঁচতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা এখন ভুঁইফোঁড় সাংবাদিক: তথ্যমন্ত্রী
- নিরাপত্তার কড়া দেয়াল ভাঙলেন প্রধানমন্ত্রী: তেজগাঁওয়ে শিশুদের মাঝে অন্য এক তারেক রহমান
- হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে বিকট বিস্ফোরণ
- ইতিহাসের দোরগোড়ায় বাংলাদেশ
- দ্রুতই মাথা উঁচু করে দেশে ফিরব: আনন্দবাজারের সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা
- ১৯ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১৯ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৯ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- টোল না কি কৌশলগত ফাঁদ? হরমুজে ইরানের ক্রিপ্টো-বিমা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়
- অযথা হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের দিন শেষ: স্মার্ট ভূমি ব্যবস্থাপনার ঘোষণা তারেক রহমানের
- টাইগারদের চোখ ঐতিহাসিক জয়ে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন শান মাসুদ ও বাবর আজম
- ভূমিকম্পের আশঙ্কায় ফায়ার সার্ভিসের উন্নয়ন ও অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয় জরুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ঈদের আগে মুসলিমদের গরু কেনা বন্ধ; পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু খামারিদের মাঝে হাহাকার
- খোলা বাজারে ডলার ও পাউন্ডের দামে নতুন রেকর্ড, হু হু করে বাড়ছে টাকার মান
- এক বছরে শেষ হবে ৫টি স্থানীয় সরকার নির্বাচন: বগুড়ায় মেগা রোডম্যাপ ঘোষণা
- ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পূর্ণ অধিকার রয়েছে: রাশিয়া
- ইতিহাসের পাতায় নেইমার: কাফু-রোনালদোদের এলিট ক্লাবে হানা দিলেন ১০ নম্বর
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সর্বশেষ সময়সূচি
- আজকের গোল্ড আপডেট: মঙ্গলবার দেশজুড়ে কার্যকর হচ্ছে সোনার নতুন দাম
- দিল্লির মানচিত্র ও ভূগোল বদলে দেব ভারতকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর চূড়ান্ত হুমকি
- এক সপ্তাহে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও পুতিন: স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী বিরল ঘটনার সাক্ষী বিশ্ব
- দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিশ্চিত হাম রোগীর গ্রাফ
- চরভদ্রাসনে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ১৭ বছর মানুষ মানসিক যন্ত্রণায় ছিল, কথা বলতে পারেনি: সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী
- কোলম্যানকে না বলে দিল বাংলাদেশ: আজ বা কালই আসছে নতুন কোচ
- কুরবানির চামড়া শিল্প: ন্যায্য মূল্য, বাজার কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জরুরি প্রয়োজন
- ইরানের রাস্তায় গান কিওস্ক: নারীদের দেওয়া হচ্ছে একে-৪৭ রাইফেল চালনার ট্রেনিং
- ঈদের আনন্দ মাটি করতে পারে বঙ্গোপসাগরের নতুন ঘূর্ণিঝড়
- আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকবে ১০ এলাকা
- বাস্তবায়ন নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না কুমিল্লা বিভাগ
- ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল ইসলামী আন্দোলন
- ওয়াশিংটনে ইরানের নতুন সংশোধিত শান্তি প্রস্তাব জমা দিল পাকিস্তান
- পশ্চিমবঙ্গে বন্ধ হচ্ছে ইমাম ও পুরোহিত ভাতা
- দেখা করে দরজার বাইরে গিয়েই গালি দিতেন: সিইসি
- সিলেটে জিততে হলে বিশ্বরেকর্ড গড়তে হবে পাকিস্তানকে: জয়ের সুবাসে টাইগাররা
- র্যাবকে এলিট ফোর্স হিসেবে পরিচালনায় নতুন আইন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ১৮ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১৮ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ঘরেই বানান মজাদার কাঁচা আমের ঝাল আচার
- ১৮ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- সোনার বাজারে আগুনের হল্কা: নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে ২২ ক্যারেট
- ১৪ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৪ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পুর্নাংগ বিশ্লেষণ
- শনিবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- কুমিল্লায় সুজনের সভা: গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা
- হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বিরল ঐকমত্য
- নবম পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে
- যে ৫ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ের আশঙ্কা
- রাজধানীতে আজ কেমন থাকবে আবহাওয়া
- কৃষক কার্ডে মিলবে ১০ সুবিধা, জানাল সরকার








