“খুব শিগগির শেষ হবে যুদ্ধ”: ট্রাম্পের দাবি, ইরানে মার্কিন সামরিক লক্ষ্য প্রায় অর্জিত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ০৯:১৭:০৯
“খুব শিগগির শেষ হবে যুদ্ধ”: ট্রাম্পের দাবি, ইরানে মার্কিন সামরিক লক্ষ্য প্রায় অর্জিত
জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পছবি: এএফপি

ওয়াশিংটন থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই সংঘাতকে তিনি “দ্রুত, নির্ণায়ক এবং অভূতপূর্ব সামরিক সাফল্য” হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন, খুব শিগগিরই এই অভিযান শেষ করা সম্ভব হবে।

হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া প্রায় ১৯ মিনিটের ভাষণের শুরুতে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের সফল উৎক্ষেপণকে অভিনন্দন জানান এবং নভোচারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন। এরপর তিনি সরাসরি ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গে এসে বলেন, “আমি আজ রাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, আমরা আমেরিকার সব সামরিক লক্ষ্য খুব শিগগির পূরণ করার পথে রয়েছি।”

তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা তিনি স্পষ্ট করেননি। যদিও এর আগে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধের একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক বক্তব্যেও তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র “খুব দ্রুত কাজ শেষ করতে যাচ্ছে” এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি

ট্রাম্প তার ভাষণে দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে, বিমানবাহিনী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে ইরানের সামরিক অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

তার ভাষ্যমতে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করা, তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষমতা ভেঙে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করা।

‘শাসন পরিবর্তন’ বিতর্ক ও কৌশলগত অবস্থান

ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে “শাসন পরিবর্তন” ছিল না। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ নিহত হওয়ায় কার্যত একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তার মতে, বর্তমান নেতৃত্ব পূর্বের তুলনায় “কম র‍্যাডিক্যাল” এবং আলোচনায় আগ্রহী।

এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে, কারণ এটি সরাসরি শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত না দিলেও বাস্তবে সেই ধরনের একটি ফলাফলকে স্বীকার করে নেয়।

মিত্রদের প্রশংসা ও আঞ্চলিক জোট

ভাষণে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তিনি ইসরায়েল, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং বাহরাইনের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই দেশগুলো “অসাধারণ কাজ করেছে” এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইরান যুদ্ধ এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের একক সামরিক অভিযান নয়, বরং একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক জোটের অংশ হয়ে উঠেছে।

পারমাণবিক হুমকি ও নিরাপত্তা যুক্তি

ট্রাম্প তার বক্তব্যে বারবার উল্লেখ করেন যে, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব “বিপজ্জনক” এবং তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি অতীতের বিভিন্ন হামলার উদাহরণ তুলে ধরে ইরানকে “সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত” হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল।

জ্বালানি রাজনীতি ও হরমুজ প্রসঙ্গ

ট্রাম্প তার ভাষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বার্তাও দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং হরমুজ প্রণালী রক্ষার দায়িত্ব সেই দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত, যারা এই নৌপথের ওপর নির্ভর করে।

তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধ শেষ হলে প্রাকৃতিকভাবেই হরমুজ প্রণালী খুলে যাবে এবং তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে। এই মন্তব্য বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশলগত অবস্থানকে তুলে ধরে, যেখানে ওয়াশিংটন নিজেকে সরাসরি নির্ভরশীলতার বাইরে রাখতে চায়।

ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গ ও বৈশ্বিক বার্তা

ভাষণে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও উল্লেখ করেন এবং এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি কৌশলগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক উন্নত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।

এই অংশটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে, ট্রাম্প তার পররাষ্ট্রনীতিকে একটি বৃহত্তর কৌশলগত কাঠামোর অংশ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন, যেখানে মধ্যপ্রাচ্য, লাতিন আমেরিকা এবং জ্বালানি রাজনীতি পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত।

যুদ্ধকে ‘বিনিয়োগ’ হিসেবে উপস্থাপন

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে ট্রাম্প যুদ্ধটিকে একটি “সফল বিনিয়োগ” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার মতে, এই সামরিক অভিযান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত করবে।

তিনি বলেন, এখন মার্কিন জনগণ আর ইরানের হামলার হুমকির মুখে নেই এবং দেশটি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্লেষণ: বিজয়ের বয়ান না কৌশলগত চাপ

ট্রাম্পের এই ভাষণ একদিকে একটি বিজয়ের বয়ান তুলে ধরে, অন্যদিকে এটি একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবেও কাজ করছে। একদিকে তিনি সামরিক সাফল্যের কথা বলছেন, অন্যদিকে সম্ভাব্য আরও হামলার হুমকি দিয়ে আলোচনায় চাপ তৈরি করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য মূলত দ্বিমুখী কৌশলের অংশ, যেখানে সামরিক চাপ এবং কূটনৈতিক আলোচনাকে একসঙ্গে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে নির্দিষ্ট শর্তে রাজি করানোর চেষ্টা করা হয়।

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের ভাষণ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যেখানে সামরিক সাফল্যের দাবি, কূটনৈতিক চাপ এবং জ্বালানি রাজনীতি একসঙ্গে মিশে গেছে। তবে বাস্তবতা হলো, যুদ্ধের প্রকৃত ফলাফল এখনো অনিশ্চিত এবং এই সংঘাত কত দ্রুত শেষ হবে বা কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুদ্ধের পাশাপাশি বয়ান এবং কৌশলগত অবস্থান নিয়েও লড়াই চলছে, যা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৭ ১১:৫৮:০০
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা (PHEIC) ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। রোববার (১৭ মে) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের তথ্য জানানো হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো বৈশ্বিক মহামারির মানদণ্ডে পৌঁছায়নি বলে আশ্বস্ত করেছে সংস্থাটি।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস জানিয়েছেন, বর্তমানে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা ও রোগের ভৌগোলিক বিস্তার নিয়ে ‘বিরাট অনিশ্চয়তা’ রয়েছে। এবারের প্রাদুর্ভাবটি মূলত ইবোলার ‘বুন্ডিবুগিও’ নামক একটি বিশেষ ভাইরাসজনিত স্ট্রেইন, যার বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা টিকা তৈরি হয়নি। ইতিমধ্যে কঙ্গোর সীমানা ছাড়িয়ে প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও এই ভাইরাসটি পৌঁছে গেছে, যেখানে ৫৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যুসহ দুটি নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবাধ মানুষের চলাচল ও বাণিজ্যের কারণে ডিআর কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশগুলোকে উচ্চ ঝুঁকিতে রাখা হয়েছে। রোগ পর্যবেক্ষণ, সংক্রমণ শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার জন্য ডব্লিউএইচও ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডাকে দ্রুত ‘জরুরি অপারেশন সেন্টার’ স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে। আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখা এবং ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে করা দুটি টেস্টের ফল নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত অবমুক্ত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে এই প্রাদুর্ভাবকে কেন্দ্র করে আক্রান্ত অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর সীমান্ত বন্ধ করা বা ভ্রমণ ও বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই বলে সাফ জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। ১৯৭৬ সালে কঙ্গোতেই প্রথম শনাক্ত হওয়া বাদুড়বাহিত এই ভাইরাসের এটি দেশটির ১৭তম প্রাদুর্ভাব, যাতে গড়ে মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ।

/আশিক


চীন সফর শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুঙ্কার: পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৭ ১১:৪৮:৪৭
চীন সফর শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুঙ্কার: পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের প্রথম লাইন পড়েই তা ছুড়ে ফেলে দেওয়ার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীন সফর শেষে দেশে ফিরে ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম ‘বিএফএমটিভি’-কে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি দ্রুত সমঝোতায় না আসে তবে তাদের সামনে "খুব খারাপ সময়" অপেক্ষা করছে। পশ্চিম এশিয়ায় যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে মেগা হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই নতুন হুঙ্কার সংঘাতের আবহকে আরও উসকে দিল।

সাক্ষাৎকারে ইরানের সাথে কোনো চুক্তি আসন্ন কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, "আমার কোনো ধারণা নেই। তবে যদি ওরা সমঝোতা না করে, ওদের খুব খারাপ সময় দেখতে হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, চুক্তিতে আসার পেছনে খোদ ইরানেরই বড় স্বার্থ রয়েছে—যা মূলত হামলা হলে তেহরানের অপূরণীয় অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক শেষে ফেরার পথেই ট্রাম্প ইরান নিয়ে তাঁর এই তীব্র অসন্তোষের কথা জানান।

ইরান সম্প্রতি ওয়াশিংটনের কাছে একটি লিখিত সমঝোতার প্রস্তাব পাঠালেও তা পুরোপুরি ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে প্রথম লাইন পড়েই ট্রাম্প বাতিল করে দেন। অন্যদিকে, কৌশলগত মিত্র হলেও হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের পণ্যবাহী জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে বেইজিংও সংকটের সমাধান চায়; তবে এ বিষয়ে ট্রাম্প জিনপিংকে কোনো চাপ দেওয়ার আবদার করেননি বলে নিশ্চিত করেছেন।

কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পেন্টাগন ও ইসরায়েলি বাহিনী ধরে নিয়েছে যুদ্ধ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ওয়াশিংটন থেকে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পেলেই ইরানের সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হতে পারে। অবশ্য গত মাসেই ইরানের সাথে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প।

তবে ওয়াশিংটনের এই যুদ্ধ যুদ্ধ খামখেয়ালিপনা নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র একাধারে যুদ্ধবিরতি ও নতুন হামলার পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিত দিয়ে পুরো বিষয়টিকে তামাশায় পরিণত করছে।

সূত্র: আনন্দবাজার


মধ্যপ্রাচ্যে মেগা যুদ্ধের কাউন্টডাউন, ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৭ ১১:০৮:৪৫
মধ্যপ্রাচ্যে মেগা যুদ্ধের কাউন্টডাউন, ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক শান্তি আলোচনা পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ায় আগামী সপ্তাহের মধ্যেই দেশটিতে যৌথ সামরিক হামলা চালাতে পারে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘমেয়াদি ও বিধ্বংসী যুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে ইতিমধ্যে দুই দেশই তাদের ব্লুপ্রিন্ট সাজিয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ মে) মধ্যপ্রাচ্যের দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ এই বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধ এখন অত্যাসন্ন এবং তারা কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে এবার ইরানের ওপর আগের চেয়েও বহুগুণ তীব্র ও নজিরবিহীন বোমাবর্ষণ করা হবে। এবারের হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু (টার্গেট) হবে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান লাইফলাইন ‘খার্গ দ্বীপ’ সামরিকভাবে দখল করার ছক তৈরি করেছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব।

একই সঙ্গে আরও একটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ গোপন অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে; যার অধীনে ইরানের মূল ভূখণ্ডে বিশেষ কমান্ডো বাহিনী পাঠিয়ে তাদের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম জব্দ করে নিয়ে আসা হবে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ইউরেনিয়াম জব্দের অভিযানটি হবে অত্যন্ত রক্তক্ষয়ী, কারণ কমান্ডোদের সহায়তায় কয়েক হাজার সেনার ব্যাকআপ রাখতে হবে—যাদের সাথে ইরানি বাহিনীর সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধ বেঁধে গিয়ে বিপুল সেনা হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল-১২’ কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ ইসরায়েলি কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, "আমেরিকানরা এখন পরিষ্কার বুঝতে পেরেছে যে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো কূটনৈতিক সমাধান আসবে না। আমরা আগামী কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের একটি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।" অবশ্য এই যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর আগের ‘চিরজীবনের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের’ কড়া শর্ত থেকে কিছুটা নরম সুরে ফিরে এসেছেন। চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পথে তিনি জানিয়েছেন, ইরান যদি লিখিতভাবে সত্যিকার অর্থে আগামী ২০ বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে তিনি সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে পারেন।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস


সন্ত্রাসবাদে মদদ দিলে বিশ্ব মানচিত্র থেকে মুছে যাবে পাকিস্তান: ভারতের সেনাপ্রধান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ২১:৫৯:৪৪
সন্ত্রাসবাদে মদদ দিলে বিশ্ব মানচিত্র থেকে মুছে যাবে পাকিস্তান: ভারতের সেনাপ্রধান
ছবি : সংগৃহীত

সীমান্তে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কার্যকলাপ অব্যাহত রাখলে পাকিস্তানকে বিশ্ব মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। শনিবার (১৬ মে) দিল্লির মানেকশ সেন্টারে ‘ইউনিফর্ম আনভেইলড’ আয়োজিত এক ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে তিনি পাকিস্তানকে এই চরম হুমকি ও সতর্কবার্তা দেন।

অনুষ্ঠানে ভারতের সেনাপ্রধানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, গত বছরের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো পরিস্থিতি আবার তৈরি হলে ভারতীয় সেনাবাহিনী কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। জবাবে জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালানো অব্যাহত রাখে, তাহলে দেশটিকে ঠিক করতে হবে তারা ভূগোলের অংশ থাকবে, নাকি ইতিহাস হয়ে যাবে।” ‘সেনা সংবাদ’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে দেওয়া সেনাপ্রধানের এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু আক্রমণাত্মক বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদবিরোধী অবস্থানে ভারতের কঠোর মনোভাবই পুনরুল্লেখ হয়েছে।

ভারতের এই নতুন হুমকির নেপথ্যে রয়েছে বিগত বছরের এক রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাত। গত বছরের ৭ মে কাশ্মীরের পেহেলগামে একটি প্রাণঘাতী হামলার জবাবে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের (পিওকে) বিভিন্ন ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে এক নিখুঁত ও আকস্মিক বিমান ও সামরিক হামলা চালায় নয়াদিল্লি।

এর পরপরই পাকিস্তানও ভারতের বিরুদ্ধে পাল্টা বিমান ও সামরিক অভিযান শুরু করে। দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে প্রায় ৮৮ ঘণ্টাব্যাপী তীব্র সামরিক সংঘাত চলার পর ১০ মে এক যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

যুদ্ধবিরতির এক বছর পার হতেই ভারতের সেনাপ্রধানের মুখ থেকে পাকিস্তানকে ‘ইতিহাস বানিয়ে দেওয়ার’ এমন নজিরবিহীন সামরিক হুঁশিয়ারি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে আবারও চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

/আশিক


হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন নৌ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা: বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কাঁপন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ২১:৫০:০৫
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন নৌ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা: বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কাঁপন
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও চলমান তীব্র আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে তেহরানের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে বড় ধরনের উদ্বেগ ও অস্থিরতা তৈরি করেছে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি এই পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিরাপত্তার কাঠামোর আওতায় এই নতুন নৌ চলাচল ব্যবস্থা প্রস্তুত করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার অধীনে একটি সুনির্দিষ্ট ও নির্ধারিত রুটের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং খুব শিগগিরই এর পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

ইব্রাহিম আজিজি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় সব ধরনের জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। কেবল সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক থাকা পক্ষগুলোই এই রুট ব্যবহারের অনুমতি পাবে। পাশাপাশি, এই রুটে বিশেষ সেবা দেওয়ার বিপরীতে জাহাজগুলোর কাছ থেকে নির্ধারিত ফি বা মাশুলও আদায় করবে তেহরান।

সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হলো, ইরানি এই কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন যে, ‘তথাকথিত স্বাধীনতা প্রকল্পের’ পরিচালনাকারীদের জন্য এই রুট সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘স্বাধীনতা প্রকল্প’ বলতে ইরান মূলত লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক নৌ অভিযান ও সামরিক উপস্থিতির দিকেই সরাসরি ইঙ্গিত করেছে।

ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত এই কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন ‘চোকপয়েন্ট’। প্রতিদিন বিশ্বে পরিবাহিত মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ বা এক-পঞ্চমাংশ এই সরু পথটি দিয়েই পারাপার হয়। ফলে, এই প্রণালিতে ইরানের যেকোনো ধরনের একতরফা নিয়ন্ত্রণ বা সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করে বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

/আশিক


গাজায় ইসরায়েলের বিধ্বংসী বিমান হামলা: হামাসের সামরিক প্রধান হাদ্দাদ নিহত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ১৯:২৮:১০
গাজায় ইসরায়েলের বিধ্বংসী বিমান হামলা: হামাসের সামরিক প্রধান হাদ্দাদ নিহত
ছবি : সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সামরিক শাখার প্রধান ইজ্জ আদ-দিন আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবারের (১৫ মে) এই হামলায় তাঁর নিহত হওয়ার খবরটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করার পর, রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী হামাসের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রও তা নিশ্চিত করেছে।

শনিবার (১৬ মে) এক বিবৃতিতে আইডিএফ চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়ার জামির এই অভিযানকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অভিযানিক সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী এবং হামাসের শীর্ষ সামরিক নেতা ছিলেন এই হাদ্দাদ।

২০২৫ সালের মে মাসে ইসরায়েলি হামলায় মোহাম্মদ সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর হাদ্দাদ গাজায় হামাসের সামরিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। ইসরায়েলের দাবি, তিনি হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক ও সেনা হত্যা এবং অপহরণের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন। মুক্ত হওয়া জিম্মিদের দেওয়া তথ্যে বারবার হাদ্দাদের নাম উঠে এসেছিল।

হামাস সূত্রে জানা গেছে, ‘ভূত’ নামে পরিচিত হাদ্দাদ এর আগেও ইসরায়েলের একাধিক সুনির্দিষ্ট গুপ্তহত্যার চেষ্টা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন। ১৯৭০ সালে জন্ম নেওয়া এই নেতা ১৯৮০-এর দশকে হামাস প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটির সাথে যুক্ত ছিলেন। হামাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও, সংগঠনটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার মধ্য গাজার আল আকসা শহীদ মসজিদে হাদ্দাদ, তাঁর স্ত্রী ও ১৯ বছর বয়সী মেয়ের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। তবে হাদ্দাদের স্ত্রী ও সন্তান একই বিমান হামলায় নাকি ভিন্ন কোনো উপায়ে মারা গেছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শুক্রবার গাজায় ইসরায়েলের দুটি পৃথক বিমান হামলায় তিন নারী ও এক শিশুসহ অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, আইডিএফ এই সুনির্দিষ্ট হামাস নেতাকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্য করেই বিমান হামলাটি চালিয়েছিল এবং লক্ষ্য অর্জনে তারা সফল হয়েছে।

হাদ্দাদের এই আকস্মিক মৃত্যুতে গাজায় হামাসের সামরিক চেইন অব কমান্ড বড় ধরনের ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন যুদ্ধ বিশ্লেষকরা।

/আশিক


২৪ ঘণ্টায় অর্ধশতাধিক ভূমিকম্প: লাভা ছড়াচ্ছে ফিলিপাইনের মায়ন আগ্নেয়গিরি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ১৮:৪১:৩৬
২৪ ঘণ্টায় অর্ধশতাধিক ভূমিকম্প: লাভা ছড়াচ্ছে ফিলিপাইনের মায়ন আগ্নেয়গিরি
ছবি : সংগৃহীত

ফিলিপাইনের সবচেয়ে সক্রিয় ও বিপজ্জনক মায়ন আগ্নেয়গিরিতে নতুন করে তীব্র অস্থিরতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আগ্নেয়গিরিটির অভ্যন্তরে কয়েক ডজন শক্তিশালী ভূমিকম্প ও কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা। এর ফলে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শনিবার ফিলিপাইন আগ্নেয়গিরি ও ভূকম্পবিদ্যা ইনস্টিটিউটের (ফিভলক্স) বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানায়, গত এক দিনে মায়ন আগ্নেয়গিরিতে ৫১টি আগ্নেয় ভূমিকম্প, ৩০টি আগ্নেয় কম্পন, শত শত শিলা ধস এবং ৬টি পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহের (উত্তপ্ত গ্যাস ও পাথরের দ্রুততম প্রবাহ) সংকেত শনাক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরির মূল গহ্বর থেকে অনবরত জ্বলন্ত লাভা বের হচ্ছে এবং লাভার এই প্রবাহ বাসুদ, বংগা ও মি-ইসি এলাকার দিকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। মাঝে মাঝে গহ্বর থেকে লাভার উঁচুতর ফোয়ারাও দেখা যাচ্ছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, শুক্রবার আগ্নেয়গিরিটি থেকে রেকর্ড ১ হাজার ৪৮২ টন সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়েছে, যা আগের দিনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। বিষাক্ত এই গ্যাসের কারণে সৃষ্ট বিশাল ধোঁয়ার স্তম্ভ বাতাসের গতিপথে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ছড়িয়ে পড়ছে, যা ওই অঞ্চলের বাতাস ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ আগ্নেয়গিরির চারপাশের ৬ কিলোমিটার এলাকাকে ‘স্থায়ী বিপৎসীমা’ (Permanent Danger Zone) ঘোষণা করে জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ওই অঞ্চলের আকাশসীমা ব্যবহার না করার জন্য সব ধরনের বেসামরিক বিমান চলাচলের ওপর বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ফিভলক্স আগ্নেয়গিরির পাদদেশে এবং ঢালে বসবাসকারী হাজার হাজার বাসিন্দাদের লাভা প্রবাহ, আকস্মিক শিলা ধস, মাঝারি মাত্রার বিস্ফোরণ এবং ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ‘লাহার’ বা বিপজ্জনক কাদাপ্রবাহের ঝুঁকি সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

/আশিক


চীন সফর শেষে তাইওয়ান ইস্যুতে সুর বদলালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ১২:২৯:০২
চীন সফর শেষে তাইওয়ান ইস্যুতে সুর বদলালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

তাইওয়ানকে চীনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা না করতে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীন সফর শেষে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষেই তিনি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটন এই মুহূর্তে তাইওয়ান ইস্যুতে কোনো ধরনের উত্তেজনা বাড়াতে চায় না এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখাই সবার জন্য মঙ্গলজনক।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি চান না তাইওয়ান স্বাধীনতা ঘোষণা করে বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করুক। তাঁর ভাষায়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও তাইওয়ানে কোনো যুদ্ধ বা স্বাধীনতা আন্দোলন দেখতে চান না। তবে তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে (লাই চিং) আগেই তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে, তাইওয়ানের আলাদা করে নতুন করে স্বাধীনতা ঘোষণার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ তারা নিজেদের আগে থেকেই একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এক অভিনব বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বলেন, “যদি তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ বাঁধে, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মাইল দূরে গিয়ে লড়াই করতে হবে, যা আমি কোনোভাবেই চাই না।” মূলত দূরবর্তী কোনো ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়ানোর চেয়ে ট্রাম্প প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষেই নিজের অনীহা প্রকাশ করেছেন। তবে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে সামরিকভাবে রক্ষা করবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সবসময় কৌশলী ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন। শি জিনপিং বলেন, তাইওয়ান ইস্যুটি চীনের রেড লাইন বা সর্বোচ্চ সংবেদনশীল বিষয়। এটি সঠিকভাবে সামাল দিতে ব্যর্থ হলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দুই পরমাণু শক্তিধর দেশ সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। চীন বরাবরের মতোই দাবি করে আসছে যে তাইওয়ান তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করেও তারা দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেবে।

যদিও ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এক চীন নীতি’ (One China Policy) মেনে চলার এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন না করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন, তবুও পর্দার আড়ালের সামরিক সমীকরণ ভিন্ন। গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাইওয়ানের প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের একটি বিশাল অস্ত্র চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার অধীনে আধুনিক রকেট লঞ্চার ও ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার কথা দ্বীপ রাষ্ট্রটির। বেইজিং এই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা পুরোপুরি এগিয়ে নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তাঁর প্রশাসন খুব শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

সূত্র: বিবিসি


যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম বৃদ্ধির মাঝেই গ্যাস স্টেশনে হ্যাকিং: অস্বস্তিতে ট্রাম্প প্রশাসন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ১২:০১:২০
যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম বৃদ্ধির মাঝেই গ্যাস স্টেশনে হ্যাকিং: অস্বস্তিতে ট্রাম্প প্রশাসন
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গ্যাস স্টেশনগুলোর জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় (এটিজি) বড় ধরনের সাইবার অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। পাসওয়ার্ডহীন ও ইন্টারনেটে উন্মুক্ত থাকা এই সিস্টেমে ঢুকে হ্যাকাররা জ্বালানির প্রদর্শিত তথ্য পরিবর্তন করে দিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা ও তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রবল সন্দেহ, এই সুপরিকল্পিত হামলার পেছনে ইরান-সমর্থিত হ্যাকাররা জড়িত।

তদন্তকারী সূত্রগুলো জানিয়েছে, হ্যাকাররা গ্যাস স্টেশনগুলোর ‘অটোমেটিক ট্যাংক গেজ’ (এটিজি) সিস্টেমে প্রবেশ করতে সক্ষম হলেও এখন পর্যন্ত প্রকৃত জ্বালানির পরিমাণে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারেনি। এই অনুপ্রবেশে কোনো শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, হ্যাকাররা যদি এই সিস্টেমের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায়, তবে গ্যাস লিকের মতো বিপজ্জনক ঘটনাও তারা গোপন রাখতে পারবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে।

চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে সরাসরি সামরিক হামলা চালানোর সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় তেহরান সাইবার যুদ্ধকে বিকল্প কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতীতেও ইরান মার্কিন জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করায় দেশটিকে প্রধান সন্দেহভাজন ভাবা হচ্ছে। তবে অকাট্য ফরেনসিক প্রমাণের অভাবে চূড়ান্তভাবে দায়ী পক্ষকে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এই সাইবার হামলা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে এমনিতেই জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ইরান যুদ্ধ তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে সাইবার আতঙ্ক হ্যারিস বা ট্রাম্প শিবিরের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।

২০২১ সালে স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অভ্যন্তরীণ গোপন নথির বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, গ্যাস স্টেশনের এটিজি সিস্টেমকে তারা ভবিষ্যৎ সাইবার হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরান-ঘনিষ্ঠ হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক তেল, গ্যাস ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটিয়েছে।

এমনকি এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত ইমেইল ফাঁসের ঘটনাতেও ইরানি হ্যাকারদের নাম জড়িয়েছে। ইসরায়েলের জাতীয় সাইবার অধিদফতরের প্রধান ইয়োসি কারাদি জানান, ইরানি হ্যাকাররা এখন সাইবার হামলার পাশাপাশি সমন্বিত মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণাও চালাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, কেবল অবকাঠামো নয়, আমেরিকার আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও ইরান বড় ধরনের তথ্যযুদ্ধ চালাতে পারে। ২০২০ ও ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনেও ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরে হ্যাকিং এবং ভোটারদের বিভ্রান্ত করার পেছনে ইরানি হ্যাকারদের দায়ী করা হয়েছিল। সাবেক মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তা ক্রিস ক্রেবস সতর্ক করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সহায়তায় এখন খুব কম খরচে এবং দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা মার্কিন গণতন্ত্রের জন্য এক অদৃশ্য হুমকি।

সূত্র: সিএনএন

পাঠকের মতামত: