ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে আমিরাত? হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার বড় পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ১২:৫৮:০৭
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে আমিরাত? হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার বড় পরিকল্পনা
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ৩২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক বড় ধরনের মেরুকরণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে এবার সরাসরি সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা নিরসনেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে আবুধাবি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং এশিয়ার কয়েকটি শক্তিশালী দেশ নিয়ে একটি সামরিক জোট গঠনের জোর আহ্বান জানিয়েছে। এই জোটের মূল লক্ষ্য হবে প্রয়োজনে সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালিকে ইরানের কবল থেকে মুক্ত করা। আমিরাতের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে সামরিক ভূমিকা ঠিক কী হতে পারে, তা নিয়ে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা সরাসরি এই তথ্য অস্বীকার করেনি; বরং জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল স্বাধীন রাখতে একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক ঐক্যমত্য তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিবাদে ইরান এই জলপথটি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। আমিরাতের এই সম্ভাব্য সামরিক অংশগ্রহণের খবর মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আমিরাত যদি সরাসরি এই অভিযানে অংশ নেয়, তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের পরিধি কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদী মন্দার ছায়া ফেলবে।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল


হরমুজ প্রণালির মুখে আগুন! ইরানের বাণিজ্যিক বন্দরে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ১২:৩১:০১
হরমুজ প্রণালির মুখে আগুন! ইরানের বাণিজ্যিক বন্দরে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনী। বুধবার (১ এপ্রিল) কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির সন্নিকটে অবস্থিত শহীদ হাক্কানি বন্দরে এই নজিরবিহীন হামলা চালানো হয় বলে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে। এই হামলার ফলে ওই অঞ্চলে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

হরমোজগান প্রদেশের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও সামাজিক বিষয়ক উপ-গভর্নর আহমদ নাফিসি জানিয়েছেন, আক্রান্ত এই শহীদ হাক্কানি বন্দরটি মূলত সাধারণ যাত্রী পরিবহন এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হতো। এটি কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না। হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি বিশাল একটি অগ্নিনির্বাপক বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এই আকস্মিক ও বিধ্বংসী হামলায় কী পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা ঠিক কতজন মানুষ হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি নাফিসি। বর্তমানে উদ্ধারকর্মীরা বিধ্বস্ত এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটির অন্তত ১,৩৪০ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। শহীদ হাক্কানি বন্দরের মতো একটি সম্পূর্ণ অসামরিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা এই যুদ্ধের তীব্রতাকে এক ভয়াবহ রূপ দিয়েছে। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তেহরানও। তারা জানিয়েছে, ইসরায়েল ছাড়াও জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে তারা নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই এক মাসের যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কেবল দুই দেশের প্রাণহানিই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত, যেখান দিয়ে বৈশ্বিক তেলের একটি বিশাল অংশ পরিবাহিত হয়। এই সংঘাতের ফলে নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম গত কয়েক সপ্তাহে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর এই ধারাবাহিক হামলা মূলত ইরানের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। অন্যদিকে, তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হলে তারা এর ‘দাঁতভাঙা’ জবাব দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পুরো বিশ্ব অর্থনীতি একটি গভীর মন্দার দিকে ঢেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


যুদ্ধের ১ মাস: ১৬ হাজার গোলাবারুদ আর ৮০০ বিমান হামলায় বিধ্বস্ত ইরান!

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ১১:০৫:৫২
যুদ্ধের ১ মাস: ১৬ হাজার গোলাবারুদ আর ৮০০ বিমান হামলায় বিধ্বস্ত ইরান!
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রথম মাস পূর্ণ হতেই সংঘাতের এক ভয়াবহ পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের এক মাসের অভিযানের বিস্তারিত খতিয়ান প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, গত এক মাসে ইরানের অভ্যন্তরে ৮০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালানো হয়েছে এবং প্রায় ১৬ হাজার বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে আইডিএফ (IDF)।

ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, এই হামলায় ২ হাজারেরও বেশি ইরানি সৈন্য ও কমান্ডার নিহত হয়েছেন এবং ৪ হাজার লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের এই বিশাল সংখ্যার বিপরীতে ইরান এক ভিন্ন ও হৃদয়বিদারক চিত্র তুলে ধরেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৯৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যার মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, নিহতদের মধ্যে ২৪০ জন নারী এবং ২১২ জন শিশু রয়েছে; এমনকি আট মাস বয়সী এক শিশুও এই যুদ্ধের বলি হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অতীতেও বেসামরিক নাগরিকদের 'যোদ্ধা' হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের একটি ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছিল যে, ইসরায়েল যাদের যোদ্ধা দাবি করেছিল, বাস্তবে তাদের মাত্র ১৭ শতাংশ ছিল সক্রিয় লড়াকু। ফলে ইরানের ক্ষেত্রেও ইসরায়েলের দেওয়া নিহতের সংখ্যা এবং তাদের পরিচয় নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখন তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিসংখ্যান যুদ্ধাপরাধের নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

/আশিক


ইরানের পক্ষে লড়বে চেচেন যোদ্ধারা! কাদিরভ বাহিনীর ‘জিহাদ’ ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ১০:১২:০৯
ইরানের পক্ষে লড়বে চেচেন যোদ্ধারা! কাদিরভ বাহিনীর ‘জিহাদ’ ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ এখন এক ভয়ংকর বৈশ্বিক রূপ নিতে যাচ্ছে। সোমবার (৩০ মার্চ) চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের অনুগত দুর্ধর্ষ ‘কাদিরভতসি’ যোদ্ধা বাহিনী ঘোষণা করেছে যে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট ইরানে কোনো স্থল অভিযান শুরু করলে তারা তেহরানের পক্ষে লড়তে রণক্ষেত্রে নামতে প্রস্তুত।

প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে চেচেন যোদ্ধারা এই সংঘাতকে ‘শুভ ও অশুভের’ লড়াই এবং মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করাকে ‘জিহাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে লড়ার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই বাহিনী এখন ইরানের সীমান্তে মোতায়েন হওয়ার অপেক্ষায় আছে।

অন্যদিকে, এই যুদ্ধে ইউক্রেনের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি দাবি করেছেন যে, কিয়েভ এই অঞ্চলে ‘শত শত বিশেষজ্ঞ’ পাঠিয়েছে যারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছে।

ইরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে, ইউক্রেনের এই হস্তক্ষেপ যুদ্ধের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করবে এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনিকে হত্যার পর শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন চেচেন যোদ্ধা এবং ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে একটি বৈশ্বিক প্রক্সি যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে।

বর্তমানে ইরানও বসে নেই; তারা ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান ও মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে মিনাবে ১৭০ জন স্কুলছাত্রসহ অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনায় ইরানিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

চেচেন যোদ্ধাদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এবং ইউক্রেনের হস্তক্ষেপের খবর এই সংঘাতের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্ব সম্প্রদায় এখন রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছে যে, শেষ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী স্থল অভিযানে নামে কি না এবং চেচেন যোদ্ধারা সরাসরি এই লড়াইয়ে যোগ দেয় কি না।

সূত্র: প্যালেস্টাইন করনিকলস


কুয়েত বিমানবন্দরে ভয়াবহ ড্রোন হামলা! জ্বালানি ডিপোতে আগুনের লেলিহান শিখা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ০৯:৩৪:২৭
কুয়েত বিমানবন্দরে ভয়াবহ ড্রোন হামলা! জ্বালানি ডিপোতে আগুনের লেলিহান শিখা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনা এবার কুয়েত ও বাহরাইনে আছড়ে পড়ল। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ডিপো এবং বাহরাইনের একটি বাণিজ্যিক স্থাপনায় ইরানের ভয়াবহ ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এই জোড়া হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলে নতুন করে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা (KUNA) জানিয়েছে, ড্রোন হামলায় বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার পরপরই বিশাল এলাকাজুড়ে আগুনের কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস লড়াই করছে। কুয়েত বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, ডিপোটি লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

কুয়েতের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রতিবেশী দেশ বাহরাইনেও ইরানি ড্রোনের আঘাত হেনেছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্থাপনায় ড্রোনের আঘাতে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে জরুরি সেবা বিভাগ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। প্রায় একই সময়ে দুই দেশে এই সুসংগঠিত ড্রোন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ৩২ দিনের এই ছায়া যুদ্ধ এখন আর কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি পারস্য উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোকেও গ্রাস করতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মাঝেই কুয়েত ও বাহরাইনকে লক্ষ্যবস্তু করে ইরান তার সামরিক শক্তির জানান দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন


হরমুজ প্রণালি: ট্রাম্পের গলার কাঁটা? কেন এই জলপথ ইরানকে দিচ্ছে বাড়তি শক্তি

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ০৯:১৮:৩০
হরমুজ প্রণালি: ট্রাম্পের গলার কাঁটা? কেন এই জলপথ ইরানকে দিচ্ছে বাড়তি শক্তি
ছবি : সংগৃহীত

সামরিক শক্তিতে বিশ্বের এক নম্বর দেশ হয়েও ইরানের বিরুদ্ধে কেন দ্রুত জয় পাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র? এই প্রশ্নটি এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার তুঙ্গে। আলজাজিরা ও সিএনএন-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের কিছু সুনির্দিষ্ট কৌশলগত শক্তির কাছে হোয়াইট হাউসের শক্তিশালী সামরিক পরিকল্পনা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ভৌগোলিক অবস্থান। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ইরান এই জলপথটি আংশিক বা পুরোপুরি অচল করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে গেলেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিচ্ছে, যা খোদ আমেরিকার ভেতরেও তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ইরান সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে কৌশলগত লড়াইয়ে বেশি সফল। মাত্র কয়েকটি নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়েই তারা বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে দ্রুত বিজয়ের আশা করলেও এখন তারা কৌশল বদলাতে বাধ্য হয়েছে। পূর্ণমাত্রার হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো (যেমন সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাত) ইরানের পাল্টা আঘাতের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক চাপ। যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবে দীর্ঘমেয়াদী স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে থাকে, তবে দেশের ভেতরে জনমত ট্রাম্পের বিপক্ষে চলে যাবে। বিশেষ করে ট্রাম্পের সমর্থকদের একটি বড় অংশ চায় না আমেরিকা আবারও কোনো ব্যয়বহুল বিদেশি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ুক।

ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল বা ধ্বংস করা আমেরিকার জন্য খুব কঠিন কাজ নয়। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি করলেই যুদ্ধ শেষ হবে না। বরং এতে ইরান আরও কঠোরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং গেরিলা কায়দায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করবে। ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে না পারলেও, যুদ্ধকে প্রলম্বিত করে তারা ওয়াশিংটনকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্লান্ত করে দিচ্ছে।

/আশিক


চীনের ৫ দফা প্রস্তাব! ইরান যুদ্ধ থামাতে বেইজিং-ইসলামাবাদ ঐতিহাসিক চুক্তি

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ২১:২৮:১৭
চীনের ৫ দফা প্রস্তাব! ইরান যুদ্ধ থামাতে বেইজিং-ইসলামাবাদ ঐতিহাসিক চুক্তি
ছবি : সংগৃহীত

রান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ৩২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরের শান্তি আলোচনার উদ্যোগের পর এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছে এশীয় পরাশক্তি চীন। বেইজিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর পারস্য উপসাগরে শান্তি পুনরুদ্ধারে একটি ‘পাঁচ দফা’ প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়েছে।

শান্তি পুনরুদ্ধারে চীন ও পাকিস্তানের ৫ দফা প্রস্তাব

১. যেকোনো মূল্যে বর্তমান যুদ্ধাবস্থা থামাতে হবে এবং এই সংঘাত যাতে অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

২. ইরানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা বজায় রেখে যত দ্রুত সম্ভব আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু করতে হবে। এই প্রক্রিয়া সফল করতে চীন ও পাকিস্তান সব পক্ষকে মধ্যস্থতায় সহায়তা করবে।

৩. সাধারণ মানুষ এবং অ-সামরিক স্থাপনা বা লক্ষ্যবস্তুর ওপর যেকোনো ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

৪.বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নৌ-চলাচল পথ নিরাপদ ও বাধাহীন রাখতে হবে।

৫. জাতিসংঘ সনদের মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যাপকভিত্তিক শান্তি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এই শান্তি প্রস্তাব এমন এক সময়ে এল যখন ওদিকে ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি না খুলেই যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। চীন ইরানের অন্যতম বড় অংশীদার হওয়ায় এবং পাকিস্তান ঐতিহাসিকভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করায়, এই ‘পাঁচ দফা’ প্রস্তাবকে যুদ্ধের মোড় ঘোরানোর একটি বড় কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বেইজিংয়ের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ ওয়াশিংটনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা।


মেজর জেনারেল এসঘাঘি নিহত! সপরিবারে প্রাণ হারালেন ইরানের শীর্ষ সেনাকর্তা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৯:৫৭:৩৮
মেজর জেনারেল এসঘাঘি নিহত! সপরিবারে প্রাণ হারালেন ইরানের শীর্ষ সেনাকর্তা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সামরিক বাহিনীর ওপর আবারও এক বড় ধরনের আঘাত এল। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মঙ্গলবার এক শোকাবহ বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জামশিদ এসঘাঘি এক ভয়াবহ হামলায় নিহত হয়েছেন। তিনি ইরানের চিফ অব জেনারেল স্টাফের উপদেষ্টা হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আইআরজিসির বিবৃতির বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই হামলায় কেবল জেনারেল এসঘাঘিই নন, তাঁর সঙ্গে থাকা পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন। তবে অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে দেওয়া এই বিবৃতিতে হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান, সময় কিংবা ঠিক কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা জনিত কারণেই বিষয়গুলো গোপন রাখা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর একের পর এক লক্ষ্যভেদী হামলার ঘটনা ঘটছে, যা তেহরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতার মাঝে এমন একজন হাই-প্রোফাইল জেনারেলের সপরিবারে নিহত হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আল-জাজিরা


এবার ইরাকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা!

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৭:৫৪:০৫
এবার ইরাকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা!
ছবি : সংগৃহীত

ইরাকের ভূখণ্ডে এবার সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনী। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোরে ইরাকের সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থিত সংগঠন পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ইরাকের কৌশলগত বিভিন্ন অবস্থানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে।

পিএমএফ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জুর্ফ আল-নাসর এলাকায় তাদের ‘ব্রিগেড ৪৫’-এর ওপর তিনটি পৃথক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই পশ্চিম আনবার প্রদেশের কারমা এলাকায় ‘ব্রিগেড ৩১’-কে লক্ষ্য করে চতুর্থ হামলাটি পরিচালিত হয়। তবে অত্যন্ত শক্তিশালী এই আক্রমণ সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পিএমএফ মূলত ২০১৪ সালে আইএসআইএস জঙ্গিদের দমনে গঠিত হয়েছিল এবং ২০১৬ সাল থেকে এটি ইরাকের নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর একটি অংশ হিসেবে কাজ করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই ইরাকের সরকারি বাহিনীর ওপর এই হামলা নতুন করে যুদ্ধের ডালপালা মেলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসকে লক্ষ্যবস্তু করার অর্থ হলো ওই অঞ্চলে ইরান-পন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর শক্ত ঘাঁটিগুলো গুড়িয়ে দেওয়া। এই ঘটনার পর ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে মার্কিন-ইসরায়েলি এই আগ্রাসন পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

/আশিক


তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই টার্গেট! কেন খারগ দ্বীপ দখলের ঝুঁকি নিচ্ছেন ট্রাম্প?

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৩:০২:১৩
তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই টার্গেট! কেন খারগ দ্বীপ দখলের ঝুঁকি নিচ্ছেন ট্রাম্প?
ইরান খারগ দ্বীপে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরো জোরদার করেছে। ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সাম্প্রতিক সামরিক ইঙ্গিত বিশ্বরাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। পারস্য উপসাগরের উত্তরে অবস্থিত ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নিতে সেখানে মার্কিন সেনাবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে তিনি যে আভাস দিয়েছেন, তা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

দীর্ঘ সময় ধরে এই দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত, কারণ দেশটির মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের ওপর নির্ভরশীল। গভীর জলসীমার সুবিধাজনক অবস্থানের কারণে এখানে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের ট্যাঙ্কারগুলো অনায়াসে ভিড়তে পারে, যা প্রতিটি ২০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল পরিবহন করতে সক্ষম। এই বিশেষ গুরুত্বের কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন এখন খারগ দ্বীপকে তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে।

এই সামরিক পরিকল্পনার বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার প্যারাট্রুপার এবং ৫ হাজার শক্তিশালী নৌ-সেনা (মেরিন) ব্যবহারের জল্পনা চলছে। তাত্ত্বিকভাবে বলা হচ্ছে, মার্কিন কমান্ডোরা রাতের অন্ধকারে আকাশপথে অতর্কিতে হানা দিয়ে মাত্র ২০ বর্গকিলোমিটারের এই ছোট দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। তবে এই অভিযান সহজসাধ্য হবে না, কারণ মার্কিন জাহাজগুলোকে প্রথমেই ইরান নিয়ন্ত্রিত সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালির কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

এর পাশাপাশি ইরানের অসংখ্য লুক্কায়িত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের নজরদারি এড়িয়ে পারস্য উপসাগরের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া হবে এক অগ্নিপরীক্ষার মতো। ইতিম্যেধ ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কোনো মার্কিন বাহিনী সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের ওপর ‘আগুনের বৃষ্টি’ চালানো হবে।

বিশেষজ্ঞরা এই সম্ভাব্য অভিযানকে ইউক্রেনের স্নেক আইল্যান্ডের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করছেন। ২০২২ সালে রাশিয়া সেই দ্বীপটি দখল করলেও ইউক্রেনীয় মূল ভূখণ্ড থেকে অবিরাম গোলাবর্ষণের মুখে তা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। একইভাবে, খারগ দ্বীপ দখল করা গেলেও মূল ভূখণ্ড থেকে ধেয়ে আসা তীব্র ইরানি গোলাবর্ষণ অনির্দিষ্টকাল ধরে মোকাবিলা করা পেন্টাগনের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও প্রাণঘাতী হতে পারে।

এছাড়া পারস্য উপসাগরে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ রয়েছে, যেমন লারাক ও কেশম দ্বীপ। এর মধ্যে লারাক দ্বীপটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথে অবস্থিত এবং কেশম দ্বীপটি খারগ দ্বীপের চেয়ে প্রায় ৭৫ গুণ বড়, যেখানে ইরান মাটির নিচে বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি তৈরি করে রেখেছে বলে ধারণা করা হয়। এই দ্বীপগুলো ইরানের জন্য একটি শক্তিশালী সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে যা মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম।

পরিশেষে এটি লক্ষ্য করা গুরুত্বপূর্ণ যে, খারগ দ্বীপে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযান নিয়ে বর্তমানে এত বেশি আলোচনা হচ্ছে যে, এটি কোনো সুদূরপ্রসারী ধোঁকাবাজি বা ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনার একটি মনস্তাত্ত্বিক কৌশলও হতে পারে। যুদ্ধের এই পঞ্চম সপ্তাহে ট্রাম্প সোমবার আবারও জানিয়েছেন যে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।

অনেকের ধারণা, খোদ ট্রাম্প নিজেই একটি দ্রুত চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন এবং এই সামরিক হুমকিগুলো মূলত সেই চুক্তিতে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার জন্য ব্যবহার করছেন। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী স্থল অভিযানের পথ বেছে নেয় নাকি আলোচনার মাধ্যমে কোনো একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

তথ্যসূত্র- বিবিসি

পাঠকের মতামত: