ইসরাইলি সংসদে ফিলিস্তিনিদের ফাঁসি আইন পাস: বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১২:২০:৩২
ইসরাইলি সংসদে ফিলিস্তিনিদের ফাঁসি আইন পাস: বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া!
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের সংসদ নেসেটে সোমবার (৩০ মার্চ) অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার একটি বিতর্কিত আইন পাস হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি মিত্রদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে ৬২-৪৮ ভোটে এই আইনটি পাস হয়। আইনটি পাসের পর কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরকে সংসদ কক্ষে শ্যাম্পেন পান করে উদযাপন করতে দেখা যায়।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই আইন অনুযায়ী অধিকৃত পশ্চিম তীরে কোনো ইসরায়েলিকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য ফাঁসিই হবে স্বাভাবিক শাস্তি। গাজায় চলমান সামরিক অভিযান এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলার মধ্যেই এই আইনটি পাস হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলের নাগরিক অধিকার সমিতি ইতিমধ্যেই এই আইনের বিরুদ্ধে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছে।

ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূমির ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। হামাস এই আইনটিকে একটি বিপজ্জনক নজির হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের জীবনকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলবে। গাজা-ভিত্তিক ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কেন্দ্র (PCHR) একে ‘আইনের আড়ালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর থেকেও এই বৈষম্যমূলক আইনটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইসরায়েলের বাধ্যবাধকতাকে চরমভাবে লঙ্ঘন করে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আইন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে আরও উসকে দেবে এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়নের একটি নতুন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

সূত্র: আল জাজিরা


তেলের দাম কি ২০০ ডলার ছাড়াবে? ট্রাম্পের হুমকিতে বিশ্ববাজারে চরম অস্থিরতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১১:৩৫:২২
তেলের দাম কি ২০০ ডলার ছাড়াবে? ট্রাম্পের হুমকিতে বিশ্ববাজারে চরম অস্থিরতা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই সংঘাত যদি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ইরানের প্রধান জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা বা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে অপূরণীয় ধস নামবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ টামাস ভার্গা জানিয়েছেন, যদি প্রতিদিন বাজার থেকে প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেলের সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে এর ধাক্কা সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। বর্তমান পরিস্থিতির আগুনে ঘি ঢেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রয়োজনে ইরানের তেলের প্রাণকেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখল বা ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে। এমনটি ঘটলে ইরানের তেল রপ্তানি ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাবে।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশই সম্পন্ন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বর্তমানে আংশিকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় ইতোমধ্যেই জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এর আঁচ লাগতে শুরু করেছে ইউরোপেও; বিশেষ করে জার্মানি জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ না হলে কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতি এক দীর্ঘস্থায়ী মন্দার কবলে পড়তে পারে।

সূত্র : শাফাক নিউজ


পৈশাচিকতা! নিজের স্ত্রীকে ১২০ জন পুরুষের হাতে তুলে দিল স্বামী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১১:০৪:০৫
পৈশাচিকতা! নিজের স্ত্রীকে ১২০ জন পুরুষের হাতে তুলে দিল স্বামী
ছবি : সংগৃহীত

সুইডেনে নিজের স্ত্রীকে দেহব্যবসায় বাধ্য করা এবং অমানবিক নির্যাতনের এক রোমহর্ষক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দেশটির প্রসিকিউটর ৬২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন শোষণ, একাধিক ধর্ষণ এবং হামলার অভিযোগ গঠন করেছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পৈশাচিক ঘটনায় অন্তত ১২০ জন পুরুষ জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

তদন্তে উঠে এসেছে এক দীর্ঘমেয়াদী শোষণের চিত্র। অভিযুক্ত ব্যক্তি গত কয়েক বছর ধরে তার স্ত্রীকে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক লিপ্ত হতে বাধ্য করতেন। কেবল তাই নয়, এই অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনি নিজেই অনলাইনে বিজ্ঞাপন তৈরি করতেন, গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং লেনদেনের পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করতেন। এমনকি স্ত্রীকে আরও বেশি গ্রাহকের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে অনলাইনে বিভিন্ন যৌন কার্যকলাপে অংশ নিতেও চাপ দিতেন তিনি।

প্রসিকিউশনের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার স্ত্রীর মাদকাসক্তির সুযোগ নিতেন এবং নিয়মিত মাদক সরবরাহ করে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেন। কোনো প্রতিবাদ করলেই চলত অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই বিভীষিকার অবসান ঘটে গত বছরের অক্টোবরে, যখন স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

দেশটির প্রসিকিউটর এই ঘটনাকে 'নির্মম শোষণ' হিসেবে আখ্যায়িত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আটটি ধর্ষণের মামলাও দায়ের করেছেন। যদিও অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবুও পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আগামী ১৩ এপ্রিল থেকে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। পুরো সুইডেনজুড়ে এই ঘটনাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

/আশিক


দুবাই বন্দরে রণক্ষেত্র! কুয়েতের তেলবাহী জাহাজে নজিরবিহীন আক্রমণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১০:২৬:২২
দুবাই বন্দরে রণক্ষেত্র! কুয়েতের তেলবাহী জাহাজে নজিরবিহীন আক্রমণ
ছবি : সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দরে নোঙর করা কুয়েতের তেলবাহী বিশাল ট্যাংকার ‘আল-সালমি’ ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করে একে একটি ‘অপরাধমূলক হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

হামলার সময় ট্যাংকারটি সম্পূর্ণ তেলবোঝাই ছিল, যার ফলে জাহাজটির কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় উদ্ধারকারী দল নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, জাহাজে থাকা ২৪ জন নাবিককেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কেপিসি আশঙ্কা করছে, ট্যাংকারটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সমুদ্রের বিশাল এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক পরিবেশে এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।

এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক সমুদ্রপথগুলো এখন চরম ঝুঁকির মুখে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও দুবাই বন্দরের আশপাশে এ ধরনের হামলা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামকে মুহূর্তেই আকাশচুম্বী করে তুলতে পারে।

কুয়েত সরকার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা দায় স্বীকারের বার্তা পাওয়া যায়নি।

/আশিক


জ্বলছে তেহরান! কেন্দ্রবিন্দুতে ইসরায়েলি বাহিনীর অতর্কিত ও ব্যাপক আক্রমণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১০:১৯:০৩
জ্বলছে তেহরান! কেন্দ্রবিন্দুতে ইসরায়েলি বাহিনীর অতর্কিত ও ব্যাপক আক্রমণ
তেহরানজুড়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ছবি সংগৃহীত

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ইরানের রাজধানী তেহরানে ফের ভয়াবহ ও অতর্কিত সিরিজ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সিএনএনের লাইভ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ তেহরানের কেন্দ্রবিন্দুসহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ইরানি শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে এই ‘বৃহত্তর আকারের’ হামলার কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানি শাসনব্যবস্থার সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো।

আইডিএফের দাবি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের অন্তত ১৭০টি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তবে তেহরানের এই সাম্প্রতিক সিরিজ হামলায় ইরানের ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কতজন হতাহত হয়েছেন, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে।

যুদ্ধের এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান যদি নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চুক্তিতে আসে, তবে তিনি দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ করতে আগ্রহী। কিন্তু ট্রাম্পের এই সুরের ঠিক বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এখনই এই যুদ্ধ বন্ধ করার কোনো সময়সূচি বা ‘ডেডলাইন’ তিনি নির্ধারণ করতে রাজি নন। নেতানিয়াহুর এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত ও রক্তক্ষয়ী করার সংকেত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

/আশিক


যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে মার্কিন জ্বালানি সংকট, দাম বেড়ে নতুন রেকর্ড

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ০৮:২২:৩৯
যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে মার্কিন জ্বালানি সংকট, দাম বেড়ে নতুন রেকর্ড
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে গ্যাসোলিনের গড় মূল্য আবারও গুরুত্বপূর্ণ একটি মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করেছে, যা জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মূল্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডি–এর তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে প্রতি গ্যালন (প্রায় ৩.৭৮ লিটার) গ্যাসোলিনের দাম ৪ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঘটল।

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি দামে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে দেশটিতে গ্যাসোলিনের গড় মূল্য প্রায় ১.০৬ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ৩৬ শতাংশ উল্লম্ফন নির্দেশ করে।

এই মূল্যস্ফীতি কেবল বাজারের সাময়িক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং সরবরাহ শৃঙ্খল, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়ার সম্মিলিত ফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে তেলের সরবরাহ নিয়ে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, সর্বশেষ ২০২২ সালের আগস্টে একই ধরনের মূল্যসীমা অতিক্রম করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যখন রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছিল। সেই সময়ও সরবরাহ সংকট, নিষেধাজ্ঞা এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় জ্বালানির দাম কমানো এবং দেশীয় তেল ও গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে।

সূত্র: আল জাজিরা


সৌদি থেকে মার্কিন সেনা সরাতে ইরানের আহ্বান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ০৮:১৪:২৬
সৌদি থেকে মার্কিন সেনা সরাতে ইরানের আহ্বান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান সৌদি আরবকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্যে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরব থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, ইরান সৌদি আরবকে একটি ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ রাষ্ট্র হিসেবে দেখে এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। তবে একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, যারা আরব বিশ্ব কিংবা ইরানিদের মর্যাদা অস্বীকার করে, তাদের বিরুদ্ধেই তেহরানের সামরিক পদক্ষেপ পরিচালিত হচ্ছে।

তার পোস্টে ইরানের সাম্প্রতিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের ছবি যুক্ত করা হয়, যা প্রতীকীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন নয়, বরং আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি একটি কৌশলগত সংকেত, যেখানে ইরান নিজেকে প্রতিরোধমূলক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও যুদ্ধের সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে একটি স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক অভিযান চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এই মন্তব্য তুলে ধরেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই এই সময়সীমার কথা উল্লেখ করে আসছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতেও তার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং আলোচনার অগ্রগতি ইতিবাচক।

তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি সামরিক বিকল্পও যে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়নি, সেটিও স্পষ্ট করেছেন তিনি। বিশেষ করে ইরানে স্থল সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ না করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী সব ধরনের বিকল্প বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তবুও তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, কূটনৈতিক সমাধানই এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার।

সূত্র: বিবিসি


আইএলওতে তারেক রহমান সরকারের প্রতি ৪৭ দেশের সমর্থন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ০৮:১০:০২
আইএলওতে তারেক রহমান সরকারের প্রতি ৪৭ দেশের সমর্থন
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক শ্রমনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা–এর ৩৫৬তম গভর্নিং বডি অধিবেশনে বাংলাদেশকে ঘিরে অনুষ্ঠিত আলোচনায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। এই অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী ৪৭টি দেশ বর্তমান বাংলাদেশের সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন, সহযোগিতা এবং আস্থার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।

প্রতিনিধিরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকারের নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে তারেক রহমান–এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। এই স্বীকৃতি কেবল রাজনৈতিক বৈধতার প্রতিফলন নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী কাঠামোর গ্রহণযোগ্যতারও ইঙ্গিত বহন করে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা–এর কনভেনশন ৮১, ৮৭ ও ৯৮ বাস্তবায়নে ঘাটতির অভিযোগে একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ২০২১ সালে শ্রম খাত সংস্কারের জন্য একটি পাঁচ বছর মেয়াদি রোডম্যাপ প্রণয়ন করে, যা মূলত শ্রম অধিকার সুরক্ষা, ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা এবং শ্রম পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়।

এই রোডম্যাপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি ইতোমধ্যে একাধিক গভর্নিং বডি অধিবেশনে পর্যালোচিত হয়েছে। সর্বশেষ অধিবেশনে নবম অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলে তা অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিশেষ করে শ্রম আইন সংস্কার, শ্রম পরিদর্শন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পদক্ষেপগুলো প্রশংসিত হয়েছে।

আলোচনায় ১৯টি দেশ, দুটি আঞ্চলিক জোট এবং মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের উদ্যোগকে কার্যকর ও বাস্তবমুখী হিসেবে অভিহিত করেন। তারা চলমান প্রক্রিয়াটি দ্রুত সমাপ্ত করার জন্য জোর আহ্বান জানান, যা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক শ্রমমান পূরণে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে।

একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা বাংলাদেশের অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে রোডম্যাপের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য আরও কাঠামোগত ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করে। তারা বিশেষভাবে শ্রম আইন সংশোধন, শ্রম পরিদর্শক নিয়োগ বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা শ্রম অধিকার, সুশাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান, শ্রম খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

এই আলোচনায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ২২ সদস্যবিশিষ্ট আরব গ্রুপ, ৬ সদস্যের উপসাগরীয় অঞ্চলভিত্তিক জোট এবং নাইজার, চীন, রাশিয়া, জাপান, তানজানিয়া, ইরান, লিবিয়া, ওমান, ফিলিপাইন, নেপাল, তিউনিসিয়া, ইথিওপিয়া, লাওস, কিউবা, মোজাম্বিক, গ্যাবন ও উজবেকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে। তাদের একটি বড় অংশ চলমান প্রক্রিয়াটি দ্রুত প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতি আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

-রফিক


ইসরায়েলে তেল শোধনাগারে হামলা, আতঙ্কে বাসিন্দারা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ০৮:০৩:৫৫
ইসরায়েলে তেল শোধনাগারে হামলা, আতঙ্কে বাসিন্দারা
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী হাইফায় একটি তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিশাল আকারের সিলিন্ডার ট্যাংক থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশের দিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা ঘটনাটির তীব্রতা ও ঝুঁকির মাত্রা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাটি হাইফার শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত হাইফা শহরটি ইসরায়েলের তৃতীয় বৃহত্তম নগরী এবং দেশের একটি প্রধান সমুদ্রবন্দর হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। এই অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত সরাসরি জাতীয় অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘটনার পরপরই ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে সেনাবাহিনীর নিয়মিত ও রিজার্ভ উভয় ইউনিটকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা সম্ভাব্য বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় এড়াতে সহায়ক হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত এক মাস ধরে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ত্রিমুখী উত্তেজনা ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ইসরায়েল একই সময়ে ইরান এবং দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করে আসছে, যেখানে দক্ষিণ লেবানন কার্যত নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

এই প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং হিজবুল্লাহ যৌথভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হাইফার এই তেল শোধনাগারে ঠিক কোন পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফলে ঘটনাটি কেবল সামরিক সংঘাতের অংশ নয়, বরং গোয়েন্দা ও কৌশলগত অনিশ্চয়তারও প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র : এএফপি


ইসরায়েলে ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ হামলার দাবি হিজবুল্লাহর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ০৬:৫১:৩০
ইসরায়েলে ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ হামলার দাবি হিজবুল্লাহর
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে লেবাননভিত্তিক ইরানপন্থী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ সাম্প্রতিক সামরিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য তৎপরতার দাবি করেছে। গোষ্ঠীটির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারা ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে একযোগে মোট ৪৩টি পৃথক হামলা পরিচালনা করেছে, যা অঞ্চলজুড়ে সংঘাতের মাত্রা নতুন করে উসকে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার উদ্ধৃতি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, এসব হামলার একটি বড় অংশ সরাসরি লেবাননের ভূখণ্ডে অবস্থানরত ইসরায়েলি সামরিক ইউনিটগুলোর ওপর পরিচালিত হয়েছে। মোট হামলার মধ্যে ২৬টি সংঘটিত হয়েছে সীমান্তবর্তী লেবানন অঞ্চলে, যেখানে দুই পক্ষের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘর্ষ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে।

অন্যদিকে, অবশিষ্ট ১৭টি হামলা পরিচালিত হয়েছে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে, যা সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তৃতি বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ক্রস-বর্ডার আক্রমণ কেবল সামরিক উত্তেজনা নয়, বরং একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাবনাকেও সামনে নিয়ে আসে।

হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তাদের হামলাগুলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছে। গোষ্ঠীটির ভাষ্যমতে, এসব অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনীর চারটি সামরিক ঘাঁটি, আটটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা, একটি ব্যারাক এবং সীমান্ত এলাকায় সম্প্রতি স্থাপিত চারটি নতুন চৌকি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

যদিও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এসব দাবির তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি, তবুও এই ধরনের ধারাবাহিক হামলার দাবি অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র:আল জাজিরা

পাঠকের মতামত: