হামের লক্ষণ কীভাবে বুঝবেন, বাঁচতে কী করবেন

দেশে পুনরায় হাম রোগের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ভাইরাসজনিত এই অত্যন্ত সংক্রামক রোগটি বিশেষ করে শিশুদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া এই রোগ খুব দ্রুত একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে, ফলে পরিবার ও সমাজ পর্যায়ে দ্রুত বিস্তার লাভের আশঙ্কা থাকে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো মনে হওয়ায় অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি জটিল ভাইরাস সংক্রমণ, যা সময়মতো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মারাত্মক জটিলতায় রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে বা যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের জন্য এই রোগ আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
রোগের শুরুতে সাধারণত উচ্চমাত্রার জ্বর দেখা দেয়, যা অনেক ক্ষেত্রে ১০৩ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সর্দি, নাক দিয়ে পানি পড়া, শুকনো কাশি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া। অনেক ক্ষেত্রে চোখে পানি পড়া এবং আলো সহ্য করতে না পারার সমস্যাও দেখা যায়, যা রোগের অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
পরবর্তী ধাপে, সাধারণত ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে মুখমণ্ডল থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। এই ফুসকুড়িগুলো ধীরে ধীরে গাঢ় হয় এবং একত্রিত হয়ে বড় আকার ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে মুখের ভেতরে গালের অংশে ছোট ধূসর-সাদা দাগ দেখা যায়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে কপলিক স্পট বলা হয় এবং এটি হাম শনাক্তকরণের একটি নির্ভরযোগ্য লক্ষণ।
হাম রোগের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এর জটিলতা। চিকিৎসকদের মতে, অবহেলা করলে নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ, এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে।
চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় রোগীকে দ্রুত আইসোলেশনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সহজেই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্তত ৪ থেকে ৭ দিন আলাদা রাখা হলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
পাশাপাশি, রোগীর শরীরে পানিশূন্যতা যেন না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার দেওয়া জরুরি। পুষ্টিকর খাবার যেমন ফল, শাকসবজি এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য রোগীর দ্রুত সুস্থতায় সহায়ক ভূমিকা রাখে। বিশ্রামও এই রোগ মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, ভিটামিন-এ সাপ্লিমেন্ট হাম রোগের জটিলতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এটি বিশেষ করে চোখের ক্ষতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ এবং শিশুদের ক্ষেত্রে এটি একটি অপরিহার্য সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে বিবেচিত।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও সংক্রমণ প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, বিছানা, তোয়ালে এবং অন্যান্য সামগ্রী আলাদা রাখা উচিত এবং নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। নির্ধারিত বয়সে শিশুদের এমএমআর টিকা প্রদান করলে এই রোগের সংক্রমণ প্রায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির আওতা বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।
এছাড়া, যদি রোগীর জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হয়, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় বা কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ প্রকাশ পায়, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণই এই রোগের জটিলতা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সার্বিকভাবে, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য কিন্তু অবহেলিত হলে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে এমন একটি সংক্রামক রোগ। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো চিকিৎসা এবং টিকাদানের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি।
দেশে হামের ভয়াবহ প্রকোপ: টিকা ও পুষ্টির অভাবে সংকটে হাজারো শিশু
বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে হঠাৎ করেই উদ্বেগজনক হারে হামের প্রকোপ বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, শিশুদের পুষ্টিহীনতা এবং ভাইরাসের ধরনে সম্ভাব্য পরিবর্তনের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মার্চ মাস জুড়েই সারাদেশে অন্তত ২০টি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে হামের দুটি টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৩৩ শতাংশের বয়সই ৯ মাসের কম। রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ময়মনসিংহে সম্প্রতি আরও দুটি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ বিভিন্ন মেডিকেলে রোগীর ভিড় বাড়ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে জানিয়েছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে; একজন আক্রান্ত শিশু থেকে আরও ১৮ জন সংক্রমিত হতে পারে। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যার ফলে নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়ে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, গত আট বছর ধরে দেশে কোনো বিশেষ হাম নির্মূল ক্যাম্পেইন না হওয়ার কারণেই এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে। করোনা মহামারি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। এছাড়া শিশুদের মায়ের বুকের দুধ পর্যাপ্ত না খাওয়ানো, কৃমিনাশক ওষুধের অভাব এবং সার্বিক অপুষ্টি সংক্রমণকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এমনকি বর্তমান টিকার মান বা ভাইরাসের নতুন কোনো রূপান্তর ঘটেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে ৬০০ কোটি টাকা টিকার জন্য বরাদ্দ দিয়েছে। রাজধানীসহ বড় দশটি মেডিকেল কলেজে হামের রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড এবং বিশেষ আইসিইউ-ভেন্টিলেটর সুবিধা চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানিয়েছেন, আগামী জুলাই-আগস্ট মাসে দেশজুড়ে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরুর প্রস্তুতি চলছে। গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গ্যাভি) মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ২ কোটি সিরিঞ্জ সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তীব্র জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে র্যাশ দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেহেতু ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ছে, তাই টিকার বয়সসীমা এগিয়ে আনা যায় কি না, সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। বর্তমানে আক্রান্তদের উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক সময়ে টিকা প্রদান এবং পুষ্টির দিকে নজর দিলে এই রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
হেপাটাইটিস ‘ই’ চিকিৎসায় যুগান্তকারী আবিষ্কার: লাখো প্রাণ বাঁচাতে নতুন আশার আলো
প্রাণঘাতী হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাসের চিকিৎসায় এক অভাবনীয় সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন একদল আন্তর্জাতিক গবেষক। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে হেপাটাইটিস ‘সি’ রোগের জন্য পরীক্ষাধীন একটি বিশেষ ওষুধ হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাসের বিরুদ্ধেও অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকর। প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া এই ভাইরাসের সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা বা অনুমোদিত ভ্যাকসিন এতদিন না থাকায়, এই আবিষ্কারকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ‘গাট’-এ গত ৬ মার্চ ২০২৬ প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায়, জার্মানির বোচাম ও হাইডেলবার্গ এবং চীনের বেইজিংয়ের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন। তারা ‘বিএমএন ফসবিউভির’ (BMN Phosbuvir) নামক একটি যৌগকে হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরিতে বাধা দিতে সক্ষম এক শক্তিশালী উপাদান হিসেবে শনাক্ত করেছেন। বিভিন্ন ওষুধের লাইব্রেরি থেকে নিখুঁত পরীক্ষার মাধ্যমে এই যৌগটি নির্বাচন করা হয়েছে। যেহেতু ওষুধটি ইতোমধ্যে হেপাটাইটিস ‘সি’-এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাই এটি খুব দ্রুতই সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
হেপাটাইটিস ‘ই’ মূলত লিভারের একটি গুরুতর সংক্রমণ, যা সঠিক চিকিৎসা ও প্রতিষেধকের অভাবে অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ হওয়া এই ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো কোনো অস্ত্র এতদিন বিজ্ঞানীদের হাতে ছিল না। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে। তবে মানুষের ওপর এর চূড়ান্ত কার্যকারিতা এবং দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে আরও কিছু ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলমান রয়েছে।
/আশিক
সামাজিক কুসংস্কার ছাপিয়ে গবেষণায় পিরিয়ড: জরায়ুর ক্যানসার প্রতিরোধে নতুন হাতিয়ার
নারীদের মাসিক বা পিরিয়ডকে দীর্ঘকাল ধরে কেবল একটি স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হলেও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এখন একে শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যের এক অনন্য বার্তাবাহক হিসেবে গণ্য করছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে প্রতি মাসে নির্গত এই রক্ত আসলে প্রজননতন্ত্রের বাইরেও শরীরের অন্যান্য অঙ্গের অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন পিরিয়ডের রক্তে এমন অনেক জৈবিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে যা সাধারণ রক্ত বা লালার পরীক্ষায় সহজে ধরা পড়ে না।
এই রক্তে জরায়ু, ডিম্বাশয় এবং ফ্যালোপিয়ান টিউব থেকে আসা বিভিন্ন কোষ, হরমোন, প্রোটিন ও ব্যাকটেরিয়া মিশে থাকে যা নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা দিতে সক্ষম। গবেষকরা একে এক ধরনের প্রাকৃতিক বায়োপসি হিসেবে অভিহিত করছেন যা ভবিষ্যতের রোগ নির্ণয় পদ্ধতিকে আমূল বদলে দিতে পারে।
বিশেষ করে এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো জটিল রোগ শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে পিরিয়ডের রক্ত এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। বর্তমানে এই রোগটি নির্ণয় করতে ল্যাপারোস্কোপির মতো ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় যেখানে পেটের ভেতর ক্যামেরা ঢুকিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এটি যেমন সময়সাপেক্ষ তেমনি রোগীর জন্য বেশ কষ্টকর। ‘নেক্সটজেন জেন’-এর প্রধান নির্বাহী রিধি তারিয়াল জানান যে পিরিয়ডের রক্ত বিশ্লেষণ করেই ভবিষ্যতে কোনো রকম অস্ত্রোপচার ছাড়াই এন্ডোমেট্রিওসিস শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এছাড়া জরায়ুর ক্যানসার, অ্যাডেনোমায়োসিস এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ প্রদাহজনিত সমস্যার ইঙ্গিতও এই রক্ত থেকে পাওয়া যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে পিরিয়ডের রক্তে শত শত প্রোটিন ও জৈবিক উপাদান থাকে যা শরীরের ভেতরের সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো স্পষ্ট করে তোলে। এমনকি থাইরয়েডের সমস্যা বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার মতো বিষয়গুলোও এই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা সম্ভব।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো পিরিয়ডের রক্ত দিয়ে এখন ডায়াবেটিস শনাক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ চলছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে মাসিকের রক্তে শর্করার মাত্রা শরীরের মূল রক্তপ্রবাহের শর্করার মাত্রারই সঠিক প্রতিফলন ঘটায়। একইভাবে শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব বা কোনো বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতিও এই রক্তের মাধ্যমে নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যেতে পারে। এছাড়া যৌনবাহিত রোগ যেমন এইচপিভি বা ক্ল্যামাইডিয়ার মতো সংক্রমণ শনাক্ত করতেও পিরিয়ডের রক্ত ব্যবহারের ওপর ব্যাপক গবেষণা চলছে যা প্রচলিত প্যাপ স্মিয়ার পদ্ধতির চেয়েও বেশি কার্যকর হতে পারে।
এতদিন সামাজিক কুসংস্কার ও অবহেলার কারণে এই ক্ষেত্রটি গবেষণার বাইরে থাকলেও এখন বিভিন্ন বায়োটেক কোম্পানি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করছে। আশা করা হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে নারীরা ঘরে বসেই নিজেদের পিরিয়ড রক্ত পরীক্ষা করে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সম্পর্কে সব জরুরি তথ্য জানতে পারবেন যা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে এবং দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা দূর করতে সাহায্য করবে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
মাশরুম এখন সুপারফুড! জেনে নিন জাদুকরী ৫ উপকারিতা
একসময় 'ব্যাঙের ছাতা' বলে অবহেলিত মাশরুম এখন অনেকের কাছেই পরিচিত এবং প্রিয় খাবার হয়ে উঠেছে। বর্তমানে রাস্তার ধারের স্ট্রিট ফুড থেকে শুরু করে আধুনিক রান্নাঘর—সবখানেই মাশরুমের জয়জয়কার। ফাস্টফুড, স্যুপ কিংবা দৈনন্দিন সবজি রান্নায় এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। মাশরুম শুধু স্বাদের জন্যই নয়, বরং এর অসাধারণ কিছু স্বাস্থ্যগুণ ও পুষ্টিমানের জন্য এখন সবার খাদ্যতালিকায় গুরুত্ব পাচ্ছে। যারা এখনো মাশরুম খেতে দ্বিধা করেন, তাদের জন্য এর পাঁচটি জাদুকরী উপকারিতা তুলে ধরা হলো।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ১৮ গ্রাম মাশরুম (যা প্রায় দুটি মাঝারি আকারের মাশরুমের সমান) খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। মাশরুমে ‘এরগোথিওনাইন’ নামক এক বিশেষ অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা কোষের ক্ষয় রোধ করে। শিটাকে, অয়স্টার ও কিং অয়স্টারের মতো প্রজাতিগুলোতে এই উপাদান বেশি থাকলেও যেকোনো মাশরুম নিয়মিত খাওয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ হলো অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণের ব্যবহার। মাশরুমে সোডিয়াম বা লবণের পরিমাণ প্রাকৃতিকভাবেই অনেক কম। যেমন, এক কাপ হোয়াইট বাটন মাশরুমে মাত্র ৫ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকে। এটি খাবারে প্রাকৃতিক স্বাদ যুক্ত করে, ফলে রান্নায় বাড়তি লবণের প্রয়োজন কম হয় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
লাল মাংসের বদলে মাশরুম হতে পারে স্বাস্থ্যের জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। এতে চর্বি ও কোলেস্টেরল নেই বললেই চলে। বিশেষ করে শিটাকে মাশরুম শরীরে কোলেস্টেরল তৈরি হতে বাধা দেয় এবং রক্তে এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। যারা ওজন বা হৃদরোগ নিয়ে চিন্তিত, তাদের জন্য মাশরুম একটি আদর্শ খাবার।
মাশরুমে থাকা প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন-বি মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারগুলোকে সচল রাখতে সাহায্য করে। এতে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, সপ্তাহে অন্তত দুই কাপ মাশরুম খেলে মস্তিষ্কের কগনিটিভ ইমপেয়ারমেন্ট বা স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি প্রায় অর্ধেক কমে যায়।
শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মাশরুমের সেলেনিয়াম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। এটি কোষকে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন বি৬ শরীরে লাল রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে, যা শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছে দিয়ে শরীরকে সতেজ ও কর্মক্ষম রাখে।
সূত্র: ইউসিএলএ হেলথ, সিডার্স-সিনাই হেলথ লাইব্রেরি
৪০% ক্ষমতা হারানোর আগে লক্ষণ মেলে না! কিডনি বাঁচাতে যা করবেন
শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরিশ্রমী অঙ্গ কিডনিকে বলা হয় ‘সাইলেন্ট কিলার’। কারণ, এর কার্যক্ষমতা প্রায় ৪০ শতাংশ না হারানো পর্যন্ত অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণই প্রকাশ পায় না। সম্প্রতি ‘অনলি মাই হেলথ’-এর এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা কিডনি সুস্থ রাখা এবং এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো চেনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞ রিতেশ বাওরির মতে, কিডনি প্রথম দিকে নিজেই নিজের ক্ষতিপূরণ করে কাজ চালিয়ে যায় বলে রোগ ধরা পড়তে দেরি হয়। তবে শরীরের কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তনের দিকে নজর দিলে আগেভাগে সতর্ক হওয়া সম্ভব। যেমন—প্রস্রাবে অস্বাভাবিক ফেনা বা বুদবুদ হওয়া, রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি অনুভব করা এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ বা পা ফুলে যাওয়া। এছাড়া হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়াও কিডনি সমস্যার একটি বড় সংকেত।
কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকরা মূলত eGFR এবং Urine Albumin-to-Creatinine Ratio—এই দুটি পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে বলেছেন। এছাড়া ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন, যেমন—লবণ ও প্রসেসড খাবার কম খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত হাঁটাচলা কিডনিকে দীর্ঘকাল সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
/আশিক
তরুণদের শরীরে কেন বাড়ছে কোলন ক্যান্সার? গবেষণায় উঠে এল নতুন তথ্য
ক্যান্সার এখন আর কেবল বয়স্কদের রোগ হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সি তরুণদের মধ্যে কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এতদিন অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসকে এই মরণব্যাধির প্রধান কারণ মনে করা হলেও, বিজ্ঞানীরা এখন বৃহদন্ত্রের গঠনগত পরিবর্তন এবং জিনের নেতিবাচক ভূমিকাকে এর জন্য বেশি দায়ী করছেন।
‘অ্যাডভান্সড সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় টেক্সাস ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন। তাদের মতে, বয়স্কদের তুলনায় বর্তমানে তরুণদের বৃহদন্ত্রের কোষগুলো অনেক বেশি শক্ত ও পুরু হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় এই কোষগুলোতে এক ধরনের ক্ষত বা ‘ফাইব্রোসিস’ তৈরি হয়, যা ক্যানসার কোষ জন্মানোর জন্য একটি আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। কোষের দেয়াল এভাবে শক্ত হয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো শরীরে অতিরিক্ত ‘কোলাজেন’ জমা হওয়া। তবে ঠিক কী কারণে তরুণদের শরীরে এমন অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আরও গভীর গবেষণা চলছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই সমস্যার পেছনে শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়, বরং জিনের কারসাজিও বড় ভূমিকা রাখছে। বংশগতভাবে আসা নির্দিষ্ট কিছু জিন যেমন— এপিসি, এমএলএইচ১ এবং এমএসএইচ২ যদি তাদের স্বাভাবিক বিন্যাস বদলে ফেলে (মিউটেশন), তবে ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। গবেষকরা ‘মাইক্রোইনডেন্টেশন টেস্ট’-এর মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন যে, তরুণদের কোলন কোষের এই অস্বাভাবিক পরিবর্তনই ক্যানসার ডেকে আনছে। তবে আশার কথা হলো, প্রাথমিক অবস্থায় কোলন ক্যানসার ধরা পড়লে তা পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব। বিজ্ঞানীরা এখন সেই বিশেষ জিনগুলোকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন, যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ক্যানসার হওয়ার আগেই তা কার্যকরভাবে ঠেকানো যাবে।
সূত্র : আনন্দবাজার
হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে কোলেস্টেরল বশে রাখুন: বিশেষজ্ঞ টিপস
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা বর্তমান সময়ে সুস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চ কোলেস্টেরল কেবল হৃদরোগ নয়, স্ট্রোকের ঝুঁকিও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল ওষুধের ওপর নির্ভর না করে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমেই এই ‘নীরব ঘাতক’কে বশে রাখা সম্ভব। এতে হৃৎপিণ্ডের পাশাপাশি উন্নত হয় হজমশক্তি ও সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার মূল চাবিকাঠি হলো খাদ্যতালিকায় আমূল পরিবর্তন আনা। চর্বিযুক্ত রেড মিট (গরু বা খাসির মাংস), ঘি, মাখন এবং অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে ডুবো তেলে ভাজা খাবার, ফাস্টফুড ও প্রসেসড খাবারে থাকা 'ট্রান্স ফ্যাট' শরীরের জন্য বিষের মতো কাজ করে।
এর পরিবর্তে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ, বাদাম, তিসি ও অলিভ অয়েল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি। এছাড়া আদা ও রসুনের মতো প্রাকৃতিক উপাদান কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত বা ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন শাকসবজি, ফলমূল, ওটস ও বার্লি শুধু কোলেস্টেরল কমায় না, বরং অন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভালো রাখে। খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের দিকে নজর রাখলে রক্তে চিনির মাত্রার পাশাপাশি কোলেস্টেরলও নিয়ন্ত্রণে আসে। ভাজাপোড়া স্ন্যাকসের বদলে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে দই, ফল বা বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গ্রিন টি পান করাও বেশ উপকারী।
শারীরিক পরিশ্রম ও জীবনযাত্রার শৃঙ্খলা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা ব্যায়াম শরীরের 'ভালো কোলেস্টেরল' (HDL) বাড়াতে এবং 'খারাপ কোলেস্টেরল' (LDL) কমাতে সরাসরি কাজ করে। অতিরিক্ত ওজন কমানো এবং ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগের কোনো বিকল্প নেই; কারণ ধূমপান সরাসরি ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়।
সেই সঙ্গে মানসিক চাপ কমাতে ইয়োগা বা ধ্যান এবং দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নিয়মিত লিপিড প্রোফাইল টেস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থা যাচাই করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করাই হলো সুস্থ থাকার সঠিক পথ।
/আশিক
শিশুর টাং টাই কী? কখন চিকিৎসা জরুরি
শিশুদের মধ্যে মাঝে মাঝে এমন একটি শারীরিক অবস্থা দেখা যায় যেখানে জিহ্বার নিচে থাকা পাতলা চামড়ার পর্দা বা ফ্রেনুলাম (Frenulum) স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট, শক্ত বা অতিরিক্ত টানটান থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় টাং টাই বা অ্যানকাইলো গ্লসিয়া (Ankyloglossia)। এ ধরনের অবস্থায় জিহ্বার স্বাভাবিক নড়াচড়া সীমিত হয়ে যায়, যার ফলে শিশুর খাওয়া, কথা বলা কিংবা জিহ্বা নড়াচড়ায় নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
টাং টাই হলে কী ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে
টাং টাইয়ের প্রভাব শিশুর বয়স অনুযায়ী ভিন্নভাবে দেখা দিতে পারে। নবজাতক বা ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি করে মায়ের বুকের দুধ পান করার সময়। অনেক সময় দেখা যায়, শিশুটি ঠিকভাবে স্তন ধরতে পারে না, মাঝেমধ্যে দুধ ছেড়ে দেয় কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে খাওয়ার চেষ্টা করেও পর্যাপ্ত দুধ গ্রহণ করতে পারে না। এর ফলে শিশুর পুষ্টিগত সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং অনেক মায়ের ক্ষেত্রে নিপলে ব্যথা বা অস্বস্তি তৈরি হয়।
অন্যদিকে শিশু যখন বড় হতে শুরু করে, তখন টাং টাইয়ের কারণে কথা বলার ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বাংলা ভাষার কিছু ধ্বনি যেমন ল, র, ট বা ড উচ্চারণে সমস্যা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা জিহ্বা পুরোপুরি বাইরে বের করতে পারে না বা উপরের দিকে তুলতে অসুবিধা অনুভব করে।
কীভাবে বোঝা যায় শিশুর টাং টাই রয়েছে
টাং টাই শনাক্ত করার কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যদি শিশুর জিহ্বা পুরোপুরি বাইরে বের না হয় বা জিহ্বার আগা হৃদয় আকৃতির (heart-shape) মতো দেখা যায়, তাহলে এটি টাং টাইয়ের একটি লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া জিহ্বার নিচে একটি শক্ত ও টানটান চামড়ার পর্দা চোখে পড়লে সেটিও এই সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
টাং টাইয়ের চিকিৎসা কী
টাং টাইয়ের চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার তীব্রতা এবং শিশুর বয়সের ওপর। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত একটি সহজ চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যার নাম ফ্রেনোটমি (Frenotomy)। এতে জিহ্বার নিচে থাকা ছোট চামড়ার পর্দাটি সামান্য কাটার মাধ্যমে মুক্ত করা হয়।
এই প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত সম্পন্ন করা যায়, সাধারণত কয়েক মিনিটের বেশি সময় লাগে না এবং এতে খুব সামান্য রক্তপাত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুরা খুব দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং দুধ খাওয়াও সহজ হয়ে যায়।
তবে যদি শিশুর বয়স বেশি হয় বা সমস্যাটি জটিল হয়, তখন ফ্রেনুলোপ্লাস্টি (Frenuloplasty) নামে একটি তুলনামূলক বড় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
সব টাং টাই কি অপারেশন প্রয়োজন
চিকিৎসকদের মতে, সব টাং টাইয়ের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয় না। যদি শিশুর খাওয়া বা কথা বলার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না দেখা যায়, অনেক সময় চিকিৎসা ছাড়াই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
তবে যদি টাং টাইয়ের কারণে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ মশিউর রহমান বলেন, কোনো শিশুর যদি দুধ খেতে সমস্যা হয়, কথা বলতে দেরি হয় বা জিহ্বা নড়াচড়ায় সীমাবদ্ধতা দেখা যায়, তাহলে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত। সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমস্যা সহজে সমাধান করা সম্ভব।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার সহজ উপায়: সুস্থ থাকবে আপনার হৃদয়
কোলেস্টেরলের সমস্যা বর্তমানে অনেকের জন্যই একটি বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সরাসরি হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রা পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিত কিছু ব্যায়াম এবং সঠিক খাবারের নিয়ম মেনে চললে খুব সহজেই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, যা একই সাথে শরীরের হজমশক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আমাদের অন্ত্রের স্বাস্থ্য। সুস্থ অন্ত্র নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার বেশি করে রাখা প্রয়োজন, যা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করার পাশাপাশি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল শুষে নিতে বাধা দেয়।
খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের ওপর নজর দেওয়া কোলেস্টেরল কমানোর আরেকটি কার্যকর উপায়। যেসব খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, সেগুলো গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে এবং পরোক্ষভাবে তা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। এছাড়া প্রতিদিনের ডায়েটে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে শরীরে জমে থাকা টক্সিন বের হয়ে যায় এবং কোলেস্টেরল কমাতে দারুণ ভূমিকা রাখে। মূল খাবার খাওয়ার আগে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস করলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে আসে। এক্ষেত্রে ভাজাপোড়া বাদ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের বাদাম, তাজা ফল বা দই স্ন্যাকস হিসেবে বেছে নেওয়া যেতে পারে।
সবুজ শাকসবজি এবং ভেষজ উপাদানের ব্যবহার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে জাদুর মতো কাজ করে। প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি রাখা শরীরের জন্য অপরিহার্য, কারণ এটি প্রাকৃতিক উপায়ে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে আনে। এর পাশাপাশি রান্নায় আদা ও রসুনের ব্যবহার বাড়ানো উচিত। আদা ও রসুনে এমন কিছু প্রাকৃতিক ওষুধি গুণ এবং যৌগ রয়েছে যা সরাসরি রক্তে কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে বিশেষ অবদান রাখে। নিয়মিত এই নিয়মগুলো মেনে চললে হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে একটি সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করা সম্ভব।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- হামের লক্ষণ কীভাবে বুঝবেন, বাঁচতে কী করবেন
- এক-এগারোর কুশীলবদের তথ্যে ফেঁসে গেলেন ডিজিএফআই-এর সাবেক পরিচালক
- অবৈধ তেল মজুতকারীদের ধরতে ১ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা
- দেশে হামের ভয়াবহ প্রকোপ: টিকা ও পুষ্টির অভাবে সংকটে হাজারো শিশু
- মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বৈশ্বিক বিপর্যয়: তেলের দাম বাড়ার পূর্বাভাসে কাঁপছে বিশ্ব
- স্ক্রিনের নেশায় চোখের বারোটা? ঘরোয়া উপায়ে ফেরান চোখের জ্যোতি
- মাঠের ফুটবলের চেয়েও বড় উদ্বেগ মানবাধিকার! বিশ্বকাপের আগে বিপাকে ফিফা
- লেবাননে বড় যুদ্ধের ডাক: নির্দেশ দিলেন নেতানিয়াহু
- দেশের ২ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস, ১ নম্বর সতর্কসংকেত জারি
- খার্গ দ্বীপ আসলে কী? কেন এই ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ দখল করতে মরিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প?
- এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২০২৬: নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১১ নির্দেশনা
- টাকা পাঠানোর আগে দেখে নিন আজকের সেরা রেট, লাভবান হবেন প্রবাসীরা
- হরমুজ ছাড়িয়ে ওমান উপসাগরও এখন ইরানের কবজায়
- আজ সোমবার: ঢাকার কোন কোন মার্কেট বন্ধ? কেনাকাটার আগে দেখে নিন
- ১৫ দফার বেশিরভাগ শর্ত মেনে নিয়েছে ইরান : ট্রাম্প
- সোমবারও স্বর্ণের বাজারে আগুনের উত্তাপ, রেকর্ড দামে কেনাবেচা
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য পূর্ণাঙ্গ তালিকা
- তেল, মিসাইল ও কূটনীতি: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কোন দিকে যাচ্ছে?
- ইরানী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ইসরায়েলে রাসায়নিক বিপর্যয়: আতঙ্কে ঘরে বন্দি লাখো মানুষ
- রেমিট্যান্সে সর্বকালের সব রেকর্ড ভঙ্গ
- কুয়েতে সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানল ইরান, বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির কবলে প্রতিরক্ষা বিভাগ
- নিয়ম সবসময় শাসকের অনুসারী: হাসনাত আবদুল্লাহ
- অস্ট্রেলিয়ার বুকে বাংলা হান্ড্রেড লিগ সিডনিতে প্রথমবারের মতো খেলোয়াড় নিলাম
- চিরদিনই তুমি যে আমার খ্যাত নায়ক রাহুলের অকাল প্রয়াণ
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ঘোষণা: রাতেই মিটছে ১৩৩ অধ্যাদেশের ভাগ্য
- মিরপুর চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের হাতে আটক আলোচিত ফাহিম চৌধুরী
- সংসদ কি তার প্রেক্ষাপট ভুলে যাচ্ছে? অধিবেশনে নাহিদ ইসলামের কড়া সমালোচনা
- মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ব্লু-প্রিন্ট তৈরিতে ইরানকে ১০০ শতাংশ সাহায্য রাশিয়ার
- ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলায় কাঁপছে ইসরায়েল, ১০০ শহরে বাজছে সতর্কসংকেত
- মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় হাজার হাজার মার্কিন মেরিন সেনা,বাড়ছে আঞ্চলিক সংঘাতের শঙ্কা
- ফ্যামিলি কার্ডে বড় পরিবর্তন: এখন ঘরে বসেই পাবেন সব সুবিধা?
- আট বছর টিকা দেয়নি কোনো সরকার; স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক তথ্য
- সংসদে ইনসাফ থাকলে দেশজুড়ে ন্যায়বিচার সম্ভব: ডা. শফিকুর রহমান
- গুম ও ফাঁসির মঞ্চ পেরিয়ে আসা সদস্যদের সংসদ বিশ্বে বিরল: ডেপুটি স্পিকার
- ২৯ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ২৯ মার্চ ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
- ২৯ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- পে স্কেলসহ ১০ দফা দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন
- ত্বকের জাদুকরী পানীয় গোলাপজল: রূপচর্চায় এর ৩টি অজানা ব্যবহার
- যেসব লক্ষণে বুঝবেন শরীরে কমছে টেস্টোস্টেরন: অবহেলা করলেই মহাবিপদ!
- এবার রণক্ষেত্র থেকে আলোচনার টেবিলে ইরান: তবে জুড়ে দিল এক কঠিন শর্ত
- ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মুখে বিশ্ব! লোহিত সাগরে ইরানের নতুন মাস্টারপ্ল্যান
- ইরানের ইতিহাসে ভয়াবহতম দিন: এক রাতেই তছনছ রাজধানী তেহরান
- ড. ইউনূসের গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশনে বড় জালিয়াতি: ভ্যাট সুবিধায় শুভঙ্করের ফাঁকি
- ইসরায়েলে হুথিদের মিসাইল রেইন: ২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয় দফায় কাঁপল তেল আবিব
- সৌদি যুবরাজ এখন আমার পেছনে ঘুরছেন: ট্রাম্প
- আরব আমিরাত ও বাহরাইনে ইরানের মিসাইল হামলা: তছনছ মার্কিন স্বার্থের দুই কারখানা
- আজ রোববার: ঢাকার কোন কোন মার্কেট বন্ধ? কেনাকাটার আগে দেখে নিন
- ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইবার বাড়ল দাম: স্বর্ণের দামে বাজুসের নজিরবিহীন রেকর্ড
- ঢাকায় বাড়ছে তাপমাত্রা: আজ কেমন থাকবে রাজধানীর আবহাওয়া?
- স্বর্ণের বাজারে বড় ধস: গত বছরের রেকর্ড ভাঙছে ২০২৬-এর স্বর্ণের বাজার
- স্বর্ণ কিনতে চান? আজই সুযোগ: রেকর্ড হারে দাম কমাল বাজুস
- ট্রাম্পের যুদ্ধ স্থগিতের ঘোষণায় সোনার বাজারে ধস: ১০ শতাংশ কমল দাম
- সোনার বাজারে বড় ধস: দেশের সব জুয়েলারি দোকানে নতুন দাম কার্যকর
- পদ্মার গভীরে শনাক্ত ডুবে যাওয়া বাস: উদ্ধারে লড়ছে ‘হামজা’ ও ডুবুরি দল
- রেকর্ড পতন, মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজারে পাচ্ছেন ১ ভরি সোনা
- স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা তুঙ্গে: মাত্র কয়েক ঘণ্টায় বদলে গেল সব হিসাব
- সোমবারও স্বর্ণের বাজারে আগুনের উত্তাপ, রেকর্ড দামে কেনাবেচা
- শাওয়ালের ৬ রোজা: ফজিলত ও করণীয় জানুন
- পদ্মার অতলে বাস ট্র্যাজেডি: ২৩ প্রাণহানির মধ্য দিয়ে শেষ হলো উদ্ধার অভিযান
- লেনদেন ছাড়াল ৬শ কোটি টাকা: উত্থানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ
- ইরান যুদ্ধে কোন দেশে কতজন মানুষ নিহত হয়েছে?
- কালিগঞ্জের রতনপুরে জমি বিরোধের জেরে নৃশংস হামলা, গুরুতর আহত ১ জন
- ঈদ পরবর্তী বাজারে সোনার বড় ধস: ভরিতে বড় ছাড় দিয়ে সোনার দাম পুনর্নির্ধারণ
- বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি








