এবার ইরানে প্রকাশ্যেই উঠছে পারমাণবিক বোমা তৈরির জোর দাবি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৭ ১০:৫৮:২১
এবার ইরানে প্রকাশ্যেই উঠছে পারমাণবিক বোমা তৈরির জোর দাবি
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের অভ্যন্তরে পারমাণবিক নীতিকে ঘিরে বিতর্ক এখন আর আড়ালে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা প্রকাশ্য রাজনৈতিক আলোচনায় রূপ নিয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে কট্টরপন্থী মহলের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের পক্ষে অবস্থান ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের পর ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর বা আইআরজিসি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুইজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের মতে, পারমাণবিক নীতির প্রশ্নে এখন কট্টরপন্থীদের মতামত নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে উঠে আসছে।

তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান তাদের পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং পারমাণবিক বোমা তৈরির পথে যাওয়ার ঘোষণাও দেয়নি। তা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিদ্যমান নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা করে আসছে যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে অথবা অন্তত সেই সক্ষমতা অর্জন করতে চায়। যদিও তেহরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা খামেনি অতীতে পারমাণবিক অস্ত্রকে ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন এবং ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি, অর্থাৎ এনপিটির সদস্য।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমেও ভিন্ন ধরনের বক্তব্য উঠে আসছে। আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ইরানের দ্রুত এনপিটি থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

একসময় পারমাণবিক বোমা তৈরির মতো সংবেদনশীল বিষয় প্রকাশ্যে আলোচনার বাইরে থাকলেও এখন তা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক পরিসরে আলোচিত হচ্ছে, যা নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করে।

এই প্রেক্ষাপটে কট্টরপন্থী রাজনীতিক মোহাম্মাদ জাভেদ লারিজানি, যিনি সম্প্রতি নিহত আলি লারিজানির ভাই, প্রকাশ্যে এনপিটি স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে মূল্যায়ন করা উচিত যে এই চুক্তি ইরানের জন্য আদৌ উপকারী কি না। প্রয়োজনে তা থেকে সরে আসার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তিত অবস্থান মূলত সাম্প্রতিক সামরিক হামলার ফল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণ এমন এক সময় সংঘটিত হয়েছে, যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছিল। ফলে ইরানের কৌশলগত হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছে, পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত রেখে বা আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় থেকে তেমন কোনো কৌশলগত সুবিধা অর্জন সম্ভব হয়নি। বরং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে।

সার্বিকভাবে, ইরানের অভ্যন্তরে পারমাণবিক নীতিকে ঘিরে যে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

-রফিক


সরকারি নথিতে আর 'এআই' নয়, নাম বদলে 'সুপার ইন্টেলিজেন্স' রাখার ঘোষণা ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ২১:৫৫:১৭
সরকারি নথিতে আর 'এআই' নয়, নাম বদলে 'সুপার ইন্টেলিজেন্স' রাখার ঘোষণা ট্রাম্পের
ছবি : সংগৃহীত

দ্রুত অগ্রসরমাণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক ঝুঁকি মোকাবিলা নিয়ে বিশ্বনেতাদের ব্যাপক আলোচনার মধ্যেই সরকারি যোগাযোগের ক্ষেত্রে ‘এআই’ নাম পরিবর্তন করে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

বিশ্বজুড়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া প্রযুক্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন ঘটনা এবং বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের মুখে সাধারণ পরিষদে এআই নিয়ন্ত্রণ একটি প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হলেও ট্রাম্প এই প্রযুক্তির ওপর যেকোনো বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘোর বিরোধিতা করেন। তিনি যুক্তি দেন, ‘আর্টিফিশিয়াল’ বা কৃত্রিম শব্দটি এই প্রযুক্তির প্রকৃত সক্ষমতাকে ছোট করে দেখায়, আর তাই ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামটি অনেক বেশি যথার্থ। ট্রাম্প আশা করেন অন্যান্য দেশও এই নাম গ্রহণ করবে। উল্লেখ্য, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের নাম পরিবর্তনের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ—এর আগে তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম ‘গালফ অব আমেরিকা’ এবং অন্টারিও হ্রদের নাম ‘লেক আমেরিকা’ করেছিলেন।

অধিবেশনে ট্রাম্প এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কবার্তাকে জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাসের সঙ্গে তুলনা করে কটাক্ষ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এআই নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গঠিত যেকোনো বৈশ্বিকতাবাদী কাঠামো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি দাবি করেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যারা আগে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, তারাই এখন এআই নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

ইউরোপের প্রধান দেশগুলোসহ ২০টিরও বেশি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা উন্নত এআইয়ের ওপর বাধ্যতামূলক আইনি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানালেও এআই খাতের দুই প্রধান পরাশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাতে সায় দেয়নি। অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানান, ২০২৭ সালে ব্রিটেন জি-২০ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে এআইয়ের বৈশ্বিক নীতি ও একক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। পাশাপাশি তিনি আমেরিকার সঙ্গে সাইবার ডিফেন্স অংশীদারত্বের ঘোষণাও দেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের আধিপত্যমুক্ত একটি স্বতন্ত্র ও সবার জন্য উন্মুক্ত 'ওপেন সোর্স' এআই ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো দেশেরই বৃহৎ পরাশক্তিগুলোর দাস বা প্রজা হওয়া উচিত নয়।

এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি বিবেচনা করে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে স্নায়ুযুদ্ধের আদলে দ্বিপক্ষীয় সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে ফরাসি উদ্যোগে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এ সংক্রান্ত আলোচনায় ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান, অ্যানথ্রপিকের দারিও আমোদেই এবং হাগিং ফেসের ক্লেমঁ দেলাংওয়ে যুক্ত হতে যাচ্ছেন। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের হাই-ভোল্টেজ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও এআই সংক্রান্ত একটি হটলাইন বা যোগাযোগ চ্যানেল তৈরির বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে।

সূত্র: বাসস


'আত্মসমর্পণ করানো অসম্ভব, হাঁটু গেড়ে বসব না': জাতিসংঘে গর্জে উঠলেন পেজেশকিয়ান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ২১:৫১:৫৩
'আত্মসমর্পণ করানো অসম্ভব, হাঁটু গেড়ে বসব না': জাতিসংঘে গর্জে উঠলেন পেজেশকিয়ান
ছবি : সংগৃহীত

ইরান আন্তর্জাতিক কূটনীতির দরজা খোলা রাখতে প্রস্তুত থাকলেও কোনো বহিরাগত চাপের মুখে মাথা নত করবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান, ইরানকে বলপ্রয়োগে বা ভয় দেখিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা অসম্ভব।

পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেন, পশ্চিমারা শেষপর্যন্ত বুঝতে পেরেছে যে ইরানকে কখনোই নতি স্বীকার করানো যাবে না। নিজেদের অবস্থানের স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন, ইরান কখনো আগ্রাসী শক্তি হিসেবে কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি, বরং সার্বভৌম মর্যাদা বজায় রেখে সব সময়ই আলোচনার টেবিলে সমাধানের বিষয়ে সদিচ্ছা দেখিয়েছে। তা সত্ত্বেও কোনো ধরনের হুমকি বা রক্তচক্ষুর সামনে তারা কখনো মাথা নত করবে না।

ভাষণের শুরুতেই পেজেশকিয়ান আগের দিন জাতিসংঘে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানকে 'সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক' হিসেবে অভিহিত করার জবাবে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, বাস্তবতা হলো ইরান নিজেই দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি চক্রান্ত ও সন্ত্রাসবাদের প্রধান ভুক্তভোগী।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘে দেওয়া সেই ভাষণে ট্রাম্প ইরানের ওপর যৌথ মার্কিন সামরিক অভিযানের তীব্র সাফাই গেয়ে দাবি করেন, শক্ত সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা থেকে বিরত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ সমঝোতায় না আসলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে পুরোপুরি ‘ধ্বংস করে দেওয়া’র হুমকিমূলক বক্তব্যও প্রদান করেন ট্রাম্প।

সাধারণ পরিষদের বক্তব্য প্রদানকালে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একটি ছবি প্রদর্শনী আকারে তুলে ধরেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় তেহরানের নিজ বাসভবনে প্রাণ হারান খামেনি। ভাষণের একপর্যায়ে মার্কিন হামলায় নিহত বহু নিষ্পাপ ইরানি শিশুর করুণ ছবি তুলে ধরে বৈশ্বিক বিচার দাবি করেন পেজেশকিয়ান।

এদিকে জাতিসংঘ অনুসন্ধানী দল চলতি মাসের শুরুতেই এক স্বাধীন প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের একটি স্কুল ও ক্রীড়া সংস্থায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট আলামত মিলেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।

দেশটির বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তাদের কেবল পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ও প্রযুক্তিগত ব্যবহার প্রয়োজন, কোনো ধ্বংসাত্মক পারমাণবিক বোমা নয়। তিনি আরও যোগ করেন, চিকিৎসাসহ জাতীয় কল্যাণে শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি ইরানের সার্বভৌম উন্নতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। যদিও পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কৌশলগত সক্ষমতা অর্জন করতে চাইছে।

সূত্র: রয়টার্স


বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস নিয়ে হাই-ভোল্টেজ বৈঠক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৯:১৬:৪১
বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস নিয়ে হাই-ভোল্টেজ বৈঠক
ছবি : সংগৃহীত

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অভ্যর্থনা জানাতে ওয়াশিংটনে অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন সামরিক আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রায় এক দশক পর শি জিনপিংয়ের এই ঐতিহাসিক মার্কিন সফর ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বয়ং উপস্থিত থেকে তাকে স্বাগত জানাবেন।

হোয়াইট হাউসে প্রায় ৫০০ সামরিক সদস্যের উপস্থিতিতে কুচকাওয়াজ, নজরকাড়া সামরিক ফ্লাইওভার, জমকালো নৈশভোজ ও প্রদর্শনী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এশিয়া ট্রাস্টের গবেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বন্ধুভাবাপন্ন বা মিত্র দেশকে এ ধরনের সর্বোচ্চ সামরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান দেওয়া হয়নি, যা প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র চীনের ক্ষেত্রে এক বিরল ঘটনা।

উভয় শীর্ষ নেতার বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ হতে যাওয়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি। ২০১৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ট্রাম্প-শি আলোচনার ভিত্তিতে ওয়াশিংটন অতিরিক্ত শুল্ক স্থগিত রেখেছিল এবং বেইজিং বিরল খনিজ রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল, যার মেয়াদ চলতি বছরের নভেম্বরে শেষ হতে চলেছে। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ইতিমধ্যেই ৯১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করায় এবং সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় নতুন একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ট্রাম্প চীনা আমদানির ওপর কঠোর মনোভাব বজায় রাখার কৌশল নিলেও বেইজিং মার্কিন ব্যবসার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী।

বাণিজ্যিক স্বার্থের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সসহ একাধিক মার্কিন আইনপ্রণেতা ও প্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বিকাশ স্থগিত রাখতে বৈশ্বিক বিরতি চুক্তির দাবি জানালেও, ট্রাম্প এআই ক্ষেত্রে চীনকে পরাজিত করাকে আমেরিকার অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক শক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে দেখছেন। তা সত্ত্বেও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি মোকাবিলায় দুই পক্ষ সীমিত কিছু সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাইওয়ান ইস্যুটি আলোচনার টেবিল গরম রাখবে। মার্কিন কংগ্রেসে পাশ হওয়া কয়েক বিলিয়ন ডলারের তাইওয়ান সামরিক সহায়তা ও অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাবটিতে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত স্বাক্ষর না করে তা চীনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ঝুলিয়ে রেখেছেন। অন্যদিকে বেইজিং তাইওয়ানকে নিজ ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ বিবেচনা করায় শি জিনপিং এই সফরের মাধ্যমে মার্কিন অস্ত্র বিক্রয় বিলম্বিত করা বা বাতিল করার লিখিত প্রতিশ্রুতি আদায়ের চেষ্টা করবেন। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক সদস্য ও বিশ্বস্ত সমর্থক চীনের আগ্রাসী নীতি নিয়ে বেশ সংশয়ী, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে পরমাণু শক্তিধর দুই পরাশক্তির প্রত্যক্ষ সংঘাত এড়িয়ে সমঝোতার পথ খুঁজছেন।

সূত্র: বিবিসি


যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল তেহরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৮:৫৯:৫৭
যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল তেহরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সহায়তায় অবরুদ্ধ করা মার্কিন ও ইসরায়েলি বাণিজ্যিক জাহাজ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। আটককৃত এসব জাহাজ বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ যুদ্ধবিধ্বস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষদের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট মনিটর’–এর এক প্রতিবেদনে ইরানের বিচার বিভাগের আইনজীবী কেন্দ্রের প্রধান হাসান আবদোলিয়ানপুরের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'মিজান নিউজ এজেন্সি' জানায়, আদালতের সুনির্দিষ্ট বিচারিক আদেশের ভিত্তিতে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি এবং সংলগ্ন পারস্য উপসাগরীয় জলসীমা থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মালিকানাধীন বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু সমুদ্রগামী বাণিজ্যিক জাহাজ ক্রোক করা হয়েছে।

হাসান আবদোলিয়ানপুর স্পষ্ট জানান, এসব জলযান বিক্রির পুরো অর্থ সাম্প্রতিক সামরিক যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাহায্য ও পুনর্বাসনে ব্যয় করা হবে। তবে অবরুদ্ধ করা নৌযানের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কিংবা নিলামের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি বিচার বিভাগ।

এর পাশাপাশি, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে মার্কিন সামরিক হামলায় কী পরিমাণ অবকাঠামোগত ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পরিমাপের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। দেশটির কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে এই মূল্যায়নের কাজ পরিচালনা করছে বলে উল্লেখ করেন ওই ইরানি কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, ইরানের দাবি অনুযায়ী গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে দেশটির ওপর সামরিক হামলা শুরু করে, যাতে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। জবাবে ইরানও আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সংঘাত চলাকালে বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়লে বৈশ্বিক বাণিজ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর


সামরিক ক্ষয়ক্ষতির জল্পনায় জল: যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে ট্রাম্পের বড় দাবি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ২১:১২:৪৭
সামরিক ক্ষয়ক্ষতির জল্পনায় জল: যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে ট্রাম্পের বড় দাবি
ছবি : সংগৃহীত

প্রায় সাত মাস ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সংঘাতের কারণে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত মারাত্মকভাবে কমে গেছে সংক্রান্ত সংবাদকে ভিত্তিহীন বলে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মার্কিন বাহিনীর গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এটি কাপুরুষ ও শত্রুপক্ষের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিবৃতিতে তিনি আরও দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বর্তমানে সামরিক চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনের চেয়েও অতিরিক্ত গোলাবারুদ মজুত রয়েছে। একই সাথে মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতে যুদ্ধাস্ত্র উৎপাদনের হার অভূতপূর্ব মাত্রায় বাড়ানো হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি।

/আশিক


মার্কিন ডুবোজাহাজ দখলের দাবি ইরানের, শুরু হচ্ছে ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১৯:৫০:৪৩
মার্কিন ডুবোজাহাজ দখলের দাবি ইরানের, শুরু হচ্ছে ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিতে নির্মিত একটি ডুবোজাহাজ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সংস্থাটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি জানিয়েছেন, ডুবোজাহাজটিতে অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে এবং আইআরজিসি নৌবাহিনীর হাতে আসার পর এটি ব্যবচ্ছেদ করে তথ্য বের করার প্রক্রিয়া বা ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ শুরু করা হবে।

ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজের রাজনৈতিক প্রতিবেদককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র সশস্ত্র বাহিনীর সাম্প্রতিক নানা সামরিক তৎপরতার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, টানা প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের সময় মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম সফলভাবে মোকাবিলার মাধ্যমে ইরানি বাহিনীর সক্ষমতার প্রমাণ মিলেছে।

হোসেইন মোহেব্বির দাবি অনুযায়ী, ওই সামরিক সংঘাতের সময় মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতে ব্যবহৃত বেশ কিছু সর্বাধুনিক প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে এসেছে। এর দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি মার্কিন স্টিলথ প্রযুক্তির এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন।

আইআরজিসি মুখপাত্রের মতে, এফ-৩৫ বিমানের মূল কাঠামো, রাডার ফাঁকি দেওয়ার বিশেষ প্রযুক্তি, উড্ডয়নসীমা এবং সামরিক অস্ত্র বহনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জটিল ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস বা মহাকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী সফলভাবে ওই বিমানকে নিশানা বানাতে পেরেছে।

একই আলাপে তিনি আইআরজিসির নৌবাহিনীর হাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ডুবোজাহাজ আটকা পড়ার বিস্ফোরক দাবি তোলেন। তিনি জানান, প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ওই জলযানটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার নকশা ও মূল প্রযুক্তি রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আওতায় আনা হবে।

তবে ফার্স নিউজকে দেওয়া ওই বক্তব্যে ডুবোজাহাজটির সঠিক মডেল, সেটিকে ঠিক কোথায় এবং কোন পদ্ধতিতে আটক বা পরাস্ত করা হয়েছে—সে ব্যাপারে স্পষ্ট ও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রদান করেননি আইআরজিসির এই মুখপাত্র।

মোহেব্বি আরও দাবি করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক শক্তিতে আকাশ ও নৌপথের আধুনিক সরঞ্জাম সমন্বিত রয়েছে। যার মধ্যে কৌশলগত যুদ্ধবিমান, সহায়ক সরঞ্জাম, পরিবহন বিমান, আধুনিক নজরদারি বিমানসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ডুবোজাহাজ এবং চালকবিহীন যুদ্ধযান বা ড্রোন নৌকা অন্তর্ভুক্ত।

আইআরজিসি মুখপাত্রের এই সকল দাবি ফার্স নিউজ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সামনে এলেও, মার্কিন ওই সাবমেরিন আটকের ঘটনার সাপেক্ষে কোনো স্বাধীন বা নিরপেক্ষ প্রমাণ বা সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

/আশিক


 হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কূটনৈতিক প্রস্তাব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১৯:২৩:২৫
 হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কূটনৈতিক প্রস্তাব
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক চাপ কমানোর প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আগামী সাত দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাপানের সংবাদমাধ্যম কিয়োদো নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে শীর্ষস্থানীয় এক ইরানি কর্মকর্তা এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কিয়োদো নিউজের প্রকাশ করা প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানি এই প্রস্তাবটি মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জলপথটি খুলে দেওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান শত্রুতা ও সামরিক উত্তেজনার স্থায়ী অবসানে নতুন করে প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তেহরানের দেওয়া এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য কেবল হরমুজ প্রণালি মুক্ত করা নয়, বরং কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে মার্কিন-ইরান সম্পর্কের স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি একটি সমাধান গড়ে তোলা। তবে চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বৈঠকের সম্ভাবনা একপ্রকার নাকচ করে দিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

ইরানি ওই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, সংকট নিরসনে একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ এখনো খোলা রয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে কূটনৈতিক আলোচনাকে সামনে এগিয়ে নিতে মার্কিন প্রশাসনকে তাদের সামরিক সিদ্ধান্ত ও প্রতিশ্রুতি পালনে আন্তরিকতার প্রমাণ দেখাতে হবে।

বিশ্ববাজারের জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত প্রধান এই সমুদ্রপথে নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যকার বিরোধ চরমে পৌঁছায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে পাল্টা পদক্ষেপে ইরানও ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ চালায়।

পরবর্তীকালে এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সায় দেয় এবং জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষর করে। যেখানে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে উভয় দেশকে ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উক্ত চুক্তির পরপরই দুই দেশ পুনরায় সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়ে পড়ে, যার জেরে ওয়াশিংটন ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ পুনরারোপ করে এবং জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


ইরানের বিষয়ে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিল ওয়াশিংটন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১৮:৪৫:৫৩
ইরানের বিষয়ে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিল ওয়াশিংটন
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার তীব্র কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার আবহেই জাতিসংঘে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছার কথা নিশ্চিত করেন, যা পরবর্তীতে আল জাজিরাতেও সম্প্রচারিত হয়।

সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান সংঘাতের নিরসনে ওয়াশিংটন উন্মুক্ত আলোচনায় আগ্রহী। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে আনুষ্ঠানিক কোনো সময়সূচি নির্ধারিত না হলেও আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক ফলাফল ও চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হলে যুক্তরাষ্ট্র এতে সানন্দে অংশ নেবে। তবে আলোচনার প্রধান শর্ত উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান, ইরানকে নিশ্চিত করতে হবে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।

এদিকে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক তৎপরতার অংশে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চীনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা তিনি উল্লেখ করলেও চলমান এই সংকট ঠিক কতদিন স্থায়ী হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ধারণা দিতে পারেননি।

কূটনৈতিক আলোচনার বার্তার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপও জোরদার করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। দেশটির বিমান চলাচলের সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি পূর্বানুমতি ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে ইরানি আকাশসীমা ব্যবহার করে অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচলের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়াও বেসামরিক বিমান খাত, জ্বালানি সরবরাহ এবং জরুরি মেরামতের কাজ সংক্রান্ত বেশ কিছু আর্থিক লেনদেনের ওপর ইতিবাচক ছাড় প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এসব শিথিলতার মেয়াদ ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নতুন করে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পথ আরও জটিল ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা


চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের আকাশে উড়ন্ত রহস্যময় বস্তু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১৮:০০:৩৯
চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের আকাশে উড়ন্ত রহস্যময় বস্তু
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক বিদ্যমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশে একটি রহস্যময় উড়ন্ত বস্তুর দেখা মিলেছে। বস্তুটিতে নানা রঙের উজ্জ্বল আলোর খেলা লক্ষ্য করা গেছে। আকাশে কিছুক্ষণ ভেসে থাকার পর দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ঘিরে নানা গুঞ্জন ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথিত অতি গোপনীয় যুদ্ধবিমান ‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’ সংক্রান্ত আলোচনা নতুন করে শুরু হয়েছে। যদিও মার্কিন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কখনোই এই সামরিক বিমানের অস্তিত্ব স্বীকার করেনি। একইসঙ্গে তেহরানের আকাশে দেখা যাওয়া আলোর সঙ্গে এই কথিত বিমানের কোনো ধরনের সংযোগ রয়েছে—এমন সুনির্দিষ্ট প্রমাণও মেলেনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর তেহরানের আজাদেগান এক্সপ্রেসওয়ের কাছাকাছি এলাকায় আকাশে প্রথম ওই রহস্যময় বস্তুর উপস্থিতি চিহ্নিত করা হয়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওচিত্রে একটি বিশাল অর্ধচন্দ্রাকৃতির বস্তুকে বিভিন্ন রঙের আলো ছড়াতে দেখা যায়। এর পরের দিন, অর্থাৎ ২১ সেপ্টেম্বর ইরানের জাহেদান শহরের আকাশে একই ধরনের অস্বাভাবিক আলোর দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী হয়, যা ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

বহু বছর ধরেই ‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’ নামের একটি সামরিক বিমান নিয়ে নানা ধরনের তথ্য দাবি করা হয়ে আসছে। বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্যমতে, এটি দেখতে কালো ও ত্রিভুজাকৃতির, যার ঠিক মাঝখানে একটি উজ্জ্বল আলো থাকে। দাবিকৃত তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি অত্যন্ত কম উচ্চতায় নিঃশব্দে উড়তে পারে, আকাশে এক জায়গায় স্থির থাকতে পারে এবং মুহূর্তের মধ্যে চোখের পলকে গতি পরিবর্তন করতে পারে। তবে এসব তথ্যের সাপেক্ষে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এর আগে ২০২১ সালে ভূমধ্যসাগরে অবস্থানরত একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর ওপর ত্রিভুজাকৃতির একই ধরনের উড়ন্ত বস্তুর ছবি ইরানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিমানটি নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়। সে সময় ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাথে সম্পর্কিত তাসনিম নিউজ এজেন্সি দাবি করেছিল, বস্তুটি গোপন ‘টিআর-৩ ব্ল্যাক মান্টা’ বিমান হতে পারে।

কথিত আছে, এই উড়োজাহাজটিতে ‘অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি’ বা অভিকর্ষ-বিরোধী প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়, যা এটিকে শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে চলতে সাহায্য করে। বিভিন্ন অপ্রমাণিত তত্ত্বে বলা হয়, পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে প্লাজমা তৈরির মাধ্যমে বিমানটির গতি ও দিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাডার ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে। তবে আধুনিক বিজ্ঞানে বা সামরিক ইতিহাসে এমন প্রযুক্তির বাস্তব কার্যকারিতার প্রমাণ নেই।

বিভিন্ন সময়ে ত্রিভুজাকৃতির উড়ন্ত বস্তুর সত্যতা নিয়ে অনুসন্ধানী কাজ পরিচালনা করা হয়েছে। লাস ভেগাসভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিসকভারি সায়েন্স’ ২০০৪ সালে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার আগ পর্যন্ত উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ থেকে ১৫০টিরও বেশি এই ধরনের ঘটনার নথি সংগ্রহ করেছিল। তাদের মতে, এমন কোনো বস্তু সামরিক গোয়েন্দা নজরদারিতে ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের গোপন সামরিক বিমানের উপস্থিতি দীর্ঘদিন লুকিয়ে রাখার নজির রয়েছে। যেমন—এফ-১১৭ নাইটহক যুদ্ধবিমানটি আশির দশকের শুরুতে নির্মিত হলেও মার্কিন প্রশাসন ১৯৮৮ সালের পূর্বে এর কথা স্বীকার করেনি। সে হিসেবে ব্ল্যাক মান্টাকে কেন্দ্র করে ধারণা বা জল্পনা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

তবে সর্বশেষ তেহরানের আকাশে ভেসে থাকা বস্তুটির প্রকৃত পরিচয় কী, কিংবা এটি কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান কি না—তা পুরোপুরি অস্পষ্ট। একইসঙ্গে ঘটনার বিষয়ে ইরান সরকার বা দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করা হয়নি।

/আশিক

পাঠকের মতামত: