যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে: শেখ হাসিনার নির্দেশনার প্রমাণ পেল ট্রাইব্যুনাল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১০ ১৮:২৬:২১
যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে: শেখ হাসিনার নির্দেশনার প্রমাণ পেল ট্রাইব্যুনাল
ছবি : গ্রাফিক্স ইত্তেফাক

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরাসরি গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। রোববার (১০ মে) নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন।

এদিন রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, "তদন্তে শেখ হাসিনা ও ডিএসসিসির তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের একটি কথোপকথন পাওয়া গেছে। সেখানে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়— 'আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে, ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিছি। এখন লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে, যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে'।"

চিফ প্রসিকিউটর মন্তব্য করেন যে, একজন সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার এমন নির্দেশনা ছিল অত্যন্ত অমানবিক। এর ফলে সারা দেশে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রবণতা বেড়ে যায়, যার ফলস্বরূপ হাজারো মানুষের মৃত্যু ঘটে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৮ ও ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আক্রমণ চালানো হয়েছিল। বিশেষ করে কিশোর ফাইয়াজের নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরো বাংলাদেশকে ব্যথিত ও আবেগাপ্লুত করেছিল।

মোহাম্মদপুরের এই মামলায় 'সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি' এবং 'টার্গেটেড কিলিং'-এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করেছেন এবং আগামী ৮ জুন থেকে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।

/আশিক


রাজনৈতিকভাবে দাফন হয়েছে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার: সালাহউদ্দিন আহমদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ১৯:২৬:২৫
রাজনৈতিকভাবে দাফন হয়েছে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার: সালাহউদ্দিন আহমদ
ছবি : সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে চিরতরে বিদায় নিয়েছেন দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনা যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বয়ান তৈরি করে চলেছেন, তার দায় নয়াদিল্লি এড়াতে পারে না।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউট্যাব-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী শেখ হাসিনার নির্দেশে জুলাই অভ্যুত্থানে নারী ও শিশুসহ ১৪ শতাধিক মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে গণহত্যা চালানোর পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) দণ্ডিত হয়ে ও ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে পালিয়ে গেলেও তাঁর মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা কাজ করছে না। বরং অভ্যুত্থানকারীদের ঢালাওভাবে ‘জঙ্গি’ হিসেবে চিত্রায়িত করে অস্থিতিশীলতা তৈরির চক্রান্ত চালানো হচ্ছে। একজন দণ্ডিত অপরাধীকে ভারতে বসে বারবার বিশ্ব গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ভারতের সাথে সম্পর্কের নীতি স্পষ্ট করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বন্ধুভাবাপন্ন প্রতিবেশী সম্পর্ক এবং পারস্পরিক মর্যাদায় বিশ্বাসী। তবে নিজস্ব ভূখণ্ড ও জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো অসৌহার্দ্যপূর্ণ কিংবা দাসত্বসুলভ সম্পর্ক ধরে রাখার পক্ষপাতী বিএনপি নয়। নিজ স্বার্থ বিকিয়ে কোনো সম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

/আশিক


টিএফআই সেলে সালাহউদ্দিনকে নির্যাতন: চূড়ান্ত চার্জশিটের পথে ট্রাইব্যুনাল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ১৯:১৯:১৫
টিএফআই সেলে সালাহউদ্দিনকে নির্যাতন: চূড়ান্ত চার্জশিটের পথে ট্রাইব্যুনাল
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে গুম ও নির্যাতনের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক সেনাকর্তা জিয়াউল আহসানসহ তৎকালীন র‍্যাব-পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই তদন্ত শেষ করে আসামীদের বিচারে সোপর্দ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ইতোমধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের মৌখিক জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন এবং খুব শিগগিরই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁর আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি নেওয়া হবে। তদন্ত চলাকালে র‍্যাবের গোপন বন্দিশালা ‘টিএফআই সেল’-এ তাঁকে দুই মাস আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোর বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সাথে গুমের শিকার ছাত্রদল নেতা ও আইনজীবী সোহেলের জবানবন্দিতেও সালাহউদ্দিন আহমেদকে গুম করে রাখার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩ জুন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, বরখাস্তকৃত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে গুমের অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।

২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি আবাসিক এলাকা থেকে বিএনপির তৎকালীন মুখপাত্র সালাহউদ্দিন আহমেদকে তুলে নেওয়া হয়। এর দীর্ঘ দুই মাস পর, অর্থাৎ ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলং থেকে উদ্ধারের কথা জানায় স্থানীয় পুলিশ। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের মামলা করে মেঘালয় পুলিশ। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে নিম্ন আদালতে এবং ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগেও সালাহউদ্দিন আহমেদ ওই মামলা থেকে নির্দোষ খালাস পান। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ট্রাভেল পাস পেয়ে ১১ আগস্ট তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।

/আশিক


আগের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের খেসারত দিচ্ছে দেশ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ১৯:১১:৩৭
আগের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের খেসারত দিচ্ছে দেশ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : পিএমও

আগের সরকারের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের খেসারত বর্তমান সরকারকে দিতে হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিদ্যমান সংকট কাটাতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সাথে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা এই স্পর্শকাতর খাতকে অস্থিতিশীল করতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সাথে নিয়ে এলডি হল প্রাঙ্গণে অর্জুন ও নিম গাছের চারা রোপণ করেন এবং পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়িয়ে সমাবেশের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি, অস্থিতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো এবং বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য ও শক্তি খাতের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারকে পথ চলতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকটের বিষয়টি অস্বীকার না করে তিনি জানান, অতীতে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ সুযোগ দিতে গিয়ে নেওয়া ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আজ পুরো দেশকে খেসারত দিতে হচ্ছে। আর এই সুযোগে একটি চক্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

টমাস আলভা এডিসনের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের স্বাস্থ্যনীতি রোগের চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধকে বেশি অগ্রাধিকার দেয় (‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্য্যান কিওর’)। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সারাদেশে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি, যাদের প্রশিক্ষণ ও পরিচালনায় চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। চিকিৎসকদের অতিমাত্রায় রাজনীতিতে জড়িয়ে না পড়ার পরোক্ষ পরামর্শ দিয়ে তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়ার তাগিদ দেন।

সমাবেশে চিকিৎসকদের উত্থাপিত বেশ কিছু দাবি নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। যার মধ্যে রয়েছে—৫ হাজার চিকিৎসকের জন্য বিশেষ বিসিএস, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ ও অবসরের বয়স ৬৫ বছর করা, স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন পাস, উপজেলা ভাতা বৃদ্ধি, বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো এবং বিকেন্দ্রীভূত হাসপাতাল নির্মাণ। এসব প্রস্তাবকে যৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি জানান, এগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই ঢাকার বাইরে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে গেছে।

চিকিৎসা খাতে বাজেটের তথ্য তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্যখাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট দেওয়া হয়েছে, যা আগামী ৫ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এছাড়া দ্রুত ই-হেলথ কার্ড চালু এবং প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি একটি সেবাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর ঘিরে বিএনপিতে ব্যাপক প্রস্তুতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ০৯:৪৭:৩০
প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর ঘিরে বিএনপিতে ব্যাপক প্রস্তুতি
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) একদিনের সফরে তিনি প্রথমে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে যাবেন। সেখান থেকে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে একাধিক সরকারি ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে সফরসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং প্রশাসনও সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি জোরদার করেছে।

সফর ঘিরে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। দলীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি পৃথক প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের তিন সাংগঠনিক ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটির নেতাদের নিয়ে সন্ধ্যার সাংগঠনিক সভাটি তৃণমূল পর্যায়ে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নেতাকর্মীদের বক্তব্য শুনবেন এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কর্মকৌশল নিয়ে নির্দেশনা দেবেন।

চূড়ান্ত সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টার দিকে তারেক রহমান মহেশখালীতে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। এসব প্রকল্প দেশের বন্দর, জ্বালানি ও আঞ্চলিক যোগাযোগ অবকাঠামোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের সরকারি অংশে মাতারবাড়িকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মাতারবাড়ির কর্মসূচি শেষে দুপুর ১২টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ত্রাণ বিতরণ করবেন। একই সঙ্গে গৃহহারা ১০০ পরিবারের হাতে নতুন নির্মিত বাড়ির চাবি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

এরপর দুপুর ১টার দিকে ফটিকছড়িতে যাবেন তারেক রহমান। সেখানে আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরে হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসায় গিয়ে প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফির কবর জিয়ারত করার কর্মসূচি রয়েছে।

হাটহাজারীতে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় সংক্ষিপ্ত বিরতির পর প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর নির্মাণে সহায়তা হিসেবে পরিবারপ্রতি এক লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। এই সহায়তা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের পক্ষ থেকে প্রদান করা হবে। একই অনুষ্ঠানে ১৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শুভেচ্ছা সহায়তা হিসেবে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।

দিনের সরকারি কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এই সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেবেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন কিন্তু বর্তমানে পদে নেই—এমন কিছু জ্যেষ্ঠ নেতাকেও সভায় আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান জানিয়েছেন, নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারা সভায় অংশ নেবেন। দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতারাও জানিয়েছেন, বাঁশখালীর কর্মসূচি জনসভা না হলেও প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখতে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাগত ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে বন্যার্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও পার্বত্য এলাকার সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চাইছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সফর ঘিরে নিরাপত্তা ও সমন্বয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

সব কর্মসূচি শেষে রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একদিনের এই সফরে উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন, বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন, ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম সব মিলিয়ে সরকারি ও রাজনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই সফরটি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

-রফিক


স্বর্ণ খাতে বড় সংস্কার, বদলাতে পারে আমদানি-রপ্তানি নিয়ম

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৭ ১৪:২৮:৫১
স্বর্ণ খাতে বড় সংস্কার, বদলাতে পারে আমদানি-রপ্তানি নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

দেশের দীর্ঘদিনের অনানুষ্ঠানিক স্বর্ণ ব্যবসাকে ধীরে ধীরে বৈধ, স্বীকৃত ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মধ্যে আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। খসড়াটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন ও অন্যান্য অংশীজনকে আগামী রোববারের মধ্যে লিখিত মতামত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত খসড়া নীতিমালা পর্যালোচনা সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সংশ্লিষ্টদের মতামত দ্রুত জমা দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে অংশীজনদের সঙ্গে আরও একটি পরামর্শসভা করা হবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব সংশোধিত নীতিমালাটি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যবসাবান্ধব কাঠামোর আওতায় আনতে নীতি সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এনামুল হক খান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং স্বর্ণ খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। খসড়া নীতিমালায় স্বর্ণ আমদানি, সংরক্ষণ, পাইকারি ও খুচরা বেচাকেনা, রপ্তানি এবং কর-শুল্ক কাঠামো—সবগুলো বিষয় নতুনভাবে সাজানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বর্ণ ও অলংকার খাত বহু বছর ধরে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর একটি বড় অংশ এখনো পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আসেনি। এই অবস্থার দায় শুধু ব্যবসায়ীদের নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর নীতিমালা, নজরদারি এবং বাস্তবসম্মত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার ঘাটতিও এর জন্য দায়ী। তাঁর মতে, ব্যবসায়ীদের এমন একটি পরিবেশ দিতে হবে যেখানে বৈধভাবে ব্যবসা করা সহজ হবে এবং অনিয়মের সুযোগ কমে আসবে।

সরকারের উদ্দেশ্য নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি করা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বর্ণ ব্যবসাকে অন্য শিল্পখাতের মতো নিয়মতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থায় আনা হলে একাধিক ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। বৈধ পথে আমদানি বাড়বে, সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, ব্যবসায়ীদের আইনি নিরাপত্তা তৈরি হবে এবং স্বর্ণের উৎস, মজুত ও বিক্রির হিসাব আরও পরিষ্কার হবে। সরকার সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, রপ্তানিমুখী শিল্প ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

খসড়া নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো বৈধভাবে আমদানি করা স্বর্ণের প্রতিটি ধাপ হিসাবের আওতায় আনা। কোথা থেকে স্বর্ণ এসেছে, কোন ব্যবসায়ীর কাছে কত পরিমাণ মজুত রয়েছে, কতটুকু অলংকার উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়েছে এবং কী পরিমাণ বিক্রি হয়েছে—এ ধরনের তথ্য একটি নির্ভরযোগ্য হিসাব ও তদারকি ব্যবস্থার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে। এতে অঘোষিত স্বর্ণ, অবৈধ লেনদেন এবং উৎস গোপনের প্রবণতা কমতে পারে বলে আশা করছে সরকার।

শুল্ক ও কর কাঠামোও নতুনভাবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রীর মতে, স্থানীয় বাজারের সঙ্গে দুবাইসহ আন্তর্জাতিক প্রধান স্বর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোর দামের ব্যবধান অস্বাভাবিকভাবে বেশি হলে বৈধ আমদানি নিরুৎসাহিত হতে পারে এবং চোরাচালান বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সে কারণে এমন কর ও শুল্কহার দরকার, যাতে বৈধ ব্যবসা প্রতিযোগিতামূলক থাকে এবং অবৈধ পথে স্বর্ণ আনার আর্থিক প্রণোদনা কমে যায়।

সরকার শুধু স্বর্ণ আমদানি নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং এই খাতকে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপ দেওয়ার সম্ভাবনাও দেখছে। দেশে দক্ষ স্বর্ণকার ও দীর্ঘদিনের অলংকার তৈরির ঐতিহ্য রয়েছে। যৌক্তিক শুল্কে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ, মান নিয়ন্ত্রণ, ডিজাইন উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে বাংলাদেশ মূল্য সংযোজিত স্বর্ণালংকার রপ্তানির মাধ্যমে নতুন বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস তৈরি করতে পারে।

বাণিজ্যমন্ত্রী এর আগে জাতীয় সংসদে রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন। দেশের রপ্তানি এখনো তৈরি পোশাকনির্ভর হওয়ায় নতুন উচ্চমূল্যের পণ্য ও শিল্পখাতকে বৈশ্বিক বাজারে নিয়ে যাওয়ার ওপর সরকার জোর দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে স্বর্ণালংকার রপ্তানিকেও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

-রাফসান


গণমাধ্যম শক্ত হলে গণতন্ত্রও টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৭ ১৪:২৩:০৭
গণমাধ্যম শক্ত হলে গণতন্ত্রও টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

শক্তিশালী, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ছাড়া টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে টিভি এডিটরস কাউন্সিলের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কোনো পক্ষের প্রতি অনুগত না হয়ে তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে সত্য তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে দেশের সংবাদমাধ্যমের মালিকানা কাঠামো, আর্থিক দুর্বলতা এবং পেশাগত অনিশ্চয়তাকে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবেও চিহ্নিত করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং তা কোনো স্বল্পমেয়াদি প্রক্রিয়া নয়। পাশ্চাত্যের দেশগুলোর গণতান্ত্রিক বিকাশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বহু শতকের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সেখানে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ধৈর্য, সহনশীলতা এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যম যত স্বাধীন ও কার্যকর হবে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতাও তত শক্তিশালী হবে। এর আগেও জুলাইয়ের শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি বলেছিলেন, সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব হলো ভালো কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ভুল, অনিয়ম ও দুর্নীতিকে নির্ভয়ে সামনে আনা।

তবে দেশের টেলিভিশন টকশো ও রাজনৈতিক আলোচনার ধরন নিয়েও সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব। তাঁর মতে, অনেক আলোচনায় এমন একটি চিত্র তুলে ধরা হয়, যেন সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংসের মুখে। তিনি বলেন, সমালোচনা গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ হলেও তা তথ্যভিত্তিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে সরাসরি চাপ নেই দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারপরও অনেক সাংবাদিক নিজেরাই আত্মনিয়ন্ত্রণ বা আত্মসংযমের মধ্যে থাকেন। তাঁর মতে, এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও সাহসী হতে হবে। সত্য সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের স্বাধীনতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি নিজেদের অধিকার রক্ষায় পেশাজীবীদের ঐক্যও জরুরি।

সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের অনেক সংবাদকর্মী ন্যূনতম চাকরির নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা হয়, বেতন কাঠামো অনিশ্চিত থাকে এবং শ্রম অধিকারের প্রশ্নেও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায় না। অথচ এ ধরনের ঘটনায় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রতিবাদ সবসময় দৃশ্যমান নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গণমাধ্যমের মালিকানা কাঠামোকেও স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন মির্জা ফখরুল। তাঁর মতে, একটি সংবাদপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বার্থ, ব্যবসায়িক নির্ভরতা কিংবা মালিকের রাজনৈতিক অবস্থান যদি সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে, তাহলে একজন সাংবাদিকের পক্ষে পূর্ণ স্বাধীনতায় কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই মালিকানা, সম্পাদকীয় স্বাধীনতা এবং সংবাদকর্মীদের পেশাগত অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন।

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক শর্ত হচ্ছে ভিন্নমতকে সম্মান করা। রাজনৈতিকভাবে একমত না হলেও প্রতিপক্ষকে কথা বলার অধিকার দিতে হবে এবং জনপরিসরে ভিন্ন মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা বাড়লে গণমাধ্যম যেমন দুর্বল হয়, তেমনি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার ইতিহাস নিয়েও কথা বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর দেশে দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতান্ত্রিক চর্চার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন এবং পরে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেও সেই ধারা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই অংশটি বিএনপির নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন দলের ভিন্ন ব্যাখ্যার অংশ।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও গণমাধ্যমকে গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরে মির্জা ফখরুল একাধিকবার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান জানিয়েছেন। জুলাইয়ে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, সাংবাদিকদের কাজ হলো ব্যক্তি নয়, কাজকে মূল্যায়ন করা এবং রাজনীতিবিদদের ভুলত্রুটি তথ্যভিত্তিকভাবে তুলে ধরা।

-রফিক


আগস্টের শেষে চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৭ ১৪:১৭:৪১
আগস্টের শেষে চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ
ছবি : সংগৃহীত

আগস্ট মাসের শেষ দিকে চাকরিজীবীদের সামনে টানা চার দিনের ছুটি উপভোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকারি ছুটির সঙ্গে মাত্র এক দিনের নৈমিত্তিক বা অনুমোদিত ছুটি সমন্বয় করতে পারলে ২৬ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ অবকাশ পাওয়া যেতে পারে। তবে পুরো পরিকল্পনাই নির্ভর করবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর সরকারি ছুটির চূড়ান্ত তারিখের ওপর।

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছে। ইসলামি ধর্মীয় দিবসের তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটির দিন প্রয়োজন হলে পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে—আগের বছরও চাঁদ দেখার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ছুটির তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছিল।

বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকলে চাকরিজীবীরা পরদিন ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার এক দিনের নৈমিত্তিক বা অনুমোদিত ছুটি নিতে পারেন। এরপর ২৮ আগস্ট শুক্রবার এবং ২৯ আগস্ট শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় সব মিলিয়ে টানা চার দিনের বিরতি পাওয়া যাবে।

অর্থাৎ ২৬ আগস্ট সরকারি ছুটি, ২৭ আগস্ট ব্যক্তিগত বা নৈমিত্তিক ছুটি এবং ২৮ ও ২৯ আগস্ট সাপ্তাহিক ছুটি—এই সমন্বয়ই দীর্ঘ অবকাশের সুযোগ তৈরি করবে। যারা পরিবার নিয়ে ভ্রমণ, গ্রামের বাড়ি যাওয়া বা ব্যক্তিগত বিশ্রামের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এটি সুবিধাজনক হতে পারে।

তবে ২৭ আগস্টের ছুটি স্বয়ংক্রিয় নয়। সংশ্লিষ্ট অফিস বা প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত ছুটি নীতিমালা অনুযায়ী অনুমোদন নিতে হবে। সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নৈমিত্তিক ছুটি বা অন্য প্রযোজ্য ছুটি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও নিজস্ব এইচআর নীতি ও সাপ্তাহিক ছুটির কাঠামো অনুযায়ী সুবিধার পার্থক্য থাকতে পারে।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি পালিত হয়। তবে হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, পানি, আইনশৃঙ্খলা, অগ্নিনির্বাপণ, পরিবহন ও অন্যান্য জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ক্ষেত্রে সাধারণ ছুটির সুবিধা একইভাবে কার্যকর নাও হতে পারে।

এ কারণে দীর্ঘ ছুটির পরিকল্পনা করার আগে দুটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি—প্রথমত, চাঁদ দেখার পর ২৬ আগস্টের ছুটি বহাল থাকে কি না; দ্বিতীয়ত, ২৭ আগস্টের ব্যক্তিগত ছুটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুমোদন করে কি না। সরকার ধর্মীয় ছুটির তারিখ পরিবর্তন করলে পুরো চার দিনের হিসাবও বদলে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে সরকারি ছুটির বর্তমান সূচি অপরিবর্তিত থাকলে আগস্টের শেষ সপ্তাহে চাকরিজীবীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় দীর্ঘ বিরতির সুযোগ রয়েছে। মাত্র এক দিনের ছুটি সমন্বয় করতে পারলেই বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত টানা চার দিনের অবকাশ মিলতে পারে।

-রফিক


দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আসছে বড় পরিবর্তন, নতুন আইনের রূপরেখা প্রকাশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৬ ২১:৩৯:০২
দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আসছে বড় পরিবর্তন, নতুন আইনের রূপরেখা প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া ইতোমধ্যে জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালকের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে এসআরবি। পুলিশ ছাড়াও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে প্রেষণে (ন্যূনতম দুই বছর মেয়াদে) সদস্য এনে এই বাহিনী গঠিত হতে পারে। এসআরবির মূল দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক ও সাইবার অপরাধ দমন, মানবপাচার রোধ এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ, গ্রেপ্তার ও মামলার তদন্ত পরিচালনার জন্য এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ইউনিটটিকে।

নতুন এই বাহিনীর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এসআরবির অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর এবং মানবাধিকার বা বিচার প্রশাসনের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা সদস্য হিসেবে থাকবেন, যারা নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ করতে পারবেন। পাশাপাশি বাহিনীর সদস্যদের জন্য সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনটি চূড়ান্ত ও কার্যকর হওয়ার পর র‌্যাবের বিদ্যমান সব সম্পদ, জনবল, তহবিল, চলমান মামলা ও দায়-দায়িত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে।

/আশিক


গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নতুন আশার খবর দিলেন জ্বালানিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৬ ১৮:০৬:০২
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নতুন আশার খবর দিলেন জ্বালানিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানান, মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) দেখা দেওয়া যান্ত্রিক গোলযোগ সমাধান শেষে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল থেকেই পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে, যার ইতিবাচক প্রভাবে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে সারা দেশের গ্যাস সংকট কেটে যাবে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে এসব কথা বলেন।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, এফএসআরইউ সংস্কারের কাজ বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। মেরামত কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সঞ্চালন ফের চালু করা হবে।

বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় গ্যাসের সরবরাহ না থাকলে সাধারণ গ্রাহকের পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও চাপ তৈরি হয়। গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনরায় চালুর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক করা যায়।

/আশিক

পাঠকের মতামত: