ইরানের পাশে দুই মুসলিম দেশের সশস্ত্র গোষ্ঠী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ২০:৪৭:৩৮
ইরানের পাশে দুই মুসলিম দেশের সশস্ত্র গোষ্ঠী
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে টেলিভিশন ভাষণ দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দেওয়া এই ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ইরান কোনো পরিস্থিতিতেই আত্মসমর্পণ করবে না এবং চলমান সংঘাতের মুখেও প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে।

তার ভাষণে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে নিহতদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং তাদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ইরান দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তার মতে, ইরান তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাবে।

খামেনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রতিরোধ শক্তি ইসলামী বিপ্লবের আদর্শকে সমর্থন করে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলেই তারা সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

বিশেষভাবে ইয়েমেন ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সংগঠনগুলো ইসলামি বিপ্লবের লক্ষ্য ও আদর্শকে সমর্থন করে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে।

নতুন সর্বোচ্চ নেতা ইরানের সামরিক বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সাম্প্রতিক হামলার সময় দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে এবং তাদের ত্যাগই ইরানকে পরাধীনতা বা বিভক্তির ঝুঁকি থেকে রক্ষা করেছে।

তিনি বলেন, যখন দেশ বহুমুখী চাপের মুখে এবং সামরিক আক্রমণের শিকার, তখন ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এজন্য তিনি সেনা সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে খামেনি বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী হলেও অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানি বাহিনী কেবলমাত্র মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করছে এবং প্রয়োজন হলে এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকবে।

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রধান কারণ। তাই তিনি এই অঞ্চলের সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি দ্রুত বন্ধ করার আহ্বান জানান।


ইসরায়েলে ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা: রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৮:৫৮:৩৩
ইসরায়েলে ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা: রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েল অভিমুখে বৃষ্টির মতো রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরান ও লেবানন থেকে পরিচালিত এই যৌথ হামলায় ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইরান থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, এসব হামলা প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বুধবার সন্ধ্যা থেকে উত্তর ইসরায়েলে ব্যাপক রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই আক্রমণের ফলে উত্তর ইসরায়েলের লক্ষাধিক বাসিন্দাকে বাধ্যতামূলকভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিতে হয়েছে।

আইডিএফ-এর তথ্যমতে, হিজবুল্লাহ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে প্রায় ২০০টি রকেট নিক্ষেপ করে। যদিও সব রকেট সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি, তবে বেশ কিছু রকেট সরাসরি বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এতে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলায় একজন ৩৫ বছর বয়সী নারী এবং একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষ আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড আদম।

বিস্ফোরণের পর উড়ে আসা ধ্বংসাবশেষের আঘাতে তারা আহত হন এবং পরবর্তীতে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া বিয়িনা শহরে একটি বাড়িতে রকেট আঘাত হানলে সেখানে অন্তত চারজন তীব্র আতঙ্কজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। হামলার সময় উত্তর ইসরায়েলের গ্যালিলি অঞ্চল ও হাইফা এলাকায় বারবার সাইরেন বেজে ওঠে এবং লেবানন সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।

একই সময়ে ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এটি হিজবুল্লাহর সাথে তাদের একটি ‘সমন্বিত ও যৌথ অভিযান’। আইডিএফ দাবি করেছে যে, ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা সম্ভব হলেও কিছু স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা তেল আবিবের উপকণ্ঠে অবস্থিত গ্লিলট সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। উল্লেখ্য, এই এলাকায় ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০-এর সদরদপ্তর অবস্থিত। মূলত ইরান ও হিজবুল্লাহর এই সাঁড়াশি আক্রমণে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যভাগে এক ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

/আশিক


নিরাপদ মনে করা বৈরুতের এলাকাতেই ইসরাইলি হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৮:১১:০৭
নিরাপদ মনে করা বৈরুতের এলাকাতেই ইসরাইলি হামলা
ছবি: আল জাজিরা

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের আইচা বাক্কার এলাকায় ভোরের দিকে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে একটি আবাসিক ভবনের দুটি তলা ধ্বংস হয়ে গেছে। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকা কাচ, কংক্রিট ও ধুলাবালিতে ঢেকে যায় এবং বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আল-আহমাদ জানান, মঙ্গলবার ভোর প্রায় ৫টা ২০ মিনিটে তিনি পরিবারের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ একটি প্রবল বিস্ফোরণের শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়।

তিনি বলেন, প্রথম বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে তিনি দ্রুত উঠে সন্তানদের খোঁজ নিতে যান। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আরেকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা পুরো এলাকা আরও কাঁপিয়ে তোলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার ফলে একটি আবাসিক ভবনের অন্তত দুটি সম্পূর্ণ তলা ধ্বংস হয়ে যায়। বিস্ফোরণের শক্তিতে আশপাশের রাস্তা ভেঙে পড়া কাচ, কংক্রিটের টুকরো এবং ধুলায় ঢেকে যায়।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ইসরাইলি কিছু গণমাধ্যম দাবি করেছে, যে অ্যাপার্টমেন্টটিতে হামলা হয়েছে সেটি জামা’আ ইসলামিয়ে (ইসলামিক গ্রুপ) নামের একটি সংগঠনের ব্যবহৃত ছিল। তবে সংগঠনটি এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, তাদের কোনো সদস্য বা কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি।

মোহাম্মদ আল-আহমাদ বলেন, তার বাসা হামলার শিকার ভবনের ঠিক পাশেই অবস্থিত এবং একই উচ্চতায় হওয়ায় তার বাসাটিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের কারণে ঘরের প্রায় সব কাচ ভেঙে গেছে এবং ঘরের ভেতর সর্বত্র ভাঙা কাচ ছড়িয়ে আছে।

তিনি আরও জানান, হামলার পর ঘটনাস্থলে একটি অবিস্ফোরিত গোলা উদ্ধার করা হয়েছে, যা বিস্ফোরিত হয়নি। তার মতে, সেটি বিস্ফোরিত হলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও ভয়াবহ হতে পারত।

সূত্র: আল জাজিরা


ইরাকের ইরবিলে বিস্ফোরণ, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি আকাশ হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৭:৫৩:৩৮
ইরাকের ইরবিলে বিস্ফোরণ, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি আকাশ হামলা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরাকের উত্তরাঞ্চলের কুর্দি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের রাজধানী ইরবিল শহরের আকাশে দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শহরের আকাশে উড়ন্ত ড্রোনকে লক্ষ্য করে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হলে এই বিস্ফোরণ ঘটে।

মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে জানা যায়, ইরবিলের আকাশসীমায় প্রবেশ করা দুটি ড্রোনকে প্রতিহত করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ড্রোন দুটিকে সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।

ইরবিল মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত শহর হিসেবে পরিচিত। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং কূটনৈতিক স্থাপনা থাকায় অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তার দিক থেকে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের হামলার চেষ্টা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এদিকে একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননেও নতুন করে ইসরাইলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক আকাশ হামলা চালিয়েছে।

লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানায়, একটি হামলা নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের হারিস ও কাফরা শহরের উপকণ্ঠে আঘাত হানে। আরেকটি হামলা চালানো হয় টাইর জেলার নাকুরা এলাকার কাছাকাছি স্থানে।

স্থানীয় সূত্রের মতে, এসব হামলার ফলে ওই অঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আকাশে যুদ্ধবিমানের তীব্র শব্দ শোনা যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক ও লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত এসব সামরিক ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, ইরান এবং তাদের মিত্র শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনা যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে তা শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, বিশ্ব তেলবাজারে নজিরবিহীন সংকট, বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৭:৩৮:৩৮
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, বিশ্ব তেলবাজারে নজিরবিহীন সংকট, বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নজিরবিহীন সংকট তৈরি করেছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটির সর্বশেষ বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান সংঘাত বিশ্ব তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিহাসের অন্যতম বড় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

আইইএ জানায়, চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন বর্তমানে দৈনিক অন্তত ৮ মিলিয়ন ব্যারেল কমে গেছে। এর সঙ্গে পেট্রোলিয়ামজাত অন্যান্য পণ্যের উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় অতিরিক্ত প্রায় ২ মিলিয়ন ব্যারেল সরবরাহও বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব বিস্তারের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক তেল উৎপাদক দেশ উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্ব তেলবাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতেও পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠেছে। এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। তবে সাম্প্রতিক হামলা ও নিরাপত্তা হুমকির কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

আইইএর তথ্য অনুযায়ী, সংকট শুরুর আগে যে পরিমাণ তেল এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন হতো, বর্তমানে তা নেমে এসেছে স্বাভাবিক প্রবাহের ১০ শতাংশেরও কমে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ইরানের হামলা ও হুমকির কারণে ওই অঞ্চলে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ফলে অনেক কোম্পানি সাময়িকভাবে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে অথবা বিকল্প রুট খোঁজার চেষ্টা করছে।

আইইএ সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমার কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল সরবরাহ কবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে, সে সম্পর্কেও স্পষ্ট কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তা শুধু জ্বালানি বাজারেই নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ব্যয় দ্রুত বেড়ে যায়।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ওপর মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাব দীর্ঘদিনের। তাই ওই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়ে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আল জাজিরা


ইরানে হামলা বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার আহ্বান রাশিয়ার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৭:২৭:১০
ইরানে হামলা বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার আহ্বান রাশিয়ার
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক আলোচনার পথ পুনরায় শুরু করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে মস্কো।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক বিবৃতিতে বলেন, চলমান সামরিক সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং দ্রুত উত্তেজনা কমানোর জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়া এমন উদ্যোগকে সমর্থন করছে যা আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস করতে পারে এবং সংঘাতকে আবারও কূটনৈতিক আলোচনার ধারায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। মস্কোর মতে, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সমাধানই একমাত্র কার্যকর পথ।

মারিয়া জাখারোভা সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় মানবিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। চলমান সামরিক উত্তেজনা ও সহিংসতার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগজনক একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, সংঘাত যদি একইভাবে চলতে থাকে, তাহলে তা শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই হুমকির মুখে ফেলবে না, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই আহ্বান এমন এক সময় এসেছে যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহু সংকট একসঙ্গে চলমান। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি একযোগে বিশ্ব রাজনীতিকে অস্থির করে তুলেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রাশিয়া নিজেও বর্তমানে ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে জড়িত রয়েছে, যা এখন পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত সত্ত্বেও মস্কো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে।

-রাফসান


যুদ্ধ থামানোর ৩ শর্ত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৭:১৯:৪৬
যুদ্ধ থামানোর ৩ শর্ত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে প্রথমবারের মতো তিনটি সুনির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান যে তেহরান আঞ্চলিক শান্তিতে বিশ্বাসী হলেও এই যুদ্ধ শেষ করতে হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই ইরানের দেওয়া শর্তগুলো মেনে নিতে হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে রাশিয়া ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

পেজেশকিয়ানের মতে, জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা এই যুদ্ধ সমাপ্ত করার একমাত্র উপায় হলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরানের বৈধ অধিকারকে নিঃশর্ত স্বীকৃতি দেওয়া। এর পাশাপাশি তিনি দ্বিতীয় শর্ত হিসেবে চলমান সংঘাতের ফলে হওয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিপরীতে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তাঁর দেওয়া তৃতীয় ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্তটি হলো ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো আগ্রাসন হবে না মর্মে একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি প্রদান করা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতের এই তালিকায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নামও রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এছাড়া এই কয়েক দিনের হামলায় আহত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানও থেমে নেই; তারা ইতিমধ্যে ইসরায়েল, জর্ডান এবং ইরাকের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মূলত দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ভয়াবহ মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

/আশিক


আল-আকসা ১২ দিন বন্ধ: মুসলিম বিশ্বের প্রতিবাদ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৪:৫৭:১১
আল-আকসা ১২ দিন বন্ধ: মুসলিম বিশ্বের প্রতিবাদ
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাসে টানা ১২ দিন ধরে আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার ঘটনায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন ও ধর্মীয় স্বাধীনতার স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসও এ ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরাইলের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, জেরুজালেমের পুরোনো শহর এবং সেখানে অবস্থিত পবিত্র উপাসনালয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে বাধা দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

যৌথ বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আল-আকসা মসজিদ বা আল-হারাম আল-শারিফ এলাকায় ইসরাইলের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অবৈধ ও অযৌক্তিক। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেম কিংবা সেখানে অবস্থিত ইসলামিক ও খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর ওপর ইসরাইলের কোনো বৈধ সার্বভৌমত্ব নেই। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব পবিত্র স্থানে ধর্মীয় অনুশীলনের অধিকার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক বলেও তারা উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আরও বলেন, আল-আকসা মসজিদের সমগ্র এলাকা মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় স্থান হিসেবে স্বীকৃত। এই পবিত্র স্থানের প্রশাসনিক দায়িত্ব জর্ডানের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জেরুজালেম ওয়াকফ ও আল-আকসা বিষয়ক দপ্তরের হাতে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

যৌথ বিবৃতিতে ইসরাইলকে অবিলম্বে আল-আকসা মসজিদের ফটক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জেরুজালেমের পুরোনো শহরে প্রবেশে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া এবং মুসল্লিদের অবাধভাবে মসজিদে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

এছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তারা ইসরাইলের এই ধরনের পদক্ষেপ বন্ধ করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে এবং পবিত্র ধর্মীয় স্থানে অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয়।

অন্যদিকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বলছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে জেরুজালেমের পুরোনো শহরে প্রবেশ এবং ধর্মীয় কার্যক্রমে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

তবে এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখা ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ধর্মীয় অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

এদিকে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসও এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, রমজান মাসে আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখা ইতিহাসে একটি বিপজ্জনক নজির এবং এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।

-রাফসান


ইসরাইলের গোয়েন্দা সদর দপ্তরে ড্রোন হামলা ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৪:৪৭:৫০
ইসরাইলের গোয়েন্দা সদর দপ্তরে ড্রোন হামলা ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল তেল আবিবে অবস্থিত ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত–এর সদর দপ্তর এবং ইসরাইলি বিমানবাহিনীর দুটি কৌশলগত ঘাঁটি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (আইআরএনএ) জানিয়েছে, এই ড্রোন হামলা পরিচালিত হয়েছে বিশেষভাবে পালমাচিম এবং ওভদা বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে। এসব ঘাঁটি ইসরাইলের সামরিক অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তথ্য অনুযায়ী, পালমাচিম বিমান ঘাঁটি ভূমধ্যসাগরের উপকূলের কাছে ইয়াভনে শহরের পশ্চিম দিকে অবস্থিত এবং এটি ইসরাইলি বিমানবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। এই ঘাঁটি থেকে বিভিন্ন ধরনের বিমান ও সামরিক ড্রোন পরিচালিত হয় বলে সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

অন্যদিকে ওভদা বিমান ঘাঁটি ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক স্থাপনা। এই ঘাঁটি ইসরাইলি বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহৃত হয়।

ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এসব লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলা পরিচালনার মাধ্যমে ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে হামলার ফলে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হামলা কতটা সফল হয়েছে সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে এই ঘটনার বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তেল আবিবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না আসায় হামলার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

-রাফসান


ইরানকে উৎখাত সহজ নয়, বলছে মার্কিন গোয়েন্দারা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৪:০৪:০২
ইরানকে উৎখাত সহজ নয়, বলছে মার্কিন গোয়েন্দারা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা বিমান হামলা সত্ত্বেও ইরানের বর্তমান সরকার তাৎক্ষণিক পতনের ঝুঁকিতে নেই বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সাম্প্রতিক কয়েকটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে একই ধরনের মূল্যায়ন উঠে এসেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে ইরানের শাসকগোষ্ঠী এখনো রাষ্ট্রযন্ত্র এবং জনপরিসরের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা পৃথকভাবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলেও তাদের মূল্যায়নে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সামরিক চাপ সত্ত্বেও ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো এখনো ভেঙে পড়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে না।

নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব সূত্র জানিয়েছে, গোয়েন্দা বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে ইরানের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান, সামরিক কাঠামো এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য সমন্বয় বজায় রয়েছে। সর্বশেষ গোয়েন্দা মূল্যায়নটি গত কয়েক দিনের মধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানটি তিনি ‘শিগগিরই’ শেষ করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কট্টরপন্থি রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি দৃঢ়ভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকে, তাহলে যুদ্ধের একটি গ্রহণযোগ্য ও স্থিতিশীল সমাপ্তি খুঁজে পাওয়া সহজ হবে না।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হলেও দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের মধ্যে বড় ধরনের বিভক্তি দেখা যায়নি। বরং ক্ষমতার কাঠামোর ভেতরে দ্রুত পুনর্গঠন হয়েছে এবং নেতৃত্বের মধ্যে ঐক্য বজায় রয়েছে।

একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকরাও নিজেদের আলোচনায় স্বীকার করেছেন যে চলমান যুদ্ধের ফলে ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই। অর্থাৎ সামরিক চাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানো ততটা সহজ নাও হতে পারে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেছে যে পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিশীলতা, অর্থনৈতিক চাপ বা সামাজিক অস্থিরতা হঠাৎ করেই নতুন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের দপ্তর এবং সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)। একইভাবে হোয়াইট হাউসও এ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা এবং শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের অবস্থান।

যুদ্ধ শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের জনগণকে নিজেদের সরকার উৎখাত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা দাবি করেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করা এই সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য নয়।

সাম্প্রতিক হামলায় খামেনি ছাড়াও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বহু উচ্চপদস্থ কমান্ডার এবং কয়েক ডজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। আইআরজিসি ইরানের একটি শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী, যা দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

তবুও গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আইআরজিসির অবশিষ্ট নেতৃত্ব এবং খামেনির মৃত্যুর পর গঠিত অন্তর্বর্তী ক্ষমতাকাঠামো এখনো রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

এরই মধ্যে ইরানের শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতাদের পরিষদ অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব।

অন্যদিকে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল চায় না যে বর্তমান ইরানি শাসনব্যবস্থার কোনো অংশই টিকে থাকুক। তবে বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক অভিযান কীভাবে বাস্তবে ইরানের সরকারকে উৎখাত করতে পারে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এমন লক্ষ্য অর্জনের জন্য কেবল আকাশপথে হামলা যথেষ্ট নাও হতে পারে। এতে সম্ভবত স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে, যাতে ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী আন্দোলন শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো ইরানের মাটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি অস্বীকার করেনি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

পাঠকের মতামত: