এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ০৯:৫২:২৭
এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা করেছে সরকার। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ২০ জুলাই সারাদেশে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। ফলে লাখো পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের অপেক্ষার দিন এখন গণনার পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের সময়সূচি ঘোষণা করেন। জাতীয় পর্যায়ের স্টার্টআপ, বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবনী প্রকল্প, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি শিক্ষাখাতের নানা গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়েই ফল প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে শিক্ষা প্রশাসন।

ফল প্রকাশের ঘোষণার পাশাপাশি দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় চলমান সংস্কার কার্যক্রম সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন তিনি। মন্ত্রী জানান, জাতীয় শিক্ষাক্রম পুনর্বিন্যাস ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন পাঠ্যক্রম প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সরকার আগামী বছর থেকেই পাঠ্যক্রমে চারটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে বলেও জানান তিনি। যদিও নতুন বিষয়গুলোর নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে সেগুলো হবে সময়োপযোগী এবং ভবিষ্যৎমুখী বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে। এজন্য বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষাখাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। শিক্ষামন্ত্রী জানান, অতীতের অনিয়ম, দুর্বলতা এবং দুর্নীতির চিত্র পর্যালোচনা করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষা খাতের বাস্তব পরিস্থিতি জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে এবং ভবিষ্যৎ সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা অনেকটাই দূর হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাক্রম সংস্কার ও নতুন বিষয় সংযোজনের পরিকল্পনা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক করে তুলতে সহায়ক হতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

-রফিক


বাজেটে করছাড়ের মহাপ্যাকেজ, কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ০৮:২৯:৫৫
বাজেটে করছাড়ের মহাপ্যাকেজ, কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশীয় শিল্প, প্রযুক্তি খাত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উৎপাদনমুখী বিনিয়োগকে উৎসাহ দিতে ব্যাপক কর, ভ্যাট ও শুল্ক সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার এবার শিল্পখাতের জন্য অন্যতম বৃহৎ প্রণোদনা প্যাকেজ বিবেচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বাজেট সংশ্লিষ্ট আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তি খাত। সম্ভাব্য প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশে উৎপাদিত টেলিভিশন, ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মনিটর এবং মোবাইল ফোন উৎপাদনে কর ও ভ্যাট সুবিধার মেয়াদ আরও দীর্ঘ করা হতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে এসব পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমে বাজারমূল্যও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সূত্র বলছে, দেশীয়ভাবে তৈরি ইলেকট্রনিক পণ্যের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব পণ্য তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও কর অব্যাহতির সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশীয় শিল্পকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী করে তোলা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

শুধু ইলেকট্রনিকস নয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতও পাচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারে কর অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ, ব্যাটারি এবং অন্যান্য উপকরণ আমদানিতেও শুল্ক সুবিধা অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিল পরিশোধে বিশেষ রেয়াত সুবিধার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার প্রসারে ইলেকট্রিক গাড়ি ও ই-বাইক উৎপাদনে কর রেয়াত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ১৮০০ সিসি পর্যন্ত নতুন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে। ইলেকট্রিক গাড়ির নিবন্ধন ফিতেও বড় পরিবর্তন আনা হতে পারে, যাতে বর্তমান উচ্চ কর কাঠামোর পরিবর্তে গাড়ির সক্ষমতার ভিত্তিতে অপেক্ষাকৃত কম কর আরোপ করা হয়।

ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা খাতেও আসতে পারে স্বস্তির খবর। ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত ৬৮ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার, ক্যানসারের কয়েক ধরনের ওষুধে কর সুবিধা এবং কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহারের মতো উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। হার্টের রিং ও চোখের লেন্সের ওপর ভ্যাট কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

ভোক্তা পর্যায়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ওপরও কর ছাড় বাড়ানো হতে পারে। ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস, বীজসহ প্রায় ৬০টি কৃষি ও ভোগ্যপণ্যের উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যয় কমে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রযুক্তি খাতের বিকাশে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মনিটর, ডাটা প্রসেসিং ডিভাইস এবং ফ্ল্যাশ মেমোরি আমদানিতে আগাম কর কমানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মনিটর ও মোবাইল ফোনের ভ্যাট অব্যাহতি ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে স্থানীয় প্রযুক্তি শিল্প নতুন গতি পেতে পারে।

ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্যও বড় ধরনের সুবিধা বিবেচনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রস্তাব অনুযায়ী, ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের ওপর আরোপিত কর ও ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে ইউটিউবার, ডিজিটাল নির্মাতা এবং অনলাইন কনটেন্টভিত্তিক উদ্যোক্তারা উপকৃত হবেন।

স্বর্ণ ব্যবসায়ও বড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। বর্তমানে স্বর্ণ বিক্রির ওপর শতাংশভিত্তিক ভ্যাট আরোপ থাকলেও তা পরিবর্তন করে প্রতি ভরিতে নির্দিষ্ট অঙ্কের ভ্যাট নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বাজারে স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ হতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

এছাড়া মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকার কর প্রত্যাহার, বাদ্যযন্ত্র আমদানিতে শুল্ক কমানো, প্রসাধনী আমদানিতে শুল্ক হ্রাস, প্যাকেজিং খাতে উৎসে কর কমানো এবং মেট্রোরেল প্রকল্পে ভ্যাট অব্যাহতির মতো একাধিক প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত এসব কর ও শুল্ক সুবিধা বাস্তবায়িত হলে দেশীয় শিল্পায়ন, প্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন গতি আসতে পারে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় কমে গেলে অনেক পণ্যের বাজারদামও ধীরে ধীরে কমতে পারে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে আনবে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোন সুবিধাগুলো কার্যকর করবে, সেটিই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তাই শিল্পোদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের নজর এখন আসন্ন বাজেট ঘোষণার দিকে।

-রফিক


বাজেটে আসছে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুখবর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ০৮:২০:৫২
বাজেটে আসছে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুখবর
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বড় ধরনের কর সুবিধা ঘোষণার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এমন কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত করার উদ্যোগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল অর্থনীতির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও প্রযুক্তিভিত্তিক আয়ের খাতকে আরও উৎসাহিত করতে চায় সরকার। সেই লক্ষ্য থেকেই ফ্রিল্যান্সার, অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতা, ডিজিটাল উদ্যোক্তা এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসাগুলোর জন্য বিশেষ কর সুবিধার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রস্তাব কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করা ফ্রিল্যান্সারদের আয় আয়করের আওতার বাইরে চলে যেতে পারে। একই সঙ্গে ইউটিউব, ফেসবুক, শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল মিডিয়া এবং অন্যান্য অনলাইন কনটেন্টভিত্তিক উৎস থেকে অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রেও কর অব্যাহতি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে দেশের লক্ষাধিক তরুণ ফ্রিল্যান্সার, ডিজিটাল মার্কেটার, ভিডিও নির্মাতা এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সরাসরি উপকৃত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স খাতে ফ্রিল্যান্সিং একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কর্মীরা বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে নিয়ে আসছেন। ফলে এই খাতে কর ছাড় দিলে ডিজিটাল সেবার রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

শুধু ব্যক্তি পর্যায়ের আয়ের ক্ষেত্রেই নয়, নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও কর নীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আলোচনায় থাকা খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগগুলোর জন্য টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবসার প্রাথমিক পর্যায়ে অধিকাংশ স্টার্টআপ লাভের চেয়ে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে। এ অবস্থায় টার্নওভার ট্যাক্স সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হলে নতুন উদ্যোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাও সহজ হবে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্যও নতুন সুবিধার কথা ভাবা হচ্ছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত টার্নওভার আয় করমুক্ত রাখার যে ব্যবস্থা রয়েছে, তা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তা এবং প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৫০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনাকারী নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে দেশের শিল্পায়নকে রাজধানীকেন্দ্রিক অবস্থা থেকে বের করে আনতেও নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য বাজেট প্রস্তাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বাইরে উৎপাদনমুখী শিল্প, প্রযুক্তি খাত এবং পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অবচয় সুবিধা দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ত্বরান্বিত অবচয় সুবিধা পেতে পারেন। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোরও চেষ্টা করা হবে।

ডিজিটাল অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফ্রিল্যান্সিং আয় করমুক্ত করা, স্টার্টআপে কর অবকাশ দেওয়া এবং প্রযুক্তিখাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার মতো পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ আরও দ্রুত হবে। একই সঙ্গে তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগও বাড়বে।

তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোন কোন প্রস্তাব বাস্তবায়ন করবে, সেটিই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। ফলে ফ্রিল্যান্সার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের এখন নজর বাজেট ঘোষণার দিকেই।

-রফিক


বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বাধা: মেঘালয়ে ভারতীয় গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৮ ২১:৫৬:৪০
বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বাধা: মেঘালয়ে ভারতীয় গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ
ছবি : সংগৃহীত

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রথাগত কাঁটাতারের বেড়ার নকশা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে মেঘালয়ের খাসি পাহাড়ের একটি সীমান্তবর্তী গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনা ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। মেঘালয়ের পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার পিনুরসলা উপ-বিভাগের লিংখং নামক সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে বর্তমান নকশা অনুযায়ী কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হলে তারা ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন, অরুদ্ধ এবং অরক্ষিত হয়ে পড়বেন। এই চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে গ্রামবাসীরা অবিলম্বে চলমান বেড়া নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একটি জরুরি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

সীমান্তবর্তী আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, দুই দেশের শূন্য রেখা বা জিরো লাইন (Zero Line) থেকে অন্তত ১৫০ গজ ভেতরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ভৌগোলিক জটিলতার কারণে লিংখং গ্রামটি একেবারে জিরো লাইনের ওপর অবস্থিত এবং এখানকার স্থানীয় খাসি সম্প্রদায়ের বাড়িঘরগুলো বাংলাদেশের সীমানা থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরত্বে রয়েছে।

গ্রামবাসীদের মূল আপত্তি ও ভয় এখানেই—বর্তমান ১৫০ গজের পরিকল্পনা অনুযায়ী বেড়া দেওয়া হলে তাদের পুরো গ্রামটিই ভারতের মূল নিরাপত্তা বলয় তথা কাঁটাতারের বাইরে (বাংলাদেশের দিকে) পড়ে যাবে, যা তাদের জানমালের নিরাপত্তা ও মূল ভূখণ্ডে যাতায়াতকে চরম ঝুঁকিতে ফেলবে। উল্লেখ্য, বিগত কোভিড-১৯ মহামারির সময় অনুপ্রবেশ রুখতে গ্রামবাসীরা নিজেদের উদ্যোগে একটি বাঁশের বেড়া দিয়ে এলাকাটি সাময়িকভাবে আলাদা করে রেখেছিলেন, যা এখনো প্রায় একই অবস্থায় রয়েছে।

লিংখং গ্রামের প্রধান রামু ভারতের জাতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই (PTI)-কে জানিয়েছেন, তারা সীমান্তে স্থায়ী কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিরোধী নন। তবে তাদের দাবি—এই বেড়া যেন সাধারণ নিয়মের বাইরে গিয়ে বিশেষ বিবেচনায় একদম ‘জিরো লাইনে’ নির্মাণ করা হয়, যাতে তাদের পুরো গ্রামটি ভারতের ভেতরে এবং বিএসএফের নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে সুরক্ষিত থাকে। অন্যথায় তাদের ভবিষ্যৎ ও ভারতের নাগরিকত্ব হুমকির মুখে পড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রিমা খংসদির নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা। তিনি এই বিষয়ে মেঘালয় রাজ্য সরকারকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার এবং নয়া দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে কথা বলার অনুরোধ জানান।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষার অংশ হিসেবে এই বেড়া নির্মাণের কাজ বছরের পর বছর ধরে চললেও স্থানীয় জমির মালিকানা জটিলতা ও দুর্গম পাহাড়-নদীর কারণে মেঘালয়ের ৪৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকার মধ্যে এখনো প্রায় ৮০ কিলোমিটার অংশ সম্পূর্ণ অরক্ষিত রয়ে গেছে। এদিকে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লিংখং গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে ইতোমধ্যে একটি আউটপোস্ট বা বিশেষ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে এবং বিএসএফ জওয়ানরা স্থানীয়দের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মেঘালয়ের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেসব এলাকায় জিরো লাইনের জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে আন্তর্জাতিক নিয়ম শিথিল করে জিরো লাইনেই একক সারির (সিঙ্গেল-রো) কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ করা হয়েছে। এই বিশেষ প্রস্তাব নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হলেও বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছ থেকে এখনো চূড়ান্ত কোনো সম্মতি বা সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের ওপরই এখন ঝুলে আছে এই গ্রামের শত শত মানুষের ভাগ্য।

সূত্র: দ্য হিন্দু।


স্বাধীনতার নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় নোংরামি বন্ধ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৮ ২১:২৬:৫৪
স্বাধীনতার নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় নোংরামি বন্ধ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়া ও সাইবার স্পেসে ডিপফেক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি বিকৃত কনটেন্টের বিস্তার রুখতে কঠোর হচ্ছে প্রশাসন। ইন্টারনেটে গুজব, অপতথ্য ও মানহানিকর প্রচারণার রাশ টানতে বিতর্কিত ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ সংশোধনের চূড়ান্ত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ সোমবার (৮ জুন ২০২৬) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে ভিআইপি বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যেভাবে সাইবার বুলিং ও চরিত্রহনন করা হচ্ছে, তা আদৌ কোনো স্বাধীনতার আওতায় পড়ে কি না, তার নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

আজকের সংসদ অধিবেশনে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হেলেন জেরিন খানের এক জরুরি মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মতো সমস্ত ভার্চুয়াল মাধ্যমকে আওতাভুক্ত করে ‘সাইবার স্পেস’-এর একটি আধুনিক আইনি রূপরেখা তৈরির খসড়া চলছে।

নতুন এই সংশোধিত আইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরি ও বিস্তারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করা হবে। শুধু তা-ই নয়, মেটা (ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান) বা গুগলের মতো বৈশ্বিক টেক জায়ান্টরা যেন বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে দ্রুত সাড়া দেয়, সেজন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপত্তিকর কনটেন্ট অপসারণের আইনি বাধ্যবাধকতা রাখা হচ্ছে। এই কনটেন্ট ব্লক বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিটিআরসি ও জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হবে।

সাইবার দুনিয়ার পাশাপাশি অপরাধ দমনে অফলাইনেও বড় সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ১৮৬৭ সালের ঔপনিবেশিক আমলের প্রাচীন জুয়া প্রতিরোধ আইনকে সমূলে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। সংসদের চলতি অধিবেশনেই নতুন এই আইনটি পাস করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে অনলাইন বেটিং, ক্রিপ্টো জুয়া এবং অফলাইন ক্যাসিনোকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে ডগ স্কোয়াড, সর্বাধুনিক ল্যাব ও নিজস্ব গোয়েন্দা সক্ষমতা দিয়ে আরও শক্তিশালী করতে একটি সম্পূর্ণ নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনও চূড়ান্ত করা হয়েছে। সামাজিক অনাচার ও সাইবার অপরাধ রুখতে এই ত্রিমুখী আইনি সংস্কার দেশের অবক্ষয় রোধে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ জানান মন্ত্রী।

/আশিক


নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মাঝে আবারও অনিশ্চয়তা!

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৮ ২০:২২:২২
নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মাঝে আবারও অনিশ্চয়তা!
ছবি : সংগৃহীত

২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল কার্যকর হওয়ার দীর্ঘ এক যুগ পার হলেও নবম পে স্কেল নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। নতুন বেতন কাঠামোর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি ও তা বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দিন দিন বাড়তে থাকায় তীব্র উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন লাখ লাখ চাকুরিজীবী।

আসন্ন ১ জুলাই থেকে নতুন এই পে স্কেল কার্যকর হওয়ার জোর সম্ভাবনা নিয়ে আমলাতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পাড়ায় ব্যাপক আলোচনা থাকলেও চলতি জুন মাসের মধ্যেই যদি এর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি না হয়, তবে আগামীতে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন অর্থ ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। ফলে নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশার পারদ যেমন চড়ছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উৎকণ্ঠাও। তাদের সব দৃষ্টি এখন সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য প্রজ্ঞাপনের ডেডলাইনের দিকে।

সরকারি চাকুরিজীবীরা দীর্ঘদিন ধরেই বর্তমান বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ একটি নতুন পে স্কেল চালুর দাবি জানিয়ে রাজপথে ও টেবিলে তদবির করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের ন্যূনতম মূল বেতন বর্তমানের ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ২০ হাজার টাকা করার জোরালো সুপারিশসহ নানা খসড়া প্রস্তাবনার খবর সামনে এলেও এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো উচ্চপর্যায় থেকে এর আনুষ্ঠানিক বা আইনি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, দেশের বর্তমান সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন এই বেতন কাঠামো একযোগে পুরোটা বাস্তবায়নের পরিবর্তে কয়েক অর্থবছরে ধাপে ধাপে কার্যকর করার একটি বিকল্প পরিকল্পনা সরকারের ভাবনায় রয়েছে। তবে এই 'ধাপে ধাপে' বেতন বৃদ্ধির ফর্মুলা বা প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ জানিয়েছেন বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী ও সচিবালয় কর্মকর্তা সংগঠনের নেতারা।

কর্মচারী নেতাদের স্পষ্ট দাবি—দীর্ঘ এক যুগের প্রতীক্ষার পর যখন নতুন পে স্কেল চালুর দ্বারপ্রান্তে দেশ, তখন তা আংশিকভাবে বা কিস্তিতে নয়, বরং একযোগেই পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদের মতে, বাজারে বর্তমানের লাগামহীন উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে আকাশচুম্বী হয়েছে, তার বিপরীতে ধাপে ধাপে সামান্য বেতন বৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যম সারির কর্মচারীদের আর্থিক চাপ এবং সংসার চালানোর কষ্ট কমাতে বিন্দুমাত্র যথেষ্ট হবে না।

সরকারি চাকুরিজীবীদের একাংশের মতে, নতুন পে স্কেল অবিলম্বে কার্যকর হলে তা সাধারণ কর্মচারীদের জীবনমান নিশ্চিত করতে এবং বাজারমূল্যের সাথে টিকে থাকতে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে এর ফাইল নিয়ে আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা এবং সরকারের শীর্ষপর্যায়ের অস্পষ্টতা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে কাজের স্পৃহা কমিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

/আশিক


বিশ্বের বুকে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠাতে নিরলস কাজ করছে সরকার: নুরুল হক নুর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৮ ১৯:৫৩:৩৯
বিশ্বের বুকে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠাতে নিরলস কাজ করছে সরকার: নুরুল হক নুর
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিশ্ববাজারের বিভিন্ন দেশে আনুমানিক ১৪ লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর এক বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। আজ সোমবার (৮ জুন ২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে সংসদীয় বক্তব্য দেওয়ার সময় এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের একটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী সংসদে দেশের বৈদেশিক শ্রমবাজারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। নুরুল হক নুর জানান, বিগত ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত—অর্থাৎ গত ১১ মাসেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী নতুন করে বৈদেশিক কর্মসংস্থান লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি আইনপ্রণেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, কেবল অদক্ষ শ্রমিক নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে দক্ষ, আধাদক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ ও পরিধি আরও বড় করতে সরকারের পক্ষ থেকে নিরলস কূটনৈতিক ও কৌশলগত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সংসদ অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দেশের প্রবাসী আয়ের অন্যতম বড় উৎস হওয়া সত্ত্বেও যেসব দেশে বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ সাময়িকভাবে বন্ধ বা সীমিত আকারে রয়েছে, সেসব দেশের শ্রমবাজার পুনরায় পুরোদমে উন্মুক্ত এবং সম্প্রসারণের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং বাহরাইনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বর্তমান সরকারের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলমান রয়েছে। সরকার আশা করছে, এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে খুব দ্রুতই এই দেশগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন বড় বাজার তৈরি হবে, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করবে।

/আশিক


রাসিক প্রশাসকের ফ্রান্স সফর বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী: অপচয় রোধে কঠোর প্রশাসন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৮ ১৮:২২:৪৯
রাসিক প্রশাসকের ফ্রান্স সফর বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী: অপচয় রোধে কঠোর প্রশাসন
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি অর্থ অপচয় রোধ ও আমলাতান্ত্রিক ‘প্রমোদ ভ্রমণ’ বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের অজুহাতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমানের ফ্রান্স সফরের একটি প্রস্তাব সরাসরি বাতিল করে দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নন এমন কর্মকর্তার বিদেশ সফরের কোনো যৌক্তিকতা নেই; প্রয়োজন হলে কেবল সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এ ধরনের সফরে অংশ নিতে পারেন। সোমবার (৮ জুন ২০২৬) এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত অনুশাসন দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি সালেহ শিবলী।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফ্রান্সভিত্তিক ‘আউটডোর লাইটিং অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার’ (ALAC) পরিদর্শন এবং বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী স্ট্রিট লাইটিং প্রযুক্তি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নিতে রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এ বি এম আসাদুজ্জামান সুইটের একটি ফ্রান্স সফরের যৌথ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। তবে প্রস্তাবের ফাইল নাকচ করে দিয়ে নোটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, স্ট্রিট লাইটিং প্রযুক্তি বিষয়ে প্রকৌশলীর অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে সিটি করপোরেশনের কাজে লাগবে।

তবে প্রশাসক নিজে কোনো প্রকৌশলী নন, তাই তাঁর এই সফরে অংশগ্রহণের বিশেষ কোনো গুরুত্ব বা যৌক্তিকতা নেই। প্রয়োজনে শুধু নির্বাহী প্রকৌশলীকে একাকী সফরের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো উদ্ভাবনী বা আধুনিক প্রকল্পে বিদেশমুখী না হয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও দেশের অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিগরি সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এটিই প্রথম নয়, এর আগে মশকনিধন-সংক্রান্ত উদ্ভাবনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের নামে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিলাসবহুল যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তাবও একইভাবে ফাইল ছুড়ে বাতিল করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময় তিনি কড়া মন্তব্য করে বলেছিলেন, মশকনিধনের সাধারণ উপায় জানতে সরকারি টাকায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই; দেশের বাস্তব পরিবেশ থেকেই কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন সম্ভব।

কেবল সরকারি টাকায় বিদেশ ভ্রমণ বাতিলই নয়, রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের সস্তা সংস্কৃতিতেও লাগাম টেনেছেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদুল আজহার আগে কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে করার একটি রাজনৈতিক প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হলে তিনি তা অনুমোদন দেননি। এর পরিবর্তে বিদ্যমান কোনো সরকারি নাম না বদলে, নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে নামকরণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সরকারি নীতি নির্ধারকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এসব সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দেয় যে—বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে পেশাগত সংশ্লিষ্টতা ও উপযোগিতাকে কঠোরভাবে মূল্যায়ন করার পাশাপাশি বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের পরিবর্তে নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের নীতিতে হাঁটছে বর্তমান প্রশাসন।

/আশিক


গ্রামাঞ্চলে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, বাজেট অধিবেশনে রুমিন ফারহানার ক্ষোভ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ২২:০৫:১৭
গ্রামাঞ্চলে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, বাজেট অধিবেশনে রুমিন ফারহানার ক্ষোভ
ছবি : সংগৃহীত

গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না বলে জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। আজ রবিবার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট (দ্বিতীয়) অধিবেশনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে একটি সম্পূরক প্রশ্ন করার সময় তিনি এই অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়ার বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর দেওয়া পূর্বের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

অধিবেশনে ফ্লোর নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, "আমরা একে লোডশেডিং বলি আর মেরামতজনিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটই বলি না কেন—গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, এটাই মাঠপর্যায়ের নির্মম বাস্তবতা।" মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়টি টেনে তিনি আরও বলেন, "মাননীয় মন্ত্রী এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে আমাকে কথা দিয়েছিলেন যে, পহেলা মে’র মধ্যে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু আজ এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও সেখানে এখনও গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়নি।" এরপর তিনি আশুগঞ্জ সার কারখানায় ঠিক কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে, মন্ত্রীর কাছে সেই সুনির্দিষ্ট জবাব চান।

রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দেশে গ্যাসের তীব্র সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন। তিনি বর্তমানে সার কারখানার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে বলেন, "উনি একই সঙ্গে বিদ্যুৎও চাচ্ছেন, আবার ফার্টিলাইজার কারখানাতেও গ্যাস চাচ্ছেন। কিন্তু আমাদের গ্যাসের তো একটা সীমাবদ্ধতা আছে। দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখতে হচ্ছে বলেই আপাতত সার কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।" অতীতের অবহেলার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, "গত ১৭ বছরে দেশে কোনো ড্রিলিং বা নতুন খনন কাজ করা হয়নি। আমরা দায়িত্ব নিয়ে প্রথম ড্রিলিং কার্যক্রম শুরু করেছি। আশা করছি নতুন গ্যাস পাওয়া যাবে এবং তা পেলেই আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারের মতো কারখানাগুলোতে পুনরায় সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।"

মন্ত্রীর এমন আত্মপক্ষ সমর্থনের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজেই হস্তক্ষেপ করেন এবং মন্ত্রীকে সংসদে দেওয়া তাঁর আগের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "মাননীয় মন্ত্রী, আপনি কিন্তু সংসদে স্পষ্ট বলেছিলেন এক তারিখ থেকে গ্যাস যাবে। সেটি বোধহয় আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।" ভবিষ্যতে সংসদে যেকোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পর জ্বালানিমন্ত্রীকেও আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, "সংসদে ভবিষ্যতে যে প্রতিশ্রুতিই দেবেন, তা ড্রিলিংসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় আনুষঙ্গিক বিষয় ভালোভাবে পর্যালোচনা ও স্টাডি করেই দেবেন।"

/আশিক


 বিজিবি-বিএসএফের মুখোমুখি অবস্থান; সীমান্তজুড়ে ৩ দিন ধরে ধুঁকছে মানবতা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ২১:৪০:৪২
 বিজিবি-বিএসএফের মুখোমুখি অবস্থান; সীমান্তজুড়ে ৩ দিন ধরে ধুঁকছে মানবতা
শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন ভারতীয় নাগরিকরা/ছবি : সংগৃহীত

জ্যৈষ্ঠের প্রখর রোদ, ভ্যাপসা গরম আর কাদাপানির মধ্যে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বন্দুকের নলের মুখে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) টানা তিন দিন ধরে ধুঁকছে মানবতা। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ (BSF) চাইনিজ রাইফেল তাক করে পুশ-ইনের চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সশস্ত্র পাহারায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পতাকা বৈঠকের পরও কোনো সুরাহা না হওয়ায় নারী ও শিশুসহ ২১ জন ভারতীয় নাগরিক খোলা আকাশের নিচে অত্যন্ত অমানবিক ও বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছেন।

গত শুক্রবার ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্তের ৭৫৮ নম্বর মেইন পিলারের ৫ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ৩ শিশু ও ২ নারীসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় তারা বর্তমানে ভারতীয় শূন্যরেখার ফসলি জমির আইলে আটকা পড়ে আছেন। আজ রবিবার (৭—জুন) দুপুরে বিএসএফ জোরপূর্বক তাদের আবারও বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়; পরে বাংলাদেশ প্রান্তের সাধারণ মানুষ এগিয়ে এলে বিএসএফ পিছু হটে।

জমিতে পানি জমে থাকায় তিন দিন ধরে কাদাপানির মধ্যেই তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুয়ে-বসে আছেন এবং মাথার ওপর পলিথিন ধরে রোদ থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। সকালে বিজিবি তাদের পানি দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিএসএফ তাতে বাধা দেয়। পুশ-ইনের শিকার আব্দুস সালাম জানান, তারা সঙ্গে থাকা সামান্য খাবার দিয়ে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছেন।

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সিরাজুল ইসলাম এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে বলেন, "যেহেতু তারা ভারতীয় শূন্যরেখায় আছে, তাই কোনোভাবেই তাদের বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। অবৈধ কাউকে ফেরত দিতে হলে আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন আইন মেনে পুলিশের মাধ্যমে দিতে হবে, বিএসএফের জোরপূর্বক পুশ-ইন বিজিবি মেনে নেবে না।"

অনুরূপভাবে, ৪৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইনের শিকার ১১ জনের ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত। শনিবার ভোরে ৩ পুরুষ, ৪ নারী ও ৪ শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা বিজিবি প্রতিহত করলে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন। আটকে পড়াদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং একজন প্রতিবন্ধী শিশুও রয়েছে।

পুশ-ইনের শিকার স্কুলছাত্রী রোজিনা আক্তার জানায়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আটকে রেখে ১২ দিন ধরে বিভিন্ন সীমান্তে ঘুরিয়ে অবশেষে এখানে এনে ছেড়ে দিয়েছে। খাবার ও পানির অভাবে তাদের পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে; স্থানীয়রা কিছু শুকনো খাবার দিলেও তা অপ্রতুল। এই বিষয়ে দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, দুই দফা পতাকা বৈঠকেও সমাধান মেলেনি। যথাযথ প্রমাণসহ আইনি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হস্তান্তর করা হলে গ্রহণ করা হবে, তবে কোনো ধরনের অবৈধ পুশ-ইন বিজিবি মেনে নেবে না।

/আশিক

পাঠকের মতামত: