রক্তক্ষয়ী ১৭ বছর আর ৬ লাখ মামলা: বিজয়ী বেশে সব হিসাব দিলেন ফখরুল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশের ‘নতুন প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। মির্জা ফখরুল বলেন, এই বিজয় কেবল একটি দলের নয়, বরং এটি বাংলাদেশে ‘উদার গণতন্ত্রের’ বিজয়। তাঁর মতে, এই গণরায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে নতুন এক শুভযুগে প্রবেশ করল।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বিগত ১৭ বছরের দুঃসহ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি অভিযোগ করেন, গত দেড় দশকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৬ লাখেরও বেশি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ২ হাজার মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, মানুষের এই রক্তের বিনিময়েই আজ ব্যালট বিপ্লব সম্ভব হয়েছে।
মহাসচিব তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়ে প্রমাণ করেছে তারা বিএনপির নেতৃত্বের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল। একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমানের হাতকে আরও শক্তিশালী করার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুলের এই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য মূলত আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন সরকার গঠনের এবং রাষ্ট্র পরিচালনার একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা।
ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অকার্যকর প্রতিষ্ঠানই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: তারেক রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত প্রথম সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আদর্শের কথা তুলে ধরেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনের এই ভূমিধস বিজয়কে তিনি ‘গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই তিনি বিগত ১৭ বছরের লড়াই এবং ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তবে এমন আনন্দঘন মুহূর্তে মা বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা ও অনুপস্থিতির কথা স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন হবু এই প্রধানমন্ত্রী।
নির্বাচনে কোনো ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, “জনগণকে কনভিন্স করাটাই ছিল আমাদের একমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং অকার্যকর প্রতিষ্ঠানগুলোকে মেরামত করাই হবে তাঁর সরকারের প্রথম কাজ। তিনি ঘোষণা করেন, বিএনপি যে ‘৩১ দফা’ রূপরেখা দিয়েছিল, তা জনগণের কাছে দেওয়া পবিত্র আমানত এবং পর্যায়ক্রমে এর প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান তাঁর দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, কোনো অজুহাতেই ‘দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ’ বরদাশত করা হবে না এবং বিজয় মিছিল না করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার নির্দেশ দেন তিনি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, সরকার বা বিরোধী দল—আইন সবার জন্য সমান হবে। প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে একটি নিরাপদ, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়তে তিনি সকল রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
নির্বাচনোত্তর ব্রিফিংয়ে ভবিষ্যৎ রূপরেখা দিলেন তারেক রহমান
তারেক রহমান বলেছেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আবার স্বৈরাচারী শাসনে ফিরে যেতে না পারে, সে জন্য জাতীয় ঐক্য অটুট রাখা জরুরি। শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রাজধানীর Hotel InterContinental Dhaka–এ আয়োজিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মী ও ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এরপর বক্তব্যে তারেক রহমান নির্বাচনের ফলাফল, সরকার গঠনের প্রস্তুতি, সম্ভাব্য জোট রাজনীতির দিকনির্দেশনা এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের রায় জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন এবং সেই প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনই এখন প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় স্বার্থে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন। সম্ভাব্য জোট কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনোত্তর এই বার্তা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্যের প্রশ্নে ঐক্যের আহ্বান একটি কৌশলগত অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা জানান, দ্রুত সরকার গঠন ও নীতিনির্ধারণী কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।
-রফিক
ফরিদপুরের সালথা সহিংসতায় কঠোর বার্তা শামা ওবায়েদের
শামা ওবায়েদ, ফরিদপুর-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর সাংগঠনিক সম্পাদক, ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় চলমান সহিংসতার ঘটনায় কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সালথার সাধারণ মানুষ যেন উত্তেজনায় না জড়ান এবং কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ না নেন। হামলা বা ভাঙচুরে যারা যুক্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে তিনি আপসহীন থাকবেন বলে স্পষ্ট করেন। এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি সকলকে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সহিংসতার ফলে যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা যারা আহত হয়েছেন, তাদের পুনর্বাসন ও সহায়তায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, শনিবার সকাল থেকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া গ্রামে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া যায় এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিনের বিরোধ ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়, যা পরে সহিংস রূপ নেয়। প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং দায়ীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-রাফসান
ফোনালাপে তারেক-শাহবাজের পাল্টাপাল্টি আমন্ত্রণ: খুলছে কি বন্ধ দুয়ার?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক তৎপরতায় এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পর এবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরাসরি টেলিফোন করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। শুক্রবার দিবাগত রাতে এক অত্যন্ত উষ্ণ ও আন্তরিক ফোনালাপে শাহবাজ শরিফ তারেক রহমানকে বড় জয়ের জন্য অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তাঁকে পাকিস্তান সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে পাক প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফোনালাপের এক পর্যায়ে দুই নেতা বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং দুই দেশের সাধারণ মানুষকে কাছাকাছি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার যে অনবদ্য অবদান রয়েছে, তাকে বর্তমান নেতৃত্বের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। শাহবাজ শরিফ বাংলাদেশের নির্বাচনকে জাতির গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও অগ্রগতি রক্ষায় দুই দেশের নেতৃত্বের একসাথে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ফোনালাপে তারেক রহমানকে সুবিধামতো সময়ে ইসলামাবাদ সফরের আমন্ত্রণ জানালে বিএনপি নেতাও শাহবাজ শরিফকে পাল্টা ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানান। দুই দেশের সার্বভৌম সমতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে শিক্ষা, বাণিজ্য এবং নিরাপত্তার মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে উভয় নেতা একমত পোষণ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এই দ্রুত শুভেচ্ছা বার্তা এবং আমন্ত্রণের পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব তারেক রহমানের আগামী দিনের শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নিয়তির কী অদ্ভুত খেলা: ফাঁসির মঞ্চ থেকে সরাসরি জনসেবায় তিন নেতা!
মাথার ওপর ঝুলছিল ফাঁসির দড়ি, চারদিকে ছিল কারাগারের অন্ধকার। কিন্তু সময়ের পরিক্রমা আর জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের ফলে পাল্টে গেল দীর্ঘ ১৮ বছরের ললাট লিখন। লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু এবং এটিএম আজহারুল ইসলাম—এই তিন নেতা এখন আর কারাবন্দি নন, বরং বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে তাঁরা যাচ্ছেন দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা সংসদে। দীর্ঘ নির্বাসন আর বন্দিত্বের গ্লানি মুছে তাঁরা এখন জনতার প্রতিনিধি। কারো জন্য এটি দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষা, আবার কারো জন্য প্রায় দুই দশকের কারাজীবনের অবসান।
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০৭ সাল থেকে দীর্ঘ ১৮ বছর কারাগারে ছিলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত বছর সব মামলা থেকে খালাস পেয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে তিনি ফিরে যান নিজের নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনায়। এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়াই করে তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। একইভাবে টাঙ্গাইলের গোপালপুর-ভূঞাপুর আসন থেকে প্রায় ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন আরেক বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, যিনি ১৭ বছর কারাবরণ করার পর এবার সংসদে ফিরছেন।
অন্যদিকে, জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের জয়টিও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই নেতা ২০১২ সাল থেকে কারাবন্দি ছিলেন। গত মে মাসে কারামুক্ত হওয়ার পর তিনি রংপুর-২ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় ছিনিয়ে নেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই বিপ্লবের পর দেশের সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আর সহানুভূতি এই নেতাদের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করেছে। এক সময় যাঁদের ফাঁসির দড়ি অনিবার্য ছিল, তাঁরাই এখন জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রস্তুত।
তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ওয়াশিংটনের বিশেষ বার্তা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে আসা সবচেয়ে বড় স্বীকৃতিটি এলো খোদ ওয়াশিংটন থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিশেষ বার্তায় বিএনপি এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এই পোস্টে তিনি কেবল দলকেই নয়, বরং বাংলাদেশের সাধারণ জনগণকেও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পরপরই বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর পক্ষ থেকে এমন দ্রুত প্রতিক্রিয়া নতুন সরকারের জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কো রুবিও তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে তিনি ঢাকার নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ‘অধীর আগ্রহ’ শব্দবন্ধটি দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর ক্ষমতায় ফেরা বিএনপির জন্য আন্তর্জাতিক এই সমর্থন রাষ্ট্র পরিচালনার প্রাথমিক ধাপগুলো অনেক বেশি সহজ করে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসির ঘোষিত ২৯৭টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ২১৪টি আসনের বিপরীতে মার্কিন প্রশাসনের এই অবস্থান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি আসন পেলেও ওয়াশিংটনের নজর এখন এককভাবে বড় জয় পাওয়া বিএনপির দিকে। তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি এই সরাসরি অভিনন্দন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাকে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিল। এখন দেখার বিষয়, আগামী ৩ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ শেষে নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে বাণিজ্য ও শুল্ক সুবিধা আদায়ের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের এই ইতিবাচক মনোভাব কতটা প্রতিফলিত হয়।
ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতির ডাক: পরাজয়কেও সাফল্যের চোখে দেখছেন ডা. শফিক!
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এক নজিরবিহীন ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক অবস্থান ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৪৪ মিনিটে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে এক দীর্ঘ বার্তার মাধ্যমে তিনি নির্বাচনের ফলাফলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি নিজের দলের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, জামায়াত এখন থেকে সংসদে একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করবে। নির্বাচনের এই রায়কে তিনি কেবল একটি সংখ্যা হিসেবে না দেখে, আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতের অবস্থান সুসংহত করার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
নির্বাচনী লড়াইয়ে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, সেই অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে জামায়াত আমির স্বীকার করেছেন যে, অনেকেই আজ ফলাফলে ব্যথিত ও হতাশ। তবে কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি একটি নতুন আশার আলো দেখিয়েছেন। ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, বিগত নির্বাচনে জামায়াতের শক্তি প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়ে এবার ৭৭টি আসনে পৌঁছেছে, যা দলটিকে সংসদের অন্যতম শক্তিশালী বিরোধী ব্লকে পরিণত করেছে। এই অগ্রগতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি কর্মীদের ধৈর্য ধরার এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
বিস্ময়করভাবে, নিজের পোস্টে বিএনপির ২০০৮ সালের ভরাডুবির প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান এক ঐতিহাসিক তুলনা তুলে ধরেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ২০০৮ সালে বিএনপি মাত্র ৩০টি আসনে নেমে এলেও দীর্ঘ ১৮ বছরের কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে ২০২৬ সালে তারা আবার সরকার গঠন করেছে। এই উপমার মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, রাজনীতির ভাগ্য পরিবর্তনশীল এবং জামায়াতের লক্ষ্য এখন দীর্ঘমেয়াদী। মানুষের আস্থা অর্জন এবং ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় আনাই হবে তাদের আগামী দিনের মূল এজেন্ডা। কেবল ক্ষমতার জন্য নয়, বরং একটি ন্যায়বিচারপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ার যে আন্দোলন জামায়াত শুরু করেছিল, তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন।
টাইম ম্যাগাজিনে তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ ছক: কেমন হবে নয়া বাংলাদেশ?
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার মাত্র সাত সপ্তাহের মাথায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের কেন্দ্রে চলে এসেছেন তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর তাঁর আগামী দিনের পরিকল্পনার দিকে। সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত সাময়িকী 'টাইম'-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি রাষ্ট্র পুনর্গঠন, অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতি নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতিতে একটি ক্ষতবিক্ষত রাষ্ট্রকে কীভাবে তিনি ঐক্যবদ্ধ করবেন, তার এক বিস্তারিত রূপরেখা এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে। তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনাই হবে তাঁর প্রথম কাজ।
অর্থনৈতিক ফ্রন্টে তারেক রহমানের পরিকল্পনা বেশ উচ্চাভিলাষী। আওয়ামী লীগ আমলের প্রবৃদ্ধির আড়ালে থাকা বেকারত্ব এবং মুদ্রাস্ফীতির সংকট কাটাতে তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং নারী ভাতার মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালুর কথা বলেছেন। বিশেষ করে ডিজিটাল অর্থনীতিতে তরুণদের সম্পৃক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং উদ্যোক্তাদের জন্য বিশ্ববাজারের দুয়ার খুলে দেওয়াকে তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে এই বিশাল অর্থায়ন কীভাবে সম্ভব হবে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে কৌতূহল রয়ে গেছে।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তারেক রহমান এক নতুন এবং ভারসাম্যপূর্ণ কৌশলের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত তিস্তা চুক্তিসহ বিভিন্ন চুক্তিতে থাকা অসামঞ্জস্য দূর করে দেশের স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং শুল্ক সুবিধা আদায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ইসলামপন্থী দল বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান এবং ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়েও তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তারেক রহমানের মতে, গণতন্ত্র রক্ষায় সবার ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি হলেও জনগণের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই হবে তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য।
ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশবাসীকে ধন্যবাদ তারেক রহমানের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর দেশের জনগণের প্রতি আনুষ্ঠানিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে কথা বলতে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সমর্থন ও আস্থার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে বের হওয়ার সময় উপস্থিত সমর্থক ও সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে তিনি বলেন, তাঁর প্রতি যে ভালোবাসা ও আস্থা জনগণ দেখিয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে আগামীর পথচলায় দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন তারেক রহমান। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট জাতীয় সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। শুক্রবার দুপুর থেকেই গুলশানে তাঁর বাসভবনের সামনে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন।
দুপুরে বনানী এলাকায় অবস্থিত নৌবাহিনী সদর দপ্তর মসজিদে নামাজ আদায়ে যাওয়ার সময় বাসভবনের গেটে অপেক্ষমাণ মানুষের ভিড় দেখে তিনি গাড়ি থামান। নিজেই গাড়ির দরজা খুলে উপস্থিত জনতার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং কয়েকজনের পরিচয় জানতে চান। এ সময় সমর্থকেরা “নতুন বাংলাদেশ” গড়ার প্রত্যয়ে তাঁর পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করলে তিনি হাসিমুখে তাদের ধন্যবাদ জানান।
সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় তারেক রহমান পুনরায় বলেন, জনগণের ভালোবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়ে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। উপস্থিত জনতার অনেকে এটিকে একটি প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন যেখানে বিজয়ের উচ্ছ্বাসের মধ্যেও সংযত ও কৃতজ্ঞ বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
-রফিক
পাঠকের মতামত:
- রক্তক্ষয়ী ১৭ বছর আর ৬ লাখ মামলা: বিজয়ী বেশে সব হিসাব দিলেন ফখরুল
- ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অকার্যকর প্রতিষ্ঠানই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: তারেক রহমান
- নির্বাচনোত্তর ব্রিফিংয়ে ভবিষ্যৎ রূপরেখা দিলেন তারেক রহমান
- কীভাবে বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত হলো "ভ্যালেন্টাইনস ডে": জানুন পূর্নাঙ্গ ইতিহাস
- ফরিদপুরের সালথা সহিংসতায় কঠোর বার্তা শামা ওবায়েদের
- নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
- ঘরে বানান রেস্টুরেন্ট-স্টাইল সুইট কর্ন স্যুপ
- ছুটির দিনেও খোলা থাকছে যেসব ব্যাংক
- ফোনালাপে তারেক-শাহবাজের পাল্টাপাল্টি আমন্ত্রণ: খুলছে কি বন্ধ দুয়ার?
- ওষুধ ছাড়াই কমবে টনসিলের যন্ত্রণা: হাতের কাছেই আছে জাদুকরী সমাধান!
- মোদি-তারেক ফোনালাপ ও মমতার ভাই’ ডাক: ওপার বাংলার মিডিয়ায় তোলপাড়!
- নিয়তির কী অদ্ভুত খেলা: ফাঁসির মঞ্চ থেকে সরাসরি জনসেবায় তিন নেতা!
- কলম্বোর আকাশে যুদ্ধের দামামা: ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের টিকিট এখন সোনার হরিণ!
- জুয়েলারি দোকানে যাওয়ার আগে সাবধান: স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর
- তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ওয়াশিংটনের বিশেষ বার্তা
- ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতির ডাক: পরাজয়কেও সাফল্যের চোখে দেখছেন ডা. শফিক!
- অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ব্যর্থ ইউনূস: দেড় বছরের ধাঁধায় নয়া মোড়!
- টাইম ম্যাগাজিনে তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ ছক: কেমন হবে নয়া বাংলাদেশ?
- তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানালেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও শপিং মল বন্ধ
- সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ; ৩ দিনের মধ্যে বড় চমকের অপেক্ষা!
- আজকের নামাজের সময়সূচি জানুন এক নজরে
- গেজেট প্রকাশের কাউন্টডাউন শুরু: নতুন প্রতিনিধিদের অপেক্ষায় দেশ
- ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশবাসীকে ধন্যবাদ তারেক রহমানের
- মুগ ডালের হালুয়া: সহজ রেসিপি, দুর্দান্ত স্বাদ
- নিরঙ্কুশ জয়ের পরে তারেক রহমানকে গুলশান কার্যালয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা
- কালিগঞ্জের ফতেপুরে দখলমুক্ত হল দুই দোকান, মালিক পরিবারের হাতে চাবি
- এবার সোনার দামে রেকর্ড উত্থান
- তারেক রহমানকে মোদির ফোন
- কবে সরকার গঠন করবে জানাল মির্জা ফখরুল
- জয়ী হয়েই কঠোর ঘোষণা দিলেন হাসনাত
- মোবাইল ব্যাংকিংয়ে অবশেষে স্বস্তি
- এক সপ্তাহ পর বিশ্ববাজারে সোনার উত্থান
- জুমার দিন দরুদ পাঠের অফুরন্ত ফজিলত
- ফলাফল নিয়ে জামায়াতের নতুন বার্তা, কী সেটা
- পুষ্টিকর বিটের হালুয়া বানাবেন যেভাবে
- বিএনপির জয়ে চীনের শুভেচ্ছা, একসাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ
- আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিএনপির জয় শিরোনাম
- রুপা স্থির, তবে কেন অস্থির শুধু সোনা
- তারেক রহমানকে অভিনন্দন মোদি-শাহবাজের
- পোস্টাল ব্যালটে কত শতাংশ ভোট? জানাল ইসি
- অস্ট্রেলিয়া-জিম্বাবুয়ে ম্যাচসহ আজকের টিভি ক্রীড়া সূচি এক নজরে
- আজ রাস্তায় চলবে যেসব যানবাহন
- ২৯৯ আসনের বেসরকারি ফল প্রকাশ: নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিএনপি জোট
- বিজয়ে মিছিল নয়, দোয়ার ডাক বিএনপির
- আজকের নামাজের সময়সূচি জানুন এক নজরে
- পাঁচ আসনে প্রার্থীদের ভোট বর্জন
- ৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে দেশ
- গণভোটে চার আসনে ‘না’ এগিয়ে
- আবার বাড়ছে স্বর্ণের দাম, কী কারণ?
- ২০০৮–এর পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন: গণতন্ত্রের গুণগত মানের এক ঐতিহাসিক পরীক্ষা
- বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- জুয়েলারি দোকানে যাওয়ার আগে সাবধান: স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর
- আইনের রক্ষক পুলিশ কেন ভয়ের প্রতীকে পরিণত হয়?
- স্বর্ণের বাজারে নতুন অস্থিরতা: আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন চড়া দাম
- নির্বাচনে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে লন্ডনে উদ্বেগ: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
- পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে কে এগিয়ে? সোচ্চারের জরিপে চমক!
- ১০ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- স্বর্ণের বাজারে বড় দরপতন: আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন দাম
- আজ টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- কালিগঞ্জে ধানের শীষের জনসমুদ্র: সাতক্ষীরা-৩ আসনে কাজী আলাউদ্দীনের হুঙ্কার
- ৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- চট্টগ্রাম বন্দর পুরো অচল! ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা
- এবার সোনার দামে রেকর্ড উত্থান








