২৯ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৯ ১৫:১৮:১২
২৯ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)–এ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্পষ্ট বিক্রয়প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দিনজুড়ে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমেছে, যা বাজারে এক ধরনের সতর্ক ও নাজুক মনোভাবের প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দিনের লেনদেনে মোট ৩৯৩টি সিকিউরিটিজে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৯২টির, বিপরীতে দর কমেছে ২৪৩টি শেয়ারের। অপরিবর্তিত ছিল ৫৮টি শেয়ার ও ইউনিট। এই পরিসংখ্যানই স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, বাজারে এদিন বিক্রেতার চাপ ক্রেতার তুলনায় অনেক বেশি ছিল।

ক্যাটাগরিভিত্তিক চিত্র: ‘এ’ ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে বেশি চাপ

বাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ২০৮টি শেয়ারের মধ্যে মাত্র ৩৬টির দর বেড়েছে। বিপরীতে ১৪৩টির দর কমেছে এবং ২৯টি শেয়ার অপরিবর্তিত অবস্থায় ছিল। এই চিত্র থেকে বোঝা যায়, ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারেও বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী ছিলেন।

‘বি’ ক্যাটাগরিতেও দরপতনের আধিক্য দেখা গেছে। এ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ৮০টির মধ্যে ৫৭টি শেয়ারের দর কমেছে, বেড়েছে মাত্র ১৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১০টি। ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে দরবৃদ্ধি ও দরপতন প্রায় সমান সংখ্যক শেয়ারে দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে সেখানে অনিশ্চয়তা বিরাজ করেছে।

মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ড বাজারেও নেতিবাচক ধারা

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও এদিন চাপ ছিল। মোট ৩৪টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৩টির, আর দর কমেছে ১২টির। কর্পোরেট বন্ড ও সরকারি সিকিউরিটিজেও দরপতনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের রক্ষণশীল অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।

লেনদেন ও বাজার মূলধন: গতি থাকলেও আস্থা কম

দিন শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া শেয়ারের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৭ কোটি ৯ লাখ। মোট লেনদেনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই লেনদেনের বড় অংশই ছিল স্বল্পমেয়াদি পজিশন ক্লোজিং ও ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে।

এদিন শেয়ারবাজারের মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৯ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকায়, যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য পরিবর্তিত হলেও দরপতনের বিস্তার বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতির দিকেই ইঙ্গিত করে।

ব্লক মার্কেটে সক্রিয়তা, বড় অঙ্কের লেনদেন

ব্লক মার্কেটে এদিন ৩৩টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। মোট ৬৬টি লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ১৯০ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। স্কয়ার ফার্মা, ওয়ালটন হাই-টেক, ফাইন ফুডস, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে উল্লেখযোগ্য ব্লক লেনদেন দেখা গেছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্লেষকদের মন্তব্য

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আসন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত, সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার কারণে বাজারে এই দরপতনের ধারা তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, স্বল্পমেয়াদে বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মৌলভিত্তি, নগদ প্রবাহ ও খাতভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে সতর্ক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

-রাফসান


২ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৫:০১:৪৫
২ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এ শেয়ারবাজারে স্পষ্ট ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দিনের লেনদেন শেষে দরবৃদ্ধিকারী শেয়ারের সংখ্যা দরপতনকারীদের তুলনায় দ্বিগুণের কাছাকাছি থাকায় বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়েছে।

সব ক্যাটাগরি মিলিয়ে মোট ৩৯০টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২১৫টির দর বেড়েছে, ১০৭টির দর কমেছে এবং ৬৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, বাজারে ক্রেতাদের প্রাধান্য ছিল স্পষ্ট।

এ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ২০৬টি শেয়ারের মধ্যে ১১৫টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে, বিপরীতে ৬০টির দর কমেছে এবং ৩১টি শেয়ারের দর অপরিবর্তিত ছিল। বড় মূলধনী শেয়ারগুলোতে এই ইতিবাচক প্রবণতা সূচককে শক্ত অবস্থানে রাখতে সহায়তা করেছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বি ক্যাটাগরিতেও চিত্র ছিল ইতিবাচক। এই ক্যাটাগরির ৭৯টি শেয়ারের মধ্যে ৫১টির দর বেড়েছে, ১৮টির দর কমেছে এবং ১০টি শেয়ারের দর অপরিবর্তিত রয়েছে। তুলনামূলকভাবে মাঝারি মূলধনী শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বাড়তে দেখা গেছে।

জেড ক্যাটাগরিতে ১০৫টি শেয়ার লেনদেনে আসে। এর মধ্যে ৪৯টির দর বেড়েছে, ২৯টির দর কমেছে এবং ২৭টি শেয়ারের দর অপরিবর্তিত ছিল। স্বল্পমূল্যের শেয়ারে নির্বাচিত ক্রয়চাপ এই ক্যাটাগরিকে ইতিবাচক রেখেছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে দিনের চিত্র ছিল বিশেষভাবে শক্তিশালী। মোট ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে ১৬টির দর বেড়েছে, মাত্র ৪টির দর কমেছে এবং ১৪টি ফান্ডের দর অপরিবর্তিত ছিল। এতে বোঝা যায়, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এই খাতে ধীরে ধীরে বাড়ছে।

করপোরেট বন্ড খাতে একটি মাত্র সিকিউরিটি লেনদেনে অংশ নেয় এবং তার দর অপরিবর্তিত থাকে। অন্যদিকে সরকারি সিকিউরিটিজ বা জি-সেক খাতে তিনটি ইস্যু লেনদেনে আসে, যেখানে সবগুলোতেই দরপতন দেখা গেছে।

দিনভর মোট ২ লাখ ১ হাজার ৭২৫টি লেনদেন সম্পন্ন হয়। লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৫ কোটি ২৩ লাখ শেয়ার এবং মোট লেনদেন মূল্য ছিল প্রায় ৭৪৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা, যা সাম্প্রতিক দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

বাজার মূলধনের দিক থেকেও ডিএসইতে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। ইক্যুইটি, মিউচুয়াল ফান্ড ও ঋণপত্র মিলিয়ে মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকায়। এর মধ্যে ইক্যুইটি খাতের অবদান ছিল সর্বাধিক।

দিনের ব্লক ট্রানজাকশনে ব্যাংক, টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস ও ভোক্তা পণ্য খাতের একাধিক শেয়ারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। বড় অঙ্কের এই লেনদেন বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় উপস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সার্বিকভাবে ২ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারির শুরুতেই শেয়ারবাজারে আশাব্যঞ্জক গতি তৈরি হয়েছে। গেইনার শেয়ারের আধিক্য, লেনদেন মূল্য বৃদ্ধি এবং বাজার মূলধনের ঊর্ধ্বগতি মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এখন ইতিবাচক ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে।

-শরিফুল


২ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ দরপতনের ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৪:৫৭:০৫
২ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ দরপতনের ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সামগ্রিকভাবে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেলেও দিনের লেনদেন শেষে কয়েকটি নির্দিষ্ট শেয়ারে স্পষ্ট দরপতন দেখা যায়। বিশেষ করে মিউচুয়াল ফান্ড, শিল্প, টেক্সটাইল ও জ্বালানি খাতের কিছু শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাজারে প্রভাব ফেলেছে।

দরপতনের শীর্ষে অবস্থান করে মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটির শেয়ার দর আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ কমে ২৬ টাকায় নেমে আসে। দিনভর বিক্রিচাপ থাকায় শেয়ারটি সর্বনিম্ন দরে লেনদেন শেষ করে, যা সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির পর স্বাভাবিক সংশোধন হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড প্রায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ দর হারিয়ে ৫ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে। ইউনিটপ্রতি দরের পতনের কারণে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা এ ফান্ডে অবস্থান হালকা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বল্পমূল্যের শেয়ার নিউ লাইন ক্লোথিং প্রায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ দরপতনের মুখে পড়ে। লেনদেন সীমিত থাকায় অল্প বিক্রিতেই দামে বড় প্রভাব পড়েছে বলে বাজার সূত্র জানায়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে জিবিবি পাওয়ার-এর শেয়ার দর কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। বিদ্যুৎ খাতে সাম্প্রতিক অনিশ্চয়তা ও পূর্ববর্তী দরবৃদ্ধির পর সংশোধন এই পতনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

টেক্সটাইল খাতের এপেক্স ট্যানারি প্রায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ দর হারিয়ে দিনের লেনদেন শেষ করে। রপ্তানিমুখী শিল্পে স্বল্পমেয়াদি উদ্বেগ শেয়ারটির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মিউচুয়াল ফান্ডের আরেকটি শেয়ার সিএপিএম আইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড প্রায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ দরপতনের শিকার হয়। ফান্ড খাতে সামগ্রিক বিক্রিচাপ এই পতনের অন্যতম কারণ।

আর্থিক খাতে হাউজিং ফাইন্যান্স লিমিটেড প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ দর হারিয়ে ৫ টাকা ৯০ পয়সায় নেমে আসে। ঋণখাতে সাম্প্রতিক ঝুঁকি ও বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা এখানে প্রতিফলিত হয়েছে।

জ্বালানি ও তেল খাতে এমেরাল্ড অয়েল-এর শেয়ার দর কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা এই দরপতনে ভূমিকা রাখে।

শিল্প খাতে টিআইএল ইন্ডাস্ট্রিজ প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ দর হারায়। মাঝারি মূলধনের শেয়ার হওয়ায় এখানে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।

তালিকার শেষদিকে থাকা খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ-এর শেয়ারও প্রায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ দরপতনের শিকার হয়।

সার্বিকভাবে আজকের শীর্ষ ১০ দরপতনকারী শেয়ারের চিত্র বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, বাজারে সামগ্রিক আস্থা পুরোপুরি নষ্ট না হলেও নির্বাচিত শেয়ারে স্বল্পমেয়াদি দর সংশোধন ও বিক্রিচাপ স্পষ্টভাবে বিদ্যমান।

-শরিফুল


২ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৪:৫৪:০৬
২ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ারবাজারে স্পষ্ট ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দিনের লেনদেন শেষে দরবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় ব্যাংকিং খাতের শেয়ারগুলোর আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধীরে ধীরে ফিরছে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দরবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৫২ টাকা ৪০ পয়সায় পৌঁছায়। দিনভর শক্তিশালী ক্রয়চাপের কারণে শেয়ারটি সর্বোচ্চ দরে লেনদেন শেষ করে, যা ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগকারীদের নতুন আগ্রহের প্রতিফলন বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

এর পরেই অবস্থান করে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। শেয়ারটির দর প্রায় ৯ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ টাকা ৭০ পয়সায় দাঁড়ায়। স্বল্পমূল্যের ইসলামী ব্যাংক শেয়ার হওয়ায় এখানে খুচরা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।

ব্যাংকিং খাতের আরেকটি শেয়ার মিডল্যান্ড ব্যাংক প্রায় ৮ দশমিক ৭ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে ১৮ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে। নতুন তালিকাভুক্ত ও সম্প্রসারণমুখী ব্যাংক হওয়ায় শেয়ারটিতে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা দেখছেন অনেক বিনিয়োগকারী।

ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে ফার্মাএইড দিনের অন্যতম আলোচিত শেয়ারে পরিণত হয়। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর সাড়ে ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ৫৫৬ টাকা ৪০ পয়সায় পৌঁছায়। শক্তিশালী মৌলভিত্তি ও ওষুধ খাতের স্থিতিশীল চাহিদা এ দরবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

ব্যাংকিং খাতের স্বল্পমূল্যের শেয়ার এবি ব্যাংক প্রায় ৭ শতাংশ দর বৃদ্ধি পেয়ে ৪ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে। দীর্ঘদিন দরপতনের পর শেয়ারটিতে দর সংশোধনের একটি ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

শিল্প খাতে এস্কয়ার নিটওয়্যার প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে তালিকায় উঠে আসে। একইসঙ্গে টেক্সটাইল খাতের আরেকটি শেয়ার সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ-এর দরও ৬ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বাড়ে, যা রপ্তানিমুখী শিল্পে ধীরে ধীরে আস্থা ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ডায়াগনস্টিক ও ল্যাব খাতে এশিয়াটিক ল্যাব প্রায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ দর বৃদ্ধি পায়। স্বাস্থ্য খাতে স্থিতিশীল চাহিদা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম শেয়ারটির প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে।

খাদ্য ও ভোক্তা পণ্য খাতে বিডি থাই ফুড প্রায় ৬ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে দিনের লেনদেন শেষ করে। নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানি হওয়ায় শেয়ারটি বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকে।

তালিকার শেষ দিকে থাকা এনআরবিসি ব্যাংক-এর শেয়ারও ৫ শতাংশের বেশি দরবৃদ্ধি নিয়ে গেইনার তালিকায় জায়গা করে নেয়।

সার্বিকভাবে আজকের শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ারের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ব্যাংকিং খাতের নেতৃত্বে বাজারে ধীরে ধীরে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে এবং বিনিয়োগকারীরা আবারও নির্বাচিত মৌলভিত্তিক শেয়ারের দিকে ঝুঁকছেন।

-রাফসান


১ ফেব্রুয়ারি  শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ২২:২৭:২৯
১ ফেব্রুয়ারি  শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এ শেয়ারবাজারে ভারসাম্যপূর্ণ কিন্তু মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দিনের লেনদেন শেষে দরবৃদ্ধি ও দরপতনের সংখ্যা প্রায় সমান থাকায় বাজারে একদিকে আস্থার ইঙ্গিত মিললেও অন্যদিকে সতর্ক অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে।

সব ক্যাটাগরি মিলিয়ে মোট ৩৯২টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৬৮টির দর বেড়েছে, ১৬২টির দর কমেছে এবং ৬২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের শক্তির মধ্যে স্পষ্ট কোনো একতরফা আধিপত্য ছিল না।

এ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ২০৮টি শেয়ারের মধ্যে ৮৯টির দর বেড়েছে, বিপরীতে ৯৩টির দর কমেছে এবং ২৬টি শেয়ারের দর অপরিবর্তিত ছিল। তুলনামূলকভাবে এই ক্যাটাগরিতে বিক্রির চাপ কিছুটা বেশি লক্ষ্য করা যায়, যা বড় মূলধনী শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

বি ক্যাটাগরিতে চিত্র ছিল প্রায় সমান। এখানে ৭৯টি শেয়ারের মধ্যে ৩৪টির দর বেড়েছে, ৩৪টির দর কমেছে এবং ১১টি শেয়ারের দরে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এই ক্যাটাগরিতে লেনদেনের গতি তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকলেও অতিরিক্ত অস্থিরতা দেখা যায়নি।

জেড ক্যাটাগরিতে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। এই ক্যাটাগরির ১০৫টি শেয়ারের মধ্যে ৪৫টির দর বেড়েছে, ৩৫টির দর কমেছে এবং ২৫টি শেয়ারের দর অপরিবর্তিত রয়েছে, যা স্বল্পমূল্যের শেয়ারে নির্বাচিত ক্রেতা আগ্রহের ইঙ্গিত বহন করে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে দিনের চিত্র ছিল কিছুটা নেতিবাচক। মোট ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে ৬টির দর বেড়েছে, ৮টির দর কমেছে এবং ২০টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এতে বোঝা যায়, প্রাতিষ্ঠানিক ও স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা এই খাতে এখনও পুরোপুরি সক্রিয় হননি।

করপোরেট বন্ড খাতে মাত্র দুটি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশ নেয়, যার মধ্যে একটির দর বেড়েছে এবং একটির দর কমেছে। সরকারি সিকিউরিটিজ বা জি-সেক খাতে চারটি ইস্যু লেনদেনে আসে, যেখানে একটির দর বেড়েছে এবং তিনটির দর কমেছে।

দিনভর মোট ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি লেনদেন সম্পন্ন হয়। লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৯ কোটি ১৮ লাখ শেয়ার এবং মোট লেনদেন মূল্য ছিল প্রায় ৬২৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা বাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

বাজার মূলধনের দিক থেকে ইক্যুইটি, মিউচুয়াল ফান্ড ও ঋণপত্র মিলিয়ে মোট বাজার মূলধন দাঁড়ায় প্রায় ৬৯ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ইক্যুইটি খাতের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

দিনের ব্লক ট্রানজাকশনে বড় কোম্পানিগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। টেক্সটাইল, ব্যাংক, ফার্মাসিউটিক্যালস, টেলিযোগাযোগ ও শিল্প খাতের একাধিক শেয়ারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্লক ডিল সম্পন্ন হয়েছে, যা বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি নির্দেশ করে।

সার্বিকভাবে দিনের লেনদেন চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাজার এখনো স্থিতিশীলতার সন্ধিক্ষণে রয়েছে। একদিকে নির্বাচিত শেয়ারে আগ্রহ বজায় থাকলেও অন্যদিকে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়িয়ে সচেতনভাবে অবস্থান নিচ্ছেন।

-রাফসান


১ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ দরপতনের ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ২২:২৪:৫০
১ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ দরপতনের ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সামগ্রিকভাবে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেলেও দিনের লেনদেন শেষে কিছু নির্দিষ্ট শেয়ারে স্পষ্ট দরপতন দেখা গেছে। বিশেষ করে কেমিক্যাল, শিল্প, টেক্সটাইল, ভোক্তা পণ্য ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের কয়েকটি শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের বিক্রিচাপ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

দরপতনের শীর্ষে অবস্থান করে ড্যাকাডাই ডাইং। কোম্পানিটির শেয়ার দর আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কমে ১৪ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে আসে। দিনভর লেনদেনে ক্রেতার ঘাটতি ও মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতাই এ পতনের মূল কারণ বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ফার কেমিক্যাল-এর শেয়ার দর কমেছে প্রায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। কেমিক্যাল খাতে সাম্প্রতিক সময়ে যে অতিমাত্রায় দরবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল, তারই একটি স্বাভাবিক সংশোধন হিসেবে এই পতনকে ব্যাখ্যা করছেন বিশ্লেষকেরা।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড প্রায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ দর হারিয়ে ৬ টাকায় লেনদেন শেষ করে। ইউনিটপ্রতি দর কমে যাওয়ায় স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা অবস্থান হালকা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বল্পমূল্যের শেয়ারের মধ্যে রিং শাইন টেক্সটাইল প্রায় ৭ শতাংশ দরপতনের মুখে পড়ে। এই ধরনের শেয়ারে অল্প লেনদেনেই দামে বড় ওঠানামা হওয়ায় ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে বলে বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

শিল্প খাতের শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ-এর শেয়ার দর কমেছে প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ। উৎপাদন ব্যয় ও বাজার চাহিদা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান এই পতনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

সেবা ও অবকাঠামো খাতের প্রতিনিধি সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট প্রায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ দর হারায়। পূর্ববর্তী দরবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতাই এখানে বেশি কার্যকর হয়েছে।

শিল্প খাতে জিএইচসিএল-এর শেয়ার প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ দরপতনের শিকার হয়। লেনদেনে ক্রেতা তুলনামূলক কম থাকায় দর চাপে পড়ে।

বিদ্যুৎ ও কেবল খাতে বিবিএস কেবলস প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ দর হারায়। খাতভিত্তিক অনিশ্চয়তা এ দরপতনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভোক্তা পণ্য খাতের পরিচিত নাম সিঙ্গার বাংলাদেশ-এর শেয়ারও প্রায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ কমে যায়। পূর্ববর্তী উচ্চমূল্যের পর স্বাভাবিক দর সংশোধনের অংশ হিসেবেই এই পতন দেখা হচ্ছে।

দরপতনের তালিকার শেষদিকে থাকা প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রায় ৫ শতাংশ দর হারিয়ে দিনের লেনদেন শেষ করে। বীমা খাতে সাম্প্রতিক উত্থানের পর বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান এ দরপতনে প্রতিফলিত হয়েছে।

সার্বিকভাবে আজকের শীর্ষ ১০ দরপতনকারী শেয়ারের চিত্র বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, বাজারে একদিকে আস্থা ফিরলেও অন্যদিকে কিছু শেয়ারে স্বল্পমেয়াদি ঝুঁকি ও দর সংশোধনের চাপ অব্যাহত রয়েছে।

-রাফসান


১ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ২২:১৩:৩০
১ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ারবাজারে স্পষ্ট ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দিনের লেনদেন শেষে দরবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে ব্যাংকিং, বীমা, বস্ত্র, সিমেন্ট, ইস্পাত ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের একাধিক পরিচিত প্রতিষ্ঠান, যা সামগ্রিকভাবে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দরবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার মূল্য আগের কার্যদিবসের তুলনায় সরাসরি ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ টাকা ৩০ পয়সায়। দিনভর শক্তিশালী ক্রয়চাপ থাকায় শেয়ারটি সর্বোচ্চ দরে লেনদেন সম্পন্ন করে, যা স্বল্পমূল্যের ব্যাংক শেয়ারে নতুন আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, যার শেয়ার দর প্রায় ৯ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৪৭ টাকা ৭০ পয়সায় পৌঁছায়। ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা ও সম্ভাব্য কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাই এ দরবৃদ্ধির পেছনে প্রভাব ফেলেছে বলে বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

ইস্পাত খাতের প্রতিনিধি ডমিনেজ স্টিল প্রায় ৯ দশমিক ৮ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে দিনের অন্যতম আলোচিত শেয়ারে পরিণত হয়। অবকাঠামো ও নির্মাণ খাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রত্যাশা এ খাতের শেয়ারে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।

বীমা খাতে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স-এর শেয়ার দর প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ২৩৯ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর উন্নয়ন সংক্রান্ত আশাবাদ এই দরবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করেছে।

ব্যাংকিং খাতের আরেকটি প্রতিষ্ঠিত নাম প্রাইম ব্যাংক দিনের ব্যবধানে ৭ শতাংশের বেশি দর বৃদ্ধি পায়। শক্তিশালী মৌলভিত্তি ও ধারাবাহিক কার্যক্রম শেয়ারটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে ভূমিকা রেখেছে।

নির্মাণ উপকরণ খাতে কনফিডেন্স সিমেন্ট প্রায় ৭ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে তালিকায় জায়গা করে নেয়। অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে প্রত্যাশা এই খাতে শেয়ার কেনাবেচা বাড়িয়েছে।

বস্ত্র ও স্পিনিং খাতে আল-হাজ টেক্সটাইল এবং এপেক্স স্পিনিং উভয় কোম্পানির শেয়ারেই ধারাবাহিক ক্রেতা উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। রপ্তানি খাতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত এ দরবৃদ্ধিতে প্রতিফলিত হয়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে সিএপিএম আইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ দর বৃদ্ধি পায়, যা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তালিকার শেষের দিকে থাকা সালভো কেমিক্যাল-এর শেয়ারও ৫ শতাংশের বেশি দরবৃদ্ধি নিয়ে লেনদেন শেষ করেছে, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের শেয়ারেও আগ্রহ বাড়ার ইঙ্গিত বহন করছে।

সামগ্রিকভাবে আজকের শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ারের চিত্র থেকে বোঝা যায়, বাজারে ধীরে ধীরে আস্থা ফিরছে এবং বিনিয়োগকারীরা আবারও সম্ভাবনাময় ও মৌলভিত্তিক কোম্পানির দিকে ঝুঁকছেন।

-রাফসান


শেয়ারবাজারে Q2 ঝড়, কার লাভ কার ক্ষতি, কোন খাতে কী বার্তা

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ১১:০৫:২৬
শেয়ারবাজারে Q2 ঝড়, কার লাভ কার ক্ষতি, কোন খাতে কী বার্তা
ছবি: সংগৃহীত

এই দফায় বেশ কয়েকটি কোম্পানির EPS কমেছে মূলত কস্ট বৃদ্ধি, সুদের হার, ফাইন্যান্স কস্ট ও বিক্রয়মূল্য চাপ থেকে। একই সঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠানের NOCFPS এ বড় ওঠানামা দেখা গেছে, যা সাধারণত ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল, সরবরাহকারীকে বেশি পেমেন্ট, গ্রাহক থেকে কালেকশন কমা বা রিসিভেবল রিয়ালাইজেশন দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। NAV বেশ কিছু ক্ষেত্রে ডিভিডেন্ড পেমেন্ট, লোকসান, দায় বাড়া বা রিভ্যালুয়েশন এডজাস্টমেন্টের কারণে নড়েছে।

স্কয়ার টেক্সটাইল এসএমই লিমিটেড (স্কয়ারটেক্সট)

স্কয়ার টেক্সটাইলের কিউ২ অনঅডিটেড ঘোষণায় দেখা যাচ্ছে, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে কনসোলিডেটেড ইপিএস নেমে এসেছে ০.১৪ টাকায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১.৯৩ টাকা। আবার জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৫ অর্ধবার্ষিকে কনসোলিডেটেড ইপিএস হয়েছে ১.৮৪ টাকা, যেখানে আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩.৮৩ টাকা। অপারেটিং ক্যাশফ্লোও দুর্বল হয়েছে: কনসোলিডেটেড এনওসিএফপিএস ২.১২ টাকা, আগের বছরের ৬.৫৮ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ প্রতি শেয়ার ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫ এ ৫৪.৫০ টাকা, জুন ৩০, ২০২৫ এ ছিল ৫৫.৮৬ টাকা।

কোম্পানিটি ব্যাখ্যা দিয়েছে, এই সময়ে ইপিএস কমার মূল চাপ এসেছে সুতা দামের উল্লেখযোগ্য পতন থেকে, একইসঙ্গে ফাইন্যান্স কস্ট বেড়েছে। অর্থাৎ বিক্রয়/মার্জিনে আঘাত এবং ঋণের খরচ বৃদ্ধি একসাথে মুনাফা কমিয়েছে।

ড্যাফোডিল কম্পিউটারস পিএলসি (ড্যাফোডিলকম)

ড্যাফোডিল কমের কিউ২ অনঅডিটেড অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ০.০৯ টাকা, আগের বছরের ০.১২ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.২১ টাকা, আগের বছরের ০.২৮ টাকার নিচে। সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয়, কনসোলিডেটেড এনওসিএফপিএস হয়েছে মাইনাস ১.১৩ টাকা, যেখানে আগের বছর একই সময়ে এটি ছিল পজিটিভ ০.৪৫ টাকা। ন্যাভ প্রতি শেয়ার ১৩.১১ টাকা, যা জুন শেষে ১২.৯০ টাকা থেকে কিছুটা বেড়েছে।

অতিরিক্ত ব্যাখ্যায় কোম্পানি জানিয়েছে, এনওসিএফপিএসের বড় বিচ্যুতি হয়েছে সাপ্লায়ারদের পেমেন্ট বেড়ে যাওয়ায়, সুদসহ অন্যান্য অপারেটিং পেমেন্ট বৃদ্ধি পাওয়ায়, এবং কাস্টমারদের কাছ থেকে কালেকশন কমে যাওয়ায়। অর্থাৎ আয় বিবরণীতে লাভ থাকলেও ক্যাশ সংগ্রহ ও খরচের টাইমিংয়ের কারণে ক্যাশফ্লোতে চাপ তৈরি হয়েছে।

সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড (এসএপোর্টল)

এসএপোর্টলের কিউ২ অনঅডিটেড ফলাফলে দেখা যায়, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ০.৩৭ টাকা, আগের বছরের ০.৭৩ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.৯৬ টাকা, আগের বছরের ১.৫২ টাকার নিচে। তবে অপারেটিং ক্যাশফ্লো উন্নত: কনসোলিডেটেড এনওসিএফপিএস ১.৮৮ টাকা, আগের বছরের ১.৫২ টাকার তুলনায় বেশি। ন্যাভ প্রতি শেয়ার ৩৪.৪৭ টাকা, জুন শেষে ৩৫.৬৭ টাকা থেকে কমেছে।

কোম্পানিটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভলিউম হ্যান্ডলিং বাড়ায় রেভিনিউ স্ট্রিম শক্ত হয়েছে, ফলে এনওসিএফপিএস বেড়েছে। পাশাপাশি কনটেইনার ট্রান্সপোর্টেশন সার্ভিসেস লিমিটেডের ক্লায়েন্ট কালেকশনও কনসোলিডেটেড ক্যাশফ্লোকে সাপোর্ট দিয়েছে। তবে আইএফআরএস ১০ অনুযায়ী গ্রুপ অ্যাকাউন্টিং প্রভাব, সাবসিডিয়ারি পর্যায়ে কম নেট প্রফিট, ফ্রেইট রেট কমা, এবং সাবসিডিয়ারি থেকে ডিভিডেন্ড ইনকাম বাদ পড়ার কারণে সামগ্রিকভাবে ইপিএস কমেছে। এছাড়া এসএপোর্টল ও সাবসিডিয়ারি উভয়ের ক্যাশ ডিভিডেন্ড পরিশোধের প্রভাবে ন্যাভেও নিম্নগতি এসেছে।

এনভয় টেক্সটাইল লিমিটেড (এনভয়টেক্স)

এনভয় টেক্সের কিউ২ রিপোর্ট অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ২.০৯ টাকা, আগের বছরের ২.০৭ টাকার তুলনায় সামান্য বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৪.৩৫ টাকা, আগের বছরের ৩.৫৮ টাকার তুলনায় উন্নত। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে অপারেটিং ক্যাশফ্লোতে: এনওসিএফপিএস ৮.৪৪ টাকা, যেখানে আগের বছর ছিল মাত্র ০.৮৬ টাকা। ন্যাভ প্রতি শেয়ার ৫৯.৬৭ টাকা, জুন শেষে ৫৮.৩২ টাকা থেকে বেড়েছে।

এই সংখ্যাগুলো ইঙ্গিত দেয়, কোম্পানিটি শুধু আয়ের দিকেই নয়, নগদ সংগ্রহ ও অপারেশনাল ক্যাশ জেনারেশনের দিকেও উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী অবস্থানে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য সাধারণত ইতিবাচক সিগন্যাল হিসেবে ধরা হয়।

জিএইচসিএল লিমিটেড (জিএইচসিএল)

জিএইচসিএলের কিউ২ ফলাফলে লোকসান চিত্র স্পষ্ট। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.৯০ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.০১ টাকার তুলনায় অনেক খারাপ। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ১.৪২ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ১.১১ টাকার তুলনায় আরও নেগেটিভ। এনওসিএফপিএস মাইনাস ০.৬৬ টাকা, আগের বছর ছিল ০.১০ টাকা। ন্যাভ ৭০.৪৭ টাকা, জুন শেষে ৭১.৮৯ টাকা থেকে কমেছে।

কোম্পানির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কাঁচামালের দাম, ইউটিলিটি ও উৎপাদন ওভারহেড, এবং স্বল্পমেয়াদি ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ নির্ভরতা বাড়ায় ফাইন্যান্স কস্ট বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে মার্জিনে চাপ তৈরি হয়েছে। এনওসিএফপিএস কমার পেছনে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ট্রেড রিসিভেবল বৃদ্ধি, ক্রেডিট টার্ম দীর্ঘ হওয়া, এবং উৎপাদন ধারাবাহিক রাখতে ইনভেন্টরি জমা। ন্যাভ কমার ব্যাখ্যায় কম লাভজনিত রিটেইন্ড আর্নিংস গ্রোথ কমে যাওয়া, স্বল্পমেয়াদি দায় বৃদ্ধি, এবং নিয়মিত ডিপ্রিসিয়েশনকে দায়ী করা হয়েছে।

শাশা ডেনিম পিএলসি (শাশাডেনিম)

শাশা ডেনিমের কিউ২ অনঅডিটেড হিসেবে অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ০.২৮ টাকা, আগের বছরের ০.৮০ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.৫৯ টাকা, আগের বছরের ১.২০ টাকার নিচে। তবে অপারেটিং ক্যাশফ্লোতে দৃশ্যমান ঘুরে দাঁড়ানো হয়েছে: কনসোলিডেটেড এনওসিএফপিএস ৫.৫০ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ২.৪৮ টাকা থেকে বড় টার্নঅ্যারাউন্ড। ন্যাভ প্রায় স্থিতিশীল: ৪১.৯৩ টাকা, জুন শেষে ৪১.৮৪ টাকা।

কোম্পানি বলেছে, বিক্রয়দর কমা এবং কস্ট অব গুডস সোল্ড বেড়ে যাওয়ায় গ্রস মার্জিন চাপের মধ্যে পড়েছে, তাই ইপিএস কমেছে। তবে অ্যাসোসিয়েট কোম্পানিগুলোর ধারাবাহিক প্রফিট কন্ট্রিবিউশন নেট প্রফিটকে পুরোপুরি ভেঙে পড়তে দেয়নি। এনওসিএফপিএস পজিটিভ হওয়ার ব্যাখ্যায় দুটি ফ্যাক্টর সামনে এসেছে: আগের সময়ের বকেয়া রিসিভেবল আদায়, এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট সুবিধার আওতায় কিছু আমদানি দায় কৌশলগতভাবে ডিফার করে তাৎক্ষণিক ক্যাশ অবস্থান উন্নত করা।

ফার কেমিক্যালস লিমিটেড (ফারকেম)

ফার কেমের কিউ২ ফলাফল নেতিবাচক। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস মাইনাস ১.৮৫ টাকা, আগের বছরে যেখানে ছিল ০.১৬ টাকা। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ১.৮০ টাকা, আগের বছরের ০.৩২ টাকার তুলনায় অনেক খারাপ। এনওসিএফপিএস মাইনাস ৫.৫৭ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ১.৮১ টাকার চেয়েও বেশি নেগেটিভ। ন্যাভ ৩০.৭২ টাকা, জুন শেষে ৩২.৫২ টাকা থেকে কম।

এই চিত্র দেখায়, কোম্পানির লাভজনিত সক্ষমতার পাশাপাশি অপারেটিং ক্যাশফ্লোও চাপের মধ্যে রয়েছে, যা স্বল্পমেয়াদে লিকুইডিটি ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা প্রয়োজনীয় করে তোলে।

রান ফাউন্ড্রি লিমিটেড (রানফাউন্ড্রি)

রান ফাউন্ড্রির কিউ২ প্রতিবেদনে আয় স্থিতিশীল ধারায়। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ১.০০ টাকা, আগের বছরের ১.০২ টাকার কাছাকাছি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ২.১৮ টাকা, আগের বছরের ২.১৯ টাকার প্রায় সমান। এনওসিএফপিএস ১.৫৯ টাকা, আগের বছরের ০.১৮ টাকার তুলনায় উন্নত। ন্যাভ ৩৪.৯৭ টাকা, জুন শেষে ৩৫.০৯ টাকা থেকে সামান্য কম।

মুনাফা স্থির থাকলেও ক্যাশফ্লোর এই উন্নতি সাধারণত সংগ্রহ, পেমেন্ট টাইমিং, বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট উন্নত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

এমএল ডাইং লিমিটেড (এমএলডাইং)

এমএল ডাইংয়ের কিউ২ ফলাফলে লোকসান দেখা যাচ্ছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.৪৭ টাকা, আগের বছর ছিল ০.০৭ টাকা। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ০.৪৬ টাকা, আগের বছর ০.১৩ টাকার তুলনায় খারাপ। এনওসিএফপিএস মাইনাস ০.৪১ টাকা, আগের বছর মাইনাস ০.৫৩ টাকার তুলনায় কিছুটা কম নেগেটিভ। ন্যাভ ১২.৭৮ টাকা, জুন শেষে ১৩.৩০ টাকা থেকে কমেছে।

এখানে লাভ-ক্ষতির চাপে ন্যাভ কমেছে, তবে ক্যাশফ্লো তুলনামূলক কম নেগেটিভ হওয়ায় অপারেটিং ক্যাশ ড্রেন কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে, যদিও এটি নিশ্চিত নয়।

এডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই)

এসিআইয়ের কিউ২ অনঅডিটেডে বড় পরিবর্তন হলো নেগেটিভ ইপিএস থেকে পজিটিভে ফেরা। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ০.৩৪ টাকা, যেখানে আগের বছর ছিল মাইনাস ৩.১৭ টাকা। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.৭৩ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ৭.৯৯ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি। এনওসিএফপিএস মাইনাস ৫০.৫০ টাকা থাকলেও আগের বছরের মাইনাস ৬৩.৬০ টাকার তুলনায় কম নেগেটিভ। ন্যাভ ৯০.৭০ টাকা, জুন শেষে ৯১.৬৪ টাকা থেকে সামান্য কম।

কোম্পানি জানিয়েছে, অর্ধবার্ষিকে গ্রুপের রাজস্ব ১৮ শতাংশ বেড়েছে এবং একাধিক অপারেটিং সেগমেন্ট এ গ্রোথে অবদান রেখেছে। গ্রস প্রফিট বৃদ্ধির হার অপারেটিং এক্সপেন্স বৃদ্ধিকে ছাড়িয়েছে, ফলে আয়ের দিকে উন্নতি এসেছে। তবে সুদের হার বৃদ্ধির কারণে এবং ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ও কৌশলগত বিনিয়োগে অতিরিক্ত ফান্ডিং নেওয়ায় বোরোয়িং কস্ট বেড়েছে। ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল মুভমেন্টের কারণে এনওসিএফপিএস নেগেটিভ থাকলেও তুলনামূলকভাবে কিছুটা উন্নত হয়েছে।

কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেড (কনফিডসেম)

কনফিডেন্স সিমেন্টের কিউ২ ফলাফলে উন্নতি দেখা যাচ্ছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ৩.৪২ টাকা, আগের বছরের ২.৬৫ টাকার তুলনায় বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ৭.৩৮ টাকা, আগের বছরের ৬.৬২ টাকার উপরে। এনওসিএফপিএস ২.২৪ টাকা, আগের বছরের ১.২২ টাকার তুলনায় উন্নত। ন্যাভ ৯৬.০৮ টাকা, জুন শেষে ৮৮.৬৮ টাকা থেকে বেড়েছে।

কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অ্যাসোসিয়েট কোম্পানির পারফরম্যান্সের ইতিবাচক প্রভাব ইপিএস বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিক্রয় কালেকশন অপারেশনাল কস্টকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় এনওসিএফপিএসও বেড়েছে। একইসঙ্গে অ্যাসোসিয়েটের প্রফিট যোগ হওয়ায় ন্যাভ শক্ত হয়েছে।

কেডিএস অ্যালায়েড লিমিটেড (কেডিএসএলটিডি)

কেডিএস অ্যালায়েডের কিউ২ অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.৪৫ টাকা, আগের বছরের ০.৪৯ টাকার চেয়ে সামান্য কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ১.০০ টাকা, আগের বছরের ১.০৫ টাকার নিচে। এনওসিএফপিএস ০.২৫ টাকা, আগের বছরের ২.৩২ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ প্রায় অপরিবর্তিত: ২৭.৭০ টাকা, জুন শেষে ২৭.৭১ টাকা।

এখানে আয় সামান্য কমার পাশাপাশি অপারেটিং ক্যাশফ্লোও দুর্বল, যা কালেকশন, ইনভেন্টরি বা পেমেন্ট সাইকেলে চাপের ইঙ্গিত দিতে পারে।

সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (সিলভাফল)

সিলভার কিউ২ অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.২৬ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.১৯ টাকার তুলনায় বেশি লোকসান। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ০.৫২ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৪৩ টাকার চেয়ে খারাপ। এনওসিএফপিএস ০.০৭ টাকা, আগের বছরের ০.১১ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ১৪.৯৬ টাকা, জুন শেষে ১৫.৪৮ টাকা থেকে কমেছে।

কোম্পানি বলেছে, বিক্রয় ভলিউম কমে যাওয়ায় ইপিএস কমেছে। একইসঙ্গে রিসিভেবল কালেকশন ও বিক্রয় কম থাকায় এনওসিএফপিএসও দুর্বল। লোকসানের কারণে ন্যাভও নিচে নেমেছে।

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (কপারটেক)

কপারটেকের কিউ২ অনঅডিটেডে অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.১০ টাকা, আগের বছরের ০.২১ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.১৫ টাকা, আগের বছরের ০.২৩ টাকার নিচে। এনওসিএফপিএস ১.৬৬ টাকা, আগের বছরের ১.২৩ টাকার তুলনায় বেশি। ন্যাভ ১৪.৪৬ টাকা, জুন শেষে ১৪.৩২ টাকা থেকে কিছুটা বেড়েছে।

এখানে লাভ কমলেও ক্যাশফ্লো বেড়েছে, যা অপারেশনাল কালেকশন বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দক্ষতা উন্নতির ইঙ্গিত হতে পারে।

আফতাব অটো লিমিটেড (আফতাবঅটো)

আফতাব অটোর কিউ২ ফলাফলে লোকসান চলমান। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস মাইনাস ০.২৬ টাকা, আগের বছর ছিল মাইনাস ০.২৫ টাকা। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ০.৮১ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৬৯ টাকার চেয়ে বেশি লোকসান। এনওসিএফপিএস ০.৮০ টাকা, আগের বছরের ১.৫৮ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ৪৬.০৬ টাকা, জুন শেষে ৪৭.৫৭ টাকা থেকে কমেছে।

এখানে আয় চাপের সাথে ক্যাশফ্লো দুর্বল হওয়ায় অপারেটিং অবস্থানও চ্যালেঞ্জড বলেই প্রতীয়মান।

কহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড (কহিনুর)

কহিনুরের কিউ২ রিপোর্টে ইতিবাচক ছবি। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ৪.০০ টাকা, আগের বছরের ৩.১৮ টাকার তুলনায় বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ৮.১০ টাকা, আগের বছরের ৬.২৫ টাকার চেয়ে উন্নত। এনওসিএফপিএস ১১.২৮ টাকা, যদিও আগের বছরের ১৪.৩৫ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ৬০.৮৬ টাকা, জুন শেষে ৫৯.২৪ টাকা থেকে বেড়েছে।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, এনওসিএফপিএস কমার একটি মূল কারণ হলো আগের বছরের তুলনায় ইনভেন্টরি বৃদ্ধি। অর্থাৎ স্টক বাড়লে ক্যাশ আটকে যায়, ফলে ক্যাশফ্লো কমে যেতে পারে, যদিও মুনাফা বেড়েছে।

ফার্মা এইড লিমিটেড (ফার্মাআইড)

ফার্মা এইডের কিউ২ এ আয়ের শক্তিশালী উন্নতি। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ৭.২৮ টাকা, আগের বছরের ৫.৬৬ টাকার তুলনায় বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ১৪.০৯ টাকা, আগের বছরের ১১.৩২ টাকার উপরে। এনওসিএফপিএস ১০.১১ টাকা, আগের বছরের ৪.৯৩ টাকার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ন্যাভ ১৪৯.৫৪ টাকা, জুন শেষে ১৩৮.৫৮ টাকা থেকে বেড়েছে।

কোম্পানি ব্যাখ্যা দিয়েছে, উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের কারণে বিক্রয় বেড়েছে, ফলে ইপিএস উন্নত হয়েছে। কালেকশন বৃদ্ধি পাওয়ায় এনওসিএফপিএসও শক্ত হয়েছে, আর রিটেইন্ড আর্নিংস বাড়ায় ন্যাভ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মননো ফেব্রিকস লিমিটেড (মননোফ্যাবর)

মননো ফেব্রিকসের কিউ২ এ আয় কম। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.০১ টাকা, আগের বছরের ০.০৪ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.০৪ টাকা, আগের বছরের ০.০৭ টাকার নিচে। তবে এনওসিএফপিএস ০.৬৫ টাকা, আগের বছরের ০.০৩ টাকার তুলনায় বেশি। ন্যাভ ২৫.৪১ টাকা, জুন শেষে ২৫.৩৯ টাকা থেকে সামান্য বেড়েছে।

কোম্পানির মতে, ফাইন্যান্স কস্ট বৃদ্ধিতে ইপিএস কমেছে। ক্যাশফ্লো বাড়ার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ বিল কমায় অপারেটিং ক্যাশে সুবিধা হয়েছে। ন্যাভ সামান্য বেড়েছে মূলত কারেন্ট অ্যাসেট বাড়ার কারণে।

বাংলাদেশ থাই ফুড অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস লিমিটেড (বিডিথাইফুড)

বিডিথাইফুডের কিউ২ চিত্র নেতিবাচক। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.০৬ টাকা, আগের বছর ছিল ০.০৪ টাকা (রিস্টেটেড)। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ০.৫৫ টাকা, আগের বছর ছিল ০.০৬ টাকা (রিস্টেটেড)। অ্যাডজাস্টেড এনওসিএফপিএস ০.১৭ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.২৮ টাকার তুলনায় ভালো। অ্যাডজাস্টেড ন্যাভ ১১.৮৬ টাকা, জুন শেষে ১২.৪১ টাকা থেকে কমেছে।

কোম্পানি জানিয়েছে, উৎপাদন ও বিক্রয় কমে যাওয়ায় নেট প্রফিট ও ইপিএস কমেছে। পাশাপাশি ব্যয়জনিত দায় বৃদ্ধি পাওয়ায় ন্যাভে চাপ তৈরি হয়েছে।

বাটা সু (বাংলাদেশ) লিমিটেড (বিডিথাই)

বিডিথাইয়ের কিউ২ এ লোকসান বাড়ছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.৭৯ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৬২ টাকার তুলনায় বেশি নেগেটিভ। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ১.৪৯ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৯০ টাকার চেয়ে খারাপ। এনওসিএফপিএস মাইনাস ০.৭৭ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৬৬ টাকার তুলনায় কমেছে। ন্যাভ ২৭.১৯ টাকা, জুন শেষে ২৮.৬০ টাকা থেকে কম।

এখানে আয়ের চাপের পাশাপাশি ক্যাশফ্লোও নেগেটিভ থাকায় অপারেশনাল টার্নঅ্যারাউন্ডের প্রয়োজনীয়তা বোঝা যায়।

সাইফকো স্পিনিং মিলস লিমিটেড (সাফকোস্পিনন)

সাফকো স্পিনিংয়ের কিউ২ এ লোকসান থাকলেও কিছু উন্নতির ইঙ্গিত আছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.৩১ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৫৩ টাকার তুলনায় কম নেগেটিভ। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ২.০৭ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ৫.৩০ টাকার তুলনায় উন্নত। তবে এনওসিএফপিএস মাইনাস ০.৪২ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.০৫ টাকার তুলনায় বেশি নেগেটিভ। ন্যাভ মাইনাস ৫.৩২ টাকা, জুন শেষে মাইনাস ৪.৫০ টাকা থেকে আরও কমেছে।

এখানে আয়ের ক্ষতি কিছুটা কমলেও ক্যাশফ্লো ও ন্যাভ নেগেটিভ থাকায় আর্থিক ঝুঁকির মাত্রা উচ্চ বলেই ধরা যায়।

সাইহাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড (সাইহামটেক্স)

সাইহাম টেক্সের কিউ২ এ আয় কমেছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.১১ টাকা, আগের বছরের ০.১৩ টাকার নিচে। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.২৮ টাকা, আগের বছরের ০.৩৪ টাকার তুলনায় কম। এনওসিএফপিএস মাইনাস ৭.৩৬ টাকা, আগের বছর ছিল পজিটিভ ৬.৯৬ টাকা, অর্থাৎ বড় রিভার্সাল। ন্যাভ ৪৩.৫০ টাকা, জুন শেষে ৪৩.৭৭ টাকা থেকে সামান্য কম।

কোম্পানি বলেছে, কস্ট অব গুডস সোল্ড তুলনামূলকভাবে বেশি বেড়েছে বলে নেট প্রফিট কমেছে। এনওসিএফপিএস কমার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কালেকশন কমে যাওয়া, এবং উৎপাদন ব্যয় ও ওভারহেড পেমেন্ট বেড়ে যাওয়া।

আইটিসি লিমিটেড (আইটিসি)

আইটিসির কিউ২ অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.৮৬ টাকা, আগের বছরের ১.১১ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ১.৭৮ টাকা, আগের বছরের ১.৯৩ টাকার নিচে। এনওসিএফপিএস ২.২৮ টাকা, আগের বছরের ৩.১৪ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ২৩.৮৩ টাকা, জুন শেষে ২৩.২৫ টাকা থেকে কিছুটা বেড়েছে।

এখানে মুনাফা ও ক্যাশফ্লো কিছুটা নরম হলেও ন্যাভ সামান্য বেড়েছে, যা ব্যালান্স শিটে সীমিত ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (সিলকোফল)

সিলকোর কিউ২ এ স্থিতিশীলতার আভাস। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.১১ টাকা, আগের বছরের ০.১০ টাকার তুলনায় সামান্য বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.২৭ টাকা, আগের বছরের ০.২৭ টাকার সমান। এনওসিএফপিএস ০.৫১ টাকা, আগের বছরের ০.৬২ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ২৩.২৯ টাকা, জুন শেষে ২৩.০২ টাকা থেকে বেড়েছে।

মননো স্পুলিং মিলস লিমিটেড (মনোস্পুল)

মনোস্পুলের কিউ২ এ ইপিএস সামান্য বেড়েছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.৭৪ টাকা, আগের বছরের ০.৭২ টাকার তুলনায় বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ১.৯৩ টাকা, আগের বছরের ১.৮৬ টাকার উপরে। এনওসিএফপিএস ২.২৪ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ১.৮৮ টাকা থেকে বড় উন্নতি। ন্যাভ ৪৬.৯৯ টাকা, জুন শেষে ৪৫.০৫ টাকা থেকে বেড়েছে।

কোম্পানি ব্যাখ্যা দিয়েছে, চলতি সময়ে কারেন্ট লাইবিলিটি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সাপ্লায়ার ও ব্যাংক বা এনবিএফআই থেকে ডিফার্ড পেমেন্ট বা ক্রেডিট সুবিধা থাকায় অপারেটিং ক্যাশফ্লো ভালো দেখাচ্ছে। অর্থাৎ ক্যাশফ্লো উন্নতি আংশিকভাবে পেমেন্ট ডিফারালের ফলও হতে পারে।

নাভানা সিএনজি লিমিটেড (নাভানাএসএনজি)

নাভানা সিএনজির কিউ২ অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ০.০১ টাকা, আগের বছরের ০.০৪ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.০২ টাকা, আগের বছরের ০.০৬ টাকার নিচে। এনওসিএফপিএস ১.৮৫ টাকা, আগের বছরের ০.০৩ টাকার তুলনায় বেশি। ন্যাভ ৩০.২৪ টাকা, জুন শেষে ৩০.৭৯ টাকা থেকে কমেছে।

রহিমা ফুড করপোরেশন লিমিটেড (রহিমাফুড)

রহিমা ফুডের কিউ২ এ লোকসান বেড়েছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.০৭ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.০৫ টাকার তুলনায় খারাপ। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ০.১৪ টাকা, আগের বছরের ০.১৬ টাকার তুলনায় নেগেটিভ। এনওসিএফপিএস ০.২৪ টাকা, আগের বছরের ১.১২ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ৯.২৯ টাকা, জুন শেষে ৯.৪৩ টাকা থেকে সামান্য কম।

এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসি (এমজেএলবিডি)

এমজেএলবিডির কিউ২ ফলাফলে আয়ের নিম্নগতি। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ০.৮০ টাকা, আগের বছরের ৩.২৩ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ৩.৮৬ টাকা, আগের বছরের ৬.৬৬ টাকার নিচে। তবে এনওসিএফপিএস ৬.৪৪ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ৩.০২ টাকা থেকে বড় টার্নঅ্যারাউন্ড। ন্যাভ ৫২.৭২ টাকা, জুন শেষে ৫৪.০৬ টাকা থেকে কমেছে।

এখানে লাভ কমলেও ক্যাশফ্লোতে বড় ঘুরে দাঁড়ানো রয়েছে, যা রিসিভেবল আদায় বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল রিলিজের ফল হতে পারে।

অরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (অরিয়নফার্ম)

অরিয়ন ফার্মার কিউ২ এ লোকসান রয়েছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস মাইনাস ০.৫৬ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৪৪ টাকার তুলনায় খারাপ। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ০.৮৬ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.২০ টাকার তুলনায় বেশি নেগেটিভ। এনওসিএফপিএস ২.৬১ টাকা, আগের বছরের ৪.২৬ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ রিভ্যালুয়েশনসহ ৮৫.৭৪ টাকা, জুন শেষে ৮৬.০৯ টাকা থেকে সামান্য কম। কোম্পানি আলাদা করে জানিয়েছে, রিভ্যালুয়েশন সারপ্লাস বাদ দিলে ন্যাভ ৭৮.০০ টাকা, জুন শেষে ৭৮.৩৪ টাকা ছিল।

সাইহাম কটন মিলস লিমিটেড (সাইহামকট)

সাইহাম কটনের কিউ২ এ মুনাফা কমেছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.২০ টাকা, আগের বছরের ০.৩১ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.৪৮ টাকা, আগের বছরের ০.৫৮ টাকার নিচে। এনওসিএফপিএস ১.২২ টাকা, আগের বছরের ০.৮৬ টাকার তুলনায় বেশি। ন্যাভ ৩৮.০৮ টাকা, জুন শেষে ৩৮.২৬ টাকা থেকে সামান্য কম।

জিবিবি পাওয়ার লিমিটেড (জিবিবিপাওয়ার)

জিবিবি পাওয়ারের কিউ২ এ ইপিএস সামান্য বেড়েছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.০৪ টাকা, আগের বছরের ০.০২ টাকার তুলনায় বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.০৭ টাকা, আগের বছরের ০.০৬ টাকার তুলনায় সামান্য বেশি। তবে এনওসিএফপিএস ০.০১ টাকা, আগের বছরের ০.০৯ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ২০.৩৮ টাকা, জুন শেষে ২০.২৭ টাকা থেকে সামান্য বেড়েছে।

অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (অলটেক্স)

অলটেক্সের কিউ২ এ ইপিএস পজিটিভ হলেও ছোট। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.০৩ টাকা, আগের বছরে ছিল মাইনাস ০.০৫ টাকা। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.০৪ টাকা, আগের বছরে ছিল মাইনাস ০.০৬ টাকা। এনওসিএফপিএস মাইনাস ০.০৫ টাকা, আগের বছরের ০.৩১ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ২৬.৬৪ টাকা, এবং কোম্পানি জানিয়েছে, আগের বছরের ডিসেম্বর শেষে ন্যাভ ছিল ১৯.৮৬ টাকা, অর্থাৎ বার্ষিক ভিত্তিতে বড় উন্নতি।

অতিরিক্ত ব্যাখ্যায় কোম্পানি বলেছে, টার্নওভার বাড়ানো ও সিওজিএস অনুপাত কমানোর চেষ্টা ফল দিয়েছে, তবে সাপ্লায়ার, এমপ্লয়ি ও অন্যান্য পেমেন্ট এবং ফাইন্যান্স এক্সপেন্স বাড়ায় এনওসিএফপিএস কমেছে। ন্যাভ বেড়েছে রিপোর্টিং প্রফিটের পাশাপাশি আগের বছরের ঋণ সুদ অতিরিক্ত প্রভিশন সমন্বয়ের কারণে।

স্টাইলক্র্যাফট লিমিটেড (স্টাইলক্র্যাফট)

স্টাইলক্র্যাফটের কিউ২ এ ইপিএস খুবই কম। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.০০৯ টাকা, আগের বছরের ০.০৪ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.০১৯ টাকা, আগের বছরের ০.০৭ টাকার নিচে। তবে এনওসিএফপিএস ২.৩৯ টাকা, আগের বছরের ০.৮৩ টাকার তুলনায় বেশি। ন্যাভ ৪.৬৪ টাকা, জুন শেষে ৪.৬২ টাকা থেকে সামান্য বেড়েছে।

কোম্পানি জানিয়েছে, এনওসিএফপিএস নেগেটিভ হওয়া প্রসঙ্গে তাদের ব্যাখ্যা হলো, কালেকশনের তুলনায় পেমেন্ট বেশি, এবং সেই ঘাটতি ব্যাংক ঋণ দিয়ে মেটানো হয়। (এখানে আপনার ডেটাসেটে “নেগেটিভ” ব্যাখ্যা অংশ ছিল, কিন্তু ঘোষিত এনওসিএফপিএস সংখ্যাটি পজিটিভ, তাই বিনিয়োগকারী হিসেবে এই জায়গাটি অফিসিয়াল নোট থেকে মিলিয়ে দেখা জরুরি।)

এসিএমই ল্যাবরেটরিজ পিএলসি (এসিএমইপিএল)

এসিএমইপিএলের কিউ২ এ লোকসান অব্যাহত। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.১৬ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.১৮ টাকার তুলনায় সামান্য কম নেগেটিভ। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ০.২৬ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৩০ টাকার চেয়ে কম নেগেটিভ। এনওসিএফপিএস ০.০২ টাকা, আগের বছরের ০.০১ টাকার তুলনায় সামান্য বেশি। ন্যাভ ১৬.১৫ টাকা, জুন শেষে ১৬.৪১ টাকা থেকে কমেছে।

রেনাটা পিএলসি (রেনাটা)

রেনাটার কিউ২ ফলাফল শক্তিশালী। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ৭.১১ টাকা, আগের বছরের ৫.৬৪ টাকার তুলনায় বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ১৩.৫৮ টাকা, আগের বছরের ১০.৮৩ টাকার উপরে। এনওসিএফপিএস ১২.৮৭ টাকা, আগের বছরের ৩.৬০ টাকার তুলনায় বড় উন্নতি। ন্যাভ ৩১৩.৪৮ টাকা, জুন শেষে ৩০৫.৪৯ টাকা থেকে বেড়েছে।

কোম্পানি বলেছে, অপারেটিং প্রফিট গ্রোথ এবং ক্যাপিটাল রিস্ট্রাকচারিং উদ্যোগের ফলে নেট ফাইন্যান্স কস্ট কমায় ইপিএস বেড়েছে, যদিও ট্যাক্স এক্সপেন্স বৃদ্ধি কিছুটা অফসেট করেছে। এনওসিএফপিএস উন্নতির পেছনে অপারেটিং প্রফিট বৃদ্ধির পাশাপাশি ইনভেন্টরি ও রিসিভেবল ব্যবস্থাপনায় উন্নতি, এবং ডিপ্রিসিয়েশন ও অ্যামর্টাইজেশনজনিত নন ক্যাশ অ্যাডজাস্টমেন্টকে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি (স্কয়ারফার্মা)

স্কয়ার ফার্মার কিউ২ এ ধারাবাহিক উন্নতি। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ৮.২০ টাকা, আগের বছরের ৭.৪৫ টাকার তুলনায় বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ১৬.৫৬ টাকা, আগের বছরের ১৪.৩২ টাকার উপরে। এনওসিএফপিএস ১৩.১৬ টাকা, আগের বছরের ৮.২৮ টাকার তুলনায় উন্নত। ন্যাভ ১৬২.৪১ টাকা, জুন শেষে ১৫৭.৮৮ টাকা থেকে বেড়েছে।

কোম্পানির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আগের বছরে সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় রেভিনিউ গ্রোথ কিছুটা থেমে ছিল। চলতি বছরে সেই ধাক্কা কাটিয়ে ব্যবসা শুধু রিকভারি করেনি, বরং রেভিনিউ পারফরম্যান্সে শক্ত আপমোমেন্টাম তৈরি হয়েছে। ফলে ইপিএস ও এনওসিএফপিএস উভয়ই স্বাস্থ্যকরভাবে বেড়েছে।

-রাফসান


সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণ, কোথায় সুযোগ কোথায় ঝুঁকি

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ৩০ ১৭:০৬:২০
সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণ, কোথায় সুযোগ কোথায় ঝুঁকি
ছবি: সংগৃহীত

গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। সূচক ও বাজার মূলধন উভয় ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধি থাকলেও খাতভিত্তিক পারফরম্যান্সে ছিল মিশ্র চিত্র। বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় বাজারে স্বস্তির আভাস মিলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূচকের গতিপথ

সপ্তাহ শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দাঁড়িয়েছে ৫,১৫৪ দশমিক ৩১ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫৪ দশমিক ৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ০৭ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের শুরু থেকে সূচকটির প্রবৃদ্ধি এখন প্রায় ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে।

ব্লু-চিপ শেয়ারের সূচক ডিএস–৩০ বেড়ে হয়েছে ১,৯৮৬ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট, যা সপ্তাহ ব্যবধানে ১ দশমিক ২১ শতাংশ উত্থান নির্দেশ করে। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচকও ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে ০ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে এসএমই বোর্ডের সূচক ডিএসএমইএক্স ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে কিছুটা চাপের ইঙ্গিত দিয়েছে।

লেনদেন ও বাজার মূলধন

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ২৮ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় সামান্য বেশি। দৈনিক গড় লেনদেন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা। একই সময়ে বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৯ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকায়, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

লেনদেনের পরিমাণের দিক থেকে যদিও ভলিউম কিছুটা কমেছে, তবে টাকার অঙ্কে লেনদেন স্থিতিশীল থাকায় বড় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বজায় থাকার প্রমাণ মিলেছে।

খাতভিত্তিক চিত্র

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ বিমা খাত সবচেয়ে বেশি লেনদেন আকর্ষণ করেছে। সপ্তাহজুড়ে এই খাতে গড় দৈনিক লেনদেনের অংশ ছিল প্রায় ১৭ শতাংশের বেশি। ব্যাংক, প্রকৌশল, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ফুয়েল ও পাওয়ার খাতেও উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম দেখা গেছে।

অন্যদিকে টেক্সটাইল, ফুড অ্যান্ড অ্যালায়েড এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাতে কিছুটা মন্দাভাব লক্ষ্য করা গেছে। এসএমই বোর্ডে লেনদেন কমে যাওয়ায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও তুলনামূলক কম ছিল।

শীর্ষ লেনদেন ও ব্লক ট্রেড

সপ্তাহের শীর্ষ লেনদেন হওয়া শেয়ারগুলোর মধ্যে ছিল স্কয়ার ফার্মা, ডমিনেজ স্টিল, ওরিয়ন ইনফিউশন, প্রগতি লাইফ ও ব্র্যাক ব্যাংক। ব্লক ট্রেডের ক্ষেত্রে গ্রামীণফোন, ফাইন ফুডস এবং ডমিনেজ স্টিল উল্লেখযোগ্য অবস্থান ধরে রেখেছে।

সেরা গেইনার ও লুজার

সপ্তাহের শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ারের তালিকায় ছিল মেগকন মিল্ক, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, জিবিবি পাওয়ার ও প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স। বিপরীতে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে ফাস ফাইন্যান্স, পিএলএফএসএল, ফারইস্ট ফাইন্যান্স এবং রানার অটোমোবাইলের শেয়ারে।

বাজার মূল্যায়ন

বর্তমানে বাজারের সামগ্রিক প্রাইস টু আর্নিং (পিই) অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৩, যা ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় কম। বিশ্লেষকদের মতে, এই পিই বিনিয়োগের জন্য মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদে কিছু খাতে সুযোগ তৈরি করতে পারে, যদিও মৌলভিত্তি যাচাই করে বিনিয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

-রাফসান


২৯ জানুয়ারির শীর্ষ দরপতনকারী ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৯ ১৫:০৯:১২
২৯ জানুয়ারির শীর্ষ দরপতনকারী ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের শেষভাগের লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কিছু নির্দিষ্ট শেয়ারে তীব্র বিক্রয়চাপ লক্ষ্য করা গেছে। ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিশেষ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও টেক্সটাইল খাতভুক্ত কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরপতনের মাধ্যমে বাজারে সতর্কতার বার্তা মিলেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

দিনের শীর্ষ দরপতনকারী হিসেবে উঠে আসে আইএলএফএসএল। কোম্পানিটির শেয়ার আগের কার্যদিবসের তুলনায় সর্বোচ্চ সীমা ছুঁয়ে ১০ দশমিক ৬১ শতাংশ কমে ৫৯ পয়সায় নেমে আসে। সারাদিন একই দরে লেনদেন হওয়া শেয়ারটিতে ক্রেতার অনুপস্থিতি স্পষ্ট ছিল।

এর ঠিক পরেই রয়েছে ফাসফিন এবং পিএলএফএসএল। উভয় কোম্পানির শেয়ারের দর সমানভাবে ১০ দশমিক ১৪ শতাংশ কমে ৬২ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। আর্থিক খাতের দুর্বল মৌলভিত্তি ও দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতা এই দরপতনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তালিকার চতুর্থ স্থানে থাকা প্রিমিয়ার লিজিং–এর শেয়ার প্রায় ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে ৫৭ পয়সায় নেমে আসে। একইভাবে ফারইস্ট ফাইন্যান্স–এর শেয়ারেও প্রায় ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ দরপতন ঘটে, যা আর্থিক খাতে চলমান সংকটের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট করেছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও চাপের চিত্র দেখা গেছে। এক্সিম ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড–এর ইউনিট দর প্রায় ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ কমে ২ টাকা ৯০ পয়সায় নেমে আসে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এই পতনের অন্যতম কারণ।

জ্বালানি খাতের ইপিজিএল শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য দরপতন হয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ার আগের দিনের তুলনায় ৮ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে ১৪ টাকা ৫০ পয়সায় বন্ধ হয়, যদিও দিনের শুরুতে তুলনামূলক উচ্চ দামে লেনদেন হয়েছিল।

টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের কয়েকটি শেয়ারও দরপতনের তালিকায় রয়েছে। আর্গন ডেনিম–এর শেয়ার ৫ শতাংশের বেশি কমে ১৬ টাকা ৯০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। একই খাতের মিথুন নিট–এর শেয়ারও প্রায় ৫ শতাংশ দর হারিয়ে ১৩ টাকা ২০ পয়সায় নেমে আসে।

তালিকার শেষদিকে থাকা এলআরবিডিএল–এর শেয়ারেও ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ দরপতন দেখা গেছে, যা মাঝারি মূলধনের শেয়ারেও বিক্রয়চাপ ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দেয়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই দরপতনগুলো মূলত দুর্বল মৌলভিত্তি, দীর্ঘদিনের লোকসান, নিয়ন্ত্রক ঝুঁকি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার প্রতিফলন। তারা সতর্ক করে বলেন, শুধুমাত্র কম দাম দেখে বিনিয়োগে ঝুঁকে পড়া বিপজ্জনক হতে পারে; বরং আর্থিক প্রতিবেদন, ব্যবসার ধারাবাহিকতা ও খাতভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: