শেয়ারবাজারে Q2 ঝড়, কার লাভ কার ক্ষতি, কোন খাতে কী বার্তা

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ১১:০৫:২৬
শেয়ারবাজারে Q2 ঝড়, কার লাভ কার ক্ষতি, কোন খাতে কী বার্তা
ছবি: সংগৃহীত

এই দফায় বেশ কয়েকটি কোম্পানির EPS কমেছে মূলত কস্ট বৃদ্ধি, সুদের হার, ফাইন্যান্স কস্ট ও বিক্রয়মূল্য চাপ থেকে। একই সঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠানের NOCFPS এ বড় ওঠানামা দেখা গেছে, যা সাধারণত ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল, সরবরাহকারীকে বেশি পেমেন্ট, গ্রাহক থেকে কালেকশন কমা বা রিসিভেবল রিয়ালাইজেশন দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। NAV বেশ কিছু ক্ষেত্রে ডিভিডেন্ড পেমেন্ট, লোকসান, দায় বাড়া বা রিভ্যালুয়েশন এডজাস্টমেন্টের কারণে নড়েছে।

স্কয়ার টেক্সটাইল এসএমই লিমিটেড (স্কয়ারটেক্সট)

স্কয়ার টেক্সটাইলের কিউ২ অনঅডিটেড ঘোষণায় দেখা যাচ্ছে, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে কনসোলিডেটেড ইপিএস নেমে এসেছে ০.১৪ টাকায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১.৯৩ টাকা। আবার জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৫ অর্ধবার্ষিকে কনসোলিডেটেড ইপিএস হয়েছে ১.৮৪ টাকা, যেখানে আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩.৮৩ টাকা। অপারেটিং ক্যাশফ্লোও দুর্বল হয়েছে: কনসোলিডেটেড এনওসিএফপিএস ২.১২ টাকা, আগের বছরের ৬.৫৮ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ প্রতি শেয়ার ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫ এ ৫৪.৫০ টাকা, জুন ৩০, ২০২৫ এ ছিল ৫৫.৮৬ টাকা।

কোম্পানিটি ব্যাখ্যা দিয়েছে, এই সময়ে ইপিএস কমার মূল চাপ এসেছে সুতা দামের উল্লেখযোগ্য পতন থেকে, একইসঙ্গে ফাইন্যান্স কস্ট বেড়েছে। অর্থাৎ বিক্রয়/মার্জিনে আঘাত এবং ঋণের খরচ বৃদ্ধি একসাথে মুনাফা কমিয়েছে।

ড্যাফোডিল কম্পিউটারস পিএলসি (ড্যাফোডিলকম)

ড্যাফোডিল কমের কিউ২ অনঅডিটেড অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ০.০৯ টাকা, আগের বছরের ০.১২ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.২১ টাকা, আগের বছরের ০.২৮ টাকার নিচে। সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয়, কনসোলিডেটেড এনওসিএফপিএস হয়েছে মাইনাস ১.১৩ টাকা, যেখানে আগের বছর একই সময়ে এটি ছিল পজিটিভ ০.৪৫ টাকা। ন্যাভ প্রতি শেয়ার ১৩.১১ টাকা, যা জুন শেষে ১২.৯০ টাকা থেকে কিছুটা বেড়েছে।

অতিরিক্ত ব্যাখ্যায় কোম্পানি জানিয়েছে, এনওসিএফপিএসের বড় বিচ্যুতি হয়েছে সাপ্লায়ারদের পেমেন্ট বেড়ে যাওয়ায়, সুদসহ অন্যান্য অপারেটিং পেমেন্ট বৃদ্ধি পাওয়ায়, এবং কাস্টমারদের কাছ থেকে কালেকশন কমে যাওয়ায়। অর্থাৎ আয় বিবরণীতে লাভ থাকলেও ক্যাশ সংগ্রহ ও খরচের টাইমিংয়ের কারণে ক্যাশফ্লোতে চাপ তৈরি হয়েছে।

সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড (এসএপোর্টল)

এসএপোর্টলের কিউ২ অনঅডিটেড ফলাফলে দেখা যায়, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ০.৩৭ টাকা, আগের বছরের ০.৭৩ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.৯৬ টাকা, আগের বছরের ১.৫২ টাকার নিচে। তবে অপারেটিং ক্যাশফ্লো উন্নত: কনসোলিডেটেড এনওসিএফপিএস ১.৮৮ টাকা, আগের বছরের ১.৫২ টাকার তুলনায় বেশি। ন্যাভ প্রতি শেয়ার ৩৪.৪৭ টাকা, জুন শেষে ৩৫.৬৭ টাকা থেকে কমেছে।

কোম্পানিটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভলিউম হ্যান্ডলিং বাড়ায় রেভিনিউ স্ট্রিম শক্ত হয়েছে, ফলে এনওসিএফপিএস বেড়েছে। পাশাপাশি কনটেইনার ট্রান্সপোর্টেশন সার্ভিসেস লিমিটেডের ক্লায়েন্ট কালেকশনও কনসোলিডেটেড ক্যাশফ্লোকে সাপোর্ট দিয়েছে। তবে আইএফআরএস ১০ অনুযায়ী গ্রুপ অ্যাকাউন্টিং প্রভাব, সাবসিডিয়ারি পর্যায়ে কম নেট প্রফিট, ফ্রেইট রেট কমা, এবং সাবসিডিয়ারি থেকে ডিভিডেন্ড ইনকাম বাদ পড়ার কারণে সামগ্রিকভাবে ইপিএস কমেছে। এছাড়া এসএপোর্টল ও সাবসিডিয়ারি উভয়ের ক্যাশ ডিভিডেন্ড পরিশোধের প্রভাবে ন্যাভেও নিম্নগতি এসেছে।

এনভয় টেক্সটাইল লিমিটেড (এনভয়টেক্স)

এনভয় টেক্সের কিউ২ রিপোর্ট অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ২.০৯ টাকা, আগের বছরের ২.০৭ টাকার তুলনায় সামান্য বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৪.৩৫ টাকা, আগের বছরের ৩.৫৮ টাকার তুলনায় উন্নত। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে অপারেটিং ক্যাশফ্লোতে: এনওসিএফপিএস ৮.৪৪ টাকা, যেখানে আগের বছর ছিল মাত্র ০.৮৬ টাকা। ন্যাভ প্রতি শেয়ার ৫৯.৬৭ টাকা, জুন শেষে ৫৮.৩২ টাকা থেকে বেড়েছে।

এই সংখ্যাগুলো ইঙ্গিত দেয়, কোম্পানিটি শুধু আয়ের দিকেই নয়, নগদ সংগ্রহ ও অপারেশনাল ক্যাশ জেনারেশনের দিকেও উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী অবস্থানে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য সাধারণত ইতিবাচক সিগন্যাল হিসেবে ধরা হয়।

জিএইচসিএল লিমিটেড (জিএইচসিএল)

জিএইচসিএলের কিউ২ ফলাফলে লোকসান চিত্র স্পষ্ট। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.৯০ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.০১ টাকার তুলনায় অনেক খারাপ। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ১.৪২ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ১.১১ টাকার তুলনায় আরও নেগেটিভ। এনওসিএফপিএস মাইনাস ০.৬৬ টাকা, আগের বছর ছিল ০.১০ টাকা। ন্যাভ ৭০.৪৭ টাকা, জুন শেষে ৭১.৮৯ টাকা থেকে কমেছে।

কোম্পানির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কাঁচামালের দাম, ইউটিলিটি ও উৎপাদন ওভারহেড, এবং স্বল্পমেয়াদি ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ নির্ভরতা বাড়ায় ফাইন্যান্স কস্ট বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে মার্জিনে চাপ তৈরি হয়েছে। এনওসিএফপিএস কমার পেছনে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ট্রেড রিসিভেবল বৃদ্ধি, ক্রেডিট টার্ম দীর্ঘ হওয়া, এবং উৎপাদন ধারাবাহিক রাখতে ইনভেন্টরি জমা। ন্যাভ কমার ব্যাখ্যায় কম লাভজনিত রিটেইন্ড আর্নিংস গ্রোথ কমে যাওয়া, স্বল্পমেয়াদি দায় বৃদ্ধি, এবং নিয়মিত ডিপ্রিসিয়েশনকে দায়ী করা হয়েছে।

শাশা ডেনিম পিএলসি (শাশাডেনিম)

শাশা ডেনিমের কিউ২ অনঅডিটেড হিসেবে অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ০.২৮ টাকা, আগের বছরের ০.৮০ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.৫৯ টাকা, আগের বছরের ১.২০ টাকার নিচে। তবে অপারেটিং ক্যাশফ্লোতে দৃশ্যমান ঘুরে দাঁড়ানো হয়েছে: কনসোলিডেটেড এনওসিএফপিএস ৫.৫০ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ২.৪৮ টাকা থেকে বড় টার্নঅ্যারাউন্ড। ন্যাভ প্রায় স্থিতিশীল: ৪১.৯৩ টাকা, জুন শেষে ৪১.৮৪ টাকা।

কোম্পানি বলেছে, বিক্রয়দর কমা এবং কস্ট অব গুডস সোল্ড বেড়ে যাওয়ায় গ্রস মার্জিন চাপের মধ্যে পড়েছে, তাই ইপিএস কমেছে। তবে অ্যাসোসিয়েট কোম্পানিগুলোর ধারাবাহিক প্রফিট কন্ট্রিবিউশন নেট প্রফিটকে পুরোপুরি ভেঙে পড়তে দেয়নি। এনওসিএফপিএস পজিটিভ হওয়ার ব্যাখ্যায় দুটি ফ্যাক্টর সামনে এসেছে: আগের সময়ের বকেয়া রিসিভেবল আদায়, এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট সুবিধার আওতায় কিছু আমদানি দায় কৌশলগতভাবে ডিফার করে তাৎক্ষণিক ক্যাশ অবস্থান উন্নত করা।

ফার কেমিক্যালস লিমিটেড (ফারকেম)

ফার কেমের কিউ২ ফলাফল নেতিবাচক। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস মাইনাস ১.৮৫ টাকা, আগের বছরে যেখানে ছিল ০.১৬ টাকা। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ১.৮০ টাকা, আগের বছরের ০.৩২ টাকার তুলনায় অনেক খারাপ। এনওসিএফপিএস মাইনাস ৫.৫৭ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ১.৮১ টাকার চেয়েও বেশি নেগেটিভ। ন্যাভ ৩০.৭২ টাকা, জুন শেষে ৩২.৫২ টাকা থেকে কম।

এই চিত্র দেখায়, কোম্পানির লাভজনিত সক্ষমতার পাশাপাশি অপারেটিং ক্যাশফ্লোও চাপের মধ্যে রয়েছে, যা স্বল্পমেয়াদে লিকুইডিটি ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা প্রয়োজনীয় করে তোলে।

রান ফাউন্ড্রি লিমিটেড (রানফাউন্ড্রি)

রান ফাউন্ড্রির কিউ২ প্রতিবেদনে আয় স্থিতিশীল ধারায়। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ১.০০ টাকা, আগের বছরের ১.০২ টাকার কাছাকাছি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ২.১৮ টাকা, আগের বছরের ২.১৯ টাকার প্রায় সমান। এনওসিএফপিএস ১.৫৯ টাকা, আগের বছরের ০.১৮ টাকার তুলনায় উন্নত। ন্যাভ ৩৪.৯৭ টাকা, জুন শেষে ৩৫.০৯ টাকা থেকে সামান্য কম।

মুনাফা স্থির থাকলেও ক্যাশফ্লোর এই উন্নতি সাধারণত সংগ্রহ, পেমেন্ট টাইমিং, বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট উন্নত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

এমএল ডাইং লিমিটেড (এমএলডাইং)

এমএল ডাইংয়ের কিউ২ ফলাফলে লোকসান দেখা যাচ্ছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.৪৭ টাকা, আগের বছর ছিল ০.০৭ টাকা। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ০.৪৬ টাকা, আগের বছর ০.১৩ টাকার তুলনায় খারাপ। এনওসিএফপিএস মাইনাস ০.৪১ টাকা, আগের বছর মাইনাস ০.৫৩ টাকার তুলনায় কিছুটা কম নেগেটিভ। ন্যাভ ১২.৭৮ টাকা, জুন শেষে ১৩.৩০ টাকা থেকে কমেছে।

এখানে লাভ-ক্ষতির চাপে ন্যাভ কমেছে, তবে ক্যাশফ্লো তুলনামূলক কম নেগেটিভ হওয়ায় অপারেটিং ক্যাশ ড্রেন কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে, যদিও এটি নিশ্চিত নয়।

এডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই)

এসিআইয়ের কিউ২ অনঅডিটেডে বড় পরিবর্তন হলো নেগেটিভ ইপিএস থেকে পজিটিভে ফেরা। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ০.৩৪ টাকা, যেখানে আগের বছর ছিল মাইনাস ৩.১৭ টাকা। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.৭৩ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ৭.৯৯ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি। এনওসিএফপিএস মাইনাস ৫০.৫০ টাকা থাকলেও আগের বছরের মাইনাস ৬৩.৬০ টাকার তুলনায় কম নেগেটিভ। ন্যাভ ৯০.৭০ টাকা, জুন শেষে ৯১.৬৪ টাকা থেকে সামান্য কম।

কোম্পানি জানিয়েছে, অর্ধবার্ষিকে গ্রুপের রাজস্ব ১৮ শতাংশ বেড়েছে এবং একাধিক অপারেটিং সেগমেন্ট এ গ্রোথে অবদান রেখেছে। গ্রস প্রফিট বৃদ্ধির হার অপারেটিং এক্সপেন্স বৃদ্ধিকে ছাড়িয়েছে, ফলে আয়ের দিকে উন্নতি এসেছে। তবে সুদের হার বৃদ্ধির কারণে এবং ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ও কৌশলগত বিনিয়োগে অতিরিক্ত ফান্ডিং নেওয়ায় বোরোয়িং কস্ট বেড়েছে। ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল মুভমেন্টের কারণে এনওসিএফপিএস নেগেটিভ থাকলেও তুলনামূলকভাবে কিছুটা উন্নত হয়েছে।

কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেড (কনফিডসেম)

কনফিডেন্স সিমেন্টের কিউ২ ফলাফলে উন্নতি দেখা যাচ্ছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ৩.৪২ টাকা, আগের বছরের ২.৬৫ টাকার তুলনায় বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ৭.৩৮ টাকা, আগের বছরের ৬.৬২ টাকার উপরে। এনওসিএফপিএস ২.২৪ টাকা, আগের বছরের ১.২২ টাকার তুলনায় উন্নত। ন্যাভ ৯৬.০৮ টাকা, জুন শেষে ৮৮.৬৮ টাকা থেকে বেড়েছে।

কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অ্যাসোসিয়েট কোম্পানির পারফরম্যান্সের ইতিবাচক প্রভাব ইপিএস বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিক্রয় কালেকশন অপারেশনাল কস্টকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় এনওসিএফপিএসও বেড়েছে। একইসঙ্গে অ্যাসোসিয়েটের প্রফিট যোগ হওয়ায় ন্যাভ শক্ত হয়েছে।

কেডিএস অ্যালায়েড লিমিটেড (কেডিএসএলটিডি)

কেডিএস অ্যালায়েডের কিউ২ অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.৪৫ টাকা, আগের বছরের ০.৪৯ টাকার চেয়ে সামান্য কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ১.০০ টাকা, আগের বছরের ১.০৫ টাকার নিচে। এনওসিএফপিএস ০.২৫ টাকা, আগের বছরের ২.৩২ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ প্রায় অপরিবর্তিত: ২৭.৭০ টাকা, জুন শেষে ২৭.৭১ টাকা।

এখানে আয় সামান্য কমার পাশাপাশি অপারেটিং ক্যাশফ্লোও দুর্বল, যা কালেকশন, ইনভেন্টরি বা পেমেন্ট সাইকেলে চাপের ইঙ্গিত দিতে পারে।

সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (সিলভাফল)

সিলভার কিউ২ অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.২৬ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.১৯ টাকার তুলনায় বেশি লোকসান। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ০.৫২ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৪৩ টাকার চেয়ে খারাপ। এনওসিএফপিএস ০.০৭ টাকা, আগের বছরের ০.১১ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ১৪.৯৬ টাকা, জুন শেষে ১৫.৪৮ টাকা থেকে কমেছে।

কোম্পানি বলেছে, বিক্রয় ভলিউম কমে যাওয়ায় ইপিএস কমেছে। একইসঙ্গে রিসিভেবল কালেকশন ও বিক্রয় কম থাকায় এনওসিএফপিএসও দুর্বল। লোকসানের কারণে ন্যাভও নিচে নেমেছে।

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (কপারটেক)

কপারটেকের কিউ২ অনঅডিটেডে অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.১০ টাকা, আগের বছরের ০.২১ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.১৫ টাকা, আগের বছরের ০.২৩ টাকার নিচে। এনওসিএফপিএস ১.৬৬ টাকা, আগের বছরের ১.২৩ টাকার তুলনায় বেশি। ন্যাভ ১৪.৪৬ টাকা, জুন শেষে ১৪.৩২ টাকা থেকে কিছুটা বেড়েছে।

এখানে লাভ কমলেও ক্যাশফ্লো বেড়েছে, যা অপারেশনাল কালেকশন বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দক্ষতা উন্নতির ইঙ্গিত হতে পারে।

আফতাব অটো লিমিটেড (আফতাবঅটো)

আফতাব অটোর কিউ২ ফলাফলে লোকসান চলমান। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস মাইনাস ০.২৬ টাকা, আগের বছর ছিল মাইনাস ০.২৫ টাকা। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ০.৮১ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৬৯ টাকার চেয়ে বেশি লোকসান। এনওসিএফপিএস ০.৮০ টাকা, আগের বছরের ১.৫৮ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ৪৬.০৬ টাকা, জুন শেষে ৪৭.৫৭ টাকা থেকে কমেছে।

এখানে আয় চাপের সাথে ক্যাশফ্লো দুর্বল হওয়ায় অপারেটিং অবস্থানও চ্যালেঞ্জড বলেই প্রতীয়মান।

কহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড (কহিনুর)

কহিনুরের কিউ২ রিপোর্টে ইতিবাচক ছবি। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ৪.০০ টাকা, আগের বছরের ৩.১৮ টাকার তুলনায় বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ৮.১০ টাকা, আগের বছরের ৬.২৫ টাকার চেয়ে উন্নত। এনওসিএফপিএস ১১.২৮ টাকা, যদিও আগের বছরের ১৪.৩৫ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ৬০.৮৬ টাকা, জুন শেষে ৫৯.২৪ টাকা থেকে বেড়েছে।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, এনওসিএফপিএস কমার একটি মূল কারণ হলো আগের বছরের তুলনায় ইনভেন্টরি বৃদ্ধি। অর্থাৎ স্টক বাড়লে ক্যাশ আটকে যায়, ফলে ক্যাশফ্লো কমে যেতে পারে, যদিও মুনাফা বেড়েছে।

ফার্মা এইড লিমিটেড (ফার্মাআইড)

ফার্মা এইডের কিউ২ এ আয়ের শক্তিশালী উন্নতি। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ৭.২৮ টাকা, আগের বছরের ৫.৬৬ টাকার তুলনায় বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ১৪.০৯ টাকা, আগের বছরের ১১.৩২ টাকার উপরে। এনওসিএফপিএস ১০.১১ টাকা, আগের বছরের ৪.৯৩ টাকার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ন্যাভ ১৪৯.৫৪ টাকা, জুন শেষে ১৩৮.৫৮ টাকা থেকে বেড়েছে।

কোম্পানি ব্যাখ্যা দিয়েছে, উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের কারণে বিক্রয় বেড়েছে, ফলে ইপিএস উন্নত হয়েছে। কালেকশন বৃদ্ধি পাওয়ায় এনওসিএফপিএসও শক্ত হয়েছে, আর রিটেইন্ড আর্নিংস বাড়ায় ন্যাভ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মননো ফেব্রিকস লিমিটেড (মননোফ্যাবর)

মননো ফেব্রিকসের কিউ২ এ আয় কম। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.০১ টাকা, আগের বছরের ০.০৪ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.০৪ টাকা, আগের বছরের ০.০৭ টাকার নিচে। তবে এনওসিএফপিএস ০.৬৫ টাকা, আগের বছরের ০.০৩ টাকার তুলনায় বেশি। ন্যাভ ২৫.৪১ টাকা, জুন শেষে ২৫.৩৯ টাকা থেকে সামান্য বেড়েছে।

কোম্পানির মতে, ফাইন্যান্স কস্ট বৃদ্ধিতে ইপিএস কমেছে। ক্যাশফ্লো বাড়ার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ বিল কমায় অপারেটিং ক্যাশে সুবিধা হয়েছে। ন্যাভ সামান্য বেড়েছে মূলত কারেন্ট অ্যাসেট বাড়ার কারণে।

বাংলাদেশ থাই ফুড অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস লিমিটেড (বিডিথাইফুড)

বিডিথাইফুডের কিউ২ চিত্র নেতিবাচক। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.০৬ টাকা, আগের বছর ছিল ০.০৪ টাকা (রিস্টেটেড)। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ০.৫৫ টাকা, আগের বছর ছিল ০.০৬ টাকা (রিস্টেটেড)। অ্যাডজাস্টেড এনওসিএফপিএস ০.১৭ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.২৮ টাকার তুলনায় ভালো। অ্যাডজাস্টেড ন্যাভ ১১.৮৬ টাকা, জুন শেষে ১২.৪১ টাকা থেকে কমেছে।

কোম্পানি জানিয়েছে, উৎপাদন ও বিক্রয় কমে যাওয়ায় নেট প্রফিট ও ইপিএস কমেছে। পাশাপাশি ব্যয়জনিত দায় বৃদ্ধি পাওয়ায় ন্যাভে চাপ তৈরি হয়েছে।

বাটা সু (বাংলাদেশ) লিমিটেড (বিডিথাই)

বিডিথাইয়ের কিউ২ এ লোকসান বাড়ছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.৭৯ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৬২ টাকার তুলনায় বেশি নেগেটিভ। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ১.৪৯ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৯০ টাকার চেয়ে খারাপ। এনওসিএফপিএস মাইনাস ০.৭৭ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৬৬ টাকার তুলনায় কমেছে। ন্যাভ ২৭.১৯ টাকা, জুন শেষে ২৮.৬০ টাকা থেকে কম।

এখানে আয়ের চাপের পাশাপাশি ক্যাশফ্লোও নেগেটিভ থাকায় অপারেশনাল টার্নঅ্যারাউন্ডের প্রয়োজনীয়তা বোঝা যায়।

সাইফকো স্পিনিং মিলস লিমিটেড (সাফকোস্পিনন)

সাফকো স্পিনিংয়ের কিউ২ এ লোকসান থাকলেও কিছু উন্নতির ইঙ্গিত আছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.৩১ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৫৩ টাকার তুলনায় কম নেগেটিভ। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ২.০৭ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ৫.৩০ টাকার তুলনায় উন্নত। তবে এনওসিএফপিএস মাইনাস ০.৪২ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.০৫ টাকার তুলনায় বেশি নেগেটিভ। ন্যাভ মাইনাস ৫.৩২ টাকা, জুন শেষে মাইনাস ৪.৫০ টাকা থেকে আরও কমেছে।

এখানে আয়ের ক্ষতি কিছুটা কমলেও ক্যাশফ্লো ও ন্যাভ নেগেটিভ থাকায় আর্থিক ঝুঁকির মাত্রা উচ্চ বলেই ধরা যায়।

সাইহাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড (সাইহামটেক্স)

সাইহাম টেক্সের কিউ২ এ আয় কমেছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.১১ টাকা, আগের বছরের ০.১৩ টাকার নিচে। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.২৮ টাকা, আগের বছরের ০.৩৪ টাকার তুলনায় কম। এনওসিএফপিএস মাইনাস ৭.৩৬ টাকা, আগের বছর ছিল পজিটিভ ৬.৯৬ টাকা, অর্থাৎ বড় রিভার্সাল। ন্যাভ ৪৩.৫০ টাকা, জুন শেষে ৪৩.৭৭ টাকা থেকে সামান্য কম।

কোম্পানি বলেছে, কস্ট অব গুডস সোল্ড তুলনামূলকভাবে বেশি বেড়েছে বলে নেট প্রফিট কমেছে। এনওসিএফপিএস কমার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কালেকশন কমে যাওয়া, এবং উৎপাদন ব্যয় ও ওভারহেড পেমেন্ট বেড়ে যাওয়া।

আইটিসি লিমিটেড (আইটিসি)

আইটিসির কিউ২ অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.৮৬ টাকা, আগের বছরের ১.১১ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ১.৭৮ টাকা, আগের বছরের ১.৯৩ টাকার নিচে। এনওসিএফপিএস ২.২৮ টাকা, আগের বছরের ৩.১৪ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ২৩.৮৩ টাকা, জুন শেষে ২৩.২৫ টাকা থেকে কিছুটা বেড়েছে।

এখানে মুনাফা ও ক্যাশফ্লো কিছুটা নরম হলেও ন্যাভ সামান্য বেড়েছে, যা ব্যালান্স শিটে সীমিত ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (সিলকোফল)

সিলকোর কিউ২ এ স্থিতিশীলতার আভাস। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.১১ টাকা, আগের বছরের ০.১০ টাকার তুলনায় সামান্য বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.২৭ টাকা, আগের বছরের ০.২৭ টাকার সমান। এনওসিএফপিএস ০.৫১ টাকা, আগের বছরের ০.৬২ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ২৩.২৯ টাকা, জুন শেষে ২৩.০২ টাকা থেকে বেড়েছে।

মননো স্পুলিং মিলস লিমিটেড (মনোস্পুল)

মনোস্পুলের কিউ২ এ ইপিএস সামান্য বেড়েছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.৭৪ টাকা, আগের বছরের ০.৭২ টাকার তুলনায় বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ১.৯৩ টাকা, আগের বছরের ১.৮৬ টাকার উপরে। এনওসিএফপিএস ২.২৪ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ১.৮৮ টাকা থেকে বড় উন্নতি। ন্যাভ ৪৬.৯৯ টাকা, জুন শেষে ৪৫.০৫ টাকা থেকে বেড়েছে।

কোম্পানি ব্যাখ্যা দিয়েছে, চলতি সময়ে কারেন্ট লাইবিলিটি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সাপ্লায়ার ও ব্যাংক বা এনবিএফআই থেকে ডিফার্ড পেমেন্ট বা ক্রেডিট সুবিধা থাকায় অপারেটিং ক্যাশফ্লো ভালো দেখাচ্ছে। অর্থাৎ ক্যাশফ্লো উন্নতি আংশিকভাবে পেমেন্ট ডিফারালের ফলও হতে পারে।

নাভানা সিএনজি লিমিটেড (নাভানাএসএনজি)

নাভানা সিএনজির কিউ২ অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ০.০১ টাকা, আগের বছরের ০.০৪ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.০২ টাকা, আগের বছরের ০.০৬ টাকার নিচে। এনওসিএফপিএস ১.৮৫ টাকা, আগের বছরের ০.০৩ টাকার তুলনায় বেশি। ন্যাভ ৩০.২৪ টাকা, জুন শেষে ৩০.৭৯ টাকা থেকে কমেছে।

রহিমা ফুড করপোরেশন লিমিটেড (রহিমাফুড)

রহিমা ফুডের কিউ২ এ লোকসান বেড়েছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.০৭ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.০৫ টাকার তুলনায় খারাপ। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ০.১৪ টাকা, আগের বছরের ০.১৬ টাকার তুলনায় নেগেটিভ। এনওসিএফপিএস ০.২৪ টাকা, আগের বছরের ১.১২ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ৯.২৯ টাকা, জুন শেষে ৯.৪৩ টাকা থেকে সামান্য কম।

এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসি (এমজেএলবিডি)

এমজেএলবিডির কিউ২ ফলাফলে আয়ের নিম্নগতি। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ০.৮০ টাকা, আগের বছরের ৩.২৩ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ৩.৮৬ টাকা, আগের বছরের ৬.৬৬ টাকার নিচে। তবে এনওসিএফপিএস ৬.৪৪ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ৩.০২ টাকা থেকে বড় টার্নঅ্যারাউন্ড। ন্যাভ ৫২.৭২ টাকা, জুন শেষে ৫৪.০৬ টাকা থেকে কমেছে।

এখানে লাভ কমলেও ক্যাশফ্লোতে বড় ঘুরে দাঁড়ানো রয়েছে, যা রিসিভেবল আদায় বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল রিলিজের ফল হতে পারে।

অরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (অরিয়নফার্ম)

অরিয়ন ফার্মার কিউ২ এ লোকসান রয়েছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস মাইনাস ০.৫৬ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৪৪ টাকার তুলনায় খারাপ। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ০.৮৬ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.২০ টাকার তুলনায় বেশি নেগেটিভ। এনওসিএফপিএস ২.৬১ টাকা, আগের বছরের ৪.২৬ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ রিভ্যালুয়েশনসহ ৮৫.৭৪ টাকা, জুন শেষে ৮৬.০৯ টাকা থেকে সামান্য কম। কোম্পানি আলাদা করে জানিয়েছে, রিভ্যালুয়েশন সারপ্লাস বাদ দিলে ন্যাভ ৭৮.০০ টাকা, জুন শেষে ৭৮.৩৪ টাকা ছিল।

সাইহাম কটন মিলস লিমিটেড (সাইহামকট)

সাইহাম কটনের কিউ২ এ মুনাফা কমেছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.২০ টাকা, আগের বছরের ০.৩১ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.৪৮ টাকা, আগের বছরের ০.৫৮ টাকার নিচে। এনওসিএফপিএস ১.২২ টাকা, আগের বছরের ০.৮৬ টাকার তুলনায় বেশি। ন্যাভ ৩৮.০৮ টাকা, জুন শেষে ৩৮.২৬ টাকা থেকে সামান্য কম।

জিবিবি পাওয়ার লিমিটেড (জিবিবিপাওয়ার)

জিবিবি পাওয়ারের কিউ২ এ ইপিএস সামান্য বেড়েছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.০৪ টাকা, আগের বছরের ০.০২ টাকার তুলনায় বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.০৭ টাকা, আগের বছরের ০.০৬ টাকার তুলনায় সামান্য বেশি। তবে এনওসিএফপিএস ০.০১ টাকা, আগের বছরের ০.০৯ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ২০.৩৮ টাকা, জুন শেষে ২০.২৭ টাকা থেকে সামান্য বেড়েছে।

অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (অলটেক্স)

অলটেক্সের কিউ২ এ ইপিএস পজিটিভ হলেও ছোট। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.০৩ টাকা, আগের বছরে ছিল মাইনাস ০.০৫ টাকা। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.০৪ টাকা, আগের বছরে ছিল মাইনাস ০.০৬ টাকা। এনওসিএফপিএস মাইনাস ০.০৫ টাকা, আগের বছরের ০.৩১ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ২৬.৬৪ টাকা, এবং কোম্পানি জানিয়েছে, আগের বছরের ডিসেম্বর শেষে ন্যাভ ছিল ১৯.৮৬ টাকা, অর্থাৎ বার্ষিক ভিত্তিতে বড় উন্নতি।

অতিরিক্ত ব্যাখ্যায় কোম্পানি বলেছে, টার্নওভার বাড়ানো ও সিওজিএস অনুপাত কমানোর চেষ্টা ফল দিয়েছে, তবে সাপ্লায়ার, এমপ্লয়ি ও অন্যান্য পেমেন্ট এবং ফাইন্যান্স এক্সপেন্স বাড়ায় এনওসিএফপিএস কমেছে। ন্যাভ বেড়েছে রিপোর্টিং প্রফিটের পাশাপাশি আগের বছরের ঋণ সুদ অতিরিক্ত প্রভিশন সমন্বয়ের কারণে।

স্টাইলক্র্যাফট লিমিটেড (স্টাইলক্র্যাফট)

স্টাইলক্র্যাফটের কিউ২ এ ইপিএস খুবই কম। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.০০৯ টাকা, আগের বছরের ০.০৪ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.০১৯ টাকা, আগের বছরের ০.০৭ টাকার নিচে। তবে এনওসিএফপিএস ২.৩৯ টাকা, আগের বছরের ০.৮৩ টাকার তুলনায় বেশি। ন্যাভ ৪.৬৪ টাকা, জুন শেষে ৪.৬২ টাকা থেকে সামান্য বেড়েছে।

কোম্পানি জানিয়েছে, এনওসিএফপিএস নেগেটিভ হওয়া প্রসঙ্গে তাদের ব্যাখ্যা হলো, কালেকশনের তুলনায় পেমেন্ট বেশি, এবং সেই ঘাটতি ব্যাংক ঋণ দিয়ে মেটানো হয়। (এখানে আপনার ডেটাসেটে “নেগেটিভ” ব্যাখ্যা অংশ ছিল, কিন্তু ঘোষিত এনওসিএফপিএস সংখ্যাটি পজিটিভ, তাই বিনিয়োগকারী হিসেবে এই জায়গাটি অফিসিয়াল নোট থেকে মিলিয়ে দেখা জরুরি।)

এসিএমই ল্যাবরেটরিজ পিএলসি (এসিএমইপিএল)

এসিএমইপিএলের কিউ২ এ লোকসান অব্যাহত। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.১৬ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.১৮ টাকার তুলনায় সামান্য কম নেগেটিভ। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ০.২৬ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৩০ টাকার চেয়ে কম নেগেটিভ। এনওসিএফপিএস ০.০২ টাকা, আগের বছরের ০.০১ টাকার তুলনায় সামান্য বেশি। ন্যাভ ১৬.১৫ টাকা, জুন শেষে ১৬.৪১ টাকা থেকে কমেছে।

রেনাটা পিএলসি (রেনাটা)

রেনাটার কিউ২ ফলাফল শক্তিশালী। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ৭.১১ টাকা, আগের বছরের ৫.৬৪ টাকার তুলনায় বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ১৩.৫৮ টাকা, আগের বছরের ১০.৮৩ টাকার উপরে। এনওসিএফপিএস ১২.৮৭ টাকা, আগের বছরের ৩.৬০ টাকার তুলনায় বড় উন্নতি। ন্যাভ ৩১৩.৪৮ টাকা, জুন শেষে ৩০৫.৪৯ টাকা থেকে বেড়েছে।

কোম্পানি বলেছে, অপারেটিং প্রফিট গ্রোথ এবং ক্যাপিটাল রিস্ট্রাকচারিং উদ্যোগের ফলে নেট ফাইন্যান্স কস্ট কমায় ইপিএস বেড়েছে, যদিও ট্যাক্স এক্সপেন্স বৃদ্ধি কিছুটা অফসেট করেছে। এনওসিএফপিএস উন্নতির পেছনে অপারেটিং প্রফিট বৃদ্ধির পাশাপাশি ইনভেন্টরি ও রিসিভেবল ব্যবস্থাপনায় উন্নতি, এবং ডিপ্রিসিয়েশন ও অ্যামর্টাইজেশনজনিত নন ক্যাশ অ্যাডজাস্টমেন্টকে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি (স্কয়ারফার্মা)

স্কয়ার ফার্মার কিউ২ এ ধারাবাহিক উন্নতি। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ৮.২০ টাকা, আগের বছরের ৭.৪৫ টাকার তুলনায় বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ১৬.৫৬ টাকা, আগের বছরের ১৪.৩২ টাকার উপরে। এনওসিএফপিএস ১৩.১৬ টাকা, আগের বছরের ৮.২৮ টাকার তুলনায় উন্নত। ন্যাভ ১৬২.৪১ টাকা, জুন শেষে ১৫৭.৮৮ টাকা থেকে বেড়েছে।

কোম্পানির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আগের বছরে সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় রেভিনিউ গ্রোথ কিছুটা থেমে ছিল। চলতি বছরে সেই ধাক্কা কাটিয়ে ব্যবসা শুধু রিকভারি করেনি, বরং রেভিনিউ পারফরম্যান্সে শক্ত আপমোমেন্টাম তৈরি হয়েছে। ফলে ইপিএস ও এনওসিএফপিএস উভয়ই স্বাস্থ্যকরভাবে বেড়েছে।

-রাফসান


১৭ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১৫:২২:৪৮
১৭ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে Dhaka Stock Exchange PLC-এ লেনদেন শেষে দেখা গেছে, বাজারে দরপতনের প্রাধান্য ছিল স্পষ্ট। দিনশেষে মোট ৩৯৬টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৩১টির দর বেড়েছে, ২৩৮টির কমেছে এবং ২৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

এ ক্যাটাগরিতে ২০৮টি শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ৫৯টির দর বেড়েছে, বিপরীতে ১৩৭টির দর কমেছে এবং ১২টি অপরিবর্তিত ছিল। বি ক্যাটাগরিতে ৮০টি শেয়ারের মধ্যে ২৮টি বেড়েছে ও ৪২টি কমেছে। জেড ক্যাটাগরিতে ১০৮টি শেয়ারের মধ্যে ৪৪টি ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও ৫৯টি নিম্নমুখী হয়েছে।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে মোট ৩৪টি সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ৪টি বেড়েছে এবং ২৭টির দর কমেছে। কর্পোরেট বন্ডে ৪টির মধ্যে ৩টির দর কমেছে। সরকারি সিকিউরিটিজে ৬টির মধ্যে ২টি বেড়েছে ও ৪টি কমেছে।

লেনদেন ও বাজার মূলধন

দিনভর মোট ২ লাখ ৮৪ হাজার ৬২৮টি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭ কোটি ৩ লাখ ৪০ হাজার ৯৮টি শেয়ার, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১,২২২ কোটি ৩০ লাখ টাকারও বেশি।

বাজার মূলধনের হিসাবে ইকুইটি খাতে মোট মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে ২৫ হাজার কোটির বেশি এবং ঋণপত্র খাতে প্রায় ৩৫ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার ওপরে।

ব্লক মার্কেটে সক্রিয় লেনদেন

ব্লক ট্রানজ্যাকশনে ৪০টি কোম্পানির মোট ৭৬টি লেনদেন হয়েছে। প্রায় ৬১ লাখ শেয়ারের বিপরীতে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭৭ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি। ব্লক মার্কেটে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফাইন ফুডস ও পদ্মা অয়েলের মতো শেয়ারে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণ

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আজকের লেনদেনে বিক্রির চাপ তুলনামূলক বেশি ছিল, বিশেষ করে এ ক্যাটাগরি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে। স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়া এবং কিছু শেয়ারে সংশোধনী ধারা বাজারে দরপতন বাড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, এই সারাংশে দরবৃদ্ধি ও দরপতনের হিসাব ক্লোজিং প্রাইসের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শেষ ৩০ মিনিটের লেনদেনের গড় দরের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত সর্বশেষ লেনদেনমূল্যের সঙ্গে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।

-রাফসান


ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ দরপতনকারী শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১৫:১০:১৫
ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ দরপতনকারী শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শেষে সমাপনী মূল্য ও আগের দিনের সমাপনী দরের তুলনায় শীর্ষ ১০ দরপতনকারী শেয়ারের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। দিনভর লিজিং ও আর্থিক খাতের বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। শেয়ারটির দর ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ৪ টাকা ৯০ পয়সায় নেমে এসেছে, যেখানে আগের দিনের সমাপনী মূল্য ছিল ৫ টাকা ৪০ পয়সা।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ পতন নিয়ে ৪ টাকায় লেনদেন শেষ করেছে। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মিডাস ফাইন্যান্স লিমিটেড, যার শেয়ার ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ কমে ৬ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

এ ছাড়া হাউজিং ফাইন্যান্স লিমিটেড ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। টেক্সটাইল খাতের জাহিন স্পিনিং লিমিটেড ৭ দশমিক ২৭ শতাংশ দরপতন নিয়ে তালিকায় জায়গা করেছে।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড উভয়টির দর ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ পতন হয়েছে।

তালিকার দশম স্থানে রয়েছে গ্রিন ডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড, যার শেয়ারমূল্য ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ কমে ৩ টাকা ৩০ পয়সায় নেমে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আজকের লেনদেনে আর্থিক ও লিজিং খাতে বিক্রির চাপ তুলনামূলক বেশি ছিল। বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ায় দরপতনের প্রবণতা দেখা গেছে। তারা মনে করছেন, বাজার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনায় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

-রাফসান


ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ গেইনার কারা

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১৫:০৬:৩৪
ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ গেইনার কারা
ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে লেনদেন শেষে সমাপনী মূল্য ও আগের দিনের সমাপনী দরের ভিত্তিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। দিনশেষে ব্যাংকিং, টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যাল ও বীমা খাতের একাধিক শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি দেখা গেছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে এবি ব্যাংক লিমিটেড। শেয়ারটির সমাপনী মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৯০ পয়সা, যা আগের দিনের ৬ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কে অ্যান্ড কিউ (বাংলাদেশ) লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার ৫৩০ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন শেষ করেছে, যা আগের ৪৯২ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা এসিআই লিমিটেড ২২৫ টাকায় দিন শেষ করেছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। একই সঙ্গে এসিআই ফর্মুলেশন্স লিমিটেড ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে তালিকায় স্থান পেয়েছে।

চতুর্থ স্থানে রয়েছে সোনারগাঁও টেক্সটাইলস লিমিটেড, যার শেয়ার ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে ৩৫ টাকা ৬০ পয়সায় বন্ধ হয়েছে। পঞ্চম অবস্থানে থাকা প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড ৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে ৬ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন শেষ করেছে।

এ ছাড়া আনোয়ার গ্যালভানাইজিং লিমিটেড ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়ে ১০১ টাকা ৪০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি সেকেন্ড এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বীমা খাতে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং ওষুধ খাতে সালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আজকের লেনদেনে বহুমুখী খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ব্যাংক ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে ক্রয়চাপ বৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। তারা মনে করছেন, স্বল্পমেয়াদি মুনাফার পাশাপাশি কোম্পানির মৌলভিত্তি ও আর্থিক সূচক বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

-রাফসান


১৬ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৫:১৩:০২
১৬ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ লেনদেন শেষে দেখা গেছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ অধিকাংশ শেয়ারের দর কমেছে। মোট ৩৯৭টি ইস্যুর মধ্যে ২১৮টির দর হ্রাস পায়, বিপরীতে ১৫৩টি বাড়ে এবং ২৬টি অপরিবর্তিত থাকে। আগের দিনের শক্তিশালী উত্থানের পর বাজারে স্বাভাবিক সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

এ ক্যাটাগরিতে ২০৮টির মধ্যে ১১১টির দর কমেছে, যা বড় মূলধনী শেয়ারে বিক্রির চাপ নির্দেশ করে। বি ক্যাটাগরিতে ৮০টির মধ্যে ৪৮টি পতন হয়েছে। জেড ক্যাটাগরিতেও ১০৮টির মধ্যে ৫৯টি কমেছে। কেবল এন ক্যাটাগরিতে একমাত্র লেনদেন হওয়া শেয়ারটির দর বেড়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩৪টির মধ্যে ১২টির দর কমে এবং ১৩টি বাড়ে, যা খাতে মিশ্র প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। করপোরেট বন্ডে ৬টির মধ্যে ৩টি বেড়েছে, তবে সরকারি সিকিউরিটিজে ৪টির সবকটিই দরপতনের মুখে পড়ে।

দিনভর মোট ২ লাখ ৮৯ হাজার ৪৬৩টি লেনদেন সম্পন্ন হয়। শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৮ কোটি ৯১ লাখ ইউনিট এবং মোট টাকার অঙ্ক দাঁড়ায় ১ হাজার ২৫৭ কোটি টাকার বেশি।

বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ। এর মধ্যে ইক্যুইটি খাতের অংশ ৩ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকার বেশি। আগের দিনের তুলনায় বাজার মূলধনে কিছুটা হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে।

ব্লক মার্কেটে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে। বিশেষ করে গ্রামীণফোন–এ ১৪৭ কোটি টাকার বেশি ব্লক লেনদেন বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে।

এছাড়া ফাইন ফুডস, মারিকো বাংলাদেশ, পদ্মা অয়েল কোম্পানি, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স–সহ কয়েকটি কোম্পানিতে বড় অঙ্কের ব্লক লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। মোট ২৬টি স্ক্রিপে ৩২২ কোটির বেশি টাকার ব্লক ট্রেড হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের দিনের উল্লম্ফনের পর বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নেওয়ায় দরপতন হয়েছে। একে স্বাভাবিক ‘প্রফিট টেকিং’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ভর করবে নতুন সরকারের অর্থনৈতিক নীতিমালা, সুদহার ব্যবস্থাপনা, ডলারবাজারের স্থিতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে টেকসই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে করপোরেট আয়ের উন্নতি, সুশাসন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর তদারকি অপরিহার্য।

-রাফসান


১৬ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৫:০১:১৩
১৬ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দুপুর ২টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এর শীর্ষ ১০ গেইনার তালিকায় ব্যাংক, বিমা ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের শেয়ারগুলো প্রাধান্য পেয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সংস্কার এবং ব্যাংকিং খাতে নীতিগত পরিবর্তনের প্রত্যাশা বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি। আগের দিনের ৫.২ টাকা থেকে বেড়ে শেয়ারটি ৫.৭ টাকায় পৌঁছেছে, যা ৯.৬১ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। দিনভর সর্বোচ্চ ও সমাপনী দর একই থাকায় বোঝা যাচ্ছে শক্তিশালী ক্রয়চাপ ছিল।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এবি ব্যাংক পিএলসি ৮.৬২ শতাংশ বেড়ে ৬.৩ টাকায় লেনদেন হয়েছে। একই হারে উত্থান ঘটেছে আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড–এর ইউনিটদরে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নিম্নমূল্যের ব্যাংক ও ফান্ড ইউনিটে দ্রুত মুনাফার প্রত্যাশায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হয়েছেন।

শিল্পখাতে সোনালি পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস ৭.৫২ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। আর্থিক খাতের বাইরে থেকেও এই শেয়ারটির উল্লেখযোগ্য লেনদেন বাজারে বৈচিত্র্য এনেছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৬.৬৬ থেকে ৭.৪ শতাংশ পর্যন্ত দর বৃদ্ধি অর্জন করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারে তারল্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিতেই এই ফান্ড ইউনিটগুলোর চাহিদা বাড়ছে।

বিমা খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড প্রায় ৭.১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আর্থিক খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন।

বাজার বিশ্লেষণ

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচনের পর বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষাকৃত কম দামের ব্যাংক ও ফান্ড শেয়ারে পজিশন নিচ্ছেন। তারা মনে করছেন, সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা এলে ব্যাংকিং খাত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো লাভজনক অবস্থানে ফিরতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য করপোরেট আয়ের উন্নতি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্রিয় তদারকি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

-রাফসান


১৬ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৪:৫৪:৫০
১৬ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দুপুর ২টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন চিত্রে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ শীর্ষ ১০ গেইনার তালিকায় ব্যাংক ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে। নির্বাচনের পর ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতার মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের ক্রয়চাপ এই শেয়ারগুলোর দর বাড়িয়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি। আগের দিনের সমাপনী দর ৫.২ টাকা থেকে বেড়ে ৫.৭ টাকায় উঠে ৯.৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এবি ব্যাংক পিএলসি ৮.৬২ শতাংশ বেড়ে ৬.৩ টাকায় লেনদেন হয়েছে।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, যা ৮.৬২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্পখাতের সোনালি পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস প্রায় ৭.৫২ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে আরও রয়েছে ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, যেগুলো ৬.৬৬ থেকে ৭.৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিমা খাতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড প্রায় ৭.১৬ শতাংশ দরবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

বাজার বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে সম্ভাব্য নীতিগত পরিবর্তনের প্রত্যাশা এবং তারল্য পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় করেছে। বিশেষ করে নিম্নমূল্যের ব্যাংক শেয়ারগুলোতে দ্রুত ক্রয়চাপ তৈরি হয়েছে।

তবে তারা সতর্ক করেছেন, স্বল্পমেয়াদি উত্থান দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কিনা তা নির্ভর করবে করপোরেট আয়ের অগ্রগতি, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর।

-রাফসান


১৫ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১৫:০৫:৪৩
১৫ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ দেখা গেছে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। দিনশেষে মোট ৩৯৪টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশ নেয়, যার মধ্যে ৩৬৪টির দর বৃদ্ধি পায়, মাত্র ২৬টির দর কমে এবং ৪টি অপরিবর্তিত থাকে। সংখ্যার বিচারে বাজারে স্পষ্টভাবে ক্রেতা প্রাধান্য লক্ষ্য করা গেছে।

ক্যাটাগরি ভিত্তিক চিত্র

এ ক্যাটাগরিতে ২০৭টি কোম্পানির মধ্যে ১৯১টির দর বেড়েছে, ১৪টির কমেছে এবং ২টি অপরিবর্তিত ছিল। বি ক্যাটাগরিতে ৮১টির মধ্যে ৭৭টি বেড়েছে। জেড ক্যাটাগরিতেও ১০৬টির মধ্যে ৯৬টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩৪টির সবকটির দর বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়। করপোরেট বন্ড খাতে ৪টির মধ্যে ৪টিরই দর কমেছে। সরকারি সিকিউরিটিজে ৩টির মধ্যে ১টির দর বেড়েছে এবং ২টির কমেছে।

লেনদেন ও বাজার মূলধন

দিনভর ২ লাখ ৭৭ হাজার ৩৭৮টি লেনদেন সম্পন্ন হয়। মোট শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৬ কোটি ৪২ লাখের বেশি ইউনিটে। আর্থিক মূল্যমান ছিল প্রায় ১,২৭৫ কোটি টাকারও বেশি।

বাজার মূলধন দিনশেষে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকায়। এর মধ্যে ইক্যুইটি সেগমেন্টের অংশ প্রায় ৩ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, মিউচুয়াল ফান্ড প্রায় ২ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা এবং ঋণ সিকিউরিটিজ ৩ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকার বেশি।

ব্লক মার্কেটের চিত্র

ব্লক মার্কেটে ৩৯টি কোম্পানির মোট ৬৪টি লেনদেন সম্পন্ন হয়, যেখানে প্রায় ৩৬ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। লেনদেনের আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ১২০ কোটি টাকা। ব্লক মার্কেটে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, লাভেলো আইসক্রিম, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এনসিসি ব্যাংক ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে।

বাজার বিশ্লেষণ

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা ও নীতিগত ইতিবাচক সংকেত বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক, বিমা ও বড় মূলধনী শেয়ারে ক্রেতার চাপ বেশি ছিল।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, টেকসই ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রাখতে করপোরেট আয় বৃদ্ধি, সুশাসন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর নজরদারি অপরিহার্য।

উল্লেখ্য, এই বাজারসারাংশে দর বৃদ্ধি বা হ্রাস হিসাব করা হয়েছে ক্লোজিং প্রাইসের ভিত্তিতে, যা শেষ ৩০ মিনিটের লেনদেনের ওজনভিত্তিক গড়মূল্যে নির্ধারিত।

-রাফসান


১৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১৫:০২:১৬
১৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দুপুর ২টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন চিত্র অনুযায়ী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও কয়েকটি শেয়ারে দরপতন দেখা গেছে। শীর্ষ ১০ লুজার তালিকায় ব্যাংক, টেক্সটাইল, জুট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার স্থান পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে সামগ্রিক উত্থানের মাঝেও কিছু বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেওয়ায় এ ধরনের সংশোধন ঘটেছে।

সবচেয়ে বেশি দর কমেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি–এর শেয়ারে। আগের দিনের সমাপনী দর ৫২.১ টাকা থেকে কমে ৪৯.৫ টাকায় নেমেছে, যা প্রায় ৪.৯৯ শতাংশ পতন নির্দেশ করে। দিনের সর্বোচ্চ দর ছিল ৫২.৪ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৪৬.৯ টাকা।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জিল বাংলা সুগার মিলস, যার শেয়ার ৩.৯৫ শতাংশ কমে ১৩৮.৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা জুট স্পিনার্স প্রায় ৩.৭৮ শতাংশ দর হারিয়ে ২১১.২ টাকায় লেনদেন হয়েছে।

স্পিনিং খাতের এপেক্স স্পিনিং ৩.৬৫ শতাংশ কমে ২২১.৩ টাকায় নেমেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইসলামিক ফাইন্যান্স প্রায় ৩.৬৩ শতাংশ কমে ১০.৬ টাকায় লেনদেন হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা খাতে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ৩.৪৬ শতাংশ দর হারিয়েছে। ব্যাংক খাতে আরও রয়েছে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, যার শেয়ার ২.৮৪ শতাংশ কমেছে।

চিনি শিল্পের শ্যামপুর সুগার মিলস প্রায় ২.৫৮ শতাংশ পতন দেখিয়েছে। এছাড়া অটোমোবাইল খাতের আফতাব অটো ও জ্বালানি খাতের নাভানা সিএনজি যথাক্রমে ১.৫৮ ও ০.৯২ শতাংশ দর কমিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিক সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও কিছু শেয়ারে স্বল্পমেয়াদি মুনাফা গ্রহণ ও কারিগরি সংশোধনের প্রভাব পড়েছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ভর করবে করপোরেট ফলাফল, তারল্য পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর।

-রাফসান


১৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১৪:৫৫:৩২
১৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দুপুর ২টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন তথ্য অনুযায়ী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচনের পর বাজারে ইতিবাচক মনোভাব ও শক্তিশালী ক্রয়চাপের কারণে একাধিক শেয়ার দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

সবচেয়ে বেশি দরবৃদ্ধি হয়েছে ওয়ান ব্যাংক পিএলসি–এর শেয়ারে। আগের দিনের সমাপনী দর ৮.০ টাকা থেকে বেড়ে ৮.৮ টাকায় উঠে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনের সর্বোচ্চ দরও ছিল ৮.৮ টাকা।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মোন্নো ফ্যাব্রিকস। শেয়ারটির সমাপনী দর দাঁড়িয়েছে ২৪.৫ টাকা, যা আগের ২২.৩ টাকার তুলনায় প্রায় ৯.৮৭ শতাংশ বেশি। তৃতীয় স্থানে থাকা লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স ১৪.২ টাকা থেকে বেড়ে ১৫.৬ টাকায় উঠে প্রায় ৯.৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিমা খাতে এশিয়া ইন্স্যুরেন্স প্রায় ৯.৮৪ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। প্রযুক্তি খাতের ড্যাফোডিল কম্পিউটারস ৯.৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে পঞ্চম অবস্থানে।

ব্যাংক খাতে আরও রয়েছে এনআরবি ব্যাংক এবং ঢাকা ব্যাংক, যারা যথাক্রমে প্রায় ৯.৭২ ও ৯.৬৩ শতাংশ দরবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড ১ প্রায় ৯.৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে তালিকায় স্থান পেয়েছে। এছাড়া ভিএফ স্ট্যান্ডার্ড ও ডিএসএসএল যথাক্রমে ৯.৫৬ ও ৯.৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা, ব্যাংকিং খাতে সম্ভাব্য নীতিগত পরিবর্তন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার পুনরাগমন এই উত্থানের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য করপোরেট আয়ের উন্নয়ন ও বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে তারা মন্তব্য করেছেন।

-রফিক

পাঠকের মতামত: