শেয়ারবাজারে Q2 ঝড়, কার লাভ কার ক্ষতি, কোন খাতে কী বার্তা

এই দফায় বেশ কয়েকটি কোম্পানির EPS কমেছে মূলত কস্ট বৃদ্ধি, সুদের হার, ফাইন্যান্স কস্ট ও বিক্রয়মূল্য চাপ থেকে। একই সঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠানের NOCFPS এ বড় ওঠানামা দেখা গেছে, যা সাধারণত ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল, সরবরাহকারীকে বেশি পেমেন্ট, গ্রাহক থেকে কালেকশন কমা বা রিসিভেবল রিয়ালাইজেশন দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। NAV বেশ কিছু ক্ষেত্রে ডিভিডেন্ড পেমেন্ট, লোকসান, দায় বাড়া বা রিভ্যালুয়েশন এডজাস্টমেন্টের কারণে নড়েছে।
স্কয়ার টেক্সটাইল এসএমই লিমিটেড (স্কয়ারটেক্সট)
স্কয়ার টেক্সটাইলের কিউ২ অনঅডিটেড ঘোষণায় দেখা যাচ্ছে, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে কনসোলিডেটেড ইপিএস নেমে এসেছে ০.১৪ টাকায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১.৯৩ টাকা। আবার জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৫ অর্ধবার্ষিকে কনসোলিডেটেড ইপিএস হয়েছে ১.৮৪ টাকা, যেখানে আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩.৮৩ টাকা। অপারেটিং ক্যাশফ্লোও দুর্বল হয়েছে: কনসোলিডেটেড এনওসিএফপিএস ২.১২ টাকা, আগের বছরের ৬.৫৮ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ প্রতি শেয়ার ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫ এ ৫৪.৫০ টাকা, জুন ৩০, ২০২৫ এ ছিল ৫৫.৮৬ টাকা।
কোম্পানিটি ব্যাখ্যা দিয়েছে, এই সময়ে ইপিএস কমার মূল চাপ এসেছে সুতা দামের উল্লেখযোগ্য পতন থেকে, একইসঙ্গে ফাইন্যান্স কস্ট বেড়েছে। অর্থাৎ বিক্রয়/মার্জিনে আঘাত এবং ঋণের খরচ বৃদ্ধি একসাথে মুনাফা কমিয়েছে।
ড্যাফোডিল কম্পিউটারস পিএলসি (ড্যাফোডিলকম)
ড্যাফোডিল কমের কিউ২ অনঅডিটেড অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ০.০৯ টাকা, আগের বছরের ০.১২ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.২১ টাকা, আগের বছরের ০.২৮ টাকার নিচে। সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয়, কনসোলিডেটেড এনওসিএফপিএস হয়েছে মাইনাস ১.১৩ টাকা, যেখানে আগের বছর একই সময়ে এটি ছিল পজিটিভ ০.৪৫ টাকা। ন্যাভ প্রতি শেয়ার ১৩.১১ টাকা, যা জুন শেষে ১২.৯০ টাকা থেকে কিছুটা বেড়েছে।
অতিরিক্ত ব্যাখ্যায় কোম্পানি জানিয়েছে, এনওসিএফপিএসের বড় বিচ্যুতি হয়েছে সাপ্লায়ারদের পেমেন্ট বেড়ে যাওয়ায়, সুদসহ অন্যান্য অপারেটিং পেমেন্ট বৃদ্ধি পাওয়ায়, এবং কাস্টমারদের কাছ থেকে কালেকশন কমে যাওয়ায়। অর্থাৎ আয় বিবরণীতে লাভ থাকলেও ক্যাশ সংগ্রহ ও খরচের টাইমিংয়ের কারণে ক্যাশফ্লোতে চাপ তৈরি হয়েছে।
সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড (এসএপোর্টল)
এসএপোর্টলের কিউ২ অনঅডিটেড ফলাফলে দেখা যায়, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ০.৩৭ টাকা, আগের বছরের ০.৭৩ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.৯৬ টাকা, আগের বছরের ১.৫২ টাকার নিচে। তবে অপারেটিং ক্যাশফ্লো উন্নত: কনসোলিডেটেড এনওসিএফপিএস ১.৮৮ টাকা, আগের বছরের ১.৫২ টাকার তুলনায় বেশি। ন্যাভ প্রতি শেয়ার ৩৪.৪৭ টাকা, জুন শেষে ৩৫.৬৭ টাকা থেকে কমেছে।
কোম্পানিটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভলিউম হ্যান্ডলিং বাড়ায় রেভিনিউ স্ট্রিম শক্ত হয়েছে, ফলে এনওসিএফপিএস বেড়েছে। পাশাপাশি কনটেইনার ট্রান্সপোর্টেশন সার্ভিসেস লিমিটেডের ক্লায়েন্ট কালেকশনও কনসোলিডেটেড ক্যাশফ্লোকে সাপোর্ট দিয়েছে। তবে আইএফআরএস ১০ অনুযায়ী গ্রুপ অ্যাকাউন্টিং প্রভাব, সাবসিডিয়ারি পর্যায়ে কম নেট প্রফিট, ফ্রেইট রেট কমা, এবং সাবসিডিয়ারি থেকে ডিভিডেন্ড ইনকাম বাদ পড়ার কারণে সামগ্রিকভাবে ইপিএস কমেছে। এছাড়া এসএপোর্টল ও সাবসিডিয়ারি উভয়ের ক্যাশ ডিভিডেন্ড পরিশোধের প্রভাবে ন্যাভেও নিম্নগতি এসেছে।
এনভয় টেক্সটাইল লিমিটেড (এনভয়টেক্স)
এনভয় টেক্সের কিউ২ রিপোর্ট অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ২.০৯ টাকা, আগের বছরের ২.০৭ টাকার তুলনায় সামান্য বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৪.৩৫ টাকা, আগের বছরের ৩.৫৮ টাকার তুলনায় উন্নত। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে অপারেটিং ক্যাশফ্লোতে: এনওসিএফপিএস ৮.৪৪ টাকা, যেখানে আগের বছর ছিল মাত্র ০.৮৬ টাকা। ন্যাভ প্রতি শেয়ার ৫৯.৬৭ টাকা, জুন শেষে ৫৮.৩২ টাকা থেকে বেড়েছে।
এই সংখ্যাগুলো ইঙ্গিত দেয়, কোম্পানিটি শুধু আয়ের দিকেই নয়, নগদ সংগ্রহ ও অপারেশনাল ক্যাশ জেনারেশনের দিকেও উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী অবস্থানে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য সাধারণত ইতিবাচক সিগন্যাল হিসেবে ধরা হয়।
জিএইচসিএল লিমিটেড (জিএইচসিএল)
জিএইচসিএলের কিউ২ ফলাফলে লোকসান চিত্র স্পষ্ট। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.৯০ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.০১ টাকার তুলনায় অনেক খারাপ। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ১.৪২ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ১.১১ টাকার তুলনায় আরও নেগেটিভ। এনওসিএফপিএস মাইনাস ০.৬৬ টাকা, আগের বছর ছিল ০.১০ টাকা। ন্যাভ ৭০.৪৭ টাকা, জুন শেষে ৭১.৮৯ টাকা থেকে কমেছে।
কোম্পানির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কাঁচামালের দাম, ইউটিলিটি ও উৎপাদন ওভারহেড, এবং স্বল্পমেয়াদি ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ নির্ভরতা বাড়ায় ফাইন্যান্স কস্ট বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে মার্জিনে চাপ তৈরি হয়েছে। এনওসিএফপিএস কমার পেছনে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ট্রেড রিসিভেবল বৃদ্ধি, ক্রেডিট টার্ম দীর্ঘ হওয়া, এবং উৎপাদন ধারাবাহিক রাখতে ইনভেন্টরি জমা। ন্যাভ কমার ব্যাখ্যায় কম লাভজনিত রিটেইন্ড আর্নিংস গ্রোথ কমে যাওয়া, স্বল্পমেয়াদি দায় বৃদ্ধি, এবং নিয়মিত ডিপ্রিসিয়েশনকে দায়ী করা হয়েছে।
শাশা ডেনিম পিএলসি (শাশাডেনিম)
শাশা ডেনিমের কিউ২ অনঅডিটেড হিসেবে অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ০.২৮ টাকা, আগের বছরের ০.৮০ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.৫৯ টাকা, আগের বছরের ১.২০ টাকার নিচে। তবে অপারেটিং ক্যাশফ্লোতে দৃশ্যমান ঘুরে দাঁড়ানো হয়েছে: কনসোলিডেটেড এনওসিএফপিএস ৫.৫০ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ২.৪৮ টাকা থেকে বড় টার্নঅ্যারাউন্ড। ন্যাভ প্রায় স্থিতিশীল: ৪১.৯৩ টাকা, জুন শেষে ৪১.৮৪ টাকা।
কোম্পানি বলেছে, বিক্রয়দর কমা এবং কস্ট অব গুডস সোল্ড বেড়ে যাওয়ায় গ্রস মার্জিন চাপের মধ্যে পড়েছে, তাই ইপিএস কমেছে। তবে অ্যাসোসিয়েট কোম্পানিগুলোর ধারাবাহিক প্রফিট কন্ট্রিবিউশন নেট প্রফিটকে পুরোপুরি ভেঙে পড়তে দেয়নি। এনওসিএফপিএস পজিটিভ হওয়ার ব্যাখ্যায় দুটি ফ্যাক্টর সামনে এসেছে: আগের সময়ের বকেয়া রিসিভেবল আদায়, এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট সুবিধার আওতায় কিছু আমদানি দায় কৌশলগতভাবে ডিফার করে তাৎক্ষণিক ক্যাশ অবস্থান উন্নত করা।
ফার কেমিক্যালস লিমিটেড (ফারকেম)
ফার কেমের কিউ২ ফলাফল নেতিবাচক। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস মাইনাস ১.৮৫ টাকা, আগের বছরে যেখানে ছিল ০.১৬ টাকা। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ১.৮০ টাকা, আগের বছরের ০.৩২ টাকার তুলনায় অনেক খারাপ। এনওসিএফপিএস মাইনাস ৫.৫৭ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ১.৮১ টাকার চেয়েও বেশি নেগেটিভ। ন্যাভ ৩০.৭২ টাকা, জুন শেষে ৩২.৫২ টাকা থেকে কম।
এই চিত্র দেখায়, কোম্পানির লাভজনিত সক্ষমতার পাশাপাশি অপারেটিং ক্যাশফ্লোও চাপের মধ্যে রয়েছে, যা স্বল্পমেয়াদে লিকুইডিটি ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা প্রয়োজনীয় করে তোলে।
রান ফাউন্ড্রি লিমিটেড (রানফাউন্ড্রি)
রান ফাউন্ড্রির কিউ২ প্রতিবেদনে আয় স্থিতিশীল ধারায়। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ১.০০ টাকা, আগের বছরের ১.০২ টাকার কাছাকাছি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ২.১৮ টাকা, আগের বছরের ২.১৯ টাকার প্রায় সমান। এনওসিএফপিএস ১.৫৯ টাকা, আগের বছরের ০.১৮ টাকার তুলনায় উন্নত। ন্যাভ ৩৪.৯৭ টাকা, জুন শেষে ৩৫.০৯ টাকা থেকে সামান্য কম।
মুনাফা স্থির থাকলেও ক্যাশফ্লোর এই উন্নতি সাধারণত সংগ্রহ, পেমেন্ট টাইমিং, বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট উন্নত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
এমএল ডাইং লিমিটেড (এমএলডাইং)
এমএল ডাইংয়ের কিউ২ ফলাফলে লোকসান দেখা যাচ্ছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.৪৭ টাকা, আগের বছর ছিল ০.০৭ টাকা। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ০.৪৬ টাকা, আগের বছর ০.১৩ টাকার তুলনায় খারাপ। এনওসিএফপিএস মাইনাস ০.৪১ টাকা, আগের বছর মাইনাস ০.৫৩ টাকার তুলনায় কিছুটা কম নেগেটিভ। ন্যাভ ১২.৭৮ টাকা, জুন শেষে ১৩.৩০ টাকা থেকে কমেছে।
এখানে লাভ-ক্ষতির চাপে ন্যাভ কমেছে, তবে ক্যাশফ্লো তুলনামূলক কম নেগেটিভ হওয়ায় অপারেটিং ক্যাশ ড্রেন কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে, যদিও এটি নিশ্চিত নয়।
এডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই)
এসিআইয়ের কিউ২ অনঅডিটেডে বড় পরিবর্তন হলো নেগেটিভ ইপিএস থেকে পজিটিভে ফেরা। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ০.৩৪ টাকা, যেখানে আগের বছর ছিল মাইনাস ৩.১৭ টাকা। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.৭৩ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ৭.৯৯ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি। এনওসিএফপিএস মাইনাস ৫০.৫০ টাকা থাকলেও আগের বছরের মাইনাস ৬৩.৬০ টাকার তুলনায় কম নেগেটিভ। ন্যাভ ৯০.৭০ টাকা, জুন শেষে ৯১.৬৪ টাকা থেকে সামান্য কম।
কোম্পানি জানিয়েছে, অর্ধবার্ষিকে গ্রুপের রাজস্ব ১৮ শতাংশ বেড়েছে এবং একাধিক অপারেটিং সেগমেন্ট এ গ্রোথে অবদান রেখেছে। গ্রস প্রফিট বৃদ্ধির হার অপারেটিং এক্সপেন্স বৃদ্ধিকে ছাড়িয়েছে, ফলে আয়ের দিকে উন্নতি এসেছে। তবে সুদের হার বৃদ্ধির কারণে এবং ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ও কৌশলগত বিনিয়োগে অতিরিক্ত ফান্ডিং নেওয়ায় বোরোয়িং কস্ট বেড়েছে। ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল মুভমেন্টের কারণে এনওসিএফপিএস নেগেটিভ থাকলেও তুলনামূলকভাবে কিছুটা উন্নত হয়েছে।
কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেড (কনফিডসেম)
কনফিডেন্স সিমেন্টের কিউ২ ফলাফলে উন্নতি দেখা যাচ্ছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ৩.৪২ টাকা, আগের বছরের ২.৬৫ টাকার তুলনায় বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ৭.৩৮ টাকা, আগের বছরের ৬.৬২ টাকার উপরে। এনওসিএফপিএস ২.২৪ টাকা, আগের বছরের ১.২২ টাকার তুলনায় উন্নত। ন্যাভ ৯৬.০৮ টাকা, জুন শেষে ৮৮.৬৮ টাকা থেকে বেড়েছে।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অ্যাসোসিয়েট কোম্পানির পারফরম্যান্সের ইতিবাচক প্রভাব ইপিএস বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিক্রয় কালেকশন অপারেশনাল কস্টকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় এনওসিএফপিএসও বেড়েছে। একইসঙ্গে অ্যাসোসিয়েটের প্রফিট যোগ হওয়ায় ন্যাভ শক্ত হয়েছে।
কেডিএস অ্যালায়েড লিমিটেড (কেডিএসএলটিডি)
কেডিএস অ্যালায়েডের কিউ২ অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.৪৫ টাকা, আগের বছরের ০.৪৯ টাকার চেয়ে সামান্য কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ১.০০ টাকা, আগের বছরের ১.০৫ টাকার নিচে। এনওসিএফপিএস ০.২৫ টাকা, আগের বছরের ২.৩২ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ প্রায় অপরিবর্তিত: ২৭.৭০ টাকা, জুন শেষে ২৭.৭১ টাকা।
এখানে আয় সামান্য কমার পাশাপাশি অপারেটিং ক্যাশফ্লোও দুর্বল, যা কালেকশন, ইনভেন্টরি বা পেমেন্ট সাইকেলে চাপের ইঙ্গিত দিতে পারে।
সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (সিলভাফল)
সিলভার কিউ২ অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.২৬ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.১৯ টাকার তুলনায় বেশি লোকসান। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ০.৫২ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৪৩ টাকার চেয়ে খারাপ। এনওসিএফপিএস ০.০৭ টাকা, আগের বছরের ০.১১ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ১৪.৯৬ টাকা, জুন শেষে ১৫.৪৮ টাকা থেকে কমেছে।
কোম্পানি বলেছে, বিক্রয় ভলিউম কমে যাওয়ায় ইপিএস কমেছে। একইসঙ্গে রিসিভেবল কালেকশন ও বিক্রয় কম থাকায় এনওসিএফপিএসও দুর্বল। লোকসানের কারণে ন্যাভও নিচে নেমেছে।
কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (কপারটেক)
কপারটেকের কিউ২ অনঅডিটেডে অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.১০ টাকা, আগের বছরের ০.২১ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.১৫ টাকা, আগের বছরের ০.২৩ টাকার নিচে। এনওসিএফপিএস ১.৬৬ টাকা, আগের বছরের ১.২৩ টাকার তুলনায় বেশি। ন্যাভ ১৪.৪৬ টাকা, জুন শেষে ১৪.৩২ টাকা থেকে কিছুটা বেড়েছে।
এখানে লাভ কমলেও ক্যাশফ্লো বেড়েছে, যা অপারেশনাল কালেকশন বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দক্ষতা উন্নতির ইঙ্গিত হতে পারে।
আফতাব অটো লিমিটেড (আফতাবঅটো)
আফতাব অটোর কিউ২ ফলাফলে লোকসান চলমান। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস মাইনাস ০.২৬ টাকা, আগের বছর ছিল মাইনাস ০.২৫ টাকা। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ০.৮১ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৬৯ টাকার চেয়ে বেশি লোকসান। এনওসিএফপিএস ০.৮০ টাকা, আগের বছরের ১.৫৮ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ৪৬.০৬ টাকা, জুন শেষে ৪৭.৫৭ টাকা থেকে কমেছে।
এখানে আয় চাপের সাথে ক্যাশফ্লো দুর্বল হওয়ায় অপারেটিং অবস্থানও চ্যালেঞ্জড বলেই প্রতীয়মান।
কহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড (কহিনুর)
কহিনুরের কিউ২ রিপোর্টে ইতিবাচক ছবি। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ৪.০০ টাকা, আগের বছরের ৩.১৮ টাকার তুলনায় বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ৮.১০ টাকা, আগের বছরের ৬.২৫ টাকার চেয়ে উন্নত। এনওসিএফপিএস ১১.২৮ টাকা, যদিও আগের বছরের ১৪.৩৫ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ৬০.৮৬ টাকা, জুন শেষে ৫৯.২৪ টাকা থেকে বেড়েছে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, এনওসিএফপিএস কমার একটি মূল কারণ হলো আগের বছরের তুলনায় ইনভেন্টরি বৃদ্ধি। অর্থাৎ স্টক বাড়লে ক্যাশ আটকে যায়, ফলে ক্যাশফ্লো কমে যেতে পারে, যদিও মুনাফা বেড়েছে।
ফার্মা এইড লিমিটেড (ফার্মাআইড)
ফার্মা এইডের কিউ২ এ আয়ের শক্তিশালী উন্নতি। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ৭.২৮ টাকা, আগের বছরের ৫.৬৬ টাকার তুলনায় বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ১৪.০৯ টাকা, আগের বছরের ১১.৩২ টাকার উপরে। এনওসিএফপিএস ১০.১১ টাকা, আগের বছরের ৪.৯৩ টাকার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ন্যাভ ১৪৯.৫৪ টাকা, জুন শেষে ১৩৮.৫৮ টাকা থেকে বেড়েছে।
কোম্পানি ব্যাখ্যা দিয়েছে, উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের কারণে বিক্রয় বেড়েছে, ফলে ইপিএস উন্নত হয়েছে। কালেকশন বৃদ্ধি পাওয়ায় এনওসিএফপিএসও শক্ত হয়েছে, আর রিটেইন্ড আর্নিংস বাড়ায় ন্যাভ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মননো ফেব্রিকস লিমিটেড (মননোফ্যাবর)
মননো ফেব্রিকসের কিউ২ এ আয় কম। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.০১ টাকা, আগের বছরের ০.০৪ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.০৪ টাকা, আগের বছরের ০.০৭ টাকার নিচে। তবে এনওসিএফপিএস ০.৬৫ টাকা, আগের বছরের ০.০৩ টাকার তুলনায় বেশি। ন্যাভ ২৫.৪১ টাকা, জুন শেষে ২৫.৩৯ টাকা থেকে সামান্য বেড়েছে।
কোম্পানির মতে, ফাইন্যান্স কস্ট বৃদ্ধিতে ইপিএস কমেছে। ক্যাশফ্লো বাড়ার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ বিল কমায় অপারেটিং ক্যাশে সুবিধা হয়েছে। ন্যাভ সামান্য বেড়েছে মূলত কারেন্ট অ্যাসেট বাড়ার কারণে।
বাংলাদেশ থাই ফুড অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস লিমিটেড (বিডিথাইফুড)
বিডিথাইফুডের কিউ২ চিত্র নেতিবাচক। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.০৬ টাকা, আগের বছর ছিল ০.০৪ টাকা (রিস্টেটেড)। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ০.৫৫ টাকা, আগের বছর ছিল ০.০৬ টাকা (রিস্টেটেড)। অ্যাডজাস্টেড এনওসিএফপিএস ০.১৭ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.২৮ টাকার তুলনায় ভালো। অ্যাডজাস্টেড ন্যাভ ১১.৮৬ টাকা, জুন শেষে ১২.৪১ টাকা থেকে কমেছে।
কোম্পানি জানিয়েছে, উৎপাদন ও বিক্রয় কমে যাওয়ায় নেট প্রফিট ও ইপিএস কমেছে। পাশাপাশি ব্যয়জনিত দায় বৃদ্ধি পাওয়ায় ন্যাভে চাপ তৈরি হয়েছে।
বাটা সু (বাংলাদেশ) লিমিটেড (বিডিথাই)
বিডিথাইয়ের কিউ২ এ লোকসান বাড়ছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.৭৯ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৬২ টাকার তুলনায় বেশি নেগেটিভ। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ১.৪৯ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৯০ টাকার চেয়ে খারাপ। এনওসিএফপিএস মাইনাস ০.৭৭ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৬৬ টাকার তুলনায় কমেছে। ন্যাভ ২৭.১৯ টাকা, জুন শেষে ২৮.৬০ টাকা থেকে কম।
এখানে আয়ের চাপের পাশাপাশি ক্যাশফ্লোও নেগেটিভ থাকায় অপারেশনাল টার্নঅ্যারাউন্ডের প্রয়োজনীয়তা বোঝা যায়।
সাইফকো স্পিনিং মিলস লিমিটেড (সাফকোস্পিনন)
সাফকো স্পিনিংয়ের কিউ২ এ লোকসান থাকলেও কিছু উন্নতির ইঙ্গিত আছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.৩১ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৫৩ টাকার তুলনায় কম নেগেটিভ। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ২.০৭ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ৫.৩০ টাকার তুলনায় উন্নত। তবে এনওসিএফপিএস মাইনাস ০.৪২ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.০৫ টাকার তুলনায় বেশি নেগেটিভ। ন্যাভ মাইনাস ৫.৩২ টাকা, জুন শেষে মাইনাস ৪.৫০ টাকা থেকে আরও কমেছে।
এখানে আয়ের ক্ষতি কিছুটা কমলেও ক্যাশফ্লো ও ন্যাভ নেগেটিভ থাকায় আর্থিক ঝুঁকির মাত্রা উচ্চ বলেই ধরা যায়।
সাইহাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড (সাইহামটেক্স)
সাইহাম টেক্সের কিউ২ এ আয় কমেছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.১১ টাকা, আগের বছরের ০.১৩ টাকার নিচে। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.২৮ টাকা, আগের বছরের ০.৩৪ টাকার তুলনায় কম। এনওসিএফপিএস মাইনাস ৭.৩৬ টাকা, আগের বছর ছিল পজিটিভ ৬.৯৬ টাকা, অর্থাৎ বড় রিভার্সাল। ন্যাভ ৪৩.৫০ টাকা, জুন শেষে ৪৩.৭৭ টাকা থেকে সামান্য কম।
কোম্পানি বলেছে, কস্ট অব গুডস সোল্ড তুলনামূলকভাবে বেশি বেড়েছে বলে নেট প্রফিট কমেছে। এনওসিএফপিএস কমার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কালেকশন কমে যাওয়া, এবং উৎপাদন ব্যয় ও ওভারহেড পেমেন্ট বেড়ে যাওয়া।
আইটিসি লিমিটেড (আইটিসি)
আইটিসির কিউ২ অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.৮৬ টাকা, আগের বছরের ১.১১ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ১.৭৮ টাকা, আগের বছরের ১.৯৩ টাকার নিচে। এনওসিএফপিএস ২.২৮ টাকা, আগের বছরের ৩.১৪ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ২৩.৮৩ টাকা, জুন শেষে ২৩.২৫ টাকা থেকে কিছুটা বেড়েছে।
এখানে মুনাফা ও ক্যাশফ্লো কিছুটা নরম হলেও ন্যাভ সামান্য বেড়েছে, যা ব্যালান্স শিটে সীমিত ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (সিলকোফল)
সিলকোর কিউ২ এ স্থিতিশীলতার আভাস। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.১১ টাকা, আগের বছরের ০.১০ টাকার তুলনায় সামান্য বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.২৭ টাকা, আগের বছরের ০.২৭ টাকার সমান। এনওসিএফপিএস ০.৫১ টাকা, আগের বছরের ০.৬২ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ২৩.২৯ টাকা, জুন শেষে ২৩.০২ টাকা থেকে বেড়েছে।
মননো স্পুলিং মিলস লিমিটেড (মনোস্পুল)
মনোস্পুলের কিউ২ এ ইপিএস সামান্য বেড়েছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.৭৪ টাকা, আগের বছরের ০.৭২ টাকার তুলনায় বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ১.৯৩ টাকা, আগের বছরের ১.৮৬ টাকার উপরে। এনওসিএফপিএস ২.২৪ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ১.৮৮ টাকা থেকে বড় উন্নতি। ন্যাভ ৪৬.৯৯ টাকা, জুন শেষে ৪৫.০৫ টাকা থেকে বেড়েছে।
কোম্পানি ব্যাখ্যা দিয়েছে, চলতি সময়ে কারেন্ট লাইবিলিটি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সাপ্লায়ার ও ব্যাংক বা এনবিএফআই থেকে ডিফার্ড পেমেন্ট বা ক্রেডিট সুবিধা থাকায় অপারেটিং ক্যাশফ্লো ভালো দেখাচ্ছে। অর্থাৎ ক্যাশফ্লো উন্নতি আংশিকভাবে পেমেন্ট ডিফারালের ফলও হতে পারে।
নাভানা সিএনজি লিমিটেড (নাভানাএসএনজি)
নাভানা সিএনজির কিউ২ অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ০.০১ টাকা, আগের বছরের ০.০৪ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.০২ টাকা, আগের বছরের ০.০৬ টাকার নিচে। এনওসিএফপিএস ১.৮৫ টাকা, আগের বছরের ০.০৩ টাকার তুলনায় বেশি। ন্যাভ ৩০.২৪ টাকা, জুন শেষে ৩০.৭৯ টাকা থেকে কমেছে।
রহিমা ফুড করপোরেশন লিমিটেড (রহিমাফুড)
রহিমা ফুডের কিউ২ এ লোকসান বেড়েছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.০৭ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.০৫ টাকার তুলনায় খারাপ। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ০.১৪ টাকা, আগের বছরের ০.১৬ টাকার তুলনায় নেগেটিভ। এনওসিএফপিএস ০.২৪ টাকা, আগের বছরের ১.১২ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ৯.২৯ টাকা, জুন শেষে ৯.৪৩ টাকা থেকে সামান্য কম।
এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসি (এমজেএলবিডি)
এমজেএলবিডির কিউ২ ফলাফলে আয়ের নিম্নগতি। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ০.৮০ টাকা, আগের বছরের ৩.২৩ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ৩.৮৬ টাকা, আগের বছরের ৬.৬৬ টাকার নিচে। তবে এনওসিএফপিএস ৬.৪৪ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ৩.০২ টাকা থেকে বড় টার্নঅ্যারাউন্ড। ন্যাভ ৫২.৭২ টাকা, জুন শেষে ৫৪.০৬ টাকা থেকে কমেছে।
এখানে লাভ কমলেও ক্যাশফ্লোতে বড় ঘুরে দাঁড়ানো রয়েছে, যা রিসিভেবল আদায় বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল রিলিজের ফল হতে পারে।
অরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (অরিয়নফার্ম)
অরিয়ন ফার্মার কিউ২ এ লোকসান রয়েছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস মাইনাস ০.৫৬ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৪৪ টাকার তুলনায় খারাপ। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ০.৮৬ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.২০ টাকার তুলনায় বেশি নেগেটিভ। এনওসিএফপিএস ২.৬১ টাকা, আগের বছরের ৪.২৬ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ রিভ্যালুয়েশনসহ ৮৫.৭৪ টাকা, জুন শেষে ৮৬.০৯ টাকা থেকে সামান্য কম। কোম্পানি আলাদা করে জানিয়েছে, রিভ্যালুয়েশন সারপ্লাস বাদ দিলে ন্যাভ ৭৮.০০ টাকা, জুন শেষে ৭৮.৩৪ টাকা ছিল।
সাইহাম কটন মিলস লিমিটেড (সাইহামকট)
সাইহাম কটনের কিউ২ এ মুনাফা কমেছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.২০ টাকা, আগের বছরের ০.৩১ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.৪৮ টাকা, আগের বছরের ০.৫৮ টাকার নিচে। এনওসিএফপিএস ১.২২ টাকা, আগের বছরের ০.৮৬ টাকার তুলনায় বেশি। ন্যাভ ৩৮.০৮ টাকা, জুন শেষে ৩৮.২৬ টাকা থেকে সামান্য কম।
জিবিবি পাওয়ার লিমিটেড (জিবিবিপাওয়ার)
জিবিবি পাওয়ারের কিউ২ এ ইপিএস সামান্য বেড়েছে। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.০৪ টাকা, আগের বছরের ০.০২ টাকার তুলনায় বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.০৭ টাকা, আগের বছরের ০.০৬ টাকার তুলনায় সামান্য বেশি। তবে এনওসিএফপিএস ০.০১ টাকা, আগের বছরের ০.০৯ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ২০.৩৮ টাকা, জুন শেষে ২০.২৭ টাকা থেকে সামান্য বেড়েছে।
অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (অলটেক্স)
অলটেক্সের কিউ২ এ ইপিএস পজিটিভ হলেও ছোট। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.০৩ টাকা, আগের বছরে ছিল মাইনাস ০.০৫ টাকা। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.০৪ টাকা, আগের বছরে ছিল মাইনাস ০.০৬ টাকা। এনওসিএফপিএস মাইনাস ০.০৫ টাকা, আগের বছরের ০.৩১ টাকার তুলনায় কম। ন্যাভ ২৬.৬৪ টাকা, এবং কোম্পানি জানিয়েছে, আগের বছরের ডিসেম্বর শেষে ন্যাভ ছিল ১৯.৮৬ টাকা, অর্থাৎ বার্ষিক ভিত্তিতে বড় উন্নতি।
অতিরিক্ত ব্যাখ্যায় কোম্পানি বলেছে, টার্নওভার বাড়ানো ও সিওজিএস অনুপাত কমানোর চেষ্টা ফল দিয়েছে, তবে সাপ্লায়ার, এমপ্লয়ি ও অন্যান্য পেমেন্ট এবং ফাইন্যান্স এক্সপেন্স বাড়ায় এনওসিএফপিএস কমেছে। ন্যাভ বেড়েছে রিপোর্টিং প্রফিটের পাশাপাশি আগের বছরের ঋণ সুদ অতিরিক্ত প্রভিশন সমন্বয়ের কারণে।
স্টাইলক্র্যাফট লিমিটেড (স্টাইলক্র্যাফট)
স্টাইলক্র্যাফটের কিউ২ এ ইপিএস খুবই কম। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস ০.০০৯ টাকা, আগের বছরের ০.০৪ টাকার তুলনায় কম। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ০.০১৯ টাকা, আগের বছরের ০.০৭ টাকার নিচে। তবে এনওসিএফপিএস ২.৩৯ টাকা, আগের বছরের ০.৮৩ টাকার তুলনায় বেশি। ন্যাভ ৪.৬৪ টাকা, জুন শেষে ৪.৬২ টাকা থেকে সামান্য বেড়েছে।
কোম্পানি জানিয়েছে, এনওসিএফপিএস নেগেটিভ হওয়া প্রসঙ্গে তাদের ব্যাখ্যা হলো, কালেকশনের তুলনায় পেমেন্ট বেশি, এবং সেই ঘাটতি ব্যাংক ঋণ দিয়ে মেটানো হয়। (এখানে আপনার ডেটাসেটে “নেগেটিভ” ব্যাখ্যা অংশ ছিল, কিন্তু ঘোষিত এনওসিএফপিএস সংখ্যাটি পজিটিভ, তাই বিনিয়োগকারী হিসেবে এই জায়গাটি অফিসিয়াল নোট থেকে মিলিয়ে দেখা জরুরি।)
এসিএমই ল্যাবরেটরিজ পিএলসি (এসিএমইপিএল)
এসিএমইপিএলের কিউ২ এ লোকসান অব্যাহত। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ ইপিএস মাইনাস ০.১৬ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.১৮ টাকার তুলনায় সামান্য কম নেগেটিভ। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস মাইনাস ০.২৬ টাকা, আগের বছরের মাইনাস ০.৩০ টাকার চেয়ে কম নেগেটিভ। এনওসিএফপিএস ০.০২ টাকা, আগের বছরের ০.০১ টাকার তুলনায় সামান্য বেশি। ন্যাভ ১৬.১৫ টাকা, জুন শেষে ১৬.৪১ টাকা থেকে কমেছে।
রেনাটা পিএলসি (রেনাটা)
রেনাটার কিউ২ ফলাফল শক্তিশালী। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ৭.১১ টাকা, আগের বছরের ৫.৬৪ টাকার তুলনায় বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ১৩.৫৮ টাকা, আগের বছরের ১০.৮৩ টাকার উপরে। এনওসিএফপিএস ১২.৮৭ টাকা, আগের বছরের ৩.৬০ টাকার তুলনায় বড় উন্নতি। ন্যাভ ৩১৩.৪৮ টাকা, জুন শেষে ৩০৫.৪৯ টাকা থেকে বেড়েছে।
কোম্পানি বলেছে, অপারেটিং প্রফিট গ্রোথ এবং ক্যাপিটাল রিস্ট্রাকচারিং উদ্যোগের ফলে নেট ফাইন্যান্স কস্ট কমায় ইপিএস বেড়েছে, যদিও ট্যাক্স এক্সপেন্স বৃদ্ধি কিছুটা অফসেট করেছে। এনওসিএফপিএস উন্নতির পেছনে অপারেটিং প্রফিট বৃদ্ধির পাশাপাশি ইনভেন্টরি ও রিসিভেবল ব্যবস্থাপনায় উন্নতি, এবং ডিপ্রিসিয়েশন ও অ্যামর্টাইজেশনজনিত নন ক্যাশ অ্যাডজাস্টমেন্টকে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি (স্কয়ারফার্মা)
স্কয়ার ফার্মার কিউ২ এ ধারাবাহিক উন্নতি। অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ এ কনসোলিডেটেড ইপিএস ৮.২০ টাকা, আগের বছরের ৭.৪৫ টাকার তুলনায় বেশি। জুলাই–ডিসেম্বর অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ১৬.৫৬ টাকা, আগের বছরের ১৪.৩২ টাকার উপরে। এনওসিএফপিএস ১৩.১৬ টাকা, আগের বছরের ৮.২৮ টাকার তুলনায় উন্নত। ন্যাভ ১৬২.৪১ টাকা, জুন শেষে ১৫৭.৮৮ টাকা থেকে বেড়েছে।
কোম্পানির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আগের বছরে সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় রেভিনিউ গ্রোথ কিছুটা থেমে ছিল। চলতি বছরে সেই ধাক্কা কাটিয়ে ব্যবসা শুধু রিকভারি করেনি, বরং রেভিনিউ পারফরম্যান্সে শক্ত আপমোমেন্টাম তৈরি হয়েছে। ফলে ইপিএস ও এনওসিএফপিএস উভয়ই স্বাস্থ্যকরভাবে বেড়েছে।
-রাফসান
১৬ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সোমবার (১৬ মার্চ ২০২৬) লেনদেনে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। দিন শেষে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা স্পষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসইর বাজারসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এদিন মোট ৩৮৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে, ৭৩টির দাম কমেছে এবং ৬২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ২০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৫টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৩৪টির দর কমেছে এবং ৪১টি অপরিবর্তিত রয়েছে। বি ক্যাটাগরিতে ৮০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৩টির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে, ৮টির দর কমেছে এবং ৯টি অপরিবর্তিত রয়েছে।
জেড ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ১০৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৫টির দর বেড়েছে, ৩১টির দর কমেছে এবং ১২টি অপরিবর্তিত রয়েছে।
মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এই খাতে লেনদেন হওয়া ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে ১১টির দাম বেড়েছে, ৩টির দাম কমেছে এবং ২০টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। করপোরেট বন্ড খাতে একটি বন্ডের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে সরকারি সিকিউরিটিজে একটি ইস্যুর দর সামান্য কমেছে।
লেনদেনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এদিন মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৪২টি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে। মোট শেয়ার লেনদেন হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি ৯৮ লাখের বেশি। টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি।
বাজার মূলধনের দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান দেখা গেছে। ইকুইটি সিকিউরিটিজে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকার বেশি। মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বাজার মূলধন প্রায় ২ হাজার ৪০৩ কোটি টাকার কাছাকাছি। আর ঋণভিত্তিক সিকিউরিটিজসহ মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লাখ ৬ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকার বেশি।
এদিকে ব্লক মার্কেটেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে। এদিন ব্লক মার্কেটে ২৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে মোট ৬১টি ট্রেডের মাধ্যমে। এসব লেনদেনে প্রায় ৩৮ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ২০৬ কোটি টাকার বেশি।
ব্লক মার্কেটে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে লাভেলো আইসক্রিম, ওরিয়ন ইনফিউশন, ফাইন ফুডস এবং জিকিউ বলপেনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়া এবং বাজারে ক্রয়চাপ বৃদ্ধির কারণে এদিন অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। তারা মনে করছেন, বাজারে ইতিবাচক মনোভাব বজায় থাকলে আগামী দিনগুলোতেও লেনদেনে এমন প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
-রাফসান
শেয়ারবাজারে দরপতনে এগিয়ে যেসব শেয়ার
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সোমবার (১৬ মার্চ ২০২৬) লেনদেনের সময় বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের দর উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। দিনের লেনদেন শেষে ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের ক্লোজিং প্রাইসের তুলনায় দরপতনের দিক থেকে বিআইএফসি শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
বাজার তথ্য অনুযায়ী, বিআইএফসির শেয়ারদর দিনশেষে ৬.৬ টাকায় নেমে এসেছে, যা আগের দিনের ৭.২ টাকার তুলনায় প্রায় ৮.৩৩ শতাংশ কম। লেনদেন চলাকালে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ৭.৫ টাকা এবং সর্বনিম্ন ছিল ৬.৫ টাকা।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রাইম ফিন্যান্স। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৫.৯ টাকা থেকে কমে ৫.৫ টাকায় নেমেছে, যা প্রায় ৬.৭৮ শতাংশ পতন নির্দেশ করে। দিনের লেনদেনে এর সর্বোচ্চ দর ছিল ৬.৪ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৫.৪ টাকা।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউনিয়ন ক্যাপিটাল। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর ৬.৬ টাকা থেকে কমে ৬.২ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৬.০৬ শতাংশ কমেছে। লেনদেন চলাকালে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ৭.১ টাকা এবং সর্বনিম্ন ছিল ৬.১ টাকা।
গেইনার তালিকার বিপরীতে লুজার তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে মেগনা কনডেন্সড মিল্ক। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩৪.৮ টাকা থেকে কমে ৩২.৭ টাকায় নেমেছে, যা প্রায় ৬.০৩ শতাংশ দরপতন নির্দেশ করে।
পঞ্চম স্থানে রয়েছে ফিন্যান্স খাতের আরেক প্রতিষ্ঠান ফিনিক্স ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর ৫.২ টাকা থেকে কমে ৪.৯ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৫.৭৭ শতাংশ কম।
এ ছাড়া তালিকার অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে রয়েছে ফারইস্ট ফিন্যান্স, এফএএস ফিন্যান্স, জিএসপি ফিন্যান্স, এমেরাল্ড অয়েল এবং মিডাস ফিন্যান্স।
বিশ্লেষকদের মতে, দিনের লুজার তালিকায় ফিন্যান্স খাতের কোম্পানিগুলোর উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। বাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বল্পমেয়াদি বিক্রয়চাপ এবং খাতভিত্তিক চাহিদার পরিবর্তনের কারণে এসব শেয়ারের দরপতন ঘটতে পারে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারবাজারে প্রতিদিনই কিছু শেয়ার মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় থাকে, আবার কিছু শেয়ার দরপতনের তালিকায় চলে আসে। বিনিয়োগকারীদের জন্য তাই কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, বাজার পরিস্থিতি এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বিবেচনা করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
-রাফসান
আজ ডিএসইর সেরা ১০ গেইনার কোনগুলো
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সোমবার (১৬ মার্চ ২০২৬) লেনদেনের সময় কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দিনের লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের ক্লোজিং প্রাইসের তুলনায় দাম বৃদ্ধির দিক থেকে ইনটেক লিমিটেড শীর্ষ অবস্থান দখল করেছে।
বাজার তথ্য অনুযায়ী, ইনটেক লিমিটেডের শেয়ারদর দিনশেষে ৪২.৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিনের ৪০ টাকার তুলনায় প্রায় ৬.৫ শতাংশ বেশি। লেনদেন চলাকালে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ৪৩.৯ টাকা এবং সর্বনিম্ন ছিল ৪০.৬ টাকা।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে হোটেল ও পর্যটন খাতের কোম্পানি সিপার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর দিনশেষে ৪০.৫ টাকায় পৌঁছায়, যা আগের দিনের ৩৮.১ টাকার তুলনায় প্রায় ৬.৩০ শতাংশ বেশি। দিনের সর্বোচ্চ দর ছিল ৪০.৭ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৩৭.২ টাকা।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে লিগ্যাসি ফুটওয়্যার লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৫৩.৮ টাকা থেকে বেড়ে ৫৭.১ টাকায় ওঠে, যা প্রায় ৬.১৩ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। দিনের সর্বোচ্চ দর ছিল ৫৭.৬ টাকা এবং সর্বনিম্ন ছিল ৫৩.৭ টাকা।
গেইনার তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে হেইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড। সিমেন্ট খাতের এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর ২৩৩ টাকা থেকে বেড়ে ২৪৬.৮ টাকায় পৌঁছেছে, যা প্রায় ৫.৯২ শতাংশ বৃদ্ধি।
পঞ্চম স্থানে রয়েছে এসপিসি সিরামিকস লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ২০ টাকা থেকে বেড়ে ২১ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা ৫ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
এ ছাড়া তালিকার অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে রয়েছে হাক্কানি পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলস, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, আইএসএন লিমিটেড, আইসিবি ইপিএমএফ ফান্ড এবং ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার কারণে এসব কোম্পানির শেয়ারদরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বিশেষ করে পর্যটন, সিমেন্ট, উৎপাদন ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের কয়েকটি শেয়ার এদিন গেইনার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।
-রাফসান
সপ্তাহজুড়ে কেমন ছিল শেয়ারবাজার, দেখুন সাপ্তাহিক বিশ্লেষণ
সপ্তাহজুড়ে ইতিবাচক প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। প্রধান সূচকগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে এবং অধিকাংশ তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারমূল্য বেড়েছে বলে ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহ শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দাঁড়িয়েছে ৫,৩৬৮.৪০ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১২৭.৫৬ পয়েন্ট বা ২.৪৩ শতাংশ বেশি। বছরের শুরু থেকে এই সূচকের মোট অগ্রগতি এখন ১০.৩৪ শতাংশ।
একই সময়ে ডিএস৩০ সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,০৬৬.২৫ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫৪.৭৪ পয়েন্ট বা ২.৭২ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) বেড়ে ১,০৭৯.৪২ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রায় ২.৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
এছাড়া ডিএসই এসএমই সূচকও ইতিবাচক প্রবণতা ধরে রেখেছে। সপ্তাহ শেষে এটি দাঁড়িয়েছে ৯৩০.৬১ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১.৫৯ শতাংশ বেশি।
লেনদেন কমলেও বাজার মূলধনে বৃদ্ধি
সপ্তাহজুড়ে সূচক বাড়লেও মোট লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। তথ্য অনুযায়ী, গড় দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫,৩১৩ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কম।
লেনদেনের মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ২৬,৫৬৮ কোটি টাকা, যেখানে আগের সপ্তাহে এটি ছিল প্রায় ৩৪,৮২৪ কোটি টাকা। একই সঙ্গে গড় দৈনিক শেয়ার লেনদেনের পরিমাণও কমে এসেছে।
তবে ইতিবাচক দিক হলো, বাজারের মোট মূলধন বেড়ে প্রায় ৭.০৭ ট্রিলিয়ন টাকা ছাড়িয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১.২৮ শতাংশ বৃদ্ধি।
বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা
সাপ্তাহিক বাজার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সপ্তাহে মোট ৩২৪টি কোম্পানির শেয়ারমূল্য বেড়েছে, যেখানে ৩৮টি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে এবং ২৭টি অপরিবর্তিত ছিল।
এতে বোঝা যায়, বাজারে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক প্রবণতা ছিল এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ছিল।
খাতভিত্তিক লেনদেন
বিভিন্ন খাতের মধ্যে ব্যাংক, ফার্মাসিউটিক্যালস, খাদ্য ও সংশ্লিষ্ট শিল্প, টেক্সটাইল এবং প্রকৌশল খাত লেনদেনের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।
বিশেষ করে ফার্মা ও কেমিক্যালস খাত মোট লেনদেনের প্রায় ১৬ শতাংশ অংশ দখল করেছে। অন্যদিকে ব্যাংক খাত মোট লেনদেনের প্রায় ২০ শতাংশ অবদান রেখেছে।
সাপ্তাহিক শীর্ষ লেনদেন হওয়া কোম্পানি
সপ্তাহজুড়ে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছেওরিয়ন ইনফিউশন, সিটি ব্যাংক, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ব্র্যাক ব্যাংক, রবি, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, কেবিপিপিডব্লিউবিল, লাভেলো, সাউথ এশিয়ান পোর্ট এবং ইনটেক।
ব্লক লেনদেনে শীর্ষ কোম্পানি
ব্লক মার্কেটে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে অলিম্পিক, ওরিয়ন ইনফিউশন, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, আল-আরাফাহ ব্যাংক, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, লাভেলো, ফাইন ফুডস, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স ও সিমটেক্স কোম্পানির শেয়ারে।
সাপ্তাহিক শীর্ষ দরবৃদ্ধি
সপ্তাহজুড়ে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে আইএলএফএসএল, পিএলএফএসএল, ফাস ফাইন্যান্স, ফেয়ারইস্ট ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফ্যামিলি টেক্সটাইল, এইচআর টেক্স, মেগকন মিল্ক, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও প্রাইম ফাইন্যান্স কোম্পানির শেয়ারে।
সাপ্তাহিক দরপতন
অন্যদিকে সপ্তাহজুড়ে সবচেয়ে বেশি দর কমেছে সাইফ পাওয়ার, গ্রিন ডেল্টা, রিং শাইন টেক্সটাইল, দুলামিয়া কটন, হামি ইন্ডাস্ট্রিজ, ওরিয়ন ইনফিউশন, নর্দান জুট, রেনউইক জানসন, এএফসি অ্যাগ্রো ও মেট্রো স্পিনিং কোম্পানির শেয়ারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সূচকের এই ধারাবাহিক উত্থান বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। তবে লেনদেনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় বাজারে তারল্য পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি শক্তিশালী হয়নি বলে তারা মনে করছেন।
-রাফসান
১২ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) লেনদেনে শক্তিশালী ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দিনের বাজারসারসংক্ষেপ অনুযায়ী অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, যা বাজারে ক্রয়চাপ এবং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
ডিএসইর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এদিন মোট ৩৯০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৩০৮টির দর বেড়েছে, ৩২টির দর কমেছে এবং ৫০টি অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
এ ক্যাটাগরিতে বড় উত্থান
বাজারের প্রধান কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত এ ক্যাটাগরিতে মোট ২০২টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৫টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে, ১৩টির দর কমেছে এবং ৩৪টি অপরিবর্তিত রয়েছে। বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অব্যাহত থাকায় এই ক্যাটাগরিতে শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বি ক্যাটাগরিতেও ইতিবাচক প্রবণতা
বি ক্যাটাগরিতে মোট ৮০টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭২টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে, মাত্র ৪টির দর কমেছে, এবং ৪টি অপরিবর্তিত রয়েছে। মধ্যম মানের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ক্রয়চাপ বৃদ্ধির ফলে এই ক্যাটাগরিতেও উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে।
জেড ক্যাটাগরিতে উত্থান
অন্যদিকে তুলনামূলক দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত জেড ক্যাটাগরিতেও দরবৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এই ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ১০৮টি কোম্পানির মধ্যে ৮১টির দর বেড়েছে, ১৫টির দর কমেছে এবং ১২টি অপরিবর্তিত রয়েছে।
মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ড বাজার
মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও লেনদেন ইতিবাচক ছিল। মোট ৩৪টি ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে ১৩টির দর বেড়েছে, ২১টি অপরিবর্তিত রয়েছে, এবং কোনো ফান্ডের দর কমেনি।
করপোরেট বন্ড খাতে ২টি সিকিউরিটির লেনদেন হয়েছে, যেগুলোর দাম অপরিবর্তিত ছিল। অন্যদিকে সরকারি সিকিউরিটিজে ১টি ইস্যুর দর বৃদ্ধি পেয়েছে।
লেনদেনের পরিমাণ ও বাজারমূলধন
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, এদিন মোট ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৬৮টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। লেনদেন হওয়া শেয়ারের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৩ কোটি ২৫ লাখ ৪ হাজার ৮৫৪টি।
দিন শেষে লেনদেনের মোট আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৯১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার বেশি।
বাজার মূলধনের দিক থেকেও পুঁজিবাজারের আকার উল্লেখযোগ্য। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ইকুইটির বাজারমূলধন প্রায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা, মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারমূলধন প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা, এবং ঋণ সিকিউরিটিজসহ মোট বাজারমূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।
ব্লক মার্কেটে বড় লেনদেন
এদিন ব্লক মার্কেটেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে। মোট ২৬টি কোম্পানির শেয়ার ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে, যেখানে ৫১টি ট্রেডে প্রায় ৬৯ লাখের বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এসব লেনদেনের মোট মূল্য ছিল প্রায় ৪৪১ কোটি টাকার বেশি।
ব্লক মার্কেটে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছিল অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, উত্তরা ব্যাংক, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, লাভেলো আইসক্রিম এবং পদ্মা অয়েল।
বিশেষ করে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারে প্রায় ২১০ কোটি টাকার বড় ব্লক ট্রান্স্যাকশন হয়েছে, যা দিনের সবচেয়ে বড় লেনদেন হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। ব্যাংক, বীমা, ভোগ্যপণ্য এবং ওষুধ খাতের কিছু কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় বাজারে ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানির মৌলভিত্তি ও আর্থিক সক্ষমতা বিশ্লেষণ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
-রাফসান
১২ মার্চ ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) লেনদেনের মধ্যভাগে কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের দামে উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। আগের কার্যদিবসের সমাপনী মূল্যের তুলনায় কিছু শেয়ারের দাম ১ থেকে ৫ শতাংশের বেশি কমেছে। ফলে দিনের লেনদেনে বিভিন্ন খাতের কয়েকটি কোম্পানি শীর্ষ লুজার তালিকায় উঠে এসেছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, দরপতনের তালিকার শীর্ষে রয়েছে বিআইএফসি (বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি)। কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের দিনের ৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে ৬ টাকা ৮০ পয়সায় নেমে এসেছে। এতে শেয়ারটির দাম প্রায় ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। দিনের লেনদেনে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ৭ টাকা ২০ পয়সা।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে ৬ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে, যা প্রায় ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ পতন নির্দেশ করে।
তৃতীয় স্থানে থাকা মিডাস ফাইন্যান্স লিমিটেড শেয়ারের দর ৭ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে ৭ টাকা ১০ পয়সায় নেমে এসেছে। এতে শেয়ারটির মূল্য প্রায় ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমেছে।
চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে নূরানী ডাইং অ্যান্ড সুইটার লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে ৩ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে, যা প্রায় ২ দশমিক ৭০ শতাংশ পতন নির্দেশ করে।
পঞ্চম স্থানে রয়েছে টেক্সটাইল খাতের প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়েল টেক্সটাইল লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৪৫ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে ৪৪ টাকা ৪০ পয়সায় নেমে এসেছে, যা প্রায় ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ দরপতন।
ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে এএনএলআই মেয়ার্ন লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ২০ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে ১৯ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে, যা প্রায় ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কমেছে।
সপ্তম স্থানে রয়েছে ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৫ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে ৫ টাকায় নেমে এসেছে, যা প্রায় ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ পতন নির্দেশ করে।
অষ্টম অবস্থানে রয়েছে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৫ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে ৫ টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে, যা প্রায় ১ দশমিক ৮২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
নবম স্থানে রয়েছে জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৫ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে ৫ টাকা ৭০ পয়সায় নেমে এসেছে, যা প্রায় ১ দশমিক ৭২ শতাংশ কমেছে।
তালিকার দশম অবস্থানে রয়েছে বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে ৬ টাকায় লেনদেন হয়েছে, যা প্রায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ পতন নির্দেশ করে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দিনের লেনদেনে বিশেষ করে ফাইন্যান্স খাতের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিক্রির চাপ দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতাও দরপতনের কারণ হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা, মৌলভিত্তি এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি বলে মত দিয়েছেন পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা।
-রাফসান
১২ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) লেনদেনের মধ্যভাগে কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের দামে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। আগের কার্যদিবসের সমাপনী মূল্যের তুলনায় বেশ কিছু শেয়ারের দর ৪ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দিনের লেনদেনে বিভিন্ন খাতের কয়েকটি কোম্পানি শীর্ষ গেইনার তালিকায় উঠে এসেছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, দরবৃদ্ধির তালিকার শীর্ষে রয়েছে বিপিপিএল। কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের দিনের ১৪ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৫ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। এতে শেয়ারটির মূল্য প্রায় ৭ দশমিক ০৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনের লেনদেনে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ১৫ টাকা ৩০ পয়সা।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শর্প ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৫ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৭ টাকায় পৌঁছেছে, যা প্রায় ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। লেনদেন চলাকালে সর্বোচ্চ দর ছিল ১৭ টাকা ১০ পয়সা।
তৃতীয় স্থানে থাকা এলএইচবি শেয়ারের দর ৫০ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে ৫৩ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। এতে শেয়ারটির দাম প্রায় ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়েছে।
চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের এসইএমএল এফবিএসএল গ্রোথ ফান্ড। ফান্ডটির ইউনিট মূল্য ৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে, যা প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান ড্যাফোডিল কম্পিউটারস। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৬৩ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে ৬৭ টাকায় লেনদেন হয়েছে। এতে শেয়ারটির মূল্য প্রায় ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্স। বীমা খাতের এই কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩৩ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৫ টাকা ৫০ পয়সায় পৌঁছেছে, যা প্রায় ৫ দশমিক ০৩ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
সপ্তম স্থানে রয়েছে ভিএফএস থ্রেড ডাইং লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ১০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে ১১ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। এতে শেয়ারটির দাম প্রায় ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অষ্টম অবস্থানে রয়েছে আইবিপি লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ১২ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩ টাকা ৫০ পয়সায় পৌঁছেছে, যা প্রায় ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
নবম স্থানে রয়েছে আইসিবি সোনালি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। ফান্ডটির ইউনিট মূল্য ৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ৪ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে, যা প্রায় ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তালিকার দশম অবস্থানে রয়েছে শিল্প খাতের প্রতিষ্ঠান অ্যারামিট লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৬৬ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৭৩ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে, যা প্রায় ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ দরবৃদ্ধি নির্দেশ করে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দিনের লেনদেনে টেক্সটাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, বীমা ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের কিছু শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। খাতভিত্তিক এই উত্থান পুঁজিবাজারে স্বল্পমেয়াদি ক্রয়চাপের ইঙ্গিত দেয়। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানির মৌলভিত্তি, আয় প্রবৃদ্ধি এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
-রাফসান
১১ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) লেনদেনে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দিনের বাজার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট লেনদেন হওয়া অধিকাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ক্রয়চাপের প্রতিফলন দেখা গেছে।
ডিএসইর বাজারসারসংক্ষেপ অনুযায়ী, এদিন মোট ৩৯১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৩৬টির দর বেড়েছে, ৯৮টির দর কমেছে, এবং ৫৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।
এ ক্যাটাগরিতে লেনদেনে উত্থান
বাজারের প্রধান ও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত এ ক্যাটাগরিতে মোট ২০৪টি কোম্পানি লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১০৮টির দর বেড়েছে, ৫৭টির দর কমেছে, এবং ৩৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বজায় থাকায় এই ক্যাটাগরিতে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
বি ক্যাটাগরিতে শক্তিশালী ক্রয়চাপ
বি ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ৭৯টি কোম্পানির মধ্যে ৬২টির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র ১৩টি কোম্পানির দর কমেছে, এবং ৪টি অপরিবর্তিত রয়েছে। এই ক্যাটাগরিতে দরবৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় বাজারে মধ্যম মানের কোম্পানিগুলোর প্রতিও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেড ক্যাটাগরিতেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন
অপরদিকে জেড ক্যাটাগরিতে মোট ১০৮টি কোম্পানি লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৬৬টির দর বেড়েছে, ২৮টির দর কমেছে, এবং ১৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। যদিও এই ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলো তুলনামূলকভাবে দুর্বল মৌলভিত্তির, তবুও কিছু শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের স্বল্পমেয়াদি আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ড বাজার
মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও লেনদেনে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। মোট ৩৪টি ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে ১৪টির দর বেড়েছে, ৫টির দর কমেছে, এবং ১৫টি অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে করপোরেট বন্ড খাতে ২টি সিকিউরিটির লেনদেন হয়েছে, যার উভয়ের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে সরকারি সিকিউরিটিজে ৩টি ইস্যুর দর কমেছে।
লেনদেনের পরিমাণ ও বাজারমূলধন
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, এদিন বাজারে মোট ১ লাখ ৪৯ হাজার ২৩১টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। লেনদেন হওয়া মোট শেয়ারের পরিমাণ ছিল প্রায় ২১ কোটি ৯ লাখ ৬৫ হাজার ৬৮৬টি।
লেনদেনের মোট আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
অন্যদিকে বাজার মূলধনের দিক থেকেও পুঁজিবাজারের আকার বড় রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ইকুইটির বাজারমূলধন প্রায় ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা, মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারমূলধন প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা, এবং ঋণ সিকিউরিটিজসহ মোট বাজারমূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লাখ ১ হাজার কোটি টাকার বেশি।
ব্লক মার্কেটে বড় লেনদেন
এদিন ব্লক মার্কেটেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে। মোট ২৮টি কোম্পানির শেয়ার ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে, যেখানে ৭৭টি ট্রেডে প্রায় ৪১ লাখের বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এসব লেনদেনের আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৩৫৯ কোটি টাকার বেশি।
ব্লক মার্কেটে বড় লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছিল ওরিয়ন ইনফিউশন, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, লাভেলো আইসক্রিম, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং সিমটেক্স।
বিশেষ করে ওরিয়ন ইনফিউশন শেয়ারে বড় আকারের লেনদেন হয়েছে, যার মূল্য এককভাবে শত কোটি টাকারও বেশি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক, টেক্সটাইল, ওষুধ এবং কিছু উৎপাদন খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানির মৌলভিত্তি, আয়ের প্রবৃদ্ধি এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
-রাফসান
১১ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ দরপতনের তালিকা প্রকাশ
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) লেনদেনের সময় কিছু কোম্পানির শেয়ারের দামে উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগের কার্যদিবসের সমাপনী মূল্যের তুলনায় কয়েকটি শেয়ারের দাম ২ থেকে ৫ শতাংশের বেশি কমেছে। ফলে দিনের লেনদেনে বিভিন্ন খাতের কয়েকটি কোম্পানি শীর্ষ লুজার তালিকায় উঠে এসেছে।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড (এনবিএল)। কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের দিনের ৫ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে ৫ টাকা ১০ পয়সায় নেমে এসেছে, যা প্রায় ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ দরপতন নির্দেশ করে। দিনের লেনদেনে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ৫ টাকা ৫০ পয়সা।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে টুংহাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে ৩ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। এতে শেয়ারটির মূল্য প্রায় ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ কমেছে। দিনের লেনদেনে সর্বোচ্চ দর ছিল ৩ টাকা ৯০ পয়সা।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড। ফান্ডটির ইউনিট মূল্য ২ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে ২ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে এসেছে, যা প্রায় ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ পতন নির্দেশ করে।
চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড। ফান্ডটির ইউনিট মূল্য ৫ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে ৫ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে, যা প্রায় ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
পাট ও টেক্সটাইল খাতের প্রতিষ্ঠান জুট স্পিনার্স লিমিটেড তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারদর ২২২ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে ২১৪ টাকা ৯০ পয়সায় নেমে এসেছে, যা প্রায় ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ দরপতন নির্দেশ করে।
ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে প্রাইম টেক্সটাইল স্পিনিং মিলস লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার আগের দিনের ২২ টাকা থেকে কমে ২১ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। এতে শেয়ারটির দাম প্রায় ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ কমেছে।
সপ্তম অবস্থানে রয়েছে মেট্রো স্পিনিং লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে ৯ টাকা ২০ পয়সায় নেমে এসেছে, যা প্রায় ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ হ্রাস নির্দেশ করে।
অষ্টম স্থানে রয়েছে ব্যাংক খাতের আরেক প্রতিষ্ঠান এবি ব্যাংক লিমিটেড। শেয়ারটির দাম ৬ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে ৬ টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে, যা প্রায় ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ পতন নির্দেশ করে।
নবম স্থানে থাকা রেনউইক যাজনেস্বর অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড শেয়ারদর ৫২২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে ৫০৭ টাকা ২০ পয়সায় নেমে এসেছে। এতে শেয়ারটির মূল্য প্রায় ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমেছে।
তালিকার দশম স্থানে রয়েছে ওরিয়ন অ্যাগ্রো লিমিটেড (ওএএল)। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৬ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে ৬ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে, যা প্রায় ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ দরপতন নির্দেশ করে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দিনের লেনদেনে ব্যাংক, টেক্সটাইল এবং কিছু মিউচুয়াল ফান্ড খাতের শেয়ারে বিক্রির চাপ বেশি দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং স্বল্পমেয়াদি বাজার সংশোধনের প্রভাবেও কিছু শেয়ারের দামে সাময়িক পতন ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
-রাফসান
পাঠকের মতামত:
- নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রথম ঈদ: উৎসব, ঐক্য ও প্রত্যাশার বাংলাদেশ
- হরমুজ উত্তেজনার প্রভাব, ইরান তেলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত
- বিরোধী দলীয় নেতার ঈদের শুভেচ্ছা: সরকারি বাসভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন
- রমজানের শিক্ষা থেকে ঐক্যের ডাক: ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- হরমুজের সংকট মোকাবেলায় ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনায় ট্রাম্প
- চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরায়েলের অস্ত্র কারখানায় আগুন
- তেলের দামের ধাক্কায় সংকটে ভারতীয় বিমান খাত, রুট বন্ধের সতর্কতা
- ঈদের আনন্দ ম্লান: যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির ছায়ায় মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম বিশ্ব
- ইসরায়েলে প্রথমবার 'নাসরুল্লাহ' মিসাইল ব্যবহার করল ইরান
- জুমাতুল বিদা: ফজিলত, দোয়া ও করণীয় জানুন
- ইসরায়েলকে বড় জরিমানা ফিফার, কারণ কী
- শ্রমিকদের বেতন-বোনাস শতভাগ পরিশোধ করছে সরকার
- ট্রাম্প ও মিত্রদের জন্য ‘অপ্রত্যাশিত চমক’ প্রস্তুত রয়েছে- ইরান
- ইরান যুদ্ধে আটকে পড়ে পালানোর পথ খুঁজছেন ট্রাম্প
- সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন দেশের যেসব জায়গায়
- ‘বিশ্বকে রক্ষা করছি’ নেতানিয়াহুর দাবি
- আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তা
- ২০ মার্চ ঢাকার নামাজের পূর্ণ সময়সূচি
- দুই দফায় কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি মিলবে মাত্র ২ লাখ ২ হাজার টাকায়
- ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
- জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে আর ছাড় নয়: ইরান
- চাঁদ দেখার পর যে দোয়া পড়তেন নবী (সা.)
- কাতারের জ্বালানি কমপ্লেক্সে হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতার সীমিত অংশ
- ইরানের হামলায় ইসরাইলের তেল শোধনাগারে আগুন
- ‘আমি বেঁচে আছি’- গুজব ভেঙে সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু
- ইরান মিশনের পর জরুরি অবতরণ মার্কিন F-35, F-35 ক্ষতিগ্রস্ত?
- গ্যাস শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে ইরানের আঘাত: বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তার নতুন ঢেউ
- ‘কোরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই বদলে গেলাম’
- যুদ্ধের মাঝেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের মাস্টারপ্ল্যান
- যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত নেই: পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে ইরান ধ্বংসের নতুন নীল নকশা
- মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে ড্রোন হানা: ওয়াশিংটনের সামরিক ঘাঁটিতে আতঙ্ক
- বৃষ্টির বাধায় কি ম্লান হবে ঈদের আনন্দ? আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ আপডেট
- ২০২৬ সালে ভিসা ছাড়াই যেসব দেশে যেতে পারবেন
- এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছে দুই নতুন সংগঠন
- কুমিল্লা শেষ সময়ে জমজমাট আতর-টুপির বাজার
- ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা পেরিয়ে ঈদের ছুটিতে কুবি শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার আনন্দ
- ‘আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে’: ইরানকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী
- ইরান হামলার নিন্দা, আমিরাতের পাশে মিশর
- কালিগঞ্জের পল্লীতে ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে জখম, টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
- এক বছরে দুই রমজান ও তিন ঈদের অপেক্ষায় মুসলিম উম্মাহ
- জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত; শনিবারই উদযাপিত হবে ঈদ
- মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয় রুখতে ইউরোপের আল্টিমেটাম
- ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও ধস: সোনার দামে বাজুসের ঐতিহাসিক রেকর্ড পতন
- কাতারের গ্যাসে ইরানের আগুন: অন্ধকারে ডুবতে পারে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ এলাকা
- বাড়তি ভাড়া নিলেই কড়া অ্যাকশন: সেতুমন্ত্রীর
- আমেরিকায় হামলার সক্ষমতা গড়ে তুলছে ইরান: যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা সংস্থা
- মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়; কাতার-সৌদির পর এবার কুয়েতের তেল হাবে ভয়াবহ আগুন
- যমুনায় উঠছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ‘বড় ভুল’, কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের
- ৬ ঘণ্টায় সোনার দামে বড় পতন, নতুন রেকর্ড
- সৌদিতে আজ কি দেখা যাবে ঈদের চাঁদ? সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে
- বিলাসবহুল ধাতু স্বর্ণ এখন আরও সস্তা: বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ
- ঈদ কি তবে শুক্রবার? সৌদি আরবের চাঁদ দেখা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল!
- ‘৫০তম অভিযান’ ঘোষণা ইরানের, রণক্ষেত্র চার দেশে
- কালিগঞ্জের পল্লীতে ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে জখম, টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
- আজ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ঈদুল ফিতর ২০২৬: প্রধান জামাতের সময় ও জাতীয় ঈদগাহের সুযোগ-সুবিধা জেনে নিন
- টানা দুই দফায় কমল দাম; স্বর্ণের বাজারে বড় ধসের ইঙ্গিত!
- আজ ডিএসইর সেরা ১০ গেইনার কোনগুলো
- ১৪৪৭ হিজরির রমজান কি ২৯ দিনে শেষ হবে? সৌদি সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
- কালিগঞ্জে ডেঙ্গু বিরোধী যুদ্ধ! মশা তাড়াতে রাস্তায় নামলেন চিকিৎসকরা
- ১৬ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- পবিত্র রমজানের ২৫তম দিন; ১৫ মার্চের নামাজের সঠিক সময়সূচি জানুন
- হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত: জেনে নিন শবে কদরের করণীয় ও বর্জনীয়
- শেয়ারবাজারে দরপতনে এগিয়ে যেসব শেয়ার








