সাভারে ছদ্মবেশী ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাট; ৭ মাসে ৬ খুনের রোমহর্ষক কাহিনী

সাভারের জনবহুল এলাকায় গত সাত মাস ধরে চলা এক বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ। পুলিশের জালে ধরা পড়া সিরিয়াল কিলার ‘সম্রাট’, যার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ছয়জন মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই ঘাতক মূলত সাভার মডেল থানার আশপাশেই একজন ভবঘুরে বা ভিখারি হিসেবে গত কয়েক বছর ধরে বিচরণ করছিল। অথচ এই দীনহীন ছদ্মবেশের আড়ালে সে যে এক ভয়ংকর ঘাতক হয়ে উঠেছিল, তা ঘূর্ণাক্ষরেও টের পাননি স্থানীয় ব্যবসায়ী বা পুলিশ সদস্যরা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান আজ সকালে নিশ্চিত করেছেন যে, সম্রাটকে বর্তমানে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং তার দেওয়া প্রতিটি তথ্য গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।
সিরিয়াল কিলার সবুজের জন্মস্থান মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে। সে পান্না শেখের দ্বিতীয় সন্তান এবং সামাজিকভাবে অত্যন্ত ভয়ংকর হিসেবে পরিচিত একটি পরিবারের সদস্য। সাভারে এসে সে নিজেকে ‘কিং সম্রাট’ বা স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মশিউর রহমান খান সম্রাটের নাম ও পদবী ব্যবহার করে নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, সবুজের মূল টার্গেট ছিল ভবঘুরে নারীরা। সে নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন পরিত্যক্ত ভবন বা নির্জন স্থানে নারীদের নিয়ে আসত। পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সে দাবি করেছে, ওই নারীরা যদি অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে যোগাযোগ করত বা অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতো, তবে সে তাদের ওপর চড়াও হতো এবং নৃশংস কায়দায় হত্যা করত।
হত্যাকাণ্ডের এই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ শিকার হন তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণী এবং নাম না জানা এক যুবক। গত ১৮ জানুয়ারি সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে তাঁদের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সম্রাট পুলিশকে জানিয়েছে, ঘটনার ৩-৪ দিন আগে সে তানিয়াকে ওই কমিউনিটি সেন্টারে এনে রেখেছিল। সেখানে আরেকজন যুবক তানিয়ার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হলে সম্রাট প্রথমে ওই যুবককে ভবনের দোতলায় নিয়ে হত্যা করে। এরপর নিচতলায় তানিয়াকেও হত্যা করে সে এবং আলামত নষ্ট করতে লাশ দুটি পুড়িয়ে দেয়। সিসিটিভি ফুটেজে সম্রাটকে একটি লাশ সরানোর চেষ্টা করতে দেখেই মূলত পুলিশ তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
তদন্তে দেখা গেছে, গত সাত মাসে সাভারের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ছয়টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যার প্রতিটির সঙ্গেই সম্রাটের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। খুনের এই তালিকাটি শুরু হয় গত বছরের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের সামনে থেকে আসমা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধারের মাধ্যমে। এরপর ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট, ১১ অক্টোবর এবং ১৯ ডিসেম্বর সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে পর্যায়ক্রমে তিনজন অজ্ঞাতনামা নারী ও পুরুষের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডই অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং নৃশংস ছিল। সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আরমান আলীর মতে, সম্রাট একজন চরম বিকৃত রুচির মানুষ বা ‘সাইকোপ্যাথ’, যার অপরাধ করার ধরণের মধ্যে কোনো মানবিকতা ছিল না।
সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো সম্রাটের সামাজিক অবস্থান। সে সাভার মডেল থানার সামনে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের আশপাশে নিয়মিত ঘুরে বেড়াত। স্থানীয়রা তাকে চা-সিগারেট খাওয়াত এবং অনেক পুলিশ সদস্যও তাকে টাকা দিয়ে সাহায্য করত। তার হাতে মাঝেমধ্যে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল দেখা গেলেও একটি বাটন ফোন সে সব সময় ব্যবহার করত। কাশিমপুর-২ কারাগারের প্রাক্তন বন্দিদের মতে, কয়েক বছর আগে সম্রাট সেখানেও বন্দি ছিল এবং জেলের ভেতর সে অত্যন্ত বেপরোয়া ও চোর হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) এবং সাভার মডেল থানা পুলিশ এই সিরিয়াল কিলার সবুজের দেওয়া তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে অজ্ঞাতনামা নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে।
উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন; পুড়ে ছাই তিন শতাধিক ঘর
কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরের অন্যতম শফিউল্লাহ কাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিন শতাধিক ঝুপড়ি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে যখন শিবিরের বাসিন্দারা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখনই আগুনের সূত্রপাত হয়। অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় কয়েক হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী তাদের শেষ সম্বল হারিয়ে বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তবে অত্যন্ত সৌভাগ্যবশত, এখন পর্যন্ত এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। শীতের তীব্রতার মধ্যে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া এই বিশাল সংখ্যক মানুষের জন্য এখন জরুরি মানবিক সহায়তার প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৪ ব্লকে অগ্নিকাণ্ডের প্রথম সূত্রপাত হয়। ওই ব্লকে এনজিও সংস্থা ব্র্যাক পরিচালিত একটি শিখন কেন্দ্র বা লার্নিং সেন্টার থেকেই আগুনের শিখা প্রথম দৃশ্যমান হয়। অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় এবং ঘরগুলো মূলত বাঁশ ও প্লাস্টিকের ত্রিপল দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত পার্শ্ববর্তী শেড ও ঝুপড়ি ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন যে, মধ্যরাতে হঠাৎ আগুনের তাণ্ডব দেখে তারা প্রাণ বাঁচাতে সন্তানদের নিয়ে কোনোমতে ঘর থেকে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় নেন। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ঘর থেকে কোনো প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র বা কাপড়চোপড় বের করার সুযোগ পাননি অনেকেই।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই উখিয়া ও টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘনবসতিপূর্ণ এবং সরু রাস্তার কারণে অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে ও কাজ শুরু করতে বেগ পেতে হয়। প্রায় তিন ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টার পর সকালের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে ক্যাম্পের একাধিক ব্লকের ৩০০টিরও বেশি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন মাস্টার ডলার ত্রিপুরা জানিয়েছেন যে, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ বা প্রাথমিক সূত্রপাত সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনের ধ্বংসলীলায় কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড এখন এক নিয়মিত আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত বছর ২৬ ডিসেম্বর সকালে ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি হাসপাতাল অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়েছিল। তার ঠিক একদিন আগে ২৫ ডিসেম্বর রাতে কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে ১০টিরও বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বারবার এ ধরণের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্যাম্পের নিরাপত্তা এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। শফিউল্লাহ কাটা ক্যাম্পের ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গারা এখন খোলা আকাশের নিচে হাড়কাঁপানো শীতে দিন কাটাচ্ছেন, যাদের জন্য খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের জরুরি সহায়তা পৌঁছানো এখন প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
রাজধানী ঢাকার কর্মব্যস্ত জীবনে কেনাকাটা করা সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ। তবে সঠিক তথ্য না জেনে বাড়ি থেকে বের হয়ে যদি দেখা যায় কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য বা শপিংমলটি বন্ধ, তবে সেই বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পাওয়া কঠিন। আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সপ্তাহের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে রাজধানীর বেশ কিছু জনবহুল এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে। ফলে প্রয়োজনীয় কেনাকাটার পরিকল্পনা করার আগে নাগরিকদের নির্দিষ্ট এলাকা এবং শপিংমলের ছুটির তালিকাটি দেখে নেওয়া জরুরি। মূলত এলাকার সাপ্তাহিক ছুটির রুটিন অনুযায়ী আজ ঢাকার বড় একটি অংশ কেনাকাটার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে অনুপলব্ধ থাকবে।
আজ মঙ্গলবার যেসব এলাকার প্রধান প্রধান দোকানপাট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে, তার মধ্যে অন্যতম হলো কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ। এছাড়া রাজাবাজার, মনিপুরীপাড়া, তেজকুনীপাড়া এবং ঢাকার ব্যস্ততম কেন্দ্র ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজারের দোকানগুলোও আজ বন্ধের তালিকায় রয়েছে। দক্ষিণ ও পশ্চিম ঢাকার বড় একটি অংশ জুড়ে আজ কেনাকাটার সুযোগ থাকবে না, যার মধ্যে নীলক্ষেত, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, শুক্রাবাদ এবং সোবহানবাগ এলাকা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, জিগাতলা, রায়েরবাজার, পিলখানা এবং লালমাটিয়ার স্থানীয় মার্কেটগুলোও আজ তাদের সাপ্তাহিক ছুটি পালন করবে।
শপিংমলগুলোর তালিকার দিকে তাকালে দেখা যায় যে, আজ রাজধানীর অন্যতম আকর্ষণ বসুন্ধরা সিটি এবং দেশের অন্যতম বড় পাইকারি ও খুচরা বাজার নিউমার্কেট বন্ধ থাকবে। এছাড়া জনপ্রিয় বিপণিবিতান মোতালিব প্লাজা, সেজান পয়েন্ট, চাঁদনী চক, চন্দ্রিমা মার্কেট এবং গাউছিয়া মার্কেটে আজ কেনাকাটা করা সম্ভব হবে না। ধানমন্ডি এলাকার প্রায় সব কটি শপিংমল যেমন ধানমন্ডি হকার্স, বদরুদ্দোজা মার্কেট, প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার, গাউসুল আজম মার্কেট এবং রাইফেলস স্কয়ারে আজ তালা ঝুলবে। একইভাবে অর্চাড পয়েন্ট, ক্যাপিটাল মার্কেট, ধানমন্ডি প্লাজা, মেট্রো শপিংমল, প্রিন্স প্লাজা, রাপা প্লাজা এবং আনাম র্যাংগস প্লাজাতেও আজকের জন্য কোনো বেচাকেনা হবে না। কারওয়ান বাজার ডিআইটি মার্কেট এবং অর্চিড প্লাজার ক্রেতাদেরও বিকল্প দিনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগ এড়াতে আজ কেনাকাটার জন্য খোলা রয়েছে এমন বিকল্প এলাকা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
বিদ্যুৎ লাইনের জরুরি মেরামত, সংরক্ষণ এবং সঞ্চালন লাইনের পাশে থাকা গাছের ডালপালা কর্তনের জন্য আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সিলেট ও চট্টগ্রাম মহানগরীর বিশাল এলাকা জুড়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, সিলেটের কিছু এলাকায় টানা ৯ ঘণ্টা এবং চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ফিডারগুলোর আওতায় ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হবে। এই সংস্কার কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের জন্য ভবিষ্যতে আরও স্থিতিশীল, নিরাপদ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। তবে বিউবো কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে যে, যদি নির্ধারিত সময়ের আগে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ শেষ হয়ে যায়, তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে। সাময়িক এই বিভ্রাটের ফলে গ্রাহকদের সম্ভাব্য ভোগান্তির জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
সিলেটের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ জানিয়েছে যে, ৩৩/১১ কেভি লাক্কাতুরা উপকেন্দ্রের আওতাধীন বিভিন্ন ফিডারে আজ সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোট ৯ ঘণ্টা কাজ চলবে। এই সময়ের মধ্যে লাক্কাতুরা, বড়শালা, স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি এলাকা, মঙ্গলীরপাড়, নেছারাবাদ এবং পাকিস্তান বাড়ী সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। এছাড়া পর্যটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, এয়ারপোর্ট থানা এলাকা, ন্যাশনাল রোড, সালেহপুর, ইউনুছ মার্কেট, লিটল লন্ডন এবং বাইশটিলা ও এর আশেপাশের সকল ফিডারে বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকবে। লাক্কাতুরা উপকেন্দ্রের এই আধুনিকায়ন ও মেরামত প্রক্রিয়াটি ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন।
অন্যদিকে, বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও আজ এক বিশাল এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার ঘোষণা দিয়েছে বিউবো। চট্টগ্রামের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব এবং বন্দর-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফিডারের আওতায় আজ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না। বিদ্যুৎহীন এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে গাউসিয়া ও গ্রীনভিউ আবাসিক এলাকা, হামজারবাগ লেইন, পশ্চিম শহীদ নগর, উত্তর গেইট, দেলওয়ার কোম্পানির বাড়ি, ফকির টিলা, মির্জাপাড়া, মুরাদনগর, হক ফুড গলি, ভান্ডারী গলি, বড় বাড়ি গলি, এশিয়া ফ্যান ফ্যাক্টরী, আমিন জুট মিলস ও আমিন টেক্সটাইল এলাকা। এছাড়া বিবিরহাট কাঁচাবাজার, বশর মার্কেট, ফরেস্ট গেট থেকে মুরাদপুর মোড়, খ্রিষ্টান কবরস্থান, সামারহিল, মৌমিনবাগ, হামজারবাগ, ফুলেশ্বরী ও তাহেরাবাদ আবাসিক এলাকাগুলোতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেবে।
চট্টগ্রামের তালিকাটি আরও বিস্তৃত; যার মধ্যে রয়েছে আতুরার ডিপু পিয়াজু গলি, রৌফাবাদ সমাজ সেবা থেকে ফয়েজ টাওয়ার পর্যন্ত এলাকা, সংগীত সিনেমা রোড ও সংলগ্ন আবাসিক এলাকা, জাঙ্গালপাড়া, ওয়েলফুড গলি, সামাদপুর, মীরপাড়া এবং হাজিপাড়া গার্মেন্টস সংলগ্ন এলাকা। একই সাথে হাটহাজারী রোড, খন্দকিয়া বাজার ও ট্যাম্পুস্ট্যান্ড, মাজার গেইট, ভুলিয়াপাড়া, বাথুয়া এবং কুলগাঁও মাজার গেইট থেকে সাদ মুছা গার্মেন্টস পর্যন্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ থাকবে না। নতুন পাড়া, কাঁঠাল বাগান রোড, তুফানী রোড, চিকনদণ্ডী, পূর্ব ও পশ্চিম কুলগাঁও, কুলগাঁও আবাসিক এলাকা, বালুছড়া ও তৎসংলগ্ন এলাকা, কাসেম ভবন, কুয়াইশ কলেজ, ষোল পোল, ভরা পুকুর এবং হামিদ শরিফ রোডের গ্রাহকরাও এই বিভ্রাটের আওতায় থাকবেন। এছাড়াও নজুমিয়া হাট, বাথুয়া, নেয়ামত আলী রোড, বড় বাড়ি, পূর্ব শিকারপুর, রশিদ বাড়ি, মদুনাঘাট বাজার এলাকা এবং দক্ষিণ ও মধ্যম মাদ্রাসা, গ্রিন কলোনি রোড, চিনারপোল, রহমানিয়া সেতু ও ব্রাহ্মণহাট সংলগ্ন বিস্তীর্ণ জনপদে আজ নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
রাজধানী ঢাকার সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক যাতায়াতে রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে সৃষ্ট বিড়ম্বনা এড়াতে আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যস্ততম কর্মদিবসের শুরুতে যানজট ও সম্ভাব্য জনদুর্ভোগ এড়াতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য রাখা নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আজ গুলশান, বনানী, মহাখালী ও কাকরাইলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে রাজনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে এসব কর্মসূচির এলাকাগুলোতে বাড়তি পুলিশি টহল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আজকের কর্মসূচির শুরুতেই বিএনপি’র পক্ষ থেকে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বেলা ১১টা ও দুপুর ১২টায় দুই দফায় কূটনীতিকদের সঙ্গে বিশেষ প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়েছে। একই সময়ে কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিকেলে তাঁর ব্যস্ততা বাড়বে বনানী এলাকায়; সেখানে বিকেল ৩টায় হোটেল শেরাটনের বলরুমে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই কর্মসূচিটি দুপুর আড়াইটায় মহাখালী টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বনানী চেয়ারম্যান বাড়ী মাঠে পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোল এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে জাতীয় পার্টি। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় কাকরাইলের হোটেল গ্রান্ড প্যালেসে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এবং মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ দলের শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির ঘনিষ্ঠ আলোচনা এবং অন্যদিকে জাতীয় পার্টির সংবাদ সম্মেলন—সব মিলিয়ে মঙ্গলবারের ঢাকার রাজপথ রাজনৈতিকভাবে বেশ সরগরম থাকবে। ফলে এসব এলাকায় যাতায়াতকারী সাধারণ নাগরিকদের বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে গন্তব্যে পৌঁছাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিড়ম্বনার শিকার হতে না হয়।
পাহাড় খেকোদের প্রতিরোধে প্রাণ দিলেন র্যাব কর্মকর্তা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় এক বিশেষ অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত কর্মকর্তার নাম মো. মোতালেব, যিনি বিজিবি সদস্য হলেও ডেপুটেশনে র্যাব-৭-এ ডিএডি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় আরও বেশ কয়েকজন র্যাব সদস্য আহত হয়েছেন যাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। এই নজিরবিহীন হামলার পর অপরাধীদের গ্রেপ্তারে এবং জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নিতে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে এক বিশাল যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) মো. সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, সন্ত্রাসীদের নির্মূল না করা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি গত চার দশক ধরে পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হাজার হাজার অবৈধ বসতি এবং অপরাধের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই দখলদারিত্ব ও অবৈধ প্লট বাণিজ্য টিকিয়ে রাখার জন্য সেখানে একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত ও সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, এই অপরাধী চক্র এতটাই শক্তিশালী যে তারা পুরো এলাকার জন্য আলাদা পরিচয়পত্র ব্যবস্থা চালু করেছে এবং সেখানে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রবেশেও সেখানে চরম বাধা সৃষ্টি করা হয়। এর আগেও একাধিকবার অভিযান পরিচালনার সময় সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর সংঘবদ্ধ ও সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার ধারাবাহিকতায় আজ এক র্যাব কর্মকর্তাকে প্রাণ দিতে হলো। পাহাড়ের এই দুর্ভেদ্য দুর্গে প্রশাসনের কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় অপরাধীরা দীর্ঘ দিন ধরে সেখানে এক সমান্তরাল শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করে আসছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এই দুর্ভেদ্য অপরাধ সাম্রাজ্যের পেছনে মূলত দুটি শক্তিশালী সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। এর একটি হলো চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন মিয়ার নেতৃত্বাধীন ‘আলীনগর বহুমুখী সমিতি’ এবং অন্যটি কাজী মশিউর ও গাজী সাদেকের নিয়ন্ত্রিত ‘মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ’। পুলিশ ও প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই দুই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। এই বিশাল জনবলকে ব্যবহার করে তারা দখল করা পাহাড়ি জমিতে বসতি স্থাপন, নিয়মিত চাঁদাবাজি এবং অবৈধ প্লট বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই দুই পক্ষের আধিপত্য এতটাই প্রবল যে সাধারণ মানুষ ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলার সাহস পায় না। দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধ সাম্রাজ্য নির্মূলের চেষ্টা চললেও ভৌগোলিক অবস্থান ও সশস্ত্র প্রতিরোধের কারণে প্রশাসনকে বারবার পিছু হটতে হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যৌথ বাহিনীর এই নতুন অভিযান জঙ্গল সলিমপুরকে স্থায়ীভাবে অপরাধমুক্ত করতে এক চূড়ান্ত ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নদী ভাঙন ও মানুষের দুর্ভোগ; তিস্তা প্রকল্পে নতুন আশার আলো দেখছে চীন
বাংলাদেশে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক বা ভূ-রাজনৈতিক চাপের অস্তিত্ব নেই বলে সাফ জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুরের কাউনিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গে নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন যে, ব্যক্তিগতভাবে বা চীনের পক্ষ থেকে তিনি কোনো ধরনের ভূ-রাজনৈতিক চাপ অনুভব করছেন না, কারণ এটি মূলত বাংলাদেশের একটি অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন প্রকল্প। বাংলাদেশ সরকার যতদিন পর্যন্ত চীনের সঙ্গে এই প্রকল্প এগিয়ে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকবে, চীন ততদিন কারিগরি ও অন্যান্য সহযোগিতা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, চীন যখন কোনো প্রজেক্ট হাতে নেয়, তখন সেটি সম্পূর্ণরূপে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ওপর ভিত্তি করে করা হয় যাতে তা দীর্ঘমেয়াদে কালের পরীক্ষায় টিকে থাকতে পারে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীনা রাষ্ট্রদূত অত্যন্ত সতর্ক ও আশাবাদী অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান যে, এই প্রকল্পের প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে সম্পন্ন করা হবে। যেহেতু এটি অনেক বড় এবং জটিল একটি অবকাঠামোগত প্রকল্প, তাই এর স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা চীনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন দৃঢ়ভাবে বলেন যে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীর তীরবর্তী লাখ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে এবং তাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করছে এবং চীন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যে প্রকল্পটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। যদিও কাজের শুরুর দিনক্ষণ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ তিনি উল্লেখ করেননি, তবে প্রক্রিয়ার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে বলে তিনি গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করেন।
পরিদর্শনকালে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চীনা রাষ্ট্রদূতকে ঘুরিয়ে দেখান। তিনি রাষ্ট্রদূতের সামনে নদী ভাঙনের ফলে সাধারণ মানুষের ভিটেমাটি হারানোর করুণ চিত্র এবং সীমাহীন দুর্ভোগের কথা সবিস্তারে তুলে ধরেন। এ সময় নদীর পাড়ে উপস্থিত ভিটেমাটি হারানো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, নদী আন্দোলনের কর্মী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রদূত। জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও এ সময় উপস্থিত থেকে নদী শাসনের প্রয়োজনীয়তা ও স্থানীয় জনপদের ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান উপস্থাপন করেন। নদী তীরের মানুষের দীর্ঘদিনের আর্তনাদ ও তাঁদের দাবির বিষয়টি সরেজমিনে দেখার পর রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন দ্রুত কাজ শুরুর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা স্থানীয়দের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
চীনের রাষ্ট্রদূত তাঁর এই সফরের অংশ হিসেবে কেবল পরিদর্শনই করেননি, বরং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের সঙ্গেও নিবিড় আলোচনা করেছেন। এর আগে গত রোববার রাতে রংপুরে তিনি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও তিস্তা আন্দোলন কর্মীদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন।
ওই বৈঠকে উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে প্রতিবন্ধকতাগুলো এবং স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশার কথা গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও তিস্তা প্রকল্পে চীনের কারিগরি সহায়তাকে স্বাগত জানান। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের এই সফরের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রতি যে জোরালো সমর্থন প্রকাশ করা হয়েছে, তা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এক বড় ধরণের প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সাভারে একের পর এক লাশ, সিরিয়াল কিলারের দাবি পুলিশের
ঢাকার সাভারে একের পর এক রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক মাসে সাভার মডেল থানা ও এর আশপাশের এলাকায় ধারাবাহিকভাবে একাধিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা চরমে পৌঁছেছে। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করে পুলিশ এবার একজন ‘সিরিয়াল কিলার’ সক্রিয় থাকার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করা সম্রাট নামের এক ভবঘুরে ব্যক্তিকে আটক করে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অন্তত ছয়টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রায় সাত মাস আগে সাভার মডেল মসজিদের সামনে প্রথম একটি নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সময় ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তী সময়ে একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বিষয়টি নতুন মোড় নেয়।
গত বছরের ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার এলাকা থেকে একটি অজ্ঞাত পরিচয় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই এলাকা থেকেই গত ১৯ ডিসেম্বর আরও একটি মরদেহ পাওয়া যায়। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি রোববার ওই কমিউনিটি সেন্টারের একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে আগুনে পোড়া অবস্থায় দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
একই এলাকার আশপাশে ধারাবাহিকভাবে এসব লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজনদের তালিকা সংকুচিত করে। সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয়দের বক্তব্য এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সন্দেহের তীর গিয়ে পড়ে সম্রাট নামের ওই ভবঘুরে ব্যক্তির দিকে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার চলাফেরা, অবস্থান ও বক্তব্যের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ঘটনাগুলোর সময় ও স্থানের উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।
সাভার মডেল থানার এক কর্মকর্তা জানান, আটক ব্যক্তিকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার দেওয়া তথ্য যাচাই করে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রকৃত সংযোগ নির্ণয়ের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, “ঘটনাগুলো অত্যন্ত নৃশংস ও হৃদয়বিদারক। মরদেহ উদ্ধারের পরপরই আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করি। বিভিন্ন তথ্য মিলিয়ে সন্দেহভাজনকে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
একই এলাকায় একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ভয় বিরাজ করছে। অনেকেই সন্ধ্যার পর চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
-রফিক
আজ টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
চট্টগ্রাম মহানগরীর বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার জরুরি মেরামত, সংরক্ষণ এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) শহরটির একটি বড় অংশে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এক দাপ্তরিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নাগরিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট সম্পর্কে সতর্ক করেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে টানা সাত ঘণ্টা অর্থাৎ দুপুর ৩টা পর্যন্ত এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে। এই সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব এবং বন্দর-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফিডারের আওতাধীন এলাকাগুলোতে কোনো ধরণের বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল থাকবে না। মূলত বর্ষা মৌসুমের আগে সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কারিগরি ত্রুটি নিরসনের লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে চট্টগ্রামের অন্যতম ব্যস্ত শিল্প এলাকা বায়োজিদের উৎপাদন কার্যক্রমে বড় ধরণের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিপিডিবির তালিকা অনুযায়ী বায়োজিদ এলাকার ক্লিপটন গার্মেন্টস, রেনেস্কো গার্মেন্টস, এম কে স্টীল এবং কেডিএস গার্মেন্টসের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এর পাশাপাশি আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোর মধ্যে খন্দকিয়া বাজার, খন্দকিয়া ট্যাম্পু স্ট্যান্ড, মাজার গেইট, ভুলিয়াপাড়া, বাথুয়া এবং শেরশাহ এলাকায় বাতি জ্বলবে না। আবাসিক গ্রাহকদের একটি বড় অংশ বিশেষ করে পাহাড়িকা আবাসিক, ভেড়া ফকির এলাকা, সমবায় আবাসিক, সাংবাদিক সোসাইটি, মোহাম্মদ নগর ও শান্তি নগর এলাকার বাসিন্দারাও এই সাত ঘণ্টা বিদ্যুতের অভাবে বিড়ম্বনায় পড়বেন। এছাড়া রাজা মিয়া মার্কেট, শেরশাহ কলোনী, তারা গেইট এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সংলগ্ন এলাকায় পানির পাম্প ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবহার ব্যাহত হতে পারে।
মেরামত ও উন্নয়ন কাজের এই আওতা বিস্তৃত হয়েছে চট্টগ্রামের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতেও। কুয়াইশ, ভরা পুকুর, নজুমিয়া হাট, তেঁতুলতলা এবং মধ্যম বুড়িশ্চর এলাকার গ্রাহকরা আজ দিনের প্রথম ভাগে বিদ্যুৎ পাবেন না। এর বাইরে বুড়িশ্চর বাজারসহ উত্তর ও দক্ষিণ বুড়িশ্চরের সকল শাখা গলি, ফকিরের দোকান, রশিদ বাড়ি, খালেকের হাট এবং আজিজিয়া মাজার ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ জনপদে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রাখা হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ তাঁদের বিজ্ঞপ্তিতে গ্রাহকদের প্রতি এই সাময়িক ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে তাঁরা স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, বর্তমানে এই ধরণের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরণের যান্ত্রিক বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা থেকে যায়। বিপিডিবির মতে, সাময়িকভাবে গ্রাহকদের কিছুটা কষ্ট হলেও এই জরুরি মেরামত ও আধুনিকায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে আগামীতে নগরবাসীর জন্য আরও স্থিতিশীল, নিরাপদ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। দুপুর ৩টার পর কাজ শেষ হওয়া সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে সব এলাকায় পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হবে।
আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত জীবনে কেনাকাটা আমাদের দৈনন্দিন রুটিনের একটি অপরিহার্য অংশ। তবে পরিকল্পনামতো কেনাকাটা করতে গিয়ে যদি দেখা যায় পছন্দের মার্কেট বা এলাকাটি বন্ধ, তবে সেই বিড়ম্বনার সীমা থাকে না। আজ সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬। সপ্তাহের অন্যান্য দিনের মতো আজও ঢাকার বিশাল একটি অংশের দোকানপাট এবং শপিংমল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ থাকবে। তাই ঘর থেকে বের হওয়ার আগে নগরবাসীকে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে তাদের গন্তব্যস্থলটি আজ খোলা আছে কি না।
মূলত উত্তর ও মধ্য ঢাকার একটি বড় অংশ এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় আজ অর্ধদিবস বন্ধের নিয়ম কার্যকর থাকবে। বিশেষ করে যারা আজ আগারগাঁও, তালতলা, শেরেবাংলা নগর কিংবা শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া এলাকায় কেনাকাটার পরিকল্পনা করছেন, তাদের দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। একই চিত্র দেখা যাবে পল্লবী, মিরপুর-১০, ১১, ১২, ১৩ এবং ১৪ নম্বর এলাকায়। ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, কাফরুল এবং ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও আজ দোকানপাট অর্ধদিবস বন্ধ থাকবে।
রাজধানীর অভিজাত ও বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে পরিচিত মহাখালী, নিউ ডিওএইচএস, ওল্ড ডিওএইচএস এবং কাকলী এলাকাতেও আজ কেনাকাটার সুযোগ সীমিত থাকবে। তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর এলাকা এবং তেজগাঁও শিল্প এলাকার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও আজ অর্ধদিবস ছুটি পালন করা হবে। গুলশান-১ ও ২, বনানী এবং মহাখালী কমার্শিয়াল এরিয়ার মতো ব্যস্ত এলাকাগুলোতে আজ কেনাকাটা করতে যাওয়া পর্যটক ও স্থানীয়দের বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে। এর পাশাপাশি নাখালপাড়া, মহাখালী ইন্টার সিটি বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকা, রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও এবং গোড়ান এলাকায় আজ দুপুর পর্যন্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। মালিবাগের একাংশ, বাসাবো, ধলপুর, সায়েদাবাদ, মাদারটেক, মুগদা এবং কমলাপুরের একাংশেও আজ বন্ধের তালিকায় রয়েছে। এছাড়া যাত্রাবাড়ীর একটি অংশসহ শনির আখড়া, দনিয়া, রায়েরবাগ এবং সানারপাড় এলাকায় যারা কেনাকাটার জন্য যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাদেরও আজকের সূচি মাথায় রাখতে হবে।
নির্দিষ্ট কিছু জনপ্রিয় ও বড় মার্কেটের ক্ষেত্রেও আজ অর্ধদিবস বন্ধের এই নিয়ম কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তিবাজার হিসেবে পরিচিত বিসিএস কম্পিউটার সিটি বা আইডিবি ভবন আজ দুপুর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। মিরপুর এলাকার পল্লবী সুপার মার্কেট এবং ঐতিহ্যের প্রতীক মিরপুর বেনারসি পল্লি আজ অর্ধদিবস ছুটির কবলে থাকবে। ইব্রাহীমপুর বাজার, রজনীগন্ধা মার্কেট, ইউএই মৈত্রী কমপ্লেক্স এবং বনানী সুপার মার্কেটেও আজ কেনাকাটার সুযোগ থাকছে না। গুলশানের জনপ্রিয় শপিং গন্তব্য ডিসিসি মার্কেট-১ ও ২, গুলশান পিংক সিটি এবং মোল্লা টাওয়ারেও আজ ছুটির আমেজ থাকবে। এর বাইরে আল-আমিন সুপার মার্কেট, রামপুরা ও মালিবাগ সুপার মার্কেট এবং তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট আজ অর্ধদিবস বন্ধ থাকবে। কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, গোরান বাজার, আবেদিন টাওয়ার, ঢাকা শপিং সেন্টার, আয়েশা মোশারফ শপিং কমপ্লেক্স এবং মিতালী অ্যান্ড ফ্রেন্ড সুপার মার্কেটের ক্রেতাদেরও আজ দিনের প্রথম ভাগে বিকল্প পরিকল্পনা করতে হবে।
পাঠকের মতামত:
- সাভারে ছদ্মবেশী ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাট; ৭ মাসে ৬ খুনের রোমহর্ষক কাহিনী
- বিকেলের নাস্তায় নতুন চমক: ঘরেই তৈরি করুন লাল টুকটুকে টার্কিশ ডিলাইট
- আমাকে স্বাধীনভাবে বাঁচতে দিন: ক্যামেরা ও গ্ল্যামার থেকে কেন দূরে সরছেন নেহা?
- নির্বাচনে জয়ী হলে বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করবে জামায়াত: ডা. শফিক
- ২০ জানুয়ারি ২০২৬: মার্কিন ডলার থেকে রুপি, জানুন আজকের বিনিময় হার
- সুস্থ গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করতে ৫টি মারাত্মক ভুল এড়িয়ে চলুন
- ইসবগুল না কি চিয়া সিড? ফাইবারের ঘাটতি মেটাতে কোনটি বেশি কার্যকর?
- উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন; পুড়ে ছাই তিন শতাধিক ঘর
- লিটন না কি ওকস? এলিমিনেটরের মহাযুদ্ধে শেষ হাসি হাসবে কে?
- কুচক্রী মহল থেকে সাবধান: ফেসবুক পোস্টে জরুরি বার্তা দিলেন আজহারি
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- নামাজের সময়সূচি: ২০ জানুয়ারি ২০২৬
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- চাকুরিজীবীদের জন্য সুখবর: বৈশাখী ভাতায় বড় চমক দিচ্ছে পে কমিশন
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে স্বর্ণের দাম: মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- নিরপেক্ষ সরকার কি ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইতে পারে? গণভোট ঘিরে আইনি জটিলতা
- পাহাড় খেকোদের প্রতিরোধে প্রাণ দিলেন র্যাব কর্মকর্তা
- ভোটে বাধা দিলে আপনি শেখ হাসিনা হয়ে যাবেন: আসিফ নজরুল
- এই প্রথম! উদ্ভিদের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়া চর্মচক্ষে দেখল মানুষ
- এলপিজি সংকটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ; রান্নায় গ্যাস বাঁচানোর উপায়
- গুড়ে মিশছে চিনি ও ক্ষতিকর রং; ভেজাল এড়িয়ে চলবেন যেভাবে
- নদী ভাঙন ও মানুষের দুর্ভোগ; তিস্তা প্রকল্পে নতুন আশার আলো দেখছে চীন
- পে স্কেল নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন অর্থ উপদেষ্টা
- নতুন বাংলাদেশ গড়তে ‘হ্যাঁ’ ভোট কেন জরুরি? জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
- ড. ইউনূসের সঙ্গে নাহিদ-আসিফের সাক্ষাৎ; নির্বাচন নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা
- নানিয়ারচরের শীতার্তদের পাশে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন
- নলতায় পীরে কামেল আহ্ছানউল্লা (র.)- এর ৬২তম ওরছ শরীফ ২৬–২৮ মার্চ
- আগামীর রাজনীতি হবে মানুষের কল্যাণে: তারেক রহমান
- আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়, ওটা ছিল প্রতিবাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি: রুমিন ফারহানা
- এক ব্যক্তির শাসন রুখতে ‘হ্যাঁ’ ভোট কেন জরুরি? জানালেন আলী রীয়াজ
- অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পথ বন্ধ; চালু হচ্ছে ই-টিকিট
- সেনাবাহিনী থেকে কোস্ট গার্ড: শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কড়া বার্তা
- প্রধান বোর্ডে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা, লেনদেনে নতুন গতি
- ১৯ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১৯ জানুয়ারি বাজারে দরপতনের ১০ শেয়ার
- শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব: শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- আমিরাতের আকাশে শাবান মাসের চাঁদ, রমজান শুরু হতে আর কত দিন
- বাংলাদেশের পাশে পাকিস্তান, বিশ্বকাপে চাপ বাড়ছে আইসিসির ওপর
- তিস্তা মহাপরিকল্পনা চলমান, তিন লক্ষ্য একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
- শহীদ জিয়ার ৯০তম জন্মদিনে সমাধিতে বিএনপির শ্রদ্ধা
- ২০২৬ হজে হজযাত্রী সেবায় নতুন নির্দেশনা
- নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতায় আস্থা রাখছে বিএনপি: ফখরুল
- মব সৃষ্টি ও ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি: রুমিন ফারহানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
- রাজনৈতিক ডামাডোল ও অর্থনৈতিক ভীতি: বিশ্ববাজারে রেকর্ড গড়ল সোনা ও রুপা
- সাভার পাচ্ছে সিটি করপোরেশন, কেরানীগঞ্জ হচ্ছে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা
- সাভারে একের পর এক লাশ, সিরিয়াল কিলারের দাবি পুলিশের
- ১৯ জানুয়ারি ২০২৬: মার্কিন ডলার থেকে রুপি, জানুন আজকের বিনিময় হার
- ডেইলি এনএভিতে ধরা পড়ল মিউচুয়াল ফান্ড সংকেত
- ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত
- বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ থেকে টানা ৩ দিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ডিএসই পরিদর্শন/ডোমিনেজ চালু, অন্য চার কোম্পানির কারখানা বন্ধ
- বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ডিএসইর আইনি সতর্কতা
- সরকারি বন্ড বাজারে স্থগিতাদেশ ও ডিলিস্টিং একসঙ্গে
- ওষুধের বাজারে উত্তাপ: কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণনে লাগাম টানছে সরকার
- শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার
- বিনিয়োগকারী অভিযোগে ডিজিটাল সমাধান জোরদার ডিএসইর
- ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কোথায় সুযোগ
- রেকর্ড ডেট শেষে সরকারি বন্ড ও দুই কোম্পানীর লেনদেন শুরু
- জেফার বললেন ‘জানি না’, অথচ আমিনবাজারে চলছে বিয়ের রাজকীয় প্রস্তুতি!
- তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে বিদ্রোহী দমনে বড় জয়
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আইবিপির প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ








