ভোটে বাধা দিলে আপনি শেখ হাসিনা হয়ে যাবেন: আসিফ নজরুল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে এক নতুন ধরণের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির রূপরেখা ঘোষণা করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন যে, বর্তমান সরকার দেশে একটি ‘অসাধারণ’ নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিজের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন। তবে এই ভোটদান প্রক্রিয়ায় যদি কেউ অন্য কোনো ভোটারের অধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তবে তার আচরণ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমতুল্য হয়ে যাবে বলে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। আসিফ নজরুলের মতে, আমরা কোনোভাবেই ‘শেখ হাসিনা’ হতে চাই না এবং এই লক্ষ্যেই আগামী নির্বাচনে সবার ভোটাধিকার সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখা হবে। ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি এবং গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
বিগত সরকারের শাসনামলের সমালোচনা করে আইন উপদেষ্টা বলেন যে, গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার এদেশের জনগণকে তাদের মৌলিক ভোটাধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত রেখেছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, একবার রাতের আঁধারে ভোট চুরি করা হয়েছে, আরেকবার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই এককভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে এবং সবশেষে ‘আমি-ডামি’ নামক ভুয়া প্রার্থীর নাটক সাজিয়ে নির্বাচনকে তামাশায় পরিণত করা হয়েছিল। এই ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর যে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং অবৈধভাবে ক্ষমতা ভোগ করার জন্য দেশকে যেভাবে অন্য দেশের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল, সেই অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে এখন একটি স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে দেশ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার অসীম আত্মত্যাগের ফলেই আজ এদেশের ১৮ কোটি মানুষ পুনরায় নিজের জনপ্রতিনিধি কে হবেন, তা নির্ধারণ করার সুযোগ ফিরে পেয়েছেন। আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে বলেন যে, আগে জনপ্রতিনিধি কে হবেন তা ঠিক করতেন শেখ হাসিনা, কিন্তু এখন থেকে সেই ক্ষমতা জনগণের হাতেই থাকবে।
আসন্ন গণভোটের যৌক্তিকতা তুলে ধরে ড. আসিফ নজরুল একে কোনো বিশেষ দলের স্বার্থের ঊর্ধ্বে রেখে ‘দেশের স্বার্থ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এদেশ থেকে যদি বৈষম্য, শোষণ, নিপীড়ন, অবিচার এবং দীর্ঘদিনের দুর্নীতির অবসান ঘটাতে হয়, তবে সাধারণ মানুষকে সচেতনভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। তিনি মনে করেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অর্থই হলো একটি নতুন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক বাংলাদেশে প্রবেশ করা। অন্যদিকে, যারা অন্যায় ও অবিচারের ধারাকে সমর্থন করবেন তারা ‘না’ ভোট দেবেন। এবারের নির্বাচনের একটি ঐতিহাসিক দিক উল্লেখ করে তিনি জানান যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভাইয়েরা সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন এবং একই সাথে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিনটি প্রধান অগ্রাধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন যে, রাষ্ট্র সংস্কার, গণহত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা এবং একটি অবাধ নির্বাচন সম্পন্ন করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
মতবিনিময় সভায় বগুড়ার স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাউল করিমসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও ছাত্র-জনতা এই সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বগুড়ার অধ্যক্ষ এসএম প্রকৌশলী ইমদাদুল হক স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। সভায় আগতদের উদ্দেশে আসিফ নজরুল বলেন যে, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে প্রাপ্ত এই সুযোগ কোনোভাবেই হারানো চলবে না এবং ভোট দেওয়ার মাধ্যমেই নাগরিকদের তাঁদের আকাঙ্ক্ষিত সরকার ও জনপ্রতিনিধি নির্ধারণ করতে হবে। তিনি বগুড়ার মানুষকে গণভোটের গুরুত্ব উপলব্ধি করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
নতুন বাংলাদেশ গড়তে ‘হ্যাঁ’ ভোট কেন জরুরি? জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঐতিহাসিক গণভোটে দেশের নাগরিকদের ‘হ্যাঁ’ বাক্সে সিল দেওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের এই চূড়ান্ত পর্বে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এই ভাষণে তিনি দেশের বিদ্যমান শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরেন। ড. ইউনূস স্পষ্ট করে বলেন যে, একটি বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত এবং নিপীড়নহীন বাংলাদেশ গড়ার যে আকাঙ্ক্ষা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নের চাবি এখন সাধারণ মানুষের হাতে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দেওয়ার মাধ্যমেই সেই নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা শুরু হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, এই রায়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ঐকমত্যের একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি হবে। এর ফলে কোনো ক্ষমতাসীন সরকার আর একক সিদ্ধান্তে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারবে না। এছাড়া সংবিধানের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এখন থেকে কেবল জনগণের সরাসরি সম্মতির ভিত্তিতেই সম্ভব হবে, যা সংসদীয় স্বৈরাচার বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ড. ইউনূস এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, আগামীতে কোনো ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন থাকতে পারবেন না। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতার দাপট ও স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে প্রধান উপদেষ্টা বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে জাতীয় সংসদে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিগুলোর সভাপতি নির্বাচিত করার বিধান চালু করা হবে, যা রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে বিরোধী দলের গঠনমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে এবং পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে তিনি জানান যে, আর সব ক্ষমতা একজন প্রধানমন্ত্রীর হাতে পুঞ্জীভূত থাকবে না। এমনকি রাষ্ট্রপতি চাইলেই আর দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো বড় অপরাধীকে নিজের ইচ্ছামতো ক্ষমা করতে পারবেন না, যা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিশেষ সহায়ক হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীকে আবেগঘন কণ্ঠে আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, রাষ্ট্রকে আপনার প্রত্যাশামতো গড়ে তোলার জন্য এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দিতে ‘হ্যাঁ’-তে সিল দেওয়া অপরিহার্য। তিনি মনে করেন, এই গণভোট কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি নাগরিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা থেকে মুক্তির এক বড় হাতিয়ার। প্রতিটি ভোটারকে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের পবিত্র ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি তাঁর ভাষণ শেষ করেন। তাঁর এই ভাষণটি এমন এক সময়ে এলো যখন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার দফায় দফায় আলোচনা চলছে।
এক ব্যক্তির শাসন রুখতে ‘হ্যাঁ’ ভোট কেন জরুরি? জানালেন আলী রীয়াজ
আসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও জনমত গঠনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। সোমবার সকালে ময়মনসিংহের টাউন হল অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবশ্যই গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন এবং এ ক্ষেত্রে আইনি বা প্রশাসনিক কোনো বাধা নেই। মূলত গণভোটের পক্ষে সাধারণ ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং প্রচারণার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই বিভাগীয় সভায় তিনি সরকারি প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দেশে যেন অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করার জন্য এই গণভোট একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমেই কেবল সেই গণতান্ত্রিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ তাঁর বক্তব্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর অর্পিত সুনির্দিষ্ট দায়িত্বগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এক ব্যক্তির ইচ্ছায় যেন দেশ পরিচালিত না হয়—সেই পবিত্র আমানত ও দায়িত্ব এদেশের শহীদরা বর্তমান প্রজন্মের ওপর দিয়ে গেছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এই সরকারকে যে ম্যান্ডেট দিয়েছে তার মধ্যে প্রধান কাজগুলো হলো রাষ্ট্রের সামগ্রিক সংস্কার করা, মানবতাবিরোধীদের বিচার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা এবং একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ‘জুলাই সনদ’ সংবিধানে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যা ভবিষ্যতের বাংলাদেশের শাসনপদ্ধতির রূপরেখা নির্ধারণ করবে। একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলা, স্বাধীন বিচারবিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যেই নাগরিকদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিভাগের চার জেলার শীর্ষ প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরাসরি অংশ নেন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল গণভোটের প্রয়োজনীয়তা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরকে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। অধ্যাপক রীয়াজ কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেন যে, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা কেবল পালনীয় নয় বরং এটি রাষ্ট্রকে নতুন করে সাজানোর একটি নৈতিক দায়িত্ব। সভার সমাপ্তিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য উপস্থিত কর্মকর্তাদের যার যার অবস্থান থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সেনাবাহিনী থেকে কোস্ট গার্ড: শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কড়া বার্তা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান যে, এবারের নির্বাচনে দেশজুড়ে মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।
এই বিশাল বাহিনীর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ সদস্য সরাসরি মাঠে থাকবেন। এছাড়া নৌ-বাহিনীর ৫ হাজার, বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন (যার মধ্যে স্থলভাগে থাকবেন ১ হাজার ২৫০ জন), পুলিশের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন, র্যাবের ৭ হাজার ৭০০ জন এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারের লক্ষ্য হলো একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা, যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো প্রক্রিয়াকে দুই পর্বে ভাগ করে বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম পর্বে বর্তমানে যারা মোতায়েন রয়েছেন তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবেন এবং দ্বিতীয় পর্বে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ৭ দিন ভোটকেন্দ্রিক বিশেষ মোতায়েন কার্যকর থাকবে। পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে পরিচালিত হবে এবং ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করবে।
এছাড়া পুলিশ, আনসার, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও র্যাবের সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় ‘আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’ গঠন করা হবে যেখানে প্রতিটি বাহিনীর একজন করে প্রতিনিধি সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একটি বিশেষ টিম গঠন করে এই সমন্বয় সেলের সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যাতে নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাগুলোতে টহল কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি ব্যালট পেপার ও অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহনের জন্য বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে এবারের নির্বাচন এক নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করে আকাশপথ থেকে নজরদারি চালানো হবে, যার মধ্যে সেনাবাহিনী ২০০টি এবং বিজিবি ১০০টি ড্রোন পরিচালনা করবে। এছাড়া পুলিশ, নৌ-বাহিনী, কোস্ট গার্ড, র্যাব এবং আনসার বাহিনীর কাছেও নির্দিষ্ট সংখ্যক ড্রোন থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন বাহিনী তাদের প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করবে। তবে এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত 'নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬'। এই অ্যাপের মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসার থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম পর্যন্ত সবাই যুক্ত থাকবেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত প্রতিকারে সহায়তা করবে। এছাড়া প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিশেষ নির্বাচনী প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে যা আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হবে।
সারাদেশে এবারের জাতীয় নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২,৭৬১টি, যার মধ্যে ৮,৭৮০টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ১৬,৫৪৮টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে থাকছে ১৭,৪৩৩টি কেন্দ্র। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের জন্য ২৫ হাজার বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে এমন দুষ্কৃতকারীদের দমনে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনপূর্ব চার দিন সারাদেশে নিবিড় টহল পরিচালনার পাশাপাশি চেক পয়েন্ট বা তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে তল্লাশি চালানো হবে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং এলাকাভিত্তিক বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে একটি নিবিড় নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
সবশেষে, দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ অভিযানের সর্বশেষ ফলাফল তুলে ধরেন উপদেষ্টা। তিনি জানান যে, ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এই অভিযানে মোট ১৯ হাজার ৮৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময়ে ৩৪৬টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, গ্রেনেড, মর্টারের গোলা এবং বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। নিয়মিত মামলা ও ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে আরও ৩৩ হাজার ৫১৩ জনসহ সর্বমোট ৫৩ হাজার ৩৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং দুষ্কৃতকারীদের দমনে এই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে নির্বাচনের সময় কোনো ধরণের অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি না থাকে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো প্রকার অপতৎপরতা বা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টাকে কঠোর হস্তে দমনের হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা চলমান, তিন লক্ষ্য একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
পরিবেশ, বন, জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সম্পদ ও তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা অব্যাহত আছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা রেলসেতু পয়েন্ট এবং নিজপাড়া গাজীরহাট সংলগ্ন তিস্তা ১০ নম্বর ঘাট এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা একটি বহুমাত্রিক ও কারিগরি দিক থেকে অত্যন্ত জটিল উদ্যোগ। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনা সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনার মধ্য দিয়ে সরকার ধাপে ধাপে একটি কার্যকর কাঠামো দাঁড় করাতে কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে তিস্তা অববাহিকার পাঁচটি জেলার জনগণের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রকল্পের বাস্তবতা, পরিবেশগত প্রভাব ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করে একটি সমন্বিত প্রস্তাব চীনা সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন চীনা সরকার তাদের নিজস্ব বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা সফল করতে একযোগে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জন করতে হবে—নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই সেচব্যবস্থা নিশ্চিত করা। আঁকাবাঁকা তিস্তা নদীর প্রবাহকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই এই তিনটি কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
এ সময় সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত চীনের রাষ্ট্রদূত মি ইয়াও হোয়েন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে চীন সরকার এই সহযোগিতা প্রকল্পে কাজ করছে। প্রকল্পটি যাতে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে লক্ষ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে চীনা প্রকৌশলীরা কারিগরি বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় জনগণের সমর্থন, অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব পক্ষের সম্মিলিত সমর্থন পেলে চলতি বছরের মধ্যেই প্রকল্পের বাস্তব কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ, রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক, উপদেষ্টার একান্ত সচিব আবু নঈম মোহাম্মদ মারুফ খান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলাম এবং কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া আক্তার।
-শরিফুল
সাভার পাচ্ছে সিটি করপোরেশন, কেরানীগঞ্জ হচ্ছে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা
ঢাকার পার্শ্ববর্তী দ্রুত নগরায়ণশীল এলাকা সাভার ও আশুলিয়াকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের প্রশাসনিক পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে সরকার। সাভার পৌরসভা ও আশুলিয়ার একাধিক এলাকাকে একীভূত করে সাভার সিটি করপোরেশন গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীসংলগ্ন কেরানীগঞ্জ উপজেলাকে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে উন্নীত করা অথবা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন জারি, বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু
প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনের পর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা। গত ১২ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মু. মাহমুদ উল্লাহ মারুফ স্বাক্ষরিত এক সরকারি চিঠিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
সরকারি সূত্র জানায়, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সাভার পৌরসভা এবং এর আওতাধীন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদগুলোর বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামো বিলুপ্ত হবে এবং নতুন সিটি করপোরেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে পুরো এলাকার নাগরিক সেবা পরিচালিত হবে।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম পাক্ষিক প্রতিবেদনের আলোকে সরকার এ বিষয়ে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করে। প্রতিবেদনে সাভার ও আশুলিয়ার নগর বাস্তবতার একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরা হয়, যেখানে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পৌর ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শিল্পকারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিপুল জনসংখ্যার চাপে সাভার কার্যত একটি বৃহৎ নগর এলাকায় পরিণত হলেও পৌরসভা হিসেবে এর সক্ষমতা নাগরিক চাহিদার তুলনায় সম্পূর্ণ অপ্রতুল।
বিশেষ করে আশুলিয়া অঞ্চলে গড়ে ওঠা বিপুল গার্মেন্ট শিল্প, শ্রমিক বসতি ও আবাসিক এলাকা ইউনিয়ন পরিষদের সীমিত ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। নগরায়ণ নিয়ন্ত্রণ, যানজট ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য নিষ্কাশন, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পানির মতো মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার মতো প্রশাসনিক ও আর্থিক সক্ষমতা ইউনিয়ন পরিষদের নেই।
এর ফলে যানজট, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন, ড্রেনেজ সংকট ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে আশুলিয়ার মানুষ প্রতিদিন চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
কেরানীগঞ্জকে ঘিরেও পরিকল্পনা
অন্যদিকে রাজধানী ঢাকার সম্প্রসারণ ও জনসংখ্যার চাপ সরাসরি প্রভাব ফেলছে কেরানীগঞ্জ উপজেলায়। দ্রুত নগরায়ণের পথে এগোলেও সেখানে এখনো সিটি করপোরেশন বা উন্নত পৌর ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। ফলে সড়ক, ড্রেনেজ, স্বাস্থ্যসেবা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধা ব্যাহত হচ্ছে।
সরকারি পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু পরিকল্পনার আওতায় কেরানীগঞ্জকে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে এটি রাজধানীর পাশে একটি আধুনিক ও সুপরিকল্পিত উপশহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনের পর মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিতভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করার কথাও বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, “সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও উন্নয়নবঞ্চিত সাভার, আশুলিয়া ও কেরানীগঞ্জ এলাকার মানুষ এর মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা ও প্রশাসনিক মর্যাদা পাবে বলে আমরা আশাবাদী।”
-রফিক
আপিল শুনানিতে কোনো পক্ষপাত করিনি: সিইসি
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে টানা নয়দিনের এই ম্যারাথন শুনানি সমাপ্তির পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। এসময় তিনি তাঁর কমিশনের কাজের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জোরালো দাবি করেন। সিইসি স্পষ্ট করে জানান যে, আপিল শুনানিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিপরীতে যেসব রায় দেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনো ধরণের পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। তাঁর এবং তাঁর পুরো টিমের পক্ষ থেকে অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রতিটি মামলা পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে কমিশন যে সব দলের ও প্রার্থীর অংশগ্রহণের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে, সিইসির বক্তব্যে তা বারবার ফুটে উঠেছে।
শুনানি পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় সিইসি একটি বড় ধরণের নীতিগত ছাড়ের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি জানান যে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের যে আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল, সেটিকে কমিশন অনেকটা শিথিল বা ছেড়ে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনকে আরও অংশগ্রহণমূলক করা। নাসির উদ্দিন বলেন যে, অনেকেই হয়তো এই শিথিলতার সমালোচনা করতে পারেন, কিন্তু কমিশন চেয়েছে সব ধরণের বাধা সরিয়ে প্রার্থীরা যাতে নির্বাচনী লড়াইয়ে আসতে পারেন। তিনি মনে করেন, বড় একটি অংশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব নয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন যে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া একটি সার্থক নির্বাচন আয়োজন করা কমিশনের পক্ষে দুঃসাধ্য। শুনানির সময় প্রার্থীদের আইনজীবীদের এবং ওলামায়ে কেরামদের উপস্থাপিত যুক্তি-তর্ককে তিনি ‘বাহাস’-এর সঙ্গে তুলনা করে ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সকলকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানান।
একই সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ঋণখেলাপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধতা পাওয়ার বিষয়ে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। তিনি প্রকাশ করেন যে, বেশ কিছু ঋণখেলাপি প্রার্থীকে কমিশন থেকে ছাড় দিতে হয়েছে, তবে এই সিদ্ধান্তটি নেওয়ার সময় কমিশনের সদস্যরা ‘মনে বেশ কষ্ট’ পেয়েছেন। সানাউল্লাহ ব্যাখ্যা করেন যে, নৈতিকভাবে অনেক কিছু প্রশ্নবিদ্ধ মনে হলেও বিদ্যমান আইন যেহেতু ওইসব প্রার্থীদের প্রার্থিতার ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি বা বিশেষ কোনো ফাঁক দিয়ে তাদের অনুমোদন দিয়েছে, তাই কেবল আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ, আইনের সীমারেখার বাইরে গিয়ে কাউকে বাতিল করার ক্ষমতা কমিশনের নেই বিধায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু ক্ষেত্রে নমনীয় হতে হয়েছে। নয়দিনের এই দীর্ঘ শুনানি প্রক্রিয়া শেষে কমিশন এখন নির্বাচনী ময়দানে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা এবং প্রতীক বরাদ্দের মতো পরবর্তী ধাপগুলোর দিকে মনোনিবেশ করছে।
ইসলামী আন্দোলনের সাথে জামায়াতের অন্যরকম এক সমঝোতা,প্রকাশ পেল নতুন তথ্য
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে, বিশেষ করে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে এক নতুন ও অভাবনীয় সমীকরণ তৈরি হয়েছে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের একটি বড় ধরণের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীমের সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামী কোনো প্রার্থী দেবে না। মূলত রাজনৈতিক সৌজন্য এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্রটি বদলে যাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানান যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির তথা চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। যেহেতু দলের শীর্ষ নেতা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না, তাই তাঁর দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা মুফতি ফয়জুল করীমের প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শনের প্রয়োজন অনুভব করেছে জামায়াতে ইসলামী। এই সম্মান ও সৌজন্যের অংশ হিসেবেই জামায়াত ফয়জুল করীমের আসন থেকে নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ডা. তাহের আরও উল্লেখ করেন যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুরুতে একটি বৃহত্তর নির্বাচনী ঐক্য গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা সেই ঐক্যে থাকতে পারেনি, তবুও তাদের সেই শুভ উদ্যোগের প্রতি জামায়াতের শ্রদ্ধা রয়েছে এবং তারা ইসলামী আন্দোলনের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছে।
এই রাজনৈতিক সৌজন্যবোধ কেবল একতরফা নয়, বরং দুই দলের মধ্যেই একটি অলিখিত সমঝোতার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের জন্য নির্ধারিত নির্বাচনী আসনেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোনো প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বড় দুটি দলের এই পারস্পরিক ছাড় দেওয়ার বিষয়টি মূলত ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাঠে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যকার একটি কৌশলগত অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও দল দুটি একই জোটে থেকে নির্বাচন করছে না, তবুও একে অপরের শীর্ষ নেতাদের জয়ী হতে সহায়তা করার এই প্রবণতা ভবিষ্যতে বড় ধরণের কোনো রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের রাজনীতি। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর জামায়াতের এমন ঘোষণা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করা হচ্ছে।
‘হ্যাঁ’ ভোটের জোয়ার আনতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ধরণের প্রচারণার পরিকল্পনা
আসন্ন জাতীয় গণভোটে দেশের ছাত্রসমাজ তথা শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং তাদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দানে উদ্বুদ্ধ করতে এক ব্যাপকভিত্তিক প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই প্রচারণার পরিধি বিস্তৃত হবে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল এবং মাদ্রাসা পর্যায় পর্যন্ত। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউজিসির এক উচ্চপর্যায়ের যৌথ সভায় এই রণকৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় মূলত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং একটি বিশেষ প্রচারণার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মাঝে এই প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বহুমুখী মাধ্যম ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রচারণার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে ‘পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ’ শিরোনামে বিশেষ লিফলেট এবং পুস্তিকা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হবে। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে মোবাইল ফোন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নির্মিত বিভিন্ন ডকুমেন্টারি, ভিডিও ক্লিপ এবং সচেতনতামূলক গান রিলিজ করা হবে। একই সঙ্গে দৃশ্যমান প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে আকর্ষণীয় ব্যানার, ফেস্টুন এবং স্টিকার সাঁটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভোট প্রদানের বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।
ইউজিসিতে আয়োজিত এই বিশেষ সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) ড. আলী রীয়াজ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই গণভোটের অপরিহার্যতা তুলে ধরেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো পুরোপুরি ভেঙে ফেলে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে গণআকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, এবারের গণভোট হবে তারই সার্থক প্রতিফলন। তাঁর মতে, একটি মানবিক ও সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ রায়ের কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুষ্ঠু ও গঠনমূলক প্রচারণার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, ইউজিসি চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন। এছাড়া কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এবং ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান এই আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সভায় উপস্থিত সকল অংশীজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই প্রচারণা সফল করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
চীনের সম্মতি পেলেই শুরু তিস্তা মহাপরিকল্পনা
দেশের উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নসংক্রান্ত সব প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইতোমধ্যে চীনের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং অর্থায়ন সংক্রান্ত আলোচনা প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা থেকে নীলফামারীর উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ওই সফরে তিনি নীলফামারীতে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা জানান।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার কারিগরি ও আর্থিক দিকগুলো বর্তমানে চীনা সরকারের একটি বিশেষজ্ঞ দল বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করছে। যাচাই-বাছাই শেষে চীনের চূড়ান্ত সম্মতি মিললেই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, পানিবণ্টন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের একক দায়িত্ব নয়, বরং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতন ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তার ভাষায়, “সরকার তার দায়িত্ব পালন করবে, তবে ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণ ছাড়া একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।”
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সড়কপথে নীলফামারীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে তিনি গণভোট ও নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
-শরিফুল
পাঠকের মতামত:
- ভোটে বাধা দিলে আপনি শেখ হাসিনা হয়ে যাবেন: আসিফ নজরুল
- এই প্রথম! উদ্ভিদের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়া চর্মচক্ষে দেখল মানুষ
- এলপিজি সংকটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ; রান্নায় গ্যাস বাঁচানোর উপায়
- গুড়ে মিশছে চিনি ও ক্ষতিকর রং; ভেজাল এড়িয়ে চলবেন যেভাবে
- নদী ভাঙন ও মানুষের দুর্ভোগ; তিস্তা প্রকল্পে নতুন আশার আলো দেখছে চীন
- পে স্কেল নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন অর্থ উপদেষ্টা
- নতুন বাংলাদেশ গড়তে ‘হ্যাঁ’ ভোট কেন জরুরি? জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
- ড. ইউনূসের সঙ্গে নাহিদ-আসিফের সাক্ষাৎ; নির্বাচন নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা
- নানিয়ারচরের শীতার্তদের পাশে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন
- নলতায় পীরে কামেল আহ্ছানউল্লা (র.)- এর ৬২তম ওরছ শরীফ ২৬–২৮ মার্চ
- আগামীর রাজনীতি হবে মানুষের কল্যাণে: তারেক রহমান
- আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়, ওটা ছিল প্রতিবাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি: রুমিন ফারহানা
- এক ব্যক্তির শাসন রুখতে ‘হ্যাঁ’ ভোট কেন জরুরি? জানালেন আলী রীয়াজ
- অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পথ বন্ধ; চালু হচ্ছে ই-টিকিট
- সেনাবাহিনী থেকে কোস্ট গার্ড: শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কড়া বার্তা
- প্রধান বোর্ডে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা, লেনদেনে নতুন গতি
- ১৯ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১৯ জানুয়ারি বাজারে দরপতনের ১০ শেয়ার
- শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব: শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- আমিরাতের আকাশে শাবান মাসের চাঁদ, রমজান শুরু হতে আর কত দিন
- বাংলাদেশের পাশে পাকিস্তান, বিশ্বকাপে চাপ বাড়ছে আইসিসির ওপর
- তিস্তা মহাপরিকল্পনা চলমান, তিন লক্ষ্য একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
- শহীদ জিয়ার ৯০তম জন্মদিনে সমাধিতে বিএনপির শ্রদ্ধা
- ২০২৬ হজে হজযাত্রী সেবায় নতুন নির্দেশনা
- নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতায় আস্থা রাখছে বিএনপি: ফখরুল
- মব সৃষ্টি ও ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি: রুমিন ফারহানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
- রাজনৈতিক ডামাডোল ও অর্থনৈতিক ভীতি: বিশ্ববাজারে রেকর্ড গড়ল সোনা ও রুপা
- সাভার পাচ্ছে সিটি করপোরেশন, কেরানীগঞ্জ হচ্ছে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা
- সাভারে একের পর এক লাশ, সিরিয়াল কিলারের দাবি পুলিশের
- ১৯ জানুয়ারি ২০২৬: মার্কিন ডলার থেকে রুপি, জানুন আজকের বিনিময় হার
- ডেইলি এনএভিতে ধরা পড়ল মিউচুয়াল ফান্ড সংকেত
- খাঁটি না কি বিষ? সরিষার তেলের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ৫টি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
- শীতের দুপুরে খাবারের স্বাদ বাড়াতে ‘আচারি ফুলকপি’; জেনে নিন বিশেষ রেসিপি
- বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টের নগদ লভ্যাংশ বিতরণ
- অবহেলিত মুলার আকাশচুম্বী গুণ: শীতকালীন খাদ্যতালিকায় কেন এটি অপরিহার্য?
- শেখ হাসিনাসহ ১১ সেনা কর্মকর্তার বিচার শুরু: ট্রাইব্যুনালে আজ সাক্ষ্যগ্রহণ
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উত্তেজনা: ডিসির কার্যালয়ে তলব পেলেন রুমিন ফারহানা
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
- বিশ্বকাপে কি তবে থাকছে না বাংলাদেশ? আইসিসির ‘আল্টিমেটাম’ ঘিরে তোলপাড়
- মানবাধিকার সংস্থার চেয়েও বড় সংখ্যা; ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে লাশের পাহাড়
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আয়কর থেকে ভ্যাট: সব খাতেই রাজস্ব ঘাটতি, সংকটে সরকারি কোষাগার
- আজ টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- নামাজের সময়সূচি: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- স্পেনে দুই ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষ: প্রাণ হারালেন অন্তত ২১ যাত্রী
- অর্ধশতাব্দীর অপেক্ষা শেষ: আবারও চাঁদের পথে মানুষ পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি
- ভালুকার হাজির বাজারে সড়ক থেকে অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার
- আপিল শুনানিতে কোনো পক্ষপাত করিনি: সিইসি
- ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত
- বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
- ডিএসই পরিদর্শন/ডোমিনেজ চালু, অন্য চার কোম্পানির কারখানা বন্ধ
- আজ থেকে টানা ৩ দিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ডিএসইর আইনি সতর্কতা
- সরকারি বন্ড বাজারে স্থগিতাদেশ ও ডিলিস্টিং একসঙ্গে
- শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার
- ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কোথায় সুযোগ
- বিনিয়োগকারী অভিযোগে ডিজিটাল সমাধান জোরদার ডিএসইর
- রেকর্ড ডেট শেষে সরকারি বন্ড ও দুই কোম্পানীর লেনদেন শুরু
- মার্জিন ঋণে বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের হালনাগাদ তালিকা
- ডিএসই–৩০ শেয়ারে মিশ্র সূচনা, ব্যাংক খাতে ইতিবাচক ধারা
- ওষুধের বাজারে উত্তাপ: কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণনে লাগাম টানছে সরকার
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আইবিপির প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ








