গুড়ে মিশছে চিনি ও ক্ষতিকর রং; ভেজাল এড়িয়ে চলবেন যেভাবে

শীতের আগমনের সাথে সাথেই গ্রামবাংলার জনপদে বয়ে চলে খেজুরের রসের এক মিষ্টি আমেজ এবং বাতাসে ভেসে আসে খেজুরের গুড়ের সেই চিরাচরিত সুগন্ধ। বাঙালি সংস্কৃতিতে শীতকালীন পিঠা, পায়েস কিংবা তালের পিঠার স্বাদ যেন এই গুড় ছাড়া অপূর্ণ থেকে যায়। তবে খেজুরের গুড় কেবল স্বাদের জন্যই নয়, বরং এর আকাশচুম্বী পুষ্টিগুণের কারণে এটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাদ্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত। পুষ্টিবিদদের মতে, এই গুড়ে প্রচুর পরিমাণে লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, সেলেনিয়াম এবং পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য সহায়তা করে। সাধারণত শীতের সকালে সংগৃহীত খেজুর গাছের টাটকা রস বড় পাত্রে দীর্ঘ সময় জ্বাল দিয়ে ঘন করার মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী গুড় তৈরি করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে খাঁটি গুড়ের জায়গা দখল করে নিচ্ছে ক্ষতিকর ভেজাল মিশ্রিত গুড়।
এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে রসের সাথে প্রচুর পরিমাণে চিনি, ফিটকিরি এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে কৃত্রিম রাসায়নিক রং মিশিয়ে বাজারে ভেজাল গুড় সরবরাহ করছে। এই ধরণের কৃত্রিম গুড়ে প্রকৃত গুড়ের সেই স্বাভাবিক ঘ্রাণ বা স্বাদ থাকে না, বরং তা মানবদেহের জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ভেজাল গুড় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে ভোক্তাদের কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের দিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে, খাঁটি খেজুরের গুড় সাধারণত গাঢ় বাদামি বা কালচে লালচে রঙের হয়ে থাকে। বিশেষ করে পাটালির ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, আসল গুড় কিছুটা নরম হয় এবং ভাঙলে এর ভেতরে এক ধরণের হালকা রসাল ভাব লক্ষ্য করা যায়। খাঁটি গুড় হাতে নিলে তা অতিরিক্ত চকচকে লাগে না এবং এর স্বাদ হয় একদম স্বাভাবিক মিষ্টি, যা মুখে দিলে শরীরে এক ধরণের প্রাকৃতিক উষ্ণতা তৈরি করে।
অন্যদিকে, বাজারে পাওয়া যাওয়া ভেজাল বা মিশ্রিত গুড় চেনার কিছু স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে যা সাধারণ চোখেই ধরা সম্ভব। এই ধরণের গুড় দেখতে অস্বাভাবিকভাবে চকচকে এবং এর পাটালি অত্যন্ত শক্ত থাকে। অনেক ক্ষেত্রে গুড়ের রং হয় ফ্যাকাশে বা সাদাটে ধরনের, যা কৃত্রিম রং ও ফিটকিরির ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়। যদি গুড়ের স্বাদ নোনতা বা তিতা লাগে, তবে ধরে নিতে হবে এতে লবণ বা ফিটকিরি মেশানো হয়েছে। এছাড়া গুড়ের ভেতরে যদি স্ফটিকের মতো ছোট ছোট দানা দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে মিষ্টতা বাড়ানোর জন্য এতে প্রচুর পরিমাণে সাধারণ চিনি মেশানো হয়েছে। শীতের মৌসুমে সুস্থ থাকতে এবং পিঠা-পুলির আসল স্বাদ উপভোগ করতে ভোক্তাদের কেবল কম দাম বা উজ্জ্বল রঙের ওপর নির্ভর না করে গন্ধ, স্বাদ ও গঠন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে গুড় কেনা উচিত। সঠিক সচেতনতাই পারে এই ঐতিহ্যবাহী খাদ্য উপাদানটিকে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর রাখতে।
খাঁটি না কি বিষ? সরিষার তেলের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ৫টি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
বাঙালি ভোজনরসিকদের রসনা বিলাসে সরিষার তেলের ঝাঁঝালো সুগন্ধ এবং স্বাদ এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। মাছ ভাজা থেকে শুরু করে আলু সেদ্ধ কিংবা শীতের দুপুরের ভর্তা—সবকিছুতেই সরিষার তেলের উপস্থিতি যেন খাবারের স্বাদকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারের এই অন্যতম প্রধান ভোজ্যতেলের বিশুদ্ধতা নিয়ে তৈরি হয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে সস্তা পাম তেল, মিনারেল অয়েল এমনকি মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর ‘আর্জিমন’ বা শিয়ালকাঁটার তেল মিশিয়ে বাজারে সরিষার তেলের সরবরাহ বাড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভেজাল তেল নিয়মিত গ্রহণের ফলে হৃদরোগ, স্থায়ী অন্ধত্ব এবং ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি হওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞরা ঘরে বসেই তেলের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের কিছু সহজ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন যা অনুসরণ করলে বাজার থেকে কেনা তেলের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
সরিষার তেলের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকরী একটি পদ্ধতি হলো ‘ফ্রিজিং টেস্ট’। একটি ছোট কাঁচের বাটি বা বোতলে সামান্য পরিমাণ তেল নিয়ে সেটি ফ্রিজারে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টার জন্য রেখে দিলে তেলের গুণমান বোঝা যায়। খাঁটি সরিষার তেল কখনোই হিমাঙ্কের নিচে তরল অবস্থা হারায় না বা জমে যায় না; অন্যদিকে তেলের ওপরের অংশে যদি সাদা আস্তরণ দেখা যায় বা তেলটি ঘনীভূত হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে এতে পাম তেল বা অন্য কোনো সস্তা তেলের মিশ্রণ রয়েছে। এছাড়া হাতের তালুতে ঘষেও তেলের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। অল্প পরিমাণ তেল হাতের তালুতে নিয়ে ভালো করে ঘষলে যদি খাঁটি তেলের তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ পাওয়া যায় এবং তালুতে কোনো কৃত্রিম রঙের দাগ না লাগে, তবে তা ব্যবহারের জন্য নিরাপদ। যদি ঘষার পর কোনো অপ্রাকৃতিক রাসায়নিক গন্ধ বা রঙের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, তবে নিশ্চিত হতে হবে যে এতে কৃত্রিম সুগন্ধি বা বিষাক্ত রঙ মেশানো হয়েছে।
রাসায়নিক পরীক্ষার মধ্যে ‘নাইট্রিক এসিড পরীক্ষা’ সবচেয়ে নির্ভুল ফলাফল প্রদান করে। একটি কাঁচের পাত্রে সামান্য তেলের সাথে কয়েক ফোঁটা নাইট্রিক এসিড যোগ করলে যদি তেলের রঙের কোনো পরিবর্তন না হয়, তবে সেটি বিশুদ্ধ। কিন্তু মিশ্রণটি যদি লাল বা কমলা রঙ ধারণ করে, তবে তাতে বিষাক্ত আর্জিমন তেলের উপস্থিতি প্রমাণিত হয় যা স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকিস্বরূপ। রান্নার সময় কড়াইতে তেলের আচরণের ওপর লক্ষ্য রাখলেও ভেজাল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। খাঁটি সরিষার তেল কড়াইতে দেওয়ার সাথে সাথে ধোঁয়া ছাড়ে না এবং এর ঝাঁঝালো গন্ধ চোখ ও নাকে এক ধরণের জ্বালা ধরায়। যদি তেল গরম হতেই সাদাটে ধোঁয়া বের হয় এবং কোনো ঝাঁঝ অনুভূত না হয়, তবে সেই তেলে ভেজালের সম্ভাবনা প্রবল। এছাড়া তেলের রঙের গভীরতা দেখেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন; কারণ খাঁটি তেল সাধারণত গাঢ় সোনালি বা লালচে হলুদ হয়ে থাকে, যেখানে খুব হালকা হলুদ রঙের স্বচ্ছ তেল মিনারেল অয়েলের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। তাই সুস্থ থাকতে খোলা তেলের পরিবর্তে সর্বদা স্বীকৃত ‘অ্যাগমার্ক’ চিহ্নযুক্ত বোতলজাত তেল কেনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
অবহেলিত মুলার আকাশচুম্বী গুণ: শীতকালীন খাদ্যতালিকায় কেন এটি অপরিহার্য?
শীতকালীন সবজির তালিকায় মুলার কদর অনেকের কাছে কিছুটা কম মনে হলেও এর স্বাস্থ্যগত উপযোগিতা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক বিস্ময়কর অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্বাদে কিছুটা তিতা বা ঝাঁঝালো হওয়ার কারণে অনেকে এটি এড়িয়ে চললেও রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে মুলা এক অনন্য প্রাকৃতিক দাওয়াই। হজমশক্তি বৃদ্ধি করা থেকে শুরু করে ত্বকের উজ্জ্বলতা রক্ষা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই সবজিটি জাদুর মতো কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে শীতের এই সময়ে যখন শরীরে রোগব্যাধির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়, তখন সহজলভ্য এই সবজিটি কেন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি, তা নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক মতামত পাওয়া গেছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, ফাইবার সমৃদ্ধ সবজি হওয়ার কারণে মুলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে শরীরের স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের তথ্য অনুযায়ী, খাবারের আগে মুলা গ্রহণ করলে শরীরে পিত্ত উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা গৃহীত খাদ্য দ্রুত হজমে সরাসরি সহায়তা করে। শুধু হজম নয়, প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং রাফানিন নামক উপাদানের উপস্থিতির কারণে এটি শরীরের সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, যা সাধারণ ঠান্ডা এবং ফ্লু জাতীয় সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। এছাড়া রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এর বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে; কারণ মুলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অত্যন্ত কম হওয়ায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এক আদর্শ খাবার হিসেবে গণ্য হয়।
দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশেষ করে লিভার ও কিডনি পরিষ্কার রাখতে মুলার রস বা এর ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিয়ে প্রাকৃতিক ডিটক্স হিসেবে কাজ করে। মুলার উপকারিতা কেবল অভ্যন্তরীণ সুস্থতাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শরীরের বাহ্যিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতেও এটি সমানভাবে পারদর্শী। এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখে এবং ব্রণের সমস্যা কমিয়ে ত্বকে এক ধরণের প্রাকৃতিক আভা তৈরি করে। এছাড়া বর্তমান সময়ে অনেকের মধ্যে দেখা দেওয়া হাড়ের প্রদাহ বা বাতের ব্যথা কমাতেও মুলা সক্রিয় অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
তবে সবকিছুর মতো মুলার ব্যবহারেও কিছু নির্দিষ্ট সতর্কতা মেনে চলা আবশ্যক। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁচা মুলা খেলে হজমে ব্যাঘাত ঘটে গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে যাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মুলা গ্রহণ করা অনুচিত হতে পারে। এছাড়া খাদ্য সংক্রান্ত কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলাও জরুরি; যেমন দুধ বা মাছের সাথে মুলা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মূলত সঠিক নিয়ম ও পরিমিতিবোধ বজায় রেখে শীতকালীন এই সবজিটি খাদ্যতালিকায় যুক্ত করলে খুব সহজেই একটি নিরোগ ও সতেজ শরীর বজায় রাখা সম্ভব।
১৩ বছরের আগে হাতে ফোন? শৈশবেই বাড়ছে বড় ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকি
বর্তমান আধুনিক বিশ্বে স্মার্টফোন এখন কেবল বড়দের প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ নয়, বরং তা ছোটদের হাতেও অনায়াসেই পৌঁছে গেছে। পড়াশোনা, পারস্পরিক যোগাযোগ কিংবা স্রেফ বিনোদনের দোহাই দিয়ে অনেক শিশুই অত্যন্ত অল্প বয়সে তাদের নিজস্ব বা ব্যক্তিগত ফোন ব্যবহার শুরু করে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই প্রবণতা নিয়ে এক গভীর উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। গবেষকদের মতে, ১৩ বছর বয়সের আগেই যদি কোনো শিশুর হাতে ব্যক্তিগত ফোন তুলে দেওয়া হয়, তবে তা তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং জটিল স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এই ঝুঁকির তালিকায় মূলত ঘুমের তীব্র সমস্যা, শরীরের অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা এবং দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতার মতো ভয়াবহ বিষয়গুলো যুক্ত রয়েছে যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সংশ্লিষ্ট গবেষক র্যান বারজিলে এবং তাঁর একটি বিশেষ গবেষক দল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২১টি ভিন্ন অঞ্চলের প্রায় সাড়ে দশ হাজার শিশুর জীবনযাত্রা ও স্বাস্থ্যগত তথ্য নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণ করে তাঁরা দেখেছেন যে, যেসকল শিশু মাত্র ১২ বছর বয়সে ফোন হাতে পেয়েছে, তাদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা হওয়ার হার অন্য শিশুদের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। শুধু তাই নয়, এই শিশুদের মধ্যে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের ঝুঁকিও প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর বিপরীতে, যেসকল শিশু ১৩ বছর পূর্ণ হওয়ার পর স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করেছে, তাদের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেক কম লক্ষ্য করা গেছে। গবেষকরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বয়ঃসন্ধির ঠিক শুরুর পর্যায়ে স্মার্টফোনের এই অবারিত ব্যবহার সরাসরি বিষণ্নতা, স্থূলতা এবং অনিদ্রার মতো সমস্যার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।
এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির হাত থেকে নতুন প্রজন্মকে সুরক্ষা দিতে তাঁরা দেশে দেশে কঠোর নীতিমালা বা সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের জোর সুপারিশ করেছেন। বিশ্বজুড়ে এই উদ্বেগের প্রতিফলন ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। যেমন, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য টিকটক এবং ইনস্টাগ্রামসহ সব ধরণের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যও শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক মাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নানাবিধ সীমাবদ্ধতা আরোপের পথে হাঁটছে। ঠিক এই সময়ের মধ্যেই ডিজিটাল মাধ্যমগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও নতুন কিছু পরিবর্তন আসছে। বিশেষ করে বহুল আলোচিত ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক সম্প্রতি তাদের মার্কিন অংশীদারদের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো কোম্পানিটির কার্যক্রম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অব্যাহত রাখা এবং আইনি জটিলতা নিরসন করা। বৈশ্বিক এই প্রেক্ষাপট এবং স্বাস্থ্য গবেষণার এই নতুন তথ্যগুলো এখন সম্মিলিতভাবে শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সঠিক বয়স এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টিকে পুনরায় জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
ভালুকায় শিক্ষা বিপ্লব: রানার উদ্যোগে ঝরে পড়া শ্রমিকদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ই-লার্নিং একাডেমি

ইমন সরকার
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি
ভোরের আলো ফোটার আগেই ভালুকার শিল্পাঞ্চলে ভেসে আসে কারখানার সাইরেন। সেই শব্দে ঘুম ভাঙে হাজারো শ্রমজীবী মানুষের যাদের জীবনের বড় অংশ জুড়ে আছে দায়িত্ব, ক্লান্তি আর সময়ের সঙ্গে প্রতিদিনের নিরবচ্ছিন্ন লড়াই। এই লড়াইয়ের মাঝেই অনেকের জীবনে থেমে গেছে পড়াশোনার পথ। সংসারের দায়, পারিবারিক সংকট কিংবা বাস্তবতার চাপে কেউ দশ-পনেরো বছর আগেই স্কুল ছেড়েছিলেন। কিন্তু সেই থেমে যাওয়া জীবনগুলোকে আবার শিক্ষার মূল স্রোতে ফেরাতে ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় নীরবে কাজ করে যাচ্ছে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘ই-লার্নিং একাডেমি বাংলাদেশ’।
এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন তরুণ শিক্ষাউদ্যোক্তা এম এম রানা। তাঁর গড়ে তোলা এই একাডেমি কোনো প্রচলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক এক বাস্তবভিত্তিক ডিজিটাল শিক্ষাপ্ল্যাটফর্ম, যেখানে কর্মজীবী ও ঝরে পড়া মানুষরা বয়স, সময় কিংবা দীর্ঘ স্টাডি গ্যাপের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আবার পড়াশোনায় ফিরছেন।
ভালুকা একটি শ্রমঘন শিল্পাঞ্চল। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এখানে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কয়েক লাখ মানুষ বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত। এদের বড় একটি অংশ মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারেননি। বাস্তবতা হলো দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কেবল শিক্ষাগত সনদের অভাবে অনেকেই বছরের পর বছর একই পদে আটকে থাকেন। এই সামাজিক বাস্তবতাই এম এম রানাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
রানা বলেন, নিজের চারপাশে তিনি দেখেছেন এমন অসংখ্য মানুষ, যারা কাজে পারদর্শী হলেও এসএসসি বা এইচএসসি সনদ না থাকায় কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি কিংবা দায়িত্ব পাচ্ছেন না। বহু বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ায় তাদের পক্ষে আর নিয়মিত কোনো স্কুল বা কলেজে যাওয়া সম্ভব নয়। এই দীর্ঘ স্টাডি গ্যাপে আটকে থাকা মানুষগুলোর হতাশাই তাঁকে বিকল্প এক শিক্ষামডেল গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করে।
ই-লার্নিং একাডেমির শিক্ষাব্যবস্থা সাজানো হয়েছে পুরোপুরি চাকরিজীবীদের বাস্তবতা মাথায় রেখে। দিনের কাজ শেষে রাতে অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হন শিক্ষার্থীরা। কেউ সরাসরি উপস্থিত থাকেন, কেউ আবার জুম বা গুগল মিটের মাধ্যমে যুক্ত হন। পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রয়েছে রেকর্ডেড ক্লাসের সুবিধা, যাতে কাজের চাপে কেউ পিছিয়ে না পড়েন। পাঠদানের ক্ষেত্রে জটিলতা এড়িয়ে সহজ ভাষা ও বাস্তব উদাহরণ ব্যবহার করা হয় যাতে দীর্ঘদিন পড়াশোনার বাইরে থাকা শিক্ষার্থীরাও আত্মবিশ্বাস ফিরে পান।
বর্তমানে এই একাডেমিতে ত্রিশ কিংবা চল্লিশ পেরোনো বহু শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করছেন। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অষ্টম শ্রেণি পাস ছাড়াই এসএসসি (ভোকেশনাল), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএ ও বিএসএস, পাশাপাশি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত ‘এক বছরে এইচএসসি’ প্রোগ্রাম ইতোমধ্যে শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি ধারার বিভিন্ন কোর্সে ভর্তির গাইডলাইন ও একাডেমিক সহায়তাও দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে এমনকি প্রবাসীরাও ঘরে বসে তাদের অসমাপ্ত পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
অনলাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যে ভীতি ও সংশয় কাজ করে, সেই জায়গা থেকে ই-লার্নিং একাডেমি বাংলাদেশ কাজ করছে শতভাগ স্বচ্ছতা ও আস্থার সঙ্গে। প্রতিষ্ঠানটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রচলিত আইন ও বিধি মেনে পরিচালিত। তাদের রয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিটিসিএল কর্তৃক ভেরিফায়েড সরকারি ডোমেইন (www.elearningacademy.org.bd), হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএন সনদ।
শিক্ষার্থীদের কাছে এম এম রানা পরিচিত ‘রানা স্যার’ নামে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গার্মেন্টস সুপারভাইজার জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ধারণা ছিল এই বয়সে পড়াশোনা আর সম্ভব নয়। কিন্তু রানার দিকনির্দেশনা ও নিয়মিত অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হয়ে সেই ভয় কেটে গেছে। এখন তিনি এইচএসসি শেষ করে ডিগ্রিতে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, দিনের বেলায় কারখানার কাজ আর রাতে পড়াশোনা এই দুইয়ের ভারসাম্য তাঁর জীবনে নতুন আত্মবিশ্বাস এনেছে। আগে যেখানে নিজেকে সীমাবদ্ধ মনে হতো, এখন সেখানে ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন।
প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও দর্শন সম্পর্কে এম এম রানা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শিক্ষার গণতান্ত্রিকায়ন। সার্টিফিকেটের অভাবে যেন কারো ক্যারিয়ার আটকে না থাকে। একজন মানুষ তার সুবিধামতো সময়ে পড়াশোনা করবে এই বিশ্বাস থেকেই আমাদের যাত্রা। আমরা শুধু ভর্তি করাই না, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করি। আমাদের স্লোগান ‘যেখানে থেমেছে পথ, সেখান থেকেই হোক নতুন শুরু।’”
ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ির এই ছোট্ট অনলাইন ক্লাসরুম আজ প্রমাণ করছে শিক্ষা কেবল শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের জীবনের সম্ভাবনাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার এক শক্তিশালী হাতিয়ার। সেই সম্ভাবনার দরজাই খুলে দিচ্ছেন এম এম রানা ও তাঁর ই-লার্নিং একাডেমি বাংলাদেশ।
যোগাযোগ:
মোবাইল: ০১৭৮৫-৫৫৭৫৮৭
ওয়েবসাইট: www.elearningacademy.org.bd
ফেসবুক পেজ: E Learning Academy Bangladesh
অফিস: স্কয়ার মাস্টারবাড়ি, বিকাশ অফিসের বিপরীতে, ভালুকা, ময়মনসিংহ
স্মৃতিশক্তি থাকবে অটুট; মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে বিশেষজ্ঞদের ৬ পরামর্শ
বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের শরীর ও মস্তিষ্কে কিছু স্বাভাবিক পরিবর্তন আসা একটি জৈবিক প্রক্রিয়া। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও স্নায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক জীবনযাপন ও পরিকল্পিত অভ্যাসের মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার এই গতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর করা সম্ভব। এমনকি আলঝেইমার বা অন্যান্য স্মৃতিভ্রংশজনিত জটিল রোগের ঝুঁকি কমাতেও সুনির্দিষ্ট কিছু অভ্যাস জাদুকরী ভূমিকা রাখতে পারে। মস্তিষ্ককে দীর্ঘকাল সচল ও কর্মক্ষম রাখতে বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে ৬টি বিশেষ বিষয়ের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন।
মস্তিষ্ককে সচল রাখার প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় অনেক কম। ব্যায়ামের ফলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, যা মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যকার সংযোগকে আরও মজবুত করে। বিশেষজ্ঞরা সপ্তাহে অন্তত কয়েক দিন ৩০ থেকে ৬০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম, যেমন—হাঁটা, সাঁতার কাটা বা হালকা দৌড়ের পরামর্শ দেন।
ব্যায়ামের পাশাপাশি মস্তিষ্কের বিশ্রামের জন্য পর্যাপ্ত ও টানা ঘুম অপরিহার্য। ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্ক সারাদিনের অপ্রয়োজনীয় উপাদানগুলো কোষ থেকে দূর করে এবং স্মৃতিগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে গুছিয়ে রাখে। এতে নতুন কিছু শেখার ক্ষমতা ও মনে রাখার শক্তি বাড়ে। সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য প্রতিদিন রাতে টানা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। যারা ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন, তাদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ অসম্পূর্ণ ঘুম মস্তিষ্কের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে।
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপর খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব অত্যন্ত গভীর। উদ্ভিদজাত খাবার, যেমন—শাকসবজি, ফলমূল, গোটা শস্য এবং সামুদ্রিক মাছ মস্তিষ্কের কোষের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষ করে অলিভ অয়েল ও ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। গবেষকরা দেখেছেন, যারা স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার নিয়মিত গ্রহণ করেন, তাদের মানসিক সক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
মস্তিষ্ক অনেকটা শরীরের পেশির মতো; একে ব্যবহার না করলে এর কার্যকারিতা দ্রুত হ্রাস পায়। তাই মস্তিষ্ককে সর্বদা চ্যালেঞ্জের মুখে রাখা বা সক্রিয় রাখা প্রয়োজন। নিয়মিত বই পড়া, শব্দছক বা সুডোকু মেলানো, তাস খেলা কিংবা কোনো জটিল ধাঁধার সমাধান করা মস্তিষ্ককে সচল রাখার চমৎকার উপায়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অতিরিক্ত টেলিভিশন দেখার অভ্যাস মস্তিষ্ককে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে, তাই সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
মানুষ মূলত সামাজিক জীব, আর এই সামাজিক যোগাযোগ মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা কমাতে সাহায্য করে। যারা একাকী জীবনযাপন করেন, তাদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ এবং মানুষের সঙ্গে কথা বলা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
পরিশেষে, মস্তিষ্কের সুস্থতা সরাসরি আমাদের রক্তনালি ও হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভরশীল। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ কোলেস্টেরল মস্তিষ্কের টিস্যুর ক্ষতি করতে পারে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং লবণের পরিমাণ কমিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরি। ধূমপান পুরোপুরি পরিহার করা এবং অ্যালকোহল সীমিত রাখা মস্তিষ্কের দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করে। ছোট ছোট এই পরিবর্তনগুলো আজ থেকে শুরু করলে ভবিষ্যতে স্মৃতিশক্তি ও মানসিক সক্ষমতা বজায় রাখা অনেক সহজ হবে।
সূত্র : Mayo Clinic
তেতো স্বাদে লুকিয়ে সুস্থতার চাবিকাঠি; করলার রসের অবাক করা গুণ
করলার রস—নামটি শুনলেই অনেকের চোখেমুখে অনীহা ফুটে ওঠে। এর তীব্র তেতো স্বাদের কারণে সাধারণ পানীয় হিসেবে এটি তেমন আকর্ষণীয় নয়। তবে যুগ যুগ ধরে ঘরোয়া স্বাস্থ্যচর্চায় করলার রস একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে পরিচিতি পেয়ে আসছে। বিশেষ করে বিপাকীয় স্বাস্থ্য বা মেটাবলিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য ভেষজ চিকিৎসায় এটি অন্যতম প্রধান দাওয়াই। সাম্প্রতিক সময়ে আধুনিক জীবনযাপনের জটিলতায় সুস্থ থাকতে মানুষের মধ্যে প্রতিদিন করলার রস পান করার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এর ফলাফল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত জাদুকরী কোনো পরিবর্তনের মতো তাৎক্ষণিক নয়, তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে এটি গ্রহণ করলে দীর্ঘমেয়াদে শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
করলার রসের সবচেয়ে শক্তিশালী গুণ হলো রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এর বিশেষ সক্ষমতা। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, করলার রসে 'চ্যারান্টিন' ও 'পলিপেপটাইড-পি' নামক দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে যা ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সরাসরি সহায়তা করে। এর ফলে শরীর রক্তে থাকা শর্করাকে অনেক বেশি দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে পারে। শুধু তাই নয়, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ানোর ফলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকিও অনেকটা কমে যায়, যা পরোক্ষভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
নিয়মিত করলার রস পান করলে আমাদের পাচনতন্ত্র বা হজম ব্যবস্থার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর তেতো স্বাদ শরীরের প্রাকৃতিক হজম এনজাইমগুলোকে সক্রিয় করে তোলে, যা খাবার হজমের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। পাচনতন্ত্রকে উদ্দীপিত করার মাধ্যমে এটি পেট ফাঁপা বা বদহজমের মতো সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ভূমিকা রাখে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, খালি পেটে বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত পরিমাণে করলার রস পান করলে সংবেদনশীল পাকস্থলীতে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য করলার রস একটি আদর্শ সহযোগী হতে পারে। এটি অত্যন্ত কম ক্যালোরিযুক্ত এবং উচ্চ ফাইবারসম্পন্ন হওয়ায় দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয়। ফলে বারবার খাবার খাওয়ার বা অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের প্রবণতা কমে। তবে করলার রসকে ওজন কমানোর একমাত্র উপায় না ভেবে একটি সহায়ক অভ্যাস হিসেবে দেখা উচিত। পাশাপাশি, করলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন পলিফেনল জাতীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। এটি কোষের স্বাস্থ্য রক্ষা করার পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও ধীরে ধীরে শক্তিশালী করে তোলে।
প্রতিদিন করলার রস পান করা হরমোন ও বিপাকীয় ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক। এটি রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রেখে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে পারে। এর পাশাপাশি করলার রস শরীরের বিভিন্ন প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, যারা বর্তমানে ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে করলার রস শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, যাতে রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত কমে না যায়।
সামগ্রিকভাবে, করলার রস কোনো জাদুকরী পানীয় নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক পরিপূরক। সঠিক পরিমাণে ও নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে এটি আমাদের হজম, রক্তে শর্করা, ওজন এবং হৃদযন্ত্রের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে মেথি; গবেষণায় মিলল অবিশ্বাস্য সব তথ্য
রন্ধনশালায় সাধারণ একটি মসলা হিসেবে যার পরিচিতি, সেই মেথি বীজই এখন বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সচেতনদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে যে, প্রতিদিন নিয়ম করে ভেজানো মেথি বীজ খাওয়ার অভ্যাস শরীরের অভ্যন্তরে এমন কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনে, যা অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। আমাদের পূর্বপুরুষ বা দাদী-নানীদের সেই রাতভর মেথি ভিজিয়ে রেখে সকালে খাওয়ার যে প্রাচীন অভ্যাস, তা আজ বিজ্ঞানের ভাষায় এক শক্তিশালী ‘প্রাকৃতিক মেটাবলিক সাপোর্ট’ হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।
কেন ভিজিয়ে রাখা জরুরি? চিকিৎসকদের মতে, শুকনো মেথি বীজের খোসা অত্যন্ত শক্ত থাকে। রাতভর পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এই খোসা নরম হয় এবং এর ভেতরে থাকা ফাইবার, গ্যাল্যাকটোম্যানান, গুরুত্বপূর্ণ অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো শরীরের কোষে সহজে শোষিত হওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে। এর ফলে বীজটি সাধারণ খাদ্যের স্তর ছাড়িয়ে একটি কার্যকর সম্পূরক হিসেবে কাজ শুরু করে।
ডায়াবেটিস ও রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিষয়ক জার্নাল ‘এয়ু’ (AYU)-তে প্রকাশিত একটি গবেষণার তথ্যানুযায়ী, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যদি নিয়মিত ভেজানো মেথি বীজ গ্রহণ করেন, তবে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাদের ফাস্টিং ব্লাড সুগার বা খালি পেটে শর্করার মাত্রায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। গবেষকরা জানান, মেথিতে থাকা গ্যাল্যাকটোম্যানান উপাদান খাবার থেকে কার্বোহাইড্রেটের শোষণ প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে খাওয়ার পর রক্তে হঠাৎ শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। যারা প্রি-ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ পথ্য হতে পারে।
হজম শক্তি ও ওজন নিয়ন্ত্রণ পাকস্থলী ও হজম ব্যবস্থার ওপর মেথির প্রভাব অত্যন্ত ইতিবাচক। এতে থাকা সল্যুবল বা দ্রবণীয় ফাইবার মল নরম করতে সাহায্য করে, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দূর করে। এছাড়া সকালে খালি পেটে মেথি ভেজানো পানি ও বীজ খেলে পেটের ভারীভাব এবং গ্যাস-অম্বলের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। উচ্চ ফাইবারের উপস্থিতির কারণে এটি খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূত হয়, যা অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সরাসরি ভূমিকা রাখে। মেথির প্রভাবে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাকীয় হারও সক্রিয় থাকে।
সৌন্দর্য ও হরমোনাল স্বাস্থ্য চুলের ঘনত্ব বাড়ানো এবং গোড়া শক্ত করার ক্ষেত্রে মেথির কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে। এতে থাকা প্রোটিন ও নিকোটিনিক অ্যাসিড চুল পড়া কমিয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। ত্বকের প্রদাহ কমিয়ে উজ্জ্বলতা বাড়াতেও এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকর। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মেথি বীজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; এতে থাকা প্রাকৃতিক ফাইটোইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং মাসিক-পূর্ব অস্বস্তি বা হরমোনজনিত জটিলতা লাঘবে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, স্বাস্থ্যগত সর্বোচ্চ সুফল পেতে এক থেকে দুই চা চামচ মেথি বীজ একটি ছোট কাপ পানিতে রাতভর ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে খালি পেটে সেই পানি এবং নরম হওয়া বীজগুলো চিবিয়ে খাওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। তবে মনে রাখতে হবে, অতিভোজন সবসময়ই ক্ষতিকর। অতিরিক্ত মেথি গ্রহণ করলে হজমে হিতে বিপরীত হতে পারে, তাই পরিমিত মাত্রা বজায় রাখা জরুরি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা অভিজ্ঞতার সঙ্গে আজ বৈজ্ঞানিক গবেষণার মেলবন্ধন মেথি বীজের এই অসীম ক্ষমতাকে নতুন করে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
পার্লার ছাড়াই উজ্জ্বল ও দাগহীন ত্বক: ঘরে বসে রূপচর্চার ৪টি সহজ উপায়
উজ্জ্বল, দাগহীন এবং কোমল ত্বক সুস্থ ও সুন্দর ব্যক্তিত্বের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। তবে বর্তমান সময়ে বায়ুদূষণ, তীব্র ধুলাবালি, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে আমাদের ত্বকে নানাবিধ সমস্যা দেখা দেওয়া একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনের কাজের প্রবল চাপ এবং সময়ের অভাবে অনেকের পক্ষেই নিয়মিত রূপচর্চাকেন্দ্রে বা পার্লারে যাওয়া সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে ঘরোয়া উপায়ে প্রাকৃতিক উপাদানের মাধ্যমে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি এবং সজীবতা ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। ত্বক বিশেষজ্ঞ এবং রূপচর্চা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রান্নাঘরের সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়েই সম্ভব ত্বকের গভীর যত্ন নেওয়া।
ঘরোয়া রূপচর্চার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর এবং জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হলো মধু ও লেবুর ফেসপ্যাক। এক চা চামচ মধুর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে ত্বক কেবল পরিষ্কারই হয় না, বরং এটি ত্বকের কালো দাগ হালকা করতেও বিশেষ সহায়তা করে। মধুতে থাকা প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার ত্বককে কোমল রাখে। অন্যদিকে, প্রাচীনকাল থেকেই বেসন ও হলুদের ফেসপ্যাক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য অপ্রতিদ্বন্দ্বী। দুই চা চামচ বেসনের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ এবং প্রয়োজনমতো দুধ বা পানি মিশিয়ে তৈরি পেস্ট সপ্তাহে মাত্র একবার ব্যবহার করলেই ত্বকের উজ্জ্বলতা চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পায় এবং এটি ব্রণের সমস্যা কমাতেও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
ত্বকের ক্লান্তি ও শুষ্কতা দূর করতে শসা ও অ্যালোভেরা ফেসপ্যাক অত্যন্ত উপকারী বলে বিবেচিত। শসার রস এবং অ্যালোভেরা জেল সমপরিমাণে মিশিয়ে মুখে লাগালে তা ত্বককে তাৎক্ষণিক শীতলতা প্রদান করে। এই প্যাকটি নিয়মিত ব্যবহারে রোদে পোড়া দাগ কমে যায় এবং ত্বক হয়ে ওঠে মসৃণ ও সজীব। বিশেষ করে গরমের দিনে বা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পর এই প্যাকটি ত্বকের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে জাদুর মতো কাজ করে। এছাড়া ত্বককে প্রাকৃতিক উপায়ে নরম ও কোমল করতে কলা ও দইয়ের ফেসপ্যাকের কার্যকারিতা অনস্বীকার্য। একটি পাকা কলা ভালো করে চটকে তার সঙ্গে এক চা চামচ দই মিশিয়ে মুখে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে ত্বকের শুষ্কতা দূর হয় এবং হারানো মসৃণতা ফিরে আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের ঘরোয়া ফেসপ্যাকগুলো ব্যবহারের বড় সুবিধা হলো এগুলোতে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে না, ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও অনেক কম। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে যেখানে সময়ের অভাবে পার্লারে যাওয়া কঠিন, সেখানে হাতের কাছের এই প্রাকৃতিক সমাধানগুলোই হয়ে উঠতে পারে আপনার ত্বকের স্থায়ী সুরক্ষা কবচ। নিয়মিত এই অভ্যাসগুলো চর্চা করলে কেবল ত্বকের উজ্জ্বলতাই বাড়বে না, বরং ত্বক হবে ভেতর থেকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত।
সালাদে যে সবজিটি যোগ করলে লিভার থাকবে চর্বিমুক্ত
সাধারণত বাঙালির ঘরোয়া খাবারের আয়োজনে সালাদ বলতে পেঁয়াজ, শসা আর টমেটোর আধিপত্যই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। রুচিভেদে কেউ কেউ এতে সামান্য ধনেপাতা বা লেটুস যোগ করলেও একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি প্রায়ই অবহেলিত থেকে যায়, আর সেটি হলো মুলা। খনিজ ও ভিটামিনে ভরপুর হওয়া সত্ত্বেও কেবল তীব্র গন্ধ বা স্বাদের কারণে অনেকেই এই সবজিটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিনের সালাদ বা তরকারিতে মুলার অন্তর্ভুক্তি আপনার শরীরের জন্য এক বিশাল স্বাস্থ্য সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করতে পারে। সম্প্রতি এমস, হার্ভার্ড এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশিক্ষিত অভিজ্ঞ গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টরা মুলার বহুমুখী উপকারিতা নিয়ে নতুন সব তথ্য প্রকাশ করেছেন এবং এই সবজিটিকে ঘিরে সমাজে প্রচলিত কিছু ভ্রান্ত ধারণার অবসান ঘটিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, যারা ডায়েট নিয়ে সচেতন তাদের জন্য স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবে মুলা একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে। এটি অত্যন্ত কম ক্যালোরিযুক্ত একটি সবজি হওয়ার কারণে সালাদে এটি যোগ করলে খাবারে যেমন একটি মুচমুচে বা ক্রাঞ্চি ভাব আসে, তেমনি এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে। চিকিৎসকরা সাধারণ সালাদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর সসের সঙ্গেও মুলা খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। মুলার স্বাস্থ্যগত দিকগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এটিতে শর্করা ও ক্যালোরি অত্যন্ত কম থাকে, যা মূলত ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া মুলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বা জিআই রেটিং অনেক কম হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক একটি সবজি।
ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় যারা যুক্ত আছেন, তাদের জন্য মুলা একটি কার্যকর খাদ্য উপাদান। তবে চিকিৎসকরা একটি প্রচলিত ভুল ধারণা সংশোধন করে জানিয়েছেন যে, অনেকে মনে করেন শুধু মুলা খেলেই পেটের চর্বি দ্রুত গলে যাবে—বাস্তবে এমন কোনো জাদুকরী প্রভাব মুলার নেই। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে ঠিকই, তবে তা সামগ্রিক সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবেই কাজ করে। এ ছাড়া মুলা খেলে পেটফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা হয় বলে যে সাধারণ অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে বিষয়টি সবার ক্ষেত্রে সমান নয়। বরং কারো কারো ক্ষেত্রে মুলা হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে পেটফাঁপা ভাব কমিয়ে দিতে পারে। তবে ব্যক্তির শারীরিক গঠন ও পরিপাকতন্ত্রের সংবেদনশীলতার ওপর ভিত্তি করে এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
মুলার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটি হলো ক্যানসার প্রতিরোধের সম্ভাবনা। গবেষণাগারে পরিচালিত বিভিন্ন প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, মুলা ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। যদিও মানুষের ওপর সরাসরি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে এর চূড়ান্ত প্রমাণ পেতে আরও সময়ের প্রয়োজন, তবুও প্রাথমিক ইঙ্গিতগুলো বিজ্ঞানীদের আশাবাদী করে তুলেছে। তাই পেঁয়াজ, শসা এবং টমেটোর চিরচেনা সালাদে নিয়মিত সামান্য মুলা যোগ করলে তা কেবল খাবারের স্বাদই পরিবর্তন করবে না, বরং আপনার শরীরের জন্য বাড়তি পুষ্টি ও দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, সুস্থ থাকতে এবং লিভার ও রক্তের শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে খাদ্যতালিকায় মুলার মতো অবহেলিত সবজিগুলোকে ফিরিয়ে আনা জরুরি।
পাঠকের মতামত:
- গুড়ে মিশছে চিনি ও ক্ষতিকর রং; ভেজাল এড়িয়ে চলবেন যেভাবে
- নদী ভাঙন ও মানুষের দুর্ভোগ; তিস্তা প্রকল্পে নতুন আশার আলো দেখছে চীন
- পে স্কেল নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন অর্থ উপদেষ্টা
- নতুন বাংলাদেশ গড়তে ‘হ্যাঁ’ ভোট কেন জরুরি? জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
- ড. ইউনূসের সঙ্গে নাহিদ-আসিফের সাক্ষাৎ; নির্বাচন নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা
- নানিয়ারচরের শীতার্তদের পাশে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন
- নলতায় পীরে কামেল আহ্ছানউল্লা (র.)- এর ৬২তম ওরছ শরীফ ২৬–২৮ মার্চ
- আগামীর রাজনীতি হবে মানুষের কল্যাণে: তারেক রহমান
- আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়, ওটা ছিল প্রতিবাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি: রুমিন ফারহানা
- এক ব্যক্তির শাসন রুখতে ‘হ্যাঁ’ ভোট কেন জরুরি? জানালেন আলী রীয়াজ
- অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পথ বন্ধ; চালু হচ্ছে ই-টিকিট
- সেনাবাহিনী থেকে কোস্ট গার্ড: শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কড়া বার্তা
- প্রধান বোর্ডে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা, লেনদেনে নতুন গতি
- ১৯ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১৯ জানুয়ারি বাজারে দরপতনের ১০ শেয়ার
- শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব: শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- আমিরাতের আকাশে শাবান মাসের চাঁদ, রমজান শুরু হতে আর কত দিন
- বাংলাদেশের পাশে পাকিস্তান, বিশ্বকাপে চাপ বাড়ছে আইসিসির ওপর
- তিস্তা মহাপরিকল্পনা চলমান, তিন লক্ষ্য একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
- শহীদ জিয়ার ৯০তম জন্মদিনে সমাধিতে বিএনপির শ্রদ্ধা
- ২০২৬ হজে হজযাত্রী সেবায় নতুন নির্দেশনা
- নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতায় আস্থা রাখছে বিএনপি: ফখরুল
- মব সৃষ্টি ও ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি: রুমিন ফারহানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
- রাজনৈতিক ডামাডোল ও অর্থনৈতিক ভীতি: বিশ্ববাজারে রেকর্ড গড়ল সোনা ও রুপা
- সাভার পাচ্ছে সিটি করপোরেশন, কেরানীগঞ্জ হচ্ছে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা
- সাভারে একের পর এক লাশ, সিরিয়াল কিলারের দাবি পুলিশের
- ১৯ জানুয়ারি ২০২৬: মার্কিন ডলার থেকে রুপি, জানুন আজকের বিনিময় হার
- ডেইলি এনএভিতে ধরা পড়ল মিউচুয়াল ফান্ড সংকেত
- খাঁটি না কি বিষ? সরিষার তেলের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ৫টি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
- শীতের দুপুরে খাবারের স্বাদ বাড়াতে ‘আচারি ফুলকপি’; জেনে নিন বিশেষ রেসিপি
- বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টের নগদ লভ্যাংশ বিতরণ
- অবহেলিত মুলার আকাশচুম্বী গুণ: শীতকালীন খাদ্যতালিকায় কেন এটি অপরিহার্য?
- শেখ হাসিনাসহ ১১ সেনা কর্মকর্তার বিচার শুরু: ট্রাইব্যুনালে আজ সাক্ষ্যগ্রহণ
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উত্তেজনা: ডিসির কার্যালয়ে তলব পেলেন রুমিন ফারহানা
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
- বিশ্বকাপে কি তবে থাকছে না বাংলাদেশ? আইসিসির ‘আল্টিমেটাম’ ঘিরে তোলপাড়
- মানবাধিকার সংস্থার চেয়েও বড় সংখ্যা; ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে লাশের পাহাড়
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আয়কর থেকে ভ্যাট: সব খাতেই রাজস্ব ঘাটতি, সংকটে সরকারি কোষাগার
- আজ টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- নামাজের সময়সূচি: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- স্পেনে দুই ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষ: প্রাণ হারালেন অন্তত ২১ যাত্রী
- অর্ধশতাব্দীর অপেক্ষা শেষ: আবারও চাঁদের পথে মানুষ পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি
- ভালুকার হাজির বাজারে সড়ক থেকে অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার
- আপিল শুনানিতে কোনো পক্ষপাত করিনি: সিইসি
- ইসলামী আন্দোলনের সাথে জামায়াতের অন্যরকম এক সমঝোতা,প্রকাশ পেল নতুন তথ্য
- মুফতি আমির হামজাকে হত্যার হুমকি, ফেসবুকে চাঞ্চল্যকর পোস্ট
- ১৩ বছরের আগে হাতে ফোন? শৈশবেই বাড়ছে বড় ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকি
- ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত
- বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
- ডিএসই পরিদর্শন/ডোমিনেজ চালু, অন্য চার কোম্পানির কারখানা বন্ধ
- আজ থেকে টানা ৩ দিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ডিএসইর আইনি সতর্কতা
- সরকারি বন্ড বাজারে স্থগিতাদেশ ও ডিলিস্টিং একসঙ্গে
- শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার
- ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কোথায় সুযোগ
- বিনিয়োগকারী অভিযোগে ডিজিটাল সমাধান জোরদার ডিএসইর
- রেকর্ড ডেট শেষে সরকারি বন্ড ও দুই কোম্পানীর লেনদেন শুরু
- মার্জিন ঋণে বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের হালনাগাদ তালিকা
- ডিএসই–৩০ শেয়ারে মিশ্র সূচনা, ব্যাংক খাতে ইতিবাচক ধারা
- ওষুধের বাজারে উত্তাপ: কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণনে লাগাম টানছে সরকার
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আইবিপির প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ








