অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পথ বন্ধ; চালু হচ্ছে ই-টিকিট

রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি অবসানে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, এখন থেকে ঢাকার অভ্যন্তরীণ এবং পার্শ্ববর্তী রুটগুলোতে চলাচলকারী বাসগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বাধ্যতামূলকভাবে কাউন্টার পদ্ধতি ও ই-টিকিট ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।
দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা ভাড়া নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধের লক্ষ্যেই এই নতুন ডিজিটাল পদ্ধতি প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ যাত্রীরা যেমন স্বস্তি পাবেন, তেমনই শহরের সড়কগুলোতে যানজট নিরসন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট পরিবহন নেতারা।
এই আধুনিক ই-টিকিট ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমটি কারিগরিভাবে পরিচালনা ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘আরবান টেক লিমিটেড’ নামক একটি শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে সড়ক পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলো। নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় যাত্রীরা বিশেষ মোবাইল অ্যাপস অথবা সড়কের নির্ধারিত পয়েন্টে থাকা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ই-টিকিট ব্যবস্থায় সরকার নির্ধারিত তালিকার বাইরে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ থাকবে না, যা সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যয় নিয়ন্ত্রণে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, যাত্রী হয়রানি কমানো এবং দীর্ঘদিনের ভাড়া নৈরাজ্য চিরতরে বন্ধ করতেই এই আধুনিক উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। এটি কেবল একটি টিকিট পদ্ধতি নয় বরং ঢাকার সড়ক ব্যবস্থাপনাকে একটি সিস্টেমের মধ্যে ফিরিয়ে আনার একটি বলিষ্ঠ চেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সারোয়ার হোসেন। তিনি এই টিকিট ব্যবস্থাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন যে, ভবিষ্যতে পুরো গণপরিবহন নেটওয়ার্ককে একটি সম্পূর্ণ ‘ক্যাশলেস’ বা নগদ অর্থহীন লেনদেনের আওতায় আনার বড় ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে সড়কে আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়বে এবং বাসের চালক বা সহকারীদের সঙ্গে যাত্রীদের ভাড়াকেন্দ্রিক অপ্রীতিকর ঘটনাগুলো শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।
এই ব্যবস্থাটি মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়নে ডিএমপির পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং ট্রাফিক বিভাগ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন। ই-টিকিট ব্যবস্থার প্রবর্তনের মাধ্যমে ঢাকার গণপরিবহন যাতায়াতে যাত্রীরা এক নতুন ধরণের স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজে পাবেন এবং সড়কের প্রতিটি সংস্থা এই কার্যক্রমকে স্থায়ী করতে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাবে বলে সংবাদ সম্মেলনে প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
আগারগাঁওয়ে পুলিশের অভিযান: গ্রেপ্তার হলেন সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত ব্যবসায়ী
ঢাকার আগারগাঁও ফুটপাতের আলোচিত ‘১০০ টাকায় গরুর মাংস-ভাত’ বিক্রির দোকানদার মিজানুর রহমান মিজানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কাফরুল থানা-পুলিশ। পরবর্তীতে সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ একাধিক অভিযোগে মামলা দায়েরের পর তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।
কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, রোববার নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ বিভাগের একটি দল ফুটপাত ও আশপাশের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময় আগারগাঁও এলাকায় মিজানের ভাতের দোকানের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ কাটতে যান সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নিলে মিজান তাঁদের ওপর চড়াও হন এবং একপর্যায়ে সিটি করপোরেশনের কর্মী ও সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যদের ওপর চড়থাপ্পড় ও আঘাত করেন।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং সরকারি ডিউটিতে বাধা প্রদান ও হামলার অপরাধে মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। উল্লেখ্য, আগারগাঁওয়ের ফুটপাতে ১০০ টাকায় সুস্বাদু খাবার বিক্রি করে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ নাম কুড়িয়েছিলেন এই হোটেল ব্যবসায়ী।
/আশিক
মিরপুরে টিসিবির লাইনে মর্মান্তিক দেয়াল ধস, প্রাণ হারালেন ২ জন
রাজধানীর মিরপুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় টিসিবির পণ্য কিনতে এসে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবির) সুলভ মূল্যের পণ্য সংগ্রহের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় নিকটস্থ একটি পুরোনো দেয়াল ধসে পড়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পেছনের সীমানা প্রাচীর ধসে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মিরপুর থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য কেনার জন্য বহু সাধারণ মানুষ মিরপুর কলেজের পেছনের স্থানে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে হঠাৎ করেই কলেজের পুরোনো ও জরাজীর্ণ সীমানা প্রাচীরটি লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা উৎসুক ও অপেক্ষমাণ লোকজনের ওপর ভেঙে পড়ে। মুহূর্তে কয়েকজন দেয়ালের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনার পরপরই উপস্থিত অন্যান্য লোকজনের সহায়তায় প্রাচীরের ইট-কংক্রিট সরিয়ে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করা হয়।
মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, দেয়াল ধসে পড়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার হওয়া আটজনকে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে নাসিমা বেগম নামে এক নারীকে পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে আরও এক পুরুষকে চিকিৎসকরা মৃত বলে নিশ্চিত করেন।
বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলে গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও এক নারী। বাকি আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানটি পরিদর্শনের পাশাপাশি সার্বিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
/আশিক
যুদ্ধবিধ্বস্ত কিয়েভের চেয়েও পিছিয়ে: বিশ্বের অন্যতম কম বাসযোগ্য শহর হিসেবে ঢাকার রেকর্ড
ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) সর্বশেষ ‘গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬’ অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরগুলোর তালিকায় টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ১৭১তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। বিশ্বের ১৭৩টি শহরের স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অবকাঠামো এবং সংস্কৃতি ও পরিবেশ—এই ৫টি সূচক মূল্যায়ন করে তৈরি করা এবারের তালিকায় ঢাকার মোট স্কোর ১০০-এর মধ্যে মাত্র ৪২।
ঢাকার নিচে রয়েছে কেবল লিবিয়ার ত্রিপোলি (১৭২তম) এবং গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তালিকার সর্বনিম্নে থাকা যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক (১৭৩তম)। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এমনকি যুদ্ধকবলিত ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভও বাসযোগ্যতার বিচারে ঢাকার চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে, ৯৮ স্কোর নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন। শহরটি স্থিতিশীলতা, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে পূর্ণ ১০০ নম্বর পেয়েছে। তালিকার শীর্ষ পাঁচে থাকা বাকি শহরগুলো হলো যথাক্রমে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন, সিডনি এবং সুইজারল্যান্ডের জুরিখ।
উত্তর আমেরিকার একমাত্র শহর হিসেবে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার নবম স্থানে রয়েছে এবং বিশ্বের বৃহৎ মেগাসিটিগুলোর মধ্যে একমাত্র জাপানের টোকিও শীর্ষ দশে জায়গা করে নিতে পেরেছে। ইআইইউর মতে, অতিরিক্ত জনঘনত্ব, যানজট ও অপরাধপ্রবণতার কারণে সাধারণত বড় শহরগুলোর বাসযোগ্যতার স্কোর কমে যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ড্রোন হামলার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের ওমানের রাজধানী মাস্কাট ১৪ ধাপ পিছিয়ে ১২৩তম স্থানে নেমে গেছে এবং কাতার, দুবাই ও আবুধাবির অবস্থানও কিছুটা নিচে নেমেছে। তবে সার্বিকভাবে চীন ও জাপানের শহরগুলোর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কারণে এশিয়ার গড় স্কোর কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩ দশমিক ৯-এ দাঁড়িয়েছে, যা পূর্ব ইউরোপের চেয়েও বেশি।
বিশেষ করে চীনের শহরগুলো স্বাস্থ্যসেবা খাতে অভাবনীয় উন্নতি করলেও কঠোর নজরদারি ও গণতান্ত্রিক ঘাটতির কারণে র্যাংকিংয়ে খুব বেশি এগোতে পারেনি। বিপরীতে, পাকিস্তানের করাচিসহ (১৭০তম) ঢাকার মতো ‘সবচেয়ে অনুন্নত শহরগুলোর’ ধারাবাহিক খারাপ পারফরম্যান্স এশিয়ার সামগ্রিক গড়কে নিচের দিকে টেনে ধরেছে।
/আশিক
আভিজাত্যের তকমা হারাচ্ছে ধানমন্ডি: ৩১ বছর পর কোন বড় অ্যাকশনে সরকার?
রাজধানীর অন্যতম সুপরিকল্পিত ও অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত ধানমন্ডি এখন তার চিরচেনা রূপ হারাতে বসেছে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা রেস্তোরাঁ, হাসপাতাল, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং নানাবিধ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কারণে পুরো এলাকাটি এখন তীব্র যানজট, পার্কিং সংকট, শব্দদূষণ এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এই চেনা অবক্ষয় থেকে ধানমন্ডিকে বাঁচাতে এবং এর আবাসিক বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ ৩১ বছর পর ১৯৯৫ সালের ‘বাণিজ্যিক ব্যবহার নীতিমালা’ আমূল সংশোধন, পরিমার্জন ও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ বিষয়ে একাধিক কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত পুরোনো নিয়মই বলবৎ থাকবে, তবে বর্তমান নিয়মের তোয়াক্কা না করে যারা অবৈধভাবে ব্যবসা চালাচ্ছেন, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ক্র্যাকডাউনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, একটি আদর্শ নগরীর প্রধান শর্ত হলো আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার সুস্পষ্ট বিভাজন। কিন্তু ধানমন্ডি ও গুলশানের মতো ভিআইপি এলাকায় সেই নকশা এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এক মাঠপর্যায়ের জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ধানমন্ডির প্রায় ৪৮ শতাংশ ভবনই এখন কোনো না কোনোভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এলাকার ১,৫৯২টি ভবনের মধ্যে মাত্র ৮২৩টি পুরোপুরি আবাসিক রয়েছে; বাকি ৫৩২টি মিশ্র এবং ২৩৭টি ভবন সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। অথচ, ১৯৯৫ সালের মূল নীতিমালায় কেবল মিরপুর রোড, সাতমসজিদ রোড, গ্রিন রোড এবং পুরাতন ২ ও ২৭ নম্বর সড়কের পাশে সীমিত পরিসরে ব্যবসার অনুমতি ছিল। গত তিন দশকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক নজরদারির শিথিলতার সুযোগ নিয়ে পুরো ধানমন্ডিকে একটি ঘিঞ্জি বাণিজ্যিক জোনে পরিণত করা হয়েছে, যা বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মানকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
"ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় নিয়ম ভেঙে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনেকেই কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করছেন না। এভাবে আর কতদিন চলবে! সরকার এগুলোকে একটা শৃঙ্খলায় আনার চেষ্টা করছে এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
— মো. মনিরুজ্জামান মিঞা, অতিরিক্ত সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার এখন নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা শহরের যেকোনো আবাসিক প্লটের মূল মাস্টারপ্ল্যান পরিবর্তন বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজউক (RAJUK)-কে অবশ্যই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এছাড়া, অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত একটি বিশেষ কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে নতুন নীতিমালার খসড়া জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও রাজউকের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ নীতিমালায় ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত নিজস্ব পার্কিং সুবিধা থাকাকে বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে জুড়ে দেওয়া হবে, যাতে গ্রাহকদের গাড়ি রাস্তার ওপর পার্কিং করে আর কৃত্রিম যানজট ও জনদুর্ভোগ তৈরি করতে না পারে।
কাঁটাবনে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ হারালেন দুই আইনজীবীর সহকারী, নেপথ্যে কী?
রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের কাঁটাবন এলাকায় অবস্থিত ‘আল বারাকা টাওয়ার’ নামের একটি ১৪ তলা আবাসিক ভবনে মধ্যরাতে এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত ১টা ৫ মিনিটের দিকে বহুতল এই ভবনটির ১২ তলার দুটি ফ্ল্যাটে হঠাৎ করেই আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া ভবনের ১১ ও ১৩ তলাসহ চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। গভীর ঘুমে মগ্ন থাকা ভবনের বাসিন্দারা প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন এবং অনেকেই জীবন বাঁচাতে ভবনের ছাদে গিয়ে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পলাশী ও সিদ্দিকবাজার স্টেশন থেকে একে একে ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে রাত ৩টা ৮ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
দুর্ভাগ্যবশত, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ ও মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়ে দুই তরুণের অকালমৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন— মো. জনি (২৪) এবং মো. আবদুস সালাম (২০)। তারা দুজনই পেশাগতভাবে আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সহকারী বা ক্লার্ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে আবদুস সালাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমানের ক্লার্ক হিসেবে কাজ করতেন; তাঁর বাড়ি বগুড়ার কাহালু উপজেলায়। অন্যদিকে, মো. জনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফের ছেলে ব্যারিস্টার মোয়াজের ক্লার্ক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন; তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায়। জানা গেছে, ভবনটির ওই নির্দিষ্ট ফ্লোরটিতে আইনজীবীদের চেম্বার ছিল। আগুন লাগার পর তারা ভেতরে আটকে পড়ে মোবাইল ফোনে বাইরে থাকা পরিচিতদের কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়ার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অচেতন ও মুমূর্ষু অবস্থায় ওই দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ এবং জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান। সেখানে রাত সাড়ে ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁদের দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিউমার্কেট থানার পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বহুতল এই ভবনটিতে কোনো কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না এবং বিল্ডিং কোডও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি, যার ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং উদ্ধার অভিযান চালাতে ফায়ার ফাইটারদের চরম বেগ পেতে হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
SEO Keywords:
ধানমন্ডির বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস
রাজধানীর ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডে একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে।
বুধবার (১০ জুন) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে ভবনটিতে আগুন লাগে। খবর পাওয়ার পর মোহাম্মদপুর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার ফরিদা ইয়াসমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাত মসজিদ রোডের একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদের ওপর থাকা একটি কক্ষে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
জানা গেছে, ভবনটিতে বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্যের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সির অফিস রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য জানায়নি ফায়ার সার্ভিস।
/আশিক
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু: ভরিপ্রতি ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিতে রিট
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত মাসের শেষভাগে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। আজ রবিবার (৭ জুন) সকালে হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ। রিটে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
দায়েরকৃত এই রিট আবেদনে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে। রিটকারী আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ অভিযোগ করে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে মূলত এই নির্মম ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।
পুরো ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও গাফিলতি ছিল বলে দাবি করেন তিনি। একই সাথে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত এই হাসপাতাল ভবনটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) যথাযথ নিয়ম ও বিল্ডিং কোড মেনে নির্মাণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এই আইনজীবী। তিনি আরও জানান, চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আসার পূর্বেই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে জরুরি ভিত্তিতে ২০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও রিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার (৮ জুন) হাইকোর্টের এই দ্বৈত বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ভর্তি থাকা ছয়টি নবজাতক শিশু মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একে একে মারা যায়। এই রহস্যজনক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে এখন আদালতের দ্বারস্থ হলেন এই আইনজীবী।
/আশিক
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: তদন্তে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিট
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম ডিসপোজাল ইউনিট। হাসপাতালটির ভেতরে কোনো ধরনের বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে এই নিহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, মূলত সেই রহস্য উদঘাটন ও তদন্ত করতেই বিশেষায়িত এই দলটিকে সেখানে পাঠানো হয়েছে।
আজ বুধবার (২৭ মে) দুপুরে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিটের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তারা ঘটনাস্থলে এসেছেন। বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করার জন্য তারা বেশ কিছু আধুনিক প্রযুক্তির ডিভাইস ও সরঞ্জাম সাথে নিয়ে এসেছেন। যে বিশেষ কক্ষে নবজাতকরা চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মারা গেছে, সেই কক্ষের ভেতরের বাতাস ও পরিবেশ এই ডিভাইসগুলোর সাহায্যে বিশদভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। সেখানে কোনো ধরনের ক্ষতিকারক বা বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়েছিল কি না, এবং ছড়ালে তা ঠিক কোন ধরনের গ্যাস ও কী পরিমাণে উপস্থিত ছিল, তা এই কারিগরি তদন্ত শেষেই সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব হবে।
বোম ডিসপোজাল ইউনিটের আসার আগেই আজ সকালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিআইডির সদস্যরা হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ রুমসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্থান থেকে প্রয়োজনীয় আলামত ও নমুনা সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করেছেন, যা ল্যাবরেটরি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, আজ বুধবার সকালের দিকে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় একে একে ছয়টি নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটিকে একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা বলে দাবি করলেও, নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যরা একে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ তুলছেন। স্বজনদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, নবজাতক ওয়ার্ডে থাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির গ্যাস লিকেজ হয়ে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সেই বিষাক্ত গ্যাস শ্বাসের সাথে শরীরে প্রবেশের কারণেই মূলত শিশুরা মারা গেছে।
/আশিক
পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: ৪৭ পৃষ্ঠার চার্জশিটে পৈশাচিকতার লোমহর্ষক বিবরণ
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় আদালতে ৪৭ পৃষ্ঠার এক চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটার মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে দ্রুততম তদন্ত শেষ করে গত রবিবার পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন। পরে মামলাটি পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হলে বিচারক মাসরুর সালেকিন তা আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নেন। আদালত আগামী ১ জুন এই মামলার অভিযোগ গঠনের (চার্জ ফ্রেম) শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য এই মামলায় আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান অভিযুক্তের পক্ষে আইনি সহায়তার জন্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুসা কলিমুল্লাহকে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী করা হয়েছে। অভিযোগপত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২০ মে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মূল অভিযুক্ত ও অটোরিকশা মেকানিক সোহেল রানা (৩০) নিজের ওপর আনা পাশবিক অপরাধের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দেন।
তিনি জানান, সাবলেট বাসার অন্য সদস্যরা প্রতিদিন সকালে কাজে চলে যাওয়ার পর তিনি নিয়মিত ঘরে বসে মাদক সেবন করতেন। ঘটনার দিন অর্থাৎ গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাশের বাসার শিশু রামিসাকে একাকী দেখে নিজের ঘরে ডেকে নেন সোহেল। এরপর তাকে বাথরুমে নিয়ে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করেন। রামিসা চিৎকার করতে চাইলে তিনি তার মুখ শক্ত করে চেপে ধরেন এবং মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে নির্যাতন চালান।
জবানবন্দিতে সোহেল আরও স্বীকার করেন, ধর্ষণের একপর্যায়ে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তিনি ধরে নেন রামিসা মারা গেছে। এরপর অপরাধের প্রমাণ চিরতরে মুছে ফেলার ও লাশ গুমের উদ্দেশ্যে একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথা কেটে ধড় থেকে আলাদা করাসহ মরদেহ বিকৃত করার চেষ্টা করেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেও চিকিৎসকেরা এই পৈশাচিকতার সত্যতা পেয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, মাথা বিচ্ছিন্ন করার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শকের (Shock) ফলেই মূলত রামিসার মৃত্যু হয় এবং তার শরীরের ক্ষতগুলো সে জীবিত থাকা অবস্থাতেই তৈরি করা হয়েছিল।
সোহেলের জবানবন্দিতে অপরাধের পর পালিয়ে যাওয়ার রোমহর্ষক ঘটনাপ্রবাহও উঠে এসেছে। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সবাই যখন রামিসাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল, তখন রামিসার মা সোহেলদের ঘরের দরজার সামনে মেয়ের জুতো দেখতে পান। তিনি চিৎকার করে রামিসাকে ডাকতে থাকেন এবং কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের জড়ো করে দরজায় ধাক্কা দিতে শুরু করেন। সোহেল বলেন, ‘পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আমার স্ত্রী আমাকে পালিয়ে যেতে বলে।
আমি তখন রেঞ্জ দিয়ে জানালার গ্রিল ভেঙে ফেলি। লোকজন যখন বাইরে থেকে প্রধান দরজায় সমানে ধাক্কা দিচ্ছিল, তখন আমার স্ত্রী ভেতর থেকে দরজা শক্ত করে চেপে ধরে রেখে আমাকে জানালা দিয়ে পালাতে সাহায্য করে।’ সোহেল নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার পরই তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বাইরের মানুষের জন্য ঘরের দরজা খুলে দেয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের দ্রুততম বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পিপি ও নিহতের পরিবার।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ, ভারতের জন্য তৈরি হতে পারে অস্বস্তি
- বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে নতুন অনিশ্চয়তা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রোখার সাধ্য শত্রুর নেই: স্পিকার গালিবাফ
- দেবিদ্বারে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
- বড় সংঘাতের আশঙ্কায় বেইজিংয়ের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
- ব্যবসায়ী সংগঠনের আপত্তিতে কর নীতিতে পিছু হটলো এনবিআর
- আন্তর্জাতিক বাজারে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে পতন: রয়টার্স
- মেসিকে ছাড়া বিশ্বকাপ আগের মতো থাকবে না: জোসে মরিনিও
- মধ্যরাত পর্যন্ত ১১ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
- বিপিএলে দুর্নীতির থাবা, সাবেক পরিচালকসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ
- নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
- ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বড় আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা সরকারের
- বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতা বাড়াবে আইপিইউ: শামা ওবায়েদ
- প্রধানমন্ত্রীর কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ বার্তা, দ্রুতই সরাসরি বৈঠকের আভাস
- বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দুই বছর লাগবে না, সচিবালয়ে উপদেষ্টার বার্তা
- ভারত থেকে পালিয়ে আসা সন্ত্রাসীদের ঢাকায় আশ্রয় হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- ট্রেজারি বন্ড ও বৈশ্বিক প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধাক্কা
- অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়ন হবে না, সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের বার্তা
- টুর্নামেন্টের মাঝপথে ক্যারিবীয় লিগে দল পেলেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার
- দেশের ৬ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- থাইল্যান্ডের পাতায়ায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা: যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া সতর্কতা
- জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি, বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী
- এক ঐতিহাসিক যুগের সমাপ্তি, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন মহাতারকা
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে টানাপোড়েন, সামনে বড় ওঠানামার আভাস
- ইরানকে ‘ব্যর্থ ও মৃত রাষ্ট্র’ ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা
- পেট ফাঁপা ও বদহজম রোধে হেঁশেলের প্রাচীন উপায়ের কার্যকারিতা
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় আরও ৬-৭টি দেশ: পাকিস্তান
- ৭ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে ঝোড়ো হাওয়া, নদীবন্দরে সতর্কতা
- সরকারি চাকরিজীবীদের ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রকাশ
- ভারত সিরিজ নিয়ে মুখ খুললেন বোর্ডপ্রধান, জানালেন সর্বশেষ পরিস্থিতি
- ২১ বছরের পুরোনো মায়া কাটিয়ে নতুন স্থায়ী ঠিকানায় বাংলাদেশি মিডফিল্ডার
- আমিরাতের আল মিনহাদ ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের ড্রোন হামলা
- দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান, নতুন বেতন কাঠামোয় মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত
- মোদির সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান: যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী একটি পক্ষ
- একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত
- ভূগর্ভস্থ টানেলে আটকা শত শত প্রাণ, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান
- নেপালে বন্যায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি পরিসংখ্যানে ভিন্নতা, নিখোঁজ বাড়ছে
- ইরানে পারমাণবিক হামলার পথ বেছে নিতে পারেন ট্রাম্প: জো কেন্ট
- নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে শত শত শ্রমিক নিখোঁজ, ২৭৯ জন উদ্ধার
- কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ দ্রুত চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ-চীন ঐকমত্য
- রাজবাড়ীতে পুলিশের সামনে নারী উদ্যোক্তাকে মারধর, ভিডিও ভাইরাল
- ইরানে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আফগান নাগরিকদের ফাঁসি: মানবাধিকার সংস্থা
- এক সপ্তাহে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার ঘটনায় বিজেপিসির তীব্র নিন্দা
- তিস্তা পাড়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, স্থানীয় সংকট নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা
- সেবা শেষে এবার বকশিশও দাবি করছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি
- নতুন মৌসুমে স্থায়ী ঠিকানায় ফিরছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তারকা
- দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য বদলেই কমবে মাসের বাড়তি বিদ্যুৎ বিল
- তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে চীন-বাংলাদেশ বৈঠক
- বিগত ১৬ বছরে গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘ অপেক্ষার ইতি চায় রাষ্ট্র
- ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে বাদ পড়ছেন কারা, প্রকাশ পেল অযোগ্যতার তালিকা
- ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, ৪ ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- ট্রাম্পের ছেলে ব্যারনকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানে ভিডিও প্রকাশ
- লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, নতুন রেকর্ডের পথে ভরি
- দুবার প্রস্তুতি, তারেক রহমানের দিল্লি সফর বারবার বাতিল, নেপথ্যে কী
- একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত
- এক সপ্তাহে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার ঘটনায় বিজেপিসির তীব্র নিন্দা
- বিদ্যুৎ খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া বড় চাপ: প্রতিমন্ত্রী
- নেপালে বিপর্যয়: শত শত মৃত্যু, নিখোঁজ ১৪০০
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশে আবহাওয়ার নতুন পূর্বাভাস
- নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সীমা: যেসব বিষয়ে নির্ভরতা বিপজ্জনক
- গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষমাণদের জন্য এলো বড় সুখবর
- চার বছরের বিরতি ভেঙে বড় পর্দায় ফিরে বক্স অফিসে ঝড়
- বাংলাদেশ একদিন জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে: হামিদুর রহমান আযাদ
- এটা প্রশ্ন না পল্টনের বক্তৃতা: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী




.jpg)



