রণক্ষেত্রে ট্রমা ও নৈতিক আঘাত: ইসরায়েলি সেনাদের আত্মহত্যার হার বৃদ্ধি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ১০:০৩:২৪
রণক্ষেত্রে ট্রমা ও নৈতিক আঘাত: ইসরায়েলি সেনাদের আত্মহত্যার হার বৃদ্ধি
ছবি : সংগৃহীত

গাজায় টানা দুই বছর ধরে চলা ভয়াবহ সামরিক অভিযানের রেশ ধরে ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) এবং আত্মহত্যার প্রবণতা নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের অতর্কিত হামলার পর শুরু হওয়া এই সংঘাত কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা ইসরায়েলি বাহিনীর ভেতরে এক গভীর মানসিক স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স২৪-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গাজা ও লেবানন সীমান্তে মোতায়েন করা কয়েক লাখ সেনা ও রিজার্ভ সদস্যের বড় একটি অংশ এখন দীর্ঘমেয়াদী মানসিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছেন। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের বিস্তৃতি যখন লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতে রূপ নিয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, তখন ইসরায়েলি সামরিক কাঠামোর ওপর এই মানসিক চাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে।

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে ইসরায়েলি অভিযানে সেখানে ৭১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং দক্ষিণ লেবাননে ৪ হাজার ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, ৭ অক্টোবরের পর থেকে তাদেরও ১ হাজার ১০০-এর বেশি সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। তবে যুদ্ধের এই রক্তক্ষয়ী অধ্যায় কেবল প্রাণহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে সেনাদের মধ্যে পিটিএসডির ঘটনা প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে যে ২০২৮ সালের মধ্যে এই হার ১৮০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বর্তমানে যুদ্ধাহত হিসেবে চিকিৎসাধীন প্রায় ২২ হাজার ৩০০ সেনাসদস্যের মধ্যে ৬০ শতাংশই পোস্ট-ট্রমা জনিত গুরুতর সমস্যায় ভুগছেন। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ম্যাকাবি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী তাদের আওতায় থাকা সামরিক সদস্যদের ৩৯ শতাংশ মানসিক সহায়তা গ্রহণ করেছেন এবং প্রায় ২৬ শতাংশ বিষণ্ণতার লক্ষণগুলোর কথা সরাসরি স্বীকার করেছেন।

এই মানসিক সংকটের পেছনে কেবল মৃত্যুভয় নয়, বরং এক ধরণের ‘নৈতিক আঘাত’ বা মরাল ইনজুরি কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উত্তর ইসরায়েলের এমেক মেডিকেল সেন্টারের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট রোনেন সিদি এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন যে, সেনারা একদিকে যেমন যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের জীবন হারানোর অভিজ্ঞতায় বিপর্যস্ত, অন্যদিকে নিরীহ মানুষের ক্ষতির দায়বোধ তাদের কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে মুহূর্তের সিদ্ধান্তে নারী ও শিশু নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো অনেক সেনার মনে অপরাধবোধের জন্ম দিচ্ছে, যা থেকে মুক্তি পাওয়া তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২৮ বছর বয়সী একজন রিজার্ভ সেনা পল তার অভিজ্ঞতায় জানিয়েছেন যে, গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় দায়িত্ব পালনের পর যুদ্ধের শব্দগুলো এখনো তাকে তাড়া করে ফেরে এবং তিনি সারাক্ষণ এক ধরণের তীব্র সতর্ক অবস্থায় থাকতে বাধ্য হন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাদের এই ট্রমা বা মানসিক আঘাত চিকিৎসার ব্যবস্থা এখনো অনেকাংশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বন্দি। মানসিক সহায়তা পাওয়ার জন্য সেনাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি মূল্যায়ন কমিটির সম্মুখীন হতে হয়, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং অনেক ক্ষেত্রে সেনাদের সহায়তা নিতে নিরুৎসাহিত করে। এই চিকিৎসাহীন ট্রমার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে বাড়ছে আত্মহত্যার হার। ইসরায়েলি সংসদীয় এক কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ২৭৯ জন সেনা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ২০২৪ সালে ইসরায়েলে মোট আত্মহত্যার ঘটনার ৭৮ শতাংশই ছিল যুদ্ধরত সেনাদের মধ্যে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলের মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যে ধরণের তীব্র চাপের মুখে পড়েছে, তাতে অনেকেই প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না। গাজা, লেবানন এবং সিরিয়ায় সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত থাকা এবং ইরানের সঙ্গে নতুন সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে এই মানসিক বিপর্যয় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ইউরেনিয়ামের বিশাল স্তূপ তেহরানে: যুদ্ধের আবহে জাতিসংঘের বিস্ফোরক মন্তব্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ২১:৫৯:৪৫
ইউরেনিয়ামের বিশাল স্তূপ তেহরানে: যুদ্ধের আবহে জাতিসংঘের বিস্ফোরক মন্তব্য
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জোরালো অভিযোগ তোলা হলেও জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইএইএ) ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিদর্শকরা ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো ‘সমন্বিত’ বা ‘পদ্ধতিগত’ কর্মসূচির প্রমাণ পাননি। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে জানান, তেহরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো কাঠামোবদ্ধ উপাদানের অস্তিত্ব শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তবে গ্রোসি এটি নিশ্চিত করেছেন যে, তেহরান ইতোমধ্যে ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই মাত্রার সমৃদ্ধকরণ বেসামরিক জ্বালানি চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। যদিও পরিদর্শকরা এটি নিশ্চিত করতে পারেননি যে ইরান সরাসরি বোমা তৈরির উদ্দেশ্যেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, তবুও এই বিপুল পরিমাণ মজুত আন্তর্জাতিক মহলে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, এই সমৃদ্ধকরণই বর্তমানে আইএইএ-র উদ্বেগের প্রধান কারণ, কারণ এই মাত্রায় উপাদান জমা করার পেছনে কোনো ‘স্পষ্ট উদ্দেশ্য’ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

গ্রোসি আরও জানান, ইরানের সেন্ট্রিফিউজগুলো বিরতিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ক্রমাগত ইউরেনিয়ামের উপাদান উৎপাদন বাড়াচ্ছে। তাত্ত্বিকভাবে এই মজুত ব্যবহার করে ১০টিরও বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করা সম্ভব হতে পারত। তবে বর্তমানে ইরানের কাছে বাস্তবে এমন কোনো অস্ত্র আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি ‘না’ বলে উত্তর দিয়েছেন। আইএইএ মহাপরিচালকের এই বক্তব্যের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হলো।

/আশিক


পেন্টাগনের গোপন সতর্কবার্তা: ট্রাম্পের দোটানায় বিপাকে মার্কিন সামরিক বাহিনী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ২১:৪৬:৫৮
পেন্টাগনের গোপন সতর্কবার্তা: ট্রাম্পের দোটানায় বিপাকে মার্কিন সামরিক বাহিনী
ছবি : সংগৃহীত

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আংশিক লক্ষ্য অর্জন করলেও যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ খোলা আছে; হয় খামেনির মৃত্যুকে চূড়ান্ত বিজয় ধরে যুদ্ধ সমাপ্তি ঘোষণা করা, নতুবা শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি উপড়ে ফেলতে আক্রমণের মাত্রা দ্বিগুণ করা। সম্প্রতি ট্রাম্প এই যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও পেন্টাগনের কমান্ডাররা সতর্ক করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান সামরিক শক্তি দিয়ে বড়জোর এক বা দুই সপ্তাহ যুদ্ধ চালানো সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সক্ষমতা নিয়ে খোদ পেন্টাগনের ভেতরেই সংশয় দেখা দিয়েছে।

এই যুদ্ধকে বিশ্লেষকরা একটি ‘অসম যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করছেন, যেখানে ইরানের সস্তা ড্রোন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে মিলিয়ন ডলারের দামী প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে। এই ভারসাম্যহীন সমরকৌশল অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার জন্য চাপ দিচ্ছে, কারণ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উদ্বেগজনক হারে ফুরিয়ে আসছে। ইরানের বহুমাত্রিক আক্রমণের কৌশল এবং উপসাগরীয় মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর হুমকি এই অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই যুদ্ধে জেতা মানেই হলো ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো। কিন্তু ইরানের জন্য টিকে থাকাই হলো তাদের বিজয়। আকাশপথে হামলা চালিয়ে ইরানের বিভিন্ন অংশকে দুর্বল করলেও স্থলভাগে বিদ্রোহ বা গৃহযুদ্ধ শুরু না হলে শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা তেহরানের জন্য কঠিন হবে না। এভাবে যুদ্ধ চলতে থাকলে মার্কিন জনগণের সমর্থন হারানোর পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধের একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকে, আর সেই সীমা পর্যন্ত ইরান যদি টিকে যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

(লেখক: ডমিনিক ওয়াগহর্ন, স্কাই নিউজের আন্তর্জাতিক বিভাগের সম্পাদক)


খামেনি কি বেঁচে আছেন? সাহারা মরুভূমিতে থাকার ছবির আসল সত্য ফাঁস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১৯:৫১:২১
খামেনি কি বেঁচে আছেন? সাহারা মরুভূমিতে থাকার ছবির আসল সত্য ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে খামেনির মৃত্যুর খবরের মাঝেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ‘জীবিত’ থাকার দাবি করে কিছু ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দাবি করা হচ্ছে যে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বর্তমানে সাহারা মরুভূমিতে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছেন। কিন্তু গভীর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, খামেনির সাহারা মরুভূমিতে অবস্থানের এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার বা মিসইনফরমেশন।

তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট চেকে দেখা গেছে, খামেনির কথিত মরুভূমিতে অবস্থানের ছবিটি বর্তমান সময়ের কোনো ঘটনা নয়। মূলত এটি ২০১৪ সালের একটি পুরোনো ছবি, যার সঙ্গে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনো নূন্যতম সম্পর্ক নেই। কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম, ভিডিও ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণেও তাঁর জীবিত থাকার সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের ভুয়া ছবি ছড়িয়ে দেওয়াকে নিছক ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। খামেনির মৃত্যুর খবরটি যখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, তখন এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার একটি কৌশল মাত্র।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে চীন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি এড়াতে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের বিপর্যয় রোধ করতে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বজায় রাখা জরুরি। উল্লেখ্য যে, ইরান গত শনিবার এই প্রণালিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থাগুলো এই পথে চলাচল স্থগিত করেছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে যাতায়াত করে এবং চীন ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হওয়ায় দেশটি নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

/আশিক


২০২৬ সালেই শুরু হবে মহাযুদ্ধ: ভাইরাল বাবা ভাঙ্গার সেই রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১৭:২১:৩৯
২০২৬ সালেই শুরু হবে মহাযুদ্ধ: ভাইরাল বাবা ভাঙ্গার সেই রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণী
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন বুলগেরিয়ার বিখ্যাত অন্ধ ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হওয়া তার এক কথিত ভবিষ্যদ্বাণীতে দাবি করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের শুরুতেই একটি ‘মহাযুদ্ধ’ শুরু হবে, যা পূর্ব দিক থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়বে। ১৯১১ সালে জন্মগ্রহণকারী বাবা ভাঙ্গা ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনার মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি হারান এবং পরবর্তীতে দাবি করেন যে তিনি অলৌকিক দর্শনশক্তি লাভ করেছেন। তাকে অনেকেই ‘বালকান অঞ্চলের নস্ত্রাদামুস’ বলে অভিহিত করেন এবং তার অনুসারীরা দাবি করেন যে তিনি ৯/১১ হামলা বা উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর উত্থানের মতো বড় আন্তর্জাতিক ঘটনার নির্ভুল পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

তবে বাবা ভাঙ্গার এই ২০২৬ সালের মহাযুদ্ধের ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবা ভাঙ্গার নিজের লেখা বা নথিভুক্ত কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল নেই যেখানে এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণীর স্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায়। বর্তমানে যা প্রচারিত হচ্ছে, তার অধিকাংশই দ্বিতীয় বা তৃতীয় কোনো সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য, যার কোনো প্রামাণ্য ভিত্তি নেই। অনেক গবেষক মনে করেন, এসব দাবির বেশিরভাগই পরবর্তীকালে গুজব বা লোকমুখে প্রচলিত কাহিনি হিসেবে তার নামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে অনিশ্চয়তার এই সময়ে রহস্যময় এসব বাণীর সত্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, যুদ্ধ বা অস্থিরতার মতো ভয়াবহ সময়ে মানুষ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা বা নিয়ন্ত্রণবোধ খোঁজে, যা তাদের মানসিকভাবে এক ধরণের আশ্রয় দেয়। অজানা ভবিষ্যতের ভয় থেকেই মানুষ এই ধরনের রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণীর দিকে আকৃষ্ট হয়, যদিও বাস্তবে এর কোনো তথ্যনির্ভর প্রমাণ থাকে না। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন যে, বর্তমান জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণের জন্য প্রয়োজন তথ্যনির্ভর মূল্যায়ন, কোনো রহস্যবাদ নয়। সব মিলিয়ে বাবা ভাঙ্গার ২০২৬ সালের ‘মহাযুদ্ধ’ নিয়ে চর্চা বাড়লেও এর কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি।

/আশিক


জায়নবাদ মানবতার জন্য হুমকি: ইরানের যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া দাবি পাকিস্তানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১৬:৪৭:৪৬
জায়নবাদ মানবতার জন্য হুমকি: ইরানের যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া দাবি পাকিস্তানের
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক বিস্ফোরক মন্তব্যে বলেছেন যে, জায়নবাদ বা উগ্র ইহুদি জাতীয়তাবাদ মুসলিম বিশ্বে অস্থিতিশীলতার মূল চালিকাশক্তি এবং এটি বর্তমান মানবতার জন্য এক বড় হুমকি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে পাকিস্তানের এই মন্ত্রী একটি ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করা একটি পোস্টে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর এই হামলা ও যুদ্ধ পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসলামি বিশ্বের ওপর যত বিপর্যয় ও যুদ্ধ নেমে এসেছে, তার প্রতিটি ঘটনার পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জায়নবাদী মতাদর্শের হাত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি যেকোনো বহিরাগত হুমকির বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

খাজা আসিফ আরও দাবি করেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও বর্তমান এই ভয়াবহ সংঘাত তাদের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে গত শনিবার মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো পাকিস্তানজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও সংঘাত শুরু হয়েছে।

আল জাজিরার তথ্যমতে, রোববারের সেই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পাকিস্তানজুড়ে অন্তত ২০ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে করাচিতে ১০ জন, স্কার্দুতে ৮ জন এবং রাজধানী ইসলামাবাদে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির বিশাল শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ বড় আকার ধারণ করলে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

পরবর্তীতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে নিশ্চিত করেছে যে, করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে বিক্ষোভ চলাকালে মার্কিন মেরিন সেনারা সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে মেরিন সেনাদের গুলি চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহতরা সরাসরি মেরিন সেনাদের গুলিতেই মারা গেছেন কি না, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

ওই সময় কনস্যুলেট রক্ষায় নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী বা স্থানীয় পুলিশও গুলি চালিয়েছিল কি না, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ২৫ কোটি জনসংখ্যার সুন্নি প্রধান দেশ পাকিস্তানে শিয়া সম্প্রদায়ের এই বিশাল জনরোষ এবং মার্কিন কনস্যুলেটে সরাসরি গুলির ঘটনাটি দেশটিতে এক চরম অস্থির ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

/আশিক


পাল্টাপাল্টি হামলায় রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য: বাড়ছে লাশের মিছিল ও জ্বালানির দাম

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১৬:২৮:৫৩
পাল্টাপাল্টি হামলায় রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য: বাড়ছে লাশের মিছিল ও জ্বালানির দাম

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিধ্বংসী যুদ্ধ চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে এবং ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই। আলজাজিরা ও বিবিসির লাইভ ব্লগের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলা আরও তীব্র হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরায় তেল শিল্প অঞ্চলে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন ধরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, পশ্চিম ইরানের হামাদানে যৌথ শক্তির হামলায় ৫ জন এবং কেরমান প্রদেশে ১৩ ইরানি সেনাসহ দেশটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ৭৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। সংঘাতের ভয়াবহতায় লেবানন তাদের সীমান্ত এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নিয়েছে এবং ইসরায়েল দাবি করেছে তারা বৈরুত ও তেহরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে।

চতুর্থ দিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে রয়েছে বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি ধ্বংসের দাবি। ইরান সমর্থিত ফার্স নিউজ এজেন্সি রকেট বিস্ফোরণের ফুটেজ প্রকাশ করে জানিয়েছে, আইআরজিসির হামলায় ঘাঁটির কমান্ড ও স্টাফ বিল্ডিং ধ্বংসসহ জ্বালানি ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে; ওমানের দুকুম বন্দরে ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা এবং কাতারে বিশ্বের মোট সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এলএনজি উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের বাজারে গ্যাসের দাম ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সৌদি আরবও তাদের বৃহত্তম শোধনাগারে উৎপাদন স্থগিত করেছে এবং রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার পর সেখানে অবস্থানরত মার্কিন কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভয়াবহ এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, কোনো জাহাজ এই পথ অতিক্রমের চেষ্টা করলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে চিরকাল যুদ্ধ চালানোর মতো গোলাবারুদ ও অস্ত্রের সীমাহীন মজুত আছে এবং তারা বড় জয়ের জন্য প্রস্তুত।

এরই মধ্যে খামেনির উত্তরসূরি বা পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা হবে বলে জানিয়েছে ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের বাহরাইন, সৌদি আরব, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের ১৪টি দেশ অবিলম্বে ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

/আশিক


বাহরাইনে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটি ধ্বংস করেছে ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১১:৪৫:৪৩
বাহরাইনে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটি ধ্বংস করেছে ইরান
দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে রকেটের একটি ঢেউ বিস্ফোরিত হতে দেখা গেছে। ছবি: সংগৃহীত

বাহরাইনে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন বিমান ঘাঁটি ইরানের ভয়াবহ হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা ফার্স একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে একের পর এক রকেট আছড়ে পড়ছে এবং বিশাল বিস্ফোরণ ঘটছে। আইআরজিসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত আঘাতে বাহরাইনের শেখ ইসা অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন কমান্ড ও স্টাফ বিল্ডিং এবং সংশ্লিষ্ট বিমান ঘাঁটিটি মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বিধ্বংসী হামলায় ঘাঁটির বিশাল জ্বালানি ট্যাংকগুলোতেও আগুন ধরে যায় এবং সেগুলো বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।

এই ভয়াবহ হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য যে, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে রণংদেহী পরিস্থিতি বিরাজ করছে। খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি ইরানি গণমাধ্যম নিশ্চিত করার পরপরই তেহরান কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এরই অংশ হিসেবে ইরান গত কয়েকদিন ধরে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো ও ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বাহরাইনের এই হামলাটি ইরানের প্রতিশোধমূলক অভিযানের একটি বড় অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শেখ ইসা বিমান ঘাঁটিতে এই হামলার ফলে ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রকেটের ঢেউ আছড়ে পড়ার পর পুরো এলাকা আগুনের কুণ্ডলীতে পরিণত হয়েছে। এই হামলায় ঠিক কতজন হতাহত হয়েছেন বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত বড়—তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই সরাসরি আঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের নেতার মৃত্যুর বদলা নিতে তারা এই অঞ্চলের কোনো মার্কিন ঘাঁটিকে নিরাপদ থাকতে দেবে না।

/আশিক


মার্কিন সেনাদের সরাসরি গুলিতে করাচি রণক্ষেত্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১১:৩৬:২৩
মার্কিন সেনাদের সরাসরি গুলিতে করাচি রণক্ষেত্র
করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভের দৃশ্য। ছবি: ভিডিও থেকে

পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মার্কিন মেরিন সেনারা সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, করাচিতে পাকিস্তানিদের ওপর মার্কিন মেরিন সেনাদের এই গুলিবর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মূলত গত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পাকিস্তানজুড়ে চরম উত্তেজনা ও বিক্ষোভ দানা বাঁধে। করাচির মার্কিন কনস্যুলেট এলাকায় কয়েকশ বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে তাণ্ডব চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়।

এই বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, কনস্যুলেট ভবন ও এর কর্মীদের রক্ষায় সেখানে মোতায়েন থাকা মেরিন সেনারা গুলি চালিয়েছে। তবে মার্কিন মেরিন সেনাদের ছোড়া গুলিতেই কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কি না, তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। এছাড়া ওই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মিশন রক্ষায় নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষী বা স্থানীয় পুলিশ সদস্যরাই সরাসরি গুলি চালিয়েছে কি না, সে বিষয়েও রয়টার্স নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তবে ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে করাচি ও এর আশেপাশে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এই নজিরবিহীন সহিংসতার পর পাকিস্তানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বড় ধরণের নিরাপত্তা শঙ্কা প্রকাশ করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পাকিস্তানে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরণের ভিসা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। করাচির এই ঘটনায় পাকিস্তান সরকারের উচ্চ মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং ওয়াশিংটন থেকেও পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ইরানের নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে করাচির এই বিক্ষোভ এবং তাতে মেরিন সেনাদের গুলি চালানোর ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


বিশ্বজুড়ে পক্ষ-বিপক্ষ: ইরান ইস্যুতে কে দিচ্ছে হুংকার, কেই বা দিচ্ছে সমর্থন?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১০:৩২:১৯
বিশ্বজুড়ে পক্ষ-বিপক্ষ: ইরান ইস্যুতে কে দিচ্ছে হুংকার, কেই বা দিচ্ছে সমর্থন?
ছবি : সংগৃহীত

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আজ চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই এক ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন মানবিক সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। গত তিন দিনের পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয়পক্ষের বহু মানুষ হতাহত হলেও ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহাণির সংখ্যা ইরানেই সবচেয়ে বেশি বলে জানা যাচ্ছে। দেশটির রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নিশ্চিত করেছে যে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে ৭০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির প্রায় চার ডজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, এই অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে সোমবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের চারজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে তাদের নয়জন নাগরিক নিহতের খবর জানানো হয়েছে।

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের বর্তমান নেতারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করলেও তেহরান তা সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনোভাবেই কোনো সমঝোতা করবেন না। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সামনের দিনগুলোতে তেহরানের ওপর হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে, যার ফলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন এই যুদ্ধ সহসাই থামছে না।

এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে পরাশক্তিগুলোর মধ্যে তীব্র মেরুকরণ ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। চীন ও রাশিয়া এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন খামেনির হত্যাকাণ্ডকে 'মানবিক নৈতিকতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের সকল নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড' বলে বর্ণনা করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। চীনও এই অভিযানকে ইরানের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে সামরিক কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, ফ্রান্স ও জার্মানির অবস্থান ভিন্ন। ফ্রান্স সরকারের মুখপাত্র মুদ বোজো খামেনির মৃত্যুকে একজন 'নিপীড়ক একনায়কের পতন' হিসেবে উল্লেখ করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ফ্রান্স যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। জার্মানি সতর্ক করে বলেছে, ইরান যদি আঞ্চলিক দেশগুলোতে তাদের হামলা বন্ধ না করে, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষে সরাসরি সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। যুক্তরাজ্য সরাসরি হামলায় অংশ না নিলেও তাদের সাইপ্রাসস্থ আরএএফ ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে শুধুমাত্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এক মহাবিপর্যয় হিসেবে সতর্ক করলেও পরাশক্তিগুলোর বিপরীতমুখী রণকৌশল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: