২০২৬ সালের রমজান ও ঈদ নিয়ে সম্ভাব্য সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ১৪:২২:৫১
২০২৬ সালের রমজান ও ঈদ নিয়ে সম্ভাব্য সময়সূচি
ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম উম্মাহর জন্য সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাস পবিত্র রমজান ক্রমেই ঘনিয়ে আসছে। বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে ইতোমধ্যে সিয়াম সাধনার প্রস্তুতি ও আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন দেশের ইসলামিক ক্যালেন্ডার বিশ্লেষণ করে রমজান শুরুর সম্ভাব্য সময়কাল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দুবাইয়ের Islamic Affairs and Charitable Activities Department প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটি ও ধর্মীয় ইভেন্টের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৭ থেকে ১৯ তারিখের মধ্যে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, রমজানের সম্ভাব্য প্রথম দিন হতে পারে ১৮ ফেব্রুয়ারি। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করায় এ তারিখ চূড়ান্ত নয়।

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, রমজান মাসের সূচনা নির্ধারিত হয় শাবান মাসের শেষের চাঁদ দেখার মাধ্যমে। সে কারণে নতুন চাঁদের দৃশ্যমানতার ওপর ভিত্তি করে রোজা এক দিন আগে বা পরে শুরু হতে পারে। ফলে মুসলিম বিশ্ব তাকিয়ে থাকবে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।

২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, পবিত্র রমজান মাসের সম্ভাব্য শেষ দিন হতে পারে ১৯ মার্চ, যা বৃহস্পতিবারে পড়তে পারে। সে হিসেবে পরদিন অর্থাৎ ২০ মার্চ মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রমজান মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনের হলে ঈদের তারিখ এক দিন এগিয়ে বা পিছিয়েও যেতে পারে।

হিজরি বর্ষপঞ্জি সম্পূর্ণভাবে চন্দ্রচক্রের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিটি হিজরি মাস সাধারণত ২৯ অথবা ৩০ দিনের হয়ে থাকে। বর্তমানে হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী চলছে পবিত্র রজব মাস, যা রমজানের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত। রজব ও শাবান মাসকে মুসলমানরা আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের প্রস্তুতির সময় হিসেবে দেখেন।

বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশে ইতোমধ্যে রমজানকে সামনে রেখে ধর্মীয়, সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মসজিদগুলোতে তারাবির নামাজ, ইফতার কার্যক্রম এবং দান-সদকার আয়োজনকে ঘিরে ব্যস্ততা বাড়ছে। পবিত্র রমজান মুসলিম সমাজে কেবল ইবাদতের মাস নয়, বরং আত্মসংযম, সহমর্মিতা ও নৈতিক পুনর্জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবেও বিবেচিত।

-রফিক


৩০ মে ২০২৬: ঢাকা ও দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের নামাজের সঠিক সময়ঘণ্টা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ১০:৩৯:০৪
৩০ মে ২০২৬: ঢাকা ও দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের নামাজের সঠিক সময়ঘণ্টা
ছবি : সংগৃহীত

মহান আল্লাহর অসীম সন্তুষ্টি, সান্নিধ্য ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তি অর্জনের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নিয়মিত নামাজের কোনো বিকল্প নেই। পবিত্র দ্বীন ইসলামের প্রতিটি সুনির্দিষ্ট বিধান, নিয়মকানুন ও আমলের মাঝেই নিহিত রয়েছে পরম যৌক্তিকতা এবং মানবকল্যাণের এক অপূর্ব সৌন্দর্য। ইসলামে এমন কোনো কঠিন আমল বা বিধান দেওয়া হয়নি, যা একজন সাধারণ মুসলমানের জন্য দৈনন্দিন জীবনে পালন করা কষ্টকর বা অসম্ভব হতে পারে।

ইসলাম ধর্মে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজের বাইরেও আত্মিক উন্নতির জন্য কিছু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ নফল নামাজের বিধান রয়েছে। তবে শত ব্যস্ততা বা কর্মমুখর জীবনের মাঝেও, অন্তত ওয়াক্তমতো কেবল ফরজ নামাজটুকু হলেও সঠিক সময়ে আদায় করে নেওয়া প্রতিটি মুমিনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

আজ শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ ইংরেজি; বাংলা ১৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৩ই জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি।

ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্যের আলোকে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নির্ধারিত নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো

জোহর: ১১:৫৯ মিনিট

আসর: ৪:৩৬ মিনিট

মাগরিব: ৬:৪১ মিনিট

এশা: ৮:০৭ মিনিট

ফজর (আগামীকাল রোববার, ৩১ মে): ৩:৪৬ মিনিট

বিভাগীয় শহরের জন্য সময়ের তারতম্য

ঢাকার সময়ের সাথে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের মুসল্লিদের নির্দিষ্ট কিছু সময় যোগ বা বিয়োগ করে নামাজের সঠিক ওয়াক্ত নির্ধারণ করতে হবে।

উক্ত সময় থেকে যত মিনিট বিয়োগ করতে হবে

সিলেট: ০৬ মিনিট

চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট

উক্ত সময়ের সাথে যত মিনিট যোগ করতে হবে

রংপুর: ০৮ মিনিট

রাজশাহী: ০৭ মিনিট

খুলনা: ০৩ মিনিট

বরিশাল: ০১ মিনিট

/আশিক


আগামীকাল পবিত্র ঈদুল আজহা: জেনে নিন ঈদের রাতের অপরিসীম গুরুত্ব ও ফজিলত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ২০:২৬:৩০
আগামীকাল পবিত্র ঈদুল আজহা: জেনে নিন ঈদের রাতের অপরিসীম গুরুত্ব ও ফজিলত
ছবি : সংগৃহীত

ইসলাম ধর্মে সর্বমোট দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব রয়েছে, যার একটি ঈদুল ফিতর এবং অপরটি ঈদুল আজহা। প্রতি হিজরি বছরের জিলহজ মাসের ১০ তারিখে বিশ্বজুড়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়ে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ১০ই জিলহজ সারা দেশে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ঈদের আগের এই রাতটি অত্যন্ত বরকতময়, পুণ্যময় ও ফজিলতপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে সঠিক তথ্য না জানার কারণে অনেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ রাতটি অবহেলা ও অলসতার মধ্য দিয়ে কাটিয়ে দেন। খ্যাতনামা ইসলামি ফকিহ ও পণ্ডিতরা দুই ঈদের রাতে জেগে থেকে মহান আল্লাহর ইবাদত করাকে সুন্নত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই এই বিশেষ রাতের কদর করা এবং এর ফজিলত ও গুরুত্ব অনুধাবন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

ইসলামি রেওয়ায়েত অনুযায়ী, ঈদুল আজহার রাতে আন্তরিক ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে বান্দার জন্য জান্নাত অবধারিত বা আবশ্যক হয়ে যায়। বিখ্যাত সাহাবি হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি পাঁচটি বিশেষ রাত ইবাদতের উদ্দেশ্যে জাগ্রত থাকবে, মহান আল্লাহ তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দেন। এই নির্দিষ্ট রাতগুলো হলো—জিলহজ মাসের ৮ তারিখের রাত, জিলহজ মাসের ৯ তারিখের রাত (আরাফাত দিবসের রাত), পবিত্র ঈদুল আজহার রাত, ঈদুল ফিতরের রাত এবং পবিত্র ১৫ই শাবানের রাত (শবে বরাত)। বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ আত তারগিব ওয়াত তারহিব-এর দ্বিতীয় খণ্ডের ১৬৫৬ নম্বর হাদিসে এই তথ্য বর্ণিত রয়েছে।

এর পাশাপাশি ঈদের রাতে বান্দার করা কোনো বৈধ দোয়া বা মোনাজাত মহান আল্লাহর দরবার থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না বলেও হাদিসে স্পষ্ট প্রমাণ মেলে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমার রাত, পবিত্র রজব মাসের প্রথম রাত, অর্ধ শাবানের রাত (১৫ই শাবান) এবং দুই ঈদের রাত—এই পাঁচটি বিশেষ রাতে আল্লাহর কাছে কোনো প্রার্থনা বা দোয়া করে, সেই রাতে তার কোনো আবেদনই ফিরিয়ে দেওয়া হয় না, বরং তা কবুল করা হয়। মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক গ্রন্থের ৭৯২৭ নম্বর হাদিসে এই পবিত্র ক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

ইসলামি স্কলাররা আরও জানান, ঈদের রাতে ইবাদতকারীর অন্তরাত্মা বা কলব কিয়ামতের সেই কঠিন দিনেও পুনরুজ্জীবিত থাকবে, যেদিন অন্য সবার অন্তর ভীতি ও শঙ্কায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়বে। বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু উমামা বাহেলি (রা.) থেকে বর্ণিত অপর একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালীন সওয়াব অর্জনের খাঁটি নিয়তে দুই ঈদের রাতে জেগে ইবাদত করবে, তার হৃদয় ও মন সেই মহা বিপদের দিনেও জীবিত এবং সতেজ থাকবে, যেদিন পৃথিবীর অন্য সকল হৃদয়ের অবসান বা মৃত্যু ঘটবে। সুনানে ইবনে মাজাহ গ্রন্থের ১৭৮২ নম্বর হাদিসে এই বিশেষ পুরস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই উৎসবের আমেজের পাশাপাশি ঈদের এই পবিত্র রজনীকে ইবাদতের মাধ্যমে সার্থক করে তোলা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।

/আশিক


ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ১০:২০:০২
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যার প্রতিটি বিধান মানুষের কল্যাণ, শৃঙ্খলা ও আত্মিক প্রশান্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত। ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের মধ্যে নামাজ ও রোজা ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য ফরজ ইবাদত। তাই জীবনের ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, নির্দিষ্ট ওয়াক্তে এবং সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যকীয় ধর্মীয় দায়িত্ব। আজ বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ইংরেজি, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বাংলা, ৯ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি। ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের (বুধবার) এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবারের ফজরের নামাজের সর্বশেষ সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের জোহর নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১১টা ৫৭ মিনিটে।

আসরের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটে।

পবিত্র মাগরিবের আজান ও নামাজের সময় বিকেল ৬টা ৩৯ মিনিট এবং এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৮টা ০০ মিনিটে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে ২০২৬) ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৩টা ৪৭ মিনিটে এবং ঢাকার আকাশে সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১২ মিনিটে।

দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের জন্য ঢাকার সময়ের সাথে কিছু মিনিট যোগ বা বিয়োগ করতে হবে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঢাকার সময় থেকে চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ মিনিট এবং সিলেট বিভাগে ৬ মিনিট বিয়োগ করে আগে নামাজ আদায় করতে হবে। অন্যদিকে ঢাকার সময়ের সাথে খুলনা বিভাগে ৩ মিনিট, বরিশাল বিভাগে ১ মিনিট, রাজশাহী বিভাগে ৭ মিনিট এবং রংপুর বিভাগে ৮ মিনিট যোগ করে পরবর্তী সময়ে নামাজ আদায় করতে হবে।

/আশিক


ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ২৬ মে ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি প্রকাশ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৬ ১০:২৮:৪১
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ২৬ মে ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্যানুযায়ী, আজ মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য জোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং আগামীকালের ফজরের নামাজের শুরুর সঠিক সময়সূচি দেওয়া হলো

আজ ও আগামীকালের নামাজের সময়

আজ দুপুরে জোহরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ১১টা ৫৯ মিনিটে।

এরপর বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিটে আসরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে।

সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের সময় শুরু হবে ৬টা ৪৩ মিনিটে এবং রাতের এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ৮টা ০৭ মিনিটে।

আগামীকাল বুধবার ভোর ৩টা ৪৯ মিনিটে ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত যাবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৩ মিনিটে।

স্থানভেদে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে ঢাকার এই সময়ের কিছুটা তারতম্য হতে পারে। সুর্যাস্তের পর মাগরিব এবং সুবহে সাদিকের পর ফজরের নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হলো।

/আশিক


আজ পবিত্র হজের মূল দিন: লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাতের ঐতিহাসিক ময়দান

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৬ ১০:২০:৫১
আজ পবিত্র হজের মূল দিন: লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাতের ঐতিহাসিক ময়দান
ছবি : সংগৃহীত

আজ মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬ / ৯ জিলহজ) মুসলিম উম্মাহর মহাসম্মিলন ও পবিত্র হজের প্রধান আনুষ্ঠানিকতার দিন। মক্কা, মিনা ও আরাফাতের আকাশ-বাতাস এখন মুখরিত হয়ে উঠেছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো হাজির ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক’ (আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির) ধ্বনিতে।

এর আগে গতকাল সোমবার (৮ জিলহজ) তাঁবুর শহর মিনায় দিন ও রাতভর ইবাদত-বন্দেগি, জিকির ও নফল নামাজে মশগুল ছিলেন আল্লাহর মেহমানরা। আজ মঙ্গলবার ফজরের নামাজ আদায়ের পরপরই বিশেষ বাস ও হাই-স্পিড আল-মাশায়ের ট্রেনযোগে হাজিরা ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হন। এবার হজযাত্রীদের যাতায়াত সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন ও জটলাহীন করতে সৌদি হজ কর্তৃপক্ষ প্রায় ২৪ হাজার আধুনিক বাস নিয়োজিত করেছে।

হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে আজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত ঐতিহাসিক মসজিদে নামিরা থেকে হজের মূল খুতবা পাঠ করা হবে। এ বছর এই মর্যাদাপূর্ণ খুতবা প্রদান করবেন মসজিদুল হারামের সম্মানিত ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি।

বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুবিধার্থে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এই খুতবা বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় সরাসরি অনুবাদ করে স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেটে সম্প্রচার করা হচ্ছে। খুতবা শেষে এক আজান ও দুই ইকামতের মাধ্যমে জোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে কসর (সংক্ষিপ্ত) করে জামাতে আদায় করবেন মুসল্লিরা। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিদায় হজের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রান্তর জুড়ে অবস্থান করে আল্লাহর দরবারে চোখের পানিতে গুনাহ মাফের আশায় বিশেষ মোনাজাত, জিকির ও দোয়া করবেন হাজিরা।

সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজ না পড়েই হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে পৌঁছানোর পর মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন। মিনায় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কংকর বা ছোট ছোট পাথর হাজিরা এই মুজদালিফার প্রান্তর থেকেই সংগ্রহ করবেন।

পরদিন আগামীকাল বুধবার (১০ জিলহজ) সকালে পুনরায় মিনায় ফিরে হাজিরা ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হজের আরকান সম্পন্ন করবেন। প্রথমে ‘জামারাতুল আকাবা’ বা বড় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করবেন। এরপর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন (হলক) বা চুল ছোট করা এবং কাবা শরিফ তাওয়াফে জিয়ারত সম্পন্ন করবেন। পরবর্তী দিনগুলোতেও (১১ ও ১২ জিলহজ) মিনায় অবস্থান করে তিন শয়তানকে (ছোট, মেজো ও বড়) পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা। সবশেষে মক্কা ছাড়ার আগে বিদায়ি তাওয়াফের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও কাঙ্ক্ষিত এই ইবাদত।

এদিকে সৌদি আরবের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মক্কা ও মিনা প্রাঙ্গণে সোমবারের গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তীব্র ও প্রচণ্ড গরমের কারণে হাজিদের বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও হিটস্ট্রোক এড়াতে সৌদি আরবের ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখের বেশি স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।

পাশাপাশি এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতার ছোঁয়া দিতে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ড্রোন ক্যামেরা, রোবট ও বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা (Big Data)। এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৮ হাজারের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান পবিত্র হজে অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশি হাজিদের জন্য মিনা ও আরাফাতে আলাদা আবাসনব্যবস্থা, সার্বক্ষণিক ফ্রি চিকিৎসা সহায়তা এবং বাংলাদেশ হজ মিশনের নিবিড় তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

/আশিক


ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ১০:১৩:৫৯
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

আজ সোমবার (২৫ মে ২০২৬) ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্যানুযায়ী, গ্রীষ্মকালীন সময়ে দুপুরের তীব্র সূর্য মাথার ওপর থেকে পশ্চিমে হেলে পড়ার পরপরই ওয়াক্তটি শুরু হচ্ছে। আজ এই অঞ্চলের মুসলমানদের জন্য আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিটে এবং মাগরিবের আজান ও নামাজের সময় নির্ধারিত রয়েছে সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে।

আজকের দিনের শেষ ফরয ইবাদত অর্থাৎ এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৮টা ০৬ মিনিটে। অন্যদিকে, ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ ০৭ জিলহজ হওয়ায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোররাতে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ৩টা ৪৯ মিনিটে।

আবহাওয়া ও জ্যোতির্বিজ্ঞান সূত্র অনুযায়ী, আজ রাজধানী ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিটে। মাগরিবের ওয়াক্ত ও সূর্যাস্তের সময়ের এই সামান্য ব্যবধানটি মূলত ইফতার ও নামাজের সতর্কতার জন্য শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী বজায় রাখা হয়। এছাড়া, আগামীকাল মঙ্গলবার ভোরে ঢাকায় সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৩ মিনিটে।

/আশিক


কোরবানির পশুতেই দেওয়া যাবে সন্তানের আকিকা: জেনে নিন সঠিক নিয়ম

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ২২:০১:২৮
কোরবানির পশুতেই দেওয়া যাবে সন্তানের আকিকা: জেনে নিন সঠিক নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামি শরিয়তে কোরবানি এবং আকিকা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং স্বতন্ত্র ইবাদত। এই দুটি বিধানের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো— সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর কোরবানি আদায় করা 'ওয়াজিব' (আবশ্যক), পক্ষান্তরে সন্তান জন্মের পর আকিকা দেওয়া 'মুস্তাহাব' (উত্তম)। শরিয়তের এই গুরুত্বের কারণে কোনো অবস্থাতেই কোরবানিকে আকিকার ওপর প্রাধান্য দেওয়া বা কোরবানির পরিবর্তে কেবল আকিকা করা ঠিক নয়।

পবিত্র ঈদুল আজহার নির্দিষ্ট দিনগুলোতে (১০, ১১ ও ১২ জিলহজ) কোরবানি করতে না পারলে ঈদের পর আরও দুই দিন পর্যন্ত তা আদায় করার সুযোগ থাকে। অর্থাৎ, সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য এই নির্ধারিত তিন দিনের যেকোনো একদিন কোরবানি করা ওয়াজিব। এই ওয়াজিব বিধান অবহেলা করে আদায় না করলে গুনাহগার হতে হবে। অন্যদিকে, সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা মুস্তাহাব। যদি কেউ সপ্তম দিনে আকিকা করতে অপারগ হন, তবে পরবর্তীতে সুবিধাজনক যেকোনো সময়ে তা আদায় করতে পারবেন। তাৎক্ষণিকভাবে আকিকা না করলে কোনো গুনাহ বা পাপ হবে না।

কোনো ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত থাকলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে কিনা, তা নির্ভর করে তার ঋণের পরিমাণের অতিরিক্ত সম্পদের ওপর। যদি মোট ঋণ বাদ দেওয়ার পরও ওই ব্যক্তির কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ উদ্বৃত্ত থাকে, তবে তার ওপর কোরবানি করা আবশ্যক বা ওয়াজিব হবে। এখানে 'নেসাব' বলতে বোঝানো হয়েছে— কোরবানির ওই তিন দিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং মৌলিক চাহিদা মেটানোর পর যদি কোনো ব্যক্তির কাছে অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা (৫২.৫ ভরি) রুপা বা তার সমমূল্যের নগদ টাকা কিংবা সম্পদ থাকে।

যদি কেউ আলাদাভাবে আকিকা করতে না পারেন, তবে কোরবানির পরিবর্তে আকিকা না করে বরং কোরবানির পশুর সাথেই আকিকার অংশ যুক্ত করে নিতে পারেন। এতে করে একই পশুতে কোরবানি ও আকিকা দুটিই একসঙ্গে আদায় হয়ে যাবে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী— বড় পশু অর্থাৎ গরু, মহিষ এবং উটের ক্ষেত্রে কোরবানির পাশাপাশি আকিকার নিয়তে শরিক হওয়া সম্পূর্ণ বৈধ। এক্ষেত্রে শরিক হওয়ার নিয়ম হলো, সন্তানের লিঙ্গভেদে ছেলের জন্য দুই অংশ এবং মেয়ের জন্য এক অংশ নির্ধারণ করে অংশীদার হতে হবে।

/আশিক


ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ১০:২২:৩১
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

আজকের ইসলামিক ও আবহাওয়া আপডেট: পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহার আবহ। আজ রোববার (২৪ মে ২০২৬/১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ/৬ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি)। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও এর পার্শ্ববর্তী মেগা অঞ্চলের ধর্মপ্রাণ মুসলিম ভাই-বোনদের জন্য আজকের ৫ ওয়াক্ত নামাজের অফিশিয়াল এবং সুনির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন (Islamic Foundation) বাংলাদেশ-এর ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১১টা ৫৯ মিনিটে।

এছাড়া, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজ বিকেলের আসরের নামাজ শুরু হবে ৪টা ৩৪ মিনিটে।

সন্ধ্যায় পবিত্র মাগরিবের আজান ও নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ৬টা ৪২ মিনিটে এবং রাতের প্রধান জামাত অর্থাৎ এশার সময় শুরু হবে রাত ৮টা ০৬ মিনিটে।

অন্যদিকে, আজ ঢাকায় অফিশিয়াল সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিটে।

আগামীকাল সোমবার (২৫ মে ২০২৬) পবিত্র ফজরের নামাজের ওয়াক্ত ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে শুরু হবে এবং আগামীকাল সকালে ঢাকায় সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৩ মিনিটে।

জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহ এবং ভ্যাপসা গরমের মাঝে সঠিক সময়ে ইবাদত সম্পন্ন করতে ও পবিত্র হজের এই বরকতময় দিনগুলোতে বেশি বেশি নফল ইবাদত করতে নেসকো ও ডেসকোসহ বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রাক-ঈদ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন ওলামা কেরামগণ।

/আশিক


নিসাব কার বেশি? জেনে নিন ঠিক যেসব নারীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ২১:৪১:৩৯
নিসাব কার বেশি? জেনে নিন ঠিক যেসব নারীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগে সমাজের একটি প্রচলিত কুসংস্কার ও ভুল ধারণার অবসান ঘটিয়ে দেশের বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও মুফতিগণ অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট ফতোয়া জারি করেছেন। তাঁরা বলেছেন, কোরবানি কেবল পুরুষদের একচেটিয়া কোনো ইবাদত নয়; বরং ইসলামের অমোঘ বিধান অনুযায়ী নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক বা সামর্থ্যশালী প্রত্যেক নারীর ওপরও কোরবানি করা এককভাবে ওয়াজিব।

আমাদের সমাজে প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, পরিবারের কর্তা বা পুরুষ সদস্য কোরবানি দিলেই বুঝি ঘরের নারীদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়—অথচ শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এই মানসিকতা সম্পূর্ণ ভুল এবং ইসলামে তা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) দেশের শীর্ষস্থানীয় ইসলামিক ফিকহ একাডেমিগুলোর এক যৌথ গবেষণাপত্রে মুসলিম নারীদের এই জরুরি বিধান সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।

শরিয়তের অলঙ্ঘনীয় বিধান অনুযায়ী, ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন স্বাধীন মুসলিম নারী যদি বিবাহিতা, অবিবাহিতা, চাকরিজীবী কিংবা স্রেফ গৃহিণীও হন—এবং তাঁর কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ‘নিসাব’ পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে তাঁর ওপর কোরবানি করা বাধ্যতামূলক বা ওয়াজিব।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ‘আপনি আপনার রবের উদ্দেশে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন।’ (সুরা : কাওসার, আয়াত : ২)। অনেক নারী অলংকার বা ব্যাংকে জমানো টাকা থাকার পরও অজ্ঞতার কারণে কোরবানি দেন না। রাসূলুল্লাহ (সা.) এই অবহেলার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটেও না আসে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩১২৩)।

ইসলামিক বিধান অনুযায়ী কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার এই ‘নিসাব’ বা অর্থনৈতিক মানদণ্ডটি অত্যন্ত সহজ। যার ওপর বার্ষিক জাকাত ফরজ, তার ওপরই কোরবানি ওয়াজিব। কোনো নারীর মালিকানায় যদি সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি সোনা অথবা সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি রুপা থাকে, তবে তিনি নিসাবের মালিক। এছাড়া কোনো নারীর কাছে যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের নগদ অর্থ কিংবা প্রয়োজনাতিরিক্ত অন্য কোনো সম্পদ থাকে, তবে তিনিও সামর্থ্যবান বলে গণ্য হবেন।

এমনকি পৃথকভাবে সোনা বা রুপা নেসাব পরিমাণ না হলেও, কোরবানির দিনগুলোতে যদি সামান্য সোনা (যেমন ১ ভরি) এবং সাথে কিছু নগদ টাকা থাকে—যা একত্রে যোগ করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার বাজারমূল্যের সমান বা বেশি হয়ে যায়, শরয়ি কায়দায় সেই নারীর ওপরও কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যাবে।

অলংকার বা জমানো অর্থ থাকা সত্ত্বেও যারা অবহেলাবশত কোরবানি দেন না, তারা একটি বড় গুনাহের মুখোমুখি হচ্ছেন। অতএব, মুসলিম নারীদের উচিত ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করে স্রেফ লোকদেখানো সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজস্ব তহবিল থেকে কোরবানি নিশ্চিত করা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: