খামেনিকে চরম হুমকি! ইরানে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
০০০০ 00 ০০ ০০:০০:০০
খামেনিকে চরম হুমকি! ইরানে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পফাইল ছবি: রয়টার্স

ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতা দমনে দেশটির প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে এবার সরাসরি সামরিক হামলার কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইরান বর্তমানে এক বড় ধরণের সংকটে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে তিনি সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপের নির্দেশ দিতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষ এখন এমন সব শহরের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে যা কয়েক সপ্তাহ আগেও কেউ কল্পনা করতে পারেনি। ট্রাম্পের এই কঠোর হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল যখন ইরানের ৩১টি প্রদেশের সবকটিতেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হুমকির বিপরীতে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি চলমান বিক্ষোভকে ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিদেশি শত্রু—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র—এই বিক্ষোভ উসকে দিয়ে ইরানের জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। খামেনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অভিযুক্ত করে বলেন যে ট্রাম্পের হাত ইরানিদের রক্তে রঞ্জিত এবং বিক্ষোভকারীরা বিদেশি শক্তির ‘ভাড়াটে’ হিসেবে কাজ করছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে যারা জনসম্পদে হামলা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে।

বর্তমানে ইরানের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংঘাতময় এবং রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৪ জন সদস্য এবং ৪৮ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ইরানের কুর্দি ও বালুচ অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে উত্তেজনা এখন চরমে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বেলুচ-অধ্যুষিত জাহেদানে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণে বেশ কয়েকজন আহত ও নিহতের খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি গোপন রাখতে এবং আন্দোলনকারীদের সমন্বয় রুখতে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।

ইরানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে দেশটির সরকার ও জনগণের মধ্যে এক বিশাল দূরত্ব তৈরি হয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কিছুটা সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং সরকারের প্রতি জনগণের প্রকৃত অভিযোগ শোনার কথা বলেছেন, কিন্তু প্রশাসনের উচ্চমহলের কঠোর মনোভাবে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। তেহরানের বহু নাগরিক ইতিমধ্যেই পুলিশ থেকে সতর্কতামূলক বার্তা পেয়েছেন যেন তাঁরা সহিংসতা প্রবণ এলাকাগুলো এড়িয়ে চলেন। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ‘গুলি ফর গুলি’ নীতি এবং খামেনির অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন ও ভয়াবহ যুদ্ধের সূচনা করতে পারে।


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা! পরমাণু আলোচনার মুখে ৩শ মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১০:৩৯:৩৪
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা! পরমাণু আলোচনার মুখে ৩শ মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আজ বুধবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র, অথচ একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে ওয়াশিংটন। উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে বর্তমানে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন অঞ্চলে তিন শতাধিক মার্কিন সামরিক বিমান মোতায়েন করা হয়েছে যা ওই অঞ্চলে যেকোনো বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বার্তা সংস্থা আনাদোলু বুধবার জানিয়েছে যে এসব যুদ্ধবিমান মূলত কাতারের আল-উদেইদ, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করছে। শুধু তাই নয়, লোহিত সাগর ও আরব সাগরে অবস্থানরত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বিমানবাহী রণতরীতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সার্বক্ষণিক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এই বিশাল সামরিক সমাবেশ নিশ্চিত করতে চলতি বছরের জানুয়ারির শুরু থেকে প্রায় ২৭০টি সি–১৭ ও সি–৫ সামরিক পরিবহন ফ্লাইট পরিচালনা করেছে পেন্টাগন। এসব ফ্লাইটের মাধ্যমে শুধু বিমানই নয়, বরং ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখতে প্যাট্রিয়ট ও টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে মোতায়েনকৃত এই বহরের প্রায় ৭০ শতাংশই আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান যার মধ্যে রয়েছে ৮৪টি এফ-ই/এফ, ৩৬টি এফ–১৫ই, ৪৮টি এফ–১৬সি এবং ৪২টি অত্যাধুনিক এফ–৩৫এ/সি স্টেলথ যুদ্ধবিমান।

বাকি ৩০ শতাংশ বিশেষায়িত বিমানের মধ্যে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের জন্য ইএ–১৮জি গ্রাউলার এবং আকাশপথে রাডার নজরদারির জন্য ই–৩ সেন্ট্রি অ্যাওয়াকস বিমান রাখা হয়েছে যা যেকোনো শত্রুপক্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থা মুহূর্তেই পঙ্গু করে দিতে সক্ষম। যদিও গত বছরের জুনে ইরানে পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এ ব্যবহৃত বি–২ বোমারু বিমানের নতুন কোনো মুভমেন্ট এখনও দেখা যায়নি, তবে সামরিক বিশ্লেষকরা একে ঝড়ের আগের স্তব্ধতা হিসেবেই দেখছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তুতির সাথে পাল্লা দিয়ে ইসরায়েলও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কাছে থাকা প্রায় তিন শতাধিক আধুনিক যুদ্ধবিমানের সাথে যদি মার্কিন বাহিনী যুক্ত হয়, তবে সম্মিলিত আকাশশক্তি হবে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বিধ্বংসী বাহিনী। মঙ্গলবার ইসরায়েল আরও ১২টি মার্কিন এফ–২২ র‌্যাপ্টর স্টেলথ যুদ্ধবিমান হাতে পেয়েছে যা সরাসরি শত্রু আকাশসীমায় প্রবেশ করে রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করতে সক্ষম।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ কূটনীতি হলেও প্রয়োজন হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী সামরিক শক্তি ব্যবহারে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবেন না। এই তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ওমানের মধ্যস্থতায় বৃহস্পতিবার জেনেভায় ইরান একটি খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে আলোচনার টেবিলে সমঝোতা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধের দামামা বাজার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

/আশিক


যুদ্ধ নাকি সমঝোতা: কোন পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১২:২২:৩০
যুদ্ধ নাকি সমঝোতা: কোন পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এখন ২০০৩ সালের ইরাক আগ্রাসনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভূমধ্যসাগরে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ মোতায়েনের পাশাপাশি আকাশে উড়ছে ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান। এই বিশাল সামরিক সমাবেশের মাঝেই প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে? না কি এটি কেবলই একটি বড় সমঝোতার আগের চাপ সৃষ্টির কৌশল?

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে ১০-১৫ দিনের মধ্যে একটি ‘অর্থবহ চুক্তি’ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ট্রাম্পের নিজের অর্থনীতির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। যুদ্ধ শুরু হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজারে অস্থিরতা তৈরি করবে। তাই ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে যেমন সামরিক চাপ রাখছে, অন্যদিকে আলোচনার টেবিলও খোলা রাখছে।

নিষেধাজ্ঞা আর মূল্যস্ফীতির কারণে ইরানের অর্থনীতি এখন চরম সংকটে। এমন সময় যুদ্ধ শুরু হলে তা দেশটির অভ্যন্তরীণ জনরোষ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। যদিও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি প্রকাশ্যে আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ। তবে পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ‘সীমিত’ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ মেনে নেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

যদি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি লক্ষ্য করে ‘সীমিত’ হামলা চালাতে পারে। তবে সেই হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আঘাত হানলে পরিস্থিতি দ্রুত একটি মহাযুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এই ভয়াবহ পরিণতির কথা মাথায় রেখেই অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত নাটকীয় কোনো সমঝোতার মাধ্যমেই হয়তো এই যাত্রায় যুদ্ধের মেঘ কেটে যেতে পারে।

/আশিক


জেন-জি’র মিছিলে উত্তাল তেহরান: স্বৈরাচারবিরোধী স্লোগানে কাঁপছে ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১০:০২:১৭
জেন-জি’র মিছিলে উত্তাল তেহরান: স্বৈরাচারবিরোধী স্লোগানে কাঁপছে ইরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তরুণ প্রজন্মের ‘জেন-জি’ বিক্ষোভ। রাজধানী তেহরানে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো রাজপথে নেমে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল করেছেন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারির রক্তক্ষয়ী সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে এবং হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে এই নতুন দফার আন্দোলন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তেহরানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শরিফ বিশ্ববিদ্যালয় এখন এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা ১৯৭৯ সালের বিপ্লব-পূর্ব শাহ আমলের পতাকা হাতে নিয়ে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে দিচ্ছেন।

আর্থিক দুরবস্থা ও আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতির জেরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন পুরোপুরি সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, গত এক মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই গণআন্দোলনে নিহতের সংখ্যা সাত হাজারেরও বেশি হতে পারে, যাদের বেশিরভাগই সাধারণ বিক্ষোভকারী। যদিও ইরান সরকার ৩ হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে, তবে তাদের দাবি—বিদেশি উসকানিতে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ রুখতে গিয়েই এই সহিংসতা হয়েছে।

বিক্ষোভের পাল্টায় গতকাল তেহরানের বিভিন্ন স্থানে সরকার সমর্থিত তরুণ-তরুণীরাও মিছিল-সমাবেশ করেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি সংঘাতময় করে তুলেছে। বিশেষ করে শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়সহ তিনটি বড় বিদ্যাপীঠের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বসন্তের এই সময়ে তরুণ প্রজন্মের নতুন এই জাগরণ তেহরানের বর্তমান প্রশাসনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাইরের দেশগুলোর চাপ আর অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ—সব মিলিয়ে ইরান এখন এক চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

/আশিক


এত চাপ সত্ত্বেও ইরান কেন ‘নতি স্বীকার’ করছে না: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১৪:০৮:২১
এত চাপ সত্ত্বেও ইরান কেন ‘নতি স্বীকার’ করছে না: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ইরান কেন ‘নতি স্বীকার’ করছে না এই প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি নিয়ে তিনি তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ–এর কাছে ব্যাখ্যা চান।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উইটকফ জানান, প্রেসিডেন্ট জানতে চেয়েছেন কেন তেহরান এখনো অবস্থান পরিবর্তন করেনি, যদিও যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলজুড়ে উল্লেখযোগ্য নৌ ও সামুদ্রিক শক্তি মোতায়েন করেছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হতাশ নন, কারণ তাঁর হাতে নানা বিকল্প রয়েছে; তবে তিনি কৌতূহলী কেন ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে নতি স্বীকার করছে না।

ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা, তেহরান স্পষ্টভাবে ঘোষণা করবে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি অনুসরণ করছে না এবং এর পক্ষে যাচাইযোগ্য পদক্ষেপের রূপরেখা দেবে। এই ইস্যুই দুই দেশের মধ্যে প্রধান অচলাবস্থার কারণ হয়ে রয়েছে।

এদিকে জেনেভায় সাম্প্রতিক বৈঠকের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, উভয় পক্ষ কিছু ‘দিক-নির্দেশনামূলক নীতিমালা’তে একমত হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের বক্তব্য অনুযায়ী, মূল ইস্যুগুলোতে এখনো গভীর মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরান একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দিতে পারে। অপরদিকে আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরানও শিগগিরই একটি পাল্টা খসড়া উপস্থাপন করবে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সামরিক চাপের পাশাপাশি কূটনৈতিক দর-কষাকষিও সমান্তরালভাবে চলছে।

-রফিক


সমুদ্র থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১২:১৫:২৩
সমুদ্র থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম উত্তেজনার আবহেই সামরিক শক্তিতে বড় ধরণের অগ্রগতির জানান দিল ইরান। প্রথমবারের মতো সমুদ্রভিত্তিক দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ‘সায়াদ-৩জি’ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে দেশটি। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী পরিচালিত ‘স্মার্ট কন্ট্রোল’ শীর্ষক এক বৃহৎ নৌ মহড়ার অংশ হিসেবে এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে মহড়াকালে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘শহিদ সায়াদ শিরাজি’ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি মূলত ইরানের স্থলভিত্তিক সায়াদ-৩ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নৌ সংস্করণ, যা এই প্রথমবারের মতো সমুদ্রে কার্যকরভাবে ব্যবহার করল তেহরান।

আইআরজিসির নৌবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে তাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সায়াদ-৩জি ক্ষেপণাস্ত্রটি সোজাসুজি উৎক্ষেপণযোগ্য (ভার্টিক্যাল লঞ্চ) এবং এর কার্যকর পাল্লা বা রেঞ্জ প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালীতে শুরু হওয়া এই বিশেষ ‘স্মার্ট কন্ট্রোল’ মহড়াটি টানা তিন দিন ধরে চলে।

এই মহড়ার মাধ্যমে ইরান সমুদ্রভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তাদের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার জানান দিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা। ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘শহিদ সোলাইমানি’ শ্রেণির সামরিক জাহাজগুলোর জন্য একটি দুর্ভেদ্য আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা যেকোনো আকাশপথের আক্রমণ প্রতিহতে সক্ষম।

উল্লেখ্য যে, সায়াদ-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের আদি বা স্থলভিত্তিক সংস্করণটি প্রথম পরীক্ষা করা হয়েছিল ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর। সেই প্রাথমিক সংস্করণের কার্যকর পাল্লা ছিল ১২০ কিলোমিটার। বর্তমানে নৌ সংস্করণে এর সক্ষমতা আরও ৩০ কিলোমিটার বৃদ্ধি করে ১৫০ কিলোমিটারে উন্নীত করা হয়েছে, যা সমুদ্রে ইরানের নৌবাহিনীর কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

পশ্চিমের দেশগুলোর অবরোধ ও চাপের মুখেও ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে এই ধরণের মহড়া তেহরানের সামরিক প্রভাব বিস্তারের বড় একটি ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

/আশিক


দিল্লিতে বড় হামলার ছক: তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ৮

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১১:২৩:৩৮
দিল্লিতে বড় হামলার ছক: তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ৮
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক। ছবি সংগৃহীত

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও বাংলাদেশভিত্তিক একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মদদে ভারতে বড় ধরণের নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে অন্তত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছয়জনকে তামিলনাড়ুর তিরুপুর জেলার একটি পোশাক উৎপাদন ইউনিট থেকে এবং বাকি দুইজনকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে যে ছয়জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে তারা হলেন—মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ শাবাত, উমর, মোহাম্মদ লিটন, মোহাম্মদ শহীদ এবং মোহাম্মদ উজ্জ্বল।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তরা ভারতের স্থানীয় পরিচয়পত্রের জন্য জাল আধার কার্ড ব্যবহার করছিল। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে আটটি মোবাইল ফোন এবং ১৬টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তামিলনাড়ু পুলিশ এই সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের পর দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখার কাছে হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল চক্রকে ধরতে আরও নিবিড় তদন্ত চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, এই গোষ্ঠীটি মূলত পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে যোগসাজশ রেখে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল।

ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে সূত্র জানিয়েছে, সন্ত্রাসীরা দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লা এবং চাঁদনী চকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরসহ জনাকীর্ণ ও ধর্মীয় স্থানগুলোতে বিস্ফোরণের ভয়াবহ পরিকল্পনা করছিল। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি দিয়ে হামলার ছক কষছিল—এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার মাত্র একদিন পরেই এই আটজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এই গ্রেপ্তারের ফলে দিল্লিতে একটি সম্ভাব্য বড় ধরণের রক্তক্ষয়ী হামলা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ভারতের সীমান্ত এলাকা ও জনাকীর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।


সৌদি সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা: রমজানে ওমরাহ পালনকারীদের জন্য একগুচ্ছ বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১০:২৫:৩৮
সৌদি সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা: রমজানে ওমরাহ পালনকারীদের জন্য একগুচ্ছ বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

চলতি রমজান মাসে ওমরাহ পালনকারীদের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ইবাদত নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সৌদি সরকার। বিশেষ করে পবিত্র রমজানে মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে যাতায়াত, স্বাস্থ্যবিধি এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে খালিজ টাইমস। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রমজান মাসে লক্ষ লক্ষ মুসল্লির সমাগম ঘটে, যার ফলে বিশেষ করে রমজানের শেষ দশ রাতে নামাজের আগে ও পরে গ্র্যান্ড মসজিদের কেন্দ্রীয় এলাকায় অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়।

এই ভিড় নিয়ন্ত্রণে ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মুসল্লিদের নির্ধারিত পথ, দিকনির্দেশক সাইনবোর্ড এবং নিরাপত্তা কর্মীদের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এমনকি মসজিদের প্রবেশপথে ডিজিটাল সংকেত ব্যবস্থা বসানো হয়েছে; যেখানে সবুজ বাতি মানে ভেতরে জায়গা খালি আছে এবং লাল বাতি জ্বলে উঠলে বুঝতে হবে ভেতরটি মুসল্লিদের দ্বারা পূর্ণ।

যানজট নিরসন ও যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করতে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে মুসল্লিদের সরকারি বাস, অনুমোদিত ট্যাক্সি এবং হারামাইন হাই স্পিড রেলওয়ে ব্যবহারে বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গ্র্যান্ড মসজিদের কেন্দ্রীয় এলাকায় মোটরসাইকেল, সাইকেল এবং যেকোনো ধরণের অনুমোদনহীন যানবাহন প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মুসল্লিদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে তাদের জন্য আলাদা নামাজের স্থান ও বৈদ্যুতিক কার্টের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে শিশুদেরকে ভিড় এলাকায় না আনার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওমরাহ পালনকারীদের পানিশূন্যতা এড়ানো, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং কঠোরভাবে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক ওমরাহ যাত্রীর জন্য ডিজিটাল অনুমতিপত্র সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ওমরাহ পালনকারীদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং যানজট কমাতে নির্ধারিত সময়সূচী ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে। ইবাদতের পবিত্রতা রক্ষায় গ্র্যান্ড মসজিদ এলাকায় অস্ত্র বহন, ধূমপান, ভিক্ষাবৃত্তি এবং অননুমোদিত বেচা-কেনা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা বা শৃঙ্খলা পরিপন্থী যেকোনো কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে সৌদি সরকার।

/আশিক


আফগান সীমান্তে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের হানা: টিটিপি ও আইএস আস্তানায় বড় আক্রমণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১০:০৭:৩৭
আফগান সীমান্তে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের হানা: টিটিপি ও আইএস আস্তানায় বড় আক্রমণ
ফাইল ছবি : রয়টার্স

আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মূলত ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার জেরে প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা চালিয়েছে পাক বিমান বাহিনী। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) শক্তিশালী ঘাঁটি ও গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান এবং তাদের সহযোগী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশ বা আইএসকেপি-এর অন্তত সাতটি সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ শিবির ও আস্তানায় এই ‘নির্বাচিত লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা পরিচালনা করা হয়। পাকিস্তানের এই আক্রমণাত্মক পদক্ষেপকে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরণের উত্তেজনা বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এই বিমান হামলার মাত্র কয়েক দিন আগে সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কাবুল তিনজন পাকিস্তানি সেনাকে মুক্তি দেয়, যা দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম সীমান্তজুড়ে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনার পর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ ছিল।

তবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো সেই শান্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। পাকিস্তান সরকার দাবি করেছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড কাজে লাগিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু বড় হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে বোমা বিস্ফোরণ এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাজাউর ও বান্নু জেলায় চরম সহিংসতা। পাকিস্তান তাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই অভিযান চালাতে বাধ্য হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি পাকিস্তানের বান্নু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে আত্মঘাতী হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনা নিহত হন। এর পরদিন সোমবার বাজাউরে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আত্মঘাতী হামলায় ১১ জন সেনা ও এক নিষ্পাপ শিশু নিহত হয়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক ছিলেন।

এ নিয়ে কাবুলের তালেবান প্রশাসনের সঙ্গে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করতে না পারলেও, আফগানিস্তান সরকার অতীতে বরাবরই পাকিস্তানের এই ধরণের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালানোর সুযোগ কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়নি। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

/আশিক


তাঁবুতে ইফতার ও স্বজন হারানোর হাহাকার: ধ্বংসস্তূপের মাঝে গাজার রমজান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১৯:৩২:৪৬
তাঁবুতে ইফতার ও স্বজন হারানোর হাহাকার: ধ্বংসস্তূপের মাঝে গাজার রমজান
পবিত্র রমজান মাস পালন করছেন গাজার ফিলিস্তিনিরা

বিশ্বের দেড়শ কোটির বেশি মুসলমানের মতো পবিত্র রমজান মাস পালন করছেন গাজার ফিলিস্তিনিরাও। তবে টানা যুদ্ধ, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং স্বজন হারানোর বেদনার মধ্যেই এ বছরের রমজান তাদের কাছে ভিন্ন এক বাস্তবতা নিয়ে এসেছে—শোকের মাঝেও আশা ধরে রাখার সংগ্রাম। গাজার বর্তমান রমজানের এই চিত্র নিয়ে সম্প্রতি পিবিএস নিউজ আওয়ার এক বিশেষ বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। যেখানে উঠে এসেছে গাজাবাসীর যাপিত জীবনের এক ট্র্যাজিক ও সাহসী প্রতিচ্ছবি।

গাজার পুরনো শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক আল-জাওইয়া মার্কেটে এখন ঝুলছে রঙিন ফানুস। ৭০০ বছরেরও বেশি পুরনো এই বাজারের একটি অংশ ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তবুও সেই ধ্বংসস্তূপের মাঝেই খেজুর, জলপাই ও রমজানের সাজসজ্জার সামগ্রী নিয়ে আবারও জমে উঠেছে বাজার। যদিও গত অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, কিন্তু স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে এরপরও সেখানে শত শত ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এই শোকের আবহেই গাজাবাসী রমজানকে বরণ করে নিয়েছে।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ইনাস ওমর বলেন, ধ্বংস আর যুদ্ধের মাঝেও তারা বাজারের প্রাণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তবে বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন। বিদ্যুৎ সংকট ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে অনেকেই রমজানের প্রয়োজনীয় সাজসজ্জা বা ইফতার সামগ্রী কিনতে পারছেন না। দোকানি লুয়াই আল-জামাসি জানান, পণ্য আমদানি সীমিত থাকায় ফানুসের দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আচার বিক্রি করা সাঈদ আল-সাক্কা অত্যন্ত আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা হাসি ফেরানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু রমজান এখন ক্ষতির স্বাদ নিয়ে আসে। পরিবারের অনেক সদস্য, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের হারিয়ে ফেলেছি।’

বাসস্থানের ভয়াবহ সংকট গাজার রমজানকে আরও করুণ করে তুলেছে। যেসব পরিবার একসময় বহু কক্ষের আধুনিক ঘরে জমকালো ইফতার আয়োজন করত, তারা এখন বাস করছে ত্রাণশিবিরের ঘিঞ্জি তাঁবুতে। বাস্তুচ্যুত আমাল আল-সামরি জানান, যুদ্ধের আগে রমজান ছিল আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার একটি আনন্দময় সময়, আর এখন জীবন এক বড় ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে। তবে এই চরম সংকটেও শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে নিরলস কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। তারা রঙিন সাজসজ্জা আর ছোট ছোট আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের জন্য কিছুটা আনন্দের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছেন।

স্বেচ্ছাসেবক আবদুলরহমান আবু জাহল বলেন, ‘গাজার শিশুদের টিকে থাকাই এখন এক ধরনের বড় সাফল্য। আমরা চাই তারা অন্তত রমজানে একটু আনন্দ করুক আর নতুন দিনের স্বপ্ন দেখুক।’ ধ্বংসস্তূপের মাঝেও প্রতিদিন সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হচ্ছে গাজাবাসীর রোজা। প্রতিফলন আর সংযমের এই পবিত্র মাসটি এ বছর গাজাবাসীর কাছে কেবল ইবাদত নয়, বরং ধৈর্য ও অদম্য সাহসে টিকে থাকার এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে উঠেছে।

সূত্র: পিবিএস নিউজ আওয়ার

পাঠকের মতামত:

জেনে নিন আজকের বাজারে মুদ্রার বিনিময় হার

জেনে নিন আজকের বাজারে মুদ্রার বিনিময় হার

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং এর একটি বড় চালিকাশক্তি হলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স। বর্তমানে... বিস্তারিত