মোদি কি এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছে? জয়শঙ্করের ঢাকা সফরে কী বার্তা এল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১৩:১২:২০
মোদি কি এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছে? জয়শঙ্করের ঢাকা সফরে কী বার্তা এল
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের প্রেক্ষাপটে একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরে সামনে আসছে। ভারত, বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে কাকে দেখতে চায়। দীর্ঘ সময় ধরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দিল্লির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে অনেকেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একটি স্থিতিশীল অধ্যায় হিসেবে দেখলেও, বর্তমান বাস্তবতায় সেই সমীকরণে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের সাম্প্রতিক মূল্যায়নগুলোতে উঠে আসছে ভিন্ন এক রাজনৈতিক সম্ভাবনার কথা।

বিএনপির প্রতি কি দিল্লির আগ্রহ বাড়ছে

রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকী ভট্টাচার্যের তথ্য ও পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যমে বিএনপি এবং দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে তুলনামূলক ইতিবাচক আলোচনা দেখা যাচ্ছে। ভারতীয় ব্যবসা ও রাজনীতি বিষয়ক দৈনিক The Business Standard এক প্রতিবেদনে তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সম্ভাব্য গেম চেঞ্জিং মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত ও বিএনপির মধ্যে একটি সতর্ক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদনটির ভাষ্য অনুযায়ী, দিল্লির নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ এখন মনে করছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি একটি তুলনামূলকভাবে পূর্বানুমানযোগ্য, উদার ও গণতান্ত্রিক বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এই মূল্যায়ন ভারতের কৌশলগত ভাবনায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

মোদির বার্তা এবং সম্পর্ক উষ্ণতার ইঙ্গিত

গত ডিসেম্বরে নরেন্দ্র মোদি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সহায়তার প্রস্তাব দেন। বিএনপিও আনুষ্ঠানিকভাবে সেই বার্তাকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপকে কেবল সৌজন্য বিনিময় হিসেবে দেখলে চিত্র অসম্পূর্ণ থেকে যায়। অনেকের বিশ্লেষণে এটি বিএনপির সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক উষ্ণ করার একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক সংকেত।

জামায়াত প্রসঙ্গ এবং কৌশলগত মিল

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ সংস্থা Eurasia Review এবং International Crisis Group এর বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উগ্র ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে রাখার প্রশ্নে ভারত ও বিএনপির অবস্থানে একটি কৌশলগত মিল রয়েছে। এসব বিশ্লেষণে বলা হয়, ভারতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিএনপিই এখন তুলনামূলকভাবে ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক উদ্বেগগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি আগ্রহী।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকেই দিল্লি লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ বজায় রাখছিল। এটি বর্তমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে নতুন তাৎপর্য পাচ্ছে।

জয়শঙ্করের ঢাকা সফর এবং স্পষ্ট বার্তা

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি ঢাকা সফর করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পিনাকী ভট্টাচার্যের ভিডিও বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, এই সফরে জয়শঙ্কর তিনটি নির্দিষ্ট বার্তা তুলে ধরেন।

প্রথমত, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে হবে। দ্বিতীয়ত, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক সমঝোতার স্বার্থে প্রয়োজনে নির্বাচনের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।

পছন্দের শক্তি নয়, আপসযোগ্য অংশীদার

পিনাকী ভট্টাচার্যের বিশ্লেষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উঠে এসেছে। তার মতে, দিল্লির কাছে বিএনপি কোনো নির্দিষ্টভাবে নির্বাচিত শক্তি নয়। বরং ভারত বিএনপিকে একটি আপসযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখে, যাদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো তুলনামূলকভাবে সহজ। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হচ্ছে, ক্ষমতার প্রয়োজনে তারেক রহমানও ভারতের সঙ্গে বাস্তববাদী সমঝোতায় আগ্রহী হতে পারেন।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভার কার হাতে যেতে পারে, এই প্রশ্নে দিল্লির গণমাধ্যম ও বিশ্লেষণগুলো বিএনপির দিকে ইঙ্গিত দিলেও, আলোচনায় একটি সতর্ক বার্তাও উঠে আসছে। সেটি হলো, বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ সমর্থনে পরিচালিত হবে, বাইরের অনুকম্পায় নয়।

এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকছে না। অনেকের দৃষ্টিতে এটি বিদেশি প্রভাবের বাইরে একটি রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের সুযোগ কিনা, সেই বিতর্কও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হয়ে উঠছে।

-রফিক


জোট গঠনে অনেক ছাড় দিয়েছে এনসিপি লক্ষ্য এবার সরকার গঠন: আসিফ মাহমুদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ২১:০০:০৬
জোট গঠনে অনেক ছাড় দিয়েছে এনসিপি লক্ষ্য এবার সরকার গঠন: আসিফ মাহমুদ
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের রণকৌশল চূড়ান্ত করেছে। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে এনসিপির মুখপাত্র এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান যে, তাঁর দল এবার দেশের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, এবারের জোটটি ইনশাআল্লাহ সরকার গঠন করবে। জোটের স্থায়িত্ব এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এনসিপি অনেক ছাড় দিয়েছে এবং অন্যান্য শরিক দলগুলোর মধ্যেও একই ধরণের ইতিবাচক মানসিকতা থাকায় একটি শক্তিশালী জোট গঠন সম্ভব হয়েছে।

আসিফ মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে দলের অভ্যন্তরীণ সংহতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। সম্প্রতি যারা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদেরকে দলের ‘অ্যাসেট’ বা সম্পদ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন যে, তাঁদের পদত্যাগপত্র এখনো গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বিশ্বাস করেন যে, এখনো সবার একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে। দলের এই নমনীয় মনোভাব নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

জোটের প্রকৃতি নিয়ে আসিফ মাহমুদ একটি স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বর্তমান জোটটি কোনো ‘আদর্শিক জোট’ নয় বরং এটি একটি ‘স্ট্রেটেজিক’ বা কৌশলী জোট। নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি কার্যকর সরকার উপহার দিতেই এই ধরণের কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে এবং এনসিপি এই পরিবর্তনের মূল কারিগর হতে চায় বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।


বিজয় আমাদের হয়ে গেছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা : নুরুল নুর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১৮:১৮:১৭
বিজয় আমাদের হয়ে গেছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা : নুরুল নুর
পটুয়াখালীর দশমিনায় এক ওরস মাহফিলে বক্তব্য দেন নুরুল হক নুর। ছবি : কালবেলা

পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর তাঁর নির্বাচনী এলাকায় এক আবেগঘন ও বলিষ্ঠ বক্তব্য দিয়েছেন। সোমবার রাতে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামে একটি ওরস মাহফিলে যোগ দিয়ে তিনি বলেন যে এলাকার মানুষের সমর্থন দেখে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে বিজয় এখন কেবল সময়ের ব্যাপার এবং এটি এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। তিনি দশমিনা ও গলাচিপার মানুষের পাশে থেকে তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

নূর তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন যে তিনি যেমন ওয়াজ মাহফিলে যান তেমনই ওরস মাহফিলে আসতে পেরে গর্বিত। বাউল সংগঠনসহ সব ধরণের সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নিজস্ব স্বাধীনতা থাকবে বলে তিনি নিশ্চয়তা দেন। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে কারও ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠান ভেঙে দেওয়ার মতো ধৃষ্টতা বা হামলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিয়ে নূর বলেন যে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো ব্যক্তি বা তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হবে না এবং তাঁদের কাছ থেকে কোনো চাঁদা নেওয়া যাবে না।

নির্বাচনী এলাকা দশমিনা ও গলাচিপাকে একটি আদর্শ 'রোল মডেল' হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন নূর। তাঁর স্বপ্ন এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করা যেখানে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের কর্মীরা ভেদাভেদ ভুলে একই সামাজিক অনুষ্ঠানে কুশল বিনিময় করবে। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কারও ওপর হামলা বা জুলুম করা হবে না বরং একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ কায়েম করা হবে। জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে নূর জানান যে তিনি আগামীতে এলাকার প্রতিটি মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকবেন এবং পটুয়াখালীকে রাজনৈতিক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরবেন।


ক্রিকেটারকে অপমান মানেই দেশকে অপমান: মির্জা ফখরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১৪:৩৭:৫৯
ক্রিকেটারকে অপমান মানেই দেশকে অপমান: মির্জা ফখরুল
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, দেশের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা মানে শুধু ব্যক্তিগত অসম্মান নয়, বরং পুরো জাতির মর্যাদায় আঘাত হানা। সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বক্তব্য দেন।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার **মোস্তাফিজুর রহমান**কে দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ক্রিকেটের সঙ্গে দেশের সম্মান অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। খেলোয়াড়দের প্রতি অসম্মান দেখানো হলে তার প্রতিফলন আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের ভাবমূর্তিতেও পড়ে।

তিনি জানান, ক্রিকেট বোর্ডের সার্বিক অবস্থান ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি নীতিগতভাবে একমত। তবে এ ধরনের ছোটখাটো জটিলতা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা সম্ভব ছিল বলে মত দেন। তাঁর মতে, ক্রীড়াঙ্গনের ইস্যুতে সংযম ও কূটনৈতিক বুদ্ধিমত্তা প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, ভারত সরকারের অনুমোদনের পর আইপিএলের নিলামে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেই নিলাম থেকেই প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে ভারতের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর চাপের মুখে এবং বিসিসিআইয়ের নির্দেশনায় পরবর্তীতে তাকে দল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনার পর ভারত সফরে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সংস্থাটি বিষয়টি **আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল**কে অবহিত করে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। বিকল্প হিসেবে সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ জানানো হলেও এ বিষয়ে এখনো আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

-রাফসান


নির্বাচন ও ক্রিকেট নিয়ে বড় বার্তা দিলেন বিএনপি মহাসচিব

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১১:৫৮:৩৬
নির্বাচন ও ক্রিকেট নিয়ে বড় বার্তা দিলেন বিএনপি মহাসচিব
ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : কালবেলা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে এক সভায় দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে এখন পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারাকে তিনি সরকারের বড় ধরণের ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বিএনপি এই বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন বলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন যে এখন পর্যন্ত নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো আছে। তবে নির্বাচনের প্রকৃত পরিবেশ এবং সরকারের সদিচ্ছা বোঝা যাবে যখন দলগুলো পুরোদমে প্রচারণা শুরু করবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে ভোটের সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে যাতে মানুষ নির্ভয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। নির্বাচনি মাঠে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব বলে তিনি মনে করিয়ে দেন।

ক্রিকেট এবং ভারতের সাথে সম্পর্কের বিষয়েও মির্জা ফখরুল বেশ ইতিবাচক ও জাতীয়তাবাদী অবস্থান তুলে ধরেন। ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে তিনি বলেন যে ক্রিকেটের সাথে দেশের সম্মান জড়িত এবং একে কোনোভাবেই রাজনীতির সাথে মিশিয়ে ছোট করা ঠিক নয়। ক্রিকেট বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার সাথে বিএনপি একমত পোষণ করে এবং জাতীয় স্বার্থে ছোট ছোট বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়। এছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএনপির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন যে ভারতের সাথে পারস্পরিক সুসম্পর্ক এবং আলোচনার মাধ্যমেই অভিন্ন নদী সমস্যার সমাধান করা হবে। সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দলের অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


জনগণের প্রত্যক্ষ পরামর্শে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে বিএনপি:তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১০:১৬:৩৬
জনগণের প্রত্যক্ষ পরামর্শে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে বিএনপি:তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে এখন থেকে দলের প্রতিটি কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার সব পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হবে। এই মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য তিনি ম্যাচ মাই পলিসি নামের একটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে যে দেশের প্রতিটি নাগরিক এখন থেকে একটি কিউআর কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে সরাসরি তাঁদের মতামত ও পরামর্শ তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করতে যাচ্ছে যেখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি পলিসি নির্ধারণে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই উদ্যোগের বিষয়ে জানান যে জনগণের আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোই তাঁদের মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক অংশগ্রহণের এই ডিজিটাল পদ্ধতিটি মূলত জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। এই অ্যাপটিতে একটি বিশেষ অপশন রাখা হয়েছে যার মাধ্যমে যে কেউ লিখিতভাবে তাঁদের মতামত প্রদান করতে পারবেন। বিএনপি মনে করে এই প্রযুক্তিনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের এক নতুন যুগের সূচনা করবে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ম্যাচ মাই পলিসি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে খুব সহজেই যে কেউ দলটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সাথে নিজের মতামত যাচাই করে নিতে পারবেন।

নির্বাচনি প্রচারণার বিষয়েও বিএনপি তাদের চূড়ান্ত পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের দিন শেষ হওয়ার পর ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামবেন তারেক রহমান। তিনি আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেট থেকে তাঁর এই নির্বাচনি যাত্রা শুরু করবেন। হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষ করে তিনি পথসভা ও জনসভার মাধ্যমে সাধারণ জনগণের কাছে ভোট প্রার্থনা করবেন। সিলেট থেকে সড়কপথে ঢাকা ফেরার সময় তিনি মৌলভীবাজার এবং শ্রীমঙ্গলে বড় ধরণের নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নেবেন। ইতিমধেই তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে তিনি জনগণের সাথে সরাসরি সংযোগ তৈরির যে ঘোষণা দিয়েছেন তা রাজনৈতিক মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।


জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাঁচাতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করুন: চরমোনাই পীর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১৯:১৮:২২
জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাঁচাতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করুন: চরমোনাই পীর
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম আজ এক বিবৃতিতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে তাঁর দলের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, আজ আমরা যে স্বাধীনভাবে দেশ গড়ার সুযোগ পাচ্ছি, তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও লড়াই করা তরুণ শিক্ষার্থীদের। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ রাজপথ থেকে বিতাড়িত হলেও রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতর থেকে এখনও ফ্যাসিবাদী আইন, রীতি ও সংস্কৃতি পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। আর এই ফ্যাসিবাদের স্থায়ী বিলোপ নিশ্চিত করতেই ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হয়েছে, যার আইনি ভিত্তি দেবে এই গণভোট।

জুলাই বিপ্লবের মহৎ উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, গণভোট ও সংসদ নির্বাচন আলাদা সময়ে আয়োজন করার দাবি ছিল তাঁদের। কিন্তু দুটি ভোট একসাথে হওয়ায় ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে আলোচনা এখন রাজনীতির মাঠে আড়ালে চলে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

নির্বাচন উৎসবমুখর করতে হলে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। পীর সাহেব মনে করেন, এখনও দেশের জননিরাপত্তা নিয়ে মানুষের মনে উদ্বেগ রয়ে গেছে, যা নিরসনে সরকারকে কঠোর হতে হবে।

রেজাউল করীম দেশের সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং জুলাই সনদের পক্ষে জনমত গঠনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমানের এই নির্বাচনসহ সবকিছুই জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই সনদের বরাতে বৈধ হয়েছে। তাই এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ধারাকে অব্যাহত রাখতে ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত করা অপরিহার্য। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নই পারবে একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ উপহার দিতে।


ঝালকাঠিতে শতাধিক হিন্দু নাগরিকের জামায়াতে যোগদান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১৫:০৫:৫৪
ঝালকাঠিতে শতাধিক হিন্দু নাগরিকের জামায়াতে যোগদান
ছবি: সংগৃহীত

ঝালকাঠির কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নে স্থানীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য এক ঘটনা ঘটেছে। ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সুজিত ঘরামীর নেতৃত্বে শতাধিক হিন্দু ধর্মাবলম্বী নাগরিক আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–তে যোগদান করেছেন।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে ঝালকাঠি জেলা বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন–এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে নতুন সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। অনুষ্ঠানে ফুল ও শুভেচ্ছার মাধ্যমে তাদের বরণ করে নেওয়া হয়, যা স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নবাগত সদস্যদের স্বাগত জানান ঝালকাঠি জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি সদর–নলছিটি আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিমসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের একাধিক নেতা-কর্মী।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সম্পৃক্ততা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

জেলা আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের এই যোগদান প্রমাণ করে যে জামায়াতে ইসলামী কেবল একটি আদর্শিক দলই নয়, বরং সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। ন্যায়বিচার, সততা ও সুশাসনের রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা ক্রমেই বাড়ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

জামায়াতে যোগদানকারী কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা সুজিত ঘরামী বলেন, দলটির সংগঠনিক শৃঙ্খলা, সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং আদর্শভিত্তিক রাজনীতি তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি জানান, দেশের সামগ্রিক কল্যাণ ও শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তিনি ও তার সঙ্গে থাকা অন্যরা জামায়াতে যুক্ত হয়েছেন।

-রাফসান


বাগেরহাটে এনসিপির শীর্ষ ১২ নেতার একযোগে পদত্যাগ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১৪:৪৯:৪৯
বাগেরহাটে এনসিপির শীর্ষ ১২ নেতার একযোগে পদত্যাগ
ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গুরুতর সাংগঠনিক সংকটে পড়েছে। দলটির সদর উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃত্বসহ মোট ১২ জন নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব–এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এনসিপির বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী মো. আলী হোসেন। তিনি জানান, দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও বর্তমান বাস্তব রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে মৌলিক অসামঞ্জস্য তৈরি হওয়ায় তারা সম্মিলিতভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী কাজী মাহফুজুর রহমান, উপজেলা সদস্য আশিকুর রহমান (সুমন), শেখ রাসেল, শেখ মিজানুর রহমান, মো. হাসান শেখ, মো. শহিদুল ইসলাম, শেখ জাহিদুল ইসলাম, শেখ নাবিল হোসেন, মো. জনি, মুনিয়া আক্তার জেনি এবং মো. রাতুল আহসান।

সংবাদ সম্মেলনে মো. আলী হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত এবং “নতুন বাংলাদেশ” গঠনের যে প্রত্যয় নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি আত্মপ্রকাশ করেছিল, সময়ের ব্যবধানে সেই রাজনৈতিক দর্শন থেকে দলটি সরে এসেছে। ফলে দলীয় অবস্থান ও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্বাসের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে এনসিপির কৌশল ও দৃষ্টিভঙ্গি তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠেছে। এই আদর্শগত দ্বন্দ্ব থেকেই তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ বিষয়ে এখনো এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বাগেরহাটের রাজনৈতিক অঙ্গনে এ পদত্যাগ ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

-রাফসান


পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১০:০৩:৩৯
পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশবাসীকে একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র উপহার দিতে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গণভোট মানেই হলো জনগণের সরাসরি মতামত এবং এটি একটি জনগণ নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম মাধ্যম। তাঁর মতে, ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করা মানেই হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত ও নিরাপদ বাংলাদেশ নিশ্চিত করা। ডা. শফিকুর রহমান মনে করেন যে, আজকের এই ভোটই হতে পারে সত্য ও ন্যায়ের বিজয়ের প্রধান হাতিয়ার।

জামায়াত আমির তাঁর বক্তব্যে ‘জুলাই সনদ’-এর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের মাধ্যমেই এই সনদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা সম্ভব এবং এটি পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার সমান। ডা. শফিকুর রহমানের মতে, যারা একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখেন, তাঁদের জন্য এই গণভোট এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তিনি দেশের মানুষকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, জাতি এখন ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে এবং এই ভোটের মাধ্যমেই অন্যায়, জুলুম ও স্বৈরাচারের চিরস্থায়ী অবসান ঘটিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

দল-মত নির্বিশেষে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে এই প্রক্রিয়ায় শরিক হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন যে, একটি একক ভোটও ন্যায়ের পথে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়ার লক্ষে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াত আমিরের এই আহ্বান আসন্ন গণভোটে জনমত গঠনে একটি বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে রূপ দেওয়ার পথ প্রশস্ত করবে।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত