জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিপিএলের ফাইনাল ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের তারিখ চূড়ান্ত

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ১০:৪০:০৩
জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিপিএলের ফাইনাল ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের তারিখ চূড়ান্ত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ হলো অবশেষে। বহুদিন ধরে ধুঁকতে থাকা প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার ভেতর অপেক্ষায় ছিল ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটার এবং সমর্থকেরা। সেই অপেক্ষার ইতি ঘটিয়ে আসরের সূচি নিলাম তারিখ থেকে শুরু করে দলসংখ্যা সবকিছু একসঙ্গে পরিষ্কার করে দিল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের বা বিপিএলের ১২তম আসর মাঠে গড়াচ্ছে ১৯ ডিসেম্বর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে ১৭ ডিসেম্বর ঢাকায় এবং শিরোপা লড়াইয়ের ফাইনাল নির্ধারিত হয়েছে ১৬ জানুয়ারি। বিপিএলে দল পেতে হলে মোটা অঙ্কের ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিষ্ঠানকে। ১০ কোটি টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও সেটা এখনো পুরোপুরি পায়নি বোর্ড। অন্তত চারটি দল অধিকাংশ দিয়ে দিলেও অন্যদের থেকে এখনো সেভাবে সাড়া মেলেনি এবং এর মধ্যে আছে নতুন করে দল পাওয়া নোয়াখালী এক্সপ্রেসও।

কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি টাকা দিতে ব্যর্থ হলে সেই ফ্র্যাঞ্চাইজি চালাবে বিসিবি এমনটিই জানিয়েছেন গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু। তিনি বলেন যদি টাকা না দেয় ক্রিকেট বোর্ড তৈরি আছে ফ্র্যাঞ্চাইজি চালানোর জন্য। এটা একটা ব্যাকআপ অপশন আমরা রেখেছি। আমরা সবাই চাই এবারের টুর্নামেন্টটা একটা স্বচ্ছ রাখতে। এমনকি টুর্নামেন্টের মধ্যেও যদি এমন কিছু দেখি আমরা তখনো দল চালাব।

ড্রাফটের আগে পুরোপুরি অর্থ বুঝে না পেলে দল দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। প্রয়োজনে ওই দলকে বিসিবিকেই নিজের আওতায় নিয়ে আসবে। একই সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে আগের টুর্নামেন্টে নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে তাদের মধ্যে যাদের নামে তথ্য পেয়েছে বোর্ড তাদের কোনো দলের সঙ্গে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।


মাগুরার মানুষের জন্য সাকিবের নতুন বার্তা, ফিরতে চান পুরনো অবস্থানে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১৯:২৭:১০
মাগুরার মানুষের জন্য সাকিবের নতুন বার্তা, ফিরতে চান পুরনো অবস্থানে
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে না তুললেও মাঠ ও মাঠের বাইরের আলোচনায় নিয়মিতই থাকছেন এক সময়ের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে নিয়মিত অংশ নিলেও, সাকিবের ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারের চেয়েও এখন তার রাজনৈতিক জীবন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েই জনমনে কৌতূহল ও আলোচনা বেশি।

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আমূল বদলে গেলেও রাজনীতি নিয়ে নিজের আগের অবস্থানে এখনো অটল রয়েছেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে সোজাসাপ্টা কথা বলেছেন।

উত্তাল এক বছর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় সাকিব আল হাসান দেশের বাইরে ছিলেন। ওই বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মাগুরা-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তবে পটপরিবর্তনের পর সাকিবের ক্রিকেট ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ার—উভয় ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

সরকার পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সাকিবের নামে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের অংশ হওয়ায় তাকে তীব্র জনরোষের মুখেও পড়তে হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন তাকে দেশের বাইরে অবস্থান করতে হচ্ছে। তবে এসকল নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি তিনি।

ভবিষ্যতে আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া এবং নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রশ্নে সাকিব আল হাসান কোনো রাখঢাক না করেই নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, নির্বাচন কেন করব না? নির্বাচন তো করবই। এটা নিয়ে আমার মনে কোনো সংশয় বা সন্দেহ নেই।”

সাকিব আরও নিশ্চিত করেছেন যে, ভবিষ্যতে সুযোগ এলে তিনি তার জন্মভূমি থেকেই প্রতিনিধিত্ব করতে চান। তিনি যোগ করেন, “ইনশাআল্লাহ, আমি আমার জন্মস্থান মাগুরা থেকেই নির্বাচনে লড়ব। মাগুরার মানুষের সেবা করার জন্য আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

সাকিব আল হাসানের ক্যারিয়ারে বিতর্ক সবসময়ই ছায়ার মতো লেগে ছিল। তবে বর্তমানে তিনি যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা তার ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়কে খানিকটা ধূসর করে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাসত্ত্বেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করার পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানে ফেরার এই ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মাঠের ক্রিকেট এবং ভোটের রাজনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তিনি এখনো দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করা সাকিব আল হাসান কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন কিংবা ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাকে আবার কবে দেখা যাবে, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে মাগুরার মানুষের সেবায় ফেরার তার এই স্পষ্ট ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


বিগ ব্যাশে অভিষেক আসরেই রিশাদের রেকর্ড শিকার

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১৯:০৮:০০
বিগ ব্যাশে অভিষেক আসরেই রিশাদের রেকর্ড শিকার
ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ বিগ ব্যাশে (বিডিএল) বল হাতে নিজের দ্যুতি ছড়ানো অব্যাহত রেখেছেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। ব্রিসবেন হিটের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বল হাতে জোড়া উইকেট শিকার করে প্রতিপক্ষের রানের গতি টেনে ধরেন তিনি। তবে রিশাদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ছাপিয়ে দিন শেষে হতাশ হতে হয়েছে তার দল হোবার্ট হারিকেন্সকে। জয়ের খুব কাছে পৌঁছেও মাত্র ৩ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে রিশাদদের।

বুধবার বিগ ব্যাশের চলতি আসরে নিজেদের দশম ম্যাচে ব্রিসবেন হিটের মুখোমুখি হয় হোবার্ট হারিকেন্স। টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে ব্রিসবেন। ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে নাথান ম্যাকসুইনি ও ম্যাট রেনশর ব্যাটে চড়ে বড় সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছিল তারা। তাদের ৫৪ রানের এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন রিশাদ হোসেন। মারকুটে ব্যাটিং করতে থাকা রেনশকে (৩৭) বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি।

নিজের প্রথম দুই ওভারে ২১ রান দিলেও পরের দুই ওভারে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ান রিশাদ। বিশেষ করে ১৯তম ওভারে যখন মার্নাস লাবুশেন ক্রিজে ছিলেন, তখন মাত্র ৩ রান খরচ করে তার মূল্যবান উইকেটটি তুলে নেন রিশাদ। নির্ধারিত ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন এই লেগ স্পিনার। ব্রিসবেন হিট শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬০ রান সংগ্রহ করে।

১৬১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন বেন ম্যাকডেরমট ও ব্যু ওয়েবস্টার। ম্যাকডেরমট ৫৯ এবং ওয়েবস্টার ৫১ রানের দুটি লড়াকু ইনিংস খেলেন। ইনিংসের ১৮তম ওভার শেষেও মনে হচ্ছিল জয় কেবল সময়ের ব্যাপার। শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ১১ রান, হাতে ছিল ৫ উইকেট।

কিন্তু শেষ দিকে ব্রিসবেনের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে খেই হারিয়ে ফেলে হোবার্ট। শেষ ওভারে ৫ উইকেটের পতন এবং প্রয়োজনীয় রান তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় হোবার্টের ইনিংস শেষ হয় ১৫৭ রানে। শেষ বলে জয়ের জন্য ৫ রান প্রয়োজন ছিল, স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা রিশাদ হোসেন ১ রান নিতে সক্ষম হন। ফলে ৩ রানের অবিশ্বাস্য জয় পায় ব্রিসবেন হিট। ব্রিসবেনের হয়ে জাভিয়ের বার্টলেট ৪৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন।

বিগ ব্যাশে নিজের প্রথম মৌসুমেই নজর কাড়ছেন রিশাদ হোসেন। এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে বল করার সুযোগ পেয়ে তিনি শিকার করেছেন ১৩টি উইকেট। অ্যাডিলেইড স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে ২৬ রানে ৩ উইকেট নেওয়া ছিল এই আসরে তার সেরা বোলিং ফিগার। প্রতিটি ম্যাচেই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার প্রতিদান দিচ্ছেন এই টাইগার লেগ স্পিনার।


বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে ঢাকায় ব্রাজিল কিংবদন্তি গিলবার্তো সিলভা 

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১১:১০:০১
বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে ঢাকায় ব্রাজিল কিংবদন্তি গিলবার্তো সিলভা 
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্মারক ফিফা বিশ্বকাপের আসল ট্রফি এখন বাংলাদেশে। আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে একটি বিশেষ বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় সোনালি এই ট্রফিটি। ট্রফিটির আগমনে ঢাকার ফুটবল অঙ্গনে বইছে উৎসবের আমেজ।

বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ট্রফিটি কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে কিছু সময় বিশ্রামের পর শুরু হবে এর মূল প্রদর্শনী ও নির্ধারিত কার্যক্রম।

আজ দুপুর ২টার পর থেকে নির্বাচিত দর্শকদের জন্য ট্রফি দেখার বিশেষ সেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে বরাবরের মতো এবারও সাধারণ দর্শকদের জন্য ট্রফিটি সরাসরি দেখার সুযোগ থাকছে না। কোকা-কোলার বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে যারা পাস সংগ্রহ করেছেন, কেবল তারাই ট্রফির সামনে যাওয়ার ও ছবি তোলার বিরল সুযোগ পাবেন।

এবারের ট্রফি ট্যুরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে সোনালি ট্রফিটির সঙ্গে বাংলাদেশে পা রেখেছেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের কিংবদন্তি মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভা। সেলেকাওদের পঞ্চমবারের মতো বিশ্বজয়ের অন্যতম এই সেনানি বাংলাদেশে ট্রফির দূত হিসেবে পুরো সফরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার উপস্থিতি দেশের ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা যোগ করেছে।

কোকা-কোলা কোম্পানি ও আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার যৌথ উদ্যোগে গত ৩ জানুয়ারি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর বাই কোকা-কোলা’-এর ষষ্ঠ আসর শুরু হয়। রিয়াদ থেকে শুরু হওয়া এই বিশ্বভ্রমণ ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে এখন বাংলাদেশে।

এবারের সফরে ফিফা বিশ্বকাপের মূল ট্রফিটি ৩০টি ফিফা সদস্য দেশের মোট ৭৫টি ভিন্ন ভিন্ন গন্তব্যে প্রদর্শিত হবে। পুরো সফরটি চলবে ১৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে। ফুটবল ভক্তদের জন্য জীবনে একবার দেখার মতো এই অনন্য সুযোগটি তৈরি করাই এই বৈশ্বিক সফরের প্রধান উদ্দেশ্য।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং বৈচিত্র্যময় আয়োজন। প্রথমবারের মতো এই আসরে অংশ নেবে রেকর্ডসংখ্যক ৪৮টি দেশ। টুর্নামেন্টের পরিধি বেড়ে হওয়ায় মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এই আসরে। ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে যাওয়া এই বিশ্বকাপটি যৌথভাবে আয়োজন করছে তিনটি দেশ—কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্র। আগের যেকোনো আসরের তুলনায় এবারের বিশ্বকাপে ফুটবলীয় উত্তাপ ও উৎসবের মাত্রা কয়েক গুণ বেশি হবে বলে আশা করছে ফিফা।

ঢাকায় এই ট্রফির অবস্থান ফুটবল ভক্তদের মধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেই রোমাঞ্চই আগাম ছড়িয়ে দিচ্ছে।


বিসিবি-আইসিসি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়,কী ঘটেছিল সেদিন

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ০৯:৫৩:০৩
বিসিবি-আইসিসি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়,কী ঘটেছিল সেদিন
ছবি : সংগৃহীত

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলমান ক্রিকেটীয় ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাবে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কোনো সুরাহা এখনো মেলেনি। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক ভার্চ্যুয়াল সভা চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হওয়া এই সভায় বিসিবি তাদের আগের সিদ্ধান্তেই অটল থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সভার শুরু থেকেই দুই পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে অনড় ছিল। বিসিবি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তারা ভারতে দল পাঠানোর ঝুঁকি নেবে না। বিসিবির পক্ষ থেকে আইসিসির কাছে পাল্টা প্রশ্ন তোলা হয়—যেখানে আইসিসির নিজস্ব ‘ইন্টারনাল থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট’ বা অভ্যন্তরীণ হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনেও ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে, সেখানে আইসিসি কীভাবে বাংলাদেশকে ভারতে খেলার প্রস্তাব দেয়?

জবাবে আইসিসি দাবি করে, ভারতে যেটুকু নিরাপত্তা শঙ্কা রয়েছে তা মূলত ‘লো মডারেট’ বা ‘নিম্ন মাঝারি’ পর্যায়ের। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মতে, পর্যাপ্ত ও বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এই শঙ্কা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তবে আইসিসির এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি বিসিবি।

বিসিবির প্রতিনিধিরা সভায় পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেন যে, ভারত সফরে শুধু ক্রিকেটাররা যাবেন না; তাঁদের সঙ্গে ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক এবং সমর্থকেরাও যাবেন। খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা গেলেও এই বিপুল সংখ্যক মানুষের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কে দেবে? বিসিবি মনে করে, ভারতে উগ্রপন্থীদের নানা দাবির মুখে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে ক্রিকেটারদের পূর্ণ নিরাপত্তা পাওয়া অসম্ভব।

আলোচনার এক পর্যায়ে আইসিসি একটি উদাহরণ টেনে বাংলাদেশকে রাজি করানোর চেষ্টা করে। তারা উল্লেখ করে যে, বাংলাদেশের আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ বর্তমানে কোনো প্রকার নিরাপত্তা সংকট ছাড়াই ভারতে নিউজিল্যান্ড-ভারত সিরিজে আম্পায়ারিং করছেন।

আইসিসির এই যুক্তির প্রেক্ষিতে বিসিবি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে। বোর্ড কর্মকর্তাদের মতে, একজন ব্যক্তির নিরাপত্তা দেওয়া আর একটি পুরো দল, বিশাল বহর, সাংবাদিক ও দর্শকদের নিরাপত্তা দেওয়া এক কথা নয়। একটি দলের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বহুগুণ বেশি থাকে এবং সেই ঝুঁকি বিসিবি নিতে ইচ্ছুক নয়।

সভায় বিসিবি তাদের আগের দাবিতেই অনড় থাকে এবং অনুরোধ জানায় যেন বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কা কিংবা অন্য কোনো নিরপেক্ষ দেশে আয়োজন করা হয়। তবে আইসিসি এখনো ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি।

উল্লেখ্য, এই গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও কনফারেন্সে বিসিবির পক্ষে অংশ নেন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, দুই সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ ও সাখাওয়াত হোসেন, ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিম এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণে বিশ্বকাপের ভাগ্য এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।


টিভিতে আজকের খেলা: বিগ ব্যাশ থেকে বুন্দেসলিগা, চোখ থাকবে যেখানে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ০৯:৩৬:২৮
টিভিতে আজকের খেলা: বিগ ব্যাশ থেকে বুন্দেসলিগা, চোখ থাকবে যেখানে
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল ও ক্রিকেট—দুই ময়দানেই আজ ব্যস্ত সময় পার করবে ক্রীড়াপ্রেমীরা। একদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে বাংলাদেশি লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের শেষ লিগ ম্যাচের পরীক্ষা, অন্যদিকে ওয়ানডে সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। ইউরোপীয় ফুটবলেও রয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ ও ইন্টার মিলানের মতো জায়ান্টদের গুরুত্বপূর্ণ সব লড়াই।

অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগে আজ নিজেদের শেষ লিগ ম্যাচে মাঠে নামছে হোবার্ট হারিকেন্স। এই ম্যাচে বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের বিশেষ নজর থাকবে রিশাদ হোসেনের দিকে। হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে এই আসরে দুর্দান্ত পারফর্ম করা রিশাদ আজ মুখোমুখি হবেন ব্রিসবেন হিটের। দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে স্টার স্পোর্টস ১।

দিনের অন্য এক গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে ভারতের মাটিতে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে কিউইদের মোকাবিলা করবে মেন ইন ব্লু’রা। সিরিজ নির্ধারণী এই রোমাঞ্চকর ম্যাচটি দুপুর ২টায় শুরু হবে, যা দেখা যাবে স্টার স্পোর্টস ২ চ্যানেলে।

এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি লিগ ‘এসএ টোয়েন্টি’-তে রাতে মুখোমুখি হচ্ছে সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ ও জোবার্গ সুপার কিংস। রাত ৯টা ৩০ মিনিটে স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২-এ ম্যাচটি উপভোগ করা যাবে।

ফুটবল: ইউরোপীয় লিগের উত্তাপ

ফুটবল ভক্তদের জন্য আজ রাত কাটবে ইউরোপীয় ফুটবলের উন্মাদনায়। জার্মানির বুন্দেসলিগায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ মাঠে নামছে কোলনের বিপক্ষে। রাত ১টা ৩০ মিনিটে শুরু হতে যাওয়া এই বিগ ম্যাচের আগে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে মুখোমুখি হবে ভলফসবুর্গ ও সেন্ট পাউলি। ম্যাচগুলো সরাসরি দেখা যাবে সনি স্পোর্টস ২ চ্যানেলে।

অন্যদিকে ইতালিয়ান সিরি আ-তে নাপোলি লড়বে পার্মার বিপক্ষে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে। এরপর রাত ১টা ৪৫ মিনিটে ইন্টার মিলান মুখোমুখি হবে লেচ্যের। এই ম্যাচগুলো ফুটবলপ্রেমীরা উপভোগ করতে পারবেন ডিএজেডএন (DAZN) প্ল্যাটফর্মে।


১৫ মেগাসিটির সফর শেষে ঢাকায় আসছে ফিফা বিশ্বকাপের স্বর্ণালি ট্রফি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ২০:৩০:৪০
১৫ মেগাসিটির সফর শেষে ঢাকায় আসছে ফিফা বিশ্বকাপের স্বর্ণালি ট্রফি
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের মূল ট্রফি। বৈশ্বিক এই সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ট্রফিটির আগমনকে কেন্দ্র করে দেশের ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তবে উৎসবের আমেজ থাকলেও সাধারণ দর্শকরা চাইলেই সরাসরি ট্রফিটি দেখার সুযোগ পাবেন না।

সীমিত পরিসরে প্রদর্শনী আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রফিটি সবার জন্য উন্মুক্তভাবে প্রদর্শিত হবে না। কোকা–কোলার ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ প্রোমোশনাল ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, কেবল তারাই সরাসরি ট্রফি দেখার ও এর সঙ্গে ছবি তোলার বিরল সুযোগ পাবেন। এই বিশেষ ক্যাম্পেইনটি গত ৮ জানুয়ারি শেষ হয়েছে। এতে অংশগ্রহণকারীদের নির্দিষ্ট প্রোমোশনাল বোতল কিনে কিউআর কোড স্ক্যান করে ফিফা-থিমভিত্তিক একটি কুইজে অংশ নিতে হয়েছিল। সেখান থেকে নির্বাচিত বিজয়ীদের ‘এক্সক্লুসিভ পাস’ দেওয়া হয়েছে, যা ব্যবহার করে তারা প্রদর্শনীস্থলে প্রবেশ করতে পারবেন।

বৈশ্বিক সফরের প্রেক্ষাপট ‘ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর বাই কোকাকোলা’-এর ষষ্ঠ আসরটি সম্প্রতি সৌদি আরবের রিয়াদে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। এই সফরের উদ্বোধন করেন ইতালির কিংবদন্তি ফুটবলার ও ২০০৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী তারকা আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো। রিয়াদে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সৌদি ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দেল পিয়েরো শিশুদের নিয়ে একটি ফুটবল ক্লিনিকে অংশ নেন এবং দিনশেষে সাধারণ দর্শকদের জন্য একটি পাবলিক ফ্যান ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। রিয়াদ থেকেই ট্রফিটি বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে।

সফরের ব্যাপ্তি ও তাৎপর্য দীর্ঘ ১৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সফরে ট্রফিটি ৩০টি ফিফা সদস্য দেশের মোট ৭৫টি স্থানে প্রদর্শিত হবে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকায় ট্রফিটির আগমন বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফিফার চিফ বিজনেস অফিসার রোমি গাইওর মতে, বিশ্বকাপ ট্রফি খেলাধুলার সর্বোচ্চ সম্মানের প্রতীক এবং ঢাকায় এর প্রদর্শনী ভক্তদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অন্যদিকে, কোকা–কোলার ভাইস প্রেসিডেন্ট মিকায়েল ভিনে জানিয়েছেন, গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে এই ট্রফি ট্যুর বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্মাদনা ও মানুষের মধ্যে গভীর সংযোগ তৈরি করে আসছে।

একটি ঐতিহাসিক আসর উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—যৌথভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে। এই আসর থেকেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বেড়ে হচ্ছে ৪৮টি এবং মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের ট্রফি ট্যুরে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ এবং নারী বিশ্বকাপ আয়োজন করবে এমন দেশগুলোকেও বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


বিসিবি ও আইসিসি বৈঠক: বিশ্বকাপে ভারত সফর নিয়ে কাটছে না জটিলতা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৭:০১:০০
বিসিবি ও আইসিসি বৈঠক: বিশ্বকাপে ভারত সফর নিয়ে কাটছে না জটিলতা
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে ভারতে গিয়ে না খেলার সিদ্ধান্তে তারা অনড় রয়েছে বলে আইসিসিকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে অনুষ্ঠিত এক জরুরি ভিডিও কনফারেন্স শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

আইসিসির সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিসিবির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা অংশ নেন। বিসিবির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, দুই সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ। এছাড়াও বৈঠকে যোগ দেন বিসিবি পরিচালক ও ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন।

বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভারতের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে সেখানে দল না পাঠানোর ব্যাপারে বোর্ড তার আগের সিদ্ধান্তেই অটল আছে। ভিডিও কনফারেন্স চলাকালীন আইসিসির পক্ষ থেকে বিসিবিকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছিল। আইসিসি যুক্তি দেয় যে, বিশ্বকাপের সময়সূচি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত এবং ঘোষণা করা হয়ে গেছে। তবে বিসিবি তাদের অবস্থানে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনতে রাজি হয়নি।

বাংলাদেশ দল কেন ভারতে যেতে চাচ্ছে না, তার প্রধান কারণ হিসেবে ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ এবং অফিসিয়ালদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিসিবি আইসিসিকে পুনরায় প্রস্তাব দিয়েছে যেন বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে অন্য কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিসিবির দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে গিয়ে খেলা দলের সদস্যদের জন্য নিরাপদ নয়।

আইসিসি ও বিসিবি উভয় পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান সংকটের একটি যৌক্তিক সমাধান খুঁজে বের করতে একমত হয়েছে। যদিও আজকের বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি, তবে সামনের দিনগুলোতেও এই ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


ভারতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে আইসিসির উদ্বেগ, পাঠানো হলো চিঠি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১১:৪৭:২৭
ভারতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে আইসিসির উদ্বেগ, পাঠানো হলো চিঠি
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা নিয়ে তিন ধরনের সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) চিঠি পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সোমবার বিকেলে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এ তথ্য জানানোর পর বিসিবিও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিসিবি জানিয়েছে, এটি আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নিয়মিত অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের অংশ। আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের ব্যবস্থাপক গত ৮ জানুয়ারি বিসিবির নিরাপত্তা উপদেষ্টার কাছে পাঠানো এক ই-মেইলে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ দল ও সমর্থকদের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে একটি ‘রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট সামারি’ বা ঝুঁকি মূল্যায়ন সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন।

আইসিসির প্রাথমিক ঝুঁকি মূল্যায়নে পুরো বিশ্বকাপের ঝুঁকি ‘মডারেট’ বা মাঝারি হিসেবে চিহ্নিত হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা ‘মডারেট টু হাই’ (মাঝারি থেকে উচ্চ) বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী মূল্যায়নে সামগ্রিক ঝুঁকি মাঝারি বলা হলেও একটি বিশেষ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

আইসিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশ দলের সঙ্গে পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতি একটি বিশেষ সংকটের কারণ হতে পারে যদি সেখানে ‘ধর্মীয় উগ্রপন্থার বিষয়টি জড়িত হয়’। এই বিষয়টি নিয়ে বিসিবিকে আগাম সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের বেঙ্গালুরুতে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ এবং গ্রুপ পর্বে কলকাতায় তিনটি ও মুম্বাইয়ে একটি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে। আইসিসির মূল্যায়ন অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালীন সময় ও প্রতিপক্ষ বিবেচনায় এই ভেন্যুগুলোতে দলের ঝুঁকি ‘মিডিয়াম-লো’ বা মাঝারি থেকে কম। ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও খেলোয়াড়দের জন্য এমন কোনো বড় ঝুঁকি তৈরি হয়নি যা বর্তমান পরিকল্পনার বাইরে।

খেলোয়াড়দের চেয়ে সমর্থকদের জন্য ঝুঁকির মাত্রা বেশি বলে সতর্ক করেছে আইসিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতা ও মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ দল বড় ধরনের সহিংসতার শিকার হওয়ার আশঙ্কা কম থাকলেও সমর্থকদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ‘মাঝারি থেকে উচ্চ’ পর্যায়ের। বিশেষ করে যারা দলের জার্সি পরে বা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে স্টেডিয়ামে যাবেন, তাদের ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া যেকোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার মতো ঘটনার প্রভাব খেলার আশপাশে পড়তে পারে বলে আইসিসি সতর্ক করেছে।

আইসিসির চিঠিতে ভারত ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে দেখা হয়েছে। এই নির্বাচনের উত্তাপ স্বল্প থেকে মাঝারি মেয়াদে পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছে আইসিসি। তবে এই উত্তেজনা খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে সরাসরি সহিংসতায় রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মূল্যায়নে উঠে এসেছে। বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা পরিকল্পনাটি দুই বোর্ডের স্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

বিসিবি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, ক্রীড়া উপদেষ্টার মন্তব্যটি আইসিসি ও বিসিবির অভ্যন্তরীণ আলোচনার অংশ। নিরাপত্তার কারণে ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্য দেশে সরিয়ে নিতে বিসিবি যে অনুরোধ জানিয়েছিল, এই চিঠিটি তার কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব নয়।

বিসিবি জানিয়েছে, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য আইসিসিকে অনুরোধ করেছে এবং সেই আবেদনের কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। বর্তমান নিরাপত্তা মূল্যায়নটি কেবল সফরের প্রস্তুতি ও খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি অংশ মাত্র।


 আসিফ নজরুল বনাম আইসিসি: বিশ্বকাপে কি তবে অনিশ্চিত বাংলাদেশ?

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ০৯:৩৬:৩০
 আসিফ নজরুল বনাম আইসিসি: বিশ্বকাপে কি তবে অনিশ্চিত বাংলাদেশ?
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে বর্তমানে এক বিশাল বিতর্ক তৈরি হয়েছে যা খোদ ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি পর্যন্ত গড়িয়েছে। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের করা একাধিক দাবিকে আইসিসি সরাসরি অস্বীকার করে জানিয়েছে যে এই বক্তব্যের সঙ্গে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থানের মিল নেই।

ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইসিসির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিসিবির সঙ্গে একটি অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ হয়েছিল ঠিকই, তবে সেটিকে আসিফ নজরুল ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। আইসিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে আসিফ নজরুল যে ধরনের দাবির কথা উল্লেখ করেছেন তা বাস্তবতার সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে আসিফ নজরুলের করা বিস্ফোরক অভিযোগগুলো এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরণের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

এর আগে গত সোমবার ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল দাবি করেছিলেন যে আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ থেকে পাঠানো একটি চিঠিতে বাংলাদেশের জন্য তিনটি সুনির্দিষ্ট ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী প্রথম বড় কারণটি ছিল দলে মুস্তাফিজুর রহমানের অন্তর্ভুক্তি যা নাকি সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলবে।

এছাড়া সমর্থকদের জাতীয় জার্সি পরে চলাচল এবং দেশের জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে দলের ওপর বাড়তি হুমকি আসতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন। তবে আইসিসি এই দাবিগুলোকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে যে মুস্তাফিজুর রহমানের নাম কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক বার্তায় উল্লেখ করা হয়নি। আইসিসির পক্ষ থেকে মুস্তাফিজকে দলে রাখলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে—এমন কোনো ইঙ্গিতকেও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের ওপর বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে যার শুরুটা হয়েছিল আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়পত্র না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএল সম্প্রচার পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় যা দুই দেশের ক্রীড়া কূটনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে আইসিসিকে প্রস্তাব দিয়েছে যেন তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়। বর্তমান সূচি অনুযায়ী আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং শেষ ম্যাচটি মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এখন ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত