গত ১৫ বছর গণমাধ্যম ফ্যাসিবাদ লালন করেছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপি ক্ষমতায় এলে গণমাধ্যম সংস্কারে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার বা বিজেসি আয়োজিত মিডিয়া সংস্কার প্রতিবেদনের পর্যালোচনা শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন আমাদের প্রতিশ্রুতি খুবই পরিষ্কার। আমরা ৩১ দফার মাধ্যমে স্পষ্ট করে বলেছি যে আমরা একটি স্বাধীন গণমাধ্যম দেখতে চাই এবং সেটি গড়ে তুলতে চাই। সেজন্যই আমরা তখনই একটি কমিশন গঠনের অঙ্গীকার করেছিলাম। তিনি জানান কমিশনটি ইতোমধ্যে গঠিত হয়েছে এবং রিপোর্টও প্রস্তুত হয়েছে। তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন রিপোর্টের কোনো আলোচনা পরবর্তী সময়ে হয়নি। আমরা আশা করি আমরা যদি জনগণের ভোটে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাই তাহলে আমরা নিঃসন্দেহে এ বিষয়টি অগ্রাধিকার দেব।
বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে তখনই গণমাধ্যমকে উন্নত ও উপযোগী করে তোলার জন্য নানা ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি বর্তমান টেলিভিশন চ্যানেলের সময়োপযোগী কাজগুলো শুরুর কৃতিত্ব বিএনপির আমলকেই দেন।
সাংবাদিকদের দলীয়করণ ও বিভক্তি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব। সাংবাদিকদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন আপনাদের তো অনেকগুলো ইউনিয়ন আছে। বিএফইউজে ও ডিআরইউ আবার দুই দলের দুই ভাগ আছে বা তিন ভাগ আছে। আপনারা নিজেরাই আজকে দলীয় হয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক দলগুলো আপনাদের কাউকে পকেটে নিতে চায় কিন্তু আপনারা যদি পকেটে ঢুকে যান তখন কিন্তু সমস্যা।
আওয়ামী শাসনামলের সময়টায় গণমাধ্যমের অবস্থান সম্পর্কে তিনি অভিযোগ করে বলেন আমরা দেখেছি গণমাধ্যম গত ১৫ বছর ফ্যাসিবাদ লালন করেছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য সাংবাদিকদের এখন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ছাত্র সংসদ নির্বাচন জাতীয় ভোটে প্রভাব ফেলে না: মির্জা ফখরুল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তবে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেভাবে অবনতি ঘটছে, তাতে বিএনপি সন্তুষ্ট নয় এবং এটি নির্বাচনী পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেভাবে হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা ঘটছে, তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে এবং তার দলের বহু নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে যাতে এই ধরনের সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সরকারকে আগাম ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন নিয়ে জনগণের যে প্রত্যাশা, তা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল স্পষ্ট করে বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন কখনোই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপর প্রভাব ফেলেনি এবং ভবিষ্যতেও ফেলবে না। তিনি বলেন, এ দুই ধরনের নির্বাচন ভিন্ন প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতায় পরিচালিত হয়, তাই এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
এ সময় তিনি অবহেলিত অঞ্চলগুলোর উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সফর ও রাজনৈতিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
বিএনপি মহাসচিবের মতে, সুষ্ঠু নির্বাচন ও নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বাস্তব উন্নয়ন অপরিহার্য।
-রফিক
কেন বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করছে বিএনপি? সালাহউদ্দিন আহমদের সোজাসাপ্টা জবাব
রাজধানীতে ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, পরাজিত ও পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতেই সুপরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের বিচ্ছিন্ন সংঘাত আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারবে না। তাঁর মতে, দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের বিষয়ে নীতিগতভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কোনো অপশক্তিই এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে রুখতে পারবে না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত সফলভাবেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে এবং জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর ও আচরণবিধি বিতর্ক গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আসন্ন উত্তরবঙ্গ সফর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। এই সফরের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেছেন যে, শহীদদের চেতনাকে ধারণ করা এবং তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া বিএনপির নৈতিক দায়িত্ব। তিনি দাবি করেন, এই সফরে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো ন্যূনতম সুযোগ নেই। বরং জুলাই অভ্যুত্থানের বীর শহীদদের কবর জিয়ারত করা একটি জাতীয় প্রত্যাশার প্রতিফলন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিনের ভাষ্যমতে, জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তারেক রহমান শহীদদের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবেন। তিনি মনে করেন, মহান অভ্যুত্থানকে হৃদয়ে ধারণ করার এটাই শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হতে পারে। এই সফরকে কেবল নির্বাচনী প্রচার হিসেবে না দেখে বরং জাতীয় আবেগের সাথে সংহতি প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন এই শীর্ষ বিএনপি নেতা।
দলীয় মনোনয়ন ও বিদ্রোহী প্রার্থী সামলানোর চ্যালেঞ্জ আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রক্রিয়া এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ সংকটের কথা খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, বিএনপির মতো একটি সুবিশাল রাজনৈতিক দলে যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি এবং তাদের সবারই সংসদ সদস্য হওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তবে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে এবং আসন সমঝোতার প্রয়োজনে অনেক যোগ্য ও ত্যাগী প্রার্থীকে মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করতে হয়েছে।
মনোনয়ন না পাওয়া প্রার্থীদের মনে গভীর কষ্ট রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অভিমানের কারণেই অনেকে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছেন। এই সংকট নিরসনে বিএনপি ইতিমধ্যেই কিছু কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিদ্রোহীদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সালাহউদ্দিন আশা প্রকাশ করেন যে, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই দলীয় ঐক্য পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সব অভ্যন্তরীণ বিবাদ মীমাংসা করা সম্ভব হবে।
নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর তোলা অভিযোগের বিষয়েও কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সরাসরি জানিয়ে দেন যে, যদি কোনো দলের এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা অসন্তোষ থাকে, তবে তাদের উচিত সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) তা জানানো। ইসির ওপর দায়ভার ছেড়ে দিয়ে তিনি পরোক্ষভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকে আইনি পথে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
আওয়ামী লীগ ছাড়লেন ৬১ ইউপি সদস্য, বিএনপিতে যোগদান
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় স্থানীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ–সমর্থিত ৬১ জন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য দলীয় অবস্থান পরিবর্তন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছেন। বুধবার রাতে আদিতমারী–কালিগঞ্জ এলাকার রাজনীতিতে এই দলবদলকে একটি বড় ঘটনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাত আনুমানিক ১০টার দিকে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং আদিতমারী–কালিগঞ্জ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল–এর বাসভবনে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই যোগদান সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে নবাগত ইউপি সদস্যরা ফুলের তোড়া দিয়ে রোকন উদ্দিন বাবুলকে শুভেচ্ছা জানান এবং ধানের শীষ প্রতীক হাতে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির প্রতি তাদের সমর্থন ঘোষণা করেন।
যোগদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, গত প্রায় ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার আদিতমারী ও কালিগঞ্জ উপজেলায় দৃশ্যমান ও টেকসই কোনো উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, উন্নয়নের নামে এই সময়কালে লুটপাট, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং জীবনযাত্রার মান পিছিয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে এই অঞ্চলের রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণসহ গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার আমূল উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আধুনিকীকরণ ও স্বাস্থ্যখাতে সেবার মান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। নবাগত নেতাদের পাশে পাওয়াকে তিনি নিজের রাজনৈতিক অভিযাত্রার জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিএনপিতে যোগদানকারী ইউপি সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তারা একদলীয় শাসনব্যবস্থার ভেতরে থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেননি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি চললেও তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সুযোগ পাননি এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।
-শরিফুল
ব্যবসায়ীদের টাকা নয়, সততার রাজনীতিতে জনগণের সহায়তা চান হান্নান মাসউদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ তাঁর নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে সাধারণ মানুষের কাছে অর্থসহায়তা চেয়েছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি বিস্তারিত পোস্ট এবং ফটোকার্ড শেয়ার করে তিনি এই আহ্বান জানান। সেখানে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব নম্বরসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর প্রদান করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর সাথে গড়া জোট থেকে নির্বাচনে লড়াই করতে যাওয়া এই তরুণ নেতা জানান, তিনি এমন একটি রাজনীতি প্রবর্তন করতে চান যেখানে ক্ষমতার চেয়ে সততা এবং স্বার্থের চেয়ে ইনসাফ হবে বড় মানদণ্ড।
হান্নান মাসউদ তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা বড় ব্যবসায়ীর অর্থে রাজনীতি করতে চান না। তাঁর মতে, বড় অংকের অর্থ বড় শর্ত নিয়ে আসে, যা ভবিষ্যতে জনগণের পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতাকে খর্ব করে। তিনি চান না কোনো অদৃশ্য ঋণের চাপে পড়ে হাতিয়ার সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হোক। মাসউদ লিখেছেন, "যার অর্থে রাজনীতি চলে, শেষ পর্যন্ত রাজনীতি তার কথাই শোনে—আমি চাই আমার রাজনীতি শুনুক কেবল হাতিয়ার সাধারণ মানুষের কথা।" তাঁর এই অবস্থানকে তিনি একটি ‘নৈতিক অবস্থান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে হাতিয়ার মানুষ নিজেই তাদের প্রতিনিধি গড়ে তুলতে চায়।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে এনসিপির সাবেক নেত্রী তাসনিম জারাও একইভাবে জনগণের কাছ থেকে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন। তবে জোট গঠনের পর তিনি এনসিপি ছেড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসন থেকে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। হান্নান মাসউদ হাতিয়ায় একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছেন যেখানে জনপ্রতিনিধি সর্বদা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবদানে এই লড়াই শক্তিশালী হবে এবং এটি ভবিষ্যতে তাঁকে জনগণের কাছে প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার নৈতিক অধিকার দেবে। এই অভিনব উদ্যোগ হাতিয়ার রাজনীতিতে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ব্যালটে সিল মারা পুলিশের কাজ নয়: হাসনাত আব্দুল্লাহ
ব্যালটে সিল দিয়ে সরকার প্রতিষ্ঠা করা পুলিশ বা প্রশাসনের কাজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ এলাকায় আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রার অংশ হিসেবে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসনের মূল দায়িত্ব হচ্ছে জনগণ যাতে কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়া নিজের ভোট দিতে পারে, সেই সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা। তিনি প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, যদি তারা সঠিক পথে চলে তবে জনগণ তাদের মাথায় তুলে রাখবে, অন্যথায় তাদেরও বেনজির আহমেদ ও হারুন অর রশিদের মতো করুণ পরিণতি বরণ করতে হবে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন যে, দেশ এখন মূলত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে—যার একটি পক্ষ গোলামি চায় এবং অন্যটি চায় প্রকৃত আজাদী। তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি পক্ষ বিদেশের তাবেদারি করতে ব্যস্ত, যেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বিপ্লবীরা চায় বাংলাদেশের স্বনির্ভরতা। হাসনাত আব্দুল্লাহর মতে, গত দেড় দশক ধরে শেখ হাসিনাকে ‘এজেন্ট’ হিসেবে নিয়োগ করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি কলোনি বা সাব-কন্টিনেন্ট হিসেবে পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কে পরিচালনা করবে বা কারা সরকার গঠন করবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র এ দেশের জনগণের। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, যেসব আমলা অতীতে জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্রদের হত্যার সাথে জড়িত ছিল এবং যাদের মিডিয়া ‘আগুন সন্ত্রাসী’ হিসেবে প্রচার করেছিল, আজ অনেক মহল তাদের বুকে টেনে নিচ্ছে।
উক্ত সভায় তিনি প্রশাসনের আমলাদের প্রতি প্রশ্ন তুলে বলেন যে, যারা আন্দোলনকারী ভাইদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, তাদের বিচার নিশ্চিত না করে আবার পুনর্বাসন করার প্রক্রিয়া জনগণ মেনে নেবে না। তিনি আরও বলেন যে, আমরা চাই না বাংলাদেশ আবার অতীতের সেই পরাধীনতায় ফিরে যাক। হাসনাত আব্দুল্লাহর এই সফর ও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেবীদ্বার এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রশাসনের ওপর এমন সরাসরি চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে এনসিপি তাদের নির্বাচনী প্রচারণা ও জনমতকে আরও সুসংহত করতে চাইছে।
বিচার না করে নির্বাচনে গেলে জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে: রিফাত
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে এবং বিপ্লবীদের সুরক্ষায় নতুন করে মাঠে নামছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ অভিযোগ করেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে সরকারের ভেতরে ও বাইরে নানা মহল ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একজন আসামিকে ধরতে পারছে না—এটি গভীর সন্দেহের উদ্রেক ঘটায়। আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে তাদের পেছনের কুশীলবদের নাম জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আগের তিন দফা দাবিতে কিছুটা পরিবর্তন এনে নতুন তিন দফা পেশ করা হয়। প্রথম দফায় মাহাদী ও সুরভির নিঃশর্ত মুক্তি এবং দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের শাস্তি চাওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব কর্মকাণ্ডের জন্য ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ জারির দাবি জানানো হয়েছে। তৃতীয় দফায় বিপ্লবে অবদান রাখা সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থায়ী কমিশন গঠন এবং ২০০৯ সাল থেকে বঞ্চিত সেনা কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের দাবি তোলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে দুটি বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথমত, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যেসব এলাকায় ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন, সেই থানার তৎকালীন ওসি এবং সংশ্লিষ্ট এসপিদের তালিকা তৈরি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে। দ্বিতীয়ত, দায়মুক্তি অধ্যাদেশ নিশ্চিত করতে ছাত্র নেতারা আইন ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে এবং বড় রাজনৈতিক জোটগুলোর প্রধানদের সঙ্গে ইশতেহার নিয়ে আলোচনা করবেন। রিফাত রশিদ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, যারা বিপ্লবীদের হত্যার বিচার না করে নির্বাচনের মাঠে নামার চেষ্টা করবেন, বাংলাদেশের জনগণ তাঁদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।
উত্তরবঙ্গে তারেক রহমানের ৪ দিনের ‘মেগা সফর’: রুট ম্যাপ দেখে নিন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী রোববার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের ৯টি জেলায় চার দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ সফর শুরু করবেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি নিশ্চিত করা হয়েছে। সফরটি মূলত ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তারেক রহমান তাঁর এই সফরে উত্তরবঙ্গের ৯টি জেলা চষে বেড়াবেন এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনসহ সাধারণ মানুষের খোঁজ নেবেন।
চূড়ান্ত সময়সূচি অনুযায়ী, ১১ জানুয়ারি তারেক রহমান টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া সফর করবেন এবং ওই রাতে বগুড়ায় অবস্থান করবেন। পরদিন ১২ জানুয়ারি তিনি রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ১৩ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও থেকে পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাটে যাবেন এবং রাত্রিযাপনের জন্য রংপুরে ফিরে আসবেন। সফরের শেষ দিন অর্থাৎ ১৪ জানুয়ারি তিনি রংপুর থেকে বগুড়া হয়ে ঢাকায় ফিরে আসবেন। এই দীর্ঘ সফরে তিনি মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদ আবু সাঈদ এবং বেগম খালেদা জিয়ার মা তৈয়বা মজুমদারসহ দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের কবর জিয়ারত ও বিশেষ দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতার সফরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জুলাই অভ্যুত্থানের আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলোর ওপর, যাদের সঙ্গে তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ও সহমর্মিতা জানাবেন। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারদের দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সফরকালে নির্বাচন কমিশনের জারি করা কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হবে না। একই সঙ্গে তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের এই উত্তরবঙ্গ সফর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
গণতন্ত্রের মশাল এখন তারেক রহমানের হাতে: খসরু
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বর্তমানে দেশের গণতন্ত্রের ‘টর্চ বিয়ারার’ বা পথপ্রদর্শক হিসেবে উল্লেখ করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে জিয়া পরিষদ আয়োজিত এক দোয়া-মাহফিল ও শোকসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। আমির খসরু বলেন, গণতন্ত্রের যে মশাল শহীদ জিয়ার হাতে শুরু হয়েছিল এবং যা দীর্ঘ সময় বেগম খালেদা জিয়া বহন করেছেন, এখন সেই মশাল তারেক রহমানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং তিনিই এখন জাতিকে পথ দেখাচ্ছেন।
খালেদা জিয়াকে এক আপসহীন নেতা হিসেবে বর্ণনা করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যারা অতীতে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার লোভে আপস করেছে কিংবা যারা এখন দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তারাই মূলত গণতন্ত্রের প্রকৃত শত্রু। একমাত্র বেগম খালেদা জিয়া জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কোনো ধরনের আপস করেননি এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে নিজের লড়াই চালিয়ে গেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বেগম জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে ত্যাগ, আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, যার মূল লক্ষ্য ছিল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।
অনুষ্ঠানে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন এবং জাতির মধ্যে শৃঙ্খলা ফেরানোর আহ্বান জানান। একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে সজাগ ও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান। শোকসভায় বক্তারা জিয়া পরিবারের ত্যাগ ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার আহ্বান জানান।
জকসু নির্বাচনে বোটানিতে ফল প্রকাশ, ভোটে চমক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের অংশ হিসেবে বোটানি বিভাগের ভোটের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার ৭ জানুয়ারি দুপুরে কমিশনের পক্ষ থেকে এই বিভাগের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়।
ফলাফলে দেখা যায়, বোটানি বিভাগে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন মোট ৬৫টি ভোট। অপরদিকে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী রাকিব অর্জন করেছেন ২১৬ ভোট, যা ভিপি পদে স্পষ্ট ব্যবধান নির্দেশ করে।
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ভোটের ফলাফলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র উঠে এসেছে। শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল আলীম পেয়েছেন ১৪৩ ভোট। বিপরীতে, ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ৬৯ ভোট।
সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ভোটের হিসাব আরও কাছাকাছি ছিল। এই পদে শিবির সমর্থিত প্রার্থী মাসুদ রানা পেয়েছেন ১২০ ভোট। অন্যদিকে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী তানজিল পেয়েছেন ১৩৮ ভোট, যা এজিএস পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বোটানি বিভাগের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই গণনা শেষে ফল ঘোষণা করা হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি ও অংশগ্রহণকে কমিশন সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেছে।
-রাফসান
পাঠকের মতামত:
- কলকাতায় বাংলাদেশ ভিসা কেন্দ্র খোলা, আবেদন জমা পড়ছে
- ইরান সরকারকে হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- এসএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
- পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্টে ফি নতুন নীতিমালা কার্যকর
- কোরআন ও হাদিসে জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত
- ছাত্র সংসদ নির্বাচন জাতীয় ভোটে প্রভাব ফেলে না: মির্জা ফখরুল
- ডিএসইর সাপ্তাহিক পূর্ণাঙ্গ বাজার বিশ্লেষণ
- পিএসএলে রেকর্ড, ১৮৫ কোটি রুপিতে বিক্রি যে দল
- খাগড়াছড়িতে রাতের অভিযানে অবৈধ গ্যাস গুদাম ধরা পড়ল
- আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ
- নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিন প্রস্তাব
- ঢাকার প্রেস থেকে ভোটকেন্দ্র: কীভাবে যাবে ব্যালট
- আজ টিভিতে যত খেলা: বিপিএল থেকে বুন্দেসলিগা
- আজ ঢাকায় বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান
- স্বর্ণের দামে ফের পতন, কমল রূপার দামও
- জবির ডি ইউনিটে তীব্র প্রতিযোগিতা, পরীক্ষা আজ
- দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাউশির চিঠি, নেপথ্যে কী
- আজ নামাজের সময়সূচি ও সূর্যাস্ত
- আজকের আবহাওয়া আপডেট: কোথায় কতটা শীত
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- জ্বালানি সংকটে নতুন আশার আলো! সূর্য আর পানিতেই বাজিমাত বিজ্ঞানীদের
- ফ্যাসিবাদ রুখতে গণভোট কেন জরুরি? যা বললেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ
- ডিসেম্বরের পর জানুয়ারিতেও বড় চমক! ৭ দিনেই রেমিট্যান্সের নতুন ইতিহাস
- আইসিসিকে নতুন চিঠি দিল বিসিবি, কী আছে এতে আর বিশ্বকাপের ভাগ্য কী?
- ভারতের ৩ শহরে বাংলাদেশি পর্যটক ভিসা সীমিত ঘোষণা
- এক চড়, দশ হাজার টাকা, আর চিরকালের নত মেরুদণ্ড
- শীতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কেন বাড়ে? জানুন বাঁচার সহজ উপায়
- শীতের দাপটে সর্দি-কাশি? ৩টি জাদুকরী যোগাসনে মিলবে চিরস্থায়ী মুক্তি
- স্বাধীনতার নামে পতন, স্বপ্নের নামে ধ্বংস: গাদ্দাফি–পরবর্তী লিবিয়া কী পেল?
- বেতন নিয়ে বড় খবর! নবম পে স্কেলের সর্বনিম্ন দরের ৩ প্রস্তাব এল সামনে
- মার্কিন ভিসা বন্ড দুঃখজনক তবে অস্বাভাবিক নয়:পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
- বিশ্ববাজারে কেন কমল স্বর্ণের দাম? মার্কিন ডলারের দাপটে বিনিয়োগকারীদের দ্বিধা
- যেসব জেলায় হাড়কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে এলো নতুন দুঃসংবাদ
- কেন বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করছে বিএনপি? সালাহউদ্দিন আহমদের সোজাসাপ্টা জবাব
- ওষুধের দরে বড় চমক! এবার ২৯৫টি ওষুধের দাম বেঁধে দিল অন্তর্বর্তী সরকার
- ডলারের আধিপত্য ও তেলের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের শুল্কের রাজনীতিতে কাঁপছে বিশ্ববাজার
- শীতে এলপিজির হাহাকার রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল সরকার
- জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তিতে আসিফ নজরুলের বড় সিদ্ধান্ত
- ভোক্তা ব্যয় কমবে কি,এলপিজি গ্যাস ভ্যাট নিয়ে পর্যালোচনা
- ৮ জানুয়ারি ডিএসই মেইন বোর্ডের লেনদেন চিত্র
- ডিএসইর আজকের বাজার সারসংক্ষেপ কী বলছে
- ডিএসইতে দরপতনে শীর্ষে আর্থিক খাতের শেয়ার
- আজকের শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ারগুলোর চিত্র
- আওয়ামী লীগ ছাড়লেন ৬১ ইউপি সদস্য, বিএনপিতে যোগদান
- পিএসএলে ১০ বাংলাদেশি ক্রিকেটার, আলোচনায় মোস্তাফিজ
- ভেনেজুয়েলাকে শুধু মার্কিন পণ্য কেনার নির্দেশ ট্রাম্পের
- বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- রেকর্ড ডেটের আগে ও দিনে বন্ধ যে বন্ড
- রেকর্ড ডেট শেষে ফের লেনদেনে ফিরছে দুই সরকারি বন্ড
- সমতা লেদারের বার্ষিক নিরীক্ষায় উদ্বেগের বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা কবে
- কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য লম্বা ছুটি ঘোষণা
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- নতুন বছরে স্বর্ণের বাজারে বড় পরিবর্তন, আজ থেকে সোনার দর নিম্নমুখী
- বুধবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- ৮ জানুয়ারি ডিএসই মেইন বোর্ডের লেনদেন চিত্র
- ৪ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে আজ শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী তালিকা
- পেটের আলসার: কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
- কাত্তালী টেক্সটাইলের শেয়ারে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর
- ০৫ জানুয়ারি আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- অবশেষে অবসান হলো অপেক্ষার: বিশেষ আহ্বান নিয়ে হাজির ড. ইউনূস
- গয়না কেনার আগে দেখে নিন আজ কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে দেশে
- এক নজরে ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের সর্বশেষ NAV
- আবহাওয়া অফিসের বড় দুঃসংবাদ, ধেয়ে আসছে হাড়কাঁপানো তীব্র শীত
- নাগরিকত্ব পেতে চান? জানুন কোন কোন দেশে খুব সহজে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়








