নারীদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমানের ৫ প্রতিশ্রুতি

অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় জগতেই নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিএনপি পাঁচটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে বলে জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তারেক রহমান তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ডিজিটাল জগত এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তি যেভাবে বিশ্ব এবং বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তিনি নিজের পরিবারের উদাহরণ টেনে বলেন, মাঝেমধ্যে তিনি এবং তার স্ত্রী ভাবেন, তাদের বেড়ে ওঠার সময়ের সঙ্গে আজকের পৃথিবীতে তাদের মেয়ের বেড়ে ওঠার পরিবেশ কতটা ভিন্ন। অনেক বাবা-মায়ের মতো তারাও একই সঙ্গে আশা এবং উদ্বেগ অনুভব করেন। কারণ, বর্তমান সময়ে সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি হুমকির মাত্রাও অনেক বেশি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের মা, বোন, মেয়ে এবং সহকর্মীরা ভয়ের মধ্যে বাঁচতে পারেন না। অথচ প্রতিদিন অসংখ্য নারীকে কথা বলা, কাজ করা বা পড়াশোনা করার জন্য হয়রানি, ভয়ভীতি ও সহিংসতার শিকার হতে হচ্ছে। এটি আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ নয়।
তারেক রহমান বলেন, নারীদের অবশ্যই নিরাপদ বোধ করতে হবে—তা হোক অনলাইনে বা অফলাইনে, ঘরে কিংবা বাইরে। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপি পাঁচটি জরুরি বিষয় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে।
বিএনপির ৫টি অগ্রাধিকার পরিকল্পনা:
১. জাতীয় অনলাইন সুরক্ষা ব্যবস্থা
নারীদের জন্য একটি জাতীয় সুরক্ষা কাঠামো তৈরি করা হবে। যেখানে সাইবার বুলিং, হুমকি কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনায় নারীরা দ্রুত ও সহজে অভিযোগ জানাতে পারবেন। এটি পরিচালনার জন্য ২৪/৭ হটলাইন এবং একটি অনলাইন পোর্টাল থাকবে, যা দ্রুত এবং সম্মানের সঙ্গে সেবা দিতে প্রশিক্ষিত কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত হবে।
২. জনজীবনে নারীদের জন্য সুরক্ষা প্রোটোকল
সাংবাদিক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী বা কমিউনিটি লিডার হিসেবে কাজ করা নারীরা যেন নিরাপদে থাকতে পারেন, সেজন্য স্পষ্ট জাতীয় নির্দেশিকা থাকবে। আক্রমণের শিকার হলে তারা দ্রুত আইনি ও ডিজিটাল সহায়তা পাবেন এবং নিরাপদে অভিযোগ জানাতে পারবেন। জনজীবনে অংশগ্রহণের জন্য কোনো নারীকে চুপ করিয়ে রাখা যাবে না।
৩. ডিজিটাল সুরক্ষা শিক্ষা
স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ওরিয়েন্টেশনের সময় ব্যবহারিক ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ক দক্ষতা শেখানো হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষিত শিক্ষকরা ‘নিরাপত্তা কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে কাজ করবেন। এছাড়া বার্ষিক সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে তরুণদের ডিজিটাল বিশ্বে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিচরণ করতে সহায়তা করা হবে।
৪. সহিংসতা ও হয়রানির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ
তৃণমূল পর্যায়ে কমিউনিটি হেল্প ডেস্ক, নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা, রাস্তায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং ট্রমা-সংবেদনশীল সহায়তা নারীদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও নিরাপদ করে তুলবে।
৫. নেতৃত্বে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি
স্কুল, অফিস ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের নেতৃত্ব বিকাশে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। বিএনপি বিশ্বাস করে, যখন নারীরা এগিয়ে যায়, তখন সমগ্র জাতি তাদের সঙ্গে এগিয়ে যায়।
পোস্টের শেষাংশে তারেক রহমান আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনীতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের একটি সত্যে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে নারীরা নিরাপদ ও ক্ষমতায়িত হবে। আমাদের কন্যা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
কোটি টাকার গাড়ি ও গহনার পাহাড়: নির্বাচনী হলফনামায় যা যা আছে মির্জা আব্বাসের
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের হলফনামায় বিপুল সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই প্রভাবশালী সদস্য তাঁর নির্বাচনি হলফনামায় মোট ৬৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব দাখিল করেছেন। রাজধানী ঢাকার সাবেক এই মেয়র ও সাবেক মন্ত্রীর আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে উঠে এসেছে বাড়িভাড়া, ব্যাংক আমানত এবং বিভিন্ন আর্থিক বিনিয়োগের তথ্য।
হলফনামা অনুযায়ী, মির্জা আব্বাসের বার্ষিক আয় ৯ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। মজার বিষয় হলো, পেশা হিসেবে তিনি ‘ব্যবসা’র কথা উল্লেখ করলেও সেই খাত থেকে কোনো আয়ের কথা দেখাননি। তাঁর মোট আয়ের সিংহভাগই আসে সঞ্চয়পত্র, পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ এবং বাড়িভাড়া থেকে। এর মধ্যে কেবলমাত্র বাড়িভাড়া থেকেই তাঁর বছরে ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা আয় হয়। এ ছাড়া শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র থেকে তিনি বছরে প্রায় ৫ কোটি টাকা আয় করেন এবং ব্যাংক আমানতের সুদ বাবদ ১ কোটি ২৯ লাখ ১৭ হাজার টাকার তথ্য দিয়েছেন।
সম্পদের বিবরণীতে দেখা যায়, মির্জা আব্বাসের নামে ঢাকা ব্যাংকের ৫১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকার শেয়ার রয়েছে। স্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে ১৮ লাখ টাকার অকৃষি জমি এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বিপুল পরিমাণ ভূ-সম্পত্তি। এর মধ্যে ৮ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্লোর, ৬ হাজার বর্গফুটের বাণিজ্যিক ভবন এবং আরও পাঁচটি ফ্ল্যাটের তথ্য রয়েছে, যেগুলোর অর্জনকালীন মূল্য তিনি উল্লেখ করেননি। এ ছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহে ৩০ লাখ টাকার গহনা এবং তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়ে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয়ের তথ্য রয়েছে।
কেবল মির্জা আব্বাসই নন, তাঁর স্ত্রী জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের নামেও ৩৩ কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দেওয়া হয়েছে। আফরোজা আব্বাসের সম্পদের বড় অংশটিও ঢাকা ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগ করা। শিক্ষাগত যোগ্যতায় স্নাতক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেওয়া মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে বর্তমানে ২২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সবশেষ অর্থবছরে তিনি ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং তাঁর স্ত্রী ১১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন বলে হলফনামায় জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিপুল সম্পদের খতিয়ান নির্বাচনি প্রচারণায় নতুন আলোচনার খোরাক জোগাবে।
প্রশাসন একপাক্ষিক হলে নির্বাচনের প্রয়োজন নেই: হাসনাত আব্দুল্লাহ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও প্রস্তাবিত গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় প্রশাসনের আচরণ যদি একপাক্ষিক হয়, তবে এমন নির্বাচনের কোনো সার্থকতা নেই। আজ ভোরে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে ‘আজাদীর পদযাত্রা’ শুরুর প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বিএনপি যদি প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র রক্ষা করতে চায়, তবে প্রশাসনের এই নগ্ন আচরণের বিরুদ্ধে তাদেরও সোচ্চার হতে হবে।” এ সময় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রশাসনের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ আনেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে প্রশাসন স্পষ্টভাবেই বিএনপির দিকে হেলে পড়েছে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা গত আমলের মতো আবারও অফিস ফেলে রাজনৈতিক নেতাকে স্বাগত জানাতে যাচ্ছেন, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত।
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে সরকারের দীর্ঘসূত্রতার সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আজও হাদির খুনিদের ট্রেস করতে পারেনি এই সরকার। আমরা আজ থেকে হাদির সেই অসম্পূর্ণ আজাদী লড়াই নতুন করে শুরু করলাম।” তিনি ঘোষণা করেন যে, ১১ দলীয় জোট কোনোভাবেই ‘গোলামীর রাজনীতি’ করবে না। এ সময় তিনি শাহবাগ ও রমনা এলাকাকে ‘আজাদী এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং এই অঞ্চলে কোনো প্রকার চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন।
নির্বাচনি প্রচারণার কৌশল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পাটওয়ারী স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান পদযাত্রায় দলের প্রতীক ‘শাপলা কলি’র চেয়ে ‘আজাদী’র আদর্শ প্রচারই মুখ্য উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে এনসিপির এই কঠোর অবস্থান আসন্ন নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর বড় ধরণের চাপ সৃষ্টি করবে। শহীদ ওসমান হাদির আদর্শকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন রাজধানী ছাড়িয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ১১ দলীয় জোট।
রাজু ভাস্কর্যে ১১ দলীয় জোটের হুঙ্কার: শুরু হলো নতুন এক ‘আজাদী যাত্রা’
বাংলাদেশকে সব ধরণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরাধীনতা থেকে মুক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে ‘আজাদী লড়াই’ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় জোট। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল পৌনে ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন জোট মনোনীত ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ‘আজাদী পদযাত্রা’ শুরুর প্রাক্কালে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘আজাদী বনাম গোলামীর লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে, দেশের সম্পদ লুণ্ঠনকারী ও অর্থ পাচারকারীরা বর্তমানে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ‘সেজদা’ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমাদের সামনে দুটি পথ ছিল—হয় গোলামীর জোটে শামিল হওয়া, না হয় আজাদীর পক্ষে দাঁড়ানো। আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে আজাদীর পথ বেছে নিয়েছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শহীদ ওসমান হাদির রক্তের ঋণ শোধ করা এবং তাঁর শুরু করা বিপ্লব সম্পন্ন করাই এখন এই জোটের প্রধান লক্ষ্য।
ঢাকা-৮ আসনের আওতাধীন রমনা, শাহবাগ, মতিঝিল ও শাহজাহানপুর এলাকায় কোনো ধরণের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা দখলদারিত্ব হলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান পাটওয়ারী। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, আগামী ২১ জানুয়ারির আগে এই পদযাত্রায় কোনো প্রতীক ব্যবহার বা সরাসরি ভোট চাওয়া হবে না। মূলত শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত ও তাঁর আদর্শ প্রচারের মাধ্যমেই এই যাত্রার সূচনা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনকে দলীয় দাসত্ব থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে, তবে গণতান্ত্রিক সংগ্রাম আরও তীব্রতর হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১১ দলীয় জোটের এই অবস্থান ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী লড়াইকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর পৈতৃক নিবাসে তারেক রহমান
দীর্ঘ ১৯ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজের পৈতৃক ভিটা ও রাজনৈতিক পুণ্যভূমি বগুড়ায় আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকার বাইরে এটিই হবে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক ও নির্বাচনী সফর। আগামী ১১ জানুয়ারি (রবিবার) তিনি বগুড়ায় পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাতযাপন করবেন বলে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৯ বছর ১৮ দিন পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের এই জনপদে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বগুড়া জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, তারেক রহমান ১২ জানুয়ারি (সোমবার) সকালে শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল গণদোয়ায় অংশ নেবেন। এই দোয়া মাহফিলটি মূলত তাঁর মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজন করা হয়েছে। এরপর তিনি সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। যাওয়ার পথে তিনি মহাস্থানগড়ে অবস্থিত বিখ্যাত সুফি সাধক হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (র.)-এর মাজার শরিফ জিয়ারত করবেন।
তারেক রহমানের এই সফরটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) তাঁর মনোনয়নপত্রটি যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, তাঁর হলফনামা ও নথিপত্রে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে সরাসরি অংশ নেওয়ার এটিই হবে তাঁর প্রথম বড় পদক্ষেপ।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারেক রহমানকে মহাস্থানগড় এলাকায় এক বিশাল গণসংবর্ধনার মাধ্যমে স্বাগত জানানো হবে। বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের প্রার্থী মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে হাজার হাজার নেতাকর্মী এই অভ্যর্থনায় অংশ নেবেন। ১৯ বছর আগে ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর শেষবার বগুড়া সফর করেছিলেন তারেক রহমান। তাঁর এই আগমনকে ঘিরে বগুড়া শহরের রিয়াজ কাজী লেনের পৈতৃক বাড়ি ‘গ্রিন এস্টেট’ ইতিমধ্যে সংস্কার ও সজ্জিত করা হয়েছে। স্থানীয় নেতাদের মতে, তাঁর এই সফরের মধ্য দিয়ে উত্তরবঙ্গের পুরো রাজনীতিতে এক নতুন গতির সঞ্চার হবে।
সিলেটে মির্জা ফখরুলের বিশাল ঘোষণা আর দু-এক দিনেই নতুন চমক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতৃত্বে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই দলের নতুন ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে সিলেটের বিমানবন্দর এলাকার একটি অভিজাত হোটেলে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন।
সিলেটের বিভিন্ন আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় মির্জা ফখরুল দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন, যা জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। নির্বাচন নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক আশার সঞ্চার হয়েছে এবং বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বিএনপির মনে কোনো ধরণের আশঙ্কা নেই বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল দেশে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সাম্প্রতিক সময়ের ‘মব জাস্টিস’ বা মবোক্রেসির সমালোচনা করে বলেন, এ ধরণের ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। তাই মবোক্রেসির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি মন্তব্য করেন যে, এই সরকার এখন কার্যত একটি সফল ‘কেয়ারটেকার’ বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারে রূপ নিয়েছে।
বিএনপির এই মহাসচিবের আজকের এই ঘোষণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০৮ সাল থেকে তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাবরণ করার পর থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এখন তাঁকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান ঘোষণা করার এই সিদ্ধান্ত দলের চেইন অফ কমান্ডকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন দলীয় নীতিনির্ধারকরা। সিলেটের পুণ্যভূমি থেকে আসা এই বার্তা এখন সারা দেশের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
শাহজালাল (রহ.)-এর দরবারে মির্জা ফখরুল: বছরের শুরুতে বড় বার্তা
নতুন বছরের শুরুতে আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটে এক বিশেষ সফর করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে তিনি সিলেটে পৌঁছে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের একটি বিশাল বহর নিয়ে তিনি এই দুই মহান অলির দরগায় উপস্থিত হয়ে দেশের কল্যাণ ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন।
সকাল থেকেই সিলেটে মির্জা ফখরুলের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। প্রথমে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে যান এবং সেখানে ওলি-আউলিয়াদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মাজার জিয়ারত শেষে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপকালে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন। এরপর তিনি হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে যে মির্জা ফখরুলের এই সফর মূলত আধ্যাত্মিক এবং ব্যক্তিগত হলেও রাজনীতির ময়দানে এর গভীর তাৎপর্য রয়েছে। বিশেষ করে বড় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা নির্বাচনের আগে বিএনপির শীর্ষ নেতারা সিলেটে দুই মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণার শুভসূচনা করে থাকেন। মির্জা ফখরুলের আজকের এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটের স্থানীয় বিএনপি কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
মাজার জিয়ারত শেষে মির্জা ফখরুল সিলেটের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারেন। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই সফরটি পূর্বনির্ধারিত এবং প্রতি বছরই দলের শীর্ষ নেতারা বছরের শুরুতে এই ধরণের আধ্যাত্মিক সফরে সিলেটে এসে থাকেন।
তুচ্ছ অজুহাতে প্রার্থিতা বাতিল করা হচ্ছে: জামায়াত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় কিছু রিটার্নিং কর্মকর্তার বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সম্পূর্ণ তুচ্ছ এবং গুরুত্বহীন অজুহাত দেখিয়ে অনেক যোগ্য প্রার্থীর মনোনয়ন উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাতিল করা হচ্ছে। জামায়াতের ধারণা, এই প্রক্রিয়াটি কোনো একটি বিশেষ মহলের ইন্ধনে এবং নির্বাচনের মাঠকে অসমতল করার হীন উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন।
বিবৃতিতে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন যে, মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জেলায় রিটার্নিং অফিসারদের দ্বিমুখী আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। কোথাও আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও বৈধ কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সামান্য ত্রুটিকে বড় করে দেখিয়ে প্রার্থিতা বাতিল করা হচ্ছে। জামায়াত সেক্রেটারির মতে, রিটার্নিং অফিসারদের এমন ব্যক্তিগত ও কঠোর বিবেচনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অন্তরায় এবং এটি নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে ম্লান করে দিচ্ছে।
জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি শুরুতেই প্রার্থীদের সঙ্গে এমন বৈষম্যমূলক আচরণ এবং ‘বাড়াবাড়ি’ চলতে থাকে, তবে দেশবাসীর মনে নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়া নিয়ে বড় ধরণের সংশয় তৈরি হবে। তিনি আরও বলেন, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট সেই আশাকে ক্ষুণ্ণ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সবশেষে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে অবিলম্বে তুচ্ছ অজুহাতে বাতিল করা প্রার্থীদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির জোর দাবি জানান গোলাম পরওয়ার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতের এই অবস্থান নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
তারেক রহমানের বাসার সামনে দুইজন আটক, যোগসূত্র কী?
রাজধানীর গুলশানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর বাসভবনসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের মধ্যে পুলিশ ও চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) যৌথভাবে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে। রোববার সকালে পৃথক সময়ে এই আটক অভিযান পরিচালিত হয় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনের সামনে থেকে মো. রুহুল আমিন (৪৬) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দেন। সন্দেহজনক আচরণের কারণেই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে নজরদারিতে নেওয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ওই ব্যক্তি বাসভবন ও পার্কিং এলাকায় অবস্থানরত গাড়িগুলোর বিভিন্ন দিক থেকে ছবি তুলছিলেন। বিষয়টি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় পুলিশ ও সিএসএফ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক করে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করে।
এর কিছুক্ষণ পর, সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে একই স্থানের সামনে থেকে মো. ওমর ফারুক নামে আরেক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় নিশ্চিত করা না গেলেও সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে দেহ তল্লাশি করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তল্লাশিকালে মো. ওমর ফারুকের কাছ থেকে দুই পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুলশান থানায় পৃথক ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তাদের কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো উদ্দেশ্য বা যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
-রফিক
এবারের নির্বাচন বিশ্বের কাছে প্রশংসিত হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা অধ্যায় হয়ে থাকবে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে বিশ্বের কাছে স্বীকৃত এবং প্রশংসিত হবে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন বিএনপির অস্থায়ী নির্বাচনী কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে যাচ্ছে। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশের মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন। তিনি নেতা-কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, এবার কেবল প্রশাসন নয়, বরং ভোটাররা নিজেরাই কেন্দ্রে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের পবিত্র আমানত অর্থাৎ ভোট পাহারা দেবে। কোনো অপশক্তিই এবার জনগনের রায়কে ছিনিয়ে নিতে পারবে না।
তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এই জ্যেষ্ঠ নেতা নির্দেশ দেন যেন তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিটি ভোটারের ঘরে ঘরে পৌঁছান। তিনি বলেন, “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই চূড়ান্ত লড়াইয়ে আমাদের মূল হাতিয়ার হলো ধানের শীষ। প্রতিটি মানুষের কাছে ধানের শীষের বার্তা নিয়ে যেতে হবে এবং জনমত গঠন করতে হবে।” দলের ঐক্য বজায় রেখে যেকোনো ধরণের উস্কানি ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার জন্য তিনি মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সদা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
সভায় চকরিয়া পৌরসভা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করার শপথ নেন। প্রতিনিধি সভাটি এক পর্যায়ে এক বিশাল সমাবেশে রূপ নেয়, যা কক্সবাজারের স্থানীয় রাজনীতিতে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সালাহউদ্দিন আহমদের এই বক্তব্য সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা জোগাতে বড় ভূমিকা রাখবে।
পাঠকের মতামত:
- শীতের সাধারণ সর্দি-কাশি কি বড় বিপদের সংকেত? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
- শীতে গলার ব্যথায় ভুগছেন? টনসিলের ঝুঁকি এড়ানোর সহজ উপায়
- কোটি টাকার গাড়ি ও গহনার পাহাড়: নির্বাচনী হলফনামায় যা যা আছে মির্জা আব্বাসের
- এয়ার ফোর্সে ওয়ান থেকে ট্রাম্পের কড়া বার্তা: বিপাকে পড়তে পারে ভারতীয় পণ্য
- ০৫ জানুয়ারি আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- ভেন্যু বিতর্কে নতুন মোড়: বাংলাদেশ কি ওয়াকওভারের পথে হাঁটছে?
- প্রশাসন একপাক্ষিক হলে নির্বাচনের প্রয়োজন নেই: হাসনাত আব্দুল্লাহ
- রাজু ভাস্কর্যে ১১ দলীয় জোটের হুঙ্কার: শুরু হলো নতুন এক ‘আজাদী যাত্রা’
- আজ দুপুর থেকে সিলেটের যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না
- আজকের স্বর্ণের দাম: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ সোমবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- আজ ০৫ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
- দীর্ঘ ১৯ বছর পর পৈতৃক নিবাসে তারেক রহমান
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- ১৩ সেকেন্ডের ব্যবধানে জোড়া ভূকম্পন: ৪৮ ঘণ্টার জন্য বড় সতর্কবার্তা
- ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ফল প্রকাশ: পাসের হারে বিশাল ধস
- নতুন নীতিমালায় বড় ধাক্কা: এমপিও বন্ধ হচ্ছে যেসব শিক্ষকের
- কেন হঠাৎ আবার বাড়ল স্বর্ণের মূল্য
- আজ সৌদি আরবে স্বর্ণের দাম কত
- টাইগারদের ম্যাচ ভারত থেকে সরছে? বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভেন্যু নিয়ে বড় খবর
- বদলে যাচ্ছে তথ্য সুরক্ষা: জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের নতুন পথচলা
- তীব্র শীতে চরের জীবনসংগ্রাম: চরভদ্রাসনে অসহায় মানুষের পাশে উপজেলা প্রশাসন
- ৪ দিনেই বদলে গেল সিদ্ধান্ত: সঞ্চয়পত্রের মুনাফা নিয়ে নতুন মোড়
- এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের নতুন তারিখ ঘোষণা
- শীতের রাতে শরীর থাকবে গরম: জানুন রান্নাঘরের বিশেষ মশলার গুণ
- টাইগারদের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা
- সিলেটে মির্জা ফখরুলের বিশাল ঘোষণা আর দু-এক দিনেই নতুন চমক
- শাহজালাল (রহ.)-এর দরবারে মির্জা ফখরুল: বছরের শুরুতে বড় বার্তা
- এনইআইআর পদ্ধতি নিয়ে নাটকীয় মোড়: ফোন ব্লক নিয়ে এল নতুন আপডেট
- তুচ্ছ অজুহাতে প্রার্থিতা বাতিল করা হচ্ছে: জামায়াত
- কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য লম্বা ছুটি ঘোষণা
- যৌথ অভিযানে কাঁপল সিরিয়া: আইএস নির্মূলে একজোট যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স
- জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক: নতুন পাঠ্যবইয়ে যা লিখল বোর্ড
- মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে ঢাকা
- অবশেষে মুখ খুললেন মুস্তাফিজুর রহমান
- রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডিএমপির নতুন নির্দেশনা
- কোন কোন দেশের হাতে সবচেয়ে বেশি সোনা আছে
- নতুন বছরেই বড় ধাক্কা: রান্নার গ্যাসের দাম নিয়ে দুঃসংবাদ
- এক নজরে বিশ্বের শীর্ষ তেল মজুদধারী দেশ
- টাইগারদের ছাড়া বিশ্বকাপ? বিসিবির অনড় অবস্থানে বিপাকে আইসিসি
- ৪ জানুয়ারি দিনশেষে ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ বাজার বিশ্লেষণ
- ৪ জানুয়ারি টপ টেন লুজার দেখে নিন এক নজরে
- ৪ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে আজ শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী তালিকা
- তারেক রহমানের বাসার সামনে দুইজন আটক, যোগসূত্র কী?
- মাদুরো আটক, যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অভিযানের নেপথ্য কাহিনি
- মোস্তাফিজ বাদ, পাল্টা কঠোর সিদ্ধান্ত নিল বিসিবি
- ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা কবে
- জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বাছাই শেষে কী জানা যাবে
- কাত্তালী টেক্সটাইলের শেয়ারে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর
- এক নজরে ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের সর্বশেষ NAV
- ৯ম পে স্কেলে আমূল পরিবর্তন, সরকারি চাকরিতে বেতনে বড় সুখবর
- ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা কবে
- এমবিবিএস-বিডিএস ভর্তি পিছাল, নতুন তারিখ ঘোষণা
- সাধারণের নাগালের বাইরে সোনার বাজার: মধ্যবিত্তের সোনা কেনার স্বপ্ন কি তবে শেষ
- সোনার বাজারে সুখবর! কমল দাম যত
- ঢাকা-১৫ জামায়াত আমিরের বিপক্ষে নামলেন যে বিএনপি প্রার্থী
- হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশা থেকে মুক্তি কবে? যা জানাল আবহাওয়া অফিস
- বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় রেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
- প্রিয় নেত্রীর প্রয়াণে বিপিএল আজ নিশ্চুপ: পেছানো হলো আজকের সব ম্যাচ
- কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য লম্বা ছুটি ঘোষণা
- ২৯ ডিসেম্বর ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরহারানো শেয়ার
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- নতুন বছরে স্বর্ণের বাজারে বড় পরিবর্তন, আজ থেকে সোনার দর নিম্নমুখী
- ২৯ ডিসেম্বরের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত: নতুন সম্ভাব্য তারিখ জানাল অধিদপ্তর








