বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়া থেকে বাঁচাতে গণতন্ত্রের বিকল্প নেই: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশকে যদি ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়া থেকে বাঁচাতে হয়, তবে অবিলম্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, গণতন্ত্রের পাশাপাশি বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও নিশ্চিত করা জরুরি।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে বিএনপি’ শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে সচেতনভাবে কোনো একটি মহল বিভক্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রশ্ন রাখেন, শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে যে ধরনের 'মবোক্রেসি' বা বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে, তা কি মূল রায় থেকে মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য করা হয়েছে? এই বিষয়টি নিয়ে ভাবার অবকাশ রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, গণতন্ত্র মানে কেবল একটি নির্বাচন আয়োজন করা নয়। নির্বাচনের পরেও গণতন্ত্রকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে, যাতে রাষ্ট্রের ভিত্তি মজবুত থাকে। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হলে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে তিনি ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে দলের নেতাকর্মীদের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
মোদি কি এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছে? জয়শঙ্করের ঢাকা সফরে কী বার্তা এল
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের প্রেক্ষাপটে একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরে সামনে আসছে। ভারত, বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে কাকে দেখতে চায়। দীর্ঘ সময় ধরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দিল্লির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে অনেকেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একটি স্থিতিশীল অধ্যায় হিসেবে দেখলেও, বর্তমান বাস্তবতায় সেই সমীকরণে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের সাম্প্রতিক মূল্যায়নগুলোতে উঠে আসছে ভিন্ন এক রাজনৈতিক সম্ভাবনার কথা।
বিএনপির প্রতি কি দিল্লির আগ্রহ বাড়ছে
রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকী ভট্টাচার্যের তথ্য ও পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যমে বিএনপি এবং দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে তুলনামূলক ইতিবাচক আলোচনা দেখা যাচ্ছে। ভারতীয় ব্যবসা ও রাজনীতি বিষয়ক দৈনিক The Business Standard এক প্রতিবেদনে তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সম্ভাব্য গেম চেঞ্জিং মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত ও বিএনপির মধ্যে একটি সতর্ক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদনটির ভাষ্য অনুযায়ী, দিল্লির নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ এখন মনে করছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি একটি তুলনামূলকভাবে পূর্বানুমানযোগ্য, উদার ও গণতান্ত্রিক বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এই মূল্যায়ন ভারতের কৌশলগত ভাবনায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
মোদির বার্তা এবং সম্পর্ক উষ্ণতার ইঙ্গিত
গত ডিসেম্বরে নরেন্দ্র মোদি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সহায়তার প্রস্তাব দেন। বিএনপিও আনুষ্ঠানিকভাবে সেই বার্তাকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপকে কেবল সৌজন্য বিনিময় হিসেবে দেখলে চিত্র অসম্পূর্ণ থেকে যায়। অনেকের বিশ্লেষণে এটি বিএনপির সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক উষ্ণ করার একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক সংকেত।
জামায়াত প্রসঙ্গ এবং কৌশলগত মিল
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ সংস্থা Eurasia Review এবং International Crisis Group এর বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উগ্র ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে রাখার প্রশ্নে ভারত ও বিএনপির অবস্থানে একটি কৌশলগত মিল রয়েছে। এসব বিশ্লেষণে বলা হয়, ভারতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিএনপিই এখন তুলনামূলকভাবে ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক উদ্বেগগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি আগ্রহী।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকেই দিল্লি লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ বজায় রাখছিল। এটি বর্তমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে নতুন তাৎপর্য পাচ্ছে।
জয়শঙ্করের ঢাকা সফর এবং স্পষ্ট বার্তা
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি ঢাকা সফর করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পিনাকী ভট্টাচার্যের ভিডিও বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, এই সফরে জয়শঙ্কর তিনটি নির্দিষ্ট বার্তা তুলে ধরেন।
প্রথমত, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে হবে। দ্বিতীয়ত, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক সমঝোতার স্বার্থে প্রয়োজনে নির্বাচনের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।
পছন্দের শক্তি নয়, আপসযোগ্য অংশীদার
পিনাকী ভট্টাচার্যের বিশ্লেষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উঠে এসেছে। তার মতে, দিল্লির কাছে বিএনপি কোনো নির্দিষ্টভাবে নির্বাচিত শক্তি নয়। বরং ভারত বিএনপিকে একটি আপসযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখে, যাদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো তুলনামূলকভাবে সহজ। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হচ্ছে, ক্ষমতার প্রয়োজনে তারেক রহমানও ভারতের সঙ্গে বাস্তববাদী সমঝোতায় আগ্রহী হতে পারেন।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভার কার হাতে যেতে পারে, এই প্রশ্নে দিল্লির গণমাধ্যম ও বিশ্লেষণগুলো বিএনপির দিকে ইঙ্গিত দিলেও, আলোচনায় একটি সতর্ক বার্তাও উঠে আসছে। সেটি হলো, বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ সমর্থনে পরিচালিত হবে, বাইরের অনুকম্পায় নয়।
এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকছে না। অনেকের দৃষ্টিতে এটি বিদেশি প্রভাবের বাইরে একটি রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের সুযোগ কিনা, সেই বিতর্কও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হয়ে উঠছে।
-রফিক
ইশরাক হোসেনের মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে তথ্য সামনে এল
ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন-এর মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা। শনিবার আনুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়, ফলে আসনটিতে বিএনপির প্রার্থিতা নিয়ে আর কোনো আনুষ্ঠানিক বাধা রইল না।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শফর উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন ইশরাক হোসেন। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই কাগজপত্র দাখিল ও প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
হলফনামা অনুযায়ী, ইশরাক হোসেন পেশায় একজন ব্যবসায়ী। বয়স ৩৮ বছর উল্লেখ করে তিনি তার শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এমএসসি ডিগ্রির কথা জানিয়েছেন। ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি আর্থিক ও আইনি অবস্থান সংক্রান্ত বিবরণও হলফনামায় সংযুক্ত করা হয়।
আইনি অবস্থান বিষয়ে হলফনামায় তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বর্তমানে তার নামে কোনো ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন নেই। যদিও অতীতে বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে মোট ২১টি মামলা দায়ের হয়েছিল, তবে সংশ্লিষ্ট সব মামলাতেই তিনি আইনগতভাবে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইশরাক হোসেন রাজনৈতিকভাবে পরিচিত একটি পরিবারের সদস্য। তিনি প্রয়াত সাবেক ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সন্তান। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার মধ্য দিয়ে ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও আনুষ্ঠানিক রূপ পেল।
মনোনয়ন যাচাই শেষে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জমা দেওয়া কাগজপত্রে কোনো ধরনের অসঙ্গতি না থাকায় তা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচনী ধাপে এগোবেন প্রার্থী।
-রফিক
খালেদা জিয়ার ছায়াসঙ্গী ফাতেমা বেগমের নতুন অধ্যায়
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর প্রয়াণের পর তার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহচরী ফাতেমা বেগম নতুন এক দায়িত্ব ও আস্থার পরিসরে প্রবেশ করেছেন। রাজনীতির আলো-আঁধারির বাইরে থাকা এই নারী এখন তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের নিকটবর্তী ও নির্ভরতার মানুষ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছেন।
দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফাতেমা বেগম ছিলেন খালেদা জিয়ার দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। গুলশানের ফিরোজা বাসভবনের নীরবতা থেকে শুরু করে রাজপথের উত্তাল আন্দোলন, কারাবাসের একাকী দিন কিংবা বিদেশ সফরের গোপন যাত্রাপথ সবখানেই তিনি ছিলেন দৃশ্যের আড়ালে থাকা নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। দায়িত্বের তালিকায় শুধু আনুষ্ঠানিক কাজ নয়, নেত্রীর শারীরিক দুর্বলতায় সহায়তা করা, সময়মতো বিষয় মনে করিয়ে দেওয়া এবং নিয়মিত ওষুধ খাওয়ানোও ছিল তার নীরব মানবিক ভূমিকা।
ফাতেমা বেগমের ব্যক্তিগত জীবন সহজ ছিল না। ভোলার কাচিয়া ইউনিয়নের একটি কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া এই নারী স্বামীকে হারানোর পর দুই সন্তান নিয়ে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। টিকে থাকার সংগ্রামে ঢাকায় এসে ২০০৯ সালে খালেদা জিয়ার বাসভবনে কাজ শুরু করেন তিনি। সময়ের সঙ্গে তার নিষ্ঠা, সততা ও নিরবচ্ছিন্ন সেবাই তাকে রাজনৈতিক টালমাটাল সময়েও নেত্রীর সবচেয়ে আস্থাভাজন ছায়াসঙ্গীতে পরিণত করে।
২০১৩ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের কারাবাস প্রতিটি সংকটময় অধ্যায়ে ফাতেমা ছিলেন খালেদা জিয়ার নীরব সহযাত্রী। করোনাকালীন অসুস্থতা, হাসপাতালের দিনগুলো এবং লন্ডনে চিকিৎসা সফরের প্রতিটি ধাপে তার উপস্থিতি ছিল দায়িত্বের চেয়ে অনেক বেশি মানবিক ও আত্মিক।
দীর্ঘদিনের সেই সঙ্গী হারানোর পর ফাতেমা বেগম শারীরিকভাবে স্থিত থাকলেও মানসিকভাবে গভীর শোক বহন করছেন। তবু জীবনের ধারাবাহিকতায় তার দায়িত্ব ও সান্নিধ্য এখন নতুনভাবে জড়িয়ে গেছে জাইমা রহমানের সঙ্গে। অভিজ্ঞতা, আস্থা ও নীরব যত্নের যে সম্পর্ক তিনি এক সময় খালেদা জিয়ার পাশে গড়ে তুলেছিলেন, তার প্রতিধ্বনি নতুন প্রজন্মের এক সদস্যের সঙ্গেও গড়ে উঠছে রাজনীতির বাইরে থাকা এক মানবিক ধারাবাহিকতা হিসেবে।
-রাফসান
শূন্য চেয়ারপারসন পদ: তারেক রহমানই কি এখন বিএনপির নতুন প্রধান?
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলটির শীর্ষ পদটি বর্তমানে শূন্য হয়ে পড়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন পদাধিকার বলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করলেও তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদে ঘোষণা করা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি দল। তবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই নেতৃত্ব ও প্রচার কৌশলের বিষয়টি নিষ্পত্তি করা বিএনপির জন্য এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণার ব্যানার, ফেস্টুন ও ডিজিটাল পোস্টারে কার ছবি ব্যবহৃত হবে তা নিয়ে। সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী কেবল তাঁর বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। গত ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বাস্তবতা বদলে যাওয়ায় বিএনপির প্রার্থীরা এখন দ্বিধায় রয়েছেন যে তাঁরা কার ছবি পোস্টারে ব্যবহার করবেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন যে, এই বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার জন্য তাঁরা দ্রুতই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।
এদিকে বেগম জিয়ার প্রয়াণের পর সাত দিনের শোক কর্মসূচির মধ্যেই বিএনপিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। দলের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অনুপস্থিত থাকলেও তাঁর ত্যাগ ও আদর্শই হবে এবারের নির্বাচনের মূল আবেগীয় শক্তি। এই আবেগকে কাজে লাগিয়ে জনসমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে ৪১ সদস্যের একটি শক্তিশালী নির্বাচন স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন যে শোকের আবহ থাকলেও নির্বাচনের প্রস্তুতির কাজ থেমে নেই।
নির্বাচনী মাঠ গোছাতে বিএনপি এখন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। শতাধিক আসনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে রুমিন ফারহানা ও সাইফুল আলম নিরবসহ নয়জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় সূত্রমতে, ৫ জানুয়ারি শোক কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই তারেক রহমান সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হবেন এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাতে সশরীরে মাঠে নামার পরিকল্পনাও করছেন।
সংসদের বেতন ছাড়া কিছুই নেব না: হাসনাত
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে এনসিপির প্রার্থী ও দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং নৈতিক রাজনীতির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জীবনে কখনো এক কাপ চায়ের টাকাও অনৈতিকভাবে গ্রহণ করেননি এবং নির্বাচিত হলেও সংসদের বেতন ছাড়া কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নেবেন না। ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি বা রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের প্রশ্নও ওঠে না বলে তিনি জানান।
শুক্রবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি আরও জানান, হলফনামায় ঘোষিত সম্পদের বাইরে জীবনে কোনো সম্পদ অর্জন করবেন না এবং এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ তার বক্তব্যে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক ও আর্থিক চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, জনগণ যেন প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের ঋণ, অর্থের উৎস ও আশপাশের লোকজন সম্পর্কে সচেতনভাবে খোঁজ নেয়। তার ভাষায়, মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যাদের সখ্য রয়েছে, তারা কখনো জনগণের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে না।
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেশের গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করাই তার রাজনীতির মূল শিক্ষা। তিনি আল্লাহর কাছে তার জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেন এবং বলেন, এই আদর্শ থেকেই একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
হাসনাত আরও বলেন, দেবিদ্বারকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত শান্তির জনপদে পরিণত করাই তার প্রধান লক্ষ্য। নির্বাচিত হলে কোনো ধরনের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি কিংবা দখলদারি বরদাশত করা হবে না। দলের কোনো নেতাকর্মী যদি অনিয়ম বা দুর্নীতিতে জড়িত হয়, তার বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
বক্তব্যে তিনি প্রয়াত সমাজসংস্কারক শরিফ ওসমান হাদির আদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন হাদি দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নের জন্য আরও বহু দেশপ্রেমিক গড়ে তুলতে হবে।
এ সময় জামায়াত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শহীদের ত্যাগের কথাও তুলে ধরেন হাসনাত। তিনি বলেন, আসন ছেড়ে দিয়ে যে রাজনৈতিক উদারতা ও আত্মত্যাগ তিনি দেখিয়েছেন, তা আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ভবিষ্যত পথচলায় তার পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ভোটারদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ শাপলা কলির পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। দোয়া মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ এবং পৌর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ফেরদৌস আহমেদ।
-রাফসান
"স্লো পয়জনিং খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে"
প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-এর মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে মানতে নারাজ বিএনপির শীর্ষ নেতারা। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর জিয়া উদ্যানে খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান তার মৃত্যুকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন।
আমানউল্লাহ আমান বলেন, তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দিয়ে পরিকল্পিতভাবে খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি এ ঘটনাকে ‘স্লো পয়জনিং’ বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল।
বিএনপি নেতার বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই মৃত্যুর দায় এড়ানোর সুযোগ নেই এবং ভবিষ্যতে এর জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে বলে তার দাবি। আমান আরও বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন জনগণের কাছে একজন অভিভাবকতুল্য নেতা, যা তিনি সহ্য করতে পারেননি বলেই এমন পরিণতি ঘটানো হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। আমানের ভাষায়, তার জানাজায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি এবং সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা প্রমাণ করে যে তিনি কেবল একটি দলের নেত্রী ছিলেন না, বরং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার মতে, খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অভিভাবকস্বরূপ ব্যক্তিত্ব। তবে তার মৃত্যুকে ঘিরে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট পক্ষ বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
-রাফসান
জানাজার পর কবর জিয়ারতে খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবর জিয়ারত করেছেন তাঁর নাতনি জাইমা রহমানসহ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা। গভীর শোক ও শ্রদ্ধার আবহে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা রাজধানীর জিয়া উদ্যানে অবস্থিত সমাধিস্থলে উপস্থিত হন।
পরিবারের সদস্যরা কবর জিয়ারতের সময় মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশ ও জাতির জন্য দোয়া করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দেশ পরিচালনা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই নেত্রীর প্রয়াণে এখনো শোকাচ্ছন্ন দেশবাসী।
উল্লেখ্য, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান-এর কবরের পাশেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়। এর আগে জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকায় তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। জানাজায় লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে দীর্ঘ ৩৭ দিন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে খালেদা জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত ২৩ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন, যা দেশের রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।
-রাফসান
সাত বছরে মুফতি ফয়জুল করীমের আয় বেড়ে দ্বিগুণ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের গত সাত বছরে আয় যেমন বেড়েছে, তেমনি তাঁর পরিবারের সম্পদের ঝুলিও হয়েছে বেশ ভারী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (সদর) ও বরিশাল-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তাঁর সর্বশেষ হলফনামা ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা তুলনা করলে দেখা যায়, এই সময়ের ব্যবধানে তাঁর বার্ষিক আয় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ৫৩ বছর বয়সী এই প্রার্থীর বর্তমানে শিক্ষকতা, মাহফিলের সম্মানী ও অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া বাবদ বার্ষিক আয় ১৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা। অথচ সাত বছর আগে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল মাত্র ৭ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ টাকা। বর্তমানে তাঁর নিজের নামে নগদ ৩১ লাখ ১২ হাজার টাকাসহ ৩৩ লক্ষাধিক টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। এ ছাড়াও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বিশাল পরিমাণ জমির মালিকানা রয়েছে তাঁর নামে।
তবে সবচেয়ে বড় চমক লক্ষ্য করা গেছে তাঁর স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের সম্পদের হিসাবে। ২০১৮ সালের হলফনামায় স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদ না থাকলেও এবার তাঁর নামে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে, যার মধ্যে ১৮৭ ভরি স্বর্ণালংকারও রয়েছে। এ ছাড়াও স্ত্রীর নামে কৃষি ও অকৃষি জমি, বাণিজ্যিক ভবন ও অ্যাপার্টমেন্টসহ মোট ৩ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। অর্থাৎ গত সাত বছরে মুফতি ফয়জুল করীমের নিজের আয়ের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীর নামে কয়েক কোটি টাকার নতুন সম্পদ যুক্ত হয়েছে। এমএ পাশ এই ধর্মীয় নেতা ও প্রার্থীর সম্পদের এমন উল্লম্ফন এখন বরিশালের নির্বাচনী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বেগম জিয়ার ঐক্যের পথে চলতে চায় জামায়াত: জামায়াত আমির
আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণের আভাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন তিনি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াত আমির অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, জাতীয় স্বার্থ এবং একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে জামায়াত দেশের সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ডা. শফিকুর রহমান সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং কার্যালয়ে রাখা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এই আবেগঘন মুহূর্তে তিনি বেগম জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনের প্রশংসা করে বলেন—বেগম খালেদা জিয়া দেশের আপামর জনতার মধ্যে ঐক্যের যে মজবুত ভিত্তি তৈরি করে দিয়ে গেছেন, জামায়াতে ইসলামী সেই পথ অনুসরণ করেই আগামীর পথ চলতে চায়। তিনি মনে করেন, একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই।
নির্বাচন-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, নির্বাচনের পর এবং চূড়ান্তভাবে সরকার গঠনের আগে সকল মিত্র ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসবে জামায়াত। তিনি বলেন, "আমরা চাই আগামীতে সবাই মিলেমিশে দেশের স্বার্থে কাজ করতে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বও আমাদের এই ইতিবাচক মনোভাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।" মূলত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনাই এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
পাঠকের মতামত:
- মোদি কি এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছে? জয়শঙ্করের ঢাকা সফরে কী বার্তা এল
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় শিক্ষক নিয়োগ
- ইশরাক হোসেনের মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে তথ্য সামনে এল
- ২ লাখ ১২ হাজার টাকায় কেনা যাবে এক ভরি সোনা
- জান্নাতে সব থাকলেও যেসব জিনিস নাই
- হাড়কাঁপানো শীতে রোগ প্রতিরোধে তুলসী চায়ের জাদুকরী সব গুণ
- আইপিএল থেকে মোস্তাফিজ আউট, রেকর্ড দামে দল পেয়েও কেন বাদ মোস্তাফিজ?
- খালেদা জিয়ার ছায়াসঙ্গী ফাতেমা বেগমের নতুন অধ্যায়
- কাল থেকে শুরু হাড়কাঁপানো শীতের তীব্রতা: কতদিন চলবে এই তাণ্ডব?
- হাড়কাঁপানো শীতে ঘর হবে উষ্ণ: জানুন গিজার ও হিটারের বাজারদর
- ব্যাংক হলিডের প্রভাব, বাজারে নেতিবাচক চিত্র
- কনকনে ঠান্ডায় পানিভীতি কাটানোর উপায়: গোসল হবে এখন উপভোগ্য
- শীতের রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট: ইনহেলার না থাকলে যা করা জরুরি
- নাগরিকত্ব পেতে চান? জানুন কোন কোন দেশে খুব সহজে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়
- শুরু হচ্ছে কৃষি গুচ্ছের ভর্তি যুদ্ধ: শেষ সময়ের প্রস্তুতি জানুন
- তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চলবে ধার করা কয়লায়, নজিরবিহীন সংকটে পায়রা
- অবহেলার জবাব মাঠেই দিলেন মাহমুদউল্লাহ
- গয়না কেনার আগে দেখে নিন আজ কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে দেশে
- আমরা থানা পুড়িয়েছি ও এসআইকে জ্বালিয়ে দিয়েছি: বৈষম্যবিরোধী নেতা
- শূন্য চেয়ারপারসন পদ: তারেক রহমানই কি এখন বিএনপির নতুন প্রধান?
- আবহাওয়া অফিসের বড় দুঃসংবাদ, ধেয়ে আসছে হাড়কাঁপানো তীব্র শীত
- ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে সরাবার চাল : ইরাকের মতো ডুববে কি আমেরিকা?
- অবশেষে অবসান হলো অপেক্ষার: বিশেষ আহ্বান নিয়ে হাজির ড. ইউনূস
- আজ ৩ জানুয়ারি ২০২৬ ও জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি
- আজ শনিবার ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- এক লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রে মাসিক মুনাফা কমল যত
- শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- পেটের আলসার: কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
- সংসদের বেতন ছাড়া কিছুই নেব না: হাসনাত
- বিয়ের আগে পুরুষদের ত্বক উজ্জ্বল রাখার সহজ উপায়
- "স্লো পয়জনিং খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে"
- ২০২৬ ক্রিকেট ক্যালেন্ডার: থামার ফুরসত নেই বাংলাদেশের
- ৯ম পে স্কেলে আমূল পরিবর্তন, সরকারি চাকরিতে বেতনে বড় সুখবর
- ২০২৬ সালে কখন রমজান, ঈদ ও শবে বরাতের সম্ভাব্য সূচি
- জানাজার পর কবর জিয়ারতে খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা
- ম্যাচ জয়ের পুরস্কার, রিপন পেলেন যত টাকার বোনাস
- স্থগিত প্রাথমিক পরীক্ষা কবে জানাল শিক্ষা অধিদপ্তর
- ঢাকায় শীতের দাপট নিয়ে যা জানাল আবহাওয়া অফিস
- আজকের ফজর থেকে এশা, সময়সূচি প্রকাশ
- হুহু করে আবার কমল স্বর্ণের দাম
- গ্যাস সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন, সতর্কবার্তা তিতাসের
- টাকা ছাড়াই ব্রিটিশ কাউন্সিলের ফ্রি কোর্স: ২০২৬-এর বড় সুযোগ
- সাত বছরে মুফতি ফয়জুল করীমের আয় বেড়ে দ্বিগুণ
- বেগম জিয়ার ঐক্যের পথে চলতে চায় জামায়াত: জামায়াত আমির
- শীতে সুস্থ থাকতে নারীদের খেয়াল রাখতে হবে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে
- শূন্য সম্পদ নিয়ে সাবেক মন্ত্রীর প্রতিপক্ষ তুষার
- ২০২৬ সালে মেগা বাজেটের বিস্ফোরণ: পর্দা কাঁপাতে আসছে সেরারা
- ভিপি সাদিক কায়েমকে যে পরামর্শ দিলেন তারেক রহমান
- ৯ম পে স্কেলে আমূল পরিবর্তন, সরকারি চাকরিতে বেতনে বড় সুখবর
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় সুখবর
- এমবিবিএস-বিডিএস ভর্তি পিছাল, নতুন তারিখ ঘোষণা
- সাধারণের নাগালের বাইরে সোনার বাজার: মধ্যবিত্তের সোনা কেনার স্বপ্ন কি তবে শেষ
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- সোনার বাজারে সুখবর! কমল দাম যত
- ঢাকা-১৫ জামায়াত আমিরের বিপক্ষে নামলেন যে বিএনপি প্রার্থী
- ২০২৬ সালে স্কুলে ছুটি কমলো ১২ দিন, দেখে নিন তালিকা
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ১৪৪ ধারা: কেন্দ্রে প্রবেশের নতুন নিয়ম
- হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশা থেকে মুক্তি কবে? যা জানাল আবহাওয়া অফিস
- ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা: আজই দেখে নিন রুটিন
- ই-রিটার্ন দাখিলে আর বাধা নেই: বড় সুখবর দিল রাজস্ব বোর্ড আজ
- বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় রেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
- জামায়াত-চরমোনাই দ্বিমুখী লড়াই: সংকটে ইসলামী জোট








