মি‘রাজ রজনীতে নবী (সা.)-এর বাহন বুরাকের বিস্ময়কর কাহিনি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ১২ ১৮:৫১:২৬
মি‘রাজ রজনীতে নবী (সা.)-এর বাহন বুরাকের বিস্ময়কর কাহিনি
ছবি: সংগৃহীত

বুরাক (আরবি: البُراق) শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ “বারক” (برق) থেকে। এর অর্থ বিদ্যুৎ বা বিজলী। বিদ্যুতের মতোই বুরাকের গতি ছিল অতুলনীয় দ্রুত। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্বর্গীয় প্রাণীটিই ছিল সেই বাহন, যার ওপর আরোহন করেছিলেন প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মি‘রাজের রজনীতে।

এই রাতে নবী (সা.) পৃথিবী থেকে আকাশে যাত্রা করেছিলেন, মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস (জেরুজালেম), এবং সেখান থেকে ঊর্ধ্বাকাশে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছেছিলেন। এই অলৌকিক যাত্রার বাহন হিসেবেই বুরাকের নাম ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।

‘বুরাক’ শব্দের তাৎপর্য ও কুরআনিক ইঙ্গিত

“বারক” শব্দটি আল-কুরআনে পাঁচবার উল্লেখ করা হয়েছে। এই আয়াতগুলো পাওয়া যায় সূরা বাকারাহ (১৯ ও ২০ আয়াত), সূরা রা‘দ (১২ আয়াত), সূরা রূম (২৪ আয়াত) এবং সূরা নূর (৪৩ আয়াতে)। প্রতিটি জায়গায় “বারক” শব্দটি আলোর ঝলক বা বিদ্যুতের গতির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

অনেকে মনে করেন, মহানবী (সা.)-এর নাম “মুহাম্মদ”-এ যেমন পাঁচটি বর্ণ আছে, তেমনি “বারক” শব্দটিও পাঁচবার এসেছে এ যেন এক আধ্যাত্মিক ইঙ্গিত। সূরা ইনশিরাহে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন: “আর আমি তোমার যিকিরকে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছি” (সূরা ইনশিরাহ: ৪)।

এ থেকে বোঝা যায়, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবীর সম্মানকে এমনভাবে বর্ধিত করেছেন যে, এমনকি বুরাকের নামের সঙ্গেও রয়েছে সেই ঐশ্বরিক সাদৃশ্য।

বুরাকের আকার-আকৃতি ও বৈশিষ্ট্য

হাদীস শরীফে বুরাকের চেহারা ও গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়। সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিমে আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত- “আমার নিকট বুরাক নিয়ে আসা হলো। বুরাক এক সাদা চতুষ্পদ প্রাণী, গাধার চেয়ে বড় এবং খচ্চর থেকে ছোট। তার দৃষ্টির শেষ সীমায় সে তার পা রাখে।” এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, বুরাকের গতি বিদ্যুতের মতোই দ্রুত। সে যতদূর দেখতে পারে, ততদূর পর্যন্ত এক পদক্ষেপেই পৌঁছে যায়।

বুরাকের গতি ও চলার ধরন

ইসলামী বর্ণনায় বুরাককে বর্ণনা করা হয়েছে এমন এক প্রাণী হিসেবে, যার গতি আলোর গতির কাছাকাছি। অর্থাৎ, তার এক পদক্ষেপ পৃথিবী থেকে আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এই বর্ণনা আধুনিক কালের আলোচনায়ও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে, কারণ “বারক” বা বিদ্যুৎ-শব্দটি বুরাকের গতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বুরাকের নামের মধ্যেই আছে সেই গতি ও শক্তির ধারণা যা আল্লাহর সৃষ্টি ক্ষমতারই প্রকাশ।

বুরাকের সৃষ্টি ও অস্তিত্ব সম্পর্কে আলেমদের মত

অনেক ইসলামি পণ্ডিতের মতে, বুরাক কোনো সাধারণ প্রাণী নয়। এটি এক বিশেষ সৃষ্ট প্রাণী, যাকে শুধুমাত্র মি‘রাজের রাতে সৃষ্টি করা হয়েছিল। এই মত অনুসারে, বুরাকের অস্তিত্ব কেবল সেই অলৌকিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত, এবং অন্য কোনো নবী বা রাসূলের জীবনে এর কোনো উল্লেখ নেই। অর্থাৎ, এটি নবী (সা.)-এর জন্যই বিশেষভাবে নির্ধারিত এক ঐশ্বরিক বাহন।

ইমাম সুহাইলীর ব্যাখ্যা ও বুরাকের লজ্জা

ইমাম সুহাইলী (রহ.) তাঁর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন, যখন নবী (সা.) বুরাকে আরোহণ করতে চাইলেন, তখন বুরাক লজ্জায় সামান্য ইতস্তত করেছিল। তখন ফেরেশতা জিবরাঈল (আঃ) বুরাককে উদ্দেশ্য করে বলেন, “হে বুরাক, তুমি কি জানো, আজ তোমার পিঠে যিনি আরোহণ করবেন, আল্লাহর কাছে তাঁর চেয়ে মর্যাদাবান আর কেউ নেই?”

এই কথা শুনে বুরাক ঘর্মাক্ত হয়ে শান্ত হয়ে যায়। এতে বোঝা যায়, বুরাক কোনো নির্জীব বস্তু নয় বরং এক অনুভূতিশীল ও বুদ্ধিদীপ্ত সত্তা, যা আল্লাহর নির্দেশে নিয়ন্ত্রিত।

মি‘রাজের যাত্রা ও বুরাকের ভূমিকা

নবী করিম (সা.) বুরাকের পিঠে চড়ে প্রথমে মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসে যান। সেখানে নবীগণের সঙ্গে নামাজ আদায় করেন, এরপর ঊর্ধ্বলোকে যাত্রা করেন। বায়তুল মুকাদ্দাসে পৌঁছে তিনি বুরাককে সেই খুঁটির সঙ্গে বেঁধেছিলেন, যেখানে পূর্ববর্তী নবীরাও তাঁদের বাহন বেঁধেছিলেন। এটি নবুওতের ঐক্য ও ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে ইসলামী ঐতিহ্যে অমর হয়ে আছে।

বুরাকের আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা ও রুহানী প্রতীক

অনেক সুফি ও ইসলামী পণ্ডিত বুরাককে এক ধরনের “আলোর বাহন” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের মতে, বুরাক ছিল সেই নূরের মাধ্যম, যার দ্বারা নবী (সা.)-এর আত্মা ও দেহ উভয়ই আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছেছিল। এ ধারণা অনুযায়ী, বুরাক কেবল এক বাস্তব প্রাণী নয় বরং আত্মার ঊর্ধ্বগতির প্রতীক। এটি মানুষের আধ্যাত্মিক উত্থান ও আল্লাহর নিকটে পৌঁছার প্রতীকী বাহন হিসেবেও দেখা হয়।

‘পাঁচ’ সংখ্যার রহস্য ও মি‘রাজের প্রতীকী তাৎপর্য

মি‘রাজ ও বুরাকের ঘটনাবলিতে “পাঁচ” সংখ্যার এক রহস্যময় সাদৃশ্য রয়েছে। “বারক” শব্দটি কুরআনে পাঁচবার এসেছে। নবী (সা.)-এর নাম “মুহাম্মদ”-এ রয়েছে পাঁচটি বর্ণ। “মি‘রাজ” শব্দেও রয়েছে পাঁচটি অক্ষর।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই মি‘রাজের রাতেই মুসলমানদের ওপর ফরজ করা হয় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। যেন প্রতিটি নামাজই মানুষের জন্য এক এক মি‘রাজ আল্লাহর সঙ্গে আত্মিক যোগাযোগের এক পবিত্র মাধ্যম।

বুরাক ও মি‘রাজ: নবুওতের মহিমা

মি‘রাজ ছিল এমন এক ঘটনা, যা কোনো নবী বা রাসূলের জীবনে আগে কখনও ঘটেনি। তাই বুরাকের উপস্থিতি নবী (সা.)-এর মর্যাদারই প্রতীক। এই যাত্রা ছিল দেহ ও আত্মা উভয়ের মিলিত উত্থান। বুরাক ছিল সেই মাধ্যম, যা নবীকে দুনিয়ার সীমা ছাড়িয়ে আকাশের সীমানা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিল।

বুরাক ইসলামী ইতিহাসে এক অলৌকিক নাম। এটি কেবল এক প্রাণী নয়, বরং বিশ্বাস, আধ্যাত্মিকতা এবং নবুওতের গৌরবের প্রতীক। যেমন বিদ্যুৎ মুহূর্তে আকাশ চিরে আলোর রেখা ফেলে, তেমনি বুরাকও সেই “আলোর বাহন” যা মাটির সীমা ভেঙে আকাশের সীমানা ছুঁয়েছিল।

তাই মুসলমানদের কাছে বুরাক শুধু ইতিহাস নয়, বরং ঈমানের অংশ—যা মনে করিয়ে দেয়, আল্লাহর ইচ্ছা হলে অসম্ভবও সম্ভব।


আজকের নামাজের সময়সূচি: ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৪ ০৯:৪৯:৫৪
আজকের নামাজের সময়সূচি: ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত

আজ বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী আজ ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ এবং হিজরি বর্ষপঞ্জি মতে ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪৭ হিজরি। রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে আজকের নামাজের সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো:

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা)

জোহর: ওয়াক্ত শুরু হয়েছে দুপুর ১১টা ৫২ মিনিটে।

আসর: ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে।

মাগরিব: নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৫টা ১৪ মিনিটে।

এশা: ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৩ মিনিটে।

আগামীকালের ফজর: আগামীকাল শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৫টা ১১ মিনিটে।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ১০ মিনিটে। আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ২২ মিনিটে।

সূত্র: ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।

নামাজের সময়সূচি এলাকাভেদে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। তাই স্থানীয় মসজিদের সময়সূচি অনুসরণ করার জন্য মুসল্লিদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক সময়ে নামাজ আদায়ের তৌফিক দান করুন।


আজকের নামাজের সময়সূচি: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৩ ০৯:১৪:৫৫
আজকের নামাজের সময়সূচি: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত

আজ বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী আজ ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ এবং হিজরি বর্ষপঞ্জি মতে ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪৭ হিজরি। রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে আজকের নামাজের সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো:

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা)

জোহর: ওয়াক্ত শুরু হয়েছে দুপুর ১১টা ৫২ মিনিটে।

আসর: ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে।

মাগরিব: নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৫টা ১৪ মিনিটে।

এশা: ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৩ মিনিটে।

আগামীকালের ফজর: আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৫টা ১০ মিনিটে।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ১০ মিনিটে। আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ২২ মিনিটে।

নামাজের সময়সূচি এলাকাভেদে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। তাই স্থানীয় মসজিদের সময়সূচি অনুসরণ করার জন্য মুসল্লিদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক সময়ে নামাজ আদায়ের তৌফিক দান করুন।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।


ঢাকার আজকের নামাজের সময়সূচি: ২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০২ ০৯:২৫:২৩
ঢাকার আজকের নামাজের সময়সূচি: ২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচ রুকনের অন্যতম হলো নামাজ, যা ইমানের পর মুসলমানের জীবনে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচিত। কোরআনে ৮২ বার সালাতের উল্লেখ নামাজের মর্যাদা ও তাৎপর্য স্পষ্ট করে। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা একজন মুসলমানের প্রধান দায়িত্ব।

আজ মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫ (১৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বাংলা, ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪৭ হিজরি) উপলক্ষে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকার পূর্ণাঙ্গ নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঢাকার আজকের নামাজের সময়সূচি

ফজরওয়াক্ত শুরু: ভোর ৫:০৬শেষ সময়: ভোর ৬:২৪আগামীকাল ফজর: ৫:০৫

জোহরওয়াক্ত শুরু: দুপুর ১১:৫১শেষ সময়: বিকেল ৩:৩৪

আসরওয়াক্ত শুরু: বিকেল ৩:৩৫শেষ সময়: বিকেল ৪:৫৩

মাগরিবওয়াক্ত শুরু: সন্ধ্যা ৫:১৪শেষ সময়: সন্ধ্যা ৬:৩২

ইশাওয়াক্ত শুরু: সন্ধ্যা ৬:৩৩শেষ সময়: রাত ৫:০১(তবে মধ্যরাতের আগেই ইশা আদায় করা উত্তম)

বিভাগভেদে সময় সমন্বয়

বিয়োগ করতে হবে:চট্টগ্রাম – ৫ মিনিটসিলেট – ৬ মিনিট

যোগ করতে হবে:

খুলনা – ৩ মিনিটরাজশাহী – ৭ মিনিটরংপুর – ৮ মিনিটবরিশাল – ১ মিনিট

আজকের সেহরি ও ইফতার

সেহরির শেষ সময়: ৫:০০ মিনিটইফতার: সন্ধ্যা ৫:১৪ মিনিট

নফল নামাজের উত্তম সময়

ইশরাক: ৬:৩৯–৮:২৬চাশত: ৮:২৭–১১:৪৪তাহাজ্জুদ: রাত ১০:০০–৫:০১(ইশার নামাজের পর থেকেই সময় শুরু হয়)

আজ তিন নিষিদ্ধ সময়

সূর্যোদয়: ৬:২৫–৬:৩৮

দুপুর: ১১:৪৫–১১:৫০

সূর্য ডোবার আগ মুহূর্ত: ৪:৫৪–৫:১০(তবে প্রয়োজনে আসরের কাজা এগুলোতে পড়া যাবে)

নামাজ শুধুই ইবাদত নয় এটি মানুষকে পবিত্রতা, নিয়মানুবর্তিতা ও স্রষ্টার প্রতি নিবেদনের চর্চায় ফেরায়। আজকের এই সময়সূচি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, ব্যস্ততার মাঝেও আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়াই প্রকৃত সাফল্য।


৩৬০ আউলিয়ার দেশ সিলেটে ইসলামের পতাকা ওড়ার নেপথ্য কাহিনী

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ৩০ ২০:৫৬:৩৮
৩৬০ আউলিয়ার দেশ সিলেটে ইসলামের পতাকা ওড়ার নেপথ্য কাহিনী

সিলেট, যাকে বলা হয় ৩৬০ আউলিয়ার দেশ। বাংলাদেশের এই উত্তর-পূর্ব জনপদের প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে আছে আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া। কিন্তু এই পবিত্র ভূমিতে ইসলামের বিজয়ের ইতিহাসটি ছিল এক বিশাল সংঘাত ও অলৌকিক ঘটনার সমষ্টি। ইতিহাসের পাতা ও লোকমুখে প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী, ইয়েমেনের মাটি থেকে আসা সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (রহ.) এবং তৎকালীন সিলেটের অত্যাচারী রাজা গৌর গোবিন্দের মধ্যে যে লড়াই হয়েছিল, তা কেবল অস্ত্রশস্ত্রে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল সত্যের আধ্যাত্মিক শক্তির সঙ্গে মিথ্যার কালো জাদুর লড়াই।

গৌর গোবিন্দের অত্যাচার ও বুরহান উদ্দিনের আর্তনাদ

চতুর্দশ শতাব্দীর শুরুর দিকে সিলেট (তৎকালীন শ্রীহট্ট) শাসন করতেন রাজা গৌর গোবিন্দ। তিনি ছিলেন অত্যন্ত শক্তিশালী কিন্তু নিষ্ঠুর শাসক। ঐতিহাসিক বর্ণনা মতে, রাজ্যে মুসলমানরা বসবাস করলেও তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ছিল অত্যন্ত সীমিত। ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন শেখ বুরহান উদ্দিন নামক এক মুসলিম তার নবজাতক পুত্রের জন্ম উপলক্ষে একটি গরু জবাই করেন। এই খবর রাজার কানে পৌঁছালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বুরহান উদ্দিনের নবজাতক শিশুটিকে হত্যা করেন এবং তার হাত কেটে ফেলার নির্দেশ দেন।

হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর আগমন

নিরুপায় বুরহান উদ্দিন বিচারের আশায় দিল্লির সুলতানের দ্বারস্থ হন। সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক তার ভাগ্নে সিকান্দার গাজীর নেতৃত্বে সৈন্য পাঠান, কিন্তু গৌর গোবিন্দের যাদুবিদ্যা ও শক্তির কাছে তারা পরাস্ত হন। পরবর্তীতে হযরত শাহজালাল (রহ.) তার ৩৬০ জন সফরসঙ্গী বা আউলিয়াকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তার আধ্যাত্মিক শক্তি এবং আল্লাহভীরুতা ছিল তার মূল সম্বল।

কালো জাদু বনাম আধ্যাত্মিক শক্তি

লোকশ্রুতি রয়েছে, রাজা গৌর গোবিন্দ তার রাজ্যকে রক্ষা করতে কালো জাদুর আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি তার প্রাসাদের চারপাশে জাদুকরী আগুনের বেষ্টনী তৈরি করেছিলেন এবং লোহার বিশাল সব বল ছুড়ে মুসলিম বাহিনীকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিলেন। সাধারণ অস্ত্রের মাধ্যমে এই জাদু প্রতিহত করা সম্ভব ছিল না।

কথিত আছে, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও তার সঙ্গীরা যখন সুরমা নদীর তীরে পৌঁছান, তখন নদী পার হওয়ার কোনো নৌকা ছিল না। তখন শাহজালাল (রহ.) তার জায়নামাজ বিছিয়ে অলৌকিকভাবে নদী পার হন। এরপর যখন গৌর গোবিন্দের জাদুকরী প্রতিরোধের সম্মুখীন হন, তখন হযরত শাহজালাল (রহ.) তার সঙ্গীদের আজান দেওয়ার নির্দেশ দেন। আজানের সুমধুর ও শক্তিশালী ধ্বনিতে গৌর গোবিন্দের জাদুকরী প্রাসাদ কাঁপতে শুরু করে এবং তার সমস্ত কালো জাদু নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

সিলেট বিজয় ও ইসলামের প্রচার

অবশেষে ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে রাজা গৌর গোবিন্দ পরাজিত হয়ে পালিয়ে যান এবং সিলেটে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন হয়। হযরত শাহজালাল (রহ.) কেবল একজন বিজেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সংস্কারক। তার আগমনের মাধ্যমেই সিলেটে এবং পরবর্তীতে বাংলার এই অঞ্চলে ইসলামের সুমহান বাণী ছড়িয়ে পড়ে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ তার আধ্যাত্মিকতার ছায়াতলে আশ্রয় নেয়।

সিলেটে ইসলাম বিজয়ের এই ইতিহাস আজও মানুষের মনে জীবন্ত। হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভিড় করেন। গৌর গোবিন্দের দম্ভ চূর্ণ করে যেভাবে সত্য ও ন্যায়ের বিজয় হয়েছিল, তা ইতিহাসের পাতায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।


আজ ঢাকার নামাজের সময়সূচি ও সূর্যোদয়–সূর্যাস্ত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ৩০ ০৯:২৩:৩২
আজ ঢাকার নামাজের সময়সূচি ও সূর্যোদয়–সূর্যাস্ত
ছবি: সংগৃহীত

আজ রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫; বাংলা ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ এবং হিজরি ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৭। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আজকের নামাজের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং সংশ্লিষ্ট সময়-সূচক সংস্থা। মুসল্লিদের সুবিধার্থে প্রতিটি ফরজ নামাজের শুরু সময় এবং আজ-আগামীকালের সূর্যোদয়–সূর্যাস্তের সম্পূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো।

আজ জোহরের নামাজ শুরু হবে সকাল ১১টা ৫১ মিনিটে, আর আসরের শুরু ৩টা ৩৫ মিনিটে। মাগরিবের সময় ৫টা ১৪ মিনিটে, এবং এশা শুরু হবে ৬টা ৩২ মিনিটে। আগামীকাল ফজরের সময় শুরু হবে সকাল ৫টা ০৮ মিনিটে।

এ ছাড়া আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে ৫টা ১০ মিনিটে, আর আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ২২ মিনিটে। দিনের দৈর্ঘ্য কমে আসা এবং শীতের আমেজ বাড়ায় নামাজের সময়েও ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

মুসল্লিদের অনুপম সুবিধার্থে এ সময়সূচি অনুসরণ করে নামাজ আদায় করার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সময় অনুযায়ী নামাজ পালন করতে পারলে ইবাদতের শুদ্ধতা ও পূর্ণতা বজায় থাকে বলেও আলেমদের অভিমত।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।


আসমান থেকে নাজিল মান্না–সালওয়া: অলৌকিক খাদ্যের গল্প

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ৩০ ০৮:৪৮:৩৭
আসমান থেকে নাজিল মান্না–সালওয়া: অলৌকিক খাদ্যের গল্প
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি ঐতিহ্যে মান্নাসালওয়া এমন এক অলৌকিক খাদ্য, যা আল্লাহ তায়ালা নিজ কুদরতে আসমান থেকে নাজিল করেছিলেন বনী ইসরাঈলের জন্য। যখন হজরত মুসা (আ.) প্রায় ছয় লাখ অনুসারী নিয়ে ময়দানে তীহে অবস্থান করছিলেন, তখন ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দেয়। সে সংকটে হজরত মুসা (আ.) আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, যাতে তাঁর জাতির জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা হয়। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করে এক নয়, দুইটি আসমানি খাদ্য পাঠানএগুলোই ছিল “মান্না” এবং “সালওয়া”।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন:

হেবনীইসরাঈল! আমিতোমাদেরশত্রুথেকে উদ্ধার করেছি, তোমাদের সঙ্গে তুর পাহাড়ের ডান পাশে সাক্ষাতের নির্ধারণ করেছি, এবং তোমাদের কাছে মান্না ও সালওয়া নাজিল করেছি।”

(সুরা ত্বহা, ৮০)

মান্না আসলে কী ছিল?

তাফসির অনুযায়ী মান্না ছিল এক ধরনের মিষ্টি স্বাদের আসমানি খাদ্য। এটি শিশিরের মতো সূক্ষ্ম বিন্দু আকারে গাছের পাতা, ছোট গাছপালা ও পাথরের ওপর জমে থাকত। এর রং ছিল দুধের মতো শুভ্র এবং স্বাদ ছিল মধুর চেয়েও মিষ্টি। কেউ এটিকে স্বর্গীয় চিনি, কেউ আল্লাহ কর্তৃক নাজিল এক ধরনের প্রাকৃতিক মধু-সদৃশ রস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হাদিসে ছত্রাক বা মাশরুমকেও মান্নার অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ আছে। বলা হয়, মান্না এমনভাবে আসমান থেকে পড়ত যেভাবে বরফ ঝরে।

সালওয়া কী ছিল?

সালওয়া ছিল এক ধরনের বিশেষ পাখিযাকে অধিকাংশ আলেম “বাটের পাখি” (quail) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এই পাখিগুলো বিশাল ঝাঁকে ঝাঁকে বনী ইসরাঈলের শিবিরে নেমে আসত এবং পালাত না। মানুষ সহজেই সেগুলো ধরে ভুনা করে খেত। মরুভূমির কষ্টকর পরিবেশে সালওয়ার নরম ভুনা মাংস ছিল এক বিরল আসমানি নেয়ামত।

কেন এ খাদ্য প্রতিদিন সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল?

আল্লাহর নির্দেশ ছিলমান্নাসালওয়াপ্রতিদিন শুধু সেদিনের প্রয়োজন অনুযায়ী সংগ্রহ করতে হবে; কোনোভাবেই পরের দিনের জন্য জমা করা যাবে না। এটি ছিল আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা ও আনুগত্যের পরীক্ষা। কিন্তু অনেকেই ভয় ও লোভের কারণে গোপনে এই খাদ্য জমা করতে থাকে। তাদের এই অবাধ্যতার ফলেই জমা করা মান্না নষ্ট হয়ে যায় এবং সালওয়ার মাংস পচে যায়। এর পরপরই এই আসমানি খাদ্য নাজিল বন্ধ হয়ে যায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই ঘটনায় মন্তব্য করেছেন:যদি বনী ইসরাঈল অবাধ্যতা না করত, তবে কখনো খাবার নষ্ট হতো না এবং মাংস পচত না।”

এ হাদিসের অর্থ হচ্ছেখাদ্য নষ্ট হওয়া এবং মাংস পচে যাওয়া মানব ইতিহাসে প্রথম দেখা দেয় তাদের অবাধ্যতার পর।

স্বাদ, রূপ, গন্ধমান্নাসালওয়া কেমন ছিল?

মান্না ছিল তুষারের মতো শুভ্র, শিশিরের মতো ঝকঝকে, মধুর মতো মিষ্টি। সালওয়ার মাংস ছিল পুষ্টিকর, নরম এবং মরুভূমিতে বিরল এক বিলাসবহুল খাদ্য। আল্লাহর এই নেয়ামত এতটাই অসাধারণ ছিল যে মানুষ কোনো পরিশ্রম ছাড়াই প্রতিদিন প্রস্তুত খাবার পেয়ে যেত।

কিন্তু মানুষের লোভ ও অবিশ্বাসের কারণে এই নেয়ামতও নষ্ট হয়ে যায়। এ ঘটনাই প্রমাণ করে, আল্লাহর নেয়ামত তখনই টিকে থাকে যখন মানুষ কৃতজ্ঞ হয়, অনুগত হয় এবং আল্লাহর ওপর ভরসারাখে


বেনামাজির ছয় ভয়াবহ দুনিয়াবি শাস্তি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ০৯:১৩:৪১
বেনামাজির ছয় ভয়াবহ দুনিয়াবি শাস্তি
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে নামাজ প্রতিটি মুসলিমের জন্য কঠোরভাবে ফরজ। নামাজ ছাড়া আল্লাহর নৈকট্য পাওয়া যায় না এবং ইহকাল-পরকাল কোনোটিতেই মুক্তি সম্ভব নয় এমনটাই স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কোরআন ও হাদিসে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।” (সুরা আনকাবুত, আয়াত ৪৫)। আবার নামাজ সময়মতো আদায়ের গুরুত্ব বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন, “নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে।” (সুরা আন-নিসা, আয়াত ১০৩)।

কোরআনে এমনও সতর্ক করা হয়েছে যারা নামাজের ব্যাপারে উদাসীন, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর ধ্বংস ও দুর্ভোগ। সুরা আল-মাউন-এর ৪–৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “দুর্ভোগ তাদের জন্য, যারা নামাজে গাফেল।” ইসলামী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নামাজ ত্যাগ শুধু আখিরাতেই শাস্তির কারণ নয়; বরং দুনিয়ার জীবনেও নামাজ না পড়া মানুষের ওপর নেমে আসে অশান্তি, অনটন, মানসিক চাপ ও অপ্রাপ্তি।

হাদিসে দুনিয়াতেই নামাজ ত্যাগকারীর জন্য ছয়টি শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে। সেগুলোর প্রতিটিই একজন মুসলিমের জীবনকে আলোকিত পথ থেকে বিচ্যুত করে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়।

প্রথমত, নামাজ ত্যাগ করলে ব্যক্তির জীবনে বরকত কমে যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তির আসরের নামাজ কাজা হলো, তার পরিবার ও সম্পদ যেন ধ্বংস হলো।” (মুসলিম, হাদিস ১৩০৪)। আরেক হাদিসে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, “নামাজ হলো ঈমানদার ও কাফেরের মধ্যে সীমারেখা। যে ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ত্যাগ করল, সে কুফরির কাজ করল।” (তিরমিজি ২৬২০, আবু দাউদ ৪৬৭৮)।

দ্বিতীয়ত, নামাজ ত্যাগকারীর মুখমণ্ডলে আল্লাহর নূরের প্রতিফলন থাকে না। সে হারায় ঈমানদারের স্বাভাবিক আভা, যা আল্লাহর আনুগত্যে পাওয়া যায়।

তৃতীয়ত, নামাজ ত্যাগ করলে ব্যক্তি দুনিয়ার অন্য কোনো নেক আমলের পূর্ণ প্রতিদান লাভ করতে পারে না। কারণ নামাজই হলো সকল ইবাদতের মেরুদণ্ড।

চতুর্থত, দোয়া গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হয়। কেউ তার জন্য দোয়া করলে তা কবুল হয় না এমন হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে।

পঞ্চমত, নামাজ ত্যাগকারী আল্লাহর সৃষ্টিজগতের কাছে অপ্রিয় হয়ে পড়ে। ফেরেশতা, মানুষ, জিন সকল সৃষ্টিজীবই তার প্রতি বিতৃষ্ণা অনুভব করে।

ষষ্ঠত, ইসলামের শান্তি, সুরক্ষা ও আল্লাহর প্রতিশ্রুতি থেকেও সে বঞ্চিত হয়। (শারহুল আকিদাতুত তাহাবি, পৃ. ২৬৮)

আখিরাতে এর পরিণতি আরও ভয়াবহ। হাদিসে এসেছে, নিয়মিত নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির জন্য কিয়ামতের দিনে নামাজ হবে আলো, দলিল এবং মুক্তির কারণ। আর বেনামাজি সেই আলো, সুরক্ষা ও সুপারিশ কিছুই পাবে না। (মুসনাদে আহমদ ৬৫৭৬)

ধর্মীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন মুসলিম দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নামাজের জন্য মাত্র এক ঘণ্টা সময় বের না করতে পারা তার দুর্ভাগ্যেরই পরিচয়। আল্লাহ আমাদের চোখ, কান, হাত, পা, সুস্থতা অগণিত নিয়ামত দিয়েছেন। এর শুকরিয়া আদায় করতে হলে নিয়মিত নামাজের বিকল্প নেই।

আলেমদের আহ্বান, নামাজ ত্যাগের ক্ষতি এত বেশি যে এর পরিবর্তে পৃথিবীর কোনো লাভই মূল্যবান নয়। তাই প্রতিটি মুসলিমের উচিত, নামাজের গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথাসময়ে আদায় করা।


২৭ নভেম্বর আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ০৮:০৫:৪০
২৭ নভেম্বর আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জনের সর্বোত্তম মাধ্যম। সময়মতো নামাজ আদায়কারীদের জন্য রয়েছে অসীম সওয়াব এবং গুনাহ মাফের প্রতিশ্রুতি। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথম কাতারের মর্যাদা, আজানের আহ্বানে সাড়া দেওয়া এবং ফজর–এশার জামাত আদায়ের তুলনাহীন ফজিলত সম্পর্কে বলেছেন ‘মানুষ যদি জানত প্রথম কাতারের মর্যাদা কত উচ্চ, তাহলে প্রয়োজন হলে লটারি করত। আর ফজর ও এশার নামাজের সওয়াব যদি জানত, তাহলে হামাগুঁড়ি দিয়ে হলেও নামাজে হাজির হতো।’ (মুসলিম, হাদিস ৮৬৭)

এই আধ্যাত্মিক প্রেরণা সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫- ১২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বাংলা, ০৫ জমাদিউস সানী ১৪৪৬ হিজরি ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

আজ ফজর শুরু হয়েছে ভোর ৫টা ০১ মিনিটে। জোহর ১১টা ৪৬ মিনিটে, আসর ৩টা ৩৫ মিনিটে, সূর্যাস্ত ৫টা ১১ মিনিটে এবং মাগরিবের সময় ৫টা ১৪ মিনিট। এশার নামাজ আদায় করা যাবে সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিট থেকে।

আগামীকাল শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) ফজরের সময় হবে ভোর ৫টা ০২ মিনিটে। তাহাজ্জুদ ও সেহরির শেষ সময় ৫টা ০১ মিনিট, আর সূর্যোদয় ৬টা ২২ মিনিটে।

বিভাগীয় শহরগুলোর জন্য সময়ের সামান্য পার্থক্য নির্ধারণ করে দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ঢাকা সময়ের তুলনায় চট্টগ্রামে ৫ মিনিট এবং সিলেটে ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। খুলনায় সময় যোগ হবে ৩ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট, রংপুরে ৮ মিনিট এবং বরিশালে ১ মিনিট।

সঠিক সময় জানা থাকলে নামাজ আদায় আরও সহজ হয় এবং মুসল্লিরা মসজিদে সময়মতো উপস্থিত হয়ে ফজিলতের অংশীদার হতে পারেন।


শক্তিশালী হয়েও ভূমিকম্পে যেভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল ইতিহাসের তিনটি জাতি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৬ ২০:৫৩:১১
শক্তিশালী হয়েও ভূমিকম্পে যেভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল ইতিহাসের তিনটি জাতি
ছবিঃ সংগৃহীত

চোখের পলকে একটি আস্ত জনপদ মাটির নিচে তলিয়ে যাওয়া কিংবা আকাশচুম্বী অট্টালিকা ধুলোয় মিশে যাওয়া ইতিহাসের পাতায় এমন ঘটনা নিছক কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে এমন কিছু জাতির কথা যারা তাদের শক্তি সম্পদ এবং অহংকারের চূড়ায় পৌঁছেও রক্ষা পায়নি আল্লাহর গজব থেকে। সীমালঙ্ঘন আর পাপাচারের শাস্তি হিসেবে তাদের ওপর নেমে এসেছিল ভয়াবহ ভূমিকম্প যা মুহূর্তের মধ্যে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল তাদের অস্তিত্ব।

নবী সালেহ আ. এর জাতি কওমে সামুদ ছিল তৎকালীন সময়ের এক অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী জাতি। তারা পাহাড় কেটে বিশাল সব অট্টালিকা তৈরি করত যা তাদের স্থাপত্যশৈলী ও শক্তির প্রমাণ দিত। কিন্তু সম্পদের প্রাচুর্য তাদের অন্ধ করে দিয়েছিল। তারা আল্লাহর একত্ববাদকে অস্বীকার করে এবং নিজেদের শক্তি নিয়ে দম্ভ করতে থাকে। তাদের হেদায়েতের জন্য আল্লাহ যখন নবী সালেহ আ. কে পাঠালেন তখন তারা তাঁকে উপহাস করে অলৌকিক নিদর্শন দাবি করে। আল্লাহর নির্দেশে পাহাড় ভেদ করে বেরিয়ে আসে এক অলৌকিক উটনী। কিন্তু সামুদ জাতির কিছু অবাধ্য লোক সেই উটনীকে হত্যা করে আল্লাহর সতর্কবার্তাকে অমান্য করে। এর পরিণতি হয় ভয়াবহ। এক বিকট শব্দ ও প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে পুরো জাতি ধ্বংস হয়ে যায় এবং তাদের শক্তপোক্ত ঘরবাড়িগুলোই তাদের কবরস্থানে পরিণত হয় যেখানে তারা মুখ থুবড়ে পড়ে রইল।

অন্যদিকে নবী শুয়াইব আ. এর জাতি মাদিয়ানবাসীরা ছিল মূলত ব্যবসায়ী। কিন্তু তাদের বাণিজ্যের মূলধন ছিল প্রতারণা। তারা ওজনে কম দিত মানুষের অধিকার হরণ করত এবং আল্লাহর বিধান নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করত। নবী শুয়াইব আ. তাদের সততার পথে আহ্বান জানালে তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে এবং নিজেদের কুকর্ম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। তাদের এই অন্যায়ের শাস্তি হিসেবে আল্লাহর পক্ষ থেকে নেমে আসে প্রচণ্ড এক ভূমিকম্প। মুহূর্তের মধ্যে ধুলিসাৎ হয়ে যায় তাদের সাজানো জনপদ। যারা নবীর কথায় কর্ণপাত করেনি এবং পাপে লিপ্ত ছিল তারা নিজ নিজ ঘরেই মৃত অবস্থায় পড়ে রইল।

কওমে লুত বা নবী লুত আ. এর জাতির অপরাধ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং জঘন্য। তারা এমন এক পাপাচার বা সমকামিতায় লিপ্ত হয়েছিল যা ইতিহাসের আর কোনো জাতি আগে করেনি। নবী লুত আ. তাদের বারবার সতর্ক করলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করে এবং তাঁকে নিয়ে উপহাস করে। অবশেষে আল্লাহর আদেশে ফেরেশতারা এসে সেই জনপদকে উল্টে দেন। একই সঙ্গে তাদের ওপর বর্ষিত হয় পোড়ামাটির পাথর। তাফসীর অনুযায়ী ভূমিকম্প বজ্রপাত ও পাথর বৃষ্টির এক সম্মিলিত শাস্তিতে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় তাদের সভ্যতা এবং পৃথিবীর বুক থেকে মুছে যায় তাদের নামনিশানা।

সামুদ মাদিয়ান এবং লুত এই তিনটি জাতিই ছিল তাদের সময়ের শ্রেষ্ঠ এবং শক্তিশালী। কিন্তু যখনই তারা ন্যায় নীতি ও স্রষ্টার বিধান লঙ্ঘন করে পাপের সাগরে ডুবেছে তখনই তাদের জন্য পৃথিবী হয়ে উঠেছে শাস্তির এক ভয়াল ক্ষেত্র। তাদের এই ধ্বংসের ইতিহাস আজও মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে শক্তি বা সম্পদ নয় বরং ন্যায় ও সত্যের পথই কেবল চূড়ান্ত মুক্তির দিশা দিতে পারে।

পাঠকের মতামত:

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করতে হবে

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করতে হবে

রাষ্ট্রের ধারণাটি একসময় কেবল প্রশাসনিক ক্ষমতা, আইনের শাসন এবং নিরাপত্তা প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। কিন্তু আধুনিক বিশ্বে রাষ্ট্রের ভূমিকা এখন... বিস্তারিত